Legal Touch

Legal Touch

Share

15/08/2025

আইটিপি বনাম অ্যাডভোকেট: পেশাগত পরিচয়ে পার্থক্য কতটা গভীর?
জেনে নিন আইন বলছে কী!

বাংলাদেশে এখন অনেকেই আয়কর পরামর্শদাতা বা ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার (ITP) হয়ে কাজ করছেন। করদাতাদের সহায়তা করছেন রিটার্ন দাখিলে, আপিল শুনানিতে বা ট্যাক্স রেকর্ড হালনাগাদ করতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এঁরা কি নিজেদের "আইনজীবী" হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন?

উত্তর: না, পারেন না—যদি না তাঁরা বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবী হন।

চলুন বিষয়টি আইনের আলোকে একটু বিশ্লেষণ করি।

কে হতে পারেন 'আইনজীবী'?
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২ (The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972) অনুযায়ী, “Advocate” বলতে সেই ব্যক্তিকেই বোঝানো হয়েছে, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২

✓ ধারা ২(এ) – “Advocate” অর্থ সেই ব্যক্তি, যিনি এই অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত ও এনরোল্ড।
অর্থাৎ, বার কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত না হলে কাউকে “Advocate” বলা যাবে না।

যিনি বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত এবং বার কাউন্সিল থেকে অনুমোদিত।
এ সংজ্ঞা অনুযায়ী, আইনজীবী হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করতে হয়:

1. স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি বা সমমানের ডিগ্রি।
2. বার কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত এনরোলমেন্ট পরীক্ষা (MCQ, Written ও Viva) উত্তীর্ণ হতে হবে।
3. বার কাউন্সিলের রেজিস্টারে নাম অন্তর্ভুক্ত করে আইনজীবী সনদ (Enrollment Certificate) সংগ্রহ করতে হবে।

এই সনদ ছাড়া কাউকে আইনজীবী পরিচয়ে নিজেকে তুলে ধরার অধিকার নেই। এমনকি বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী, নিজের নামের পাশে 'Advocate' ব্যবহার করাও অপরাধ।

তাহলে ITP কারা?
ইনকাম ট্যাক্স অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও পরীক্ষার মাধ্যমে যারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর অনুমোদন নিয়ে কর-সংক্রান্ত কাজ করতে পারেন, তাঁরা ITP হিসেবে বিবেচিত হন। তাদের কাজের সীমা:

√ আয়কর রিটার্ন তৈরি ও দাখিল
√ করদাতার পক্ষে ট্যাক্স অফিসে তথ্য উপস্থাপন
√ কর আপিল বা পুনর্মূল্যায়ন আবেদন প্রস্তুত

তবে তারা কোর্টে মামলা পরিচালনা করতে পারেন না এবং “আইনজীবী” পরিচয় দিতে পারেন না।

তাহলে কি ITP আইনজীবী হতে পারেন?
হ্যাঁ, ITP যদি চান, তবে তিনি নিজ উদ্যোগে আইনের শিক্ষাগ্রহণ করে এলএল.বি ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন এবং বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে এনরোল হতে পারেন।
সেক্ষেত্রে তিনি ITP ও আইনজীবী—দুই পরিচয়ই বহন করতে পারবেন। কিন্তু শুধুমাত্র ITP হওয়ার কারণে আইনজীবী হওয়া যায় না।

আইন লঙ্ঘনের পরিণাম কী?
আইনজীবী না হয়েও “Advocate” পরিচয় দেয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বার কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২ এর ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী–
কোনো ব্যক্তি যদি অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত না হয়েও আইন পেশা পরিচালনা/ পরিচয় প্রদান করেন, তবে তিনি সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। কেউ যদি বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত না হয়েও নিজেকে আইনজীবী বলে পরিচয় দেয়, বা এ ধরনের আচরণ বা কার্যকলাপ করে—তাহলে সে দণ্ডনীয় অপরাধ করছে।

বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী, আইনজীবী সনদ ছাড়া কেউ যদি নিজেকে “Advocate” পরিচয় দেন বা বিজ্ঞাপনে তা উল্লেখ করেন, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার রয়েছে বার কাউন্সিল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

শেষ কথা: "আইটিপি আর আইনজীবী—দুই পেশা, দুই পরিচয়। একটিতে কর পরামর্শ, অন্যটিতে বিচার প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব।"
জনগণের সচেতনতা ও পেশাগত মর্যাদার সুরক্ষায় প্রতিটি পরিচয় যেন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটাই এখন সময়ের দাবি।

তথ্যসূত্র:
•বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স, ১৯৭২
•ইনকাম ট্যাক্স অধ্যাদেশ, ১৯৮৪
•জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশিকা
•বার কাউন্সিলের অফিসিয়াল নোটিশ ও আদেশসমূহ

সূত্র:
লেখক :
বোরহান উদ্দিন খান (শাকের)
এডভোকেট

Legal Touch – Trusted Legal Services in Bangladesh 15/08/2025

ভিজিট করুন...

Legal Touch – Trusted Legal Services in Bangladesh Best Law Firm in Dhaka, Bangladesh Looking for top-notch legal services in Bangladesh?The Legal Touch is your trusted partner. As one of the leading full-service law firms in Bangladesh, we offer comprehensive legal consultancy and expert advocacy across all areas of law. Simply reach out with your....

01/02/2025

জমির কাগজপত্র সঠিক আছে কি না, তা বুঝতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও দাফতরিক বিষয় যাচাই করতে হয়। নিচে ধাপে ধাপে জমির কাগজপত্র যাচাইয়ের পদ্ধতি দেওয়া হলো—

১. জমির মৌলিক কাগজপত্র যাচাই করুন

✅ খতিয়ান (Khatian):
• জমির মালিকানা যাচাইয়ের জন্য CS, SA, RS বা BS খতিয়ান চেক করুন।
• খতিয়ানে উল্লিখিত মালিকের নাম বিক্রেতার নামের সঙ্গে মিল আছে কি না দেখুন।

✅ দাগ ও পর্চা:
• জমির দাগ নম্বর (CS, SA, RS, BS) পরিবর্তিত হয়েছে কি না, তা মিলিয়ে দেখুন।
• একই জমির একাধিক খতিয়ান থাকলে, বর্তমান দাগের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

✅ দলিল (Deed):
• বিক্রেতার কাছে থাকা মূল দলিলটি পরীক্ষা করুন।
• দলিলে বিক্রেতার নাম আছে কি না এবং দলিলটি সঠিকভাবে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে কি না, তা দেখুন।
• দলিলে উল্লেখিত জমির পরিমাণ, দাগ নম্বর, মৌজা ঠিক আছে কি না, তা মিলিয়ে দেখুন।

✅ দলিলের রেজিস্ট্রেশন (Registry of Deed):
• দলিলটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করুন।
• রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের নম্বর ও সাল দেখে নিশ্চিত হোন।

✅ খাজনা-খারিজ ও পরিশোধের রসিদ:
• জমির খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা ভূমি অফিস থেকে যাচাই করুন।
• জমি খারিজ হয়েছে কি না, ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে খতিয়ে দেখুন।

২. জমির বর্তমান অবস্থা যাচাই করুন

✅ জমির দখল:
• জমিতে বিক্রেতার বাস্তবিক দখল আছে কি না, তা সরেজমিনে গিয়ে দেখুন।
• কোনো মামলা-মোকদ্দমা বা বিরোধ আছে কি না, তা স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিন।

✅ জমি অবিভক্ত (Undivided) নাকি ভাগ হয়ে গেছে:
• যদি জমি অংশীদারিত্বের হয়, তাহলে বিক্রেতার অংশ কতটুকু, তা বুঝতে হবে।
• বিক্রেতার অংশ ছাড়া অন্য কারও দাবিদারি আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

✅ জমির নিষেধাজ্ঞা (জব্দ বা মামলা আছে কি না):
• সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও সেটেলমেন্ট অফিসে গিয়ে যাচাই করুন, জমির ওপর কোনো মামলা বা নিষেধাজ্ঞা (stay order) আছে কি না।
• আদালতের নথি বা ভূমি অফিসের নথি দেখে নিশ্চিত হোন।

৩. বিক্রেতার পরিচয় ও ক্ষমতা যাচাই করুন

✅ বিক্রেতা আসল মালিক কি না:
• দলিল, NID ও খতিয়ানের তথ্য যাচাই করে দেখুন।
• একাধিক মালিক থাকলে, সবাই বিক্রির সম্মতি দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হোন।

✅ পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি (Power of Attorney) আছে কি না:
• যদি কেউ অন্যের পক্ষ থেকে জমি বিক্রি করে, তবে তার নির্ভরযোগ্য পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি আছে কি না, তা যাচাই করুন।
• এই পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি নিবন্ধিত ও বৈধ কিনা, তা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে নিশ্চিত হোন।

✅ কোনো বেনামি বা প্রতারণামূলক দলিল আছে কি না:
• জমি অন্যের নামে থাকা সত্ত্বেও বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করুন।
• দলিল জাল কি না, তা ভূমি অফিসে যাচাই করুন।

৪. যাচাইয়ের জন্য কোথায় যেতে হবে?
• ভূমি অফিস (AC Land Office): খারিজ, খতিয়ান ও জমির কর যাচাই
• সাব-রেজিস্ট্রি অফিস: দলিল রেজিস্ট্রেশন ও পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি যাচাই
• সেটেলমেন্ট অফিস: দাগ নম্বর পরিবর্তন ও জমির মালিকানা ইতিহাস
• কোর্ট ও আইনজীবী: কোনো মামলা বা নিষেধাজ্ঞা আছে কি না, তা যাচাই

৫. জমি কেনার আগে করণীয়

✔ একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাহায্য নিন
✔ সব কাগজপত্রের প্রত্যয়ন (Attestation) ও সত্যতা যাচাই করুন
✔ জমির সীমা নির্ধারণ (Boundary Demarcation) ও দখল নিশ্চিত করুন
✔ বিক্রেতার পরিচয় ও বিক্রির ক্ষমতা নিশ্চিত করুন

Want your practice to be the top-listed Law Practice in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address


Ishrat Tower, Room No-803, 6 Purana Paltan
Dhaka
1100

Opening Hours

Monday 21:00 - 21:00
Tuesday 09:00 - 21:00
Wednesday 09:00 - 21:00
Thursday 09:00 - 21:00
Friday 09:00 - 21:00
Saturday 09:00 - 21:00
Sunday 09:00 - 21:00