Practical Muslim

Practical Muslim

Share

11/10/2025
26/09/2025

জান্নাতের পথ রুদ্ধকারী ৩টি ভুল❗

09/12/2024

অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট টিমকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিনন্দন!

09/12/2024

(১)

আমার আম্মা একদিন এসে আমাকে বললেন, ‘আয়িশা আজ আমাকে কি বলেছে জানো?’

দাদী আর নাতনীর মধ্যে কতো বাতচিতই তো হয়৷ কিন্তু, আম্মা যেভাবে কথাটা আমাকে বলতে আসলেন, গুরুতর কোনোকিছু না হয়ে পারে না।

আমি ল্যাপটপ ক্লোজ করে জানতে চাইলাম, ‘কী বলেছে?’

—‘সে আমাকে বলেছে, আমি নাকি কোনোদিন জান্নাতে যেতে পারবো না’।

শুনে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ! কী সাংঘাতিক কথা! এমন কথা মেয়েটা ওর দাদীকে বলতে যাবে কেন?

বিষয়টা আমাকে বেশ ভাবনাচিন্তার মধ্যে ফেলে দিলো। আমি বুঝতে পারছিলাম না বিষয়টাকে আম্মা ঠিক কীভাবে নিয়েছেন। যদিও সমস্ত বিষয়ে আম্মার সাথে আয়িশার আম্মুর বোঝাপড়া খুবই চমৎকার এবং সেটা আমার জীবনের বড় সুখের জায়গা, তথাপি মনে হলো—আম্মা যদি ভেবে বসেন যে, আয়িশাকে এই কথা ওর মা শিখিয়েছে, তাহলে তো ভীষণ বিড়ম্বনায় পড়তে হবে।

ব্যাপারটা আমি আয়িশার আম্মুকেও জানালাম এবং তিনিও ভীষণ ঘাবড়ে গেলেন বিষয়টা শুনে। মেয়েটা ওর দাদীকে এই কথা কেন বললো, কোথা থেকে এমন চিন্তা ওর মাথায় আসলো আমরা সত্যিই বুঝতে পারলাম না।

আমরা অপেক্ষা করছিলাম রাতের জন্য৷ রাতে আয়িশার কাছে ব্যাপারটা জানতে চাওয়া হবে।

রাতে মেয়েকে নিয়ে আমরা দুজনে বসলাম। তাকে বললাম, ‘আম্মু, তুমি কি দাদীকে ভালোবাসো?’

—‘হ্যাঁ, বাসি তো’।

—‘তাহলে, তুমি নাকি দাদীকে বলেছ, দাদী কোনোদিন জান্নাতে যেতে পারবে না। কেন বলেছ এরকম কথা? দাদী কষ্ট পেয়েছে না?’

আয়িশা বললো, ‘আম্মুই তো আমাকে বলেছিল, বৃদ্ধ মানুষেরা জান্নাতে যেতে পারবে না। তাদেরকে আল্লাহ বয়স কমিয়ে দিবে৷ তারপর তারা জান্নাতে যাবে। তাই তো দাদীকে বলেছি’।

বুকের ওপর থেকে যেন একটা পাথর নেমে গেল! আলহামদুলিল্লাহ।

সাথে সাথে আম্মার কাছে চলে গেলাম। গিয়ে বললাম, ‘আয়িশার কাছে জানতে চেয়েছি এই কথা সে কেন বলেছে। ও কী বললো, জানেন’

‘কী বললো?’

‘ওর মা ওকে একটা হাদিস শুনিয়েছিল, যেখানে আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন বৃদ্ধা মহিলাকে বলেছিলেন যে—ওই মহিলা জান্নাতে যেতে পারবে না৷ এতে মহিলা তো ভীষণ মন খারাপ করে ফেলে৷ তারপর মুচকি হেসে আল্লাহর রাসুল বললেন—‘শুনুন, বৃদ্ধ হয়ে কেউ জান্নাতে ঢুকবে না। জান্নাতে প্রবেশের আগে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সবাইকে তরুণ, যুবক আর যুবতী বয়স ফিরিয়ে দেবেন। তারপরে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’

এটা শুনে ওই বৃদ্ধা মহিলা এবার অসম্ভব খুশি হয়ে যায়। এই হাদিস শুনেই আয়িশা শিখেছে যে, বয়স্ক আর বুড়ো মানুষ জান্নাতে যাবে না। তাই সে আপনাকে সেদিন ওই কথাটা বলেছে।

আমরা মা আর ব্যাটায় মিলে হাসলাম খানিকক্ষণ।

(২)

বিয়ের জন্য তরুণ তরুণীরা সুরা আল ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতটা অনেকবেশি পড়ে। সেই দোয়াটার শেষে গিয়ে আমরা ‘মুত্তাক্বীনা ইমামা’ বলে দুটো শব্দ বলি যার অর্থ—মুত্তাকীদের ইমাম। মানে, এই দোয়াতে আমরা আল্লাহর কাছে চোখ শীতলকারী সঙ্গী আর সন্তান চাই। এবং এটাও চাই যে—আল্লাহ যেন আমাদেরকে মুত্তাকীদের ইমাম বানিয়ে দেন।

‘ইমাম’ আরবি শব্দ। শব্দটা শুনলে আমাদের চোখে মাসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে থাকা একজন প্রাজ্ঞ আলিমের দৃশ্য চোখে ভাসে যার পেছনে আমরা সালাত আদায় করি। সালাতে তিনি যা যা করেন, আমরাও তাই তাই করি। তিনি রুকুতে গেলে আমরা রুকুতে যাই, তিনি উঠে দাঁড়ালে আমরা উঠে দাঁড়াই, তিনি সিজদায় গেলে আমরাও সিজদায় যাই।

অর্থাৎ, তিনি আমাদের ইমাম হয়েছেন। আমাদের কাজ হলো তাকে শতভাগ অনুসরণ করা।

ইমাম শব্দের বাংলা অর্থ হলো ‘নেতা’। নেতা বলতে আমরা তাকেই বুঝি যার আদেশ, যার কমান্ড বা নির্দেশনা আমরা মেনে চলি। কিন্তু আমরা কেন নেতাকে অনুসরণ করি? কারণ আমরা বিশ্বাস করি কমান্ড দেওয়ার মতোন যোগ্যতা তার মাঝে আছে। তিনি ভুল কিছু করবেন না বা করেন না।

আমরা তো আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন তিনি আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানিয়ে দেন। যেন মুত্তাকী সন্তানেরা আমাদেরকে অনুসরণ করতে পারে।

কিন্তু, কখনো ভেবেছি কি, মুত্তাকী সন্তান যেন আমাকে অনুসরণ করতে পারে, আমার জীবন থেকে যেন সে শিখতে পারে, আমার জীবনদর্শনের আলোকে যেন সে জীবন গঠন করতে পারে, সেভাবে আমি আমার জীবনটাকে সাজাচ্ছি তো?

‘মুত্তাকীনা ইমামা’ বলতে তো শুধু মুত্তাকী বা পরহেযগার সন্তান লাভ নয়, নিজেরও তাদের ‘ইমাম’ বা ‘নেতা’ হয়ে উঠা। তাদের ইমাম হয়ে উঠার জন্য জীবনকে যেভাবে পরিচালিত করা উচিত, সেভাবে কি পরিচালিত হচ্ছে আমাদের জীবন?

(৩)

মৃত্যুভয় অন্তরে ঝেঁকে বসলে দুনিয়ার কোনোকিছু আমার চিন্তায় ভাস্বর হয়ে উঠে না কেবল একটা চিন্তা ব্যতীত। আমি ভাবি—আমি যদি আগামিকাল থেকে না থাকি, আমার পরিবারটার কী হবে, আমার ছোট ছোট সন্তানগুলো, কেমন অদ্ভুত একটা জীবনে এসে পড়বে তারা!

তবে, যখন থেকে সুরা আল কাহফের সেই দুজন ইয়াতীম বালকের ঘটনাটা পড়েছি, তখন থেকে এই ভয়টাও আর তীব্র হয়ে হানা দিতে পারে না আমার মনে।

সুরা আল কাহাফের শেষের দিকে, মুসা আলাইহিস সালাম আর খিযির আলাইহিস সালামের ঘটনায় বিষয়টা পাওয়া যায়। খিযির আলাইহিস সালাম সেদিন বেশ অদ্ভুত অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা করছিলেন যা অবাক করে দিচ্ছিল নবি মুসা আলাইহিস সালামকে। তারা একটা বাড়িতে খাবারের খোঁজে গিয়ে খালি হাতে ফেরত আসলেন। বাড়ির লোকেরা তাদের কোনো খাবার দিতে চাইল না।

যে বাড়ির লোকেরা খাবার দেয়নি, সেই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে, সেই বাড়ির একটা ভাঙা দেওয়াল খিযির আলাইহিস সালাম মেরামত করে দেন।

ব্যাপারটা আশ্চর্য করে দেয় মুসা আলাইহিস সালামকে। তিনি জিগ্যেস করে বসেন, ‘এই লোকগুলো আমাদের তিরস্কিত করল। কোনো খাবারই দিলো না। আর আপনি কী না তাদের ভাঙা দেওয়া ঠিক করে দিয়ে এলেন?’

খানিক বাদে নবি মুসা আলাইহিস সালামের এই প্রশ্নের জবাব দিলেন খিযির আলাইহিস সালাম।

তিরস্কিত হওয়া সত্ত্বেও কেন সেই বাড়ির ভাঙা দেয়াল তিনি মেরামত করে দিয়েছিলেন সেটা খোলাসা করতে গিয়ে খিযির আলাইহিস সালাম বলেন যে—‘এই দেয়ালটা দুজন ইয়াতীম ছেলের। কিন্তু তারা এখনো নাবালক। এই দেয়ালের নিচে তাদের জন্য তাদের পিতার রেখে যাওয়া সম্পদ গুপ্ত অবস্থায় আছে। দেয়ালটা যদি এখনই ভেঙে যায়, সেই সম্পদ সকলের গোচরে চলে আসবে আর তা অন্যেরা ভোগদখল করে নেবে। তিনি দেয়াল পুনঃনির্মাণ করে দিয়েছেন যাতে বালকেরা যৌবনে পৌঁছাবার আগে এই সম্পদ লুকোনো আর সুরক্ষিত থাকে।’

কিন্তু, বালকদ্বয়ের জন্য এই যে উপকার, এই উপকারটা খিযির আলাইহিস সালাম কেন করেছিলেন জানেন? একই আয়াতে এই কাজটার নেপথ্য কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন—‘তাদের বাবা ছিলেন একজন সৎকর্মশীল ব্যক্তি’।

তাদের বাবা একজন সৎকর্মশীল, পরহেযগার, মুত্তাকী মানুষ ছিলেন। ঠিক এই কারণে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসা আলাইহিস সালামের মতো একজন প্রসিদ্ধ নবি আর খিযির আলাইহিস সালামের মতো একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তিকে পাঠিয়ে দিলেন যাতে উক্ত মুত্তাকী, সৎকর্মশীল ব্যক্তির সন্তানদের সম্পদ সুরক্ষিত থাকে। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি!

মৃত্যুর পরে আমাদের পরিবার, বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানাদি এদের ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে আমরা যারা পেরেশান, আমাদের জন্য চমৎকার একটা উদাহরণ সুরা আল কাহাফের এই ঘটনাটি। যদি আমরাও আল্লাহর মুত্তাকী বান্দা হতে পারি, যদি আমরাও হয়ে উঠতে পারি সৎকর্মশীল, ন্যায়পরায়ণ আর সত্যিকার সালেহিন বান্দা, আমার অবর্তমানে আমার পরিবারের নিরাপত্তার জন্যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হয়তো কোনো একজন খিযিরকে ঠিক ঠিক পাঠিয়ে দেবেন।

Want your place of worship to be the top-listed Place Of Worship in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address


Dhaka
1200