ইসিডোর হাওলাদার,একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম
মুজিববাহিনীর(বি.এল.এফ)সদস্য ছিলেন।হাতেগোনা যে ক‘জন খ্রীষ্টান যুবক আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন,ইসিডোর হাওলাদার ছিলেন তাদের অন্যতম।তিনি ফরিদপুর জেলার(বর্তমান মাদারীপুর জেলার) নবগ্রামে ২৩ শে ডিসেম্বের ১৯৫৫ সালে জন্ম গ্রহন করেন।পিতাঃ ফিলিপ চিত্তরঞ্জন হাওলাদার (চিত্ত স্যার)যিনি বাংলাদশের সমবায় আন্দলোন অন্যতম অগ্রপথিক ও মাতাঃ এলিজাবেথ হাওলাদারের প
ঞ্চম সন্তান ছিলেন।। তিনি ১৯৭৭ সালে ২২ শে ডিসেম্বর বিবাহ বন্ধন আবদ্ধ হন।তার স্ত্রীর নাম স্মৃতি হাওলাদার। বিবাহিত জীবনে তিনি এক সন্তান ডন ক্লারেন্স হাওলাদারের জনক। এছাড়া তার পরিবারে রয়েছে পুত্রবধূ সুইটি রোজারিও ও তার নাতনী এমেন্ড্রা হাওলাদার।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে ডানপিটে ইসিডোর হাওলাদার ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় তিনি ছিলেন চট্টগ্রামে।সেখানকার দিয়াং মিশন স্কুল হোষ্টেলে থেকে লেখাপড়া করতেন।মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের আহবান এলে তিনি তার এক বন্ধুসহ পালিয়ে চলে আসেন ফেণী। সেখান থেকে স্থানীয়দের দেখানো পথে রাতের অন্ধকারে বেলুনিয়া হয়ে পৌঁছে যান আগরতলা।সেখানেও গিয়ে উঠেন প্রথমে মিশনপাড়া গির্জায়, পরে খোঁজখবর নিয়ে তৎকালিন বৃহত্তর কুমিল্লার যুবকদের সাথে মিশে গিয়ে উঠেন কলেজ টিলাস্থ হোষ্টেলে আর সেখান থেকে রিক্রুট হয়ে হাফলং-এ ট্রেনিং নেন।তিনি গ্রেনেড ছোঁড়ার উপর বিশেষ ট্রেনিং প্রাপ্ত হন ও সফলতার সাথে গেরিলা ট্রেনিং সম্পন্ন করেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ১৯৭৩ সালে মরিয়ম আশ্রম স্কুল দিয়াং ফাজিলখারহাট পটিয়া চট্টগ্রাম হতে এস.এস.সি ও ১৯৭৭ সালে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ, শান্তিনগর ঢাকা থেকে এইচ.এস.সি পাস করেন।
ঐ একই সালে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন এন.জি.ও তে ।তিনি পর্যায়ক্রমে আর.ডি.আর.এস, কনসান, এফ.পি.সি, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী।এরপর তিনি নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফ্লোরিনা এন্টারপ্রইজ ও পরে ডীন এজেনসির সাথে যুক্ত ছিলেন।শেষ জীবনে তিনি ব্যরিস্টার আলর্বাট বাড়ৈর এর সহকারি হিসাবে কর্মরতছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, সদআলাপী, পরিশ্র্মি নির্লোভী ও অন্যায়ের প্রতি আপোষহীন। সৎ জীবন যাপন ও অসম্প্রদািয় কতার জন্য তার বিশেষ সুনাম আছে। তিনি নানা রকম সামাজিক কর্মকাণ্ডে ও যুক্ত ছিলেন।তিনি স্বপ্নালোক সাংস্কিতিক সংেঘর উপদেষ্টা ছিলেন। ছিলেন বাচা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ট্রাষ্টি বোর্ডেরওসদস্য।
তিনি দীর্ঘ দিন ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় বাস করতেন।ফলে,ওনার জন্মস্থান, বর্তমান অবস্থান,মুজিব বাহিনীর কুমিল্লার গ্রুপের সদস্য হিসাবে টেনিং,অস্ত্র জমা ইত্যাদি নিয়ে বেশ জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে অনেক ছুটাছুটি করেছেন।কুমিল্লার মুজিব বাহিনীর কমান্ডার,আওয়ামীলীগ নেতা নাজমুল হাসান পাখি এর সাথে যোগাযোগ করেন।তিনি সৈয়দ রেজাউর রহমান এর সাথে যোগাযোগের কথা বলেন, সব শুনে সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, যেহেতু ইসিডোর হাওলাদার,চাদঁপুরের কিরণ গ্রুপের সঙ্গে ছিলেন,আর কিরণ বেশ কিছুদিন আগেই মারা গেছেন। ফলে তিনি,চাঁদপুরের বর্তমানে সংসদ সদস্য,সাংবাদিক নেতা শফিকুর রহমানের সাথে দেখা করতে বলেন।তিনি দেখা করেছিলেন কিন্তু কিছুেত যেন কিছু হল না।তার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ডি.জি.নং DGI144788 আবেদনের তারিখঃ 31/05/2014
দেশে কত ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিয়েন ঘুরে বেড়ায়,সুযোগ সুবিধে ভোগ করছে ,মাঝে মাঝে অনেকে ধরা পড়ে ‘ভূয়া“ পরিচয়ের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে।অথচ মৃত্যুর মধ্যদিয়েও ইসিডোর হাওলাদার তার ন্যয্য প্রাপ্য শেষ সন্মানটুকু থেকেও বঞ্চিত হলেন।ঢাকার গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় গত ২৫শে জুলাই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।তেজগাঁও গীর্জায় এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সমাহিত করা হয়। ইসিডোর হাওলাদার তার জীবন দশায় মুক্তিযুদ্ধার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিটুকু দেখে যেতে পারেননি।।