Muhammad Rofik
24/05/2026
মদিনার আদব
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
গত রাতে পবিত্র নগরী মদিনায় মসজিদে নববীর অদূরে এক মোবারক মজলিসে বসার সুযোগ হয়েছিল। যেখানে প্রায় পয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশজন হাজ্বী সাহেব অংশ নিয়েছিলেন। সেই মজলিসে বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন পরিচিত আলেম ব্যক্তিত্বও উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকার মাওলানা হামিদ জহিরি ও মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ কাশফী। ছিলেন ফেনী জামিয়া রশিদিয়ার এক সিনিয়র ওস্তাদও।
রাতের ভোজন শেষে মাওলানা হামিদ জহিরি সাহেবকে হাজ্বী সাহেবরা আবদার করলেন কিছু নসীহা পেশ করার জন্য। তিনি সংক্ষিপ্ত খুৎবা শেষে পবিত্র মদিনায় বসবাসের আদব সম্পর্কে আলোচনা শুরু করলেন। কয়েক মিনিটের সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি তিনটি ঘটনা বর্ণনা করলেন। উনার আবেগময় বর্ণনা ভঙ্গি আর ঘটনাগুলোর স্পর্শকাতরতা সবার হৃদয়কে ছুয়ে গেছে। কাউকে নিজের অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য লজ্জিত হতে দেখেছি। আবার কাউকে অশ্রুসজল হতেও দেখেছি।
ঘটনাগুলো.....
১,
এক বড় বুজুর্গ মদিনা শরীফ জিয়ারতে এসেছেন। তিনি মদিনায় অবস্থানকালীন সময়ে এখানকার দই খান। দইটা উনার কাছে একটু টক মনে হয়। উনি কথাপ্রসঙ্গে কেউ একজনকে মদিনার দই টক লাগার বিষয়টি শেয়ার করেন। বলেন, 'মদিনার দই টক'। ব্যস এটুকুই। উনি রাতে ঘুমিয়ে পড়লেন। ঘুমের মধ্যে প্রিয় নবীজি ﷺ স্বপ্নযোগে উনার সামনে উপস্থিত হলেন। এবং তাঁকে বললেন, 'মদিনার দই বুঝি টক'? আগামীকাল সূর্যোদয়ের পূর্বেই তুমি মদিনা ত্যাগ করবে। উনি স্বপ্ন দেখার পর ফজর হওয়ার পূর্বেই প্রিয় নবীজি ﷺ আদেশ অনুযায়ী পবিত্র মদিনা ত্যাগ করেন।
২,
পবিত্র মসজিদে নববীতে একদিন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি অনুভব করলেন তাঁর গায়ে এক ছোট্ট পাথরের টুকরো এসে পড়েছে। তিনি তড়িঘড়ি করে ওঠে বসতেই দেখলেন হযরত ওমর রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু তাঁকে ইশারা দিয়ে বলছেন, দূরে ওই জায়গায় দুজন যুবক বসে কথা বলছে। তাদের পরিচয় বের করুন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু সেই যুবক দুজনের কাছে গিয়ে পরিচয় এবং কোত্থেকে এসেছে জানতে চাইলেন। যুবক দুজন বললেন, 'তায়েফ থেকে '।
একথা শোনার পর হযরত ওমর রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বললেন, আজ তোমরা দূরের মেহমান হওয়াতে বেঁচে গেছো। অন্যথায় পবিত্র মসজিদে নববীতে বসে উচ্চস্বরে কথা বলার অপরাধে তোমাদেরকে কঠিন শিক্ষা দিতাম। আল্লাহু আকবার! একেই বুঝি বলে নবীপ্রেম?!
৩,
তিন নাম্বারের ঘটনাটা যতটুকু মনে পড়ে এরকম। ঘটনাটা উনার সাথেই ঘটেছে।
দুই হাজার এগারো সালে সর্বপ্রথম মাওলানা হামিদ জহিরি সাহেব মক্কা মদিনা সফরে আসেন। তিনি মদিনা শরীফে বসে আছেন। দেখেন দুই মিশরীয় যুবক পবিত্র রওজা মোবারকের দিকে পা টেনে বসে আছে। তিনি দৃশ্যটি দেখে কষ্ট পান। কষ্ট থেকেই তিনি যুবকদ্বয়ের কাছে ছুটে যান। গিয়ে কথা বলা শুরু করলেন। পরিচয় পর্ব শেষে তিনি যুবকদের বললেন, 'ধরুণ আপনাদের সামনে আপনাদের জন্মদাত্রী মা বসে আছেন। তখন কি আপনারা মায়ের দিকে পা টেনে এভাবে বসতে পারবেন বা বসবেন'?
যুবকদ্বয় একথা শোনা মাত্র চিৎকার দিয়ে আসতাগফিরুল্লাহ পড়তে পড়তে বলল, 'অসম্ভব। প্রশ্নই আসে না'। তখন মাওলানা সাহেব তাদের বললেন, 'যেখানে আপনারা জন্মদাত্রী মায়ের সামনে এভাবে বসাটা অসম্মান মনে করেন, সেখানে দুজাহানের সরদারের রওজার দিকে পা টেনে বসে আছেন কীভাবে? যুবকদ্বয় অপরাধ বুঝতে পেরে লজ্জিত হয়ে তাওবা করতে লাগলেন, আর বললেন, আর কখনো এমনটা হবে না।
(উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ পবিত্র কা'বা বা রওজা মোবারকের দিকে পা টেনে বসাটা দোষের কিছু মনে করে না। যদিও এটা আদবের খেলাফ।)
মাওলানা হামিদ জহিরি সাহেবের এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা শোনার পর আমার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে গেছে। পিনপতন নীরবতা নেমে এসেছিলো গোটা মজলিসজুড়ে। অতীতে নিজের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল-ত্রুটির জন্য লজ্জায় আপাদমস্তক নত হয়ে গেছে। কর্মসূত্রে এই শহরে বসবাসের সুবাধে অজান্তে কত বেয়াদবিই না করে ফেলেছি পবিত্র রওজা মোবারক ও এই পবিত্র এই নগরীর সাথে!
আল্লাহ আমাকে মাফ করুন।
মাওলানা হামিদ জহিরি সাহেবের এই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ঘটনার বর্ণনা থেকে পবিত্র মদিনায় বসবাসকারী ও জিয়ারতকারীদের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নসীহা রয়েছে।
১,
পবিত্র মদিনার যেকোনো বিষয় নিয়ে সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকা। হোক তা খাবারদাবার, হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি...
২,
মসজিদে নববীতে উচ্চবাচ্য বা অহেতুক কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকা। চোখের হেফাজত করা ইত্যাদি..
৩,
আরবীয়দের দেখাদেখি আদবের খেলাফ সর্বপ্রকার কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা।
আল্লাহ পবিত্র মদিনায় বসবাসকারী ও জিয়ারতকারী সবাইকে এই নসীহাগুলো মেনে চলার তাওফিক দান করুন।
-সংগৃহীত
#ﷺ
18/05/2026
ছোট খুশির খবর হইল
তেরো সালের ‘নতুন শক্তি’ হেফাজতে ইসলাম সাংগঠনিকভাবে তোষামোদি তোষামোদি খেলা থেকে হয়তো রক্ষা পেল আলহামদুলিল্লাহ। যে স্বার্থান্বেষীরা একে শ্রমজীবী সংগঠনে পরিণত করতে চাইসিল,তাদের খেলা ভেস্তে গেল সম্ভবত।
বড় দুঃখের ব্যাপার হইল
হেফাজতের স্বয়ং আমীরকে দলবল নিয়ে গিয়ে মামুনুল হকের বুঝাতে হল যে— জামায়াতের সাথে আমাদের জোট রাজনৈতিক ; আদর্শিক নয়। অতঃপর আমীরে হেফাজত হাফিজাহুল্লাহ অনুজকে মাথায় হাত বুলালেন এবং বিষয়- আশয় মেনে নিলেন। মানে বাবা তোমার কাজ ঠিক আছে। জামায়াতের সাথে জোট করা ইত্যাদি ইত্যাদি।
তো এইসব ঘটনায় প্রশ্ন উঠে হইল
আমীরে হেফাজত কি স্বকীয় বুঝ -বুদ্ধি রাখেন না, নাকি তিনি বুঝের ব্যাপারে পরনির্ভর? অথবা মুখাপেক্ষী? এই যে জামায়াতের জোট আদর্শিক জোট না— এই তুচ্ছ ব্যাপারটা কেন তাঁকে আরেকজনের বুঝানো লাগবে? আর একদল যখন নির্বাচনের আগে বুঝাইল জামায়াতের সাথে মুমীনুলদের আকীদাগত বা আদর্শগত জোট হইছে, তখন তিনি ফতোয়া দিলেন, জামায়াতকে ভোট দেওয়া হা°রাম। সাথে মামুনুল হককে বহিষ্কারের আলাপ উঠল। ওই ফতোয়ার এখন কি অবস্থা? মানে যে যেইটা বুঝাবে, তারটা মেনে নিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিবেন, এইটা কি আমীরের শান? ইসলামে কি আমীর বা দলপ্রধানের কোনো নেতৃত্ব গুণ বাতলানো নাই? না না আমি প্রশ্ন করছি না তাঁর নেতৃত্ব গুণের অভাব কিনা, বরং এইসব ঘটনাপ্রবাহই সুয়াল উস্কে দিচ্ছে। এগুলোর মাধ্যমে কি ইসলাম হাসির পাত্র হচ্ছে না?
এর মধ্য দিয়ে কি ছিদ্রাণ্বেষীদের এই প্রশ্নের সুযোগ উঠছে না যে— হেফাজত আমীর কি খেলার পুতুল?
আহহা
নিজেদেরকে আর হাসির পাত্র বানায়েন না প্লিজ!
কাবার ইমাম যদি অপরাধ করে তাই বলে কি মক্কায় যাওয়া বা হজ্জ করা বন্ধ করে দিবো? না কখনই না। কোনো জ্ঞানী যদি অপরাধ করে জ্ঞান অন্বেষণ করা কি বন্ধ করে দিবো? না কখনই না।
ঠিক কোনো হুজুর অপরাধ করলে মাদ্রাসা শিক্ষা বা সন্তানকে মাদ্রাসায় দেয়া বন্ধ করা এই স্লোগান কেনো? যে অপরাধ করবে তাকে শাস্তির সম্মুখীন করতে হবে। এতে হুজুর হোক বা জেনারেল হোক। সবাই মানুষ হুজুররা ফেরেস্তা না। তারা আসমান থেকেও আসেনায়। তাদের দ্বারা যে গুনাহ সংগঠিত হবেনা বিষয় টা এমন নয়। যদি এমন হতো আল্লাহ্ সেটা কোরআনের মধ্যেই বলে দিতো। আল্লাহ তাআলা বলেছেন যারা মুমিন তারা গুনাহ থেকে বেচে থাকবে। শয়তানের প্রবঞ্চনায় গুনাহ হয়ে গেলে তাওবাহ করবে। এখন আপনার দৃষ্টিতে যদি হুজুররাই মুমিন হয় তাহলে বাকি সব কি মুনাফিক? না মুনাফিক না যারা আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছে তারাই মুমিন। বলৎকার, ধর্ষন, পরকীয়া হত্যা, গুম, খুন ইত্যাদি,, থেকে পরিবার সমাজ বাচাতে হলে স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসা,মসজিদ, হাসপাতাল,,,সর্ব যায়গায় সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং অপরাধীকে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
20/04/2026
করোনার বেশ কিছুদিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের রানির সঙ্গে দেখা করতে। সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ট্রাম্প তাঁর কাছে জানতে চাইলেন, আপা এত চমৎকারভাবে দেশটা চালাচ্ছেন আপনি, কেমনে কী? একটু টিপস্-টুপস্ দেন দয়া করে।
অবশ্যই, দেব না কেন, জবাব দিলেন রানি। বললেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা হচ্ছে নিজের আশপাশে মেধাবী ও বুদ্ধিমান লোক রাখবা।
ট্রাম্প মাথা চুলকালো। বলল, বুঝব কেমনে যে আশপাশের লোকগুলো বুদ্ধিমান?
রানি বললেন, একটা ধাঁধা জিজ্ঞেস করবা। দাঁড়াও দেখাচ্ছি। রানি ইন্টারকম টিপে তার প্রধানমন্ত্রীকে আসতে বললেন। বরিস জনসন অল্প সময়ের মধ্যে সেই রুমে এসে হাজির। বললেন, আপা ডাকসেন?
রানি বললেন, আচ্ছা বরিস, ধরো তোমার মা-বাবার একটা সন্তান হলো। সেটা তোমার ভাই বা বোন না। তাহলে সেটা কে?
বরিস এক সেকেন্ডের মধ্যে বললেন, কেন, আমি! রানি মুচকি হেসে বললেন, ঠিক বলেছো।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বাড়ি ফিরে গিয়ে তাঁর উপ-রাষ্ট্রপতি মাইক পেন্সকে জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা মাইক, ধরো তোমার মা-বাবার একটা সন্তান হলো। সেটা তোমার ভাই বা বোন না। তাহলে সেটা কে?
ট্রাম্পের প্রশ্ন শুনে মাইকের চোখ ছোট হয়ে গেল। তিনি বললেন, আমি ঠিক নিশ্চিত না। একটু সময় দেন, আমি জানাচ্ছি আপনাকে। মাইক তার উপদেষ্টা, ম্যানেজার সবাইকে প্রশ্নটা করলেন। কেউ ঠিক মতো জবাব দিতে পারল না।
শেষ পর্যন্ত মাইক তার স্কুলজীবনের বুদ্ধিমান বন্ধু জ্যাক মার্ফির সঙ্গে একটা রেস্টুরেন্টে দেখা করলেন। বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা দোস্ত, ধরো তোমার মা-বাবার একটা সন্তান হলো। সেটা তোমার ভাই বা বোন না। তাহলে সেটা কে?
মার্ফি হাসতে হাসতে বললেন, এটা তো খুব সহজ। আমি।
মাইক বললেন, ধন্যবাদ। বাঁচালে।
পরদিন মাইক গেলেন ট্রাম্পের কাছে। গিয়ে খুব গর্বের সঙ্গে বললেন কালকের ধাঁধাটার তো সমাধান করে ফেলসি। আমার মায়ের ওই সন্তান হচ্ছে আমার বন্ধু মার্ফি!
ট্রাম্প ভয়াবহ ক্ষেপে গিয়ে বললেন, গাধা! ওটা বরিস জনসন!
দেবর-ভাবী' শব্দের মধ্যে চরম অশ্লীলতা!!
ভাবীর অর্থ খুঁজতে গিয়ে এটা পাইলাম!
আমাদের বাংলা 'শব্দভাণ্ডার' হিন্দুদের অশ্লীল আচার-আচারনে সমৃদ্ধ সংস্কৃত ভাষার উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। আচ্ছা আপনারা কেউ কী জানেন!
বরের ছোট ভাইকে মেয়েরা দেবর বলে কেন?
আর দেবর শব্দের প্রচলনই বা হল কিভাবে ?
দেবর তার বড় ভাইয়ের বউকে ভাবী বলে কেন?
দেবর শব্দের বিশ্লেষণ :
দেবর শব্দটির আসল রূপ হল:
'দেবর' শব্দের মূলরূপ 'দ্বেবর' যার অর্থ দ্বিতীয় বর। এই শব্দের উৎপত্তি হয়েছে হিন্দু ধর্মের জঘন্যতম 'সতীদাহ' প্রথা হতে।
হিন্দু সমাজে যখন সতীদাহ প্রথা চালু ছিল, তখন কোন মেয়ের বর মারা গেলে তার সাথে ওই মেয়েকেও চিতায় পোড়ানো হত।
কিন্তু তাদের বাঁচার একটাই উপায়
ছিল, তা হল ওই মেয়ের বরের যদি কোন ছোট ভাই থাকত, আর সে যদি ওই মেয়েকে বিয়ে করার অঙ্গীকার করত এবং চিতায় অগ্নি প্রজ্বলনের আগেই তাকে চিতা থেকে নামিয়ে নিয়ে আসত, তবেই সেই মেয়ে রক্ষা পেত।
আর এই কারণেই হিন্দু ধর্মের
মুনি-ঋষিরা মেয়েদের জন্য বরের ছোট ভাইয়ের নামকরণ করে 'দেবর' অর্থাৎ দ্বিতীয় বর!
====
'ভাবী' শব্দের বিশ্লেষণ:
'ভাবী' শব্দের মধ্যেও অনেক অশ্লীলতা আছে।
ভাবী শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে যাকে নিয়ে ভাবা হয়, যার সাথে ভাব করা হয়, ভবিষ্যতে যে হবে, (আধুনিক বাংলা অভিধান) তাকে ভাবী বলে।
যেমন বলা হয় `আমি তোমাকে নিয়ে ভাবী`।
আসলে আমরা মুসলিমরা না জেনেই কতকিছু করে থাকি অনুকরণের ছলে।
ভাবিও না আমি কি করছি, কি বলছি, আর কেনইবা করছি, কেনইবা বলছি!
আজ যখন হঠাৎ করেই এই বিষয়টা মাথায় আসল তখন নিজে নিজেই লজ্জা পাচ্ছি, আসলে ঠিক লজ্জাও না, কেমন যেন অপমানিত বোধ করছি।
কেউ হয়তো ভাবতেও পারেন নাই যে এই দেবর-ভাবী শব্দের মাঝে মেয়েদের জন্য কতবড় কলঙ্ক লুকিয়ে আছে।
আসলেই কি আমাদের বাংলা শব্দভাণ্ডার এতটাই কম যে হিন্দুরা যা কিছুর প্রচলন করেছে আমাদেরও তালে তাল মিলিয়ে সেগুলো আওড়াতে হবে?
আমাদের মুসলিমদের কি নিজস্বতা বলতে কিছু নেই??
'
এর পরিবর্তে ... আপু/ভাই, ডাকতে পারেন আপনি লক্ষ করে থাকবেন, ইংরেজি অথবা আরবিতে এই শব্দগুলোর প্রতিশব্দ নেই। আরব এবং ব্রিটিশ ভাই অথবা আপু বলেই সম্বোধন করে।
আমাদেরই উচিৎ, ভাই/আপু বলেই সম্বোধন করা!
➤আসুন এসব শব্দ পরিহার করি। (বিরোধীতা নই, আসুন অশ্লীলতা পরিবর্তন করি)
বাই-চান্স না বাই-চয়েজ?
বাই চান্স মৌলবি আর বাই চয়েজ মৌলবির মাঝে পার্থক্য বিরাট!
কওমি অঙ্গন প্রকৃত অর্থে তাদেরকেই খুঁজে বেড়ায়, মৌলবিত্বকে যারা চয়েজ করেছে, ধারণ করেছে এবং গৌরব হিসাবে আপন করে নিয়েছে।
পরিবারের চাপে ঘটনাক্রমে বিপদে পড়ে পিছলা খেয়ে বাই-চান্স মাদ্রাসায় এসে থাকলে বছরের শুরুতে নিজের সাথে আবার বোঝাপড়া করুন। নতুন করে নিয়ত দুরুস্ত করে নিন।
অন্তত
১. ঈমান মজবুত করা,
২. আমল ইবাদতে অভ্যস্ত হওয়া,
৩. একাধিক ভাষা শেখা,
৪. আদব কায়দা রপ্ত করা,
৫. নীতি-নৈতিকতা জাগ্রত করা
৬. মিচুরিটি অর্জন করা
৭. দ্বীন ইসলামের কমন জ্ঞান হাসিল করা
৮. হক-বাতিলের পার্থক্য সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান লাভ করা--
--এই আটটি লক্ষ্যে পড়ালেখা করুন।
পড়াশোনা শেষে ঈমান আমল এবং গোত্র পরিচিতি রক্ষা করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি-বাকরিতে চলে যান। দ্বীনি কাজের সহযোগী হোন। আপনার জন্য শুভকামনা।
কিন্তু যদি মৌলবিত্বকেই শোগল বানাতে চান, দ্বীনি ইলম নিয়ে জীবন পার করতে চান, ইসলামের গভীর বুঝ-সমঝ হাসিল করতে চান, তবে আপনি ধর্মীয় অঙ্গনের কুল-প্রদীপ, গর্বের ধন! অনেক বেশি যত্নের সাথে আপনাকে বড় হতে হবে বেড়ে উঠতে হবে!
ভবিষ্যতে নবীর ওয়ারিশ হবেন,
ইলমি আমানতের ধারক হবেন, ইসলামের পক্ষে ওকালতি করবেন, দীন-শরিয়তের আবেদনপূর্ণ উপস্থাপক হবেন,
ছাত্রদেরকে সেভাবে গড়ে তুলবেন, --তাহলে এখন থেকেই আপনাকে অনেক বেশি হিম্মত সাধনা এবং ঐকান্তিকতার পরিচয় দিতে হবে। কৃচ্ছতাপূর্ণ সল্পেতুষ্ট জীবনরীতি আপন করে নিতে হবে।
সুতরাং বছরের শুরুতে ভর্তির প্রাক্কালে আত্মজিজ্ঞাসা শেষ করুন। কে কি কেন কখন কোথায় কিভাবে? ভেবে চিন্তে উত্তর ঠিক করুন এবং সে অনুসারে সিদ্ধান্ত নিন। এখানে উদাসীনতা, অস্পষ্টতা কিংবা দোদুল্যমানতা থাকলে পরে পস্তাতে হয়! হীনমান্যতার শিকার হতে হয়! সুতরাং নিজেকে নিয়ে বসুন, শান্তভাবে লক্ষ্য স্থির করুন।
আল্লাহ সহায়।
৮০০ কোটি দাস জানেই না তারা দাস‼️
আমরা এমন দাস, যাদের জেনেটিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। যাতে আমাদের আয়ু কম হয়, মস্তিষ্কের ক্ষমতা সীমিত থাকে, আর হয়তো আরও অনেক কিছু। আমাদের আসল ইতিহাস আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আর তার বদলে একটি ভুয়া ইতিহাস তৈরি করে ছোটবেলা থেকেই আমাদের মনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে আমরা প্রশ্ন না করি এবং দাস হিসেবেই থেকে যাই। এটা হাজার হাজার বছর ধরে চলছে, হয়তো তার থেকেও বেশি সময় ধরে।
মানুষের আসল উৎস সম্পর্কে শুধু তারাই জানে যারা পৃথিবী শাসন করে। যারা বিভিন্ন গোপন সংগঠনের অংশ (যেমন ই*লু*মিনাটি, স্কাল অ্যান্ড বোনস ইত্যাদি)। তারাই মানুষের স্মৃতি ও আসল পরিচয় কেড়ে নিয়েছে। ভুয়া ইতিহাস তৈরি করেছে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে সেটাকেই সত্য হিসেবে শেখাচ্ছে!
সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো যারা শত শত বা হাজার হাজার প্রজন্ম ধরে দাসত্বে জন্মেছে, তাদের বোঝানো যে তারা আসলে দাস। কারণ ছোটবেলা থেকেই তাদের এমনভাবে শেখানো হয়েছে যে তারা শাসকদের মেনে নেবে, কিন্তু কখনো তাদের মালিক বলবে না বা প্রশ্ন করবে না। স্বাধীনতা সম্পর্কে তাদের ধারণাও সীমিত, যতটুকু শাসকেরা তাদের বোঝায়, ততটুকু।
তবুও সব সময় কিছু মানুষ থাকে যারা জেগে ওঠে। যারা এই কথিত সত্য বুঝতে পারে এবং একটি মুক্ত পৃথিবীর কল্পনা করতে পারে। সেই মানুষদের কাজ হলো অন্যদেরও জাগিয়ে তোলা, যতক্ষণ না সবাই এই শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে পারে।
গল্পটি শুরু করার আগে একবার দুরুদ শরীফ পড়ে নিন: সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
সেই রাতটি ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এবং ত্যাগের রাত। চারিদিকে কাফেরদের তলোয়ারের ঝনঝনানি, আর তার মাঝেই নবীজি (সা.) ও তাঁর পরম বন্ধু আবু বকর (রা.) আশ্রয় নিলেন অন্ধকার 'সাওর' গুহায়।
গুহার ভেতরটা ছিল অগোছালো আর গর্তে ভরা। নিজের পরনের চাদর ছিঁড়ে ছিঁড়ে প্রতিটি গর্ত বন্ধ করলেন আবু বকর (রা.)। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না— একটি গর্ত তখনো খোলা! কাপড় শেষ, কিন্তু নবীজির জীবনের ঝুঁকি তো শেষ হয়নি।
অতঃপর যা ঘটল, তা শুনলে আপনার গায়ের পশম দাঁড়িয়ে যাবে!
ক্লান্ত নবীজি (সা.) আবু বকর (রা.)-এর কোলে মাথা রেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ঠিক তখনই সেই খোলা গর্ত দিয়ে একটি বিষধর সাপ উঁকি দিল। আবু বকর (রা.) দেখলেন, পা সরালেই সাপটি তাঁর প্রিয় নবীকে দংশন করতে পারে। মুহূর্তের সিদ্ধান্তে তিনি নিজের পা দিয়েই সেই গর্তটি চেপে ধরলেন।
সাপটি বারবার তাঁর পায়ে বিষাক্ত ছোবল দিতে লাগল। বিষের তীব্র যন্ত্রণায় তাঁর শরীর নীল হয়ে আসছিল, কলিজা ফেটে যাচ্ছিল ব্যথায়। কিন্তু সুবহানাল্লাহ! নবীজির ঘুমের পাছে ব্যাঘাত ঘটে, এই ভয়ে তিনি একটুও নড়লেন না, উফ শব্দটিও করলেন না!
কিন্তু ভালোবাসা কি আর লুকিয়ে রাখা যায়?
তীব্র যন্ত্রণায় আবু বকর (রা.)-এর চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া এক ফোঁটা তপ্ত অশ্রু নবীজির গালে পড়ল। নবীজি জেগে উঠলেন এবং অবাক হয়ে দেখলেন তাঁর বন্ধুর করুণ দশা।
নবীজি (সা.) বললেন, "হে আবু বকর! কী হয়েছে তোমার?" আবু বকর (রা.) ব্যথায় নীল হওয়া মুখ নিয়ে হাসলেন আর বললেন, "ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার কিছু হয়নি, শুধু একটি সাপ কামড় দিয়েছে।"
নবীজি (সা.) তাঁর মোবারক থুতু লাগিয়ে দিলেন আর মুহূর্তেই বিষের জ্বালা পানি হয়ে গেল।
শিক্ষা: আজ আমরা সামান্য বিপদে পড়লে ইবাদত ছেড়ে দিই, আর সাহাবীরা জীবনের বিনিময়ে ইসলামকে ভালোবেসেছেন। নবীপ্রেমের এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে?
আপনি কি আবু বকর (রা.)-এর মতো নবীজিকে ভালোবাসেন? ভালো লাগলে 'আল্লাহু আকবার' লিখে শেয়ার করুন। আপনার একটি শেয়ার হয়তো কারো ঈমান জাগিয়ে তুলবে।
16/03/2026
বে'শ্যাদের পর হুজুররাই সবচেয়ে সস্তা মাল— কথাটা একজন বলেছেন। তিনি খুব খারাপ বলেননি। কারণ এই কমদামি মাল হওয়ার পেছনে হুজুরদের আবিষ্কৃত অঘোষিত একটা মতবাদ আছে,যেটার নাম —ফকিন্নিতন্ত্র। সম্ভবত এটা গণতন্ত্রের চেয়ে ভয়াবহ। এই মতবাদের মূল স্লোগান হল— ‘টাকা উপার্জন, দুনিয়া আখেরাত বরবাদের কারণ’। এটা কওমি পড়ুয়ারা কমবেশি সবাই জানেন। টাকার দিকে ছুটলে মানিজ্জত সব চলে যায়, মানহানি হয়।
গতকাল বিএনপি ইমাম, মুয়াজ্জিন,পুরোহিতদের একসাথে 'সম্মানিত' করেছে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রঠা সংগীত শুনেছে হুজুররা। খুবই আরাম, কিন্তু মিলাদ ক্বিয়াম হারাম। পুরোহিতদের সাথে গিয়েছে ইমামরা, এতে কারো মানহানি হয়নি।
মানহানি হয় না, এতিম এবং হুজুরদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে গেলে। কিছুদিন আগে যে ইফতার মাহফিল নিয়ে আপনারা পেছন মারামারির গল্প শুনেছেন,সেটার কথা বলছি।
গতকাল এডলফ খানের মতো হাস্যরসের পাত্র এক মাদ্রাসায় পাগড়ি পরিয়েছে। ছিহ! কারো মানহানি হয়নি। কারণ সে কিছু টাকা দিয়েছে মাদ্রাসায়। এইটা এক মাদ্রাসার দৃশ্য না। দেশের প্রায় সকল কওমি মাদ্রাসায় ৩০০/৫০০ টাকা দিয়ে এলাকার নামকরা গ্যাংস্টার, মদ্যপরা 'বদরি', খন্দকি, '৩১৩' ইত্যাদি সদস্য হয় এবং অনুষ্ঠানের অতিথি হয়। কারো মানহানি হয় না,জাত যায় না।
এই লাঞ্চনা বঞ্চনার মূল কারণ — দারিদ্র্যতা কিংবা টাকা না থাকা। এই দারিদ্র্যতারও মূল কারণ হল, কর্মবিমুখ 'সেকেলে' করে রাখা শিক্ষা ব্যবস্থা।
এই ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনের কথা বললেই কওমি হুজুরদের জাত, মান কিছুই থাকে না। সব ইজ্জত চলে যায় পরিবর্তনের কথা বললে। কিন্তু গরীবানাকে গায়ে জড়িয়ে সমাজপতিদের চুষলে কারো দুনিয়া আখেরাত বরবাদ হয় না।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the business
Telephone
Website
Address
Fulbaria