Learn and Earn

Learn and Earn

Share

30/08/2023

ড ইউনূসের অনিয়ম ও আইন বহির্ভূত যতো অপরাধ!

প্রেক্ষাপট
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে ১০৫ জন নোবেল বিজয়ীসহ ১৭৬ জন বিশ্বনেতার বিবৃতি নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলমান। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে এমন ধৃষ্টতামূলক বক্তব্য বাইরের দেশ থেকে আসা এবং তা যে বাংলাদেশের আদালত অবমাননার শামিল তা নিয়েও অনেকে যুক্তি উপস্থাপন করছেন।

ড ইউনূসের পক্ষের বিবৃতিদাতাদের জ্ঞাতার্থে এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের জানার সুবিধার্থে কিছু তথ্য শেয়ার করা জরুরি। ড. ইউনূসের অনিয়ম ও আইন বহির্ভূত বেশকিছু কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাংলাদেশের গণমাধ্যমেও এসেছে। কিছু কর্মকান্ডের কারণে আদালতের মাধ্যমেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ড ইউনূস।

আদালতের বাইরে মামলার নিষ্পত্তি করলেন ড. ইউনূস
২০১৭ সালে গ্রামীণ টেলিকমের ১৭৬ জন কর্মকর্তা “শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণ তহবিল” এর প্রাপ্য হিস্যা চেয়ে ১১০টি মামলা করেন। ডঃ ইউনুস আইনজীবি নিয়োগ করে কোর্টের বাইরে আই সকল অভিযোগ নিষ্পত্তি করেন। সেই নিষ্পত্তিতে উনি কর্মচারিদের ন্যায্য প্রাপ্য ৪৩৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেন। যার ফলে কর্মকর্তারা ১০৬ টি মামলা প্রত্যাহার করেন। উল্লেখ্য, কোম্পানির মুনাফার ৫ শতাংশ ‘শ্রমিকের অংশগ্রহণ তহবিল গঠন’ করে ২০০৬ সাল থেকে লভ্যাংশ শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করার কথা। কিন্তু সেই লভ্যাংশ শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন না করায় শ্রম আদালত ও হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন তারা।

মামলা নিষ্পত্তিতে আইনজীবীকে দেয়া হয় বিপুল অংকের ঘুষ
গ্রামীণ টেলিকমের আইনজীবী ইউসুফ আলী ও জাফরুল হাসান শরীফের তিনটি ব্যাংক হিসাব ও ইউসুফ আলীর 'ল' ফার্ম এটর্নিসের নামে একটি হিসাবে রয়েছে ১৬ কোটি টাকা। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণ তহবিল’ কর্মীদের পাওনা সংক্রান্ত বিস্তর অভিযোগ ধামাচাপা দিতে ডঃ ইউনূস বড় অংক দিয়ে আইনজীবি ভাড়া করেন। যারা সকল মামলাকারীদের সাথে আদালতের বাইরে পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন এবং সেসব আইনজীবীদের একাউন্টে পাওয়া যায় ড ইউনূস কর্তৃক দেয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ।

অর্থ আত্মসাৎ ধামাচাপা দিতে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের ঘুষ প্রদান
‘শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণ তহবিল’ এর হাজার হাজার কোটি টাকা তসরুফের অভিযোগ ধামাচাপা দিতে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের ডঃ ইউনুস বড় অংকের টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করেন। পরবর্তীতে দুদকের অনুসন্ধানে এর সত্যতা মিললে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের স্বাক্ষর করা চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিএফআইইউ তাদের ব্যাংক হিসাবগুলো ফ্রিজ করে ২০২২ সালে। কোম্পানি লভ্যাংশের ৫ শতাংশ অর্থ লুটপাটের অভিসন্ধি থেকে ড. ইউনূস এসব করেছিলেন।

কর পরিশোধের মাধ্যমেই ড. ইউনূস স্বীকার করলেন কর ফাঁকির অপরাধ
কর ফাঁকি মামলার রায়ে হার ও কর প্রদান উচ্চ আদালতে কর ফাঁকি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ড. ইউনূস। যদিও দোশী সাব্যস্ত হবার পর দিনই উনি ১২ কোটি টাকা কর প্রদান করেন।

ট্রাস্ট গঠনের আড়ালে অর্থ আত্মসাৎ
কর ফাঁকির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হবার পর আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণে কিছু চমকপ্রদ তথ্য উঠে আসে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, নিজের পরিবারের ব্যয়ের টাকাও এ ট্রাস্ট থেকেই নিয়েছেন ইউনূস। উৎসব আপ্যায়নের জন্য ৪৭ লাখ, টেলিফোন বিল হিসেবে ৩৫ হাজার টাকার বিল নথিতে উল্লেখ আছে। কিন্তু আইনে আছে ট্রাস্টে দান করলে সেখান থেকে আবার বাসার খরচ বা অন্যান্য খরচ তিনি নিতে পারেন না। তাই সমাজসেবার নামে কর ফাঁকির মহোৎসব চালিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন ড. ইউনূস।

ট্রাস্টের গঠনতন্ত্রেই রয়েছে অসঙ্গতি
মোট তিনটি ট্রাস্ট রয়েছে ড ইউনূসের। তবে ট্রাস্টে এমন বিধান রয়েছে যা থেকে প্রফেসর ইউনূস ও তার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। ট্রাস্টের সমাজসেবা দলিলের চুক্তির নয় নাম্বারে বলা হয়েছে, ‘ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে এর প্রতিষ্ঠাতা, তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক আফরোজি ইউনূস, দুই কন্যা মনিকা ইউনূস, দীনা আফরোজ ইউনূস ও তার পোষ্যদের রক্ষার জন্য।

কর ফাঁকির অভিনব পন্থা ড. ইউনূসের
এছাড়াও বিভিন্ন শেল কোম্পানি গঠন করে এক কোম্পানির লাভ আরেক কোম্পানিতে দান করে কর ফাঁকি দেয়ার বিস্তর অভিযোগ আছে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের জমাকৃত ৫% লভ্যাংশের হিসাবে ৩৬০০ কোটি টাকা ড. ইউনূস অন্য কোম্পানিতে দান হিসাবে সরিয়েছেন।

29/08/2023

দারিদ্র্য বিমোচনের নামে দুর্নীতির মহোৎসব

ধরুন আপনি একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জয়েন করলেন। জয়েনিংয়ের সময় আপনার সাথে চুক্তি ছিল, আপনি ইনক্রিমেন্ট, প্রভিডেন্ড ফান্ড ও কোম্পানির আয়ের ৫% লভ্যাংশ পাবেন। চুক্তিতে আরও শর্ত ছিল, এ লভ্যাংশ “শ্রমিক কল্যাণ তহবিল”-এ জমা হবে যা আপনি চাকরির ছাড়ার সময় বা অবসরের সময় আনুপাতিক হারে বুঝে নেবেন। এখন আপনার অবসর বা চাকরি ছাড়ার ক্ষেত্রে যদি এ চুক্তির খেলাপ হয় তাহলে অবশ্যই আপনি সংক্ষুব্ধ হবেন এবং শ্রম আদালতে যাবেন মামলা করতে। এই অধিকার বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আপনার আছে।

গ্রামীণ কল্যাণ থেকে গ্রামীণ টেলিকম
তথ্যপ্রযুক্তি কার্যক্রম, গ্রামীণ জনগণের দারিদ্র্য দূরীকরণ ও জীবন মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গ্রামীণ টেলিকম লিমিটেড গঠন করা হয়। এই কোম্পানির শতভাগ ইক্যুইটি সরবরাহ করেছে গ্রামীণ কল্যাণ। গ্রামীনফোনসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করেছে গ্রামীণ টেলিকম। গ্রামীণ ফোনের ৩৪.২০% শেয়ার রয়েছে গ্রামীণ টেলিকমের কাছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গতকালের দর অনুসারে এ শেয়ারের দাম ১৬ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। সামাজিক ব্যাবসা প্রসারের উদ্দেশ্যে গ্রামীণ নারীদের স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বল্প দামে “পল্লীফোন” দেওয়ার উদ্দেশ্যে ১৯৯৭ সালে গ্রামীণ টেলিকম প্রতিষ্ঠা করা হয়।

ইউনুস ফাইল: মামলা কেন হলো?
উপরে যে ঘটনাটির উল্লেখ করেছি, ঠিক এমনটাই ঘটছে ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া শ্রম আদালতের মামলায়। অভিযোগে বলা হয়, কর্মচারী অংশীদারিত্ব ও কল্যাণ তহবিল গঠন করার কথা থাকলেও, সেটা করা হয়নি এবং কোম্পানির ৫ শতাংশ লভ্যাংশ কর্মচারীদের দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা পরিশোধ করা হয়নি। এছাড়াও কর্মী ছাটাইয়ের ক্ষেত্রে কোম্পানির নিয়ম মানা হয়নি এবং কর্মীদের স্থায়ী করতে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে, হয়েছে অনিয়ম।

মামলার অভিযোগ, সাক্ষী ও শুনানি
অভিযোগ ১: লেবার আইনের ৪ এর (৭) এবং (৮) ধারায় ১০১ জন শ্রমিককে স্থায়ী করা হয়নি এবং ১১৭ জনকে নিয়মনীতি মেনে ছাটাই করা হয়নি।
প্রথম অভিযোগের সাক্ষ্য ও শুনানি
• ২২ আগস্ট শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সেদিন সাক্ষ্য দেন।
• মামলায় অপর তিন বিবাদী হলেন গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও শাহজাহান।
• কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তারা শ্রম আইনের লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে পারেন। এর মধ্যে ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তাঁদের স্থায়ী করা হয়নি।
• এছাড়াও ১১৭ জন কর্মচারীকে ছাটাইয়ের প্রমাণ তারা পান যাদের নিয়মনীতি মেনে ছাটাই করা হয়নি।
• কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের এ অভিযোগ আমলে নেন আদালত এবং গ্রামীণ টেলিকম ও ডঃ ইউনুসের প্রতি সমন জারি করে ১৬ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করেন।
অভিযোগ ২: ২৩৪ ধারা অনুযায়ী তাদের মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে জমা করা হয়নি।

মামলা গ্রহণ
• শ্রম আইনের লঙ্ঘন এবং কোম্পানি আইনের ব্যত্যয় ঘটায় ২০০৬ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া ১৮ জন কর্মচারী ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে আজ সোমবার (২৮ আগস্ট) এই মামলা করেন। আদালত এই মামলা গ্রহণ করেন এবং ১৬ অক্টোবরের মধ্যে সমনের উত্তর চেয়েছেন। বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে জানান ডঃ মো ইউনুসের আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন।
• ৫% লভ্যাংশ হারে শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকা জমা হবার কথা থাকলেও সেই টাকা জমা করা হয়নি।
• এর আগে শ্রম কল্যাণ তহবিলের ৪৩৭ কোটি টাকা দাবি করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ১১০টি মামলা হয়। ২০১৭ সালে ১৭৬ জন কর্মচারি বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করেন। তবে তাদের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধের প্রেক্ষিতে মামলাগুলো প্রত্যাহার হয়ে যায়।

ইউনূসের অসাধু পন্থা
• এত অনিয়ম, চাকরি স্থায়ী না করা এবং চাকরির শর্ত অনুযায়ি ৫% লভ্যাংশ না দিয়ে গ্রামীণ টেলিকম অসাধু পন্থায় বড় অংকের টাকা নিয়ে আইনজীবী নিয়োগ করেন , যাতে তারা অভিযোগ দায়ের করা কর্মচারীদের সাথে সমঝোতা করতে পারে। এই আইনজীবীরা গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষে অভিযোগ দায়েরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের নাম মাত্র টাকা দিয়ে ফয়সালা করার চেষ্টা করেন এবং অভিযোগ তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করেন। এই সংক্রান্ত আরেকটি অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন আছে।

গ্রামীণ টেলিকম ও ইউনূসের অপরাধসমূহ
• সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, সুবিধাবঞ্চিতদের সুযোগ-সুবিধা ও জীবনমান বৃদ্ধি করতে বদ্ধ পরিকর গ্রামীণ টেলিকম নিজস্ব কর্মচারীদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে পারে নাই।
• কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রাপ্য চাকরীর নিশ্চয়তা ও লভ্যাংশের ২৫ কোটি টাকা, যা গ্রামীন গ্রুপের মোট সম্পদের তুলনায় নগণ্য একটি অংক, সেটা দিতেও তারা অপারগতা প্রকাশ করে। এ থেকে আসলে বোঝা যায় ড. ইউনুস কতটা স্বেচ্ছাচারী মনোভাব পোষণ করেন।
• নিজেদের প্রাপ্য টাকা আদায়ে গ্রামীণ ব্যাংক ঋণগ্রহীতাদের ঘরের টিন, খামারের গরু তুলে নিয়ে এসে সামাজিকভাবে হেয় করতেও পিছপা হয় না। কিন্তু কারো প্রাপ্য টাকা, সুবিধাদি দিতে গেলে ডঃ ইউনুস অনৈতিকতা, ছলনা আর মিথ্যার আশ্রয় নেন। পরিশেষে বিশ্ববাসীর কাছে এসব তথ্য ধামাচাপা দিয়ে, নাহলে আড়াল করে তিনি নিজেকে গরীবের মাসীহা হিসাবে উপস্থাপন করেন।

দেশের মানুষকে ঠকিয়ে ইউনূস ফান্ড দিচ্ছে বিদেশে
• একটু তলিয়ে দেখলে আরও চমকপ্রদ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের টাকা আত্মসাৎ করলেও, ইউনূস নিয়ম করে বিভিন্ন বিদেশি ফান্ডে চাঁদা দিয়ে যাচ্ছে।
• বস্তুত এই মোটা অংকের চাঁদার কারণেই ডঃ ইউনুসের পক্ষে বিবৃতি দিচ্ছেন ৪১ জন বিদেশী
• বারাক ওবামা ও হিলারি ক্লিনটনের ফান্ডে নিজের ইমেইজ বাচাতে আর নিজের সাধুত্ব প্রচারে যে পরিমাণ চাঁদা দেন ড. ইউনুস, তার তুলনায় শ্রমিক কল্যাণের ২৫ কোটি টাকা যৎসামান্য অংক।

29/08/2023

জনগণ অংশ নিলেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারে সেটাই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। কে ভোটে এলো, কে এলো না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে জনগণ ভালো পরিবেশে ভোট দিয়েছে, আগামীতে ভালোভাবে ভোট দিতে পারবে। জনগণ যাকে ভোট দেবে তারাই ক্ষমতায় আসবে।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে মঙ্গলবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক বলতে কাদের অংশগ্রহণ? ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট গেনেড হামলাকারীদের অংশগ্রহণ? তারা তো সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ৩০টি আসন পেয়েছিল। এরপর থেকে তারা কোনো নির্বাচনে আসেনি। তারা মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে। এই দলটি নির্বাচনের আগে দুর্নীতি করে, কিছু টাকা যাবে গুলশানে, কিছু যাবে হাওয়া ভবনে, বাকিটা যাবে লন্ডনে। নির্বাচনে নিজেরা নিজেরা মারামারি করবে, বলবে নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে না। জিততে না পারলে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতো উন্নয়নের পর জনগণকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী চায়। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি, কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই। যা কিছু করেছি, সব তো জনগণের কাজে লাগছে। সবই তো জনগণ ভোগ করছে। ১৪ বছরের মধ্যে দেশকে কোথায় নিয়ে এসেছি, সেটাও দেখতে হবে। টানা ক্ষমতায় থাকার কারণে দেশের দ্রুত একটি পরিবর্তন আনা সহজ হয়েছে।

ব্রিকসের সদস্য পদ প্রসঙ্গে বলেন, এবারই ব্রিকসের সদস্যপদ পেতে হবে এমন কোনো চেষ্টা বাংলাদেশের ছিল না এবং বাংলাদেশ কাউকে সেটা বলেওনি। চাইলে পাব না সেই অবস্থাটা আর নাই। কিন্তু প্রত্যেক কাজটারই একটা নিয়ম থাকে, আমরা সেই নিয়ম মেনেই চলি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ হল, তখন আমন্ত্রণ জানালেন, ব্রিকস সম্মেলন করবে, আমাকে আসতে বললেন এবং সে সময় আমাকে জানালেন যে, তারা কিছু সদস্যপদ বাড়াবেনও এবং সেটাতে আমার মতামত জানতে চাইলেন। আমি বললাম যে, এটা খুবই ভালো হবে। কারণ ব্রিকস যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন থেকে এই পাঁচটা দেশের সরকারের প্রধানের সঙ্গে আমার যোগাযোগ সবসময় ছিল এবং আছে।

বিরোধীদলের সমালোচনার জবাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি, এই ইস্যুটা আসবে বা আমাদের অপজিশন থেকে খুব হুতাশ, যে আমরা নাকি চেয়েছি, পাইনি। তারা বলতে পারে, কারণ তারা বিএনপির আমলে ওইটাই ছিল। বাংলাদেশের কোনো অবস্থানই ছিল না সারাবিশ্বে। বাংলাদেশ মানেই ছিল দুর্ভিক্ষের দেশ, ঝড়ের দেশ, বন্যার দেশ, হাত পেতে চলার দেশ, ভিক্ষা চাওয়ার দেশ। এখন অন্তত বাংলাদেশ ভিক্ষা চাওয়ার দেশ না, এটা সবাই জানে।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ ইউনূসকে নিয়ে দেওয়া বিভিন্ন দেশের বিবৃতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আত্মবিশ্বাস থাকলে ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক বিবৃতি ভিক্ষা করে বেড়াতেন না। সরকার কোনো বিবৃতিতে প্রভাবিত হবে না। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা আইন অনুযায়ী চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিবৃতি দিয়ে তার বিচার স্থগিত করতে বলেছেন তাদের বলছি, বিবৃতি না দিয়ে আইনজীবী পাঠাক। এক্সপার্টরা দেখুক, অনেক কিছু পাবেন। আমাদের দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। সবকিছুই আইনমতো চলে। কেউ যদি ট্যাক্স (কর) না দেয় আর যদি শ্রমিকের অর্থ আত্মসাৎ করে, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে যদি মামলা করা হয়... আমাদের কি সেখানে হাত আছে যে মামলা বন্ধ করে দেবো?

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে সরকার প্রধান বলেন, সিন্ডিকেট করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। সিন্ডিকেট ভাঙ্গা যাবে না, এটা হতে পারে না। প্রয়োজনে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

দেশের বাজারে ডিমের দাম কমলে, তা সেদ্ধ করে ফ্রিজে সংরক্ষণের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যখন দাম কমবে, তখন ডিম সেদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দেবেন। তাহলে বহুদিন ভালো থাকবে।

সর্বজনীন পেনশন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা পেনশন পান। তাই সব মানুষের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে বৃদ্ধ বয়সে উপকারে আসে। ভালো কাজ নিয়ে সব সময় সমালোচনা করা হয়। যারা ভ্যাক্সিন নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছিলেন তারা সবাই টিকা নিয়েছেন। যারা সার্বজনীন পেনশন নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালাবেন তারাও এই পেনশন স্কিমে যোগ দিবেন।

দেশবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, সর্বজনীন পেনশনের টাকা জমা হয় সরকারি কোষাগারে। কেউ সেই টাকা নয়-ছয় করার সুযোগ পাবে না।

১৫তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ২২ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট ও ব্রিকস চেয়ার সিরিল রামাফোসার আমন্ত্রণে এই সম্মেলনে যোগ দেন তিনি। চার দিনের সফর শেষে রোববার দেশে ফেরেন তিনি।

29/08/2023

গ্রামীণ টেলিকম থেকে কত টাকা আত্মসাৎ করলো ড. ইউনূস?

১৯৯৭ সালে কোম্পানি আইন অনুযায়ী গঠিত হয় ‘গ্রামীণ টেলিকম’। কোম্পানি গঠনের শর্ত মোতাবেক গ্রামীণ টেলিকম তাদের অর্জিত লভ্যাংশের ৫% হারে শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণ তহবিলে দেওয়ার কথা।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ টেলিকম কোম্পানি ‘গ্রামীণ ফোন’-এর ৩৪.২০% শেয়ারের মালিক ‘গ্রামীণ টেলিকম’। এ হিসেবে গ্রামীণ টেলিকমের প্রাপ্য লভ্যাংশ নেহায়তই কম নয়। কিন্তু কোম্পানি আইনের শর্তে গ্রামীণ টেলিকম কোনো শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণ তহবিল তো গঠন করেইনি, জমাও করেনি লভ্যাংশের ৫%।

৫% লভ্যাংশের এক দশমাংশ দেওয়ার কথা ছিল জাতীয় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে। কিন্তু নথি ঘেঁটে দেখা যায় ২০১৩-১৭ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে ৫% লভ্যাংশের দশ ভাগের এক ভাগ হিসেবে ৯৪ কোটি ২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮ টাকা জমা দিয়েছে ‘গ্রামীণ টেলিকম’।

আবার ৫ বছরে গ্রামীণ টেলিকমের ‘শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণ তহবিলে’ দেওয়ার কথা ৯৪০ কোটি টাকার মতো। ১৯৯৭ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ২৫ বছরে ৫% লভ্যাংশ হিসাবে শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণ তহবিলে জমা হওয়ার কথা এর ৫ গুণ টাকা। যার মোটামুটি হিসাব দাঁড়ায় ৪৭০০ কোটি টাকা।

এই টাকা শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণ তহবিলে জমা না দিয়ে তছরুপ করে গ্রামীণ টেলিকম। এ অন্যায় করতে গিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও আইনজীবীদের বড়ো অংকের টাকা প্রদান করে গ্রামীণ টেলিকম। এতো লুটপাটের পর আবার বাইরের প্রভুদের দিয়ে বিচার বন্ধের চেষ্টাও করছে ড. ইউনুস।

‘আমরা কাউকে বলতে যাইনি আমাকে এখনই সদস্য করেন’ 29/08/2023

“ব্রিকসের পদ পাওয়ার বিষয়ে কোন চিন্তা বাংলাদেশের ছিলো না”

ব্রিকসের পদ পাওয়ার বিষয়ে কোন চিন্তা বাংলাদেশের ছিলো না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এখনই সদস্য পদ পেতে হবে সেই ধরনের কোন চিন্তা আমাদের মাথায় ছিলো না। সেই ধরনের চেষ্টাও আমরা করিনি। বাংলাদেশ কিছু চেয়ে পাবে না- এটা কিন্তু ঠিক নয়। মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমস্য পদ চাইলে পাবো না সেই অবস্থাটা না। প্রত্যেক কাজের একটা নিয়ম থাকে। আমরা সেই নিয়ম মেনেই চলি। আমার সঙ্গে যখন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাত হলো। আমাকে আমন্ত্রণ জানালেন ব্রিকস সম্মেলন করবেন। আমাকে আসতে বললেন। এবং তখন আমাকে এও জানালেন তারা কিছু সদস্য পদ বাড়াবেনও। সেই বিষয়ে আমার মতামতও জানতে চাইলেন। আমি বললাম এটা খুবই ভালো হবে। ব্রিকস যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন এই ৫টি দেশের সরকার প্রধানের সাথে আমার ভালো যোগাযোগ সব সময় ছিলো এবং আছে। সেই সময় এটা নিয়ে আলোচনা হলো এই পর্যন্ত।

নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগদানের বিষয়ে বাংলাদেশ আগে থেকেই আগ্রহী ছিলো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন শুনলাম নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক হবে- আমরা ওটার ওপর বেশি আগ্রহটা ছিলো। যখন থেকে তৈরি হয় তখন থেকেই এই আগ্রহটা ছিলো। এর সাথে যুক্ত হবো। ব্রিকস এর সদস্য পদের ক্ষেত্রে তখন প্রেসিডেন্ট আমাকে বললেন ধাপে ধাপে নেবেন। ভৌগলিক অবস্থানটা বিবেচনা করে নেমেন। পর্যায়ক্রমে সদস্য সংখ্যা বাড়াবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে আমার সব রাষ্ট্রপ্রধান সরকার প্রধানের সাথে দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট, ইন্ডিয়ার প্রাইম মিনিস্টার থেকে শুরু করে সবার সাথে। আমরা কাউকে বলতে যাইনি যে আমাকে এখনই সদস্য করেন। তখন থেকে আমরা জানি যে প্রথমে কয়েকজনকে নেবে।

ব্রিকস নিয়ে বিরোধী দলের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কিছু চেয়ে পাবে না এটা কিন্তু ঠিক নয়। অন্তত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা মর্যাদাটা তুলে ধরেছি। সেখানে আমাদের সেই সুযোগটা আছে। তারা বলতে পারে কারণ বিএনপির আমলে ওরকমই পরিস্থিতি ছিলো। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের কোন অবস্থানই ছিলো না। বাংলাদেশ মানে ছিলো দুর্ভিক্ষের দেশ, ঝড়ের দেশ, ভিক্ষার দেশ, হাত পেতে চলার দেশ। এখন সবাই জানে, বাংলাদেশ ভিক্ষা চাওয়ার দেশ নয়।

‘আমরা কাউকে বলতে যাইনি আমাকে এখনই সদস্য করেন’ এখনই ব্রিকস-এর সদস্যপদ পেতে হবে এমন কোনও চিন্তা বাংলাদেশের ছিল না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ব...

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: অবশেষে কাটল জটিলতা 24/08/2023

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
উদ্দেশ্য
বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশের মহাসড়কগুলো একটানা চলাচলের উপযোগী নয়। রয়েছে অসংখ্য মোড় আর হাটবাজার।
এ থেকে পরিত্রাণ পেতে দেশের কয়েকটি মহাসড়কে করা হচ্ছে এক্সপ্রেসওয়ে। এর প্রথমটি ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। এই এক্সপ্রেসওয়েটি গ্রাউন্ডে, অর্থাৎ মাটির ওপর।
অন্যদিকে বিমানবন্দর-কুতুবখালী পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়েটি এলিভেটেড।
এক্সপ্রেসওয়েতে সব ধরনের যানবাহন চলবে না, দ্রুতগতির যানবাহন চলবে। যানবাহন চলবে একটি নির্দিষ্ট গতিতে। যানবাহন এক্সপ্রেসওয়ের কোথাও থামবে না। থামতে হলে ব্যবহার করতে হবে নির্দিষ্ট লেন, যা মূল এক্সপ্রেসওয়ের বাইরে। একে বলা হচ্ছে র‌্যাম্প।
বিশেষ করে, গাজীপুর থেকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরগামী রপ্তানিমুখী পণ্যপরিবাহী গাড়ি যাতে ঢাকার জ্যামে আটকে না থেকে দ্রুত বন্দরে পৌঁছে যেতে পারে, সে জন্য বিজিএমইএ সহ রপ্তানি-ব্যবসায়ীরা এ ধরনের একটি এক্সপ্রেসওয়ের দাবি করেছিলেন।
এক্সপ্রেসওয়ের সুবিধা নিতে যানবাহন কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ টোল।

বেসিক তথ্য
ঢাকা শহরের যানজট কমানোর লক্ষ্যে বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালি পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।
এর রুট হলো-
কাওলা-কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী-কুতুবখালী
মূল এলিভেটেড অংশের দৈর্ঘ্য ১৯.৭৩ কি.মি.
এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা-নামার জন্য ২৭ কি.মি দীর্ঘ মোট ৩১টি র‍্যাম্প রয়েছে।
র‌্যাম্পসহ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য ৪৬.৭৩ কি.মি.।
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান
Italian Thai Development Public Company Ltd. (Thailand)- 51%,
China Shandong International Economic and Technical Co-operation Group (CSI)- 34%
Sinohydro Corporation Ltd.- 15%
প্রাক্কলিত ব্যয়: ৮,৯৪০ কোটি টাকা
প্রকৃত ব্যয়: ১৩,৮৫৮ কোটি টাকা
নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির কারণ: প্রধান কারণ নকশা পরিবর্তন। প্রথম নকশায় হাতিরঝিলের ওপর দিয়েই এটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল, পরে হাতিরঝিলের পাশ দিয়ে নকশা করা হয়, এতে খরচ বাড়ে। (বিস্তারিত নিচে)
এছাড়া পান্থকুঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে র‍্যাম্প ও পিলার নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আপত্তির কারণে এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ থমকে যায়। কাজ থমকে থাকলেও মেইনট্যানেন্স খরচ অব্যাহত থাকে।
বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়: ২৪১৩ কোটি টাকা (প্রাক্কলিত ব্যয়ের ২৭%)
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান: ৩০ মার্চ ২০১৯ তারিখে China Exim Bank (EXIM) এর সাথে ৪৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও Industrial & Commercial Bank of China (ICBC) এর সাথে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারসহ সর্বমোট ৮৬১ মিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করে। ইতোমধ্যে মোট ৩৮২.৭১ মিলিয়ন ইউএস ডলার ছাড় হয়েছে।
তথ্যসূত্র:
https://bba.portal.gov.bd/site/project/0a342278-1e11-4f8f-91ab-5a61f82073bb

উদ্বোধন
২ সেপ্টেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করবেন।
বিমান বন্দরের দক্ষিণে কাওলা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে, যার মূল অংশের দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং র‌্যাম্পসহ ২২ দশমিক ৫ কিলোমিটার।
এই অংশে মোট ১৫টি র‌্যাম্পের মধ্যে ১৩টি র‌্যাম্প যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। অর্থাৎ ১৩ টি জায়গা দিয়ে ওঠা বা নামা যাবে।

টোলহার
বিমানবন্দর সংলগ্ন কাওলা থেকে ফার্মগেইট পর্যন্ত অংশে চলাচল এই পথে চলাচলের যানবাহনগুলোকে ৪টি শ্রেণিতে ভাগ করে টোল নির্ধারণ করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ১৯ আগস্ট সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই টোলের হার ঘোষণা করেন।
• শ্রেণি-১: প্রাইভেটকার, ট্যাক্সি, জিপ, ‘স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল’, ১৬ সিটের কম মাইক্রোবাস এবং তিন টনের কম হালকা ট্রাকের ক্ষেত্রে টোল ৮০ টাকা।
• শ্রেণি-২: ছয় চাকা পর্যন্ত মাঝারি ট্রাকের টোল ৩২০ টাকা।
• শ্রেণি-৩: ছয় চাকার বেশি ট্রাকের জন্য টোল ৪০০ টাকা।
• শ্রেণি-৪: ১৬ বা তার বেশি আসনের সব ধরনের বাসের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০ টাকা।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কি বড়লোকের রাস্তা?
যাদের নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত প্রয়োজন তাদের জন্য এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি করা হয়েছে। রপ্তানিমুখী ট্রাকগুলো গাজীপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে এটি তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার ভেতরে দ্রুত চলাচল করতেও এই পথ ব্যবহার করার জন্য বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত মোট ৩১ টি ওঠানামার জায়গা রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ওঠানামার জায়গা (র‌্যাম্প) মোট ১৫ টি, এর ১৩ টি এখন খুলে দেওয়া হবে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়েতে বাস চলবে। বাসের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০ টাকা। যেকোনো স্বল্প-স্টপেজ বাস এই রুটে চলতে পারে। চাইলে কোনো বাস বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফার্মগেট/তেজগাঁও চলে আসতে পারে। বলাকা পরিবহনের মতো বেশ কয়েকটি বাস কোম্পানি এমন স্বল্প-স্টপেজ সার্ভিস দেয়। সাধারণ মানুষ এই বাসে করে এই রুটের সুবিধা নিতে পারবে। আবার চাইলে র‌্যাম্প ব্যবহার করে বাসগুলো সুবিধামতো স্টপেজেও থামাতে পারে।

মোটরসাইকেল চলবে না, এটাই কেন প্রধান শিরোনাম
দুর্ঘটনার ঝুঁকি শূন্যে নিয়ে আসতে উচ্চগতির যানবাহনের জন্য নির্ধারিত এই পথে স্বল্পগতির বাহন যেকোনো থ্রি হুইলারের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের মতো বাহনের চলাচল আপাতত নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। পদ্মা সেতুতেও কিছু সময়ের জন্য মোটর সাইকেল নিষিদ্ধ ছিল। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল অনুমোদিত, যদিও পৃথিবীর অনেক দেশেই এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ। এমনকি আমাদের প্রতিবেশি ভারতেও সবগুলো এক্সপ্রেসওয়েতেও স্কুটার এবং মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ। তথ্যসূত্র:
https://www.livemint.com/news/india/delhimumbai-expressway-scooter-bikes-not-allowed-to-ply-india-s-longest-expressway-details-here-11676783258875.html
https://motorcycleninja.com/are-bikes-allowed-on-expressways-in-india/


এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল চলবে না, এই নীতিটিই যেখানে সাধারণ হওয়ার কথা, সেখানে মোটরসাইকেল কেন চলবে না, এই প্রশ্নটি এনে সবকিছুকে Taken for granted করে তোলা হচ্ছে।
একইভাবে পথচারীরাও কেন এক্সপ্রেসওয়েতে উঠতে পারবে না, এমন অবাস্তব প্রশ্নও করছেন কেউ কেউ।
বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত কোনো যানজট নেই?
প্রকৌশলী অধ্যাপক শামসুল হক সহ বেশ কয়েকজন মন্তব্য করেছেন, বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত সড়ক ‘খুব ভালো’, এখানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে অপ্রয়োজনীয়। এ মুহূর্তে এটা কোনো কাজেই আসবে না। অনেকে আবার বলছেন, ফার্মগেটে গাড়িগুলো নামলে ফার্মগেটে আরো বেশি যানজট সৃষ্টি হবে। (অথচ অধ্যাপক শামসুল হক নিজেই এ প্রকল্পের একজন ডিজাইনার)
সত্যিই কি ফার্মগেট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কে কোনো যানজট নেই?
অথচ মাত্র কয়েকমাস আগেই ২ অক্টোবর ২০২২, দৈনিক প্রথম আলোর সংবাদ- “রাজধানীর বনানী থেকে বিমানবন্দর এলাকা পর্যন্ত ভয়াবহ যানজটে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে মানুষ।”
প্রধানমন্ত্রী এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করবেন বলে এখন সব ইতিহাস মিথ্যা হয়ে গেল?
শুধু ২ অক্টোবর ২০২২ নয়, আরো অসংখ্য সংবাদে এ রুটের যানজটের কথা বলা হয়েছে।
বিজয় সরণীর মোড়ের যানজট থেকে শুরু করে মহাখালী, সৈনিক ক্লাব, কাকলী, নিকুঞ্জ ইত্যাদি এলাকার তীব্র যানজটের বিষয়টি বার বার গণমাধ্যমে এসেছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র থেকে উত্তরাগামী যানবাহনগুলো সরাসরি চলে যেতে পারবে। ফলে এয়ারপোর্ট রোডে যানজট বলে কিছুই থাকবে না। দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষায় থেকে সময় নষ্ট আর যানবাহন থেকে বায়ু দূষণের অবসান হবে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত হওয়ায় তা ফার্মগেটে যানজট বাড়াবে, এমন একটি মিথ্যা আতঙ্ক জেনেবুঝে ছড়ানো হচ্ছে। সত্য হলো, ফার্মগেট সংলগ্ন বিজ্ঞান কলেজ থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ল্যান্ডিং, যা কোনোভাবেই ফার্মগেট মোড়ে জ্যাম সৃষ্টি করবে না। মনে রাখতে হবে, এই স্থাপনা তৈরিই হয়েছে ঢাকার যানজট কমানোর জন্য।
অদ্ভুত স্ববিরোধিতা
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে নকশাকারদের অন্যতম স্থপতি ইকবাল হাবিব এবং ড. শামসুল হক। ইকবাল হাবিব বাপা”র যুগ্ম সম্পাদক। হাতিরঝিলের ওপর দিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে গেলে হাতিরঝিলের সৌন্দর্য নষ্ট হবে, পরিবেশ নষ্ট হবে এমন অভিযোগ তোলে বাপা। পরে সে নকশা পরিবর্তন করা হয়। অথচ বাপার একজন শীর্ষ নেতাই এ প্রকল্পের ডিজাইনার।
ঢাকার নাগরিক সমাজের নগরপরিকল্পনা নিয়ে সরব ড. শামসুল হক। পান্থকুঞ্জে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প নামানো সহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন। অথচ তিনি নিজেই এ প্রকল্পের একজন ডিজাইনার। গত ৫ জুলাই ২০২৩ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিনিই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ২০২০ সালের নকশা অনুসারেই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তথ্যসূত্র:
https://www.ajkerpatrika.com/281077/%E0%A6%8F%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%A1-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%B2-%E0%A6%9C%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%A4%E0%A6%BE

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হলে যে লাভ হবে তার আর্থিক পরিমাণ কতো?
এমন কোনো হিসেব করা হয়নি। তবে ধারণা করা হয়, ঢাকায় প্রতি বছর যানজটে ১ লাখ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এই ক্ষতির অন্তত ১০ শতাংশ কমাবে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে কোনো অর্থনীতিবিদ এ বিষয়ে বিশ্লেষণ করেননি।
পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে যেভাবে অপেক্ষা করতে হয় এবং অনেক সময় পঁচনশীল দ্রব্য ঝুঁকিতে পড়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি থাকবে না। পণ্যবাহী ট্রাকগুলো নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। সময় বাঁচবে এবং ভোগান্তি কমবে, যার অর্থনৈতিক মূল্য আছে। সময়, ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা কমে যাবে।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: অবশেষে কাটল জটিলতা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কেটেছে। ২০২০ সালের নকশাতেই বাকি নির্মাণকাজ হবে। আগাম....

Want your business to be the top-listed Media Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address


Dhaka
1212