Law Lab
এই পেজ এর উদ্দেশ্য সাবলীল ভাষায় জনসাধারণের সামনে আইনি সমাধান তুলে ধরা। সমকালীন আইনি আলোচনায় অংশগ্রহণ করে আশু সমাধান নজিরসহ উপস্থাপন করা। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণালব্ধ ফলাফল স্ট্যাটাস, ছবি, অডিও-ভিডিও ও লেকচার এর মাধ্যমে প্রকাশ করা।
15/03/2026
সুপ্রীম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা: একটি আইনি পর্যালোচনা
06/01/2026
Code of Civil Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 প্রণীত হয় ৮ই মে ২০২৫ ইং তারিখে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রচলিত দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এ উল্লেখযোগ্য কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো নীচে আলোচনা করা হলোঃ
১) মোকদ্দমা দায়ের
• আরজিতে কী কী থাকতে হবে তা দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৭, বিধি ১-এ বিস্তারিত বর্ণনা করা আছে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে এখানে বিধি ১-এর উপবিধি ‘খ’ এবং ‘গ’ পরিবর্তন করে বাদী বিবাদীর নাম, বিবরণ ও বাসস্থানের ঠিকানার পাশাপাশি তাদের ফোন বা মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (NID) এবং ই-মেইল এড্রেস থাকলে তা উল্লেখ করার বিধান করা হয়েছে।
• এছাড়া কার্যবিধির ধারা ২৬-এ, নতুন বিধান যোগ করে হয়েছে যে, আরজিতে বর্ণিত সকল তথ্য এখন থেকে হলফনামা দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে।
২) সমন জারী
আদেশ ৫ বিধি ৯(৩)-এ সামান্য পরিবর্তন করে ফ্যাক্স এবং ই-মেইলের পাশাপাশি এসএমএস, ভয়েস কল এবং ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং সেবার মাধ্যমেও সমন জারি করার বিধান করা হয়েছে।
৩) সাক্ষীদের পরীক্ষা
আদেশ ১৮-তে বিধি ৪-এর পরে নতুন বিধি ৪ক যোগ করা হয়েছে। এই বিধি অনুসারে বাদী বা বিবাদীমামলার আরজি বা লিখিত জবাবে বর্ণিত তথ্যানুসারে মৌখিকভাবে বক্তব্য প্রদান বা অস্বীকার করতে বাধ্য হবেন না। প্রত্যেক ক্ষেত্রে বাদী বা বিবাদীর জবানবন্দি হলফনামার মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে এবং পরবর্তীতে তাকে জেরা করা যেতে পারে এবং প্রয়োজন হলে পুনঃজবানবন্দী গ্রহণ করা যেতে পারে।
৪) আদালতের দৈনিক কার্যতালিকা
আদেশ ১৮, বিধি ২০-এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন আদালত দৈনিক কার্যতালিকায় চূড়ান্ত শুনানির (peremptory hearing) জন্য দশটির বেশি মামলা নির্ধারণ করবে না; যার মধ্যে চারটি আংশিক শুনানিকৃত মামলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে (peremptory stage) দুই শতটির বেশি মামলা রাখবে না। আর নিষ্পত্তির ফলে যখন চূড়ান্ত পর্যায়ের মামলার মোট সংখ্যা একশ চল্লিশ-এর কমে নেমে আসে, তখন আদালত সাধারণত মামলার দায়েরের তারিখের ক্রমানুসারে আরও মামলা চূড়ান্ত পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করবে।
৫) ডিক্রিজারি সংক্রান্ত বিধানবলি
ক) জীবিকা ভাতা (Subsistence Allowance):
ধারা ৫৭, ধারা ৫৮ উপধারা ১-এর প্রথম শর্তের ৪ নং ক্লজ এবং আদেশ ২১, বিধি ৩৯-এর বিধানবলী বাতিল করার মাধ্যমে Subsistence Allowance সংক্রান্ত বিধানবলি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
খ) অর্থ সংক্রান্ত ডিক্রিজারির ক্ষেত্রে গ্রেফতারে বা হেফাজতে নেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা
• পূর্বে অর্থ সংক্রান্ত ডিক্রিজারির মোকদ্দমায় নারীদের দেওয়ানি কারাগারে আটকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ছিল। বর্তমানে শুধুমাত্র বয়স্ক, অসুস্থ, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মহিলাকে গ্রেফতার করায় নিষেধাজ্ঞা বিধান করা হয়েছে। [ধারা ৫৬]
• এছাড়া যে দায়িক নাবালক, অপ্রকৃতস্থ বা যোগ্য আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত বা মূল দায়িকের উত্তরাধিকারী হিসেবে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রতিস্থাপিত, তার ক্ষেত্রে দেওয়ানি কারাগারে আটক সংক্রান্ত বিধানবলি প্রযোজ্য হবে না মর্মে বিধান করা হয়েছে। [আদেশ ২১, বিধি ৩০ক (৩)]
গ) অর্থ সংক্রান্ত ডিক্রি জারির বিশেষ বিধানসমূহ
আদেশ ২১ বিধি ৩০ এর পর ৩০ক সংযুক্ত করার মাধ্যমে এই বিশেষ বিধানসমূহ যোগ করা হয়েছে।
• ডিক্রিদারের আবেদনক্রমে ডিক্রির অপরিশোধিত সম্পূর্ণ বা আংশিক অর্থের জন্য আদালত দায়িককে সর্বোচ্চ ছয় মাসে বা অর্থ পরিশোধ হওয়া, যেটা আগে ঘটে সেই সময় পর্যন্ত দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখতে পারবে।
• যদি দেওয়ানি কারাগারে আটক থাকা দায়িক রায়ের মোট অর্থের কমপক্ষে ২৫% জমা দেয় এবং বাকি অর্থ ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধের জন্য একটি বন্ড প্রদান করে, আদালত তাকে মুক্তি দেবে। তবে দায়িক যদি বন্ডে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী বাকি অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে দেওয়ানি কারাগারে আরও সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত আটক রাখার আদেশ দিতে পারবে।
• দায়িক যদি এই নিয়ম অনুযায়ী দেওয়ানি কারাগারে সম্পূর্ণ বা আংশিক সময়ের জন্য আটক থাকে, তবুও তিনি অপরিশোধিত অর্থ পরিশোধের দায় থেকে মুক্ত হবেন না।
ঘ) ডিক্রিজারির আদেশ
a. আদেশ ২১-এ বিধি ১০৪ সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন ডিক্রিপ্রদানকারী আদালত ডিক্রি জারির আবেদন গ্রহণ করতে পারে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ডিক্রি জারির আদেশ দিতে পারে।
৬) বিবিধ
• ধারা ৩৫ক-এ বর্ণিত মিথ্যা বা বিরক্তিকর দাবির ক্ষেত্রে প্রদত্ত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ২০ হাজার থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ হাজার করা হয়েছে।
• আদেশ ৯, বিধি ১৩-র অধীনে একপাক্ষিক (ex parte) ডিক্রি একক বিবাদীর আবেদনে একবারের বেশি রদ করা যাবে না।
• আদেশ ৪১, বিধি ২১-র অধীনে কোনো আপিল একবারের বেশী পুনঃশুনানী করা যাবে না।
• আদেশ ৪১ বিধি ৩০(২) সংযুক্ত করা হয়েছে। আপিলের শুনানি শুরু হলে কোনো পক্ষ বা তার আইনজীবী উপস্থিত না থাকলে এবং রেকর্ডে থাকা নথিপত্রের ভিত্তিতে আপিলের বিষয়বস্তু নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হলে, আপিলকোর্ট লিখিতভাবে কারণ উল্লেখ করে সঙ্গে সঙ্গে বা আদালতের নির্ধারিত দিনে উন্মুক্ত কোর্টে রায় ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
31/12/2025
২৫ মার্চ, ২০২৫ ইং তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অধিকতর সংশোধনকল্পে রাষ্ট্রপতি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করেন। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে উক্ত আইনে উল্লেখযোগ্য কিছু পরিবর্তন আনা হয় যা সংক্ষিপ্ত এবং সহজবোধ্যভাবে নীচে উপস্থাপন করা হয়েছে।
1. সংজ্ঞা: এই সংশোধনী দ্বারা ধারা ২-এ নতুন তিনটি দফা যথাক্রমে ‘ছছ’, ‘ছছছ’ এবং ‘ঞঞ’ সংযুক্ত করে বলাৎকার, মারাত্মক জখম এবং যৌনকর্মকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
2. দন্ডের পরিমানে পরিবর্তন:
• ধারা ৪-এর অধীনে দহনকারী, ইত্যাদি পদার্থ দ্বারা সংঘটিত অপরাধের শাস্তিস্বরূপ প্রদত্ত অর্থদন্ডের পরিমান বৃদ্ধি করে অনূর্ধ্ব ১ লক্ষ টাকাকে অনূর্ধ্ব ১০ লক্ষ টাকা এবং অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকাকে অনূর্ধ্ব ৫ লক্ষ টাকায় রুপান্তর করা হয়েছে।
• ধারা ৯-এর অধীনে ধর্ষনের শাস্তিস্বরূপ প্রদত্ত অর্থদন্ডের পরিমান বৃদ্ধি করে অন্যূন ১ লক্ষ টাকা থেকে পরিবর্তন করে অনধিক ২০ লক্ষ টাকায় রূপান্তর করা হয়েছে।
• ধারা ৯ উপধারা ৪-এ নতুন দফা ‘গ’ সংযুক্ত করা হয়েছে। কোন ব্যাক্তি কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে শরীরের কোন অঙ্গ, ধারালো অস্ত্র, রাসায়নিক পদার্থ, বা অন্য কোন উপকরণ ব্যবহার করে কিংবা অন্য কোনভাবে নারী বা শিশুর যৌনাঙ্গ বা স্তনে মারাত্মক জখম (grievous hurt) করলে, উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা এবং অতিরিক্ত অনূর্ধ্ব ১০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়েছে।
• ধারা ৯ উপধারা ৫-এ পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন ধর্ষনের শাস্তিস্বরূপ প্রদত্ত অর্থদন্ডের পরিমান বৃদ্ধি করে অন্যূন ১০ হাজার টাকা থেকে পরিবর্তন করে অনধিক ৫০ হাজার টাকায় রূপান্তর করা হয়েছে।
• ধারা ১১-এর দফা ‘ক’ পরিবর্তন করে নতুন দফা ‘ক’ এবং ‘কক’ করা হয়েছে। যৌতুকের জন্যে মৃত্যু ঘটানোর একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদন্ড থেকে পরিবর্তন করে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড করা হয়েছে এবং মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টার জন্যে নির্ধারিত একমাত্র শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড থেকে পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক বার বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড করা হয়েছে।
• ধারা ১১-এর দফা ‘গ’-তে যৌতুকের জন্যে সাধারণ জখম করার শাস্তি অনধিক ৫ বৎসর কিন্তু অন্যূন ২ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড করা হয়েছে যা পূর্বে ছিল অনধিক ৩ বৎসর কিন্তু অন্যূন ১ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড।
• ধারা ১৭-তে নতুন উপধারা ৩ সংযুক্ত হয়েছে। এখন এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর রায় প্রদানকালে যদি ট্রাইব্যুনালের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রমাণিত হয় যে, কোন অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক, তাহলে উক্ত ট্রাইব্যুনাল মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তি বরাবর যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারবে এবং প্রয়োজন মনে করলে ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদানের পাশাপাশি উক্ত মামলা বা অভিযোগ দায়েরকারী ব্যক্তিকে অনধিক ২ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবে।
3. ধর্ষন সংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন:
• ধারা ৯-এ ‘পুরুষ’ শব্দটি পরিবর্তন করে ‘কোন ব্যক্তি’ সন্নিবেশিত হয়েছে। অর্থাৎ এখন শুধু পুরুষ নয় যেকোন লিঙ্গের ব্যক্তি ধর্ষনের জন্যে অভিযুক্ত হতে পারে এবং শাস্তি পেতে পারে। এই ধারায় ধর্ষনের ফলে গুরুতর জখমের শাস্তি সনযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অর্থদন্ডের পরিমাণে পরিবর্তন আনা হয়েছে যা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।
• এছাড়া উপধারা ৬ সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে এই ধারায় অর্পিত আরোপিত অর্থদন্ড ক্ষতিপূরণ হিসাবে অপরাধের শিকার ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত, তাহার আইনগত উত্তরাধিকারীকে প্রদান করার বিধান করা হয়েছে।
• ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলা তদন্ত করার সময়ে প্রশাসনিক আদেশে কোন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বদলি করা যাবে না মর্মে বিধান করা হয়েছে। [ধারা ১৮]
• ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলার বিচারকার্য ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের তারিখ হতে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে। [ধারা ২০(৩ক)]
• কেবল ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল উপযুক্ত মনে করলে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে পারবে। [ধারা ২০(৯)]
4. বিয়ের প্রলোভনের মাধ্যমে যৌনকর্ম: ধারা ৯খ সংযুক্ত করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সংগে যৌনকর্ম শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে। নারীর সাথে আস্থাভাজন সম্পর্ক আছে এমন ব্যক্তি দৈহিক বলপ্রয়োগ ব্যতীত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৬ বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সংগে যৌনকর্ম করলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৭ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।
5. অপরাধের তদন্ত: এই আইনের অধীন কোন অপরাধের অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনের সময়ে হাতেনাতে ধরা না পরলে, সেক্ষেত্রে অপরাধের তদন্তের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে পরবর্তী ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়কাল সংশোধনীর পূর্বে ৬০ কার্য দিবস ছিল। [ধারা ১৮(১)(খ)]
6. আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচার: ধারা ২১ প্রতিস্থাপন করে আসামীর অনুপস্থিতিতে বিচারের নতুন পদ্ধতি ঢুকানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের যদি বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার গ্রেফতার বা তাকে বিচারের জন্য সোপর্দকরণ এড়াবার জন্য পলাতক আছেন বা আত্মগোপন করেছেন এবং তাহার আশু গ্রেফতারের কোন সম্ভাবনা নাই, সেইক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার তারিখ হতে পরবর্তী ২০ দিনের মধ্যে উক্ত অনুপস্থিত বা পলাতক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হাজির করার জন্যে তথ্যপ্রযুক্তির যে কোন উপযুক্ত মাধ্যমে বা একটি বাংলা দৈনিক জাতীয় খবরের কাগজে প্রজ্ঞাপিত আদেশ দ্বারা বা অন্যবিধ যুক্তিসংগত যে কোন উপায়ে উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ জারি করে হাজির করার নির্দেশ দিতে পারবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি উক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে হাজির না হন, তাহা হইলে ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতে বিচার করতে পারবে।
7. থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব: অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব সংক্রান্ত নতুন ধারা ২৫ক সংযুক্ত করা হয়েছে। কোন অপরাধের প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণসহ কোনো অভিযোগকারী থানায় হাজির হলে অফিসার ইনচার্জ তাৎক্ষণিকভাবে তার অভিযোগটি এজাহারভুক্ত করবেন এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরীক্ষা ও চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। কোন অফিসার ইনচার্জ শুধু এই যুক্তিতে কাউকে ফিরিয়ে দেবে না যে ঘটনাটি অন্য থানার এখতিয়ারাধীন এলাকায় ঘটেছে।
8. শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল: শিশু ধর্ষণ সংক্রান্ত অপরাধ বিচারের নিমিত্ত প্রত্যেক জেলায় ও মহানগর এলাকায় শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল নামে এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করার বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে। সরকার জেলা ও দায়রা জজগণের মধ্য হতে উক্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিযুক্ত করবে। [ধারা ২৬ক]
9. আপীল: এখন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, রায় বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আপীল করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। পূর্বে এই সময়সীমা ছিল ৬০ দিন। [ধারা ২৮]
10. সুরক্ষা ও ভাতা: ধারা ৩২খ সংযুক্ত করে তদন্তাধীন বা বিচারাধীন মামলার অভিযোগকারী বা অপরাধের শিকার ব্যক্তি বা কোন সাক্ষীকে নিরাপত্তা বা সুরক্ষা প্রদান এবং মামলায় আগত সাক্ষীদের যাতায়াত ও সময়ের ক্ষতিপূরণ বাবদ যুক্তিসংগত পরিমাণ অর্থ নির্ধারণ ও প্রদান করার আদেশ প্রদানের ক্ষমতা ট্রাইব্যুনাল বা, ক্ষেত্রমত, ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রদান করা হয়েছে।
11. ধারা ১১ এর দফা (গ) এ বর্ণিত অপরাধ সম্পর্কে বিশেষ বিধান: নতুন ধারা ৩৫ সংযুক্ত করে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে এই আইনের ধারা ১১ এর দফা (গ) এ বর্ণিত অপরাধ (যৌতুকের জন্যে সাধারন জখম) বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the practice
Telephone
Website
Address
Flat No. A-4, House No. 95, Road No. 9/A, Dhanmondi
Dhaka
1209
Opening Hours
| Monday | 09:00 - 20:00 |
| Tuesday | 09:00 - 20:00 |
| Wednesday | 09:00 - 20:00 |
| Thursday | 09:00 - 20:00 |
| Saturday | 09:00 - 20:00 |
| Sunday | 09:00 - 20:00 |