Sparkle Science
15/12/2025
পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক গাছটি কেটে ফেলার মাশুল আজও গুনছে পৃথিবী!
উত্তর: মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আমরা সবাই জীবনে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা নিয়ে পরে আফসোস করতে হয়েছে। হয়তো রাগের মাথায় কাউকে কটু কথা শুনিয়েছেন, কিংবা শখ করে চুলে এমন রং করেছেন যা দেখে নিজেই আয়নায় তাকাতে ভয় পাচ্ছেন! এগুলো ছোটখাটো ভুল। কিন্তু ভাবুন তো, আপনি যদি অজান্তেই পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক জীবন্ত প্রাণীটিকে মেরে ফেলেন?
ঠিক এমন এক ট্র্যাজেডির নায়ক ছিলেন ডোনাল্ড আর. কারি। ১৯৬৪ সালে কারি একজন গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট। গবেষণার প্রয়োজনে তিনি একটি গাছ কেটে ফেলেছিলেন। কাটার পর তিনি যা আবিষ্কার করলেন, তা দেখে তার পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছিল। তিনি বুঝতে পারলেন, তিনি মাত্রই এমন এক গাছকে হত্যা করেছেন, যার বয়স প্রায় ৫ হাজার বছর!
গাছটির নাম ছিল প্রমিথিউস। গ্রিক মিথলজির সেই টাইটানের নামে নাম, যিনি মানুষের জন্য আগুন চুরি করেছিলেন। কিন্তু বাস্তব প্রমিথিউসের কপালে জুটেছিল কুড়ালের আঘাত।
প্রশ্ন হলো, কারি কেন গাছটি কেটেছিলেন? ডোনাল্ড কারি আসলে কোনো ভিলেন ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন ভূ-তত্ত্ববিদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার গ্রেট বেসিন ন্যাশনাল পার্কের হুইলার পিক এলাকায় হিমবাহ নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তাঁর গবেষণার জন্য গাছের বয়সের রিং বা বলয় গণনা খুব জরুরি ছিল। কারণ, গাছের রিং দেখেই বোঝা যায় হাজার বছর আগের আবহাওয়া কেমন ছিল।
14/12/2025
অন্ধকারে কি মানুষ আসলেই ভূত দেখে, নাকি পুরোটাই চোখের ভ্রম?
উত্তর: রাতে আমদের চোখ মাঝে মাঝে আমাদের ভুল দেখায়
রাতে আমদের চোখ মাঝে মাঝে আমাদের ভুল দেখায়ছবি: ডিপোজিটফটো
১৯৯৯ সালে দ্য ব্লেয়ার উইচ প্রজেক্ট নামে একটা মুভি মুক্তি পেয়েছিল। বাজেট ছিল মাত্র ৬০ হাজার ডলার। সিনেমায় কোনো ভয়ংকর মেকআপ করা ভূত ছিল না, কোনো গ্রাফিক্সের কারসাজিও ছিল না। ছিল শুধু ঘুটঘুটে অন্ধকার আর নিস্তব্ধতা।
অথচ এই সিনেমা দেখেই মার্কিন হলগুলোতে দর্শকরা ভয়ে সিঁটিয়ে গিয়েছিল। কেন জানেন? কারণ, পর্দায় যখন অন্ধকার থাকে, আমাদের মস্তিষ্ক তখন সেই শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য নিজের কল্পনার সবচেয়ে ভয়ংকর ছবিটা সেখানে বসিয়ে দেয়।
বাস্তব জীবনেও ঠিক এটাই ঘটে। ছোটরা বা বড়রাও অন্ধকারে ভয় পায়। বাতি নেভানোর পর মনে হয়, ওই কোণায় কে যেন দাঁড়িয়ে আছে! কিংবা কী যেন একটা নড়ে উঠল! মনের ভুল ভেবে আমরা চাদর মুড়ি দিই। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, এটা শুধু মনের ভুল নয়, আমাদের চোখেরও একটা বড়সড় কারসাজি আছে এখানে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের চোখের ডাক্তার এবং অধ্যাপক স্কট ই. ব্রডি আমাদের এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমরা ভাবি আমাদের চোখ ক্যামেরার মতো। সামনে যা থাকে, ঠিক সেটাই দেখায়। কিন্তু ব্রডি বলছেন, ‘চোখ সবসময় বিশ্বাসযোগ্য নয়। চোখের দেখার পেছনে অনেক নিউরোলজি এবং রাসায়নিক ব্যাপার কাজ করে। তাই চোখকে সহজেই বোকা বানানো যায়।’
এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো অপটিক্যাল ইলিউশন বা চোখের ধাঁধা। ইন্টারনেটে এমন অনেক ছবি আছে যা স্থির, কিন্তু তাকালে মনে হয় নড়ছে। অন্ধকারে আমাদের চোখ অনেকটা সেই ধাঁধার মতোই কাজ করে।
14/12/2025
পাখি টানা কতদিন আকাশে উড়তে পারে?
উত্তর: সুইফট পাখিগুলো মাসের পর মাস আকাশে উড়তে পারদর্শী
সুইফট পাখিগুলো মাসের পর মাস আকাশে উড়তে পারদর্শীছবি: শাটারস্টোক ডটকম
১০-১৫ ঘণ্টা বিমান বা আরামদায়ক বাসে চড়লেও আমাদের অনেকের কোমরে ব্যথা শুরু হয়। টানা এত ঘণ্টা সিটে বসে থাকা কি চাট্টিখানি কথা? আমরা তো তাও সিটে বসে থাকি, আরাম করি। কিন্তু যদি আপনাকে বলা হয়, হাত দুটোকে ডানার মতো ছড়িয়ে টানা ১০ মাস শূন্যে ভেসে থাকতে হবে? কোনো বিশ্রাম নেওয়া যাবে না, মাটিতে পা ফেলা যাবে না!
শুনেই নিশ্চয়ই অদ্ভুত লাগছে। মানুষের পক্ষে এটা অসম্ভব হলেও, প্রকৃতির রাজ্যে এমন এক জাদুকর পাখি আছে, যার কাছে এটা ডালভাত। নাম তার কমন সুইফট।
এই পাখিটি টানা ১০ মাস আকাশে ওড়ার ক্ষমতা রাখে। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন—১০ মাস বা প্রায় ৩০০ দিন! একবারের জন্যও মাটিতে ল্যান্ড করে না!
ওয়েলশ পক্ষীবিদ রোনাল্ড লকলে সেই ১৯৭০ সালেই সন্দেহ করেছিলেন যে, কমন সুইফটরা হয়তো বাতাসের মধ্যেই তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়ে দেয়। কিন্তু তখন তো আর পাখির পিঠে জিপিএস বসানোর প্রযুক্তি ছিল না, তাই প্রমাণ করা যায়নি।
অবশেষে ২০১৬ সালে সুইডেনের লুন্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক ঠিক করলেন, এই রহস্যের সমাধান করেই ছাড়বেন। তারা ১৩টি পূর্ণবয়স্ক কমন সুইফটের পিঠে একদম ছোট সাইজের ডেটা লগার বসিয়ে দিলেন। এতে ছিল অ্যাক্সিলোমিটার এবং লাইট সেন্সর। অ্যাক্সিলোমিটার ওড়ার গতিবিধি মাপে আর তাদের অবস্থান বুঝতে সাহায্য করে লাইট সেন্সর।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka