Medical Study Line
ঢাকার একটি স্বনামধন্য সরকারি হাসপাতাল। একদিন হঠাৎ করে এক পুলিশ সুপার (এসপি) অসুস্থ হয়ে ভর্তি হতে এলেন। স্বাভাবিকভাবেই তার জন্য “বিশেষ” ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ল। কিন্তু সমস্যা—হাসপাতালের প্রতিটি কেবিন রোগীতে ঠাসা। তবুও ব্যবস্থা তো করতেই হবে!
প্রথমে নার্সদের সিক রুম খালি করে সেটি এসপির জন্য বরাদ্দ করা হলো। নার্সদের বলা হলো, কেউ অসুস্থ হলে ডাক্তারদের রুমে থাকবে। এখানেই প্রশ্নটা এসে দাঁড়ায়—এরপর যদি কোনো ডাক্তার অসুস্থ হন, তবে তিনি কোথায় যাবেন?
এই ছোট্ট ঘটনাটিই আসলে বড় একটি বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলো, যেগুলো যুগের পর যুগ “গরিবের হাসপাতাল” নামে পরিচিত, সেগুলোর শৃঙ্খলা বারবার ভেঙে পড়ে এমন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আগমনে। সমস্যার স্তর এত গভীর যে, উপরিভাগে যা দেখা যায়, তার নিচে রয়েছে বিশাল এক অদৃশ্য সংকট।
স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমস্যার কথা উঠলেই এক অদ্ভুত নিয়মে সব দায় গিয়ে পড়ে ডাক্তারদের ওপর—কেন তারা গ্রামে যায় না, কেন সময়মতো আসে না। অথচ হাসপাতাল কি শুধুই ডাক্তার দিয়ে চলে? এর পেছনে রয়েছে এক বিশাল কাঠামো—তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, সরঞ্জাম, ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন—সবকিছু মিলিয়েই তো একটি হাসপাতাল।
একসময় চট্টগ্রাম মেডিকেলে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়ে গণশুনানি হয়েছিল, দুর্নীতি দমন কমিশনও বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিবর্তন কোথায়? সমস্যার মূল জায়গায় হাত না দিয়ে শুধুই দৃশ্যমান অংশে চাপ প্রয়োগ করে কি সমাধান সম্ভব?
বাস্তবতা হলো—এই কর্মচারীদের অনেকেই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত। মাসের পর মাস, কখনো ৬ থেকে ১২ মাস পর তারা বেতন পায়। সেই বেতনও কি জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট? এই প্রশ্নগুলো যেন অদৃশ্যই থেকে যায়।
অন্যদিকে, নতুন কোনো স্বাস্থ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েই প্রথমে কঠোর অবস্থান নেন ডাক্তারদের বিরুদ্ধে। যেন সব সমস্যার মূলে তারাই। “যত দোষ নন্দ ঘোষ”—এই প্রবাদের বাস্তব রূপ যেন। অথচ ডাক্তাররা, যারা দীর্ঘ পড়াশোনা আর পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন, ভালো পোস্টিং বা ট্রান্সফারের আশায় নীরব থাকতেই বাধ্য হন।
ফলাফল কী? সাময়িক চাপের মুখে কিছু অনিয়ম ঠিক হয়, কিছু ডাক্তার “লাইনে” আসেন। কিন্তু বিশাল ব্যবস্থার বাকি অংশ আগের মতোই বেলাইনে চলতে থাকে। মন্ত্রী মহোদয় বাহবা পান, কিন্তু সমস্যার মূল অক্ষত থেকে যায়।
পুরো বিষয়টি যেন আইসবার্গের মতো—পানির উপরে দৃশ্যমান ছোট অংশটুকু নিয়েই আমাদের সব আলোচনা ও সমাধান, অথচ পানির নিচে থাকা বিশাল অংশটি অদৃশ্যই থেকে যায়।
একটি সত্য নির্দ্বিধায় বলা যায়—সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের মতো এত কম বেতনে দিন-রাত এক করে কাজ করার নজির খুব কম সেক্টরেই আছে। তবুও দিন শেষে তারাই হয়ে ওঠেন সবার চোখের কাঁটা।
এই বাস্তবতা বদলাতে হলে দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পুরো ব্যবস্থাটিকে একসাথে দেখতে হবে। না হলে প্রশ্নটা থেকেই যাবে—ডাক্তার অসুস্থ হলে, তিনি কোথায় যাবেন?
24/03/2026
"ডক্টরস কেয়ার হাসপাতাল সিলগালা।"
জনগণ জানলো এই হাসপাতালে ডাক্তারের জায়গায় অপারেশন করে ৮ম শ্রেণি পাস টেকনিশিয়ান।
কিন্তু জনগণ যা জানলো না তা হল, এর জন্য দায়ী ডাক্তাররা। ডাক্তারদের মেরুদণ্ডহীনতা। ডাক্তারদের স্বার্থপরতা।
প্রথমত, প্রাইভেট সেক্টরে অধিকাংশ ডাক্তার জুনিয়রদের শেখাতে আগ্রহী না। তারা সব সময় রেডিমেড এসিস্ট চান। তাই অপারেশনে এসিস্ট হিসেবে একজন জুনিয়র ডাক্তারের চেয়ে ওটিবয়,নার্স,টেকনিশিয়ান তাদের কাছে বেশি অগ্রাধিকার পায়। ঢাকার অবস্থাই যদি এমন হয়,তবে পেরিফেরির কথা একবার চিন্তা করেন!
দ্বিতীয়ত,পোস্ট-গ্রাজুয়েশন ট্রেনিং স্ট্রাকচার্ড না হওয়ায়,ট্রেইনিরা ট্রেনিং পিরিয়ডে হাতে কলমে শেখার সুযোগ কম পান। যেখানে একজন এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিজে ট্রেইনি হিসেবে শিখছেন,সেখানে তিনি কিভাবে জুনিয়র ট্রেইনিদের শিখাবেন?এর জন্য ওই এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর দায়ী নন। কারণ তিনিও তার ট্রেইনিং পিরিয়ডে শেখার সুযোগ পান নাই।
ঠিক এই জায়গাটা দখল করেছে এসব টেকনিশিয়ানরা। একজন সার্জারির ট্রেইনিকে আপনি ল্যাপারস্কোপিক সার্জারি শেখার সুযোগ দিলেন না। কিন্তু ঠিকই তিনি এমএস, এফসিপিএস পাস করে গেলেন। এখন তিনি কিভাবে ল্যাপারস্কোপিক সার্জারি শিখবেন? ঠিকই ভাবছেন। তিনি শিখবেন তার প্রাইভেট প্রাক্টিসে। আর এখানেই তার ট্রেইনার হবে এসব টেকনিশিয়ান বা মেশিন ম্যানরা।
এসব টেকনিশিয়ানের হয়তো মেডিকেল নলেজ নাই। কিন্তু রেগুলার এসিস্ট করতে করতে তারা অনেক স্কিল্ড হয়ে গেছে। ফলে তারা খুলে বসেছে ডক্টরস কেয়ারের মতো হস্পিটাল।
আরেক শ্রেনীর ইতর ডাক্তার আছেন,যারা নিজে অপারেশন করেন না বা পারেন না৷ তারা অপারেশনে এসিস্ট হিসেবে দাঁড়ান মাত্র। তার নামে অপারেশন করে টেকনিশিয়ান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ বিষয়গুলো ওপেন সিক্রেট হয়। হাসপাতাল মালিক,হাসপাতাল স্টাফ সবাই সবকিছু জানেন। কিন্তু কেউ কিছু বলেন না। কেন? কারণ এসব ডাক্তারের থাকে বিশাল দালাল সিন্ডিকেট। যারা ভোলাভালা রোগীদের এসব ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসে। অপারেশন থিয়েটারের ভিতরে কি ঘটে, অধিকাংশ রোগীর লোকই তা জানেন না।
এর পর আছে বলির পাঠা বেসরকারি জুনিয়র ডাক্তার। পেটের দায়ে একজন জুনিয়র ডাক্তার এসব ভুইফোর হাসপাতালে ২৪ ঘন্টায় ২৪০০-৩০০০ টাকার বিনিময়ে ডিউটি করেন। ১০ বেডের জন্য যেখানে একজন ডাক্তার থাকার কথা, সেখানে ৪০-৫০ জন রোগীর জন্য মাত্র একজন ডাক্তার এসব হাসপাতালে ডিউটি করেন। কোনো অকারেন্স ঘটলে বলির পাঠা করা হয় এসব জুনিয়র ডাক্তারকে।অনেক হাসপাতালে ডাক্তারের জায়গায় ডিউটি করে ডিএমএফ ডিব্বারা।
তাই এসব সমস্যার সমাধান না করে,লোক দেখানো হাসপাতাল সিলগালা করে খুব একটা লাভ হবে না। ডাক্তারদের ট্রিনিং পিরিয়ডকে আরো স্কিল ওরিয়েন্টেড করা হোক। ন্যায্যতার ভিত্তিতে জুনিয়র বেসরকারি ডাক্তারদের একটা বেতনকাঠামো ঠিক করা হোক। প্রতিটা অপারেশনে এসিস্ট হিসেবে একজন জুনিয়র ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হোক। প্রতিটা বেসরকারি হাসপাতালে ১০ বেডের বিপরীতে একজন এমবিবিএস ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হোক। যত্রতত্র এসব ভুইফোর হাসপাতালের রেজিষ্ট্রেশন দেয়া না হোক। যেসব হাসপাতাল আছে,তাদের কড়া প্রশাসনিক তদারকির মধ্যে রাখা হোক।
তবেই এদেশে সুন্দর,রোগীবান্ধব,স্কিল্ড একটা চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
©️Dr Nazmush Shakib Bappi
25/02/2026
স্বাধীনতার এই সুদীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল প্রাপ্তির পরও, আমরা একটি দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি যেখানে প্রতিদিন মানুষ তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলির জন্য প্রায়শই প্রতিযোগিতামূলক ও অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। মানুষকে প্রায়শই ভাবনা-চিন্তা ছাড়াই মূল্যবান খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহের জন্য মারামারি কিংবা কুকুর-বিড়ালের মতো ধাক্কাধাক্কি করতে দেখা যায়, যা আমাদের সেই স্বাধীনতা এবং সমাজের উন্নতির জন্য যে অঙ্গীকার করেছিলাম, তার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। এসব পরিস্থিতি আমাদের যেমন মর্মাহত করে, তেমনি উদাসীনতার এক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়। স্বাধীনতার এত বছর পরও, সমাজে এমন দৃশ্য হয়তো অপ্রত্যাশিত, কিন্তু তা সত্য।
আপনি যত বড় শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী হোন না কেন, অর্থ ছাড়া আপনাকে কে পুছে দেখে নিয়েন। যত বিশাল জ্ঞানী-গুনি হোক, তাকে ধনী হতেই হবে। গরিব হয়ে কেউ থেকে জনসেবা এটা আজ কেবল নীতিকথাতেই পাওয়া যায়।
20/02/2026
ভালো বলেছেন, যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই, সাথে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চাই।
যুদ্ধ এড়াতে হবে, প্রতিবেশীদের সাথে মিলেমিশে চলতে হবে। - তবে আমাদের আত্মরক্ষার সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Address
Dhaka
088