Ornil Riaz

Ornil Riaz

Share

09/02/2026

বিদায় বেলায় ড. ইউনূস: ১৮ মাসের 'মেটিকিউলাস' শাসন নাকি এক বড় দীর্ঘশ্বাস?

​আগামী দুই দিন পর শেষ হতে যাচ্ছে ড. ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসন। ব্যক্তি ড. ইউনূসের প্রতি একসময় প্রবল সমর্থন থাকলেও, শাসক ড. ইউনূসকে নিয়ে গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু নির্মম সত্য মেনে নিতেই হচ্ছে। একজন নোবেলজয়ীর কাছে প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী, কিন্তু প্রাপ্তি? চলুন মিলিয়ে দেখি।

​❌ যেখানে চরম ব্যর্থতা:
১. আইনশৃঙ্খলা ও মব জাস্টিস: ১৮ মাসে মব জাস্টিসে ৩০০ মানুষের মৃত্যু, রাজধানীতে ৬৪৩টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন এবং নদী থেকে রোজ লাশ উদ্ধারের ঘটনা—এটা কি কোনো সভ্য দেশের চিত্র? দীপু দাস বা খোকনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনাগুলো এই শাসনামলের কলঙ্ক হয়ে থাকবে।
২. কূটনীতি ও পাসপোর্ট: 'আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়' তকমা থাকলেও পাকিস্তান ছাড়া আর কারো সাথে সুসম্পর্ক গড়তে পারেননি। উল্টো ভারতের সাথে সম্পর্ক তলানিতে, মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং পাসপোর্টের মান নামতে নামতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন-ফিলিস্তিন লেভেলে।
৩. স্বজনপ্রীতি: ট্যাক্স মওকুফ থেকে শুরু করে নিজের পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের সরকারের ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসানো—আগের সরকারের সাথে এই সরকারের আচরণের পার্থক্য কোথায়?
৪. নারীর নিরাপত্তা ও শিক্ষা: নারী সংস্কার কমিশন ব্যর্থ, নারীদের পোশাক নিয়ে ভীতি প্রদর্শন এবং নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ ৪%-এ নেমে আসা—এ এক ভয়াবহ পশ্চাৎপসরণ। ক্যাম্পাসে এখনো শিক্ষার পরিবেশ ফেরেনি, বরং ভিসি নিয়োগে দলীয়করণই দেখা গেছে।
৫. বিনিয়োগ ও অর্থনীতি: বিদেশি বিনিয়োগ তলানিতে (মাত্র ১৪০ কোটি ডলার)। ঋণ বেড়েছে আড়াই লাখ কোটি টাকা। রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনিশ্চয়তা আর দ্রব্যমূল্যের আকাশচুম্বী দামে জনজীবন অতিষ্ঠ।

​✅ যেখানে কিছুটা স্বস্তি:
১. রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স: স্বীকার করতেই হবে, রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন থেকে বেড়ে প্রায় ৩৩ বিলিয়নে (সরকারি মতে) দাঁড়িয়েছে। প্রবাসীরা দুহাত ভরে টাকা পাঠিয়েছেন (রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২%)।
২. ব্যাংকিং খাত: ব্যাংক একীভূতকরণ ও অনাদায়ী ঋণ কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার ভালো মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে।

​📝 শেষ কথা:
২০০১ সাল থেকে রাজনীতি দেখছি, কিন্তু গত দেড় বছরের মতো অস্থিতিশীলতা ও বিভাজিত দেশ আগে দেখিনি। দেশটাকে এক করার সুযোগ ছিল ওনার, কিন্তু উনি জাতিকে বিভক্ত করে বিদায় নিচ্ছেন। যে স্বপ্ন নিয়ে জুলাইয়ে পরিবর্তন এসেছিল, তার ছিটেফোঁটাও বাস্তবায়ন হয়নি।
​ব্যক্তি হিসেবে তিনি সফল হতে পারেন, কিন্তু শাসক হিসেবে তিনি দেশের জন্য খুব একটা সুখকর স্মৃতি রেখে যেতে পারলেন না।
​আমার রেটিং: ৩/১০ (বাকি ৭ কাটা গেল মব জাস্টিস, কূটনৈতিক ব্যর্থতা, দ্রব্যমূল্য আর স্বজনপ্রীতির কারণে।)

26/11/2025

⚠️ বর্তমান চাকরির বাজারে সতর্কতা: হুটহাট চাকরি ছাড়ার আগে দু’বার ভাবুন! ⚠️

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে উঠে আসা উদ্বেগজনক তথ্যগুলো আমাদের সকলের জন্য একটি সতর্কবার্তা। চাকরির বাজার এখন আর আগের মতো স্থিতিশীল নয়, বরং অনেক বেশি অস্থির ও প্রতিযোগিতামূলক।

📉 উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান (২০২৩–২০২৪):
* প্রায় ২০ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে।
* চলতি বছরে আরও প্রায় ৮ লাখ মানুষ বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে।
* দারিদ্র্যের হার ১৮.৭% থেকে বেড়ে ২১.২% হওয়ার আশঙ্কা।
এই পরিসংখ্যানগুলি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আমাদের এখন প্রতিটি কেরিয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং সতর্কভাবে।

🚫 কেন এখন চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঝুঁকিপূর্ণ?
আবেগ, রাগ বা সাময়িক অসন্তোষে চাকরি ছেড়ে দেওয়া এই মুহূর্তে হতে পারে সবচেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত।

কারণ:
* নতুন চাকরি পাওয়া কঠিন: নতুন সুযোগ খোঁজা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।
* চরম প্রতিযোগিতা: একেকটি পজিশনে আবেদনকারীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
* ইন্টারভিউ কল কম: প্রত্যাশিত সংখ্যক ইন্টারভিউ কল পাওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
* কঠিন হচ্ছে প্রতিযোগিতা: স্কিল ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হচ্ছে।

চাকরি ছাড়ার হুটহাট সিদ্ধান্তে নতুন সুযোগের জন্য আপনাকে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সংগ্রাম করতে হতে পারে।

✅ বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনার করণীয় কী?
যেখানে আছেন, সেখানেই নিজেকে আরও উন্নত করুন এবং বাজারের জন্য প্রস্তুত হন:
* নতুন স্কিল শিখুন, নিজের ভ্যালু বাড়ান: নিজেকে অপরিহার্য করে তুলুন।
* পরিকল্পনা করুন: পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কেরিয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন না। একটি ব্যাকআপ প্ল্যান তৈরি রাখুন।
* বাজার পরিস্থিতি বুঝুন: চাকরির বাজারের গতি-প্রকৃতি বোঝার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নিন।
* পরামর্শ নিন: অভিজ্ঞ রিসোর্স পারসন এবং কেরিয়ার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন।

এই অস্থির সময়ে, আপনার বর্তমান চাকরিটি ধরে রাখা—এটাই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত।

মনে রাখবেন---
চাকরি শুধু একটি ইনকামের উৎস নয়— এটি আপনার কেরিয়ার গড়ে তোলার প্ল্যাটফর্ম।

হুটহাট সিদ্ধান্ত না নিয়ে, স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিন এবং নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করুন।

#বেকারত্ব #চাকরি #কেরিয়ার #বাংলাদেশ

21/07/2025

"বিবেকের কাঠগড়ায় এক মানবিক বিপর্যয়"

গতকালের বিমান দুর্ঘটনা কেবল একটি উড়োজাহাজের ধ্বংসযজ্ঞ ছিল না, এটি ছিল আমাদের মানবিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি। দুর্ঘটনার পর ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আমাদের বিবেককে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

প্রচণ্ড গরমে উদ্ধারকাজে নিয়োজিতদের যখন পানির প্রয়োজন ছিল, তখন কলেজের ক্যান্টিন তাদের পানি বিক্রি করতে বাধ্য করে। মানবিকতার চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থ যখন বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন এমন দৃশ্যই দেখা যায়। এমনকি, যখন সবচেয়ে বেশি পানির দরকার ছিল, তখন ক্যান্টিন বন্ধ করে দেওয়া হয়, কারণ "পানির টাকা কে দেবে?" – এই প্রশ্নটিই যেন মানবিকতার ঊর্ধ্বে স্থান পায়।

আগুনে পোড়া শরীর নিয়ে যখন ছোট ছোট শিশুরা বের হয়ে আসছিল, তখন সাহায্যের হাত না বাড়িয়ে উৎসুক জনতা ব্যস্ত ছিল মোবাইলে ভিডিও ধারণে। মানবিক সাহায্য প্রদানের চেয়ে "ভিডিওতে বেশি ভিউ" এবং "টাকা ইনকাম"-এর মানসিকতা আমাদের কোন অতলে নামিয়েছে, তা এই ঘটনাই প্রমাণ করে।

ঝলসানো শরীর নিয়ে বেরিয়ে আসা আহতদের হাসপাতালে নিতে রাজি হয়নি কোনো সিএনজি, রিকশা বা এমনকি কাছাকাছি থাকা কোনো প্রাইভেট কার। কারণ, "এরা কেউ তার নিজের সন্তান নয়।" এই বাক্যটি আমাদের সমাজের চরম স্বার্থপরতা এবং আত্মকেন্দ্রিকতার নির্লজ্জ উদাহরণ।

দুর্ঘটনার শিকারদের জন্য পরিবহন ভাড়ার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে অমানবিকতার চিত্র। মাইলস্টোন কলেজ থেকে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে সিএনজি ভাড়া ১০০০ টাকা, যেখানে উত্তরা-উত্তর মেট্রোর নিচ থেকে মনসুর আলী মেডিকেলে রিকশা ভাড়া ১০০ টাকা – এই বৈষম্য যেন আরও একবার মনে করিয়ে দেয় সংকটের সময়ও কিছু মানুষ কীভাবে সুযোগের সদ্ব্যবহার করে।

দুর্ঘটনায় আহত বা আতঙ্কিত শিশুদের আইডি কার্ডে অভিভাবকদের ফোন নম্বর না থাকাটা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা এবং উদাসীনতার দিকে ইঙ্গিত করে। শিশুরা এতটাই আতঙ্কিত যে তারা তাদের ঠিকানা বা অভিভাবকদের ফোন নম্বর বলতে পারছে না, অথচ তাদের সুরক্ষার জন্য ন্যূনতম তথ্যটুকুও আইডি কার্ডে নেই।

সবশেষে, ১৯৭৬ সালের মডেলের একটি যুদ্ধবিমানের দুর্ঘটনা ইঙ্গিত দেয় আমাদের দেশের প্রযুক্তিগত দৈন্যদশা এবং সম্ভবত রক্ষণাবেক্ষণেও ঘাটতির।

এটাই হয়তো আমাদের বর্তমান বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র।

এটাই আমাদের বিবেক এবং মনস্তত্ত্ব। এই ঘটনাগুলো আমাদের বাঙালি পরিচয়ের এক ভিন্ন দিক উন্মোচন করে।

যে শিশুরা এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে, পরম করুণাময় আল্লাহ তাদের এই দুনিয়ার 'জাহান্নাম' থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

20/07/2025

ভাঙনের মাঝেও আশার আলো: একটি আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট

'দাগী' সিনেমার সেই বুক চেরা আর্তনাদ, "আমাকে আমার মত করে ভালবাসলে না কেন? আমাকে ধরে রাখলেনা কেন নিশান? তুমি আসলে জানোই না, কিভাবে ভালবাসতে হয়। ভালোবাসা তুমি কি বোঝো না নিশান?"—এই কথাগুলো কি শুধু নিশানকে বলা? নাকি দিনের পর দিন নিঃশেষ হয়ে যাওয়া আমাদের সবার অব্যক্ত অনুভূতি? নির্ঘুম রাতগুলো যখন আবেগ আর অনুভূতিগুলোকে ছারখার করে দেয়, তখন আমরা যতই বলি "ভালোবাসা একতরফাই ভালো" বা "ভালোবাসা জীবনের সব নয়", দিনশেষে কি একটা নির্ভরতার হাত খুঁজি না?

হ্যাঁ, আমরা সবাই খুঁজি এমন একজন মানুষ, যে আমাদের আমাদের মতো করে ভালোবাসবে। সবাই স্বপ্ন দেখে, আমরাও বাঁচতে চাই—একটা মনের মানুষকে পাশে নিয়ে। একটা বিচ্ছেদের দৃশ্য আমাদের বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে, কারণ হয়তো আমাদেরও আছে হারানোর গল্প, অথবা আছে হারানোর তীব্র ভয়।

জীবন এভাবেই এগিয়ে চলে—আশা, স্বপ্ন আর তীব্র ভাঙচুরের এক অদ্ভুত মিশেলে। 'গৃহ প্রবেশ'-এ শুভশ্রীর সেই লাইনগুলো বড্ড সত্যি মনে হয়, "আমার জীবনের প্যাটার্নটাই বোধ হয় এটা জানিস, আমি মানুষের জন্য অপেক্ষা করে থাকি, আর মানুষটা ভ্যানিশ হয়ে যায়।" এই ভাঙচুর, আর আবার উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে একদিন হয়তো আমরাও হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাবো। কারোর জীবন থেকে, অথবা… কে জানে!

তবুও, এই ভাঙনের মাঝেই লুকিয়ে আছে নতুন করে শুরু করার অনুপ্রেরণা। হয়তো এই ভাঙচুরই আমাদের শেখায় আরও শক্তিশালী হতে, আরও বেশি করে নিজেকে ভালোবাসতে। হয়তো একদিন ঠিকই খুঁজে পাবো সেই হাত, যা আমাদের হাতটা শক্ত করে ধরে রাখবে, আমাদের আমাদের মতো করেই ভালোবাসবে। ততদিন পর্যন্ত, চলো স্বপ্ন দেখি, বাঁচার চেষ্টা করি, আর নিজেদের ভেতরের মানুষটাকে আগলে রাখি।

Want your business to be the top-listed Media Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Dhaka
1213