Hazambd.com
26/09/2023
ভালোবেসেই যাবো
পার্ট-৪
লেখনীতেঃআসমিতা আক্তার (পাখি )
অচেনা ছেলেঃ তুই কি আগুন?
৩ঃআগুন রেগে গিয়ে বললঃ-
আগুনঃ আগে কলারটা ছাড়,,,
অচেনা ছেলেঃ আগে বল তুই আগুন কি না?
৩ঃ আগুন এইবার শান্ত গলায় বললো,
আগুনঃ হুম আমিই আগুন,,,
৩ঃ আগুন ধাক্কা দিয়ে ছেলেটির হাত তার কলার থেকে সরিয়ে নিল,,,,। তারপর বললঃ-
আগুনঃ কিন্তু তোরা কে?
৩ঃ আগুনকে কিছু না বলেই ছেলেটা আগুনকে মারতে যাচ্ছিলো ,,, ওমনিই আগুন তার হাত ধরে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে মারতে শুরু করে দেয়। একে একে করে সবাইকে মারে। কেউ যদি একটা ছেলের কলার ধরে তাহলে কোন ছেলেই সহ্য করতে পারে না। এবং আগুনেরও সহ্য হলো না,,, আগুন যখন দেখলো কেউ আর তেমন ভাবে মারতে আসছে না তখন আগুন তাদেরকে ছেড়ে দিয়ে বললঃ-
আগুনঃ এখন বল কে তোরা? আর আমাকেই বা কেন মারতে চাচ্ছিস?
অচেনা ছেলেঃ আমাদেরকে আমাদের বস পাঠিয়েছে। আর বলেছে,,, আপনাকে ইচ্ছা মতো মারতে যাতে আপনি ১ মাস অবদি হাসপাতালে পড়ে থাকেন।
আগুনঃ বস? কোন বস? আর আমাকেই বা কেন চায় তোদের বস?
অচেনা ছেলেঃ আমাদের বসের নাম আসিফ আহমেদ।
আগুনঃ কোন আসিফ?( কিছুটা চিন্তিত হয়ে )
অচেনা ছেলেঃ কয়েকদিন আগে যে আপনি একটা ছেলেকে মেরেছিলেন সেই ছেলেটা হলো আসিফ। আমাদের বস!
আগুনঃ ওহ,,,,আচ্ছা তোরা এখন যা। আর তোর আসিফ ভাইকে বলবি পরের বার আমাকে মারতে যেন সে আসে। ভিতুদের মতো যেন বাড়িতে বসে না থাকে।
৩ঃ আগুনের কথা শেষ হতেই সব গুলো দৌড়ে পালিয়ে গেল,,আর আগুন মনে মনে বলতে লাগলোঃ-
আগুনঃ আগের বার ছেড়ে দিয়েছিলাম বলে মনে করবি না যে এইবারও ছেড়ে দিব। এইবার আগুনের আসল রুপ দেখবি। আসিফ খেলাটা শুরু তুই করেছিস কিন্তু শেষটা আমি করবো,,, ( মনে মনে)
৩ঃ আগুন পিছন ফিরতেই দেখতে পেল মোম তার দিকে তাকিয়ে আছে। আগুন বেশ কয়েক সেকেন্ড মোমের চোখে চোখ রেখে সরিয়ে নিল। মোম এইখানে কি কি হয়েছে তা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেছে। আগুন ও তাকে কিছুই বলতে পারছে না,, আর বলবেই বা কি? মোম আর এক মুহূর্ত ওখানে না দাঁড়িয়ে গাড়ি নিয়ে চলে গেল। আর আগুন ওখানে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে সেও নিজের বাসায় চলে গেল। রাতে খাবার খেয়ে আগুন বেলকনির রেলিং ধরে আকাশের দিকে মুখ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর মনে মনে ভাবতে থাকেঃ-
আগুনঃ এ কেমন অনুভূতি আমি কিছুই বুঝতে পারছি না,,,তোমার থেকে দূরে আমি থাকতে পারি না। প্রতিদিন তোমাকে এক নজর না দেখলে মনের তৃষ্ণাটা মিটে না। আচ্ছা মোম,, তুমিও কি আমার মতো এমন কিছু অনুভূতির সম্মুখীন হচ্ছো? আহ আমি আর ভাবতে পারছি না। ভাবতে ভাবতে আমি ক্লান্ত হয়ে পরেছি।
৩ঃ আগুন মাথায় হাত দিয়ে তার রুমে প্রবেশ করলো। মাথায় হাত থাকা অবস্থাতেই উল্টো হয়ে বিছানায় গা টা এলিয়ে দিল। সকালের মৃদ সূর্যের আলো আগুনের চোখে পরতেই আগুন বিরক্তি নিয়ে বার বার এপাশ ওপাশ করছে। বেশ কিছুক্ষন ঘুমানোর পর সে উঠে পড়লো,,, কলেজে যেতে হবে বলে। নাস্তা করে চলে গেল কলেজের উদ্দেশ্যে। কলেজে গিয়ে সব ক্লাস ঠিক ঠাক করে আড্ডা দিচ্ছিলো সবাই মিলে। কিন্তু আগুনের চোখ শুধু মোমকে খুজছে। প্রায় ১০ মিনিট পর মোমের দেখা পেল আগুন। কিন্তু মোম তার দিকে একবার ও তাকায় নি। আগেও তেমন একটা তাকাতো না। মাঝে মাঝে বেখেয়ালি ভাবে চোখ চলে যেত। কিন্তু কালকের ঘটনার পর আগুন মনে করেছিল আগে যা একটু আমার দিকে তাকাতো এখন মনে হয় তাও তাকাবে না। আর তাই হলো,,,, আগুনের মন খারাপ কেউ বুঝতে না পারলেও তার প্রিয় বন্ধু নয়ন ঠিকি বুঝেছে তার কষ্টটা আগুন তাকে কোন কিছু বলে নি মোমের ব্যাপার নিয়ে। কিন্তু নয়ন তা বুঝতে পেরেছে আগুনের ব্যবহার এর মাধ্যমে। আগুনের আগে অল্প কথাতেই রাগ উঠে যেত কিন্তু মোমের সাথে দেখা করার পর থেকে আগুনের মধ্যে অনেক কিছুই চেঞ্জ দেখা দিয়েছে। যেমন,,,,, আগের মতো তেমন একটা কেউর সাথে রাগারাগি করে না । সব ক্লাস করে তার পর প্রতিদিন কলেজে বসে সবার সাথে অাড্ডা দেয়। আগেও আড্ডা দিত কিন্তু আগে সে অনেকটাই গম্ভির ছিল আর এখন? এখন সে সবসময় হাসি খুশি থাকে আর সবাইকেও রাখে। কিছুক্ষন আড্ডা দেয়ার পর রাজ আর অভি চলে যায় তাদের বাসায় থেকে যায় শুধু আগুন আর নয়ন। নয়ন ত এই সুযোগ টার ই অঅপেক্ষা করছিল যে কখন আগুনের সাথে সে একান্ত ভাবে কথা বলতে পারবে। নয়ন বললঃ-
নয়নঃ আচ্ছা আগুন একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি কি?
৩ঃ আগুন খানিকটা ভ্রু কুচকে বললঃ-
আগুনঃ হঠাৎ এমন করে কথা বলছিস যে ? এর আগে ত কখনও কিছু বলার আগে এমন ভাবে পারমিশন চাস নি ত আজ কেন?
৩ঃ নয়ন কিছুটা ঘাবড়ে বললঃ-
নয়নঃ না মানে,,,,,তেমন কোন কিছুই হয়নি কিন্তু কথাটা তোর পারসোনাল লাইফ নিয়ে তাই জিজ্ঞেস করেছি।
আগুনঃ পারসোনাল লাইফ? আমার সব কিছুই ত তুই জানিস।
নয়নঃ হুম সবই জানি কিন্তু একটা কথা তুই আমাকে এখনও বলিস নি।
৩ঃ আগুন ভাবনার জগতে পা দিয়ে বললঃ-
আগুনঃ কোন কথাটা আমি তোকে জানাই নি?
নয়নঃ মোমের কথাটা,,,
৩ঃ আগুন অবাক হয়ে নয়ন এর দিকে তাকিয়ে আছে তারপর আমতা আমতা করে বললঃ-
আগুনঃ কোন মোম?
৩ঃ নয়ন খানিকটা রাগ নিয়ে বললঃ-
আগুনঃ হয়েছে আর ঢং করতে হবে না। এমন ভাবে ভাব করছিস যেন ওর নামটা এই প্রথম শুনলি!
আগুনঃ এহ আচ্ছা আচ্ছা সেই মেয়েটার কথা বলছিস যাকে আমি সেই দিন বাচিয়েছিলাম ওগুলো ছেলেদের হাত থেকে?
নয়নঃ জ্বি আমি ওই৷ মোমের কথাই বলছি।
আগুনঃ আমি আবার কি জানাই নি মোমের ব্যাপার নিয়ে? সে দিন যা হলো তা ত তোদের চোখের সামনেই হলো।
নয়নঃ হুম সে দিন যা হয়েছে তা ত আমরা দেখেছি কিন্তু আমি তোর চোখের ভিতরের কথা বলছি।
আগুনঃ মানে কি বুঝাতে চাচ্ছিস তুই?
নয়নঃ এটাই যে তুই মোমকে পছন্দ করিস। হয়তো বা ভালোও বাসিস।
আগুনঃ কি ফালতু কথা বলছিস? আমি আর মোমকে পছন্দ করবো? কখনই না,,, নয়ন তুই ত আমার টেস্ট সম্পর্কে সবই জানিস তাহলে তার পরেও কেন এই কথাটা কিভাবে বলতে পারলি?
নয়নঃ আমি সবই জানি কিন্তু তুই যে মোমকে ভালোবাসিস তাও আমি জানি। আর তুই যতই আমার অস্বীকার করিস না কেন আমি তোর কথা বিশ্বাস করবো না। কারণ আমি তোর চোখে মোমের জন্য ভালোবাসা দেখতে পেয়েছি। আমি দেখেছি যখন মোম আসতে একটু লেট করে তখন তুই কিভাবে ছটফট করিস।
৩ঃ আগুন আর পারলো না নিজেকে অাটকাতে তাই বাধ্য হয়ে নয়নকে বললঃ-
আগুনঃ হুম আমি অনেক ছটফট করি ওকে না দেখতে পারলে। কিন্তু এটা ভালোবাসা কি না তা আমি জানি না। জানিস নয়ন,, যখন ওকে আমি দেখি তখন আমার মনের মাঝে আলাদা একটা অনুভূতি সৃষ্টি হয়। আমি জানি না এ কেমন অনুভূতি কিন্তু এই অনুভূতিটা আমার অনেকই ভালো লাগে।
নয়নঃ এই অনুভূতিটার নামই হলো ভালোবাসা।
আগুনঃ তুই ত জানিস মোম কতটা ছোট আমার থেকে। ও এখন মাত্র ক্লাস ৮ এ পড়ে।
নয়নঃ ত কি হয়েছে? এখনও ত অনেক সময় আছে। এমন ত না যে মোম কোথাও পালিয়ে যাচ্ছে।
আগুনঃ- হুম এখন চল বাসায়। নাহলে আম্মু বকাঝকা দেয়া শুরু করবে।
৩ঃ তারপর দুজন চলে যায় নিজেদের বাসায়। প্রতিদিনের মতো আজও আগুন তার বেলকনিতে গেল সাথে আছে এক কাপ কফি,,,, এক হাতে কফি আর আরেক হাতে বেলকনির রেলিং ধরে আকাশের চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে আর বলছেঃ-
আগুনঃ হুন ভালোবাসি,,, খুব বেশিই ভালোবাসি। কিন্তু আফসোস ভালোবাসি কথাটা তোমায় এখন বলতে পারবো না । তোমাকে ভালোবাসি কথাটা যদি বলি হয়ত বা তুমি এখন এইটার মানে বুঝবে না। তাই আমাদের দুজনেরই সময় এর প্রয়োজন,,।
৩ঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে আগুন নিজের টাইম টেবিল হিসেবে চলে যায় কলেজে কিন্তু আজ তার কেমন যেন একটা অনুভূতি হচ্ছে। এটা ভালো লাগার অনুভুতি নয় কিছু হারানোর ভয়। তবুও নিজের মনকে শান্ত রাখার যথার্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আগুন । ক্লাসেও তেমন একটা মনযোগী হয়ে পারে নি,, অাড্ডা স্থানে গিয়ে বার বার এদিক ওদিক করছে আগুন তার চোখ জোড়া যে মোমকে খুজছে কিন্তু মোমকে দেখতে পারছে না। ৩০ সেকেন্ড এর পর আগুন মোমকে দেখতে পেল,,, আগুনের চোখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্চে যে সে কতটা খুশি হয়েছে মোমকে দেখে কিন্তু তার খুশিটা বেশিক্ষণ থাকতে পারলো না। হঠাৎই মোমের সামনে এসে কয়েকটা কার এসে থামলো মোম ভয় পেয়ে দু পা পিছিয়ে গেল,,
চলবে,,,
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the practice
Telephone
Website
Address
Madani Road, Ali Nagar, Kamrangir Char
Dhaka
1211