Naim's Creation
গল্পের নাম: #গল্পটা_অমির_নয়
লেখক: মির্জা মোঃ জুলকার নাঈম
১৪তম অধ্যায়: ঘুমের ঘরে প্রবেশ
রাত ঘনিয়ে এসেছে। আকাশজুড়ে কালো মেঘ, মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকে উঠছে—এক ধরনের অজানা অশান্তির পূর্বাভাস যেন। গ্রাম নিস্তব্ধ, শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজ আর হাওয়া গায়ের মধ্যে হিমেল কাঁপুনি বইয়ে দেয়।
অমি দাঁড়িয়ে থাকে সেই অভিশপ্ত ঘরের সামনে। সেদিন, যেদিন সে প্রথম এই ঘরের খবর পেয়েছিল, সে জানতো না—একদিন তাকে এই ঘরের ভেতর ঘুমাতে হবে, সত্যকে সামনে থেকে দেখতে হবে।
ইমাম সাহেব আর মাওলানা আশরাফুল ইসলাম দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।
“সব কিছু ভয়ের মতো মনে হবে, কিন্তু ভয় পেয়ো না,” মাওলানা বলেন। “তুমি যদি ভিতর থেকে দৃঢ় থাকতে পারো, সত্য নিজেই তোমার সামনে খুলে যাবে।”
অমি মাথা নিচু করে ঘরে প্রবেশ করে।
ঘরটি নিঃসঙ্গ, মাটির মেঝে, সাদা রঙের ফাটা দেয়াল আর এক কোণে একটি কাঠের খাট। বাতি নেই, শুধু একটি ছোট্ট কেরোসিন ল্যাম্প।
সে ধীরে ধীরে খাটে বসে। পকেট থেকে পাথরখানি বের করে বালিশের নিচে রাখে। বাতির আলো ম্লান হয়ে আসে। ঘরটি নিঃস্তব্ধ।
তারপর ধীরে ধীরে চোখ বুজে আসে অমির।
ঘুম নয়—এ যেন এক প্রবেশদ্বার, এক আলাদা জগতে পদার্পণ।
হঠাৎ সে দেখতে পায়...
পাঁচজন মানুষ, একটি গোল টেবিল ঘিরে বসে আছে। তাদের চোখে আতঙ্ক, কিন্তু মুখে নিঃশব্দতা। একজন কাঁদছে, একজন চোখ বন্ধ করে আছে, একজন দাঁত চেপে ধরে আছে মেঝের দিকে তাকিয়ে। আরেকজন কিছু একটা লিখছে কাগজে, আর শেষজন—সে উঠে দাঁড়িয়ে বলে:
“আমরা চুপ থাকলে কেউ জানবে না। এই সত্য কেউ জানবে না। ভুলে যাও, এটা কোনোদিন ঘটেনি।”
অমি এই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠে।
এদের কেউ একজন তার মতোই দেখতে। অথবা... এটা কি তার পূর্বপুরুষ? তার ভিতরের রক্তের স্মৃতি?
সে এক পা এগিয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ, চারপাশে দেয়াল গলে যেতে শুরু করে। টেবিল, লোকগুলো, সবকিছু কুয়াশায় মিলিয়ে যায়।
তারপর—এক কণ্ঠ ভেসে আসে...
“তুমি দেখছো, কারণ তুমি প্রস্তুত। কিন্তু এখনো সময় হয়নি প্রশ্ন করার। ঘুমের শেষেই শুরু হবে জাগরণ।”
অমি ধাক্কা খেয়ে উঠে বসে পড়ে। ঘরে তখনও অন্ধকার, বাতি নিভে গেছে।
তার হৃদপিণ্ড ধুকপুক করছে। সে জানে—এটা ছিল শুধুই শুরু।
এই ঘুম... এই ঘর... এবং এই পাপ—সব কিছু এখনো তার সামনে একে একে উন্মোচিত হবে।
---
১৫তম অধ্যায়: পাপের ঘুম
রাত গভীর হয়ে এসেছে। প্রথম ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর অমি কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকে। হৃদয়ের মধ্যে এক অজানা চাপা কান্না, মাথার ভেতর কুয়াশার মতো একটা স্মৃতি ঘুরপাক খায়। সে জানে—এই ঘর তাকে কিছু দেখাতে চায়, কিছু মনে করিয়ে দিতে চায়।
কিন্তু সে কেন?
সে আবার খাটে শুয়ে পড়ে। পাথরটা এইবার বুকের ওপর রাখে, যেন এটা তাকে রক্ষা করবে। চোখ দুটো ধীরে ধীরে আবার বন্ধ হয়ে আসে... যেন ঘুম নয়, কোনো চেনা সময়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া।
এইবার... দৃশ্যটা আলাদা।
সে একটি পুরনো ঘরের মধ্যে বসে আছে। ঘরটি খুব চেনা। কিন্তু এইবার সে আর "অমি" নয়—সে কারো আরেকজনের দেহে প্রবেশ করেছে। আয়নায় তার প্রতিচ্ছবি দেখে চমকে ওঠে। বয়স অনেক কম, মুখে এক ধরনের অপরাধের ছাপ।
ঘরের মধ্যে আর চারজন দাঁড়িয়ে আছে। তারা কেউ চিৎকার করছে, কেউ দরজার দিকে তাকিয়ে আছে আতঙ্কে, কেউ আবার কাঁদছে।
“আমরা ওকে এখানে ফেলে রাখব?” একজন বলে ওঠে। কণ্ঠ কাঁপছে।
“অন্য উপায় নেই,” আরেকজন সাড়া দেয়। “যদি আজ বলি, আমরা সবাই শেষ।”
হঠাৎ একজন মেয়ের কান্নার আওয়াজ শোনা যায় ঘরের কোণ থেকে।
একটি কিশোরী—তার মুখ চাপা দিয়ে ধরা হয়েছে। চোখে আতঙ্ক আর অনুরোধ। তার গায়ে একটা সাদা জামা, রক্ত লেগে আছে।
অমির শরীর জমে যায়।
সে দেখতে পায়—তারই হাত কাঁপছে, তার দেহের ভিতর সেই অপরাধের ভার। সে কিছু বলতে চায়, কিছু আটকাতে চায়... কিন্তু সে যেন বন্দি, শুধু দর্শক, শুধু অনুভব করতে পারছে সেই পাপের ভার।
“তুমি ছিলে তাদের একজন...”
একটি গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসে অন্ধকার থেকে।
“তোমাদের হাতে হয়েছিল সেই পাপ। আর সেই পাপের উত্তরাধিকারী এখন তুমিই।”
অমি চিৎকার করতে চায়, কিন্তু কণ্ঠ আটকে যায়। দৃশ্যটা ভেঙে যেতে শুরু করে—লোকগুলো মিলিয়ে যায়, মেয়েটির কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে আসে। ঘরের দেয়াল গলে অন্ধকারে ডুবে যায়।
অমি চমকে ঘুম ভাঙে।
সে ঘর্মাক্ত, নিঃশ্বাস ভারী। বুকের ওপর রাখা পাথরটা গরম হয়ে আছে।
এইবার আর কোনো সন্দেহ নেই।
সে শুধু রহস্য উন্মোচন করতে আসেনি, সে নিজেই সেই পাপের অংশ। হয় পূর্বজ, নয়তো আত্মার মধ্যকার কোনো ঐতিহাসিক দায়। অভিশাপ তার রক্তের ভেতরে।
সে জানে—এখন তাকে শুধু সত্য খুঁজে বের করতে হবে না... তাকে এই পাপ থেকে মুক্তির পথও খুঁজে বের করতে হবে।
চলবে-----
#বাংলাগল্প #পর্বগল্প #ফেসবুকগল্প
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Khilgaon
Dhaka
1219