Akasher Kotha
20/03/2026
আমার লাইফে সবচেয়ে বাস্তববাদী লোকজন দেখেছি নোয়াখালীর। ঢাকায় যখন মেসে ছিলাম তখন নোয়াখালীর দুইজন মানুষকে দেখেছি। এই দুইজনকে দেখেই আমার মোটামুটি ধারণা হয়েছে আর কী। যারা নোয়াখালীর লোকজনের সাথে মিশেছেন তারা একমত কিনা জানাবেন।
আমি যে দুইজনকে দেখেছি তাদের একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো, পাশাপাশি তেজগাঁও রেলস্টেশনে একটা মোবাইল মেরামতের দোকান চালাইতো। সর্বশেষ যখন আমি ঢাকা থেকে আসি তার এনবিআরে জব হয়।
আরেকজন ছিলেন আমাদের মেসের পাশে একটা কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতেন, ভালো ইংরেজি পড়াতেন। পরবর্তীতে তিনি একটা সরকারি স্কুলের শিক্ষক হিসেবে জব করছেন।
দ্বিতীয়জনকে দেখতাম ঈদের সময়ও বাড়ি যাইতেন না। আমরা সবাই যখন ঈদ উপলক্ষে বাড়ি চলে আসতাম, তিনি তখন মেসে থাকতেন। এমন তার খুব অভাব। তার পারিবারিক অবস্থা বেশ ভালো। কিন্তু তিনি বলতেন একদিনের জন্য এত খরচ করে বাড়ি যাওয়ার মানে হয় না। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের সময়।
আরেকটা কথা বলতেন যে তাদের এলাকার লোকজন নাকি ঘনঘন বাড়ি যাওয়া পছন্দ করে না। কেউ ঘনঘন বাড়ি গেলে নাকি তাকে কথা শোনায়। আবার যারা এলাকায় বেকার বসে থাকে তাদেরও।
নোয়াখালীর লোকজনের আরেকটা বিষয় দেখেছি সেটা হলো তারা ক্যারিয়ার নিয়ে খুব সচেতন। অর্থাৎ তারা যেভাবে হোক একটা ইনকাম সোর্স বের করবে। ছোটখাটো হলেও কোনো একটা কাজ করবে।
আবার একটা ঘটনা বলেছিলেন যে তার পরিচিত একজন লোক ৬-৭ বছর পর বিদেশ থেকে তিন মাসের ছুটিতে ঢাকা এসেছিলেন। ঢাকায় ড্রাইভিং শিখে ঢাকা থেকেই ব্যাক করেছেন, গ্রামে একবারও যাননি।
হয়তো অধিকাংশ না, তবে নোয়াখালী অঞ্চলের লোকজনের ভেতরে কোমলতা হয়তো কম থাকতে পারে কিন্তু তারা বাস্তববাদী।
অপরদিকে আমরা যারা উত্তরবঙ্গের, তারা প্রচণ্ড ঘরমুখো। আমাদের ভেতরে দরদ বেশি, আমাদের আবেগ বেশী। আমরা ঈদ করার জন্য সবচেয়ে কষ্ট করে গ্রামে ফিরি। আমরা বেশিদিন বাড়ির বাইরে থাকতে পারি না। আমরা ঘনঘন বাড়ি আসি। এবং আমাদের এই অঞ্চলে পারিবারিক বন্ধন সম্ভবত তুলনামূলকভাবে বেশী।
ছবিটা মাছরাঙা টিভির একটা ক্লিপ থেকে নেওয়া। বৃষ্টিতে ভিজে ছেলেটা একদম কাঁপতেছে। আমি জানি না এই ট্রেনের গন্তব্য কোথায় কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে এটা উত্তরবঙ্গেই যাচ্ছে।
#বাড়িফেরা #ঈদযাত্রা #ঈদুলফিতর
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Bashundhara R/A
Dhaka
1229