Prokoron.Com

Prokoron.Com

Share

Photos from Prokoron.Com's post 23/08/2024

আমাদের পররাষ্ট্রনীতি অনেক দূর্বল। সেজন্যই শক্ত করে আজ অব্দি কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি এই দেশ। আশা করি পররাষ্ট্রনীতি শক্ত এবং মজবুত করে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ব্যাপার তুলে ধরতে হবে কঠিন ভাবে।
বড় লিখা অনেকেই পড়তে চায়না। যারা পড়বে তারা বুঝবে। 🙂
👇
প্রথমে জানি বাঁধ কি এবং কেন দেয়া হয়?
বাঁধ হচ্ছে একটি দরজা সম্বলিত দেয়াল।
নদীতে বাঁধ বলতে এটাই বুঝবো একটা প্রবাহমান নদীতে তালাবন্ধ দরজা সহ দেয়াল তুলে দেয়া হয়েছে।
যখন দরজা খোলা হবে না , জল অন্যদিকে আসবে না। যখন খোলা হবে হুড়মুড়িয়ে ছুটে আসবে।
কেন বাঁধ দেয়া হয় ?
যাতে কেউ জল প্রিসার্ভ বা সংরক্ষণ করতে পারে। এই সংরক্ষিত জল দিয়ে তারা পরে সেচ প্রকল্প করতে পারে। কারণ শুষ্ক মৌসুমে অনেক দূরের এলাকা গুলো যদি জল না পায় তখন এই সরক্ষিত জল ব্যবহার করা যেতে পারে।

এবার আসি তিস্তা বাঁধ নিয়ে….

তিস্তা নদীটা ভারত এবং বাংলাদেশ উভয় দেশেই প্রবাহমান। একটা অভিন্ন নদী । বাচারা নদী আপনাদের মত রীদনীতি বোঝে না ।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে ঢুকেছে এই নদী। ভারতের সিকিম থেকে উৎপন্ন হয়ে পশ্চিমবঙ্গ ছুঁয়ে বাংলাদেশে পড়েছে তিস্তা।
সেই নদীর ওপর বাঁধ দিয়েছে ভারত। বাঁধের নাম তিস্তা বাঁধ বা তিস্তা ড্যাম বা ব্যারাজ।পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার গজলডোবায় তিস্তা নদীর ওপর তৈরি হয়েছে ২৮৫ ফুট উঁচু এই বাঁধ।
বাঁধস্থলে বর্ষা মৌসুমে পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে কম। চর পড়ে যায়। এই বাঁধে পানি আটকে রেখে সেই পানি শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
তখন বাংলাদেশের ১২ টা বেজে যায়। কারণ সব পানি তো তারা রেখেই দিয়েছে। বাংলাদেশে খরা এর সৃষ্টি হয় , সেচ এর জন্য জমিগুলোতে পানি পাওয়া যায় না। উত্তরবঙ্গের অনেক অনেক কষ্ট হয়।
আবার বর্ষাকালে ঠিক উল্টা , যেহেতু বর্ষাকালে সরক্ষন এর বেশী তারা রাখতে চায় না, তারা অতিরিক্ত জলধারায় বন্যা হবার ভয়ে দরজা খুলে দেয় , বন্যা তখন উল্টা বাংলাদেশের জন্য অবধারিত হয়।
নদীকে স্বাভাবিক ভাবে প্রবাহিত হতে দিলে হয়ত দুই দেশ ই কম পেতো কিংবা দুই দেশ ই বেশি পেতো কিন্তু তাও
সেটাকে natural বা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম বলা যেত। And that would have been Fair .

কিন্তু এভাবে বাঁধ দিয়ে সব জল নিজের করে নেয়াটা আন্তর্জাতিক প্রতিবেশী চুক্তি কে লঙ্ঘন করা।

অনেকটা এমন ……আপনার থেকে শক্তিশালী কোনো সহচর , যেদিন তার ক্ষিধে আপনার সারাদিনের একমাত্র খাবারটি ছিনিয়ে নিবে আবার যেদিন সে অন্য কোথাও খেয়ে এসেছে , সেদিন সে তার সব খাবার আপনার পেট ভরা থাকলেও ঠেসে ঠেসে ঢুকাবে। এটা অন্যায়।
ভারত এই অন্যায় করছে কেন ???

সম্ভবত এটার উত্তরে ভারত বলবে আমাদের ইচ্ছা , আমরা আমাদের স্থানে বাঁধ বানিয়েছি , আমরা আমাদের দেশের কথা ভাববো , তোমাদের কি ??

এই টা অন্যায় কথা , অমানবিক কথা , স্বার্থপরের মত ভাবনা।
এই যে ভালো সহচর হবার দৃষ্টান্ত না রাখা সেটা কে প্রতিহিত করতে হলে , বিশ্বদরবারে নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি শক্ত করতে হবে।
সব দেশ নিজেদের স্বার্থ দেখবে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন অন্যরাষ্ট্র অন্যায় করে তাকে বিরোধ টাও স্মার্টলি করতে হয় , বিশ্বের দরবারে নেটওয়ার্কিং বাড়াতে হয় , বড় বড় অভিভাবকদের কাছে বিচার ঠিকভাবে জানতে হয়।

কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের স্বার্থ দেখতে দেখতে সেগুলো ভুলেই যায় বা ইচ্ছে করে ভুলে থাকে।

বুয়েটের ড. আইনুন নিশাত স্যার বলেছেন আইনুন নিশাত বলছেন, “আল্টিমেটলিতো ভারত থেকে কতটা পানি আসবে সেটার সিদ্ধান্ত হতে হবে। এখন পর্যন্ত ভারত গায়ের জোরে আমাকে শূন্য দিচ্ছে। এটাতো আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারে না। কাজেই বণ্টনের ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোনো ব্যবস্থাপনার মহাপরিকল্পনা আমার কাছে অবাস্তব মনে হয়।”
মজার কথা হচ্ছে , শুষ্ক মৌসুমে ৫০০০ কিউসেক চেয়েছিলো , তারা দিচ্ছে ১২০০ কিউসেক এর মত। আর বর্ষাকালে যখন তখন গেট খুলে দিচ্ছে , গেট খুলার সময় টাও নির্ধারণ করছে না। এটা একটা আন্তর্জাতিক অপরাধ এর মত।

ভারত এটা করছে কারণ , আমরা তাদের কে করতে দিয়েছি আমাদের কূটনীতিক দুর্বলতার কারণে।

আমরা যেদিন মুখস্ত বিদ্যা কমিয়ে, এবং কাগজে কলমে স্মার্ট কম হয়ে যখন ব্যবহারিক স্মার্ট কিংবা স্ট্রিট স্মার্ট এবং কিছুটা আত্মরক্ষাকারী বুদ্ধি দিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করবো , সেদিন অন্যায় করতে পারবে না।
উল্টাপাল্টা জায়গায় সামগ্রিক পরিবেশ এবং সামগ্রিক পৃথিবীর কথা না চিন্তা করে বাঁধ বসানো টাই অন্যায়। গেইট খোলা না খোলা তো পরের কথা।

এবার যেমন ভারতের ত্রিপুরা আর বাংলাদেশে প্রবাহিত অভিন্ন নদী গোমতী নদীর বাঁধ ডম্বুর গেট খোলাতে , ফেণী , নোয়াখালী আর কুমিল্লাতে বন্যা। খুব খারাপ হলো ।

মনেপ্রানে চাই,
বাংলাদেশের পররাস্ট্র কূটনীতি অনেক মেধাবী হবে, অনেক ক্ষুরধার হবে ভবিষ্যতে , চুক্তিটা আমাদের পক্ষে আনার জন্য ।

এবার ফেসবুকে আঙুলের জোরে কম্পিউটারের কীবোর্ড বা মোবাইল স্ক্রিন ভাঙা কিছু গায়েবি বিজ্ঞদের সেই মন্তব্য -
“হিন্দুরা তোরা চিল্লাস না কেন”

এক্সকিউজ মি স্যার অর ম্যাম ,
হিন্দুরা বাংলাদেশের কোন জায়গায় গিয়ে চিল্লাইসে ভারত ভালো ভারত ভালো ?

ভাই নিজেদের জীবন বাঁচানোর জন্য আর্তি জানাইসে , এর সাথে ভারত মিশাইতেসেন কেন ?? বাংলাদেশের হিন্দুরা তো বাংলাদেশেই থাকতে চাচ্ছে , তাদের বাংলাদেশে থাকার সাথে ভারতের সম্পর্ক কি ???
কিছু হইলেই ভারত = বাংলাদেশের হিন্দু ভাবা বাদ দেন।

লেখাপড়া কম জানলে , বই কিনেন গুগল করেন , পড়তে বসেন। তারপর রাস্তায় বের হন , গ্রামে গঞ্জে যান -মানুষের সাথে কথা বলেন , আসল চিত্র কি বোঝার জন্য।

নিজের অজ্ঞতা আরো প্রকাশ করার জন্য মানুষের কথা কান দিয়ে শুনে তারপর "কান নিয়েছে চিলে " পোস্টাইলে কি আর করতে পারি !!
——————
জ্ঞান টা বাড়ান।
——————
©️ ধীমান
২১শে আগস্ট, ২০২৪

Photos from Prokoron.Com's post 28/05/2023

আমাদের ত্বকের ওপরের অংশে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। ইংরেজিতে সেগুলোকে 'পোরস' বলে।

সাধারণভাবে এগুলো চোখে পড়ে না। তবে যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত এবং প্রচুর সিবাম উৎপন্ন হয়, তাদের পোরস বাইরে থেকে দেখা যায়।

তাছাড়া খাওয়াদাওয়া যদি ঠিকঠাক না হয়, তা হলে সমস্যা বাড়ে। ত্বক আরও বেশি করে সিবাম তৈরি করতে আরম্ভ করে, পোর ক্রমেই বড় হয়।

বাড়তি সিবাম আর ধুলাময়লা জমে তৈরি হয় ব্ল্যাকহেডস। বাড়ে ব্রণ, ফুসকুড়ির মতো সমস্যাও। এভাবে বেশি দিন চললে ত্বক আলগা হতে আরম্ভ করে। বয়সের ছাপ তাড়াতাড়ি পড়ে।

চলুন, জেনে নিন এই সমস্যার সমাধান কীভাবে মিলবে।

অ্যালোভেরা জেল

দিনে দুই বেলা তাজা অ্যালোভেরার পেস্ট দিয়ে মুখে ম্যাসাজ করুন। লাগিয়ে রেখে দিন মিনিট দশেক। তাতে ত্বক আর্দ্র থাকার পাশাপাশি পোরসের আকারও ছোট থাকবে। দশ মিনিট পর আপনি যখন মাস্ক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন, তখন সরে যাবে সব ময়লার পরত।

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার

সম পরিমাণ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার আর ফিল্টার করা পানির মিশ্রণ তুলায় করে লাগিয়ে নিন মুখে। তারপর স্বাভাবিকভাবে শুকাতে দিন। নিয়মিত টোনার হিসেবে এটি ব্যবহার করলে ত্বকের পোরস ক্রমেই ছোট হতে আরম্ভ করবে।

ডিমের সাদা অংশের মাস্ক

ডিমের সাদা অংশ, ওটমিলের গুঁড়া, আর সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে নিন। তারপর তা মুখে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন মিনিট দশেক। শুকিয়ে গেলে মাস্ক তুলে নিন চক্রাকারে হাত ঘুরিয়ে। তার পর লাগান ময়েশ্চারাইজার। ক্রমেই ত্বকের টানটান ভাব ফিরে আসবে।

বেসন, হলুদ আর দইয়ের প্যাক

সবটা মিশিয়ে প্যাক হিসেবে লাগান। শুকিয়ে গেলে তুলে ফেলুন। কিছুদিনের মধ্যে পোরস ছোট হওয়ার পাশাপাশি ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতাও ফিরে আসবে।

কলার খোসা

কলা খেয়ে খোসাটা ফেলে দেবেন না। তা ভালো করে ধুয়ে নিয়ে মুখে ঘষুন আলতো হাতে। তারপর পানির ঝাপ্টা দিয়ে ধুয়ে নিন এবং ক্রিম লাগান। এক দিন পরপর এই পদ্ধতি ট্রাই করলে ত্বকের সমস্যা কমবে, ব্রণ হবে না, ছোট হবে পোরস।

23/11/2022

কিছুদিন ধরে কটনবাড খুব প্রিয় হয়ে উঠেছে আপনার। কোন ড্রয়ারে, কোথায় রাখা আছে, ভালোই জানা হয়ে গেছে। কারণ, কান চুলকায়। এমনটি হয় অনেকেরই। অসুখটির নাম অটোমাইকোসিস।
কেন হয়
* রোগটা সেসব দেশেই বেশি হয়, যেখানকার আবহাওয়া উষ্ণ ও আর্দ্র। যেমন—বাংলাদেশ।
* রোগটা তাঁদেরই ভেতর বেশি হয়, যাঁরা কোনো কারণবশত দীর্ঘ সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করছেন।
*যাঁরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অথবা যাঁদের রয়েছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব।
কারা দায়ী
চুলকানি হয় ছত্রাকজাতীয় জীবাণু থেকে। এরা হচ্ছে উদ্ভিদ। দেহের অন্যত্র এটি থেকে দাদসহ নানা রোগ হয়। এদের মধ্যে অ্যাসপারজিলাস নাইজার দায়ী ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ এবং ক্যানডিডা অ্যালবিকানস দায়ী ১০ থেকে ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে। এ ছাড়া ডারমাটোফাইট ও একটিনোমাইসেসের মাধ্যমেও কখনো কখনো রোগটি হতে পারে।
উপসর্গ
* কান বন্ধ হয়ে আছে—এমন উপলব্ধি;
* কানে অস্বস্তি;
* কান থেকে ধূসর, সবুজ, হলুদ বা সাদা রঙের নিঃসরণ বেরিয়ে আসতে পারে;
* জমা হতে পারে ভেজা খবরের কাগজের মতো ময়লা।
চিকিৎসা
কানের ময়লা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।
ছত্রাকবিনাশী ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। যেমন—
নাইস্টাটিন ক্রিম, ক্লোট্রিমাজল, ইকোনাজল ও জেনশিয়ান ভায়োলেট।
ওষুধগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে হাইড্রোকর্টিসন যুক্ত থাকলে তা ড্রাগের প্রতি টিস্যুর অতিসংবেদনশীলতা রোধ করে এবং কানে জ্বালা করার ভয় কমায়। ক্রিম বা ফোঁটা আকারে এগুলো ব্যবহার করা যায়। দুই সপ্তাহ ধরে ব্যবহার করলে রোগটি ফিরে আসার আশঙ্কা কমে যায়।
অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় ওষুধ।
এ ছাড়া কানে যদি ব্যথা শুরু হয়, তা হলে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসাও করণীয় হয়ে পড়ে।
খুব সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা না করলে কানের পর্দায় অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। অটোমাইকোসিস রোগটি বহিঃকর্ণের। কিন্তু কানপাকা রোগীদের অর্থাৎ, মধ্যকর্ণের প্রদাহের কারণে যাদের কানের পর্দায় ছিদ্র থাকে, তাদের কানেও মিশ্র সংক্রমণ হতে পারে।
প্রতিরোধ
* চাই সাধারণ স্বাস্থ্যকুশলতা উন্নয়নের প্রয়াস এবং ভিটামিন ও পুষ্টির মান বাড়ানো;
* মাঝেমধ্যে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দেখে নেওয়া;
* ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা;
* নিরুৎসাহিত করা চাই কান চুলকানোয় দেশলাইয়ের কাঠি, মোড়ানো রুমাল, মুরগির পালক, চাবি ও কটনবাডের ব্যবহার।

18/11/2022

প্রত্যেক গর্ভবতী মা-ই নয় মাসের সুস্থ-স্বাভাবিক গর্ভাবস্থা প্রত্যাশা করেন। সুস্থ গর্ভাবস্থা মানে সুস্থ মা ও সুস্থ শিশু। এ জন্য গর্ভাবস্থায় কিছু নিয়ম মেনে চলা অবশ্যই প্রয়োজন।
মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য গর্ভবতী মায়ের ‘প্রসবপূর্ব যত্ন’ করাতে হবে নিয়মিত। এ জন্য আদর্শ হচ্ছে, গর্ভাবস্থায় মোট ১৪ বার যেতে হবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স বা অন্য কোনো অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে। প্রথম সাত মাসে প্রতি মাসে একবার করে মোট সাতবার (প্রতি চার সপ্তাহে একবার), অষ্টম মাসে প্রতি দুই সপ্তাহে একবার করে মোট দুবার এবং পরে সন্তান প্রসব হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একবার করে মোট পাঁচবার (সর্বমোট এই ১৪ বার যাওয়াটা আদর্শ)। কিন্তু এটা অনেক সময়ই সম্ভব হয়ে ওঠে না। যদি তা সম্ভব না হয়, তা হলে কমপক্ষে তিনবার যেতেই হবে। প্রথম ২০ সপ্তাহের মধ্যে একবার, ৩২ সপ্তাহের সময় একবার এবং ৩৬ সপ্তাহের সময় একবার।
চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীকে শেষ মাসিকের ইতিহাস জানাতে হবে। শেষ মাসিকের তারিখ থেকেই তাঁরা সন্তান হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেন। পূর্ববর্তী গর্ভাবস্থা বা প্রসবকালীন ইতিহাসও বলতে হবে। সে হিসেবে স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব হবে, না কোনো অপারেশনের প্রয়োজন পড়বে; হাসপাতালে হবে, না বাড়িতে হবে, তার সিদ্ধান্ত নেবেন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী। ধনুষ্টংকারের টিকা নেওয়া আছে কি না, সে খবরও দিতে হবে। টিকা না নিয়ে থাকলে নিতে হবে।
শরীরের উচ্চতা ও ওজন ঠিক আছে কি না, রক্তশূন্যতা আছে কি না, উচ্চ রক্তচাপ আছে কি না-সবই দেখা হয় ‘প্রসবপূর্ব যত্ন’তে। হাতে, পায়ে বা শরীরের অন্যান্য স্থানে পানি এসেছে কি না (প্রি-এক্লাম্পশিয়া), তা-ও পরীক্ষা করে দেখা হয় গর্ভাবস্থায়।
রক্তের গ্রুপ জেনে রাখা জরুরি। সিফিলিস, ডায়াবেটিস আছে কি না, তা আগেভাগেই পরীক্ষা করিয়ে নিলে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়। গর্ভের ভ্রূণ ঠিকমতো বাড়ছে কি না, ভ্রূণের কোনো শারীরিক ত্রুটি আছে কি না, জরায়ুর ভেতর পানির পরিমাণ ঠিক আছে কি না, জরায়ুর ভেতর ফুলের অবস্থান কোথায়, এর অবস্থাই বা কেমন ইত্যাদি দেখার জন্য আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে হয়।
খাবারে থাকতে হবে একটু বাড়তি ক্যালরি। গর্ভের সন্তানের জন্য বাড়তি খাবার। কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়, সে জন্য খাবারে থাকতে হবে পর্যাপ্ত আঁশ। খাবারের আঁশ ডায়াবেটিসও প্রতিরোধ করবে। খাবারে থাকতে হবে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ লবণ। শাকসবজি, ফল-মূলে পাওয়া যাবে এগুলো। মাছ খাওয়া ভালো। মাছে আছে ওমেগা ৩ মেদাম্ল, যা শিশুর বিকাশে সহায়ক। যথেষ্ট পানিও পান করতে হবে প্রতিদিন।
একেবারে শুয়ে-বসে থাকাও নয়, আবার দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনিও নয়। কাজের ফাঁকে চাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম।
দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজ চালিয়ে যেতে হবে স্বাভাবিকভাবেই। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় হাঁটতে হবে। সপ্তাহে পাঁচ দিন কমপক্ষে।
দিনে রাতে সাত-আট ঘণ্টা। দুপুরে খাওয়ার পর হালকা ঘুম।
সুতির ঢিলেঢালা পোশাকে ত্বক ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ থাকবে স্বাভাবিক। হাই হিল জুতো স্বাস্থ্যকর নয়। ফ্ল্যাট চটি ভালো। মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতা বজায় থাকবে। পিঠে, কোমরে ও পায়ের পেশিতে ব্যথা করবে না।
গর্ভাবস্থায় ধূমপান করলে গর্ভের সন্তান কম ওজনের হয়। পরোক্ষ ধূমপানেও একই ক্ষতি হয়। সুতরাং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় গর্ভের সন্তানের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হতে পারে। তাই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা যাবে না।
বিশেষ করে, গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস দিনের শুরুতে বমি বমি ভাব হয় বা বমি হয়। এ সমস্যা হলে অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাবার খেতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই বিস্কুট, টোস্ট-জাতীয় শুকনো কিছু খাবার খেলেও উপকার পাওয়া যায়। তৈলাক্ত খাবার কম খেলেও উপকার পাওয়া যাবে। বমি খুব বেশি হলে বা সমস্যাটা তিন মাসের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
গর্ভকালীন এসিডিটির জন্যও এ সমস্যাটা হতে পারে। এসিডিটি বা বুক জ্বালা হলেও অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাবার খেতে হবে। তৈলাক্ত খাবার, ভাজা-পোড়া খাবার ও বেশি মসলাযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। একসঙ্গে বেশি খাবার না খেলেও উপকার পাওয়া যায়। খাওয়ার সময় পানি কম পান করতে হবে। দুই খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। খাওয়ার পরপরই উপুড় হওয়া বা বিছানায় শোয়া উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শমতো অ্যান্টাসিড-জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
গর্ভকালীন কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয়, সে জন্য প্রচুর পানি পান করতে হবে। দৈনিক অন্তত আট গ্লাস। আঁশ আছে এ রকম খাবার, যেমন শাকসবজি, ফলমূল, বিচি-জাতীয় খাবার, ডাল, গমের আটা ইত্যাদি খেতে হবে বেশি বেশি।

Want your practice to be the top-listed Clinic in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address


Road-10, DIT Project, Merul Badda
Dhaka
1212