Ahm Riduan

Ahm Riduan

Share

06/09/2021

ফোনটা হঠাৎ ক্রিং ক্রিং করে বেজে উঠলো। রাত প্রায় দু'টো। পুরো বাড়ির ডাইনিং রুমটা মাঝখান বরাবর। আর ডাইনিং এর পাশের দেয়ালেই ঝুলে আছে ফোনটা। বেজেই চলেছে একনাগাড়ে। সাত্তার সাহেব নিত্য রাতের অভ্যাস মত ব্যালকনিতে সাহিত্যের পাতা উল্টাতে উল্টাতে একপাশে মাথা হেলিয়ে কখন যে অন্য রাজ্যে পার হয়ে গেলেন। এই রুম ছাড়া বাড়ির সব রুমের কপাট বাইরে থেকে বন্ধ। এত বড় বাড়ি, সুনশান নিরবতা। দূরে ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা আওয়াজ, আরো দূরে কয়েকটা কুকুরের ঘেউ ঘেউ চিৎকার মধ্যরাতের গ্রামীন আবহের নিষ্কলংক প্রতিচ্ছবি এঁকে দিচ্ছে। ডাইনিং এর একপাশেই বিছানা করে রজনী পার করে বাড়ির বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার জমির। প্রায় ষাটের কাছাকাছি বয়স। কানের সমস্যাটা ইদানিং আরো বেড়েছে। সাথে চোখেরও। দীর্ঘদিনের পথযাত্রা তাই সাত্তার সাহেব কখনো ভিন্ন কিছু ভাবেন নি। আর তাই জমিরের আজো এই বাড়িতে পড়ে থাকা। হাত থেকে বইটি পড়ে যেতেই চোখ খোললেন। মাঝরাতের নিরবতায় যান্ত্রিক আওয়াজটা বড্ড কানে লাগছে। চশমা চোখেই লাগানো ছিলো। আস্তে আস্তে হেঁটে ফোনের কাছে আসতে আসতে ভাবতে লাগলেন এত রাতে কার বিপদ হলো? পেরিয়ে আসা সময়গুলোতো সাত্তার সাহেব শুধু প্রয়োজনেই ডাক পেয়েছেন। জগৎ বাসীর যেন বিপদের কূলে তার নামটাই ভেসে উঠে এই বিশ্বাস পোক্ত ভাবেই জন্মে গেছে। এইতো তার কলিজার টুকরো তিন পুত্র, কত উজ্জ্বল দৃষ্টান্তই না দিলো তাকে। বাড়ির বদ্ধ প্রত্যেকটা কপাট এক একটা দীর্ঘশ্বাস। জমির টিকে থাকার আরো একটা কারন হয়তো এই যে, এই বাড়ির নাঁড়ি নক্ষত্রের ইতিহাসের সাক্ষী সে। যদি সাহিত্যিক প্রতিভা থাকতো, কিংবা কলম শক্তির জোর তাহলে হয়তো শ্রেষ্ঠ ট্রাজিডিক লেখনির মালিক হতো সে। আস্তে ফোনটা উঠিয়ে কানে লাগালেন। ওপার থেকে গম্ভীর স্বরে ভেসে এলো,

-সাত্তার সাহেব বলছেন?
সাত্তার- জ্বি। কিন্তু আপনি...
ওপাশ থেকে- আমি রামপুরা থানা থেকে বলছিলাম।

এরপর তিনজন তাগড়া যুবকের একসাথে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় একই সময়ে মৃত্যর খবর শোনালো। সাত্তার সাহেব হঠাৎ করে খুব হালকা অনুভব করলেন। জমানো এক পাথার পরিমান অভিমান যেন নিমিষেই গলে পানি হয়ে চোখের পাতা ভিজিয়ে দিয়ে গেলো।

-হ্যালো হ্যালো, শোনতে পাচ্ছেন?
-লাশগুলো পাঠিয়ে দিন।

হাত থেকে ফোনটা গলে পড়ে গেলো। ঝাপসা চোখে দূরে ঝুলানো রমনীর স্থিরচিত্রের পানে তাকিয়ে স্বগত ভেজা স্বরে বলেই ফেললেন, "তোমার কথা রাখতে পারলাম না। ওদের মাফ করে দিলাম। আমায় ক্ষমা করো।"
জমিরের ঘুম ভাঙতেই দেখলো পাশেই তার মালিক মেঝেতে পড়ে আছেন। বাইরে একটা অ্যাম্বলেন্স এসে থামলো। অভিজ্ঞতা থেকে বুঝলো সম্মুখের দেহখানা আর কখনো উঠে দাঁড়াবে না।
আর্তনাদের চেয়ে চাপা কান্নায় কষ্ট বেশি। বঞ্চিত বাবা মায়ের কবরের পাশেই হতভাগা সন্তানদের শুইয়ে দিলো বিশ্বস্ত জমির। আর্তনাদে ভরা হৃদয়ের সমস্ত পাতা। চোখের মণিতে ঘুরতে থাকে সন্তানের নিষ্ঠুরতায় ধুঁকতে থাকা এক পরিশ্রান্ত বাবার প্রতিচ্ছবি।

#ছোটগল্প

04/09/2021

দ্রুম তুমি কৃতজ্ঞ থেকো মৃত্তিকার প্রতি। প্রতিটি প্রস্ফুটিত কলির ছাঁয়া জুড়ে দ্বিতীয় জীবনের সমাহার। নিকেশ যেমন মিহির বিহীন এক নির্জীব বৃত্ত, স্বরিৎ এর শোক কাব্যও তেমনি গিলে নেয় অম্বুধি। নৃপতির আসন ভার্যার চেষ্টা বিহীন অর্জিত হয়নি কভু। তোমার নিকষ ক্ষণদা ভেদকারী দীপ্তির প্রতি আক্রোশ রেখোনা৷ সোম, একপৃষ্ঠে তমস্রা তবুও অন্য লোচন প্রভা ছড়ায়। ক্ষিতির স্পর্ষেই মহীরূহ মস্তক উঠিয়ে দাঁড়ায়। জীবন, লোহিত মওজের করাল গ্রাস। একাকী কভু তুমি মাড়াতেনা এই পথ, হাসতেনা কখনো, জীবনের রং শুধু শোকের পাপঁড়ি নয়, নয় একাকিত্বের অক্টোপাশ। তুমিও তাই কৃতজ্ঞ থেকো সব স্পর্শময় প্রাণের প্রতি, যারা তোমার শোক নয়, সুখের নৃ।

21/05/2020

14/07/2021

তোমরা প্রতিদিন জান্নাতের সুধা পান করছো,
তোমাদের মায়েরা জন্ম দেয় এক একজন সাচ্চা মুজাহিদ।
আমাদের মায়েরা তো চাঁদ মামার গল্প,
আর ডাইনী বুড়ি শুনিয়ে ঘুম পাড়ায়।
আমাদের রক্ত তাই টগবগিয়ে উঠেনা,
কলিজায় আঘাতের পরেও আমরা বিবেকশূন্য।
আমরা প্রতিনিয়ত নির্জীব থেকে
আরো নিষ্প্রানের পথে ধাবমান।

মসজিদুল আকসা (আংশিক)
-এ এইচ এম রিদুয়ান

Want your business to be the top-listed Media Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Mogbazar
Dhaka
1217