STORY PEDIA
আজকে বাসার পাশে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে এক বৃদ্ধা মহিলা 'দাড়ান একটু, দাড়ান' বলে চিৎকার করতে করতে আসতেছিল। আমি পিছনে ফিরে তাকাতেই উনি একেবারে আমার কাছাকাছি এসে পড়েছে। কোলে উনার একটি বাচ্চা নিয়ে দৌড়ে আসছিলেন। প্রথমে আমার গালে হাত বুলাতে লাগলো, তারপর আমার হাত ধরে বললো: 'কেমন আসেন? চিনসেন আমারে? আমগোরে খাওয়ন-কাপড়-কম্বল দিয়া আহেন যে।'
প্রথমে একটু অস্বস্তি লাগলেও কিছুক্ষণেই একটু চিনতে লাগলাম। বললাম: আপনি কামরাঙ্গীর চড়ের? তিনি বললো: 'হুম। আপনে আবার কবে যাইবেন? আপনার জন্য নিজের হাতে রান্না কইরা রাখমু। কবে যাইবেন আবার কন। ওইবার ঈদেও বলসিলাম। আহেন নাই। এইবার ঈদেও আসবেন। আমার বাচ্চাটা সারাদিন আপনার কথা কয়। আপনে কোলে নিয়া পড়াইতেন। এইটা আরেকটা বাচ্চা হইসে। মেডিকেলে নিয়া আইছিলাম।
"আপনি একটু আমার বাচ্চাটারে কোলে নেন, আপনার হাত ওর মাথায় রাখেন! আপনার একটু ছোঁয়া আমার বাচ্চাটারে দেন। আপনার হাত দিয়া একটু ধরেন। তাহলে আপনার মতো হইবো একদিন।"
বৃদ্ধার কথা শুনে অজান্তেই চোখ থেকে পানি এসে পড়েছিল। বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে বললাম: 'আপনার বাচ্চা আমার চেয়ে অনেক বড় হবে। আমি কিছুই না। আমি আপনার বাসায় আসবো। আপনার হাতের রান্নাও খাবো। রান্না করে রাখবেন।'
© Yasin U. Emon Vhi❤
11/04/2020
💔🙂RED EYE🙂💔
Writer : STORY PEDIA
part: 03
[মাফ করবেন গল্পের আগের পার্টে একটু ভূল হয়ে গিয়েছে। এই পার্টের ঘটনা গুলো আমি শুনেছিলাম না তাই এই পার্টটি দিতেও দেড়ি হয়ে গিয়েছে এবং আগের পার্টের শেষে একটু ভূল হয়ে গিয়েছে তাই একটু পেছন থেকে বলছি আপনাদের সুবিধার জন্য ]
দেখতে দেখতে শবে-বরাত চলে এলো সেই দিন তখন রাত দেড়টা বাজে হঠাৎ আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সেই একই কথা আবার বলছে শুনে আমার মেজাজ এইবার অতিরিক্ত খারাপ হয়ে গেলো। এইবার আর কিছু না ভেবেই ওর বাসার দিকে রওনা দিলাম। যেতে যেতে রাত দু'টা নাগাত বেজে গেলো। ওর বাড়ির সামনে যেয়ে দাড়ানো মাত্র ভেতর থেকে যা শুনতে পেলাম তাতে আমার পায়ের নিচের মাটি কেড়ে নিয়েছিলো!
অনিতার মা : না তুই একটা মেয়ে হয়ে রাত ১০ টা পর্যন্ত বাইরে কিভাবে থাকতে পারলি? আর কেনোই বা ছিলি? কার সাথে ছিলি হ্যা এতো রাত পর্যন্ত?
এইভাবে ওর বাড়ির লোক সবাই ওকে বকা ঝকা করছে। আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না কি হতে পারে! মনটা প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেলো। কি করবো কিছু বুঝতে পারছিনা। আবার ফ্রেন্ডের কাছে গেলাম সবাই মিলে আড্ডা দিতে। তখন প্রায় আড়াইটার মতো বাজে সবাই মিলে আবার নদীর ধারে বসলাম আড্ডা দেওয়ার জন্য। তখন এক ফ্রেন্ড বলল যে চল নদীর ঐ পারে গিয়ে বসি। সামনে নদীর পারে একটি নৌকাও ছিলো তাই আমি আর ও হাটা ধরলাম। আর বাকী বন্ধুরা যখন উঠে আসবে ঠিক তখনই তাদের সামনে বৃদ্ধ এক চাচা এসে দাড়ায় আর তাদের বলে,
চাচা: বাবা তোমরা কোথায় যাচ্ছো?
এক বন্ধু: এইতো নদীর ঐপারে যাচ্ছি সবাই কেনো?
চাচা: ঐ নৌকায় যাবা নাকি?
বন্ধু: হ্যা কেনো?
চাচা: দেখো বাবা ঐ নৌকায় কেউ উঠোনা এতো রাতে না হলে তোমাদের সবার সাথে খারাপ কিছু হয়ে যেতে পারে তাই আর এইদিকে যেয়ো না বাসায় চলে যাও বাবা।
তখন সবাই ছোট ছিলো এইজন্য একটু ভয় পেয়ে গেলো! কেউ যেতে চাচ্ছিলো না। আমার মন মেজাজ প্রচন্ড খারাপ থাকায় তাদের নিষেধ করা সত্ত্বেও নৌকায় উঠে বসি। এই দেখে চাচা আমাকে ডাক দেয় আমি উঠে তার কাছে গেলে সে বলে,
চাচা: তোমাকে বার বার বারন করা সত্ত্বেও শুনলে না অবুঝের মতো একটা ভূল করে বসলে। এখন যেইটা বলছি মন দিয়ে শুনো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মসজিদে ১০১ টাকা দিবা আর ১০০ টাকার সাথে ১ টাকার সোনালী কয়েন দিবা। আর যদি না দাও তাহলে তোমার সাথে খুব খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে যা তুমি কখনও কল্পনাও করতে পারবে না আর এর জন্য দায়ী একমাত্র তুমিই হবে।
আমি আর অত কিছু মাথায় নিয়নি হু হু করে চলে আশার জন্য যেই না দুই ধাপ দিলাম পেছন ঘুড়ে দেখি চাচা নাই! আশেপাশে ভালো করে দেখলাম দেখি নাহ কোথাও নাই আর আশেপাশে তো পুরাই ফাকা যেখানেই যাক চোখে তো পরবে কিন্তু একেবারে অদৃশ্য হয়ে গেলো। আমি আর এই বিষয়টি নিয়ে বেশি কিছু ভাবলাম না। এমনই তো মনের অবস্থা খারাপ আর কিছু ভালো লাগছিলো না। বাসায় চলে গেলাম এইভাবে বেশ কিছুদিন কেটে গেলো।একদিন হঠাৎ রাতে দেড়ি করে বাসায় ফিরছিলাম তো বড় রাস্তা থেকে নেমে গোলির ভেতর মাঝ পথে যেতেই দেখি সামনে দিয়ে সেই চাচা আসছে আমি একটু এগিয়ে গিয়ে চাচার সাথে কথা শুরু করলাম,
আসিফ ভাই: চাচা আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন চাচা?
চাচা: আলহামদুলিল্লাহ ভালো। তুমি কেমন আছো?
আসিফ ভাই: আলহামদুলিল্লাহ।
চাচা: তোমাকে যে আমি বলেছিলাম মসজিদে ১০১ টাকা দিতে আর ১ টাকার কয়েন যেনো সোনালি কালারের টাই হয়। কিন্তু তুমি কি করলে? এখনও দাওনি কেনো?
আসিফ ভাই: চাচা ভূলে গেছিলাম।
চাচা: আমি তোমাকে বারবার একই কথা বলছি যে ভূল করেছো তা শুধরিয়ে নাও না হলে হাজার কেদেও লাভ হবে না। তোমার জীবনে কিন্তু বড় কিছু হাড়িয়ে ফেলবা।
আসিফ ভাই: জ্বী ঠিক আছে চাচা।
এইবলতেই চাচা সামনে হাটা ধরে আমিও হাটতে শুরু করি এইবারও যেমনি দুই চার ধাপ দিলাম পেছনে তাকিয়ে দেখি আবারও চাচা নেই এইবারও একটু খুজে দেখলাম। এতো তাড়াতাড়ি গোলি শেষ করা সম্ভব না হেটে আবার গোলির ডান দিকে আরেকটা রাস্তা আছে ঐ দিকে হয়তো যেতে পারে এইভেবে ঐদিকে গেলাম যেয়ে দেখি যত দূর দেখা যায় পুরাই ফাকা কেউ নাই! এইবার একটু ভয় পায় হচ্ছেটা কি আমার সাথে। পরের দিন হতে হতে আবারও চাচার কথা ভূলে যায়। এর কয়েকদিন পর মা হঠাৎ প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পরে! মাকে নিয়ে মেডিকেলে থাকতে হয়। বিভিন্ন টেস্ট করার পরে আমাদের সামনে যে পরিনাম আশে তা আমরা কেউ কখনই ভাবতে পারিনি! 😣 মায়ের একটা অসুখ হলে হয় এক সাথে পাখির বাসার মতো করে ঘিরে ধরেছে রোগে! কিডনির সমস্যা,পেটে পাথর, ব্রেইন স্ট্রোক করে ফেলেছে একবার, ডাইবেটিকক্স এইরকম আরও কয়েকটা রোগ! সেইদিন রাতে মায়ের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম খালাকে বাসায় পাঠিয়ে দিলাম। মায়ের তো একেবারেই পানি খাওয়া বারন করে দিয়েছিলো ডাক্তার। শুধু পরিমাণ মতো খেতে হবে এর বেশি না। সেই দিন রাতে মা বারবার আমার কাছে পানি খেতে চাচ্ছে। আমি আর থাকতে না পেরে মাকে পানি খাওয়ায় দিয়। তারপর ভেতর ভেতর ভয় পাচ্ছিলাম নার্স না জানি কি বলে কাউকে কিছু না বলে পানি খাইয়ে দিলাম। তখন মা একটু ঘুমোচ্ছিলো আমি রুম থেকে বেড়িয়ে হসপিটালের কলিডর দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম আর সেই একই কথায় ভাবছিলাম। সেই সময় দেখি ঐ সেই চাচা হেটে কলিডর পার হচ্ছে আমি তার দিকে এগিয়ে গিয়ে ডাক দিয়,
আসিফ ভাই: চাচা শুনিছেন?
চাচা: হ্যা
আসিফ ভাই: কেমন আছেন চাচা?
চাচা: আলহামদুলিল্লাহ। তোমাকে না বলেছিলাম মসজিদে টাকা দিতে তুমি কিন্তু এখনও দাওনি! আমি তোমাকে বারবার বলেছি তোমার জীবনে কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারাবে যা তুমি ভাবতেও পারবে না আর তার দায়ী একমাত্র তুমিই হবে।
এই বলে আবার চাচা চলে গেলো। আর আমি ভাবতে ভাবতে রুমে চলে এলাম। এইভাবে সকাল হয় আর ডাক্তার বলে মা আবার স্ট্রোক করে ফেলেছে তাই কিছু টেস্টের জন্য নীচে নিয়ে যাচ্ছিলাম তখন মা আমার হাত ধরে বলে যে সে ওয়াসরুমে যাবে আমি খালাকে বলে তার সাথে পাঠিয়ে দিলাম। এরপর সাড়াদিন দৌড়াদড়ির ওপর যায় সন্ধ্যার পর খালা বলে বাসায় যেয়ে একটু বিশ্রাম নিতে। তাই আমি বাসায় যায়। ফ্রেশ হয়ে একটা ঘুম দিয়। হঠাৎ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে হসপিটালে যেতে হয় কারণ মা আবার ভোরের দিকে স্ট্রোক করে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে! আমি মায়ের কাছে গিয়ে হতভম্বের মতো বসেছিলাম যেইনা দরজার দিকে চোখ পরে দেখি সেইইই চাচা এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে!............
চলবে.....
[ভূল ত্রুটি ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন। এর পরের পার্টের জন্য অপেক্ষা করুন কেননা এরপরেরটি শেষ পর্ব আর এর পরেই জানতে পারবেন অনিতা আপুর সাথে কি ঘটেছিলো! ]
06/04/2020
💔🙂RED EYE🙂💔
Writer : STORY PEDIA
part: 01
[এই গল্পটি এক ভাইয়ের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু সত্য ঘটনাকে নিয়ে লেখা। 🙂 এই গল্পটি মোট চার পার্টে সম্পূর্ণটি আসবে আশাকরিএকটু ধৈর্য নিয়ে পুরোটা পড়বেন।]
পারিবারিক সমস্যার কারণে বেশ স্ট্রেসে দিন কাটছিলো, তাই চাইছিলাম যেনো মনটা অন্য দিকে লাগাতে পারি এইজন্য বেশি করে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ পেজ গুলোর ফানি পোস্ট দেখা শুরু করলাম। এইভাবে এক বড় ভাইয়ের সাথে পরিচিতি হয়।তার নাম আসিফ। তার পোস্ট গুলো বেশ ভালো লাগতো, তার সাথে কথা বলতে মজায় লাগতো। এইভাবে প্রায় ২ বছর কেটে গেলো একদিন হঠাৎ দেখি তার স্টোরিতে ইমোসনাল যা পোস্ট দেওয়া প্রথমে দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছিলাম। পরে ভাবলাম হলো টা কি এইরকমের পোস্ট তো কখনও দেখিনি ভাইয়ের গ্রুপে,পেজে, প্রোফাইলে। তাহলে আজ হলোটা কি? আর বেশি না ভেবে ভাইকে নক দিলাম,
আমি: ভাই! হঠাৎ কি হলো ? 😟
ভাই: কোথায় কিছু হয়নি তো!
আমি: না ভাই আমি আপনার স্টোরিতে দেখলাম আপনি ইমোসনাল পোস্ট দিয়েছেন যা কখনোই আপনার দ্বারা আশা করিনি! 😐
ভাই: কেনো আমি কি মানুষ না? না আমার ইমোসনাল পোস্ট দেওয়া বারন!
আমি: না ভাই তেমন কোনো কথা না ! এতো গুলো দিন থেকে আপনাকে দেখছি কখনও তো এই রকম ইমোসনাল হতে দেখিনি!
ভাই: হ্যা ! এই পরিবর্তনশীল জীবন একটি বড় মোড় নিয়ে নিয়েছে যা কখনোই ভাবতে পারিনি!
আমি : ভাই যদি কোনো সমস্যা না হয় বলতে পারেন। মনের ভেতরের কষ্ট যদি অন্যের সাথে ভাগ করে নেন তবে কষ্টটা কম হবে।
ভাই : হা হা হা! ভাই আমার জীবনের কথা যদি শুনতে শুরু করো তবে suspense মূলক সিনেমার থেকে কোনো অংশে কম মনে হবে না
আমি: ভাই যদি কিছু মনে না করেন তবে বলেন আমি শুনতে চাই।
ভাই : তবে আজ নই। কাল ভালোভাবে বলবো। আজ অন্য জগতে হারিয়ে আছি!
আমি: বুঝতে পেরেছি ভাই। ঠিক আছে কাল কথা হবে।
ভাই : হুম। 🙂
ভাইয়ের সাথে কথা শেষ করে ভাবতে থাকলাম কি এমন হয়েছে ভাইয়ের জীবনে যা তার সাথে এতোদিন কথা বলে কখনই বুঝতে পারিনি!
পরের দিন,
আমি: ভাই আছেন?
ভাই : হ্যা তবে কল দিচ্ছি দিয়ে ফোনে বলছি এতো কথা লিখে বলা অসম্ভব।
একটু পরে ভাই ফোন দিয়ে বলা শুরু করলো,
[সে যেভাবে বলেছে সেভাবে আপনাদের বলছি]
আমি এই পৃথিবীতে আশার পরে থেকেই দারিদ্র্যতার মুখোমুখি হয়েছি। কখনো নিজের ইচ্ছে চাওয়া পুরোন করতে পারিনি। তার ভেতর যখন একটু একটু বোঝা শিখলাম তখন থেকে দেখে আসছি বাবা মায়ের ঝগড়া! কখনো তাদের এক মত হতে দেখিনি! তারা সব সময় ঝগড়াঝাটি করতো! একজন ছোট বাচ্চা যে কেবল বোঝা শিখছে এই পৃথিবীর মানুষদের তার জন্য কতোটা ভয়ানক হতে পারে তার বাবা মা সব সময় ঝগড়াঝাটি করে একবার শুধু চিন্তা করে দেখো! তারা যখন ঝগড়া করতো আমি সবসময় ভয়ে কাদতাম। আসলে আমার বাবা মায়ের ঝগড়ার পেছনেও ছিলো দারিদ্র্যতা! এই দারিদ্রতা এমনই ভাই অতিরিক্ত চিন্তার ফলে সব কিছু বিরক্ত মনে হয় যদিও সেটা ভালোও হয়ে থাকে! আর এই বিরক্তের ফলেই সৃষ্টি পরিবারিক অশান্তি! যাইহোক এভাবেই কেটে চলল আমার শৈশব, কখনও পাড়ার খোলা মাঠে বালুর ভেতর গড়াগড়ি করতে করতে কখনও এক খন্ড লাঠি দিয়ে টায়ারে আঘাত করে পুরো পাড়া দৌড়ে বেড়ানো এই রকম আরও অনেক ধরনের খেলা খেলতে খেলতে। এর পর আসলো স্কুলে ভর্তি হবার পালা।আমাদের এলাকায় একটা প্রাইমারি স্কুল ছিলো, তো বাবার হাত ধরে প্রথম স্কুলে ভর্তি হলাম। প্রথম প্রথম ভালোই লাগতো তারপর যখন দ্বিতীয় শ্রেণীতে উঠলাম তখন থেকে শুরু হলো ফাকিবাজি পড়াশোনা ভালো লাগতো না সাড়াদিন বাইরে বন্ধুদের সাথে খেলে বেড়াতাম। কোনো রকমে তৃতীয় শ্রেণীতে উঠলাম এর থেকে শুরু হলো স্কুলের বাচ্চাদের সাথে মারামারি, গালাগাল করা স্কুলের শিক্ষকেরা বারবার বারন করতো অনেক বার সাসপেন্ডও করেছিলো। এইভাবে একটা বছরও চলে এলো তখন আমি চতুর্থ শ্রেণীতে উঠলাম। আরো বেড়ে গেলো মারামারি, গালাগাল। তখন প্রায় বছরের মাঝামাঝি সময় ঐ সময় রাগের মাথায় এক ছেলের পিঠে কলমের নিপ ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম তারপর স্কুলের অধ্যাপক আমাকে স্কুল থেকে বেড় করে দেয়। এর পর অনেক গুলো স্কুলে ট্রাই করেছিলাম কোথাও আর নেয়নি।পরে আম্মা একটা এন জি ও বা ফাইউন্ডেশনের মতো স্কুল গুলোর একটাই ভর্তি করলো। কিন্তু সেখানে নিয়ম ছিলো ভর্তি হতে হলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হতে হবে। আর কিছু করার ছিলো না বলে ভর্তি হতেই হলো। আগে থেকে সব পড়া ছিলো বলে পরের শ্রেণীতে ২য় নম্বর হলাম আর প্রথমে ছিলো এক মেয়ে। একটা জিনিস লক্ষ্য করতাম যে সেই মেয়েটা সব সময় আমাকে হিংসার চোখে দেখে কখনও ভালো করে কথাও বলতো না। এক সাথে এইভাবে পড়তে পড়তে ৫ম শ্রেণীতে চলে এলাম। আরেকটা জিনিস খেয়াল করলাম যে কেনো জানি আস্তে আস্তে মেয়েটাকে আমার অনেক ভালো লাগে তার সামনে যেতে লজ্জা লজ্জা লাগে। আর এইবয়সে যথেষ্ট পাকনামি বুদ্ধি হয়ে গেছিলো। একদিন বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে বলেই ফেললাম যে, জানিস বন্ধু অনিতাকে না আমি ভালোবাসি!🤭ওহহ! তোমাকে তো বলাই হয়নি যে মেয়েটির নাম অনিতা। সবাই তো হতভম্ব কি বললাম আমি।এর থেকে পুরো স্কুল ছড়িয়ে গেলো যে আমি অনিতাকে ভালোবাসি। এর বেশকিছু দিন পর একদিন অনিতা আমাকে হঠাৎ ডাক দেয় আমিও যায় তারপর,
অনিতা আপু : এই ছেলে কিসব শুনছি এইগুলো?
আসিফ ভাই : কোথায় কি শুনলা?
অনিতা আপু : কি শুনলাম মানে? তুমি সবাইকে বলে বেড়াচ্ছো নাকি তুমি আমাকে ভালোবাস?কথা কি সত্য?
আসিফ ভাই : মানে হ্যা! [আসলে ভয়ে বলেই ফেললাম]
অনিতা আপু : আমিতো তোমাকে ভালোবাসি না। 🙄
এইটাই হওয়ার কথা ছিলো সেই বয়সে। এইভাবে যখন ৫ম শ্রেণির শেষ ক্লাসটা চলে এলো তখন ওকে সাহস করে বলেই ফেললাম যে, তুমি কি আমার বন্ধু হবে? আমরা অন্তত ভালো বন্ধু হতে পারি। সে আমার কথায় রাজি হয় এবং আমরা বন্ধু হয়ে যায়। এইভাবে ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠলাম একসাথেই ক্লাস শুরু হলো তখন আমরা ভালো বন্ধু ছিলাম তাই আমাদের ভেতর একটা ফ্রেন্ডলি ব্যাপার চলে এলো। এইভাবে ষষ্ঠ শ্রেণিটাও পার করে ফেললাম তবে পড়াশোনার অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো। কোনো রকমে পাশ করলাম এর আসল সপ্তম শ্রেণি তো সেই একই ভাবে দিন কাটছিলো। নতুন বছরের বেশ কয়েক মাস কেটেও গেলো এর পর থেকে শুরু হলো আসল কাহিনি। একদিন আমার এক বান্ধবীকে আমার ফোনে I LOVE YOU ❤ লিখে দিয়ে পাঠালাম ফোনসহ অনিতাকে দেখানোর জন্য। এরপরে ভয়ে লজ্জায় বেশ কিছুদিন স্কুলে যায়নি। একদিন সাহস করে গেলাম ঠিকি কিন্তু কেনো যেনো স্কুলের গেটের ভেতর আর পা ঢুকছে না মনে হচ্ছে মাটির সাথে জমে গেছে। দাঁড়িয়ে থাকলাম বেশ কিছুক্ষণ হঠাৎ দেখি অনিতা আসছে আর এসেই আমার সামনে দাড়ালো আর বলল,
অনিতা আপু : কি ব্যাপার কোথায় হারিয়ে গেছিলে এতোদিন স্কুলে আসনি কেনো?
আসিফ ভাই : না এমনই।
অনিতা আপু : হুম বুঝতে পেরেছি চলো ভেতরে চলো।
এরপর সে আমার হাত ধরে আমাকে নিয়ে স্কুলের ভেতর প্রবেশ করলো!.....
চলবে......
[পরের পার্টের জন্য অপেক্ষা করুন কেননা এর পর ভাইয়ের একটি ভূলের জন্য তার মা মারা যায় আর কেনো তার ভালোবাসার মানুষটাকে অন্যের কাছে হাসি মুখে দিয়ে দিতে হলো! ভূলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন কারও খারাপ লাগলে অবশ্যই জানাবেন সঠিক করার চেষ্টা করবো এবং কেউ ব্যাক্তিগত ভাবে নিবেন না। ধন্যবাদ ❤]
02/04/2020
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। কিছু কথা, কিছু মুহূর্ত, কিছু অনুভূতি যা চিরকাল মনে গেথে যায়। আমাদের গল্পগুলো মূলত সেই গেথে থাকা সৃতি গুলোকেই ঘিরে। হতে পারে কিছু অংশ আপনার মন ছুয়ে যাবে কিছু অংশ আপনার জীবনের সাথে মিলে যাবে কিছু অংশ আপনার খারাপও লাগতে পারে! তবে একটা বিষয় ভালো খারাপ নিয়েই আমাদের জীবন তাই কিছু খারাপ লাগলে আমাদের জানাবেন আমরা সঠিক করার চেষ্টা করবো!🙂
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Dhaka
1312