AD DUHAA
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এর পরিধি বিশাল। কিন্তু আমরা ইসলামের সকল বিষয়ে কতটুকুই জানি?? বিশেষ করে আজকের যুবসমাজের দিকে তাকালে দেখা যায় যে তারা ইসলামের সাধারন কিছু বিষয় ও জানে না।
বর্তমান সমাজের দিকে তাকালে দেখতে পাওয়া যায় সব জায়গায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ছড়াছড়ি।সুদ, ঘুষ, যিনা, ব্যভিচার, নেশাদ্রব্য, হারাম সম্পর্ক, বাদ্যযন্ত্র এগুলোকে আমরা খুব স্বাভাবিভাবেই নিচ্ছি। ইসলামের সকল বিধি-নি
28/09/2023
আমাদের দেশে ১২ ই রবিউল আউয়াল আসলে আমরা কিছু কাজ করার চেষ্টা করি। এর মধ্যে অন্যতম কাজ হচ্ছে যে,আমরা বলি যে এইদিন রাসূল ﷺ জন্ম গ্রহন করেছেন। সুতরাং কি করতে হবে?উৎসব পালন করতে হবে।
মজার ব্যাপার হল, রাসূল ﷺ পৃথিবীতে কোন দিন আগমন করেছেন এটা নিয়ে কোনো ইখতিলাফ(মতভেদ) নেই। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেই বলেছেন, সোমবার তিনি পৃথিবীতে আসছেন। কোন বছর আসছেন এটা নিয়ে দুটো বর্ণনা আছে।
একটি হলো, আমূল ফীল যে বছর হাতির বছর সেই বছর তিনি পৃথিবীতে আসছেন। কিন্তু কোন মাসে আসছেন এটা নিয়ে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। যে কারনে এ বিষয়ে ১২ টা মত পাওয়া গেছে।
কেউ বলেছেন রজব মাসে, কেউ বলেছেন রমজান মাসে, কে বলেছেন রবিউল আউয়াল মাসে,কেউ বলেছেন মহররম মাসে- এভাবে ১২ টা মত আসছে। এর মধ্যে ৪র্থ মত হল রবিউল আউয়াল মাসে আসছেন, কত তারিখে এটা কেউ সেভাবে বলতে পারেন নাই। এর মধ্যে ৮ নম্বর মত হচ্ছে তিনি ১২ রবিউল আউয়াল পৃথিবীতে আগমন করেছেন।
প্রশ্ন হল, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ পৃথিবীতে কবে আসছেন তা নিয়ে এত ইখতিলাফ কেন? এটা এজন্য ইখতিলাফ হয়েছে যে,
তৎকালীন সময় থেকে এই পর্যন্ত ইসলাম এটাকে খুব আগ্রহ সহকারে দেখে না যে তোমার জন্ম কত সালে, কত তারিখে। এটা ইসলামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ না। এজন্য ইসলামে জন্ম এবং মৃত্যু নিয়ে কোন উৎসব,শোক সভা পালন করে না। আমরা যে তিন দিনের শোক করি, চল্লিশ দিনের শোক করি, এক বছরের শোক করি - এটা ইসলামের কোথাও নাই। আবার আমরা যে জন্মোৎসব করি - এটাও ইসলামে নাই।
এখন অনেক আমরা বলি কি, আবেগে তাড়িত হয়ে, উনারা শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন করেন, উনারা যীশু খ্রীষ্টের জন্ম ২৫ এ ডিসেম্বর পালন করেন, তাহলে আমরা কেন আমাদের রাসূলের জন্ম তারিখ পালন করব না?
আসলে এটা কোন যুক্তি হতে পারে না। ইসলাম কারো দিকে তাকায় না। ইসলাম নিজেই একটা স্বকীয় জীবন বিধান। ইসলামে যেটা আছে সেটা পালন করতে হবে আর যেটা নাই সেটা পালন করা যাবে না।
রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন,"সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ হচ্ছে আমার যুগ, এরপরে সাহাবাদের যুগ, এরপরে তাবেঈনদের যুগ।" এই তিন যুগের মধ্যে আমরা পাই না যে রাসূল ﷺ জন্মকে কেন্দ্র করে কোন উৎসব পালন করা হয়েছে।
আমরা উৎসব নিয়ে কথা বলছি, রাসূল ﷺ এর জন্ম নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু যখনি ইন্তেকালের প্রশ্নটা আসে যে পৃথিবী থেকে কবে তিনি বিদায় নিয়েছেন, এ ব্যাপারে সকল ওলামায়ে-কেরাম একমত যে আল্লাহর রাসূল ﷺ ১২ই রবিউল আউয়াল, সোমবারে এ পৃথিবী বিদায় নিয়ে চলে গেছেন।
তাহলে এই ব্যাপারে আমাদের কি করা উচিত ?
আমরা ওটা নিয়ে খুব চিন্তা করছি উৎসব পালন করব, কিন্তু এটা নিয়ে ভাবছি না।
আসলে মূল বিষয়টা হল ইসলাম আমাদের এখানে কিছুই দেয়নি। সাহাবায়ে কেরাম আজমাইন কেউ কোনদিন রাসূল ﷺ এর জন্মদিন কে কেন্দ্র করে কিছু পালন করেছেন এটা আমরা পাই না। এবং আমরা একটি শব্দ ব্যবহার করি এবং যারা ব্যবহার করে আমি তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে সম্মানের সাথে বলছি যে উনারা আবেগে, ভালোবেসেই করেন। এটাই আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু ভালোবাসার সবক্ষেত্রেই একটা লিমিটেশন আছে আমরা জানি। আমরা ইসলাম যা বলেছে তার বাইরে যেতে পারি না।
আমরা যে শব্দটি ব্যবহার করি তা হল, ”ঈদে মিলাদুন্নবী।” ঈদ মানে হল আনন্দ। মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে দু’টি ঈদ দেওয়া হয়েছে। ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহা। এটা হল আমাদের উৎসব এবং ইবাদত। ইবাদতের ক্ষেত্রে আমরা যদি কিছু বাড়াতে বা কমাতে চাই তাহলে আমাদের কোরআন থেকে আয়াত লাগবে অথবা হাদিস থেকে আল্লাহর রাসূলের বক্তব্য লাগবে।
আমরা কোথাও পাই না যে রাসূল ﷺ কোনদিন বলেছেন বা কোন সাহাবায়ে কেরাম বলেছেন আল্লাহর রাসূল যেদিন পৃথিবীতে আসছেন সেইদিন আমাদের ঈদ, বা এইদিন আমাদের সকল ঈদের সেরা ঈদ। এই কথাগুলো আমরা কোথাও পাই না। যেহেতু আমরা পাই না সেহেতু আমরা এটা বলতে পারি না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করি, যে কথাগুলো আলোচনা করলাম সেই কথাগুলোর উপর সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।।
© মুফতি সাইফুল ইসলামের বক্তব্য থেকে সংকলিত।।
20/09/2023
সাময়িকভাবে আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে যেসকল দুঃখ-কষ্ট আর বিপদ-আপদের সম্মুখীন করেন; তার কোনটাই অনর্থক নয়। অথবা সেগুলো বান্দার জন্য স্রেফ পরীক্ষা স্বরূপ সেটাও নয়। বরং সামান্যতম কষ্ট আর পেরেশানির বিনিময়েও পাপ মোচনের নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি। তাই বিপদ-আপদে দিশেহারা না হয়ে সবর করে রবের দরবারে উত্তম প্রতিদান আশা করুন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka