Ruiam
ব্রাজিল আজ জিতলে জাপানের সাথে
রাউন্ড অব ৩২
ব্রাজিল আজ ড্র করলে নেদারল্যান্ডস এর সাথে
রাউন্ড অব ৩২
ব্রাজিল আজ হারলে জার্মানির সাথে
রাউন্ড অব ৩২
এটাই সেই ম্যাচ। যেটার প্রত্যেকটা রেজাল্টেই আর্জেন্টিনা সাপোর্টাররা খুশি
16/06/2026
রাত ১টায় ফ্রান্স আর সেনেগালের খেলা। দুইটাই ভালো দল, হাড্ডাহাড্ডি খেলা হবে।
কিন্তু এই খেলাটা অন্য আরেক কারণে প্রচণ্ড স্পেশাল।
১৮৫০-১৯৬০, প্রায় ১১০ বছর সেনেগাল ছিলো ফ্রান্সের কলোনি বা উপনিবেশ। ব্রিটিশরা যেমন বাঙালীদের নীল চাষে বাধ্য করতো, ঠিক তেমনি ফ্রেঞ্চরা সেনেগালিদের বাধ্য করতো চিনাবাদাম চাষ করতে।
এখনও সেনেগালি খাবারের দিকে তাকালে দেখবেন তারা কত্তভাবে চিনাবাদাম ব্যবহার করে! কারণ ফরাসিদের শাসনের সময় সেটাই ছিলো সেনেগালিদের খাদ্যের একমাত্র উৎস। অন্য সব ফসলের চাষ প্রায় বন্ধ করে ফেলতে পারসিলো ফ্রেঞ্চরা।
বেশিরভাগ সেনেগালিদের না ছিলো নাগরিকত্ব, না ছিলো ভোট দেওয়ার অধিকার। এমনকি তাদের জন্য বিচারব্যবস্থাও ছিলো আলাদা।
ধরেন ফরাসিরা রাস্তা বানাবে। একজন সেনেগালিকে বলা হলো সেই রাস্তার জন্য পাথর ভাঙতে। সে তার অসুস্থ স্ত্রীর যত্ন নিতে বাড়িতে থেকে নিজের ছেলেকে পাঠালো পাথর ভাঙতে।
স্রেফ এই অপরাধে কোনো এক ২০-২৫ বছর বয়সী ফরাসি অফিসার, যার কোনো ধরণের আইনি অভিজ্ঞতা নাই- এসে সেই লোককে জেলে ঢুকায়ে দিতে পারতো অথবা উচ্চ হারে জরিমানা করে পার্মানেন্টলি দেউলিয়া করে দিতে পারতো।
প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হাজার হাজার সেনেগালি ফ্রান্সের হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের সরকার সেসব সৈন্যদের বকেয়া বেতন এবং পেনশন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এমনকি যেসব সেনেগালি যুদ্ধবন্দী হয়েছিলেন, তাদের সেনেগালে ফিরিয়ে আনতেও ফ্রান্স রাজী হয় নি।
উল্টো সেনেগালি সৈন্যরা বেতন ও পেনশনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে ফরাসি সেনাবাহিনী গুলি করে শত শত মানুষকে হত্যা করে। এই থিয়ারোয়ে গণহত্যার পর সেনেগালিরা সংগঠিত হওয়া শুরু করেন।
স্থানীয় পর্যায়ে নারীরা খাদ্যশস্য সমবায় করে বিতরণ করা শুরু করেন। সেনেগালি শ্রমিকরা work slow down শুরু করেন। দেশটির মসজিদ, মাদ্রাসা এবং বিশেষ করে মাজার এবং খানকাহগুলো হয়ে ওঠে স্বাধীনতা আন্দোলনের হাব।
স্বাধীনতা সংগ্রামে মাজার-খানকাহগুলোর এই প্রত্যক্ষ প্রভাবের কারণে আজও সেনেগালের ৯০% মুসলমান নিজেদের কোনো না কোনো সুফি তরিকার অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন।
১৯৪৭ সালে ডাকার-নাইজার রেললাইনের কর্মীরা ধর্মঘট শুরু করেন। পিটায়েও যখন শ্রমিকদের থামানো যাচ্ছিলো না, তখন ফরাসি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়- তারা বেসিকালি ১৫ হাজার শ্রমিককে একটা অবরোধের মধ্যে ফেলবে।
একদিকে তাদের বেতন দেওয়া হবে না, যাতে তাদের পরিবারগুলো না খেয়ে মরে। আরেক দিকে রেললাইনের কাছে থাকা শ্রমিকদের কাছে খাদ্যদ্রব্য-সহ অন্য কোনো পণ্য পৌঁছাতে দেওয়া হবে না যাতে শ্রমিকরাও না খেয়ে মরে।
এই অবস্থাতেও ধর্মঘট চলে ৫ মাস। শেষমেশ ফরাসি সরকার বাধ্য হয় শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে। আফ্রিকার ইতিহাসে সবচেয়ে সফল শ্রমিক আন্দোলনগুলোর মধ্যে এটা একটা।
আর এই পুরো অধ্যায়টা অমর হয়ে আছে লেখক সেম্বেনে ওসুমানের উপন্যাস God's Bits of Wood-এ। I would strongly encourage everyone who enjoys reading to give it a go.
সেনেগাল স্বাধীনতা পায় ১৯৬০-এ। কিন্তু ফ্রান্স সেনেগালের মুদ্রা লিংক করে রাখে তাদের মুদ্রা ফ্র্যাংকের সাথে। এখনও কিন্তু সেনেগালের মুদ্রা ইউরোর সাথে লিংকড। সেনেগালের রিজার্ভ রাখতে হয় ফরাসি ব্যাংকে। দেশটার সবচেয়ে বড় ঋণদাতাও ফ্রান্স।
একটা দেশকে একশো বছর শোষণ করেও ফরাসিদের আঁশ মেটে নাই। এখনও সেই দেশটার মুদ্রানীতি তাদের ঠিক করে দিতে হবে। অন্যদিকে সেনেগালের স্বাধীনতার ৬৫ বছর পরেও সেখানে ফরাসি সেনা মোতায়েন ছিলো।
২০২৪ সালে সেনেগালের নির্বাচনে বাসিরোউ ফায়ে এবং ওসুমানে সোঙ্কো নামের দুই বামপন্থী, প্যান-আফ্রিকান রাজনীতিবিদ প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হয়েই তারা সেনেগাল থেকে ফরাসি সৈন্য ও সামরিক ঘাঁটি সরানোর আল্টিমেটাম দেন। শেষে ২০২৫-এ ফ্রেঞ্চ সেনাবাহিনী সেনেগাল ত্যাগ করে।
২০২৬ সালে বইসা কলোনাইজড আর কলোনাইজারের খেলা দেখা লাগবে এইটা হয়তো কেউ আশা করেন নাই। কিন্তু সেই খেলাই হইতেসে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চে। সবাই দেখবেন, আমিও দেখবো এবং কলোনাইজডের পক্ষেই থাকবো।
ছবিঃ গোরি দ্বীপের "না ফেরার দরজা" (Door of no return), লক্ষ লক্ষ পশ্চিম আফ্রিকান এই দরজা দিয়ে ঢুকসেন, কিন্তু কোনোদিন ফিরতে পারেন নাই। তাদের সবাইকে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হইতো।
©
FIFA can't afford it.
- সমীভবন ও বিষমভবন
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka University
Dhaka