Go Legend go.com
07/04/2022
কাতার বিশ্বকাপে ৯০ মিনিটের ম্যাচই হবে
সংবাদমাধ্যমে কদিন আগেই এসেছিল খবরটি। ২০২২ বিশ্বকাপের আগে ফিফা নাকি খেলার সময়সীমায় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে। বল বেশি সময় মাঠে রাখতে খেলার সময় বাড়াতে চায় ফিফা।
কিন্তু ফিফা জানিয়েছে, কাতার বিশ্বকাপের আগে এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।
ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম এর আগে জানিয়েছে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো খেলার নির্ধারিত সময় ৯০ মিনিট থেকে অন্তত ১০০ মিনিট ধার্য করার কথা ভাবছেন। বল বেশি সময় মাঠে রাখতেই এই পরিকল্পনা।
সিআইইএস ফুটবল অবজারভেটরির গবেষণায় জানা গেছে, চ্যাম্পিয়নস লিগে নির্ধারিত সময়ের গড়ে ৬০.২ শতাংশ সময় বল মাঠে থাকে। কোনো কোনো ম্যাচে তা কমে আসে নির্ধারিত সময়ের অর্ধেকেও।
'কোরিয়েরে দেল্লো স্পোর্ত' জানিয়েছে, নতুন এই পরিকল্পনায় ম্যাচে যোগ করা সময় বাড়াতে রেফারিদের ক্ষমতাও বাড়ানো হবে। এখন চোট, ভিএআর এবং অন্যান্য কিছু বিষয়ের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ।
ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়, 'সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন ও গুঞ্জন তৈরি হওয়ার পর ফিফা জানাতে চায়, ২০২২ বিশ্বকাপে ম্যাচের নির্ধারিত সময় নিয়ে কোনো নিয়ম পাল্টানো হবে না।'
সংবাদমাধ্যমে এর আগে জানানো হয়, বিশ্বকাপের আগে সময় বাড়িয়ে কিছু ম্যাচ আয়োজন করতে চায় ফিফা। কিন্তু সেজন্য সবার আগে আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) ছাড়পত্র লাগবে। এই সংস্থা খেলার আইন প্রণয়ন করে।
Source : Prothom Alo Newspaper
03/04/2022
বোলিং করতে পারবেন তো তাসকিন?
কাঁধের ব্যথায় ভুগছেন তাসকিন আহমেদ। ব্যথার কারণে কাল ডারবান টেস্টের তৃতীয় দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে বল করতে পারেননি বাংলাদেশ দলের এই পেসার। আজ বোলিং করতে পারবেন কিনা, সংশয় আছে সেটি নিয়েও।
বাংলাদেশ দল সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ইনিংসে বোলিং করার পর থেকেই তাসকিনের ডান কাঁধের জোড়ায় ব্যথা হচ্ছে। বোলিং করলে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে বলেই বোলিং থেকে তাঁকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। খুব জরুরি প্রয়োজন না হলে দ্বিতীয় ইনিংসে হয়তো তাসকিনকে দিয়ে বোলিংই করাবেন না অধিনায়ক মুমিনুল হক। তাসকিনকে আইস থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।
টেস্টের প্রথম ইনিংসে তাসকিন ২৩ ওভার বোলিং করে ৬৯ রান দিয়েছেন, কোনো উইকেট পাননি। প্রথম ইনিংসে ইবাদতের সঙ্গে তিনিই নতুন বলে বোলিং শুরু করেছিলেন।
কাল বিকেলে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে যে ৪ ওভার ব্যাট করেছে তাতে পেসার খালেদ আহমেদ ও নাজমুল হোসেন করেছেন এক ওভার করে। বাকি দুই ওভার করেছেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ।
কোনো উইকেট না হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দিন শেষে ৬ রান করেছে। বাংলাদেশের চেয়ে ৭৫ রান এগিয়ে থেকে আজ ব্যাটিং করতে নামবে তারা।
ওদিকে কাল সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়ে রাতেও ডারবানে টানা বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে আজ এবং আগামীকাল টেস্টের শেষ দিনেও।
Source : Prothom Alo Newspaper
24/03/2022
রংধনুর দেশে নতুন সূর্যোদয়
সেঞ্চুরিয়নে বাংলাদেশের জয়োৎসব দেখতে দেখতে ২০ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের প্রথম সফরের ওই ঘটনাটা খুব মনে পড়ছিল। ইস্ট লন্ডনে প্রথম টেস্টে টসে জিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক খালেদ মাসুদ প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরদিন দক্ষিণ আফ্রিকার এক পত্রিকায় লেখা হলো, ‘বাংলাদেশ টসে জিতেছে এবং প্রথম ব্যাটিং করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।’
কথাটা খুবই অপমানজনক, তবে খুব বেশি প্রতিবাদী হওয়ার উপায় ছিল না। খালেদ মাসুদের ওই সিদ্ধান্তের মূল কারণ তো আসলেই দক্ষিণ আফ্রিকার বাউন্সি উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকান ফাস্ট বোলারদের মুখোমুখি হতে ঘোরতর অনিচ্ছা। যে অনিচ্ছুক দলের তালিকায় বাংলাদেশ মোটেই নিঃসঙ্গ ছিল না।
বাউন্সে চিরকালীন দুর্বলতা ক্রিকেটের সেই আদিকাল থেকেই উপমহাদেশীয় ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিনতম পরীক্ষার মঞ্চ বানিয়ে রেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়াকে।
স্লো–লো উইকেটে খেলে বেড়ে ওঠা ব্যাটসম্যানরা এই দুই দেশে ব্যাটিং করতে নেমে দেখেছেন, বল কখনো পাঁজরে ছোবল হানছে, কখনো বা মুখে। উইকেট বাঁচানোর মতোই, কখনোবা তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে শারীরিক নিরাপত্তা। বাউন্সে এক–দুই ইঞ্চি পার্থক্যই যেখানে ব্যাটিংয়ের কাজটাকে অনেক কঠিন করে তোলে, সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাপারটা মোটেই এক–দুই ইঞ্চিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এসব মনে রাখলে বাংলাদেশের এই সিরিজ জয়কে শুধু ‘ঐতিহাসিক’ বলেও যেন সেটির পুরো মহিমা বোঝানো যাচ্ছে না। তাহলে কীভাবে যায়?
কিছু তথ্য হয়তো কাজে আসবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় উপমহাদেশীয় দলগুলোর চ্যালেঞ্জের কথা বলছিলাম। যেটির প্রমাণ, সেখানে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জিততে ভারতের ২৬ বছর লেগেছে। সিরিজ খেলতে হয়েছে ৫টি। পাকিস্তানের অপেক্ষা ১১ বছরেই শেষ হলেও খেলতে হয়েছে বাংলাদেশের মতোই ৪টি সিরিজ। উপমহাদেশের অন্য দেশ শ্রীলঙ্কা তো পাঁচবারের চেষ্টাতেও জিততে পারেনি এখনো। এই বছরের শুরুতেই ভারত ৩–০তে সিরিজ হেরে এসেছে। এই তিনটি দলই যে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছে, এটা মনে করিয়ে দেওয়াটাও একটু কর্তব্য বলে মনে হচ্ছে।
এর সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের অতীত ইতিহাসটাও যোগ করে নিতে বলি। এবারের আগে যেখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে ‘সম্মানজনক’ পরাজয়টাও আসলে রীতিমতো অসম্মানজনক। কারণ, রানের হিসাবে তা ৬৮, উইকেটের হিসাবে ৭। এক শ রানের বেশি ব্যবধানে চারটি হার আছে, একটা তো ২০০ রানেও, ১০ উইকেটে ৩টি। সেই দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ জয়, সেটিও সিরিজ–নির্ধারক ম্যাচে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে, অনায়াসেই যা ১০ উইকেটে হতে পারত...অভূতপূর্ব–অদৃষ্টপূর্ব তো বটেই; অবিশ্বাস্য আর অভাবনীয়ও কি নয়!
অঙ্কের কচকচানিতে একটু বিরক্ত হতেই পারেন। কিন্তু বাংলাদেশের এই জয়ের মহিমা বোঝাতে যে এসব লাগে। সেই মহিমা এমনই যে, মনে এমন প্রশ্নও জাগছে—এটাই কি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য? ২০১৫ সালে পরপর তিন সিরিজে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় তারস্বরে দাবি জানায়; দাবি জানায় ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল আর ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল খেলার কৃতিত্বও।
কিন্তু ওই তিনটি সিরিজ জয়ই তো দেশের মাটিতে। বিশ্বকাপ আর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সাফল্য মূলত একটা বড় জয়ের ওপর ভর করে। ২০১৫ বিশ্বকাপে বড় দল বলতে তো এক ইংল্যান্ডকেই হারিয়েছিল বাংলাদেশ, ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডকে। এসব মনে রাখলে এর আগে অজেয় ভূমিতে এই সিরিজ জয় বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা সাফল্যেরই স্বীকৃতি পেয়ে যায়।
রংধনুর দেশে এটাকে যদি বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন সূর্যোদয় বলেন, তা অনেক দিক থেকেই নতুনত্বের দাবিদার। সিরিজ জয়ের ম্যাচের নায়ক এক পেসার, যাঁর হাতে ম্যাচ–সেরার সঙ্গে সিরিজ–সেরার ট্রফিও—তাসকিন আহমেদ যেন নতুন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। দেশের বাইরে ম্যাচ জেতানোর মতো ফাস্ট বোলার কই—এই হাহাকার ঘোচানোর কারণেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে এ সিরিজ।
অনেক দিন ধরেই পুনর্জন্মের যে ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন তাসকিন, সেটিরও যেন পূর্ণতা এখানে। পাঁচ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় সর্বশেষ সফরে তিন ম্যাচে ওভারপ্রতি ৮.২৫ রান খরচে উইকেট পেয়েছিলেন মাত্র ২টি। এবার বাংলাদেশের দুটি জয়েই তাঁর বড় ভূমিকা। আট বছর আগে স্মরণীয় অভিষেককে মনে করিয়ে দিয়ে যেটির সমাপ্তি। মাঝখানে ৪৬ ম্যাচ পর আবারও ৫ উইকেট।
দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার আগে নেওয়া তামিম ইকবালের সাক্ষাৎকারটার কথাও মনে পড়ছে। যেখানে একটা প্রশ্ন ছিল, যে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ কখনো জেতেনি, সেখানে বাস্তবসম্মত লক্ষ্যটা আসলে কী? তামিম উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমরা এমন কিছু করতে চাই, যা আমরা আগে কখনো করিনি। নিজে ভালো করতে চাই, দল হিসেবে ভালো করতে চাই। ভালো করা মানে জেতা, এটা তো আর বলার দরকার নেই। জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই।’
আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার যখন শেষ, একটু হালকা চালেই জিজ্ঞেস করেছিলাম, অধিনায়ককে এমন বলতে হয় বলে কি এমন বলেছেন, নাকি বিশ্বাস করেন বলেই? তামিম একটা হাসি দিয়ে বলেছিলেন, ‘কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন না, উত্তরটা পেয়ে যাবেন।’
সেই উত্তর দেওয়াতে অধিনায়ক অগ্রণী ভূমিকাতেই থাকলেন। জয়ের মুহূর্তে উইকেটে সঙ্গী সাকিব আল হাসান, জয়সূচক রানও তাঁর ব্যাট থেকেই। প্রায় পুরো পরিবার হাসপাতালে—এই বিষম মানসিক চাপ নিয়েও সাকিব যে এই ম্যাচটা খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে গেলেন, উইনিং স্ট্রোকটাকে মনে হলো সেটির পুরস্কার। যা শুধু সাহসীদের জন্যই বরাদ্দ থাকে।
Source : Prothom Alo Newspaper
22/03/2022
এত কাছে, তবু এত দূর!
দেশের মাটিতে এশিয়া কাপ। ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ফাইনালেও হাতছানি দিচ্ছিল জয়। মরীচিকার মতো তা মিলিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচশেষে মাঠেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কান্না ছোঁয়াচে হয়ে ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে।
অঝোরে কাঁদছেন মুশফিকুর রহিম। অধিনায়ককে বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছেন সাকিব আল হাসান। ঠোঁটে অদ্ভুত একটা হাসির রেখা। চিকচিক করতে থাকা চোখ আর ওই হাসি মিলিয়ে এমন একটা বেদনার্ত ছবি, যা হৃদয়কে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয়।
একটু আগেও প্রাণোচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা মিরপুর স্টেডিয়ামে তখন শ্মশানের নীরবতা। সারি সারি শোকস্তব্ধ মুখ। এত কাছে, তবু এত দূর...!
মিরপুরে তো মাত্র হাজার পঁচিশেক দর্শক। পুরো দেশই তো কাল ‘মিরপুর’! বিজয়োৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায় প্রতিটি প্রহর গোনা। উল্টো মুশফিকের কান্না ছোঁয়াচে হয়ে ভিজিয়ে দিল কোটি কোটি চোখ। স্বপ্নের মৃত্যু এমন কষ্ট হয়েই বাজে বুকে!
পুরস্কার বিতরণী শেষে হঠাৎ মিরপুরের সব আলো নিভে যায়। মাঠে লেজারের আলো পড়ে। আকাশে শুরু হয় আতশবাজির খেলা। বাংলাদেশ জিতলে গ্যালারি তখনো পূর্ণই থাকত। হেরেছে বলে সেটি তখন ভাঙা হাট। প্রায় শূন্য সেই গ্যালারির ওপর আতশবাজি নেচে নেচে বেড়ায় আর অনুচ্চারে বলতে থাকে, স্বপ্ন আর বাস্তব জীবনে খুব কমই মেলে!
আবেগকে নির্বাসনে পাঠিয়ে শুধু ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ দিয়ে দেখলে কী দুর্দান্ত একটা ফাইনালই না হলো! শেষ বলে নিষ্পত্তি। যে বলে বাংলাদেশের দরকার চারটি রান! কিন্তু হায়! উইকেটে তখন ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান শাহাদাত হোসেন। তা হোক, ব্যাটের কানায়টানায় লেগেও তো কত চার হয়ে যায়! হলো না। হলো মাত্র এক রান।
মাহমুদউল্লাহ হতাশায় বসে পড়লেন মাঠে। চোখে অবিশ্বাস নিয়ে বিমূঢ় তাকিয়ে দর্শকেরা। হঠাৎ নেমে আসা স্তব্ধতায় মিরপুর স্টেডিয়াম যেন এক প্রেতপুরী।
শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৮৪ রানের। শেষ ৫ ওভারে ৪৭। ৪৭তম ওভারে ১৪ রানে হঠাৎই সমীকরণটা অনেক সহজ-শেষ ৩ ওভারে ২৫ রান।
হতে হতেও যা হলো না। ৮ বলে ১৮ করে ফেলার পর মাশরাফির আউটটাকে তখন মনে হতে থাকল অনেক বড়! আফসোস হয়ে আরও কত ‘যদি’-ই না তখন উড়ে বেড়াচ্ছে বাতাসে! ইশ্, তামিম যদি আর চারটা ওভার থাকতেন অথবা সাকিব! সাকিব আউট হওয়ার দুই বল পরই যদি মুশফিক আউট হয়ে না যেতেন! ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ হওয়ার বদলে ছয়ও তো হয়ে যেতে পারত ওই শটটি! তা হলেই তো হয়ে যায়!
হয়ে যায় নাজিমউদ্দিন ৫২ বলে ১৬ রানের ওই অতিপ্রাকৃত ইনিংসটি না খেললে! অথবা নাসির ২৮ রান করতে ৬৩ বল লাগিয়ে না ফেললে! আরেকটু পিছিয়েও গেল অনেকের মন—শাহাদাত শেষ ওভারে এসে অমন দানছত্র খুলে না বসলেও তো হতো। শেষ ওভারে দুটি নো বলসহ ১৯ রান। ম্যাচের ময়নাতদন্তে সেটিই হয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের চৌকাঠ থেকে বাংলাদেশের শূন্য হাতে ফিরে আসার কারণ।
সাকিব বরাবরের মতোই দুর্দান্ত। বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ৮১ হয়ে যাওয়ার পর নেমে ৭২ বলে ৬৮। এর আগে বোলিংয়ে ২ উইকেট। এশিয়ার বাকি তিন পরাশক্তির কত বড় বড় তারাকে মিটমিটে করে দিয়ে টুর্নামেন্ট-সেরার আলোয় উদ্ভাসিত বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে দামি অলংকার।
তামিমের ব্যাট থেকে টানা চতুর্থ ম্যাচে পঞ্চাশ পেরোনো ইনিংস। ব্যাটিংয়ের মতো তাঁর উদ্যাপনেও অনেক উদ্ভাবনী ব্যাপার থাকে। কাল যেমন হাফ সেঞ্চুরি করার পর এক এক করে হাতের চারটি আঙুল দেখিয়ে মনে করিয়ে দিলেন, টুর্নামেন্টের চার ম্যাচে এটি তাঁর চতুর্থ ফিফটি। সঙ্গে কি এটাও নয় যে, এশিয়া কাপের দল থেকে তাঁকে বাদই দিয়ে দিয়েছিলেন বোর্ড সভাপতি!
ফাইনাল জিতলে ট্রফি নিয়ে উদ্যাপনটাও হয়তো ভেবে রেখেছিলেন। কিন্তু সেটি আর দেখা হলো কই! শেষে এসে যে চোখের জলেই স্বপ্নের সমাধি। অথচ ফাইনালটা শুরু থেকেই যেন এগোচ্ছিল বাংলাদেশের পছন্দমতো পাণ্ডুলিপি মেনে। আগের দুই ম্যাচে রান তাড়া করে জয়। জয়ের পাপড়ি ছড়ানো পথেই যাত্রা শুরু করতে টস জেতাটা খুব জরুরি ছিল। মুশফিকুর ঠিকই জিতলেন। টুর্নামেন্টে টানা চতুর্থ ম্যাচে।
বড় ভয় ছিল ‘ফাইনাল’ শব্দটি না বিষম বোঝা হয়ে চেপে বসে মুশফিকদের কাঁধে। সেই ভয়ও উধাও উজ্জীবিত বোলিং-ফিল্ডিংয়ে। একটু পরপরই তাই ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ চিৎকারে গলা ফাটানোর সুযোগ পেলেন দর্শকেরা। দেখতে দেখতে ৩৫তম ওভারে পাকিস্তান ৬ উইকেটে ১৩৩।
এরপরও ভয় হয়ে ছিলেন শহীদ আফ্রিদি। টুর্নামেন্টে শুধু নামেই ‘বুম বুম’, আজ কিছু করে ফেলবেন না তো! সরফরাজের সঙ্গে আফ্রিদির জুটিটি জমেও গেল। কিন্তু সংশয়ে-বিপদে বাংলাদেশের উদ্ধারকর্তা হয়ে সাকিব আল হাসান আছেন না! আফ্রিদিকে ফেরালেন তিনি। লং অফে নাসিরের দুর্দান্ত ক্যাচে আবারও যেন ঘোষণা-‘হবে, আজও হবে।’ যদিও সরফরাজের ৫২ বলে অপরাজিত ৪৬, শেষ উইকেট-জুটিতে ৩০ রান আর শাহাদাতের শেষ ওভার মিলিয়ে ইনিংসের শেষে মনে একটা খচখচে অনুভূতি।
তার পরও এই উইকেটে ২৩৬ কোনো রান হলো! মাত্র কদিন আগেই না ২৮৯ তাড়া করে জিতেছে বাংলাদেশ! কিন্তু ক্রিকেট-দেবতা যে এ রাত অন্যভাবে লিখে রেখেছিলেন। এ রাতে বাংলাদেশ স্বপ্ন ছুঁতে ছুঁতে হারিয়ে ফেলবে!
Source : Prothom Alo Newspaper
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the business
Telephone
Website
Address
Baridhara DOHS
Dhaka
1212