Jayed Sadnan
26/06/2024
কিভাবে শুরু করব জানিনা, মাথায় এতকিছু জট পেকে আছে, কোনটা দিয়ে শুরু করা উচিত আসলেই বুঝতে পারছি না। তবে এই দীর্ঘ জার্নিতে একটা লাইন বার বার মনে পড়ত, সেটা দিয়েই শুরু করি।
Hello boy! Higher study is not for the students like you with this poor CGPA, it is for those only 2/3 students who would be faculty of this department.
আলহামদুলিল্লাহ, ১২ টা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারভিউ দিয়েছি, ১২ টা থেকেই স্কলারশিপ পেয়েছি; সবগুলোই 50-200 US rank এর মধ্যে। মানুষ সাধারণত এডমিশন পায় সহজে, কিন্তু স্কলারশিপ পেতে কষ্ট হয়। আর আমি যেই প্রফেসরের সাথে ইন্টারভিউ দেই, তিনিই ফান্ড দেন, কিন্তু এই bloody লো সিজিপিএ এর কারণে এডমিশন হয়না। যাইহোক, ধন্যবাদ দিয়ে শুরু করি ৩৩ ক্রেডিট আন্দোলনের সময়ে সেইসব হুমকিদানকারী মানুষগুলোকে, আর রেজাল্টের উপর সেটার ব্রুটাল ইফেক্ট গুলোকে, যেগুলো না হলে হায়ার স্টাডির স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যেত। সেইসময় এবং পরবর্তী ৪ বছর সিভিলের সি আর ছিলাম একটানা। বাকি টা আশা করি আর বলে বোঝানো লাগবে না।
পৃথিবীর সকল যায়গায় একবার রেজাল্ট খারাপ করলেও যেমন কাম ব্যাক করা যায়, আমাদের রুয়েট সিভিলে সেটা অন্তত আর হয় না। হলেও সেটা অত্যন্ত ব্যতিক্রমধর্মী উদাহরণ। বিহাইন্ড দ্যা সিন সকলেই অবগত। সো, আর বললাম না।
যেহেতু শত চেষ্টা করেও আর কামব্যাক করতে পারছিলাম না, তখন (সেকেন্ড ইয়ার, ২০১৬) ভাবলাম রিসার্চ শুরু করি। কিন্ত সমস্যা হল, আমরা ভাবি যে, রিসার্চ করতে গেলে প্রফেসর ছাড়া হয়না। তো, গেলাম অনেক প্রফেসরের কাছে সাহায্যের আশায়, কিন্তু তাদের রিপ্লাই কি ছিল আশা করি সেটা সকলের অনুমেয়। উপায় খুজতে লাগলাম। তখন ভাগ্যক্রমে পেয়ে গেলাম Monami আপু কে, আর আপু র থ্রুতে জাপানে মাস্টার্সরত Faysal ভাই কে, সাল তখন ২০১৭। যোগাযোগ করলাম, আর বললাম ভাই আপনার মাস্টার্স এর কোর্স, ডাটা, ল্যাব এর কাজকারবার সব শেয়ার করেন, আপনাকে আমাকে কিছুই শেখাতে হবেনা, আমিই শিখে নিব। এরপর আমি একা একা সেগুলো অনলাইনে বসে বসে শিখতে লাগলাম, আর রিসার্চ, ডেটা এনালাইসিস, পেপার লেখা শুরু করলাম। একটু একটু করে শিখতে লাগলাম স্টাটিক্স, মেশিন লার্নিং, ডিপলার্নিং এসব আর সিভিলের বিভিন্ন ফিল্ডে এগুলোর এপ্লিকেশন। এরপর অন্যান্য পেপার লেখা দেখে দেখে, শিখে শিখে, নিজে পুরা কাজ শেষ করে পেপার লিখে ভাই কে দিতাম, আর ভাই রিভিউ করে বিভিন্ন জার্নালে সাবমিট করতেন। এভাবেই একটু একটু করে আগাচ্ছিলাম। রোজার ৪০ দিনের ছুটিতেও বাড়িতে যেতাম না, একা একা এসব রিসার্চের কাজ করতে লাগলাম আর পেপার পাবলিশ করতে থাকলাম। যদিও প্রথম দিককার পেপারগুলা তেমন কোন জাতের পেপার ছিলনা, তবে একেবারে প্রিডেটরি জার্নালেও ছিলনা। এখন অবশ্য ওগুলা দেখলে হাসি পায়! যাইহোক, এরপর ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই-আপু দের রিসার্চের কাজে হেল্প করতাম। মনে আছে, Poly আপু র সাথে ওয়াটার নিয়ে কাজ করার সময় ফজরের আজানের পর নিজের সাইকেল নিয়ে বের হয়ে রাজশাহীর বিভিন্ন লোকেশনের পানি কালেক্ট করে পুরা সাইকেল লোড করে ল্যাবে আসতাম, ক্লাস করতাম আর ফাকে ফাকে যেয়ে ওগুলো টেস্ট করতাম। যেহেতু কোন রকম সুপারভাইজর ছাড়া কাজ করছিলাম, কোন প্রকার গাইডেন্স ছাড়া মেশিনের মত শুধু কাজই করতাম।
এভাবেই চলছিল। ২০১৯ সাল, চতুর্থ বর্ষ, HM Rasel স্যারের ক্লাসে ফ্লাড ফোরকাস্টীং পড়ানোর সময়ে আমার কিছু রেস্পন্স দেখে স্যার তার রুমে ডাকলেন, এবং আমার এসব মেথড কিভাবে শিখেছি, কি ব্যাপার এগুলো জানতে চাইলেন, এবং বললেন, এগুলো নাকি তিনি তার পিএইচডি লেভেলে কাজ করেছেন। এরপর তো পেয়ে গেলাম মাথার উপর একটি ছায়া। স্যার ও হাত বাড়িয়ে দিলেন আমার সাথে কাজের। বেশ কিছু পেপার বের হল সেখান থেকে। সাথে উনি যেভাবে আমাকে পারসোনাল এবং প্রফেশনাল লাইফে হেল্প করেছেন, আমি আরিফ, এই মানুষটার কাছে আমৃত্যু কৃতজ্ঞ থাকব।
এরপর রুয়েট থেকে বের হওয়ার কিছুদিন আগে থেকে মাসখানেক জিআরই প্রিপারেশন নিলাম। রুয়েটে একটিভ কোন হায়ার স্টাডি ক্লাব নাই। নিজের টিউশনের জমানো টাকা দিয়ে বিভিন্ন সেমিনারে যেয়ে যেয়ে হায়ার স্টাডি সম্পর্কে জেনেছি, দিকনির্দেশনাহীন ভাবে প্রিপারেশন নিয়েছি। ফলাফল, ভুলভাল স্কোর। যেদিন জিআরই এক্সাম তার আগের দিন বিকালে রেজাল্ট দিল ফাইনাল ইয়ারের, একটা সাবজেক্টের ব্যাকলগ এক্সামেও ফেইল, কিছুদিন পরেই কনভোকেশন ছিল। তাহলে জিআরই এক্সাম দিয়ে আর কি করব, হায়ার স্টাডির এপ্লিকেশনের জন্য আসন্ন সেমিস্টার ও আর ধরতে পারব না, কারণ শর্ট সেমিস্টার লাগবে রুয়েট থেকে পাশ করে বের হতে। এর ১ মাস পরে ডিসেম্বরে ছিল কনভোকেশন, আর ঐদিন আমার ছিল শর্টের ক্লাস টেস্ট। বাবা-মাকে গাউন পরাতে পারি নাই, মানসিক ভাবে ভেঙ্গে চুরে শেষ একেবারে!
২০২০ সাল, ঢাকায় এসে টিউশন করি তখন, শীতকালের সেই প্রতি শুক্রবার রুয়েটে আসা-যাওয়া করি। রাতের বাসে যেয়ে ভোরে নামি, ক্যম্পাসে একা হাটাহাটি করি, সিটি দেই, এরপর সন্ধ্যার বাসে আবার ঢাকা ফিরি। তার কিছুদিন পরেই আলহামদুলিল্লাহ প্রথম এপ্লিকেশনেই প্রথম জব পাই একটি রিসার্চ ফার্মে। তখন আমার ১২ টা পাবলিকেশন। ৯ জন ম্যানেজার রিক্রুটমেন্ট এর কথা থাকলেও আমার এক্সেপশনাল প্রোফাইল দেখে তারা আমাকেও নিয়ে নিল। অফিসার হিসেবে জয়েন করলাম। রিসার্চ জিনিসটা ভাল লাগায় মনে প্রাণে কাজ করতাম মেশিনের মত। অফিস, পারসোনাল রিসার্চ, হায়ার স্টাডির প্রিপারেশন সব সমানে চলতে থাকল। ৩ বছরে রেকর্ড করলাম অফিসার থেকে সিনিয়র অফিসার, ডেপুটী ম্যানেজার, তারপর ম্যানেজার। অল্প বয়সে অনেক সিনিয়র রোল, বিদেশি মাস্টার্স-পিএইচডি ডিগ্রীধারী লোকজনে ফার্ম ভর্তি, শেখার সুযোগও ছিল অনেক বেশী। আর এসবের পাশাপাশি পারসোনাল লাইফের ট্রমা তো ছিলই, বোনাস হিসেবে।
২০২১ থেকেই শত শত ইমেইল করি প্রফেসরদেরকে। কেউ রিপ্লাই দেয়, কেউ দেয়না। বারবার ইমেইল ফরম্যাটীং চেঞ্জ করি, প্রোফাইল আপডেট করি, নতুন নতুন ভাবে নিজের প্রোফাইল তুলে ধরি। ১২০০+ ইমেইল করেছি, ৫০+ প্রফেসরের কাছ থেকে রেসপন্স পেয়েছি, ৩০+ পজিটিভ রেসপন্স, ১২ টা ইন্টারভিউ দিয়েছি এবং ১২ টাই সাকসেসফুলি ফান্ড পেয়েছি যার সবই ৫০-২০০ র্যাংক এর মধ্যে, ১০ টাতে এপ্লাই করেছি, ৬ টাতে এডমিশন পেয়েছি, ৪ টাতে এডমিশন+ফান্ড পেয়েছি। এভাবে University of Tennessee এর এক প্রফেসরের সাথে ইন্টার ভিউ এর পরে তার সাথে কাজ শুরু করি। কিছুদিন পরে সে আমার সিজিপিএ দেখে বলে, তোমার প্রফাইল আমার ভাল লাগলেও ইউনিভার্সিটির এডমিশন ক্রাইটেরিয়া ম্যাচ করবে না, সো বাদ। এরপর University of New Orleans, Texas State University, Clemson University, University of Florida সহ ১৪/১৫ টা ইউনিভার্সিটিতে একই ঘটনা চলতেই থাকে। প্রফেসরের আমাকে ভাল লাগে, কিন্তু এডমিশন হয় না। এরপর তো University of Georgia Athens এর এক প্রফেসর আমাকে এত ভাল লাগল যে উনি আমাকে মাস্টার্সে পিএইচডির সমান ফান্ড অফার করলেন, Ankon সাথে ঠিক করে বাসা ও নিয়ে নিলাম, কিন্তু পরে জানলাম, গ্রাজুয়েট অফিস আমার লো সিজিপিএ এর কারণে এডমিশন দিলনা। কান্নাকাটি করে পুরা ভেঙ্গেচুরে একাকার অবস্থা। অংকন, ভাই আমার, তোর সাপোর্ট আমি কোনদিন ভুলব না।
ওদিকে আবার, University of Kentucky র এক প্রফেসর তখন স্যাব্যাটিক্যাল লিভে জার্মানির Technical University of Munich এ। আমাকে বলল জার্মানিতে জয়েন করতে, তারপর উনি আমেরিকা তে শিফট করাবে। পরে দেখলাম, জার্মানির ভিসা পেতেই ১ বছর লাগবে। হইলনা এটাও।
যাইহোক, আরো ৫/৭ টা ইউনিভার্সিটি তে এই ‘হয়েও হচ্ছেনা’ কাহিনী ঘটতেই থাকল। সবমিলিয়ে ২০+ প্রফেসরের সাথে রেগুলার কমিউনিকেশন। প্রত্যেকদিন রুয়েট আর সিভিল ডিপার্টমেন্ট কে কোটি কোটি গালি দেই, কেন বুয়েট ছেড়ে এখানে আসছিলাম! হতাশার শেষ সীমানায় পৌছে গেছিলাম। তবে, এতকিছুর মধ্যেও পেপার পাবলিকেশন ছেড়ে দেই নাই। ওটা একটা ইমোশন! রিসার্চ গ্রুপ তৈরী করে আগাচ্ছিলাম Simanto, Galib, Jobaer, সহ অনেককেই সাথে নিয়ে।
যাইহোক, Southern Illinois University Carbondale এর দুই প্রফেসরের সাথে ইন্টারভিউ দেই। একজন সাহস পায় নাই, ভাবছিল যে সিজিপিএ কম আবার পেপার বেশী মানে আমি আসলে ভুগিচুগি, এর-ওর রিসার্চের মধ্যে ঘোস্ট অথর হিসেবে ঢুকে এসব পেপার বানাইছি। পরে আরেকজন সাহস করে আমাকে নিলেন। সবকিছু ঠিক ঠাক চলছিল। জানুয়ারি ২০২৪ এ আমার জয়েন করার কথা এখানে। কিন্তু ব্যাক্তিগত কিছু ট্রমার কারণে অন্য আরেকটা ইউনিভার্সিটির আই২০ দিয়ে দ্রুত ভিসা এপ্লাই করলাম, এবং রিজেকশন খেলাম। এরকিছু দিন পরেই ফান্ডীং সহ SIUC অফার পাই, কিন্তু জানুয়ারি তে জয়েন করতেই হবে, কিন্তু রিজেকশন খেলে সহজে ডেট পাওয়া যায়না। একটা স্লটের আশায় গভীর রাত পর্যন্ত দিনের পর দিন পোর্টালে বসে থাকতাম। অবশেষে স্লট পেলাম ঠিকই, কিন্তু জানুয়ারি র শেষে, মানে জানুয়ারি তে যাওয়া হচ্ছেনা। প্রফেসরের তো মাথা খারাপ অবস্থা, NSF এর প্রজেক্ট, কেন আমি তাকে কমিটমেন্ট দিলাম! যাইহোক, এরমধ্যে আবার ডিসেম্বর ২০২৩ এ আম্মু, সুস্থ মানুষ, হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা গেল! পরিবার টা ভেঙ্গে চুরে শেষ, পুরা ছন্নছাড়া অবস্থা। প্রফেসর কে বললাম সব, অনেক ভেবে চিন্তে শেষমেষ মানুষটা মেনেই নিল। পরের সেমিষ্টারে ডেফার করতে বলল। অবশেষে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভিসা ইন্টারভিউ দিলাম, এবং আলহামদুলিল্লাহ প্রথমবারের রিজেকশন থাকা স্বত্বেও ভিসা পেয়ে গেলাম। এরপর এয়ার টিকেট কাটলাম, আর অপেক্ষা করতে থাকলাম পাড়ি জমানোর।
এখানে চলে আসার কিছু দিন আগে University of Louisville Kentucky র এক প্রফেসর আমাকেই মেইল করলেন যে আমার প্রফাইল তার ভাল লেগেছে, এবং সে আমাকে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি অফার করলেন। আমি বর্তমানে যেখানে আছি, এরচেয়ে শতগুণ ভাল অফার পেয়েও রিজেক্ট করলাম ওটা। কারণ হল ল্যাবের রিসার্চ ইনভাইরনমেন্ট আর প্রফেসর নাকি খুব গুরুত্বপূর্ণ পিএইচডি র জন্য। আলহামদুলিল্লাহ, আমার প্রফেসর একজন অমায়িক মানুষ, এবং ভাল রিসার্চার।
যাইহোক, এসব স্ট্রাগলের পাশাপাশি পারসোনাল লাইফের স্ট্রাগল ছিল এর চেয়েও বেশী ট্রমাটিক। আমি কিভাবে ট্যাকেল দিয়েছি জানিনা।
এরপর তো চলেই আসলাম! আর কি!
পরিশেষে বলি, বড় বড় মানুষের কাছে শুনি যে যদি goal, determination আর consistency থাকে তাহলে নাকি সাকসেস আসবেই! আমি বোধহয় তার বেস্ট এক্সামপল। এইটুকু অর্জনে আমি নিজেকে কখনই সাকসেসফুল হিসেবে দাবি করিনা, কারণ সাকসেস এর সংজ্ঞা মানুষভেদে ভিন্ন। কিন্তু এটা সত্য যে, এই খোড়া, ল্যাংড়া, অন্ধ, বোবা প্রোফাইল দিয়ে ওয়ার্ল্ড এর অনেক দেশের বস বস স্টুডেন্টকে টপকিয়ে এতদূর যে এসেছি, এজন্য নিজেকে আর সৃষ্টিকর্তাকে অশেষ ধন্যবাদ দেই। আর এই জার্নিতে যারা নানা ভাবে আমাকে হেল্প করেছেন, সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
রুয়েটের সকল সম্মানিত শিক্ষক/শিক্ষিকাদের কাছে বিনীত আবেদন, আমাদের ব্যাচে (১৪ সিরিজ, সিভিল) ৩.০০ এর উপরে সম্ভবত ৩৪ জন ছিল মাত্র, আর বুয়েটে/কুয়েটে ৩.৫ এর উপরে ৬০-৭০ জন থাকে অন অভারেজ। ওদের সিভিল-১৭ ব্যাচের ৯০+ স্টুডেন্ট অলরেডি আমেরিকার মাটিতে এখন। সো, কাদের এলাম্নাই স্ট্রং হবে বলেন! আমাদের মেরুদণ্ডকে আর ভেঙ্গে দিবেন না প্লিজ!
ছোট ভাই-বোনেরা, আমার দুয়ার তোমাদের জন্য খুলে রাখলাম। চোখ-কান খোলা রাখো, তালাইমারি, ভদ্রা আর বিনোদপুরের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রেখোনা। You have already proved that you have the capacity to roar, so ROAR!
Kasem bhai, at last! See!
Arif Hasnat (140092)
PhD in Civil and Environmental Engineering
Graduate Research and Teaching Assistant
*Southern Illinois University Carbondale, Illinois, USA. *
যাইহোক, এতদীর্ঘ পোস্ট সময় নিয়ে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে দুঃখিত, ক্ষমা করবেন।
অনেক কিছুই বলা বাকি রয়ে গেছে, অনেক টিপস শেয়ার করা বাকি রয়ে গেছে। হবে ধীরে সুস্থে!
Short Stories | Short Stories Community | Ruhfayed
01/06/2024
বৃটিশ কর্তৃক এদেশে ম্যাগনেটিক পিলার স্থাপনের রহস্য।
ম্যাগনেটিক পিলার নিয়ে অনেক গুজব ও জনশ্রুতি আছে, এই প্রাচীন ‘ম্যাগনেটিক পিলার' স্থাপন নিয়ে। কেউ কেউ এটিকে প্রাচীন মূল্যবান ‘ম্যাগনেটিক’ পিলার বলে আখ্যায়িত করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন এর মাধ্যমে বৃটিশরা আসলে এদেশের সব গোপন তথ্য চুরি করে নিয়ে যায়।
তবে আসল ঘটনা হচ্ছে- এদেশে বৃটিশদের শাসনের সময়কালে সীমানা পিলার গুলো ফ্রিকুয়েন্সি অনুযায়ী একটি থেকে আরেকটির দুরত্ব মেপে মাটির নীচে পুতে রাখা হয়েছিলো। যেগুলোর মধ্যে পিতল, তামা, লোহা, টাইটেনিয়াম সহ ধাতব চুম্বক সমন্বয়ে গঠিত হওয়ার কারনে বজ্রপাত হবার সময়ে ইলেকট্রিক চার্য তৈরী হয় সেটি সরাসরি এই পিলার গুলো শোষন করে আর্থিং এর কাজ করতো। এতে করে বজ্রপাত হতো কিন্তু মানুষ মারা যেতোনা।
অসাধু কিছু লোক এই পিলার গুলো অনেক দামে বিক্রি করা যায় এরকম গুজব ছড়ায়। এ কারনে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পিলারগুলো নিষ্চিন্ন হয়ে গেছে। কিছু লোক এগুলোকে মহা-মুল্যবান বলে অপপ্রচার করে খুঁজে বের করে চুরি করে নিয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে কেউ ই সীমানা পিলার বিক্রি করে বহু টাকা উপার্জন করার উদাহরণ দেখাতে পারেনি ।
সীমান্ত পিলার গুলোর মধ্যে থাকা তামা, পিতল, টাইটেনিয়াম জাতীয় ধাতবের সমন্বয়ে তৈরী বলে এগুলো বিদ্যুত সু-পরিবাহি হয়ওয়াতে একে মহা মুল্যবান বলে অপপ্রচারের ফলে এসব পিলার চুরি হতে থাকে।
বৃটিশ শাসন আমলে বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য এই প্রযুক্তির পিলার গুলো সারা দেশ জুড়ে মাটির নিচে পুতে রাখা হয়েছিল একটি নির্দিষ্ট দুরত্ব পর পর ফ্রিকুয়েন্সি মেপে মেপে।( এবং এ পিলারের রেডিও ইলেট্রনিক্স তরঙ্গের সাহায্যে ভূমি জরিপ ও ম্যাপ প্রস্তুতে করতে এবং এটি বিমান চলাচলেও সহযোগিতা করত সে সময় ) এখন যেমন মোবাইল ফোনের টাওয়ার বসানোর সময় একটা থেকে আরেকটার দুরত্ব আর ফ্রিকুয়েন্সি মেপে ম্যাপ করে বসানো হয় ।
আগেকার আমলে বজ্রপাতে নিহত হবার সংখ্যা ছিল অনেক কম যেটি এখন এতটা বেড়ে গেছে যে, মানুষ রীতিমতো চিন্তায় পড়ে গেছে । এখন নিশ্চই সবাই বুঝতে পারছেন কেন বৃটিশ আমলে এগুলো মাটির নিচে পুতে রাখা হয়েছিলো।
বজ্রপাতে মৃত্যু রোধকল্পে সরকারকে বৃটিশদের মতো করে পিলার স্থাপনের উদ্দোগ আবার গ্রহণ করা উচিত বলেও মতামত দিচ্ছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
সংগৃহীত
15/03/2024
অভিনন্দন!!!! স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় অব বাংলাদেশ (State University of Bangladesh)
২০২৪ সালে সিমাগো গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সামাজিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে ইনস্টিটিউশনস র্যাঙ্কিংয়ের তালিকা প্রকাশিত করেছে।
সিমাগো র্যাঙ্কিংয়ে দেশের ৪১ বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। তৃতীয়ত অবস্থানে স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় অব বাংলাদেশ (State University of Bangladesh).
https://www.scimagoir.com/rankings.php?sector=Higher+educ.&country=BGD&ranking=Overall&area=all
28/09/2023
According to Professor Susanne Klaus, a biologist at the German Institute of Human Nutrition in Potsdam, our craving for sweet foods is innate. Sugar triggers the release of dopamine and makes us feel good. She wrote, "Experiments have shown that the combination of sugar and fat is especially effective in stimulating the brain's reward system."
12/07/2023
|| বুয়েটের এক ভাইয়ের জীবন থেকে নেওয়া ৷৷
আমার জীবনে পাওয়া দশটি সেরা লজ্জাঃ
১) ক্লাস ফাইভে পড়ি, পাশের বাড়ির আমার বয়েসি এক ছেলের সাথে ওর বিদেশী লেগো সেট নিয়ে খেলা করি। একদিন ওর সেটের একটা পার্টস খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি ও খুজলাম। আমি ওর বাসা থেকে বের হবার সময় ওর মা আমার শার্ট প্যান্টের পকেট চেক করলো।
2) আমার এক কাজিন একটা দূর্দান্ত আই,বি,এম পিসি কিনলো। মানে ওর বাবা কিনে দিয়েছিলো। উনি তখন ইন্টার পড়তেন। সবাই কে দাওয়াত করে এনে কম্পিউটার দেখাচ্ছে। আমি ওই পিসি র মাউস টা একটু নাড়ানোর অপরাধে কষে থাপ্পড় খেলাম।
৩) কুরবানি ঈদের পরের দিন আমি বাড়িওয়ালার বাসায় দেখা করতে যাই। উনারা কথা বার্তা বললেন। আমি টেবিলে বসে আছি। পরিচারিকা পোলাও মাংস, কাবাব নিয়ে এলো। আমি হাত ধুতে বাথরুমে
গেলাম। এসে দেখি কিছুই নেই। সে তাদের
আত্মীয়কে খাবার দেবার পরিবর্তে ভুল করে আমাকে দিয়েছে। পরে সেমাই খেয়ে চলে এলাম।
৪) পাড়ার সবাই একটা রেস্টুরেন্ট এ খেতে
গিয়েছি। এক ভাইয়ার বাবা গাড়ি কিনেছেন সেই সেলিব্রেশনে। আসার সময় দামী মাইক্রোবাস এ সবার যায়গা হলো। আমার হলো না। এক বড় ভাই
বল্লো, তুমি একটা রিকশা করে চলে আসো। আমি
গাড়ি থেকে নেমে গেলাম। একটা মেয়ে ফিক করে হেসে ফেল্লো।
৫) আমার ক্যালকুলেটর নষ্ট, বন্ধু কে বললাম
এক্সাম চলছে কলেজে, দুই/তিন দিনের জন্য ক্যালকুলেটরটা ধারদে। ওর ক্যালকুলেটর টা এক্সপেনসিভ। ও দিলো না। হেসে হেসে বল্লো, এইটা হারায়া ফেললে তোর আব্বাও এইটা কিনে দিতে
পারবে না।
৬) স্কুল লাইফে একটা মেয়ে কে অনেক পছন্দ
করতাম। তাকে বলার সাহস কখনো হয়নি। একদিন সাহস করে ওর বার্থডে তে একটা গোলাপ দিয়ে ওকে বললাম, হ্যাপি বার্থডে। ওর গোলাপ টা ছুড়ে ফেলে আমাকে বল্লো, যেমন ফকিন্নি মার্কা চেহারা তেমন ফকিন্নি ছাত্র। এতো সাহস ক্যান তোমার!!
পাশে ওর অনেক বান্ধবী ছিলো, সবাই হো
হো করে হেসে ফেল্লো।
৭) ক্রিকেট ম্যাচ হবে। পাশের পাড়ার সাথে।
চ্যালেঞ্জ ম্যাচ। আমি খুবই এক্সাইটেড। আগের দিন ব্যাট মুছে রেডি করলাম। সকালে আমার মা আমাকে আদর করে দোয়া পড়ে
দিলেন। মাঠে গিয়ে দেখি আমাদের টিমে ১৪ জন। আমি ওপেনিং বোলিং করবো। হালকা প্র্যাক্টিস করছি। ক্যাপ্টেন বড় ভাই ১১ জন
সিলেক্ট করে দুই জন এক্সট্রা রাখলেন। আমি রিকশা
করে মাথা নিচু করে বাড়ি ফিরে এলাম। ১৪তম লোকটা আমি।
৮) নাইনে অংকে পেলাম ৩৯। ক্লাস টেনে রোল
নাম্বার পিছিয়ে ৬০। আমার আত্মীয় স্বজন আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। একবার আমার মামার বাসায় বেড়াতে গেলাম। ক্লাস থ্রি তে পড়া মামাতো বোন আমার কাছে একটা অংক নিয়ে এলো। সুন্দর
করে বুঝিয়ে দিলাম। আমার মামী বল্লো, যাও সুমনের (আমার আরেক কাজিন) কাছে বুঝো। ও অংক বুঝে নাকি? যথারীতি সবাই হেসে ফেল্লো।
ক্লাস থ্রি এর অংক ও আমি বুঝি না।
৯) ছোট্ট বেলায় খুব রোগা ছিলাম। দেখতেও
ভালো ছিলাম না। একসাথে পাড়ার সব ছেলেরা যখন খেলতাম, কোনো সুন্দর মেয়ে আশেপাশে এলে অন্য রা আমাকে আব্দুল আব্দুল করে ডাকতো। একবার আমি শুনতে পেরেছিলাম একটা ছেলে
বলছিলো, ওর নাম ও আব্দুল, দেখতে ও
আব্দুলের মতো।
১০) কলেজ লাইফে একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের
উপস্থাপনা আমার করার কথা, কিন্তু উপস্থাপিকা আমার সাথে উপস্থাপনা করতে চায়নি। কারণ, আমি ওর লেভেলের স্মার্ট নই। আমাকে অনুষ্ঠানের দিন রিহার্সেল সত্ত্বেও দর্শক সারি তে বসতে হলো, যদিও বেশীক্ষণ থাকা লাগেনি, অন্য ছাত্র ছাত্রীর হাসাহাসির কারনে বাধ্য হয়ে বাসায় চলে এসেছিলাম।
এই ঘটনা গুলো প্রতিটাই আমার সাথে ঘটা। আমি নিজের ব্যাপারে সত্যিই কনফিডেন্ট ছিলাম না। খুব কষ্ট হতো। মাঝে মাঝে মনে হতো মরে যাই না কেনো? আমি বড়লোক নই, সুদর্শন নই, স্মার্ট নই, কথা বলতে পারি না, খারাপ ছাত্র। কি দরকার আমার পৃথিবী তে থাকার? অনেক সময় শিক্ষকদের বকা খেতাম, মার খেতাম। কিন্তু আমি বেচে রইলাম, মরতে ভয় হয়। আমি চেষ্টা করে গেলাম। আমার ভালো কোনো গুন না থাকলে ও একটা শক্তি ছিলো। স্বপ্ন কে বাস্তবতার রূপ দেবার জন্য সাহস। একা একাই যুদ্ধ করেছি। পাশে পেয়েছি আমার মা আর বাবা কে। আমার উপর তাদের অনেক বিশ্বাস ছিলো। মানুষের সব অপমান, লাঞ্ছনা সহ্য করে, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি নিজেকে পরিবর্তন করেছি।
I always forgive, but never forget.
আমার জীবন টা খুব সহজ সুন্দর ছিলো না। আমাকে জীবনে অনেক অনেক ধাক্কা খেতে হয়েছে। আর আমি শিখেছি - "জীবনে তোমার সব চেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু তুমি নিজেই।" চোখের পানি কেউ মুছে দেয় না, নিজেকেই মুছতে হয়। ঘুরে দাঁড়াতে হয়। যখন কোনো আশা থাকেনা, আশা তৈরী
করে নিতে হয়। লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে চলে
যাবার পর ও সেখানে যাবার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হয় মাথা উচু করে সবার মাঝে নিজেকে আলোকিত করতে।
আমি কষ্ট করেছি, সবাই যখন আনন্দ করতো, আমি
তখন পারতাম না। কিন্তু একদিন পেরেছি। এবং সেই জয়ের তৃপ্তি যে কত খানি, আমি জানি।
আজ আমাকে যে কোনো প্রোগ্রামে সন্মান
করা হয়। আমাকে লজ্জা পেতে হয় না। মোটামুটি সফল একজন প্রকৌশলী বলা চলে।
আমার যে পরিমান লেগো সেট আছে,
অনেকেই ঈর্ষান্বিত হবে। আমি যে কম্পিউটার
ব্যবহার করি ওই ভ্যালু তে সাধারন মানের দশ টা
কম্পিউটার কেনা যাবে। অনেক অনেক
ইলেকট্রনিক গেজেট আমি কিনি। অপচয় হয়তো,
কিন্তু তৃপ্তি পাই। প্রতি টা লজ্জার, চড়ের, লাঞ্ছনার হিসাব আদায় করি। অসুন্দর বলে অনেক অপমানিত হয়েছি, এখন হইনা
বরং সবাই বেশ হ্যান্ডসাম ই বলে কথা না বলতে
পেরেও এখন ভালো বক্তা। আনস্মার্ট হয়েও এখন অফিসে স্মার্টনেসের রেফারেন্স।
ঘুরে দাঁড়ানো খুব কষ্টের কিছু না। প্রয়োজন শুধু
সাহস আর দমের। বুকে দম থাকলে হারতে চাইলেও হারা যায় না। আর আশা, সুন্দর একটা স্বপ্ন। যা পূরন করা একমাত্র লক্ষ্য হতে হবে।
* Don't expect help.... help yourself. আমি যখন
ভেঙ্গে পড়েছিলাম, তিন টা ওষুধ, আমার কাজে
লেগেছিলো...
Self motivation.
Self Confidence.
©বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ ইমন
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Address
Dhaka