clover4
25/05/2026
𝗟𝗮𝗱𝗱𝗲𝗿 𝗼𝗿 𝗥𝗼𝗮𝗱
রেশমা
𝟯𝟬
ফাতিম, পায়েল, লাইজু কলেজ প্রাঙ্গণে বসে আড্ডা দিচ্ছে। নিহা, স্বাধীনও ওদের সাথে ছিল ওরা দুজন একটু আগেই বেরিয়ে গেছে।আজ কারো বাসায় ফিরবার তাড়া নেই আগামী দুই সপ্তাহ তাদের কলেজ বন্ধ থাকবে। ইয়াসমিনের আজকে মিটিং আছে। সে ফাতিমকে একাই বাসায় যেতে বলেছিল কিন্তু ফাতিম বলেছে একসঙ্গে যাবে।
পায়েলের আগামীকাল বাড়িতে যাবার কথা। সে ফাতিম কে বলল, কিরে তুই কবে যাবি? বাড়িতে যাবি না এবার?
ফাতিম বলল, অবশ্যই যাবো। তবে কবে যাব সেটা এখনো ঠিক হয় নাই, ফুুপিও যাবে তো।
লাইজু বলল, সেই,তোদেরই ভালো ছুটি হলে বাড়িতে যাস। বাড়ির সবাই নিশ্চয়ই মেহমানের মত ট্রিট করে, অনেক মজা হয় তাই না ? আর আমাকে দেখ কলেজ খোলা থাকলেই ভালো তাও বাইরে বের হওয়া হয় আর তা না হলে উফ। কলেজ বন্ধ মানেই বোরিং, সারাদিন বাসায় বন্দি।
পায়েল বলল, নেক্সট ছুটিতে আমাদের গ্রামে যাবি? এর আগে কখনো গ্রাম দেখেছিস?
লাইজু বলল, আমার দাদা বাড়িতো গ্রামে কিন্তু, মা একদম যেতে চায় না। আমার মা নানা নানীর একমাত্র সন্তান তাইতো আমরা নানা বাড়িতেই থাকি।
পায়েল আবার বলল, তাহলে তুইও কি বিয়ের পর তোর মা’র বাড়িতেই থাকবি নাকি?
লাইজু বলল, মার বাড়িতে থাকতে হলে জীবনে বিয়েও করবো না।
ফাতিম বলল, হুম মরুভূমি।
লাইজু বাসায় যাবিনা? বাসায় যা তাছাড়া তোকে আজ নিশ্চিত বকা খেতে হবে। পরে আবার বলিস না আমাদের জন্য তোকে ধোলাই খেতে হল।
লাইজ হুম বলে মাথা উচিয়ে সামনে তাকিয়ে দেখল একটা ছেলে ফাতির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। লাইজুও ছেলেটার দিকে নিষ্পলক থাকিয়ে রইল। সে এর আগে এত সুন্দর ছেলে দেখেনি। সে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ে গেল।
পায়েল লাইজুকে ধাক্কা দিয়ে বলল, কিরে কি হইসে তোর? কি দেখিস ?
লাইজু সামনে তাকিয়েই বলল, দোস্ত মনে হয় প্রথম দেখাই প্রেমে পড়েছ। কিন্তু, কপাল প্রেমে পড়ার সাথে সাথেই আবার ছ্যাকাও খেয়েছি।
ফাতিম পায়েল দুজনে একসাথে কী? বলে লাইজুর দৃষ্টি অনুসরণ করে পিছনে ফিরে তাকালো। পায়েল ভাইয়া বলে লাফি উঠলো। তারপর ব্যাগ নিয়ে সামনে এগোতে লাগলো।
লাইজু ফাতিম কে বলল, ওটা পায়েলের ভাই! তাহলে তোর দিকে এভাবে অত সময় তাকিয়েছিল কেন? পায়েল না তোর কাজিন?
ফাতিম লাইজুর সাথে এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে চায় না। তাইতো বলল,কিরে বাসায় যাবি না? উঠ বাসায় যা। আর শোন, পিয়াল ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে লাভ নেই সে বিবাহিত তার বউও অনেক সুন্দরী।
লাইজু মজা করে বলল,ঠিক বলেছি দোস্ত বাসায় যাই, নইলে কখন ফিট হয়ে যাই। আমার জন্য দোয়া করিস ইনশাআল্লাহ ছুটির পরে আবার দেখা হবে। ভালো থাকিস, বাই।
ফাতিম বলল,তুইও ভালো থাকিস।
লাইজু চলে যেতেই ফাতি ব্যাগ নিয়ে পায়েলদের দিকে এগোতে লাগলো। লাইজুর কথা শুনে ফাতিমের মেজাজ খারাপ হলো। সে সিদ্ধান্ত নিল আজ সে পিয়ালের সঙ্গে কথা বলবে। ফাতিম সালাম দিয়ে পায়েল কে বলল, দেখতো ফুফির মিটিং শেষ হয়েছে কিনা?
পায়েল ফাতিমের দিকে তাকিয়ে ফাতিমকে বুঝতে চেষ্টা করল তারপর একটু দূরে সরে গেল কিন্তু ফাতিমকে একা রেখে খুব বেশি দূরে গেল না।
ফাতিম পিয়ালকে বলল, ভাবী কেমন আছেন?
পিয়াল কিছু বলল না।
ফাতিম আবার বলল, আমার কিছু কথা আছে পিয়াল ভাই। আপনি কেন এখনো আমার পিছন পিছন ঘুরছেন? আমার কারণে অন্য কোন মেয়ে কষ্ট পাক,তা আমি চাইনা। ভাবি যদি জানতে পারেন আপনি আমার কারণে তাকে অবহেলা করছেন তাহলে ভাবি কি মনে করবেন? ফাতিম সরাসরি পিয়ালের চোখের দিকে তাকিয়ে দৃঢ় কন্ঠে বলল, পিয়াল ভাই ধন্যবাদ আপনাকে। আপনার কারণেই মাহিনকে পাইছি। সে আমার জন্যই বেস্ট, আমিও তার জন্য। মাহিনকে পেয়ে আমি খুব খুশি এবং ভালো আছি। আশা করি এরপর থেকে আমাকে আর ফলো করবেন না। আর শুনুন আপনি কিন্তু একা ভালো থাকতে পারবেন না। ভাবিকে ভালো রাখলেই আপনিও ভালো থাকবেন। অন্তত নিজের ভালোর জন্য হলেও আর আমাকে বিরক্ত করবেন না। প্লিজ।
ইয়াসমিন মিটিং শেষে বের হয়ে দেখল ফাতিম পিয়ালের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। সে দ্রুত ফাতিম এর কাছে গেল, পিয়াল পায়েলের সঙ্গে কথা বলে ফাতিকে নিয়ে বাসার দিকে রওনা হলো। সে সারা রাস্তা ফাতিমকে কিছু বলল না। ফাতিমও চুপচাপ ফুফিকে অনুসরণ করল। ইয়াসমিন বাসায় গিয়ে খাবার শেষে বলল, পিয়ালের সঙ্গে কি কথা বলছিলি?
ফাতিমকে কিছু বলতে না দেখে ইয়াসমিন রেগে গেল কিরে কথা বলছিস না কেন?
ফাতিম মাথা নিচু করে আস্তে করে বলে, ফুপি আমি তোমাকে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না প্লিজ।
ইয়াসমিন কি ভেবে একটু চিন্তিত হল তারপর নরম কন্ঠে বলল, মাহিন কেমন আছে? ও কি নিয়মিত চিঠি দেয়? তুই কি ঠিকমতো লিখিস?
ফাতির মাথা ঝুকিয়ে বলল,হুম। ফাতিম আবার বলল আজকে ফোন দিতে পারি?
ইয়াসমিন বলল হ্যাঁ। এখন দিবি?
ফাতিম বলল, এখন না। তুমি লকটা খুলে রাখ আমি পরে একসময় দিব।
ইয়াসমিন বলল ঠিক আছে কথা শেষ হলে আমাকেও দিস।
পায়েলকে নিয়ে পিয়ালের বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। পিয়ালও প্রায় মাস দুয়েক পর হোস্টেল থেকে আজ বাড়িতে ফিরলো। বাসায় পৌঁছেই দাদির ঘর থেকে খিলখিল আওয়াজ শুনতে পেল। সুরভীর সাথে তার বিয়ের বছর দেড়েক পেরিয়ে গিয়েছে। সে বাড়িতে থাকলে সুরভীর সাথে একসঙ্গে রাতে ঘুমানো আর প্রয়োজনে রাতে কাছাকাছি আসা ছাড়া সুরভীর সঙ্গে তার আর কোন সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। সুরভীর পক্ষ থেকেও তেমন কোন আগ্রহ সে দেখে নাই আর তার তো ইচ্ছেই করেনি।তাইতো সুরভীর এমন আচরণে সে খুশিই ছিল। বরঞ্চ উল্টো হলেই হয়ত তার বিরক্তিকর মনে হতো বা লাগতো। সে বাড়িতে পৌঁছে তার ঘরে গিয়ে ব্যাগ রেখে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হতেই সুরভীর সঙ্গে দেখা হল। সুরভী তাকে দেখে তার দৃষ্টি নিচে নামিয়ে নিল। তার মনে হলো সুরভী কিছুটা বদলে গেছে তার মধ্যে আগের চঞ্চলতা নেই তাকে দেখলেই চুপ হয়ে যায়। সেও কিছু বলল না। মা দাদীর সঙ্গে কথা বলে বাজারের দিকে চলে গেল।
পিয়াল বাড়িতে ফিরল অনেক রাতে প্রায় রাত এগারোটা। আজ রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাতে সে বিষন্ন ছিল। তার মাথার মধ্যে ফাতিম আর ফাতিমের বলা কথাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছিল। তাইতো আড্ডা শেষে সে বাড়িতে না ফিরে বাড়ির পাশে আমগাছটার নিচের মাচায় দীর্ঘক্ষণ বসে ছিল। পায়েল সুরভীর সঙ্গে গল্প করছিল পিয়ালকে দেখে পায়েল বলল, ভাইয়া আব্বার ঘরে গিয়ে দেখা করে এসো, আব্বা তোমাকে ডেকেছিলেন।
নিজাম বলল, তোর পড়ালেখা কেমন চলছে?
পিয়াল বলল, ভালো।
এখন রাত কয়টা বাজে সেদিকে খেয়াল আছে? সারাদিন শুধু বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাফেরা। এতদিন পর বাড়িতে এসেছিস, বাড়িতে যে তোর স্ত্রী আছে সেটা কি মনে আছে?
পিয়াল কিছু বলল না চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো।
নিজাম আবার বলল, বিয়ে করেছিস অতএব ঠিকমতো বউয়ের দায়িত্ব পালন করতে শিখ। বৌমার ভালো-মন্দের খেয়াল রাখার দায়িত্ব তোর কথাটা যেন মনে থাকে। ঠিক আছে এখন যা। বৌমা অপেক্ষা করছে।
সুরভী ঘরে এসে দেখলো পিয়াল খাটে হেলান দিয়ে বসে আছে। পিয়ালের সঙ্গে চোখাচোখি হতেই সে তার দৃষ্টি নামিয়ে নিল। সে দৃষ্টি নামিয়েও বুঝতে পারল পিয়াল তার দিকেই তাকিয়ে আছে, এর আগে পিয়াল কখনোই এভাবে তার দিকে তাকিয়ে থাকেনি। অভিমান আর কষ্টগুলো লুকাতে দ্রুত সে বালিশটা ঠিকঠাক করে উল্টো দিকে ঘুরে কাত হয়ে শুয়ে পড়লো। ইদানিং কেন জানি পিয়ালের উপস্থিতিতে তার অস্বস্তি বেড়ে যায়। সে এখন আগের চেয়ে আরো বেশি পরিণত হয়েছে বুঝতে শিখেছে সম্পর্কের মানে। পিয়ালের শীতলতা তাকে বড্ড বেশি পীড়া দেয়। শরীরে পিয়ালের হাতের স্পর্শে সে জমে গেল আর সেই সাথে মনের ভিতরের রাগ, ক্ষোভ আর অভিমানগুলো বিস্ফোরিত হতে চাইলো। সে ভাবে এভাবেই কি পিয়ালের সাথে তার জীবন কাটিয়ে দিতে হবে? হঠাৎ পিয়ালের কন্ঠে এখনই ঘুমোবে শুনে সে কোন উত্তর দিতে পারল না কান্না কন্ঠকে আটকে ধরল। পিয়ালকে তার আজ বড্ড বেশি অপরিচিত মনে হচ্ছে। পিয়াল তাকে আলতো হাতে শোয়া থেকে উঠিয়ে খাটে বসিয়ে বলল, আজ আমরা ঘুমাবো না, সারা রাত দুজন গল্প করব। সারারাত জেগে থাকতে পারবে তো?
সুরভী মুখে কিছুই বলতে পারল না। সে এই প্রথমবার আবেগে পিয়ালকে জড়িয়ে ধরল আর খুশিতে কান্না করতে লাগলো।
টেলিফোনের শব্দে শায়লার ঘুম ভেঙ্গে গেল। উদ্বেগ নিয়ে ফোন ধরতে ধরতেই ওপাশ থেকে নীরবতা। শায়লা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো 11:30। শায়লা বিরক্ত হয়ে বললেন কে বলছেন প্লিজ। ফাতিম সালাম দিয়ে বলল, মা কেমন আছেন?
শায়লা কিছুটা ভয় নিয়ে জানতে চাইলো কি ব্যাপার মা কেমন আছো এত রাতে? কোন সমস্যা হয়নি তো?
ফাতিম লজ্জিত হয়ে বলল সরি মা। এমনিতেই ফোন দিয়েছি আপনারা কেমন আছেন? বাবা কেমন আছেন?
আমরা ভালো আছি। মাহিনের সঙ্গে কথা বলতে চাও দাঁড়াও ওকে ফোনটা দিচ্ছি।
হ্যালো আফরি কেমন আছো? সব কিছু ঠিকঠাক?
জানিনা। তুমি কেমন আছো?
মনটা কি বেশি খারাপ? তুমি চাইলে আমি তোমার সঙ্গে দেখা করতে রাজশাহীতে যেতে পারি।
না এখন আসতে হবে না। কয়েকদিন পর আমি বাড়িতে যাব আগামী দুই সপ্তাহের জন্য কলেজ বন্ধ ।মাহিন?
বলো
কতদিন পর আমাদের কথা হচ্ছে? তুমি এতদিন আমাকে ফোন দাওনি কেন?
ফোন তো দিয়েছিলাম তোমার রোবট ফুপি বলল, তুমি নাকি ঘুমিয়ে আছো।
হুম। তুমি কেমন আছো? তোমার শরীর ঠিক আছে?
আলহামদুলিল্লাহ। এবার একটু হাসো তোমার হাসি শুনলে আর একটু ভালো থাকবো।
মিনিট পনেরো তারা দুজন মধুর মধুর গল্পে কাটালো। তারপর হঠাৎ করেই ফাতিম বলল,
এবার যদি আমাকে রাজশাহীতে ভর্তি হতে বলে আর তুমি যদি কোন কিছু না বল, তাহলে তোমার সঙ্গে আর কথা বলবো না। যতদিন না তুমি আমাকে, তোমার ঘরে উঠিয়ে নিবে।
কি হলো আবার, রেগে যাচ্ছ কেন? ভেবে বলতো সত্যিই কি আমার কিছু করার ছিল? ফাতিমকে চুপ থাকতে দেখে মাহিন আবার বলল, লাইফের গোল এত ছোট রেখোনা। লাইফের যদি আলটিমেট গোল ঠিক রাখো তাহলে সবকিছু মেনে নিতে সহজ হবে। আর তোমার মনও প্রশান্তিতে থাকবে। আফ্রি?
হুম
বউ তোমাকে ভালোবাসি অনেক অনেক অনেক।
আমিও তোমাকে ভালোবাসি। সরি ডিয়ার হাজবেন্ড।
নামাজ পড়েছ?
না পড়ব।
যতই ব্যস্ত থাকো, মন খারাপ যাই হোক না কেন, নামাজ ও কোরআন পড়া বাদ দেওয়া যাবে না। নিয়মিত পড়বে। লাইফের আলটিমেট গোলের চেয়ে আর কিছুই ইম্পরট্যান্ট না বুঝলে। আমি হেভেন চাই, আর সেখানে তোমাকেও চাই। এবার ফোন রাখি। নামাজ পড়ে ঘুমাও।
হুম।ভালো থেকো।
চলবে…….
18/05/2026
𝗟𝗮𝗱𝗱𝗲𝗿 𝗼𝗿 𝗥𝗼𝗮𝗱
রেশমা
𝟮𝟵
রোদ রুবাদের শীতকালীন ছুটি এখনো শেষ হয়নি।রাহাতও পৌনে সাতটার দিকে অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে গিয়েছে, আগামীকাল ফিরবে। রাহাতকে বিদায় দিয়ে নীলা আবার ঘুমিয়ে পড়েছে। তাইতো নীলার আজ ঘুম থেকে উঠতে বেশ দেরি হয়েছে। সে ফ্রেস হয়ে নিচে নেমে দেখে ডাইনিং টেবিলে বসে তার বাবা-মা, শাশুড়িমার সঙ্গে গল্প করছেন। রোদ রুবাবও ঘুম থেকে উঠে পড়েছে।
শাশুড়ি নীলাকে দেখে বলল দেখো কে এসেছে?
নীলা এত সকালে তার বাবা মাকে দেখে একটু অবাক হয়নি। নীলার বাবা রিটায়ার্ড করেছেন বছর পাঁচেক হলো। তবে বছরখানেক হলো ওনার ডাইবেটিস ধরা পড়েছে। সেজন্য প্রতিদিন সকালে তার বাবা তার মাকে নিয়ে সংসদ ভবনের আশেপাশের এলাকায় হাটতে বের হন। যেদিন বাবার তাকে দেখতে খুব ইচ্ছে করে । সেদিন ধানমন্ডি লেকের পাড়ে হাঁটতে আসেন। হাঁটা শেষে সোজা নীলার বাসায়। বাসায় এসে খুব বেশিক্ষন দেরি করেন না এই আধাঘন্টা কখন আবার ঘন্টাখানেক তারপর চলে যান।
নীলা হাসি মুখে তার বাবা মাকে সালাম দিয়ে কেমন আছেন জিজ্ঞেস করল। তারপর তাদের পাশে চেয়ারে বসতে বসতে বলল,
সরি মা আমার উঠতে দেরি হয়ে গেছে আপনারা নাস্তা করেছেন? সকালে ওষুধ খেয়েছেন?
হ্যাঁ আমরা খেয়েছি, রোদ রুবাবও খেয়েছে, এবার তুমি খাও। খেয়ে আমাদের জন্য দুধ চা বানাও আজকে আমরা তোমার হাতের দুধ চা খাব।
নীলার বাবা বলল তা তো অবশ্যই বেয়ান এত দূর কষ্ট করে এসেছি মেয়ের হাতের দুধ চা না খেলে কি হবে? বাসায় এখন দুধ চা খাওয়া নবীন নিষিদ্ধ করেছে। সে নিজেও বাসায় দুধ চা খায়না।
বেয়াই আপনার মেয়েও আমাকে খেতে দেয় না। তাইতো আপনারা আসলে সুযোগের সৎ ব্যবহার করি। আপনাদের সামনে তো আর কিছু বলতে পারে না। কয়দিন পর তো মারাই যাব এখন আর এত ডাক্তারের আদেশ নিষেধ মেনে চলে কি হবে বলেনতো?
নীরার মা তার বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলল, তোমার জন্য তো আমারও খাওয়া হয় না আমাকে তো আর ডাক্তার নিষেধ করেনি।
নীলা ভাবলো, বাবা-মা’র বয়স বেশি বলে আমরা সন্তানরা তাদের ভালো লাগা, মন্দ লাগা বিবেচনায় না নিয়ে আমরা তাদের উপর অতিরিক্ত বিধি নিষেধ চাপিয়ে দিচ্ছিনা তো? নীলা বলল,সরি, আমি মনে হয় বেশি বেশি করে ফেলেছি। এরপর থেকে আপনাদের কী কী করতে ও খেতে ইচ্ছে করে জানাবেন। শুধু একটাই রিকোয়েস্ট আপনাদের ইচ্ছে আর ডাক্তারের পরামর্শ ব্যালান্স করে চলবেন।
নীলার বাবা তার মাকে বলল, এবার বুঝেছো আমি কেন এত মেয়ের জন্য ঘ্যানর ঘ্যানর করি।
নীলের মা হেসে মাথা দুলাতে দুলাতে বলল জানি তো। তাই বলে….
নীলার বাবা তার মাকে কথা তার কথা শেষ করতে দিল না। থামিয়ে দিল বলল, এখন আর শুনিও না প্লিজ। জানি তুমি কি বলবে, বাসায় সারাদিনই একই কথা।
চার ভাই বোনের মধ্যে নীলা তৃতীয়। রাহাত ও সে দুজনের বাবা মায়ের তৃতীয় সন্তান। এই একটা মাত্র বিষয়ে তাদের মিল খাপে খাপ।বাবা মায়েরা সাধারণত তাদের প্রথম ও ছোট সন্তানকে একটু বেশি আদর করেন। কিন্তু নীলার ক্ষেত্রে হয়েছে ঠিক উল্টো তার বাবা তাকে খুব বেশি ভালবাসেন। বাবা মনে হয় তাকে নিয়ে বেশ চিন্তাও করেন। কিন্তু দৃশ্যত তাকে নিয়ে চিন্তার কোন কারণই নেই। সে স্বামী, সন্তান, শ্বশুর বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি লোকজন সবাইকে নিয়ে ভালই আছে। আর রাহাতও শ্বশুর-শাশুড়িকে বেশ শ্রদ্ধা সম্মান করে। তার বাবার তিন মেয়ে জামাই এর মধ্যে রাহাতই তার বাবার সবচেয়ে প্রিয়।
নীলার শাশুড়ি তার বাবা-মাকে দুপুরের খাবার খেয়ে যেতে অনুরোধ করলেন। ওদিকে রোদ রুবাবও নাছর বান্দা। তারা বলেছে, বিকেলে তাদের খেলা শেষ করে নানু ভাই নানুমুনির সঙ্গে তারাও যাবে।
রাত আটটা। টুনির মা বিকেলের সব কিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাসন গুলোর উপুড় করে পানি ঝরাতে টেবিলের উপর রেখে তার থাকার রুমে গিয়েছে। আজ রাতে আর নীলার কিছু খেতে ইচ্ছা করছে না বিকেলে বেশ ভারী নাস্তা করেছে। তার শাশুড়ি মা ও কিছু খাবেন না। বাসাটা আজ বড্ড খালি নিচে তার শাশুড়ি মা উপরে শুধু সে একা। তার অসাবধানতায় টেবিল থেকে একটা কাঁচের পাত্র পড়ে গেল। ঝন ঝন শব্দ হলো তবে খুব বেশি না। শাশুড়ির রুম থেকে কোন আওয়াজ এলো না। সে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো, সে দেখলে পাত্রটা অসংখ্য ছোট ছোট টুকরায় ভাগ হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কোন কিছু ভেঙ্গে এতো ছোট ছোট টুকরায় বিভক্ত হতে ইতিপূর্বে সে দেখেনি। মনে হলে ভাঙ্গা এই টুকরো গুলো তার হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি। সে শান্ত ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তারপর টুকরোগুলোকে একত্র করে পলিথিনে জড়িয়ে ময়লার বিনে ফেলে দিল।
রাত সবে সাড়ে আট নীলার এত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস নেই। টিভি ছেড়ে বিছানায় শুয়ে কিছুক্ষণ এপাশ ওপাশ করল। টিভি দেখতেও ইচ্ছে করছে না। সে উঠে একটা গল্পের বই হাতে নিল। তারপর সাইড টেবিলের ড্রয়ার থেকে তার ডাইরিটা নিয়ে বিছানায় এল। ডাইরিটা বেশ পুরনো বিয়ের পর রাহাত অফিস থেকে ডায়েরিটা এনে তাকে দিয়েছিল। ডাইরিতে তার জীবনের খুব সুন্দর সুন্দর মুহূর্তের কিছু কথা লিখা আছে। লিখা আছে না পাওয়ার হিসাব কিভাবে মুছে দিয়ে সেখানে শুধুই পাওয়ার হিসাব গুলো মনে রেখে জীবনটা সুন্দর করে চালিয়ে নিতে হয়। লেখা আছে তার ভেঙ্গে পড়া নিজেকে প্রত্যেকবার কিভাবে নতুন করে গড়ে নতুন উদ্যমে শুরু করে তার গোপন কথা। ডাইরিতে লেখা সুন্দর সুন্দর মুহূর্তের কথাগুলো পড়ে তার মনটা পিছনে ফিরে সেই মুহূর্তগুলো অনুভব করল। রাহাতকে তার মনে পড়ছে। এই ডাইরির সবকিছুই রাহাতকে নিয়ে লেখা।
সে ডাইরিটা বন্ধ করে চোখ বন্ধ করে রইল।
টেলিফোনের শব্দে সে চোখ মেলে না উঠেই হাত বাড়িয়ে ফোনটা কানে ধরল। টেলিফোনের ওপাশে দীপার কণ্ঠ শুনেই সে বিছানায় উঠে বসলো। দীপা তার সেকেন্ড কাজিন আবার ভার্সিটির বন্ধুও। সেকেন্ড ইয়ারে তার বিয়ে হয় তারপর কোনমতে অনার্স শেষ করেছে। দীপা প্রথমে জানতে চাইলো আমি আমার বেডরুমে কিনা? রাহাত আছে কিনা? আমি জানালাম আমি বেডরুমেই আছি রাহাত বাসায় নেই। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। তারপর বলতে লাগল তার ব্যক্তিগত জীবনের কথা। দীর্ঘ সময় ধরে আমরা কথা বললাম। দীপা তার সমস্যার কথা আমার সঙ্গে প্রায় শেয়ার করে। তবে আজ তার কন্ঠে তাকে একটু বেশি বেসামাল ক্লান্ত মনে হল। তাইতো রাহাত ফোন দিতে পারে জেনেও তার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা চালিয়ে গেলাম।মানুষের জীবনটা বড়ই অদ্ভুত, বিচিত্র রকমের মানুষের বিচিত্র রকমের জীবন।
নীলার মনে হলো আমারা কিসের পিছনে ছুটছি। একটা কিছু পরিষ্কার আমরা যে যার পিছনেই ছুটি না কেন এ ছোটা ছুটি অনন্তকালের নয়। নীলা তার লাভ ক্ষতির হিসেব বুঝতেই তার ছুটে চলার বেশিরভাগই তার কাছে অর্থহীন মনে হতে লাগল। সে তার মনটাকে ডাইভার্ট করতে বারান্দায় গিয়ে চেয়ার টেনে বসলো। তারপর দীর্ঘ সময় সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে গল্প করল। গল্প শেষে নীলা অনুভব করল তার বেশ নির্ভার লাগছে। বিছানায় এসে গা এলিয়ে দিয়েই রাহাতের বালিশটা জড়িয়ে সে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।
চলবে………
11/05/2026
𝗟𝗮𝗱𝗱𝗲𝗿 𝗼𝗿 𝗥𝗼𝗮𝗱
রেশমা
𝟮𝟴
দেখতে দেখতে অনেকগুলো দিন কেটে গেল বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ পেরিয়ে হেমন্তও শেষের দিকে। আশানুরূপ ফলাফল করেও ফাতিমের ঢাকায় ভর্তি হওয়া হলোনা। ফাতিমের মনটা বেশ খারাপ হয়েছিল তবুও সবার কথা বিশেষ করে বাবার কথা মেনে আর নাছোড় বান্দা ছোট ফুফির জেদ যুক্তির কাছে হেরে ফুফির কলেজ, রাজশাহী কলেজে ভর্তি হতে হয়েছে। ইয়াসমিন রাজশাহী কলেজের শিক্ষিকা। সে ফুফির সঙ্গেই থাকে ফুফির বাসায়। সেখানে ইলোরা, রূপমের সঙ্গে তার ভালোই সময় কাটছে, তবে যখন একা থাকতে খুব ইচ্ছে করে তখন এই দুজনের পিছনে লেগে থাকা অসহ্য লাগে।আবার কলেজে পায়েল আছে সেই সাথে আরো নতুন একজন তাদের বন্ধু হয়েছে সবমিলিয়ে এখন রাজশাহী ভালোই লাগছে।
সে সাধারণত কারো সামনে নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করেনা, আজ কিছু নতুন অনুভূতি যেমন তাকে আবেশিত করেছে, শিহরিত করেছে তেমনি মাহিনের এভাবে অপমানিত হয়ে চলে যাওয়া তার মনকে বড্ড অশান্ত, অস্থির, এলোমেলো করেছে, সেই সাথে দুশ্চিন্তাও যোগ হয়েছে । সে গ্রিল ধরে দাড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে। কিন্তু তার সকল চেষ্টা বিফলে গিয়ে দু’চোখ নোনা জলে ভরে উপচে পড়ছে কোন বাঁধায় বাঁধ মানাতে পারছেনা। তাইতো একটু আগে ফুফির উপস্থিতিও তাকে লুকাতে দেয়নি শুধু গ্রিলে কপালটা ছুঁয়ে দিয়েছে। ফুফিও কোন কথা ছাড়াই তাকে কিছুক্ষন জড়িয়ে ধরে ছিল তারপর চলে গেছেন। তার বাবা আর ফুফির এমন আচরণ, তারা কী চায় সে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারেনা। মাহিনকে উনারা খুব পছন্দ করেন এটা যেমন সত্যি তেমনি মেয়ের জামাই হিসেবে মেনেও নিয়েছেন তবে কেন এমন করে?
মাহিন তাকে সারপ্রাইস দিতে না জানিয়েই রাতের ট্রেনে চড়ে সকালে নেমে বাসায় না যেয়ে সোজা তার কলেজের গেটে দাড়িয়ে ছিল। সে ফুফির সাথেই কলেজে যায়। মাহিন ফুফিকে সালাম জানিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করে ফুফিকে বলল, আজ ও ক্লাস না করুক একটু ঘুরে আসি?
গেটের সামনে দাড়িয়ে ফুফি তেমন কিছু বলতে পারলোনা। মাহিনের দিকে শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, যাও তবে বারোটার মধ্যে বাসায় ফিরবে। আমি একটা ক্লাস নিয়ে দশটায় বাসায় ফিরব। তারপর ফাতির দিকে ফিরে বলল, কি বুঝতে পেরেছিস আমি দশটায় বাসায় থাকবো। সে মাথা নেড়ে হ্যা জানালো।
ফাতির মনে হল মাহিন সরাসরি বাসায় না এসে ভালো করেছে, হয়ত মাহিন বুঝেই আসেনি । বিয়ের পর মাহিনকে তার, দুজনে দুজনকে কাছে পাবার তৃতীয় দিন। অন্তত ঘন্টা চারেক তারা সুন্দর সময় কাটিয়েছে রিক্সায় বসে ঘুরেছে, পারিস রোডে হাত ধরে পাশাপাশি হেঁটেছে, মাহিন একটা বেলি ফুলের মালা তার হাতে পড়িয়েছে,ক্যাম্পাসে বসে বাদাম খেয়েছে তারপর রেললাইনের পাশে একটা দোকানে বসে নাস্তা করে বাসায় ফিরেছে, যদিও ফুফিকে দেওয়া কথা বারোটার ভিতরে বাসায় পৌঁছাতে পারে নাই। তাতে কী সেতো অন্য কারো সাথে ঘুরতে যায়নি, সেতো তার একান্ত আপন মানুষের সাথেই ছিল। তার ইচ্ছে করছিলোনা এতো দ্রুত বাসায় ফিরতে কিন্তু মাহিন বলল, চল ফুফি রাগ করবেন। দুপুরে খাবার শেষে খাবার টেবিলে বসেই ফুফি সরাসরি মাহিনকে বলল, তুমি কি বিকেলের ট্রেনে ফিরবে না রাতের ট্রেনে। বিকেলের ট্রেনে ফিরলে এখনই চা দিতে বলি, চা খাবে? মাহিন জানাল, সে রাতের ট্রেনে ফিরবে। কিন্তু ফাতিম জানে, মাহিন আগামীকালের টিকিট কেটেছে। তারপর ফুফি রূপমকে বলল, ভাইয়াকে নিয়ে রুমে যাও আর ইলোরা তুই ফাতির সঙ্গে ওর রুমে যা । ইলোরা আর রূপম এক রুমে থাকে ফাতিম ওদের পাশের রুমে। তবে এই দুরুমের জন্য একটা কমন বারান্দা আছে। বারান্দা দিয়ে এক রুম থেকে আরেক রুমে যাওয়া যায়। কিন্তু ফাতিমের ফুফির উপর এত রাগ হলো সে আর তার রুম থেকে বের হলোনা। সন্ধ্যায় মাহিন চলে যাবার সময়ও ফুফির ডাকে ফাতিমকে রুম হতে বের হতে না দেখে মাহিন ফুফিকে বলে ফাতির রুমে এসেছিল। মাহিন তাকে জড়িয়ে নিলে সে আরো শক্ত করে মাহিনকে জড়িয়ে নিল। মাহিন, তার চুলগুলো মুখ থেকে সরিয়ে আদর করে বলল, আফরি ভালো থেকে। বাসায় যেয়ে ফোন দিবো। ফাতিম বেশ ভালোই বুঝতে পারছে মাহিন বাসায় গিয়ে ফোন না দেওয়া পর্যন্ত তার শান্তি মিলবে না। সে গ্রিল থেকে মাথা সরিয়ে রুমে আসল।
আগামীকাল শুক্রবার, ইয়াসমিনের ঘুম পাচ্ছেনা সে এপাশ ওপাশ করছে। ফাতি রাতে খায়নি তারও খেতে ইচ্ছে করেনি। তার মনটা ও ভালোনা মাহিন ট্রেন পেল কিনা? সে ইচ্ছে করেই মাহিনের সাথে এমন করেছে যাতে সে এখানে ইচ্ছে হলেই আসার চিন্তা না করে। মেয়েদের নিজেদের সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার জন্য নিজের পায়ে দাঁড়ানো খুব বেশি প্রয়োজন। কেননা অনেক সময় নারীদেরকে অনেকে শুধু ব্যবহার্য বস্তু মনে করে। তারা নারীদের প্রাপ্ত মর্যাদা দিতে নারাজ।যদিও মাহিনকে বোধসম্পন্ন মানুষই মনে হয় তবুও তারা দুজনে এখন কেউ কারো দায়িত্ব নেবার উপযুক্ত নয়। সে আবার ভাবলো, নারীর এধরণের চিন্তা করতেই কেন হচ্ছে? এর দায় কার নারীর নিজের না পুরুষের ব্যার্থতা? পুরুষকে সৃষ্টিকর্তা সংসারের প্রধান বানিয়েছেন নারীর দায়িত্ব দিয়ে,নারীর উপর প্রাধান্য দিয়ে তাদেরকে সম্মানিত করেছেন অথচ তারা অনেকে নিজেদের সন্মান রাখতে জানেনা । অন্যকে তার প্রাপ্ত সন্মান অধিকার না দিয়ে কি সত্যিকারের সন্মান পাওয়া যায়।? তাহলে কি তারা হোক পুরুষ বা নারী সৃষ্টিকর্তার দেওয়া সন্মান তারা নিজের করে রাখতে যোগ্য? তিঁনি নারীদেরকে পুরুষদের চেয়ে বেশি সম্মানিত করেছেন নারীদের মা বানিয়ে। তিঁনি পুরুষদের নারীদের তুলনায় শারীরিক ভাবে শক্তিশালী করেছেন। শর্ত সাপেক্ষে একাধিক স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়েছেন। তাই বলে সৃষ্টিকর্তা কি পুরুষকে বহুগামী করে সৃষ্টি করেছেন? যদি পুরুষকে বহুগামী করে সৃষ্টি করতেন তাহলে আদি পুরুষের জন্য একাধিক স্ত্রীও সৃষ্টি করতেন। সব ক্ষেত্রেই কি সৃষ্টিকর্তা পুরুষকে নারীদের চেয়ে বেশি কার্যক্ষম করে সৃষ্টি করেছেন ? স্বাভাবিক ক্ষেত্রে একজন পুরুষ কি পারবে একজনের পরই আরেকজন নারীকে শয্যা সঙ্গী করতে? তবে তারা কি তাদের সক্ষম একাধিক স্ত্রীর হক মিটাতে পারবে? সমতা রাখতে পারে? আর নারী শরীর? আল্লাহ কি শুধু নারীকে ধর্য্যশীল হতে বলেছেন? কাউকে শুধুমাত্র সাহায্য করতে আল্লাহর আদেশই যথেষ্ট।একেক জনের পরীক্ষা একেক রকম। সবকিছুই আল্লাহর পরীক্ষা।আল্লাহ তাঁর বিশেষ বান্দাদের বিশেষ কিছু করতে যেমন আদেশ দিয়েছেন তেমনি সেসব বান্দাদের তেমন প্রয়োজন অনুসারে সক্ষমতাও দিয়েছেন। আল্লাহ ন্যায় বিচারক, তাঁর কাছে তাঁর সকল সৃষ্টির সবরকম হকই গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ মানুষকে চিন্তা করতে বলেছেন তার আয়াত নিয়ে, সৃষ্টি নিয়ে।আল্লাহ পবিত্র কোরআনে পড়তে বলছেন, কিন্তু চিন্তা করতে বলেছেন অনেক বার।আল্লাহ মুমিন নারীদের বলেছেন পর্দা করতে।পর্দা কি শুধু শরীর ঢেকে রাখা? মুমিন পুরুষদের বলেছেন দৃষ্টি সংযত রাখতে। যার দৃষ্টি সংযত তার জন্য সবকিছুই সংযত রাখা সহজ। কিছু মানুষ আল্লাহর আদেশের চেয়ে সুন্নাহ পালনকে বেশি গুরুত্ব দেয় নিজেদের ভালো অনুভব করাতে আবার কিছু মানুষের সুন্নাহতে এলার্জি তারা মনে করে একমাত্র আল্লাহর হকই চূড়ান্ত।আবার কেউ কেউ বান্দার হক বলতে সেসব হককেই প্রাধান্য দেয় যা ক্ষতি পুরুন দেওয়া সম্ভব। অথচ সময়ই যে জীবন তা ভাবেনা, কারো জীবন থেকে অন্যায়, অত্যাচার, সীমালংঘনের মধ্যে দিয়ে সময় নিয়ে নিলে সেটার ক্ষতিপুরুন কেমনে দিবে? আবার কেউ কেউ মনে করে অন্যের হক আদায়, জীবন সঙ্গীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করা সুন্নাহ আল্লাহর আদেশ না। ধর্মই যদি কারো রুজি রোজগারের একমাত্র পথ হয় তাহলে তাদের অনেকেই নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ধর্মের অপব্যাবহারে জড়িয়ে পড়তে পারে, সেই সাথে কিছু মস্তিষ্কের ব্যবহারহীন মানুষকেও ধর্মের কথা বলে বিপথগামী করতে পারে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার তাদের কারণে কোরআন না পড়া চিন্তাশীলেরা ধর্মে আকৃষ্ট হওয়ার বদলে দূরে সরে যেতে পারে। আবার রাষ্টের বিভিন্ন পদ পদবিতে থাকা ব্যাক্তি ছাড়া যাদের রাজনীতি করা ছাড়া আর অন্য কোনভাবে অর্থ উপার্জনের পথ না থাকে তাহলে সেও অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নিবে বা সেই সম্ভবনাই বেশি । যদিও আল্লাহ ভালো জানেন।সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভয় সেনুসারে স্বাস্থ্যকর পারিবারিক সম্পর্কই পারে সমাজের অবক্ষয় রোধ করতে। আমাদের পরিবারগুলো সুন্দর হলে সামাজিক মূল্যবোধ সুন্দর হবে ইনশাআল্লাহ।
পানির পিপাসা ইয়াসমিনকে তার এলোমেলো চিন্তা ছেড়ে বিছানা থেকে উঠতে বাধ্য করল। সাইড টেবিল থেকে পানির গ্লাসটা হাতে নিতে গিয়ে ফটো ফ্রেমে চোখ পড়ল। ওহ রায়হান তো এখনো ফোন দেয়নি। মনের ভিতর আনচান শুরু হলো পুলিশের ডিউটি ও কি এখনো বাসায় ফিরেনি? হঠাৎ টেলিফোনের রিং এ হাতের গ্লাস থেকে কিছুটা পানি পড়ে গেল। অন্য হাতে ফোনটা কানে রাখতেই রায়হানের হাস্যজল কণ্ঠ শুনে পানির তৃস্না ভুলে তাদের দুজনের সারাদিনের গল্পে মজে উঠল।
চলবে…………
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Telephone
Website
Address
4
Dhaka
1230