Zero One BD

Zero One BD

Share

31/05/2026

সাম্প্রতিক সময়ে কাল্টচাঁড়ালদের আরেকটি রেটরিক হচ্ছে - ‘শরিয়াহ থাকলে কখনো ধর্ষনের শাস্তিই হত না, ৪ জন সাক্ষী পাবে কই?’ অনেকে আমাদের পোস্ট গুলোতে কমেন্ট ও করেছে এ ব্যাপারে।

হয়ত অনেকেই কনফিউজড হয়ে যেতে পারেন, তাদের জন্য আমরা বলব - টেনশন করার কোন কারণ নেই। এটাই সুযোগ, আপনি যদি সত্যিই শরিয়াহ ভালোবাসেন, অন্তর থেকে শরিয়াহ’র বাস্তবায়ন চান তাহলে আপনি অন্তত এই ইস্যুকে সামনে রেখে কাল্টচাঁড়াল এই কথার উত্তর খুঁজে বের করার চেস্টা করুন। শরিয়াহ’র প্রতি আপনার সম্মান এবং ভালোবাসা আরও বেড়ে যাবে ইনশা আল্লাহ। তখন তারা উত্তর করলে আপনি নিজেই তাদের সাথে বোঝাপড়া করে নিতে পারবেন ইনশা আল্লাহ।
বাস্তবতা হচ্ছে - তারা এসব গার্বেজ বলে পার পেয়ে যায় কারণ আমরা জানিনা তাই। আমরা জানিনা কিভাবে আমাদের আদর্শ, বিশ্বাস আমাদের আকিদাহ ডিফেন্ড করতে হয়, আর সেই সুযোগটাই তারা কাজে লাগায়। Let’s turn the table now on.

তাদের সামনে আমাদের দেশে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে ধর্ষকদের বিচার এবিং শাস্তির নাম্বার্স ছুঁড়ে দেন। তাদেরকে রসু খার কেইসে টেনে নিয়ে আসেন। তাদেরকে প্রশ্ন করেন - রামিশার খুনি এবং ধর্ষককে তাহলে রামিশার বাবার, আমার, আপনার ট্যাক্স এর টাকা দিয়ে রসু খার মত পেলে পুষে বড় করা হবে? উত্তর নয় প্রশ্ন করুন। উত্তর সবার জন্য নয়। তাদের জিগেস করুন আধুনিক সিস্টেমে কয়জন ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি বাস্তনবায়ন হয়েছে? তাদেরকে আর্গুমেন্ট দিয়ে নয়, নাম্বার্স দিয়ে চ্যালেঞ্জ করুন।
আর যারা এই কপি পেস্ট আর্গুমেন্ট নিয়ে খুব খুশিতে লাফাচ্ছে তাদের জবাব কি হবে? তাদের জন্য কোন জবাব নেই। কেন? কারণ they don’t qualify for the answer. কিছু প্রশ্নের কখনো কোন উত্তর হয়না। কারণ এজন্য নয় যে, সেগুলোর উত্তর নেই বরং কারণ এজন্য যে, প্রশ্নগুলো কোন উত্তরের আশায় করা হয়না বরং একটি প্রশ্ন দ্বারা আরেকটি প্রশ্ন, তারপরে আরেকটি, তারপরেও আরেকটি এভাবে আস্তে আস্তে মূল প্রসঙ্গকে আড়াল করে ফেলা হয়।
আরো লক্ষ্য করুন - প্রশ্ন যে কেউ করতে পারে, কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর উপলব্ধি করার সক্ষমতা সবার থাকবেনা। শরিয়াহ’র ব্যাপারে যাদের শিক্ষক ‘নাস্তিক ব্যানার্জি’ তাদের কাছে শরিয়াহ’র কনসেপ্ট এক্সপ্লেইন করার অর্থ তাদের উপরে জুলুম করা!

তাদের বিদ্বেষ এবং অহংকার তাদের অন্ধ করে রেখেছে, এমন নয় যে তাদের চোখ দেখেনা বরং তাদের অন্তর দেখেনা।
--

31/05/2026

জিন্নাহ'র ঢাকায় আগমনের ফলে ভাষা আন্দোলনে ভাটা পড়ে। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো ভাষা সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হতো। কিন্তু তার মৃত্যুর ফলে উপমহাদেশের রাজনীতির চিত্র বদলে যায়। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পরে রিজার্ভ ব্যাংকের অংশ হিসাবে পাকিস্তানের প্রাপ্য ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে ভারত যখন অস্বীকৃতি জানালো এবং এই টাকা না দেয়ার ফলে সদ্যজাত পাকিস্তান যখন নিদারুণ অর্থ সংকটে নিপতিত হয়ে অস্তিত্ব হারানোর উপক্রম হলো, পাকিস্তানের সেই দুঃসময়ে হায়দারাবাদের প্রধানমন্ত্রী মীর লায়েক আলী পাকিস্তানকে ২০ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জিন্নাহ'র মৃত্যুতে সমস্ত পাকিস্তান যখন শোকে মূহ্যমান তার দু'দিন পর ১৩ সেপ্টেম্বর ভারত হায়দারাবাদে আক্রমণ করে দখল করে।

১৯৪৮ সালের ১৮ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ঢাকায় আসেন। ২০ নভেম্বরে পল্টন ময়দানের এক জনসভায় তিনি বলেন, "আপনারা কখনোই মনে এ ধারণার স্থান দিবেন না যে, পশ্চিম পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দ ও সেখানকার জনগণ আপনাদের প্রগতি, সমৃদ্ধি ও হেফাজত সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন। তারা আপনাদের পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের খেদমতের জন্য সদা সর্বদা মনেপ্রাণে প্রস্তুত।" বাঙালিদের প্রাদেশিকতার নিন্দা করে তিনি বলেন, "পূর্ব পাকিস্তানের এক শ্রেণীর লোকের মধ্যে উগ্র প্রাদেশিকতার মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। আপনাদের স্মরণ রাখতে হবে যে, প্রকৃত মুসলমান কখনো তার চিন্তাধারাকে প্রাদেশিকতার সংকীর্ণ গন্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে না। পাঞ্জাবী, বাঙালী, সিন্ধী, পেশোয়ারী, পাঠান প্রভৃতির মধ্যে বৈষম্যের চিন্তা অন্তর থেকে মুছে ফেলতে হবে। ইসলামে ভেদাভেদের কোন স্থান নেই। আমরা পাঞ্জাবী, বাঙালী, সিন্ধী, পেশোয়ারী, পাঠান যা হই না কেনো আমাদের সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে যে আমরা 'পাকিস্তানী'।"

লিয়াকত আলী খানের আগমনে মুসলিম লীগের সোহরাওয়ার্দী গ্রুপ সিরাজউদ্দৌলা পার্কে এক জনসভার আয়োজন করে। উক্ত সভায় রাষ্ট্রভাষার দাবীসহ পূর্ব পাকিস্তানের অন্যান্য দাবী নিয়ে একটি প্রতিনিধি দল লিয়াকত আলী খানের নিকট যাওয়ার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। পরে শেখ মুজিব সহ অন্যান্যদের চাপে প্রতিনিধি দলের পরিবর্তে জনসভা শেষে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে এক বিরাট মিছিল নিয়ে লিয়াকত আলী খানের নিকট রওয়ানা হয়। রাষ্ট্রভাষা সহ অন্যান্য দাবীর সমর্থনে স্লোগান দিয়ে মিছিলটি এগিয়ে যায়। ফুলবাড়িয়া স্টেশনের নিকট পৌঁছলে পুলিশ মিছিল প্রতিরোধ করার জন্য টিয়ার গ্যাস ও লাঠি চার্জ কর। মাওলানা ভাসানী, শামসুল হক সহ কয়েকজনকে পুলিশ মিছিল থেকে গ্রেফতার করে। শেখ মুজিব পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে আত্মগোপন চলে যান। মিছিলের ফলে প্রতিনিধি দল লিয়াকত আলী খানের কাছে যেতে পারেনি। এমন উদ্দেশ্যহীন ব্যর্থ মিছিল করার জন্য সন্ধ্যায় দলীয় বৈঠকে মাওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিবকে তিরস্কার করা হয়।

২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ভিসি সুলতান উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে লিয়াকত আলী খানের সম্মানে আয়োজিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রদানের আহবান জানিয়ে মানপত্র পাঠ করেন ডাকসুর জিএস গোলাম আযম। ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এর সভাপতিত্বে "পূর্ব পাকিস্তান আরবী সংঘ" নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে আরবীকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি গণপরিষদে প্রেরণ করা হয়। ১৯৫০ সালের ১৮ জানুয়ারী রাজশাহী কলেজের কিছু ছাত্র আরবীকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবি করেন। তাদের পক্ষে স্টেট ব্যাংকের গভর্ণর জাহিদ হোসেন সরকারের কাছে আরবীকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব পেশ করেন। সিন্ধু আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও সিন্ধু আইন পরিষদের সদস্য সৈয়দ আকবর শাহ উক্ত প্রস্তাব সমর্থন করেন।

১৯৫১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী করাচীতে "বিশ্ব মুসলিম সম্মেলন" এর অধিবেশনে "নিখিল ভারত মুসলিম লীগ" এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ইসমাঈলী সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ নেতা সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান বলেন যে, আরবীকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করলে সমগ্র আরব জাহান, উত্তর আফ্রিকা ও ইন্দোনেশিয়ার মুসলমানদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ১০ ফেব্রুয়ারী আগা খানের বক্তব্যের বিরোধিতা করে পাকিস্তান বৌদ্ধ লীগের সেক্রেটারি রবীন্দ্রনাথ বর্মী বলেন, "পাকিস্তান মুসলিম লীগ কাউন্সিল সম্প্রতি এক প্রস্তাবে আরবীকে রাষ্ট্রভাষা রূপে গ্রহণের সুপারিশ করেছেন। পাকিস্তানের স্রষ্টা মরহুম কায়েদে আজম এই ঢাকা শহরে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে। কারণ ইংরেজি ভাষার পর উপমহাদেশের অধিকাংশ মানুষ উর্দু ভাষা সহজে বোঝতে পারে। কিন্তু পাকিস্তানের কোথাও আরবী ভাষায় কথাবার্তা বলা হয় না। পাকিস্তানের সংবাদপত্র ও সাময়িক পত্রাদিও উর্দুতে প্রকাশিত হয়। আমাদের মনে হয় আরবীর পরিবর্তে উর্দুই রাষ্ট্রভাষা করা উচিত।"

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন সোহরাওয়ার্দীর সমর্থক মুসলিম লীগের বিদ্রোহী ও প্রগতিশীল নেতা, কর্মী, সমর্থকদের নিয়ে "আওয়ামী মুসলিম লীগ" নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। মাওলানা ভাসানীকে সভাপতি ও শামসুল হককে দলটির সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৫১ সাল পর্যন্ত দলটির উল্লেখযোগ্য কোন বিকাশ ঘটেনি। শেখ মুজিব ও খন্দকার মোশতাক দলটির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। দল গঠিত হওয়ার সময় শেখ মুজিব জেলে ছিলেন। পরে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে খাদ্য আন্দোলনে জড়িত থাকায় আবার গ্রেফতার হন। ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর আততায়ীর গুলিতে লিয়াকত আলী খান নিহত হলে খাজা নাজিমুদ্দীন তার স্থলাভিষিক্ত হন।নুরুল আমিন পূর্ব পাকিস্তানের উজিরে আলা বা প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন (তখন সাধারণত প্রধানমন্ত্রী বা উজিরে আলা সম্বোধন করা হতো, পরবর্তীতে ভারতের অনুকরণে 'মূখ্যমন্ত্রী' বলা ও লেখা হচ্ছে)।

১৯৫২ সদলের ২৭ জানুয়ারী পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে পল্টন ময়দানের এক সভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন বলেন, "কায়েদে আযম উর্দুকেই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার কথা ঘোষণা করেছিলেন এবং সেই অনুযায়ী উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।" নাজিমুদ্দীনের এই ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় ২৯ জানুয়ারী ঢাবির ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল করে। ঐ দিনই পাকিস্তান যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক অলি আহাদ প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। ৩০ জানুয়ারী রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি ঢাবি ছাত্রদের নিয়ে প্রতীকী ধর্মঘট ও সভা আহবান করে। এ সময় বড়ো বড়ো বক্তৃতা দিয়ে বাংলা ভক্ত সেজে অনেকেই ছাত্রদের মাঝে জনপ্রিয় হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়েন।

৩১ জানুয়ারী পূর্ব পাকিস্তান যুব লীগ, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগ, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি, তমুদ্দুন মজলিস, নিখিল পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগ, ইসলামী ব্রাদারহুড, পূর্ব পাকিস্তান মোহাজের সমিতি সহ ঢাকার বেশ কয়েকটি সংগঠনের প্রতিনিধি ও ঢাকার সম্মানিত ব্যক্তির সমবায়ে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে "সর্ব দলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ" গঠিত হয়। পরিষদ ৪ ফেব্রুয়ারী ঢাকা সহ পূর্ব পাকিস্তানের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘটের কর্মসূচীর ঘোষণা দেয়। ধর্মঘটকে প্রত্যাখ্যান করে ঐ দিন সরকারি স্কুলগুল সাড়ে দশটার পরিবর্তে সকাল আটটায় ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দেয়। যথারীতি সারাদেশের কোমলমতি স্কুলের বাচ্চারাও দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। কেউ ধর্মঘটে যোগ দেয় কেউ ক্লাসে।

পূর্ব থেকেই পত্রিকাগুলোতে বাংলা, উর্দু, আরবী সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের কলম যুদ্ধ চলছিলো, ফেব্রুয়ারীতে সে যুদ্ধ আরো তীব্র আকার ধারণ করে। উল্লেখ্য পূর্ব বাঙলা বা পূর্ব পাকিস্তান থেকে তখন কোন দৈনিক বাংলা পত্রিকা প্রকাশ হতো না পশ্চিম পাকিস্তান থেকে কিছু ইংরেজি ও উর্দু দৈনিক প্রকাশ হলেও উচ্চ শিক্ষিত ও এলিট শ্রেণীর পাকিস্তানীরাই ছিলো এসবের পাঠক। জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে কয়েকটি বাংলা সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকা প্রকাশ হলেও সাহিত্য ও বিনোদন প্রেমীরা সেসবের পাঠক ছিলো। অন্যদিকে কলকাতা তথা ভারত থেকে প্রায় ১৪ টির মতো দৈনিক বাংলা পত্রিকা প্রকাশ হতো। তখন ভারত পাকিস্তানের জনগণের এক দেশ থেকে অন্য দেশে অবাধে প্রবেশ করতে পারতো। দৈনিক সংবাদের জন্য পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ জনগণ ভারতের পত্রিকার উপর নির্ভরশীল ছিলো এবং প্রায় সবগুলো ছিলো বাংলা ভাষায় সমর্থক।

একটা শান্ত শিষ্ট নিরীহ জাতিকে পত্রিকাগুলো চাইলে কিভাবে যুদ্ধোন্মাদ জাতিতে পরিণত করতে পারে সেটি জানার জন্য আমরা ইতিহাসের আরেকটু পেছনে যাই। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার শান্ত শিষ্ট নিরীহ জনগণ নিজেদের জড়ানোর কোন ইচ্ছে ছিলো না। এদিকে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের প্রশাসন যুদ্ধে জড়ানোর জন্য মরিয়া ছিলো। কিন্তু জনসমর্থন ছাড়া যুদ্ধে জড়াতে গেলে সরকার এবং প্রশাসনকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে উইলসন প্রশাসন আমেরিকার বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক জর্জ ক্রিলকে প্রধান করে একটি প্রচার কমিশন গঠন করে। কমিশন পত্রিকার মাধ্যমে মিত্র শক্তির নাগরিকদের উপর কেন্দ্রীয় শক্তির সৈনিকদের খুন, হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, নিপীড়নের চিত্র আমেরিকার সাধারণ মানুষের নিকট তুলে ধরে।

মাত্র ছয় মাসের মধ্যে আমেরিকার শান্তি প্রিয় মানুষ যুদ্ধোন্মাদ সাইকোপ্যাথে পরিণত হয়। যারা মিত্র শক্তির সব কিছু ধ্বংস করে দিতে চায়। নিজেদের জীবনের বিনিময়ে হলেও মানবতা বিরোধী অপরাধের হাত থেকে সবাইকে রক্ষা করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কমিশন জনগণের সামনে কেন্দ্রীয় শক্তির যে নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছিলো তার সব সত্য ছিলো না। যা ঘটেছিল তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি তারা প্রচার করেছিল। এরপর থেকে আমেরিকা যখনই কোন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশকে শায়েস্তা করতে চেয়েছে তখনই মিডিয়ার মাধ্যমে প্রোপাগাণ্ডা চালিয়েছে। ক্রিল কমিশনকে অনুসরণ করে দেশে দেশে মিডিয়াগুলো সাধারণত প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মিডিয়া যে প্রোপাগাণ্ডার মেশিন সেটি জিন্নাহ জানতেন বলেই তার বক্তৃতায় ভারতীয় পত্রিকা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে সাবধান থাকতে বলেছিলেন।

৮ ফেব্রুয়ারী যুবলীগের উদ্যোগ আয়োজিত এক সভায় সর্ব দলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রভাষা বাংলা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ২১ ফেব্রুয়ারী পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্র ধর্মঘটের আহবান করা হয়। লিয়াকত আলী খানের মৃত্যু ও দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হামিদুল হক চৌধুরী বরখাস্ত হওয়ায় কেন্দ্রীয় গণপরিষদের দু'টি আসন শূন্য হয়। শূন্য আসন দু'টিতে উপনির্বাচনের জন্য বাজেট বরাদ্দের লক্ষ্যে ১৪ ফেব্রুয়ারী গণপরিষদ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারী থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত বাজেট অধিবেশনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০ ফেব্রুয়ারী বিকেল তিনটায় স্পীকার আবদুল করিমের সভাপতিত্বে পূর্ব পাকিস্তান গণপরিষদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়৷ এরই মাঝে চীফ সেক্রেটারী আজীজ গোয়েন্দা বিভাগের মাধ্যমে খবর পান যে, ২১ ফেব্রুয়ারী বাজেট অধিবেশন চলাকালে ছাত্ররা গণপরিষদ ঘেরাও করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করবে। অধিবেশনে যাতে কোন বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

২০ ফেব্রুয়ারী অবিভক্ত বাংলার প্রাদেশিক মুসলিম লীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও পরবর্তীতে খেলাফতে রাব্বানী পার্টির সভাপতি আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্বের সভাগুলোতে মাওলানা ভাসানী সভাপতিত্ব করলেও সেসময় দলীয় গণসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন। ছাত্রদের পক্ষ থেকে তাকে বার বার মফস্বলের পোগ্রাম বাতিল করে ২১ ফেব্রুয়ারী ঢাকায় থাকার অনুরোধ করা হলেও তিনি তাদের অনুরোধ রাখেননি। উক্ত বৈঠকে ২১ ফেব্রুয়ারী ১৪৪ ধারা ভঙ্গ ও কর্মসূচি বাতিল নিয়ে আলোচনা শেষে উপস্থিত সদস্যদের মাঝে চারজন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ ও কর্মসূচির পক্ষে ভোট দেন, ১১ জন ১৪৪ ধারা ধারা মেনে কর্মসূচি বাতিলের পক্ষে ভোট দেন, কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কোন মতামত না আসায় মোহাম্মদ তোয়াহা ভোট দানে বিরত থাকেন। পরবর্তীতে কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকেও সবাইকে ১৪৪ ধারা মেনে চলার আহবান জানানো হয়।

সর্বদলীয় পরিষদের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা মেনে চলার সিদ্ধান্ত হলগুলোতে পৌঁছলে, ছাত্রদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কয়েকটি হলের ছাত্র নেতারা পরিষদের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল আটটা থেকেই বিভিন্ন স্কুল কলেজ থেকে ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করতে থাকে। নয়টা সাড়ে নয়টার দিকে ঢাবির আমতলার নীচে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর আগমন ঘটে। এসময় শেরওয়ানি ও জিন্নাহ টুপি পরিহিত আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক প্রবেশ করলে ছাত্ররা তাকে ঘেরাও করে উত্তেজিতভাবে কথাবার্তা শুরু করেন৷ তিনিও তাদেরকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করে শান্তি, শৃঙ্খলা বজায় রেখে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার যুক্তি দিতে থাকেন। এই বাদানুবাদের এক পর্যায়ে হাসান হাফিজুর রহমান (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র সম্পাদক) উত্তেজিতভাবে শামসুল হককে traitor বলে গালগাল করে তার মাথা থেকে টুপি ছিনিয়ে নিয়ে দূরে ফেলে দেন। এরপর শামসুল হক সেই স্থান ত্যাগ করেন।

বেলা দশটার দিকে ঢাকা জেলার ম্যাজিষ্ট্রেট কোরেশী ঢাবির ভিসি ডক্টর সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, প্রভোস্ট ডক্টর ওসমান গণি, কলা অনুষদের ডীন ডক্টর জুবেরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যক্ষ ডক্টর নিউম্যানকে নিয়ে ছাত্রদের সভায় উপস্থিত হন। কোরেশী তাদেরকে অনুরোধ করেন বোঝাতে যাতে ছাত্ররা যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে এবং ১৪৪ ধারা মেনে চলে। ভিসি যখন ছাত্রছাত্রীদের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করা এবং শান্তি শৃঙ্খলা মেনে চলতে বলেন, তখন ছাত্রছাত্রীরা তাকে তাদের সভায় সভাপতিত্ব করতে অনুরোধ জানান। জবাবে ভিসি বলেন যে, শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করবে না এবং সভা শেষে শান্তিপূর্ণভাবে বাসায় চলে যাবে এই শর্তে তিনি সভাপতিত্ব করতে রাজি আছেন। শিক্ষার্থীরা তার প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করায় তিনি এবং তার সহকর্মী শিক্ষকগণ সভাস্থল ত্যাগ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।

প্রায় ঘন্টা খানেক সভার কার্যক্রম চলার পর ছাত্রনেতাগণ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে এক ব্যাচে দশজন করে রাস্তায় বের হবে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে যারা বাইরে বের হচ্ছিলেন পুলিশ তাদেরকে নিজেদের গাড়িতে তুলছিলো, এক গাড়ি ভর্তি হলে সেটি থানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিচ্ছিলো। তখন রাজনৈতিক কারণে জেলে যাওয়াকে অনেকটা সম্মানের চোখে দেখা হতো, অনেকের কাছে সেটি গর্বের বিষয়ও ছিলো। সরকারের জেল-জুলুম যার ওপর পতিত হতো জনগণ তার ওপর সহানুভূতিশীল হয়ে পড়তেন। এক পর্যায়ে ছাত্রদের পক্ষ থেকে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইট পাটকেল ছোঁড়া শুরু হলে জবাবে পুলিশও ছাত্রদের উপর টিয়ারগ্যাস ছুঁড়তে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তখন বহু ছাত্র গ্যাসের প্রভাবে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। গ্যাসের প্রভাব কমে এলে তারা আবার দ্বিগুণ মারমুখী হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোঁড়া শুরু করেন।

দুপুর একটা পর্যন্ত পুলিশ মোট ৯১ জন ছাত্রকে গ্রেফতার করেছিল কিন্তু কোন ছাত্রীকে সেদিন গ্রেফতার করেনি। এরপর ছাত্ররা গণপরিষদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে, কড়া নিরাপত্তা ও অস্ত্রধারী পুলিশ থাকার কারণে ছাত্রদের অনেকে সোজা রাস্তায় বের না হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের মধ্যবর্তী ভাঙা দেয়াল পার হয়ে মেডিকেল হোস্টেল এলাকায় চলে আসেন। এদিকে পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার সময় যতই এগিয়ে আসছিলো ছাত্রদের মাঝে ততই উত্তেজনা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছিলো এবং তারা পরিষদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পুলিশের বাধার মুখে সফল হতে পারছিলেন না, এমতাবস্থায় ছাত্ররা পরিষদের দিকে গমনকারী কোন কোন এমএলএ কে মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে ডেকে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিশ্রুতি আদায় করছিলেন।

বেলা আড়াইটার দিকে এমএলএ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও প্রভাস চন্দ্র লাহিড়ী রিক্সা যোগে মেডিকেল হোস্টেলের সামনে দিয়ে যখন পরিষদে যাচ্ছিলেন হোস্টেলের ভিতর থেকে ছাত্ররা তখন তাদের পরিস্থিতি দেখে আসার জন্য আহবান জানান। সেই অনুযায়ী তারা ভিতরে যান। ছাত্ররা তাদের বলেন, পুলিশের টিয়ারগ্যাসে অনেকে আহত হয়েছে। ধীরেন্দ্রনাথ যেন পরিষদে এসব সরকারের দৃষ্টিগোচরে আনেন এবং এইসব ঘটনার প্রতিবাদে তারা যেন পরিষদের সদস্যপদ ত্যাগ করেন। মন্ত্রী হাসান আলীর প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি মাওলানা আবদুল্লাহ হিল বাকিকে নিয়ে গাড়িতে করে গণপরিষদে যাওয়ার পথে ছাত্ররা তার মোটর গাড়ীর চাকা পাংচার করে দেয়, পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। এসময় মন্ত্রীর মাথায় ছাত্রদের ছোঁড়া ইট এসে পড়লে তিনি আহত হোন।

ডিআইজি, জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ সুপারিনডেন্ট, অতিরিক্ত সিটি এসপি সহ পুলিশের অনেকেই ছাত্রদের ছোঁড়া ইট পাটকেলে আহত হয়েছিলেন। এসব অসুবিধা সত্ত্বেও তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের সংবাদ সারা শহরে ছড়িয়ে পড়লে, আশেপাশের লোকজন এসে ছাত্রদের পাশে দাঁড়ায়। মেডিকেল কলেজের ওয়ার্ড বয়, বেয়ারা, হোটেলে রেস্টুরেন্টের বয় বেয়ারারা পর্যন্ত ছাত্রদের সাথে যোগ দিয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ডিআইজি, জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ সুপারিনডেন্ট, অতিরিক্ত সিটি এসপি সহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ একমত হন যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি ছোঁড়া বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে। প্রথমবার গুলি ছোঁড়লে ছাত্ররা পিছিয়ে গিয়ে গুলিতে কাউকে আঘাত পেতে না দেখে পরবর্তীতে blank fire blank fire বলে চিৎকার করে বাইরে বের হয়ে আসলে পুলিশ দ্বিতীয়বার গুলি করতে বাধ্য হয়।দ্বিতীয়বারের গুলিতে অনেক ছাত্র হতাহত হন। হাঁটুতে গুলি লেগে আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান আবুল বরকত।

বিকেল ৩-৩০ মিনিটে গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হলে প্রথমেই মুসলিম লীগের সাংসদ আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ ছাত্রদের উপর গুলি বর্ষণের প্রেক্ষিতে অধিবেশনের বৈঠক সেদিনের জন্য স্থগিত রেখে হাসপাতালে গিয়ে ছাত্রদের খোঁজ খবর নেওয়ার আহবান জানান। এরপর কংগ্রেস দলের ডেপুটি লিডার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও মনোরঞ্জন ধর পুলিশের গুলিতে আহতের পাশাপাশি অনেককে নিহত দাবী করে অধিবেশন বয়কটের ঘোষণা দেন। পুলিশ টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জ, গুলিতে তখন পর্যন্ত ছাত্রদের আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির খবর পাওয়া গেলেও তখন পর্যন্ত কেউ নিয়ে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এমনকি গুলিবিদ্ধ আবদুল বারাকাত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান রাত সাড়ে আটটার দিকে। অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পূর্বে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এবং প্রভাসচন্দ্র লাহিড়ী যখন ছাত্রদের সাথে দেখা করেছিলেন তখনো পুলিশ গুলি ছোঁড়েনি টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলো। অধিবেশনে তাদের ছাত্রদের নিহত হওয়ার বক্তব্য ছিলো মিথ্যাচার ও লাশ নিয়ে রাজনীতি করা রাজনৈতিক ঐতিহ্যের অংশ।

#ভাষার_রাজনীতি (তৃতীয় পর্ব)

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address


Dhaka