Dars
এই সমাজে মাদরাসার শিক্ষক, ইমাম ও মুয়াল্লিমদের জীবন যেন বন্দী হয়ে গেছে মাসে দশ-বারো হাজার টাকার এক চেকের মধ্যে।
এই অর্থে চলে না সংসার, চলে না সন্তানের শিক্ষা, চলে না দীনী দাওয়াতের কাজ, তবুও ওলামায়ে কেরামদের বলা হয়, “তোমরা সন্তুষ্ট মানুষ, অল্পেই খুশি।” অথচ বাস্তবতা হলো তারা সন্তুষ্ট নন, বরং সংকটে বন্দী।
আজকের দিনে ওলামায়ে কেরামদের একটা বড় অংশ এমন মানসিকতায় আটকে আছেন, যদি তারা ব্যবসা করেন, গাড়ি চালান, দোকানদারি করেন, কিংবা কোনো কোম্পানির ম্যানেজারি করেন— মানুষ বলবে, “হুজুর দুনিয়াদার হয়ে গেছে।”
অথচ এই কথাটাই হচ্ছে শয়তানের তৈরি মানসিক দাসত্ব।
কারণ বাস্তবে, সারাজীবন দুনিয়াদারদের কাছে হাত পেতে বসে থাকাই দুনিয়াদারিত্ব এবং সেটাই প্রকৃত দাসত্ব।
আজ অনেক বড় বড় ওলামা একরামমাদরাসা ও মসজিদ কমিটির কর্মচারী হিসেবে চাকরি করছেন। তাদের কলম, তাদের মুখ, তাদের অবস্থান আজ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে কমিটির মর্জির মধ্যে। তারা চাইলেও পূর্ণ স্বাধীনভাবে হক কথা বলতে পারে না, কারণ তাদের জীবিকা নির্ভর অন্যের হাতে।
অথচ ভারত ও পাকিস্তানের বহু প্রখ্যাত ওলামা একরাম নিজের অর্থে মাদরাসা চালান, নিজের রুজির হালাল উপায়ে উপার্জন করেন, আর মাদরাসায় পড়ান বিনা বেতনে, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
কারণ তারা জানেন কারোর গোলামী করে হক কথা বলা যায় না।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন
وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ
অর্থাৎ “তোমরা জালিমদের দিকে ঝুঁকো না, নইলে আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে।” (সূরা হূদ ১১:১১৩)
যে ওলামা মাখলুকের উপর নির্ভরশীল, সে কখনো তাগুতের বিরুদ্ধে জোরে আওয়াজ তুলতে পারে না। কারণ তার রুটি যেখানে, তার নরম কথাও সেখানেই।
তাই প্রথম শর্ত দীন কায়েম করতে চাইলে আগে নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন করতে হবে।
আজ একজন রিকশাওয়ালার মাসিক আয় ২৫-৩০ হাজার টাকা, একজন সবজি বিক্রেতার আয় ৫০-৬০ হাজার, একজন পিঠা বিক্রেতার আয়ও ২০-৩০ হাজার। অথচ একজন আলেম, যিনি কোরআন ও হাদীসের জ্ঞান বিতরণ করেন, তার বেতন মাত্র দশ-বারো হাজার টাকা।
এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, মানসিক অপমানও বটে।
রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى
“উপরে থাকা হাত (যে দেয়) নিচে থাকা হাতের (যে নেয়) চেয়ে উত্তম।” (বুখারি ও মুসলিম)
অর্থাৎ মুসলমানের সম্মান স্বাধীনতায়, নির্ভরশীলতায় নয়।
ওলামায়ে কেরাম যদি চান সমাজকে বদলাতে, দীনকে কায়েম করতে, তাহলে প্রথমে তাদের নিজেদের হাতকে “উপরের হাত” বানাতে হবে, মানে স্বাবলম্বী হতে হবে।
নিজের ইনকামের ব্যবস্থা করুন, হালাল ব্যবসা করুন, রুজির পথ খুলে নিন। তারপর দীনী খেদমত করুন মুক্তভাবে, কারোর মুখের দিকে না তাকিয়ে।
যেদিন ওলামায়ে কেরামরা মাখলুকের ওপর নির্ভর করা ছেড়ে দেবে, সেদিনই সমাজে পুনরায় হকের আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হবে ইনশাআল্লাহ।
কপি ফ্রম Emam Uddin
আসেন, একটি মজার গল্প শোনাই...
একজন শিক্ষক বলেন:
আমি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে কাজ শুরু করি। প্রধান শিক্ষক আমাকে তৃতীয় শ্রেণি পড়ানোর দায়িত্ব দেন। তারপর আমাকে তার অফিসে ডাকলেন এবং সরাসরি বললেন:
“আমাদের স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির তিনটি শাখা আছে। এই শিক্ষাবর্ষে আমরা শিক্ষকদের সাথে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে—দুটি শাখায় ভালো মেধাবী ছাত্ররা থাকবে। আর তৃতীয় শাখা, যেটি তোমার দায়িত্বে, সেখানে থাকবে কেবল সেই ছাত্ররা যাদের নিয়ে আর কোনো আশা নেই। তুমি যদি তাদের মধ্যে থেকে তিন–চারজনকেও উন্নত করতে পারো, তবে সেটাই আমাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার হবে। আর যদি না-ও পারো, তাতেও তোমার কোনো দোষ নেই, কারণ তাদের অভিভাবকরাও জানেন যে তাদের পড়াশোনার মান খুব দুর্বল।”
শিক্ষক বলেন:
আমি ক্লাসে প্রবেশ করে প্রত্যেক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলাম: “তুমি বড় হয়ে কী হতে চাও?”
কেউ বলল—সেনা অফিসার, কেউ বলল—ডাক্তার, আরেকজন বলল—ইঞ্জিনিয়ার।
এতে আমার মন ভরে গেল এবং আমি বললাম: “আলহামদুলিল্লাহ! তাদের স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে।”
পরের দিন আমি নতুনভাবে বসার আসনগুলো সাজালাম—যাতে সেনা অফিসার হতে চাওয়া ছাত্ররা একসাথে বসে, ডাক্তার হতে চাওয়া ছাত্ররা একসাথে বসে, আর ইঞ্জিনিয়াররা একসাথে বসে।
আমি প্রত্যেকের খাতায় তাদের স্বপ্নের পেশার উপাধি লিখে দিলাম:
• অফিসার: মুহাম্মদ
• ডাক্তার: আবদুল্লাহ
• ইঞ্জিনিয়ার: খালিদ
তারপর আমি আমার কাজ শুরু করলাম এই চিন্তা নিয়ে যে, তারা অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই সক্ষম, দুর্বল নয়—যেমন বলা হয়।
অবশ্যই তাদের মধ্যে কেউ ভুল করত, কেউ আলসেমি করত, কেউ আবার বাড়ির কাজ লিখে আনত না।
কিন্তু শাস্তির ব্যাপারে আমার পদ্ধতি ছিল একেবারে ভিন্ন। আমি তাদের মারতাম না। বরং আমি শুধু তাদের উপাধি (স্বপ্নের পরিচয়) কেড়ে নিতাম। অর্থাৎ তাদের স্বপ্ন কেড়ে নিতাম এবং ক্লাসের এক বিশেষ জায়গায় বসাতাম, যেটার নাম রেখেছিলাম “রাস্তা”। এটা তাদের খুব কষ্ট দিত এবং তারা দ্বিগুণ পরিশ্রম করত যেন আবার তাদের জায়গায় ও প্রিয় উপাধিতে ফিরে যেতে পারে।
এভাবেই ধীরে ধীরে তাদের পড়াশোনার মান উন্নত হলো। তারা নিয়মিত হোমওয়ার্ক করতে শুরু করল, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করল, পরস্পরের সাথে সুন্দর প্রতিযোগিতা শুরু করল। আমি মাঝে মাঝে তাদের উৎসাহিত করতাম ছোটখাটো উপহার দিয়ে—যেটি তাদের স্বপ্নের ক্ষেত্রের সাথে সম্পর্কিত হতো।
প্রথম সেমিস্টার শেষে আমার সব শিক্ষার্থীই পড়াশোনাকে ভালোবাসতে শুরু করল—ক্লাস, স্কুল ও শিক্ষককে। খুব কমই এমন হতো যে কাউকে “রাস্তা”-য় বসাতে হতো।
বছর শেষে, আলহামদুলিল্লাহ, আমার শ্রেণিটি অন্য দুই শ্রেণিকে অনেক ব্যবধানে পেছনে ফেলে দিল।
প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য সহকর্মীরা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন:
“আল্লাহর কসম! আমাদের বলো, তুমি কোন শিক্ষণ-পদ্ধতি ব্যবহার করেছো, যেটি এই ছাত্রদের এভাবে আমূল বদলে দিয়েছে?”
আমি বললাম:
“আমার শিক্ষণ-পদ্ধতি ও কৌশলগুলো তোমাদের মতোই। শুধু আমি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার নিজের স্বপ্নকে রক্ষা করার দায়িত্ব দিয়েছি।”
~সংগৃহীত পোস্ট
এক দেশে অদ্ভুত এক নিয়ম ছিল। যারা বার্ধক্যে উপনীত হয়ে কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়ত, তাদের পাহাড়ে ফেলে আসতে হতো। ওই দেশের রাজা মনে করতেন, বয়স্কদের যত্ন নেওয়ার বোঝা কমালে সাধারণ মানুষের জীবন সহজ হয়ে যাবে।
সেই দেশে এক পিতা পুত্র খুব ভালোবাসত একে অপরকে। সময় গড়িয়ে গেল। পিতা বুড়ো হলেন, তিনি আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। দেশের নিয়ম অনুযায়ী, ছেলেকে বাধ্য হয়ে তাকে পাহাড়ে ফেলে আসতে হবে। কিন্তু বাবাকে ছেড়ে থাকতে পারার কথা ছেলে ভাবতেই পারছিল না। তবু, শাস্তির ভয়ে সে বাবাকে কাঁধে নিয়ে পাহাড়ের দিকে রওনা দিল।
পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে তার মন কেঁদে উঠল। শেষ পর্যন্ত বাবাকে সেখানে রেখে আসতে পারল না। সে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এলো এবং বাড়ির পিছনে লুকিয়ে রাখল। প্রতিদিন চুপিচুপি খাবার এনে তাকে খাওয়াতে লাগল।
একদিন রাজা তার প্রজাদের বুদ্ধি পরীক্ষা করতে চাইলেন। তিনি ঘোষণা করলেন: "যে ছাই দিয়ে দড়ি বুনে এনে দিতে পারবে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে!"
ঘোষণা শুনে লোকজন হতভম্ব হয়ে গেল। ছাই দিয়ে কি কখনও দড়ি তৈরি করা সম্ভব? ছেলেটি এই ধাঁধার কথা শুনে বাবাকে বলল। বাবা বললেন, "একটা দড়ি নিয়ে বড় পাত্রে পেঁচিয়ে রাখো, তারপর সেটা জ্বালিয়ে দাও।"
ছেলে বাবার কথা মতো কাজ করল। দড়ি পুড়ে গেল, কিন্তু তার ছাই ঠিক আগের মতো দড়ির আকারেই থেকে গেল। সে সেটি রাজাকে দেখাল এবং পুরস্কার জিতে নিল।
এক মাস পর, রাজা দ্বিতীয় পরীক্ষার আয়োজন করলেন। তিনি একটি কাঠের ডাল দিলেন এবং বললেন, "এর আগা আর গোড়ার খুঁজে বের করো!"
ডালের দু’প্রান্ত দেখতে একই রকম ছিল, তাই কেউই এর উত্তর খুঁজে পেল না। ছেলে কাঠের ডালটি বাড়িতে এনে বাবাকে দেখাল। বাবা বললেন, "ডালটি পানিতে রাখো। যেটি বেশি ডুবে যাবে, সেটি গোড়া, আর যেটি ভেসে থাকবে, সেটি আগা।"
ছেলে বাবার উপদেশ মতো কাজ করল এবং রাজাকে দেখিয়ে আবারও পুরস্কার জিতল।
এরপর রাজা আরও কঠিন এক ধাঁধা দিলেন। তিনি বললেন, "একটি ঢোল তৈরি করো, যা কোনো আঘাত ছাড়াই শব্দ করবে!"
এবার সবার মাথা ঘুরে গেল। কেউই এমন ঢোল বানানোর উপায় খুঁজে পেল না। ছেলে আবার বাবার শরণাপন্ন হলো। বাবা বললেন, "একটি ঢোল তৈরি করে তার ভেতরে একটি মৌমাছির চাক রাখো।"
ছেলে বাবার নির্দেশ মতো ঢোল বানিয়ে রাজাকে দিল। রাজা ঢোলটি হাতে নিয়ে নাড়া দিতেই এর ভেতরের মৌমাছিরা উড়তে লাগল, ফলে ঢোলে আঘাত ছাড়াই শব্দ হতে লাগল!
রাজা বিস্মিত হয়ে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি কীভাবে এত কঠিন প্রশ্নের উত্তর পেলে?"
ছেলে বলল, "মহারাজ, আমার নিজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আমার বৃদ্ধ বাবাই সব উত্তর দিয়েছেন।"
ছেলের কথা শুনে রাজা খুবই নরম হয়ে গেলেন। তিনি উপলব্ধি করলেন, জীবনের কঠিন সমস্যার সমাধান বের করতে অভিজ্ঞতা সবচেয়ে মূল্যবান।
রাজা সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করলেন, "আজ থেকে আর কোনো বৃদ্ধকে পাহাড়ে ফেলে আসতে হবে না!" এরপর থেকে সকল বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা পরিবারের সঙ্গেই আনন্দে থাকতে লাগলেন।
শিক্ষা: অভিজ্ঞতা অমূল্য। বয়স্করা আমাদের জীবনের আশীর্বাদ। তাদের যত্ন নেওয়া আমাদের দায়িত্বই নয়, বরং এটা আমাদের সৌভাগ্য।
ঢাকার একটি নামী প্রাইভেট স্কুল। সেদিন শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ চলছিল। বড় বড় ডিগ্রিধারী তরুণ-তরুণীরা সারিবদ্ধভাবে বসে আছে। হঠাৎ তাদের মাঝে প্রবেশ করলেন এক সাধারণ শাড়ি পরা, মধ্যবয়সী এক মহিলা। চোখে-মুখে বয়সের ছাপ থাকলেও দৃষ্টিতে দৃঢ়তা।
বোর্ডরুমে ঢুকতেই চেয়ারম্যান ভ্রু কুঁচকে তাকালেন।
চেয়ারম্যান:
“মিসেস রুবিনা, আপনার বয়স তো চল্লিশের বেশি। এত দেরিতে শিক্ষকতা শুরু করার কারণ কী?”
মহিলা বিনয়ের সঙ্গে হেসে উত্তর দিলেন—
রুবিনা:
“হ্যাঁ স্যার, আমি জানি বয়স আমার দুর্বলতা। কিন্তু অভিজ্ঞতা আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
ঘরে নীরবতা নেমে এলো। অন্য প্রার্থীরা কৌতূহলী হয়ে তাকালো তার দিকে।
চেয়ারম্যান আবার জিজ্ঞেস করলেন—
“আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে, সেটা ঠিক। কিন্তু এত বছর কোথায় ছিলেন?”
রুবিনার চোখে অশ্রুর ঝিলিক ফুটে উঠলো।
“আমি ছিলাম সংসারের যোদ্ধা। আমার স্বামী ছিলেন ব্যাংকের ছোট চাকুরে। এক রাতে হঠাৎ স্ট্রোক করে মারা যান। তখন আমার বড় ছেলে ক্লাস সেভেনে, মেয়ে ক্লাস ফোরে, আর ছোট মেয়েটা মাত্র প্লে-গ্রুপে। সংসার তখন পাহাড়সম বোঝা।”
একজন বোর্ড সদস্য অবাক হয়ে বললেন—
“তাহলে আপনি সংসার কীভাবে চালালেন?”
রুবিনা একটু হেসে বললেন—
“ভোরে সংবাদপত্র বিলি করতাম, দুপুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেলাইয়ের কাজ নিতাম, আর রাতে বাচ্চাদের পড়াতাম। মাসের শেষে যখন স্কুল ফি জমা দিতে যেতাম, তখন অনেক সময় অন্যদের কাছে লজ্জায় মাথা নিচু করতে হতো। কিন্তু সন্তানদের পড়াশোনা কখনো বন্ধ হতে দিইনি।”
ঘরের ভেতরকার সবাই নিঃশব্দে শুনছিল।
“আমার ছেলে এখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে, মেয়ে মেডিকেলে। ছোট মেয়ে স্কুলে পড়ে। । আমি সবসময় তাদের বলেছি—‘অভাব আমাদের পা আটকে রাখতে পারবে না, বরং সামনে ঠেলে দেবে।’”
চেয়ারম্যান এবার নরম কণ্ঠে বললেন—
“আপনি শিক্ষকতার জন্য কেন আবেদন করেছেন?”
রুবিনা শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিলেন—
“কারণ আমি জানি, একজন শিশুকে শুধু বই পড়ালেই মানুষ করা যায় না। জীবন শিখিয়ে মানুষ করতে হয়। আমি চাই আমার কষ্টের অভিজ্ঞতা দিয়ে ছাত্রদের বোঝাতে—পড়াশোনা হলো সবচেয়ে বড় অস্ত্র, যেটা দিয়ে দারিদ্র্যকেও হারানো যায়। আমি চাই ক্লাসরুমে শুধু পাঠ্যবই নয়, জীবনের পাঠও দিতে।”
বোর্ডরুমে পিনপতন নীরবতা। সবার চোখ ভিজে উঠলো।
একসময় চেয়ারম্যান উঠে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে দিলেন—
“মিসেস রুবিনা, আমরা হয়তো অনেক প্রার্থীর নাম শুনেছি, কিন্তু আজকের সাক্ষাৎকারে আমরা একজন সত্যিকারের শিক্ষককে খুঁজে পেয়েছি। আপনাকে স্বাগতম।”
রুবিনার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। তিনি জানলেন—এ চাকরি কেবল তার জীবনের নতুন শুরু নয়, বরং তার সন্তানদের স্বপ্নপূরণের পথে আরেকটি আলোকবর্তিকা।
বয়স বা অভাব কোনোদিন যোগ্যতাকে হারাতে পারে না। জীবন-সংগ্রামই সবচেয়ে বড় সার্টিফিকেট।
প্রেরণা
09/08/2025
মূল থেকে সাদা কোট: এক পিতার নীরব ত্যাগ আর সেই কন্যারা যারা বদলে দিল পৃথিবী
১৯৮৫ — পূর্ব আফ্রিকার এক শান্ত গ্রামের মানুষ ড্যানিয়েল দাঁড়িয়ে আছেন খালি পায়ে, সঙ্গে তার তিন মেয়ে। তার স্ত্রী আগের বছর সন্তান জন্মের সময় মারা গিয়েছিলেন। তিনি আর বিয়ে করেননি। সময় ছিল না—মনও ছিল না।
তিনি ছিলেন কৃষক, নির্মাতা, পিতা, আর স্বপ্নদ্রষ্টা—সব মিলিয়ে একজন মানুষ।
তাদের ঘরে ছিল না বিদ্যুৎ। কিছু রাতে রাতের খাবার মানেই ছিল শুধু সেদ্ধ মূল আর পানি। কিন্তু যা তারা পেত—যা ড্যানিয়েল সবসময় নিশ্চিত করতেন—তা ছিল মর্যাদা।
প্রতিদিন ভোরের আগেই তিনি মেয়েদের জাগিয়ে তুলতেন এবং দুই মাইল হেঁটে নিয়ে যেতেন স্কুলে। তিনি নিজে পড়তে বা লিখতে পারতেন না, কিন্তু প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষের বাইরে ছায়ায় বসে থাকতেন—শুধু যাতে মেয়েরা একা হেঁটে বাড়ি ফিরতে না হয়।
কখনও তিনি নিজে না খেয়ে থাকতেন, যাতে তারা একটি পেন্সিল কিনতে পারে।
পরীক্ষার ফি দিতে নিজের বিয়ের আংটি বিক্রি করেছিলেন।
দ্বিতীয় হাতের পাঠ্যবই কিনতে—যার অনেক পৃষ্ঠাই অনুপস্থিত—ফসল তোলার মৌসুমে একসাথে তিনটি কাজ করতেন।
মানুষ হাসতো।
“ওরা মেয়ে,” তারা বলত।
“ওদের কী ভবিষ্যৎ আছে?”
ড্যানিয়েল কিছু বলতেন না।
তিনি শুধু মেয়েদের পাশে হেঁটে যেতেন।
বছর কেটে গেল। একে একে তারা স্নাতক হলো।
একে একে তারা বৃত্তি পেল।
এবং একে একে… তারা পাড়ি দিল সমুদ্র পেরিয়ে।
২০২৫ — সেই ছবির চল্লিশ বছর পর, বিশ্ব দেখল এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য:
একটি নতুন ছবি—সেই একই মানুষ, এবার একটি হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন—তার তিন মেয়ের সঙ্গে, সবার গায়ে সাদা কোট।
ডাক্তার।
তিনজনই।
যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো তিনি কেমন অনুভব করছেন, ড্যানিয়েলের চোখে জল এসে গেল, আর আস্তে করে বললেন:
“আমি তাদের পৃথিবী দিতে পারিনি।
শুধু পৃথিবীকে তাদের আশা কেড়ে নিতে দিইনি।”
তিনি হাত দিয়ে ফসল ফলিয়েছেন—
কিন্তু হৃদয় দিয়ে গড়েছেন ডাক্তার।
আর সেই নীরব মানুষটির ছায়ায়, যাকে পৃথিবী কখনও চিনত না,
তিন কন্যা উঠে দাঁড়াল… আর বদলে দিল পৃথিবীকে। 💔🌍👩🏽⚕️
✍️:- Collected.
সালাতে অলসতা দূর করার ১৩ উপায়:
▬▬▬▬🌐💠🌐▬▬▬▬
প্রশ্ন: ইদানীং নামাজ পড়ার ব্যাপারে মনের মধ্যে খুব অলসতা অনুভব করি। নামাজ পড়ি ঠিকই কিন্তু শুধু মনে হয় সবে তো আযান হল, কিছু সময় পরে পড়ব। আবার একটু পরে মনে হয় এখন আর পড়ব না কাজা নামাজ আদায় করে নিব। কি করে এই সমস্যার সমাধান করতে পারি?
উত্তর: এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কালিমার পরে সালাতের মত এত গুরুত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত আর কিছু নেই। এটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ইবাদত। সালাত পরিত্যাগ করা কুফুরি পর্যায়ের গুনাহ। এ ব্যাপারে কুরআন-হাদিসে এত বেশি আলোচনা ও তাগিদ এসে যে, অন্য কোনো বিষয়ে এতটা আসে নি।
কিন্তু বাস্তব কথা হল, একমাত্র আল্লাহ ভীরুদের জন্য ছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা খুবই কঠিন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ
“ধৈর্য্যের সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর নামাযের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু আল্লাহ ভীরু লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব।“ (সূরা বাকারা: ৪৫)
♦এ পর্যায়ে আমরা সালাতে অলসতা ও অবহেলা প্রদর্শনের কঠিন পরিণতির কথা জানবো।
▪১. সালাতে অলসতা ও অবহেলা প্রদর্শনকারীর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ: যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّيْنَ، الَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلاَتِهِمْ ساَهُوْنَ
“ঐ সকল নামাযীদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি (অথবা জাহান্নামের মধ্যে ওয়াইল নামক একটি আগুনের উপত্যকা) যারা সালাত থেকে উদাসীন।” (সূরা মাঊন ৪ ও ৫)
এ আয়াতের তাফসীরে সা‘দ বিন আবী ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞেস করা হল, তারা কারা যাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি? তিনি বললেন, “যারা সালাতের নির্দিষ্ট সময় পার করে দিয়ে সালাত আদায় করে।”
▪২) নামাযে অলসতা করা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য:
মহীয়ান আল্লাহ বলেন:
إنَّ الْمُناَفِقِيْن يُخاَدِعُوْنَ اللهَ وَهُوَ خاَدِعُهُمْ، وإذاَ قاَمُوْا إلَى الصَََلاَةِ قاَمُوْا كُسَالَى يُراَؤُونَ الناَّسَ وَلاَ يَذْكُرُوْنَ اللهَ إلاَّ قَلِيْلاً
“অবশ্যই মুনাফেকরা প্রতারণা করছে আল্লাহর সাথে অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতারিত করে। বস্তুত: তারা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন দাঁড়ায় অলস ভঙ্গিতে লোক দেখানোর জন্য। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।" (সূরা নিসা: ১৪২)
▪ ৩) আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
لَيْسَ صَلاَةٌ أثْقَلَ عَلىَ الْمُناَفِقِيْنَ مِنْ صَلاَةِ الْفَجْرِ وَالعِشاَءِ وَلَوْ يَعْلَمُوْنَ ماَ فِيْهِماَ لأَتَوْهُماَ وَلَوْ حَبْواً
“মুনাফিকদের উপর ইশা ও ফজর সালাতের চাইতে এমন কষ্টকর কোনো সালাত নেই। তারা যদি জানতো যে, এ দু সালাতে কি প্রতিদান রয়েছে তবে হামাগুড়ি দিয়ে ( বা নিতম্বের উপর ভর করে) হলেও তাতে উপস্থিত হত।” (বুখারী ও মুসলিম)
▪ ৪) ইচ্ছাকৃত ভাবে দেরী করে সালাত আদায়কারীকেও হাদিসে মুনাফিক বলা হয়েছে।
আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
“ঐ টা মুনাফেকদের সালাত.. ঐটা মুনাফেকদের সালাত..ঐ টা মুনাফেকদের সালাত- যে ইচ্ছাকৃত ভাবে বসে থাকে। তারপর সূর্য (অস্ত যাওয়ার পূর্বে) যখন তা হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং শয়তানের দু শিংয়ের মাঝে অবস্থান করে তখন সে চারটি ঠোকর মারে আর তাড়াহুড়ার কারণে তাতে খুব অল্পই আল্লাহ্কে স্মরণ করে থাকে।” (আহমাদ, আবু দাঊদ, মালিক)
▪ ৫. সময়মত সালাত আদায় করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল:
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
أَىُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ قَالَ " الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا ". قَالَ ثُمَّ أَىُّ قَالَ " ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ ". قَالَ ثُمَّ أَىّ قَالَ " الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর নিকট কোন আমল সবচেয়ে বেশী পছন্দনীয়? তিনি বললেন:
সময় মত সালাত আদায় করা।
(আবদুল্লাহ) জিজ্ঞাসা করলেন: তারপর কোনটি?
তিনি বললেন: পিতা মাতার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করা।
আবদুল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন: তারপর কোনটি?
তিনি বললেন: আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।
আবদুল্লাহ বলেন: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো সম্পর্কে আমাকে বলেছেন। আমি যদি তাকে আরও বেশী প্রশ্ন করতাম, তিনি আমাকে অধিক জানাতেন।
এ সকল আয়াত ও হাদিস থেকে যথাসময়ে সালাত আদায় করার গুরুত্ব এবং তা আদায়ের ক্ষেত্রে অলসতা ও ঢিলেমী করার ভয়াবহতা সুষ্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়।
♦ নিম্নে সালাতে অলসতা দূর করার ১৩টি উপায় পেশ করা হল:
১. যথাসময়ে সালাত আদায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদার কথা স্মরণ করা।
২. সালাতে অবহেলা বা অলসতা প্রদর্শনের ভয়াবহতার কথা মনে জাগ্রত করা।
এ দুটি বিষয়ে কুরআনের আয়াত ও হাদিস সম্বলিত ভালো মানের বই বা আর্টিকেল পাঠ করা উচিৎ বা এ বিষয়ে ভালো মানের লেকচার শোনা উচিৎ। জানা থাকলেও আবারও পড়তে পারেন বা আবারও ভিডিও লেকচার শুনতে পারেন। এতে মনের মধ্যে নতুনভাবে অনুপ্রেরণা আসবে।
৩. মনে মৃত্যুর কথা জাগ্রত রাখা যে, যে কোনো সময় আমার মৃত্যু ঘটতে পারে। সুতরাং সময় হওয়ার পরও যদি সালাত আদায়ে বিলম্ব করি আর ইতোমধ্যে যদি আমার মৃত্যু সংঘটিত হয় তাহলে অলসতা বশত: কাযা সালাতের দায়ভার মাথায় নিয়ে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
৪. অলসতা দূর করার জন্য আল্লাহ নিকট দুআ করা। বিশেষ ভাবে এই দুআটি পাঠ করা:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
"হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই অক্ষমতা, অলসতা, অক্ষমতা, বার্ধক্য ও কৃপণতা থেকে। আরও আশ্রয় চাই কবরের আযাব ও জীবন-মরণের ফিতনা থেকে।" [বুখারী ৬৩৬৭ ও মুসলিম ২৭০৬]
৫. যথাসময়ে সালাত আদায়ের জন্য দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়া এবং তা বাস্তবায়নে আল্লাহর নিকট সাহায্য চাওয়া।
কেউ যদি ভালো কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার করে এবং আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে অবশ্যই সাহায্য করেন।
৬. আল্লাহর নিকট খাঁটি অন্তরে তওবা করা এবং পাপকর্ম পরিত্যাগ করা। কারণ পাপের সাথে জড়িত থাকার ফলে অন্তরে প্রলেপ পড়ে যায়। তখন সে ধীরে ধীরে আল্লাহর রাস্তা থেকে দূরে সরে যায়। সে আর আগের মত ইবাদতে সাধ অনুভব করে না। যার কারণে অন্তরে ইবাদতে আড়ষ্টতা, অবহেলা ভাব ও অলসতা অনুভব করে।
৭. সালাতে বিলম্ব হলে নিজেকে ধিক্কার দিন এবং ভবিষ্যতে যেন আর এমনটি না হয় সে জন্য মনকে প্রস্তুত করুন।
৮. সবসময় ওযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন। ওযু ভেঙ্গে গেলে পূনরায় ওযু করে নিন। তাহলে এটি সময় হওয়ার সাথে সাথে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।
৯. আপনার দৈনন্দিন কিছু কাজ নামাযের উপর ভিত্তি করে সাজিয়ে নিন। যেমন: এ কাজটি নামাযের আগে করবেন আর এ কাজটি নামাযের পরে করবেন...এভাবে।
১০. মনকে সময় মত নামায পড়তে বাধ্য করুন। কারণ আমরা যদি মন মত চলি তাহলে আমরা সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হবো। তাই মনকে কখনো কখনো কাজে বাধ্য করতে হয়। অর্থাৎ ইচ্ছা না থাকলেও করতে হয়।
সুতরাং আপনি যদি কিছুদিন মনের মধ্যে অলসতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে মনকে সঠিক সময়ে সালাত আদায় করতে বাধ্য করেন তাহলে অল্প দিন পরই এর ফলাফল পাওয়া শুরু করবেন। তখন মনের মধ্যে অলসতা আশ্রয় পাবে না ইনশাআল্লাহ।
১১. আরেকটি বিষয় বলব, অনেক মানুষ অজ্ঞতা বশত: পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আগে-পরে মিলিয়ে এত বেশি পরিমাণ রাকআত সংখ্যায় পড়ে যা হয়ত অনেকের জন্য নামায পড়ার ব্যাপারে মনে বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করে। এ কারণে মনের অজান্তে অলসতা ও অবহেলা চলে আসে। যেমন: অনেকে ইশার সালাত পড়ে সতেরো রাকআত! অথচ হাদিসে এত রাকআত পড়ার কথা আসে নি।
সুতরাং কোন ওয়াক্তে কত রাকআত পড়তে হয় সেটা ভালো করে জেনে নিন।
আর এটাও মনে রাখা প্রয়োজন যে, যদি কখনো কোন কারণে নামাযের প্রতি মনে আগ্রহ না থাকে বা অলসতা অনুভব হয় তাহলে কমপক্ষে কেবল ফরযটুকু পড়ে নিন। সুন্নতগুলো বাদ দিন। যদি মাঝে মধ্যে সুন্নত নামাযগুলো ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে গুনাহ হবে না। তবে সুন্নত নামায ছাড়াকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা উচিৎ নয়।
১২. যে বিষয়গুলো অলসতা তৈরি করে সেগুলো থেকে দূরে থাকুন। বর্তমানে অলস সময়গুলোর সঙ্গী হয়ে থাকে সোশ্যাল মিডিয়া, স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ বা টেলিভিশন। এসব থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও দূরে থাকতে হবে। তাহলে কাজে মন বসবে, ইবাদতে আগ্রহ সৃষ্টি হবে এবং অলসতাও হার মানবে।
১৩. অতিরিক্ত ঘুম ও খাওয়া মনকে অলস এবং শরীরকে স্থূল করে দেয়। সুতরাং এ দুটি বিষয় যেন অতিরিক্ত না হয় সে দিকে সতর্ক হতে হবে। বরং পরিমিত খাওয়া ও পরিমিত ঘুম, হালকা ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস মানুষকে সচল রাখে এবং অলসতা ও স্থবিরতা দুর করে।
♦পরিশেষে কবির ভাষায় বলব,
"অলস অবোধ যারা
কিছুই পারে না তারা
তোমায় তো দেখি নাকো
তাদের আকার।"
অলসতা যেমন আমাদের পার্থিব জীবনে সাফল্য ও উন্নতির পথে বাধা তেমনি আখিরাতের মুক্তির জন্য বিরাট প্রতিবন্ধক।
সুতরাং অন্তরে প্রাণ চাঞ্চল্য বজায় রাখুন। অলসতাকে না বলুন এবং সময়ের কাজ সময়ে করুন। তাহলে ইনশাআল্লাহ এক দিকে যেমন দুনিয়ায় সুখী জীবন অর্জন করা সম্ভব হবে অন্যদিকে আল্লাহ চাইলে আখিরাতেও অর্জন করা সম্ভব হবে অনন্ত সুখ-সমৃদ্ধ চিরসুখের নীড় জান্নাত। আল্লাহ কবুল করুন। আমীন
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
41 Lake Circus, Kalabagan, Dhanmondi
Dhaka