Sheikh Ridhi
একটা মেয়ের বিয়ের দিন বিদায়ের মূহুর্তে মেয়েটির চোখ থেকে যে কয়েক ফোটা লোনা জল গাল গড়িয়ে পড়ে সেই জলে মিশে থাকে বাবার বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কষ্টকর ভয়াবহ এক চিৎকার। সেই চিৎকার নিশ্বাস বন্ধ করে দেয় কিছু সময়ের জন্য। বুক অসার হয়ে আসে এক মূহুর্তে ,কষ্টগুলো দম বন্ধ করিয়ে দেয় মেয়েটির কথা চিন্তা না করেই। কান্নারা সজোরে চোখ ফেটে বাইরে বেড়িয়ে আসতেই থাকে, কান্না করে মন ভরে না তখন। হাউমাউ করে কান্নার পরও কান্নাদের মুক্তি মেলে না। একটা মেয়ের বিয়ের বিদায়ী মুহুর্তের যন্ত্রনা কতটা ভয়াবহ তার পরিমাণ একটা পুরুষ কখনোই করতে পারবে না।
বাবা তার রাজকন্যাটাকে যখন একটা ছেলের হাতে তুলে দেয় সারাজীবনের জন্য, সেই মূহুর্তে বাবার বুকের মাঝে বোবা চিৎকার হাউমাউ করে উঠে।সেই কান্না ছেলেটির কানে ততদিন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না যতদিন পর্যন্ত না সেই ছেলেটি তার নিজ মেয়েকে বিদায় করে দেয় অন্য আরেকটা ছেলের হাতে। মেয়েদের জীবন এক অদ্ভুত জীবন,যে জীবনে একটা মেয়ে নিজের জন্মস্থানকে আকড়ে ধরে বাচতে পারে না। জীবনের কিছুটা সময় মেয়েদের বাবার বাড়িতে কাটাতে হয় বাকিটা সময় হুট করে অপরিচিত একটা মানুষের সাথে কাটানোর জন্য পা বাড়াতে হয়। অপরিচিত একটা লোকের সাথে হুট করে মানিয়ে দেয়ার অসীম ক্ষমতা নিয়েই যেন একটা মেয়ের জন্ম হয়। তা না হলে যে মেয়েরা এই জগত সংসারে জলে ভাসা পদ্মের মত ভেসে বেড়াতো।
নিজ জন্ম স্থান, নিজ শৈশবের সৃতিবিজরিত বাড়িটা ছেড়ে যখন একটা মেয়ে শশুড়বাড়িতে পা বাড়ায় তখন তার ভেতরে একটাই শক্তি পা বাড়াতে সাহায্য করে, তা হলো অপরিচিত সেই ছেলেটির হাত দুটো। প্রতিটি মেয়েই মনের মাঝে এটুকু আশা নিয়েই বড় হয় তার স্বামী তাকে আগলে রাখবে। এই আশাটুকুই মেয়েদের পরের বাড়িতে পা বাড়ানোর প্রেরণা যোগায়। একজন স্বামী হিসেবে প্রতিটি ছেলেরই উচিত তার স্ত্রীর এই আশাটুকুর সম্মান রাখা।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka