A One Frame Gallery

A One Frame Gallery

Share

01/12/2025

অনেক পরিবার প্রায়শই একটি পরিস্থিতি অনুভব করে—

কিছুদিন পর পরই কারও অসুস্থতা, আকস্মিক কোনো দুর্ঘটনা, সন্তানের পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া, হাসপাতালের দৌড়, বিভিন্ন পরীক্ষা, প্রেসক্রিপশন…

বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে এক অনুভূতি কাজ করে— “আমাদের বাসস্থানের ওপর যেন কোনো অদৃশ্য ভার চেপে আছে।”

ইসলামী জ্ঞানী ব্যক্তিরা বলেন— এমন পরিস্থিতিতে বাসগৃহকে আল্লাহর গ্রন্থের তেলাওয়াত দ্বারা "বেষ্টন করা" অত্যন্ত জরুরি। এর মধ্যে বিশেষ কার্যকরী একটি আমল হলো সূরা হাশরের শেষ তিনটি আয়াত।

সূরা হাশরের শেষ তিনটি আয়াতের মহিমা
এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাআলা নিজের বহু মহান ও গৌরবময় নাম একসাথে উল্লেখ করেছেন—

হুয়াল্লাহুল্লাযি লা ইলা-হা ইল্লা হু… (সূরা হাশর: আয়াত ২২–২৪)

কিছু হাদিস অনুসারে, এবং বহু আলেমের মতে—

যে ব্যক্তি নিয়মিত সকাল–সন্ধ্যায় সূরা হাশরের শেষ তিনটি আয়াত পাঠ করে, ফেরেশতারা তার জন্য কল্যাণের প্রার্থনা করতে থাকেন, এবং সে আল্লাহর বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণে থাকে।

ইবনে কাসির (রহ.) তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেন— “এই আয়াতগুলোতে আল্লাহর এমনসব নাম এসেছে, যা বান্দার প্রতি রহমত, নিরাপত্তা ও হেফাজত নিয়ে আসে।”

তাই অনেক বুযুর্গ ব্যক্তি এ তিনটি আয়াতকে বাড়ি, পরিবার এবং উপার্জনের জন্য সুরক্ষার উপায় হিসেবে নিয়মিত পাঠ করতেন।

বাসস্থানকে অদৃশ্য বিপদ থেকে রক্ষা করার পদ্ধতি
এই আমলটি আপনি একা পালন করলেও ফলপ্রসূ হবে, স্বামী–স্ত্রী একসাথে করলেও উত্তম।

এক. প্রভাতের প্রতিরক্ষা
ফজরের নামাজ শেষ করে পবিত্র অবস্থায় শান্তভাবে বসে

সূরা হাশরের শেষ তিনটি আয়াত একবার ধীরে ধীরে পাঠ করুন।

প্রতিবার তেলাওয়াতের পর এই দোয়া করুন—

“হে আল্লাহ, আমার বাড়ি, সন্তান-সন্ততি, স্বামী–স্ত্রী, এবং আমাদের জীবিকাকে আপনার নিরাপদ আশ্রয়ে রাখুন।”

কিছুটা সময় নিয়ে ঘরের প্রতিটি সদস্যের কথা স্মরণ করুন।

দুই. সন্ধ্যার প্রতিরক্ষা
মাগরিবের নামাজের পর আবার সূরা হাশরের শেষ তিনটি আয়াত পাঠ করুন কমপক্ষে একবার।

চাইলে তিনবারও পাঠ করতে পারেন, তবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই আসল বিষয়।

শেষে দু'হাত তুলে মোনাজাত করুন—

“হে আল্লাহ, দিনের সব অপ্রত্যাশিত ঘটনা থেকে আমাদের রক্ষা করুন, রাতের সব গোপন বিপদ থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখুন।”

তিন. সপ্তাহে একবার বাড়ি ঘিরে আমল
সপ্তাহে কমপক্ষে একবার, যেমন শুক্রবার রাতে বা সকালে—

সূরা হাশরের শেষ তিনটি আয়াত একবার তিলাওয়াত করে ঘরের চারটি কোণে ধীরে ধীরে ফুঁ দিন (হালকাভাবে, শুধুমাত্র আমলের উদ্দেশ্যে)।

ইসলামী জ্ঞানী ব্যক্তিরা এটিকে ঘরের জন্য আসমানী **"নিরাপত্তার বেষ্টনী"**র মতো আমল বলে উল্লেখ করেছেন।

চার. পানির আমল ও অসুস্থতার মুহূর্তে প্রয়োগ
যদি বাড়িতে কেউ বারবার অসুস্থ হতে থাকে, অথবা একের পর এক ছোট–বড় দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে—

একটি পরিষ্কার গ্লাস পানিতে সূরা হাশরের শেষ তিনটি আয়াত তিনবার পাঠ করে ফুঁ দিন।

সেই পানি অসুস্থ ব্যক্তিকে পান করানো বা পরিবারের সকলের মাঝে ভাগ করে পান করানো যেতে পারে। এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়, বরং আল্লাহর দয়া প্রার্থনার একটি সুন্দর মাধ্যম।

এই আমল থেকে ইনশাআল্লাহ যা প্রত্যাশিত
এই আমল কোনো অলৌকিক শক্তি নয়, বরং আল্লাহর দরবারে নিয়মিত আকুল আবেদন—

ধীরে ধীরে আপনি অনুভব করবেন—

– ঘরে আকস্মিক বিপদ সামান্য হ্রাস পাচ্ছে – অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা বা অপ্রয়োজনীয় সমস্যা কম হচ্ছে – বাসস্থানের ভেতরের অদৃশ্য চাপ কিছুটা হালকা হয়েছে – সন্তানরা কিছুটা স্বাভাবিক, ভয়ের প্রভাব কমেছে – মনেও এক ধরনের দৃঢ়তা তৈরি হচ্ছে— “আমার বাড়িটি এখন আল্লাহর আয়াতে বেষ্টিত”

সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছাধীন, আমরা কেবল তাঁর নির্দেশিত আমলগুলো পালন করে তাঁর কাছে প্রার্থনা করি।

এরকম আরও সূরা–ভিত্তিক বাস্তবিক সমাধান জানতে চাইলে—

এই ধরনের বাড়ি, মন, রিজিক, সন্তান— প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য কোন সূরা কখন, কতবার, কীভাবে পড়বেন— এইসব তথ্য সুবিন্যস্ত আছে

অথবা মন্তব্যে দেওয়া লিংক ব্যবহার করে বইটির বিস্তারিত দেখে ওয়েবসাইট থেকেও অর্ডার করতে পারেন।

যদি শুধু নিজের জন্য নয়, বরং পুরো পরিবারের জন্য সমাধান চান—

চূড়ান্ত কথা
পার্থিব বিপদ সবসময় চোখে দেখা যায় না, কিন্তু আল্লাহ সবকিছুই দেখেন।

সূরা হাশরের শেষ তিনটি আয়াত পাঠ করে আপনি মূলত বলছেন—

“হে আল্লাহ, আমার বাড়ি, আমার সন্তান, আমার পরিবার— সবকিছুই আপনার রক্ষণাবেক্ষণে সমর্পণ করলাম।”

আপনি কি আজ থেকেই এই তিনটি আয়াতকে আপনার বাড়ির দৈনন্দিন সুরক্ষার অংশ হিসেবে গ্রহণ করবেন? মনে মনে হলেও বলুন— “ইনশাআল্লাহ আমি শুরু করব।”

Want your business to be the top-listed Interior Service in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address


Sultan Ahmed Plaza, 32 Purana Paltan (Radhuni Bilding) Dhaka
Dhaka
1000