Change Academy

Change  Academy

Share

28/01/2025

আপনি কি নিজেকে দক্ষ করে তুলতে চান?

17/07/2020

#নিজের_আত্নবিশ্বাসই_পারে_অসম্ভবকে_সম্ভব_করতে

একজন ব্যার্থ মানুষ আর সার্কাসের বিশাল দেহের হাতির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই,

একটি হাতির জীবন পরিচালনা হয় তার পালিত মালিকের কাছে

আর একজন ব্যার্থ মানুষের জীবন পরিচালিত হয় সমাজের আর এক ব্যার্থ
সমালোচকদের ভয়ে!!!

কোনো কিছু শুরু করার আগেই একটা ভয় ও লজ্জা কাজ করে যদি হেরে যাই? মানুষ কি বলবে এই ভয় ও লজ্জার এক অদৃশ্য শিকলে বাধা থাকে আমাদের আত্নবিশ্বাসের হাত পা।

আত্মবিশ্বাস মানুষের ভেতরকার এমন এক ক্ষমতা, যা দিয়ে মানুষ কঠিন কাজ সহজেই করে ফেলতে পারে, অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলা যায়। ‘আমি পারবো’ এই একটি কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করার নামই আত্মবিশ্বাস।

#নিজের_ক্ষমতাকে_চিনুন

সৃষ্টিকর্তা প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে কোনো না কোনো বিশেষ গুন দিয়ে দিয়েছেন। নিজেকে নিয়ে সবসময় হীনমন্যতায় না ভুগে নিজের ভেতরকার ক্ষমতাকে জানার চেষ্টা করুন নিজেকে চিনুন । কোনো মানুষই পরিপূর্ণ না সেটা মেনে নিন। আবার একটা মানুষ সব কাজ পারবে না সেটাও মাথায় রাখুন। তাই নিজেকে চিনুন ও নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করুন সফলতা আসবেই।



সংগৃহীত
Ahmed

14/07/2020

পেশায়. চৌকস. সাফল্যে. অনন্য
সফল ক্যারিয়ার কখনো সোনার হরিণ নয়। শতকরা ৯০ জন ক্যারিয়ারিস্ট জীবন শুরু করেছেন শূন্য থেকে। নিরলস শ্রম ও সুবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত তাদেরকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়েছে। আর প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তরের সামর্থ্যই সাফল্য। সাফল্য হচ্ছে ক্রমাগত এগিয়ে চলা। প্রতিটি অর্জনই হচ্ছে নতুন শুরু, নতুন যাত্রার প্রস্তুতি।
পেশায় চৌকস হওয়ার ৫ উপায়
১ম উপায় : আস্থা বিশ্বস্ততা
নিজের প্রতি আস্থা রাখুন। কাজের প্রতি বিশ্বস্ত থাকুন। কাজই হোক আপনার প্রেম।
আংশিক নয়, পেশাকে পরিপূর্ণরূপে গ্রহণ করুন। যখন যে পেশায় থাকবেন, সে পেশার কাজের সঙ্গে একাকার হয়ে যান।
কাজকে অবহেলা করবেন না। গোঁজামিল বা ফাঁকি দেবেন না।
কোনো অপারগতায় অজুহাত দেবেন না। যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে সরল স্বীকারোক্তি করুন।
ভান বা অভিনয় নয়, মনের আনন্দে কাজ করুন। প্রয়োজনে নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগ দিন। কাজে বৈচিত্র্য আনুন।
যতদিন যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন, ততদিন তার স্বার্থরক্ষায় আপনার পক্ষে করণীয় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখুন।
২য় উপায় : কর্মকৌশল
সিদ্ধান্ত নিতে সাহসী হোন; অহেতুক বিলম্ব করবেন না। প্রজ্ঞাপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকেই বদলে দেবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কম ক্ষতি স্বীকার করে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে সচেষ্ট থাকুন।
যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেই সমস্যা সমাধানের কৌশল ঠিক করুন।
প্রতিদিন অন্তত একজন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হোন। পূর্বপরিচিতদের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখুন।
কাজের প্রয়োজনে অন্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও যোগাযোগের মাত্রা/ ধরন ঠিক করুন।
আবেগপ্রবণ হবেন না। প্রো- অ্যাকটিভ থাকুন। অভিমান- অভিযোগ না করে সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিন।
৩য় উপায় : পেশাদারিত্ব
অফিসকে বাসায় বা বাসাকে অফিসে নিয়ে আসবেন না। পেশাগত বা পারিবারিক দুশ্চিন্তা ও সমস্যা যেন একটি অপরটির শান্তিকে বিঘ্নিত না করে।
কথায় ও কাজে আন্তরিক প্রাতিষ্ঠানিকতা বজায় রাখুন।
কোনো মন্তব্য বা আচরণের প্রেক্ষিতে বস/ সহকর্মীর সঙ্গে বিরোধে জড়াবেন না। প্রকাশ্যেও কাউকে অপমান বা হেয় করবেন না।
কর্মক্ষেত্রে সম্পর্কের জটিলতা বা ভুল বোঝাবুঝিকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে সবসময় সাংগঠনিকভাবে দেখুন।
কোনো ভুল হয়ে গেলে যুক্তিখণ্ডন করবেন না। অন্যেরা বলার আগে নিজেই তা নিঃসংকোচে স্বীকার করুন।
৪র্থ উপায় : পদ আনুগত্য
চেয়ার/ বসের প্রতি আন্তরিক আনুগত্য প্রদর্শন করুন। তাহলে আপনিও আপনার অধীনস্থদের আনুগত্য লাভ করবেন।
প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিটি কাজে বসকেই সবচেয়ে নির্ভুল মডেল মনে করুন।
চাকরির কাজে বসের কথা ও সিদ্ধান্তকে সবসময় ‘ হাঁ’ বলুন। তার প্রতি মনে কোনো ক্ষোভ রাখবেন না। মনে ক্ষোভ থাকলে বাস্তবেও দূরত্ব বেড়ে যাবে।
আনুগত্য ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাংগঠনিক পদক্রম অনুসরণ করুন।
বসের যুক্তিসঙ্গত প্রশংসা করতে কখনোই কার্পণ্য করবেন না। যেকোনো ছোট আনুকূল্যের জন্যেও তাকে ধন্যবাদ দিন।
৫ম উপায় : ক্রম উৎকর্ষ
পেশাভিত্তিক যোগ্যতা- দক্ষতা অর্জনের মাপকাঠিতে প্রতিদিন নীরবে আত্মপর্যালোচনা করুন।
প্রচ্ছন্ন নেতৃত্বের ( ঘোষিত নয়, কিন্তু সবকিছুর নিয়ন্তা যেন তিনিই) অবস্থানে নিজেকে নিয়ে যেতে সচেষ্ট থাকুন।
ব্যবস্থাপকীয় গুণাবলি ও সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়ান। তাহলে অন্যদের শক্তিকে কাজে লাগাতে পারবেন।
চাকরি সংক্রান্ত ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন।
সহকর্মীকে সহযোগী, বসকে অভিভাবক এবং নিজেকে নিজের প্রতিযোগী মনে করুন। সুস্থ প্রতিযোগিতা আপনার কর্ম- উৎকর্ষকে বেগবান করবে।

সাফল্য কোনো অসাধারণ সৌভাগ্য বা অলৌকিকতার ফসল নয়
সাফল্য একটি সহজ স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া যা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। আর তা অর্জিত হয় অনেক শ্রমে, ত্যাগে। সাফল্যের পথে রয়েছে অজস্র বাধা, আছে মরীচিকা। পথ চলতে গিয়ে হারিয়ে যেতে পারেন চোরাবালিতে। সফল ও ব্যর্থ মানুষের মাঝে বাহ্যিক বা শারীরিক কাঠামোয় কোনো পার্থক্য নেই। পার্থক্য শুধু জীবনদৃষ্টিতে।
সঠিক জীবনদৃষ্টি মানুষকে সফল করে আর ভ্রান্ত জীবনদৃষ্টি তাকে ব্যর্থ করে। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সাফল্যের স্বর্ণদুয়ার উন্মোচনের জন্যেই সাফল্যের পঞ্চসূত্র। এ সূত্রগুলো আপনাকে দেখাবে সাফল্যের সরল পথ। সাফল্য আপনার জন্যেই অপেক্ষা করছে।
সাফল্য মানে শুধু অর্থ বিত্ত খ্যাতি প্রতিপত্তি নয়, সাফল্য মানে কল্যাণকর সবকিছু করার বা পাওয়ার ক্ষমতা। প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত চাওয়াকে পাওয়ায় রূপান্তরের সামর্থ্যই। এ এক বিরামহীন প্রক্রিয়া।
সাফল্যের ধরন অনেক। মানসিক সাফল্য হলো প্রশান্তি, শারীরিক সাফল্য সুস্বাস্থ্য আর আর্থিক সাফল্য হচ্ছে সচ্ছলতা। আত্মিক সাফল্য হচ্ছে আত্ম উপলব্ধি। অর্থ-বিত্ত, খ্যাতি-সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি সাফল্যের একেকটি উপকরণ হলেও সাফল্য মানে অভাববোধের অনুপস্থিতি।
সফল তিনি-ই যিনি আপাত ব্যর্থতার ছাই থেকে গড়ে নিতে পারেন নতুন প্রাসাদ। প্রতিটি অর্জনকেই মনে করেন নতুন শুরুর ভিত্তি। প্রতিটি অর্জন শেষেই শুরু করেন আরো বড় অর্জনের অভিযাত্রা।

সাফল্যের পঞ্চসূত্র
সাফল্যসূত্র-১ : শোকর
আপনার যা আছে, যতটুকু আছে সেজন্যে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেই মন প্রশান্ত হবে। ঠান্ডা মাথায় মস্তিষ্ককে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সামর্থ্য ও উপায়-উপকরণ নিয়েই যাত্রা শুরু করার নাম শোকর।
হেলেন কেলার-এর জীবন দেখুন। শিশুবয়সে রোগ তার শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেয়। তিনি কলেজ থেকে ডিগ্রি লাভ করেন। লেখক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সফল বক্তা হিসেবে সারা দুনিয়ায় ঘুরে বেরিয়েছেন। তার এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে ছিল তার শোকরগোজার দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি লিখেছেনও আমাকে এতকিছু দেয়া হয়েছে যে, কি দেয়া হয় নি তা নিয়ে ভাবার কোনো সময় আমার নেই।’ একজন শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিহীন নারী যদি এত শোকরগুজার হতে পারেন, তাহলে আপনি কেন পারবেন না। শোকরগুজার হোন! নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জীবনের আনন্দসম্ভারকে উপভোগ করুন।
না-শুকরিয়ার ক্ষতি
ক্রমাগত না-শুকরিয়া দেহে এসিডিক অবস্থা সৃষ্টি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে।
বিরক্তি ক্ষোভ দুশ্চিন্তা আশঙ্কা সন্দেহ সংশয় বাড়িয়ে সমস্যাকে সংকটে রূপান্তরিত করে, সম্ভাবনা নষ্ট করে।
সবসময় শূন্যতা হাহাকার বিষণ্নতা, অহেতুক কষ্ট পাওয়া, নিজেকে অসহায় ও বঞ্চিত মনে করার জন্যে দায়ী না-শুকরিয়া।
সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগায়, দীর্ঘসূত্রিতা বাড়ায়। অলীক কল্পনা বিলাসিতায় ভাসিয়ে নিষ্ক্রিয় করে রাখে।
অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থেকে সীমালঙ্ঘন করায়।
দারিদ্র্য অশান্তি আতঙ্ক ত্রাস অস্থিরতা অনিশ্চয়তা এবং ভয় সৃষ্টি করে
শুকরিয়া সারাক্ষণ
ঘুম ভাঙতে ও ঘুমানোর আগে বলুন, শোকর আলহামদুলিল্লাহ/প্রভু তোমাকে ধন্যবাদ/ থ্যাঙ্কস গড, একটি সুন্দর দিনের জন্যে।
প্রতিটি কাজ ও অর্জনের পর মনে মনে বা মুখে শুকরিয়া আদায় করুন।
কুশল বিনিময়ের সময় বলুন, শোকর আলহামদুলিল্লাহ! বেশ ভালো আছি।
শোকরগোজার মানুষদের সংস্পর্শে থাকুন। সবসময় অনুপ্রাণিত হবেন।
কথায় না-শুকরিয়া চলে এলেও বা তওবা বা বাতিল বাতিল বলে শুকরিয়া জ্ঞাপক শব্দ দিয়ে বাক্য শেষ করুন।
কেউ উপকার করলে ধন্যবাদ দিন। থ্যাঙ্কস বা ধন্যবাদের জবাবে বলুন, শোকর আলহামদুলিল্লাহ বা থ্যাঙ্কস গড বা প্রভুকে ধন্যবাদ।সাফল্যসূত্র-২ : মনছবি
মনছবি হলো মনের পর্দায় আঁকা আপনার ভবিষ্যৎ সাফল্যের ছবি। অর্থাৎ আপনি যা চান তা সুনির্দিষ্টভাবে চাওয়া, ‌পাবো’ বলে বিশ্বাস করা, পাচ্ছি’ বলে অনুভবের পাশাপাশি বাস্তবে কাজ শুরু করে ফলাফলের জন্যে অপেক্ষা করার প্রক্রিয়ার নাম মনছবি। ইতিহাসে সফল মানুষরা কখনই বিরাজমান অবস্থাকে মেনে নিতে পারেন নি, অন্যের সাফল্য দেখে বিস্মিত হন নি; বরং বিশ্বাস করেছেন যে বিস্ময় সৃষ্টি করার শক্তি তার নিজের মধ্যেই রয়েছে। পরিবর্তনের ক্রমাগত স্বপ্ন তাদের প্রেরণা যুগিয়েছে জীবন বদলাতে, নতুন বাস্তবতা গড়তে। মনছবি শুধু আশা নয়, মনছবি হলো বিশ্বাস ও কর্মে লালিত ভবিষ্যতের বাস্তবতা।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা। শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীদের কারাগারে বন্দি ছিলেন ২৯ বছর। কারাগারের অতি নির্জন সেলে রাখা হয়েছিল, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছত না। কারাগার থেকে মুক্তির পর তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কারাগারে কি করতেন আপনি। তিনি বললেন, মনছবি। সবসময় স্বপ্ন দেখেছি মুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার যেখানে কৃষ্ণাঙ্গরা শাসন করছে। আর আমি তার নেতৃত্ব দিচ্ছি। ম্যান্ডেলা আলোচনার টেবিলে শ্বেতাঙ্গদের পরাজিত করে কৃষ্ণাঙ্গ শাসন কায়েম করেন। আর তিনি হন প্রথম প্রেসিডেন্ট যা ৭০-এর দশকে ছিল এক অকল্পনীয় ব্যাপার।
কীভাবে আঁকবেন
সাফল্যের নীলনকশা মনছবি’ আঁকতে হবে প্রশান্ত মনের স্থির পর্দায়। শিথিল অবস্থায় বা শুধু নিজস্ব চিন্তার মাঝেই নিমগ্ন থাকলে মনছবি দেখুন। কল্পনায় লক্ষ্যস্থলে চলে যান। দর্শক নয়, মনছবির নায়ক/ নায়িকা হিসেবে খুঁটিনাটি বিষয়সহ নিজেকে দেখুন। আপনি যা হতে চান বা পেতে চান, তা হয়ে গেছেন বা পেয়ে গেছেন অনুভব করুন।
যেমন চাকরির মনছবি হতে পারে এরকম- কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে আবেদনপত্র দিয়েছেন। নির্দিষ্ট দিনে ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে সব প্রশ্নের সঠিক জবাব দেয়ায় আপনাকেই পছন্দ করেছেন কর্মকর্তারা। কিছুদিন পর এসেছে নিয়োগপত্র। আপনজনেরা অভিনন্দিত করছেন। নির্ধারিত দিনে কাজে যোগদান করে তৃপ্তির সাথে কাজ করছেন আপনি।
মনছবির এ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতার জন্যে রয়েছে পঞ্চশর্ত।
১. লক্ষ্য স্থির
লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট করুন। আন্তরিকভাবে স্থির করুন কী হতে পারলে, কী করতে পারলে আপনি সবচেয়ে সুখী হতেন। কী কী করার যোগ্যতা আছে আপনার। যা হতে চান তাহলে ভালো হয়’ নয়; বরং লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এভাবে আমি .... হবো।’
২. লক্ষ্যে আস্থা
যুক্তিসঙ্গত লক্ষ্য স্থির হলেই আস্থা আসবে। এ আস্থা হতে হবে শতভাগ।
৩. লক্ষ্যানুরণন
লক্ষ্য অর্জিত হলে আপনার মনে আনন্দের যে অনুরণন হতো তা অনুভব করুন। আকাঙ্ক্ষা যত তীব্র হবে মনছবির বাস্তবায়ন তত স্বতঃস্ফূর্ত হবে।
৪. লক্ষ্যে একাত্মতা
মনছবির সাথে সার্বক্ষণিক একাত্ম থাকুন। শয়নে-স্বপনে আহারে-বিহারে দিনে-রাতে সবসময় সব কিছুর মাঝে মনছবিকে নিয়ে আসুন। পঞ্চইন্দ্রিয় যোগে মনছবি দেখুন, শুনুন, ঘ্রাণ নিন, স্পর্শের শিহরণ অনুভব করুন। অনুভব করুন- প্রতি মুহূর্তে আপনি এগিয়ে যাচ্ছেন তা পাওয়ার পথে।
৫. নীরবে কাজ
লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাস্তবে নীরবে নিরলস কাজ করুন। প্রয়োজনীয় গুণ, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগান। এভাবেই আপনি সাফল্য গ্রহণের জন্যে প্রস্তুত হবেন।
মনছবি ॥ শূন্য থেকে পূর্ণতায়
শতাব্দী প্রাচীন বটগাছের দিকে তাকান, দেখবেন এর ডাল-পালা-কাণ্ড-মূল আপনাকে মোহিত করছে। কিন্তু যে বীজ থেকে এই মহিরুহ সৃষ্টি হয়েছে, সে কথা একবার ভাবুন। একটি বট গাছের ফল কাকের পেটে গিয়ে বিষ্ঠা আকারে বীজটি মাটিতে পতিত হয়েছিল। দিন মাস বছর পার হয়ে ছোট বীজটিই দিগন্ত আচ্ছন্নকারী শতাব্দীর মহিরুহে পরিণত হয়েছে।
আসলে জন্মগ্রহণ করেই কেউ সফল হয় না, সিঁড়ি বেয়েই একজন ধাপে ধাপে এগিয়ে যায় সাফল্যের শীর্ষে। নতুন বাস্তবতার আগে সবসময় প্রয়োজন বদলের স্বপ্ন| স্বপ্নের সাথে বিশ্বাস, মেধা, শ্রম যুক্ত হয়েই সাফল্য আসে। মনছবি শুরু হয় শূন্য থেকে শেষ হয় পূর্ণতায়।

সাফল্যসূত্র-৩ : সবর
প্রচলিত অর্থে সবর বা সবুর করা বলতে মুখ বুঁজে কারো দুর্ব্যবহার, গালি গালাজ অথবা খুব বেশি হলে শারীরিক প্রহারকে সয়ে যাওয়া বোঝায়। কোনো বিপদ বা কষ্টের মুখেও একটু সবর করো’ এ বাক্যটি এখন হয়ে গেছে দুর্বলদের একমাত্র সান্তনাবাক্য। কিন্তু সবর মানে সক্রিয় কর্মতৎপরতা এবং নীরব অপেক্ষা। সবর মানে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে ঠান্ডা মাথায় নীরব সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। সত্যিকার অর্থে সবর করতে পারলে জীবনের আপাত অনেক অসম্ভবও সম্ভব হতে পারে। কঠিন প্রতিকূলতা রূপান্তরিত হতে পারে স্বতঃস্ফূর্ত আনুকূল্যে। সাফল্যের প্রাকৃতিক সূত্র অনুসারেই তখন কাজের ভিত্তিতে ফল আসতে শুরু করবে।
সবর করার জন্যে-
১. প্রো-একটিভ থাকুন
সমস্যা বা প্রতিকূলতা চলে এলে তাকে স্বাগত জানান। এতে পরিস্থিতি সংকটপূর্ণ হবে না। বরং সম্ভাবনা বেরিয়ে আসবে। বাস্তব বিজয়ের আগে মানসিকভাবে নিজেকে বিজয়ী ভাবুন। সবসময় মনে রাখুন আপাত বা সাময়িক অনেক ব্যর্থতাও আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
২. প্রতিকার করুন:
দুর্বলরা প্রতিবাদ করে, হৈ চৈ করে দাবি জানায়। বুদ্ধিমানরা প্রতিকার করেন। এজন্যে অভিযোগ নয়, সমাধানের উদ্যোগ নিন। যা চান তা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ আগে তা নির্ধারণ করুন। এবার পরিকল্পনা করুন কীভাবে তা পাওয়া যেতে পারে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রধান কারণ হলো তারা ভুল থেকে শেখে না। স্বভাব বা কৌশলের যে ত্রুটি তাকে বার বার ব্যর্থ করছে তা শোধরানোর কোনো উদ্যোগ সে নেয় না। তাই প্রতিনিয়ত শিখুন। আপনার ব্যর্থতার কারণগুলোর প্রতি সচেতন হোন। দেখুন কী কী কারণে সমস্যা হচ্ছে। আপনার আচরণ দৃষ্টিভঙ্গি সিদ্ধান্ত কর্মপন্থার কোনো ভুল বা ব্যক্তিগত বদঅভ্যাস নাকি অন্য কিছু। প্রয়োজনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মকৌশল গ্রহণ করুন। সাফল্য তখন আপনার দিকে ছুটে আসবে।
৩. লেগে থাকুন:
হাল ছাড়বেন না। থামবেন না, তাহলে অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বেন। বিজয় না আসা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান, সংগ্রাম করুন। কোনো কাজের উদ্যোগ নিলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত লেগে থাকুন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আপনার শেষ শক্তিটুকু সে কাজে নিয়োজিত করুন। একটি শিশুকে দেখুন। জন্মের পর চিৎ হয়ে শুয়ে থাকার পর একসময় সে কাত হয়, উপুড় হয়। তারপর শুরু হয় হামাগুড়ি দিয়ে হাতে পায়ে হাঁটা। এরপর সে উঠে দাঁড়ায়, হাঁটি হাঁটি পা পা করে। এভাবে হাঁটতে গিয়ে সে বারবার পড়ে, বারবার উঠে দাঁড়ায়, আবার হাঁটতে শুরু করে। এবং একসময় সে কারো সাহায্য ছাড়াই হাঁটে এবং দৌড়ায়। অর্থাৎ বার বার শুরু করুন। জীবন বার বার শুরু করারই আরেক নাম।
৪. বিকল্প পথে চলুন
আসলে বাধা বা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে বলেই মানুষ সবসময় নতুন কিছু আবিষ্কার করতে পেরেছে। আপনি যদি ডানদিকের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার জন্যে মনস্থির করেন, ব্যারিকেড পেলে বামদিকের রাস্তা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করুন। এতে বিরোধ এড়াতে পারবেন। আহাম্মক প্রথম ভুলটিই করে বিরোধে জড়িয়ে। তার যেটুকু বুদ্ধি আছে তাকে বিতর্কে জয়ী হওয়ার জন্যে। আর বুদ্ধিমান তার বুদ্ধি কৌশল ও সাহস কাজে লাগান বিরোধ এড়ানোর জন্যে।
৫. শ্রমানন্দে কাজ করুন
আপনি আপনার স্বপ্ন পূরণের জন্যে মেধা শ্রম সময় এমনকি নিজেকে উৎসর্গ করে দিলে তা কোনো একসময় বাস্তবায়িত হবেই। লক্ষ্যের পথে এ ত্যাগ ও মেহনতই অসামান্য অর্জন এনে দিতে পারে। যে কেউ তার বিশ্বাস ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যেকোনো অবস্থান থেকেই সফল হতে পারেন। আত্মপরিচয় সৃষ্টি করতে পারেন। কারণ কষ্ট ও পরিশ্রমনির্ভর করেই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। যত কাজ করবেন তত শারীরিক-মানসিকভাবে ভালো থাকবেন। আর আরাম যত করবেন, ব্যারাম তত বাড়বে। যত পরিশ্রম তত সুস্থতা, সাফল্য ও প্রশান্তি। এ পরিশ্রমই আপনাকে সফল করবে, সহিষ্ণুতা বাড়াবে।
আপনি সবর করছেন কি না তা বুঝবেন কীভাবে?
যখন বড় আনন্দ পাওয়ার জন্যে ছোট ছোট আনন্দের সুযোগকে হাসিমুখে ‌না' বলতে পারবেন।
কাজ ও ফলাফলের মধ্যবর্তী অপেক্ষার সময়টুকু যখন আরো বড় কাজের প্রস্তুতি নিতে কাজে লাগাবেন।
কষ্ট, পরিশ্রম ও মেহনতকে যখন রূপান্তরিত করবেন শ্রমানন্দে।
ভাগ্যে নেই বা কপালে লেখা নেই মনে করে যখন নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে থাকবেন না।
কারো বা কোনো কিছুর সাহায্যের আশায় বসে না থেকে যখন এই মুহূর্তে যা আছে তাই নিয়ে শুরু করবেন।
যখন আপনার বর্তমান অবস্থা পরিবর্তনের জন্যে ক্রমাগত নীরব সংগ্রাম বা নিরলস প্রচেষ্টা চালাবেন।
যা চান তা পাওয়ার জন্যে যখন ধাপে ধাপে নিজেকে প্রস্তুত করবেন।
রাতারাতি বা চটজলদি পাওয়ার আশা না করে যখন প্রতিটি অর্জনকে তার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে দেবেন।
ফলাফল নয়, আপনার করণীয়সমূহের প্রতি মনোযোগী হবেন।
যখন কারো উসকানি, কথা বা আচরণে আপনি প্রভাবিত হবেন না। আপনি সে কাজটিই করবেন যে কাজটি আপনি আপনার লক্ষ্যের জন্যে সঠিক মনে করবেন।
ভুল বা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেবেন এবং এর পুনরাবৃত্তি এড়াবেন।
কারো ভুলকেও আপনি যখন ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং শাস্তি নয়, শুধরে দেবেন।
সাফল্যসূত্র-৪ : সাদাকা
সেবার অপর নাম সাদাকা। সাদাকা মানে নিজের ও অন্যের কল্যাণে অর্থ, মেধা, শ্রম ও সময়কে সেবায় রূপান্তরিত করা। শুধু কায়িক শ্রম নয়, নতুন চিন্তা-কৌশল উদ্ভাবন করে কোনোকিছুকে আরো সহজ ও স্বচ্ছন্দ করাও সেবা।
আপনি যা পেতে চান, তা-ই আগে আপনাকে দিতে হবে। অর্থ চাইলে অর্থ দান করতে হবে। সম্মান পেতে হলে অন্যকেও সম্মান করতে হবে। হাসিমুখ দেখতে চাইলে আগে নিজেকে হাসতে হবে। যা দান করবেন প্রাকৃতিক নিয়মেই তা হাজার গুণে আবার ফিরে আসবে আপনার কাছে। দানের এই প্রতিদান সার্বজনীন, ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে সবার জন্যে।
প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে বাতাসের শূন্যতা যেভাবে ঝড় সৃষ্টি করে তেমনি সাফল্যের কোয়ান্টাম সূত্র অনুসারে আপনি যখন দান করেন, সেখানে শূন্যতা সৃষ্টি হয়। সে শূন্যস্থান পূরণের জন্যে চারপাশ থেকে তখন প্রতিদান আসতে শুরু করে। এজন্যেই যত বিলিয়ে দেবেন তত আসতে থাকবে। যত কুক্ষিগত করে রাখবেন তত অভাববোধ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে থাকবে।
আন্তরিক সেবা প্রাকৃতিক নিয়মেই আনে সাফল্য। ইতিহাসের দিকে তাকান, দেখবেন যে আন্তরিকভাবে ফুটপাতে জুতো সেলাই করতে করতেই কেউ হয়েছেন লাখপতি মুচি, পেঁয়াজু বিক্রি করেই কেউ বানিয়েছেন বিল্ডিং, হোর্ডিং পেইন্টারের সহকারী থেকে হয়েছেন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী, বাড়ির বর্ধিত চালার নিচে ফুটপাতে চা বিক্রি করতে করতেই সঞ্চয় করেছেন সে বাড়ি কেনার অর্থ। দাতা ও সেবক হওয়ার মাধ্যমেই তারা মহৎ কিছু করেছেন, উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, ইতিহাসে স্মরণীয় হয়েছেন।
সাদাকার ক্ষেত্র
মা-বাবা বিশেষত তাদের বয়োবৃদ্ধ অবস্থায় আন্তরিক খেদমত, পরিবারের ভরণপোষণ, স্ত্রী/স্বামী/সন্তানের সাথে সুন্দর ব্যবহার সাদাকা।
আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সাহায্য-সহযোগিতা, এতিম-মিসকীন, বিধবা ও অসহায়ের লালন-পালন করা সাদাকা।
রোগীর সেবা ও তার জন্যে দোয়া করা, তাকে দেখতে যাওয়া, মমূর্ষুকে রক্তদান করা।
অর্থনৈতিক বা সামাজিক পরিবেশের শিকার অসহায় মানুষকে পরিবেশের বন্দিত্ব থেকে মুক্ত করা, অত্যাচারিতকে সাহায্য করা।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ত্রাণ কাজ, প্রকাশ্যে বা গোপনে অর্থ দান, তৃষিতকে পানি পান করানো, ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো সাদাকা।
আগে সালাম দেয়া, হাসিমুখে সুন্দর কথা বলা, অন্যের সাফল্যলাভে শুভকামনা জানানো সাদাকা।
পথ থেকে পথিকের জন্যে ক্ষতিকর প্রতিটি বস্তু (যেমন কাঁটা, ইট-পাথর, কাঁচের টুকরা ইত্যাদি) অপসারণ। পড়ে থাকা জলন্ত কিছুকে নেভানো।
পরিবেশ পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখা, গাছ লাগানো সাদাকা।
অধীনস্থদের সাথে মানবিক আচরণ করা। অন্ততপক্ষে নিজেরা যা খাবেন, তাদেরও তা খাওয়ানো।
জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অর্থ বা শ্রম দিয়ে কাউকে অক্ষরজ্ঞান দান করা, জীবনযাপনের বিজ্ঞান শিক্ষা দেয়া, কাউকে সৎসঙ্ঘে একাত্ম করা।
সমস্যা সমাধানে সৎ পরামর্শ দেয়া। ভালো কাজে উৎসাহিত করা এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে সচেষ্ট হওয়া সাদাকা।
উৎসাহ-উদ্দীপক ভালো লেখা, গণসচেতনতামূলক চিঠি পত্রিকায় পাঠানো সাদাকা।
ওজনে কম না দেয়া।
পথহারা মানুষকে পথ দেখানো। শিশু/অন্ধকে পথ চলতে সাহায্য করা, রাস্তা পার করে দেয়া।
প্রবীণ, মহিলা ও শিশুকে যাত্রীভর্তি বাসে নিজের আসনে বসতে দেয়া।
অপ্রয়োজনে জ্বলতে থাকা লাইট নেভানো, ফ্যান/এসি বন্ধ করা।
অর্পিত দায়িত্ব আন্তরিকতা নিয়ে পালন করা।
প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু আবিষ্কারের মাধ্যমে অন্যের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানো।
সাফল্যসূত্র-৫ : সঙ্ঘায়ন
আপনি রাজনীতিক হোন, শিল্পী হোন বা টেকনোক্রেট- একা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। সফল হতে হলে আপনার লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনার প্রয়োজন হবে আরো অনেককে। যত বেশি লোককে আপনি জড়ো করতে পারবেন তত আপনার সাফল্যের পরিমাণ বাড়তে থাকবে। পৃথিবীকে সবসময় নেতৃত্ব দিয়েছে লক্ষ্য সম্পর্কে দৃঢ় প্রত্যয়ী, চেতনার প্রতি বিশ্বাসী সঙ্ঘবদ্ধ মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ। সঙ্ঘের মাধ্যমেই প্রত্যেকের ভেতর ব্যবস্থাপনার গুণাবলি বিকশিত হয়। সঙ্ঘের সিস্টেম তাকে শেখায় কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং কীভাবে নেতৃত্বকে অনুসরণ করতে হবে। কারণ নেতৃত্বকে অনুসরণের মধ্য দিয়েই একজন অনুসারি নেতা হতে পারেন।
বিচ্ছিন্নতা ও বিভক্তি হলো দুর্বলতা। নিচের গল্পটি পড়ুন
এক জঙ্গলে ছিল কোয়েল পাখির এক বিশাল ঝাঁক। খাবারের কোনো অভাব নেই। সুখে-শান্তিতে কাটছে তাদের জীবন। এমনসময় একদিন এক শিকারী হানা দিল সে জঙ্গলে। পাখির ঝাঁক যখন ক্ষেতে নেমে এল শস্যদানা খাওয়ার জন্যে সে এক বিশাল জাল ফেলে দিল তাদের ওপর। এভাবে প্রতিদিনই সে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি ধরে বিক্রি করে দিতে লাগল বাজারে। ফলে দিন দিন কমতে লাগল পাখির সংখ্যা।
একদিন এক বুড়ো জ্ঞানী পাখি সবাইকে জড়ো করে বলল এ শিকারীর হাত থেকে তোমাদের বাঁচার একটাই পথ। আর তাহলো সঙ্ঘবদ্ধ হওয়া। শিকারী যখন জাল ফেলবে তখন যদি তোমরা সবাই মিলে পাখা নাড়াতে থাকো তাহলে জাল থেকে তোমরা মুক্ত হতে পারবে। পাখিরা সবাই মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনল। এবং সত্যি সত্যিই এরপর যেদিন শিকারী জাল ফেলতে এলো তারা সবাই একসাথে এমনভাবে পাখা নাড়ল যে জালসহ তারা উঠে গেল এক উঁচু গাছের আগায়। গাছের ডালে যখন খুব ভালো করে জালটা আটকে গেল তারাও মুক্ত হয়ে উড়ে গেল আকাশে।
শিকারী বিস্মিত হয়ে ভাবল এত ছোট্ট পাখি অথচ একসাথে হয়ে এরা এত বড় জাল পর্যন্ত উড়িয়ে নিয়ে গেল!
পরদিন আবারও যখন শিকারী জাল ফেলল, পাখিরা একসাথে ডানা ঝাপটাতে লাগল। আচমকা একটি কোয়েলের ধাক্কা গিয়ে লাগল আরেক কোয়েলের গায়ে। সে খেকিয়ে উঠল, কী হলো ধাক্কা দিচ্ছিস কেন? আমার লেজ মাড়ালি! এত বড় সাহস! প্রথম কোয়েল তখন উত্তেজিত হয়ে উঠল! আমি কি ইচ্ছে করে মাড়িয়েছি? আমাকে ধাক্কা দিলে কী করব? আরেক কোয়েল তখন পাশ থেকে বলে উঠল, এরকম মরণফাঁদের মুখে পড়েও তোরা ঝগড়া করছিস? শিকারী ব্যাটা এলো বলে! প্রথম দুই কোয়েল তখন একসাথে তেড়ে এলো, এ-ই খবরদার আমরা কী করব না করব তা বলার তুই কে? যা ভাগ এখান থেকে! এভাবে কিছুক্ষণের মধ্যে মহা শোরগোল লেগে গেল কোয়েল ঝাঁকের মধ্যে। এই শোরগোলের মধ্যে শিকারী তার জাল ফেলে দিল এবং একসাথে সবগুলোকে আটকে ফেলল। জালের গোছাটা গুটিয়ে কাঁধে ঝুলিয়ে বাজারে যেতে যেতে সে বলতে লাগলো, যখন একসাথে ছিল এরা জাল উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার মতোই শক্তিশালি। কিন্তু বিচ্ছিন্ন অবস্থায় এরা খাবারের থালায় উপাদেয় খাবার ছাড়া আর কিছুই

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


North Badda, Dhaka
Dhaka
1212