WAM

WAM

Share

31/05/2021

#তাহাজ্জুদ


⭕তাহাজ্জুদ নিয়ে মোটিভেশনাল কিছু কথা এইভাবে তাহাজ্জুত পড়ে দেখুন, আজ থেকে আপনার সকল অভিযোগ বন্ধ হয়ে যাবে! ইনশাআল্লাহ

রাত ২/৩ টা তাহাজ্জুত এর সময় হয়েছে, ওঠো! ওয়াশরুমে যাও, মিসওয়াক শেষে উত্তমরুপে ওযু বা গোসল করে সবচেয়ে সুন্দর ও পবিত্র জামাটি পরিধান করো; কাউকে দেখানোর জন্য না! একমাত্র তোমার রব আল্লাহর জন্য।

চোখে সুরমা লাগাও, মাথার চুল আঁচড়া ও হালাল সুগন্ধি লাগাও। নিজেকে উত্তমরুপে সাজাও, আজকের এই গোসল, এই সাজ আল্লাহর জন্য। শুধুই মহান সৃষ্টিকর্তার জন্য, জায়নামাজ বিছিয়ে ধীরস্থির ভাবে দুই রাকাত নামাজ পড়ো।

নামাজান্তে সেজদায় লুটিয়ে চোখের পানি ছেড়ে মহান সেই রবকে ডাকো, যিনি তোমার প্রার্থনা শোনার জন্য, তোমার চোখের পানি দেখার জন্য প্রথম আসমানে নেমে এসেছেন, ধৈর্য্যধারণ করে, প্রশান্তচিত্তে, নামাজের মধ্যে তাঁকে ডাকতে থাকো। সেই রব তোমার দোয়া কবুল করবেন না তো আর কার দোয়া কবুল করবেন!

তোমার ডাক শুনবেন না তো আর কার ডাক শুনবেন! তুমি আর সেই ব্যক্তি কি এক হয়ে গেলে যিনি বেঘোরে ঘুমাচ্ছে আর তুমি অশ্রুবর্ষণ করে মহান রবের কুদরতি পা সিক্ত করছো!

না না তুমি আল্লাহর রহমতের ছাঁয়ার নিচে আর সে অনেক অনেক দূরে।
তোমার প্রার্থনায় আরশ কেঁপে ওঠছে, তকদির দোলছে, অবশেষে আল্লাহ তকদির পরিবর্তন করে বান্দার আরজি কবুল করেন।

وَمِنَ ٱلَّيۡلِ فَتَهَجَّدۡ بِهِۦ نَافِلَةٗ لَّكَ عَسَىٰٓ أَن يَبۡعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامٗا مَّحۡمُودٗا ٧٩ – الاسراء.

“আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় কর ‎‎তোমার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে। আশা করা ‎যায়, তোমার রব তোমাকে প্রশংসিত অবস্থানে ‎প্রতিষ্ঠিত করবেন”। (সূরা ইসরা:৭৯)

তোমার দোয়া কবুল হয় না, তোমার দুঃখ মোচন হয় না, তোমার বিপদ আরো বেড়েই চলছে...। ওই নিয়মে ডাকতে থাকো,যদি ডাকার মতো তাঁকে ডাকো তবে তোমার দোয়া কবুল হতে ১মিনিটও লাগবে না।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

"আমি যখন কোনো কিছু করার ইচ্ছে করি
তখন তাকে এতটুকুই বলি যে 'হয়ে যাও'
সুতরাং তা হয়ে যায়!!
[ সূরা আন'নহল: 40 ]

পৃথিবীতে এমন কেউ কি আছে যে আল্লাহর কাছে কিছু চেয়েছে কিন্তু আল্লাহ তা দেয়নি? প্রমাণ করতে পারবে?

হুমম...হুবহু সেই জিনিসটি হয়তো দেননি তবে তার থেকে অনেক অনেক গুণ উত্তম কিছু দিয়েছেন। পরবর্তীতে প্রার্থনাকারী অবশ্যই তা টের পেয়ে লজ্জিত হয়ে বলেছেন- হায়! আমি কত বোকা, না বুঝে কত ছোট প্রার্থনাই না করেছিলাম।

কখনো কি আল্লাহর জন্য নিজেকে সাজিয়েছো? ঐ ভাবে মহান রবকে ডেকেছো?
তাহলে প্রস্তুত হয়ে যাও আজ থেকেই
উঠো,তাহাজ্জুদ পড়ো...

⭕ আল্লাহ আমাদের সকলের নেক দোয়া গুলো কবুল করুন,আমিন ।

28/05/2021

এক অন্তহীন কান্নার ধারা

শুরুকথা:

ভূমধ্যসাগর ও জর্ডান নদীর মধ্যবর্তী ভূখন্ড ফিলিস্তীন বা প্যালেস্টাইন মুসলিম, খৃষ্টান ও ইহুদী তথা সকল ধর্মাবলম্বীর নিকট একটি পবিত্র ভূমি।
সুদীর্ঘ ইতিহাস বিজড়িত ফিলিস্তীন মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্ব মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঞ্চল। অথচ জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়া বেষ্টিত এ ভূখন্ডের প্রতিটি বালুকণার সাথে মিশে আছে ছোপ ছোপ রক্ত।
ক্রসেড যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই ছোট্ট অঞ্চলটি আজ ইসরাইল নামক এক আস্ত হায়েনার করতলগত।
গত ৬০ বছর থেকে ফিলিস্তীনীদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে আমেরিকার অনৈতিক সমর্থনপুষ্ট ইসরাইল। অন্যদিকে সারা বিশ্বের মোড়লরা কেউবা এ অন্যায়ের সহযোগিতা করছে, কেউবা কাপুরুষের ন্যায় চোখ বুজে সহ্য করছে এই হোলি খেলা।
গতবছরের ৩১ মে সারা বিশ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এ ইহুদী রাষ্ট্রটি তার আসল চেহারা আরেকবার উন্মোচন করল।
গাজার ক্ষুধার্ত-তৃষ্ণার্ত, ভুখা-নাঙ্গা মানুষের মুখে এক মুঠো আহার তুলে দেওয়ার জন্য রওয়ানা হয় তুর্কী ত্রাণবাহী জাহাজ ফ্রিডম ফ্লোটিলা মাভি মারমারা। গাজার উপকণ্ঠে পৌঁছার পূর্বেই ইসরাইলি সন্ত্রাসীরা এই জাহাজে বর্বর হামলা চালিয়ে ৯ জন তুর্কী মানবাধিকার কর্মীকে হত্যা করে। এই গণহত্যা সারা বিশ্বের মানুষকে আরো একবার ইসরাইল সম্পর্কে ভাবাতে শুরু করে।

ইহুদী জাতির পরিচয়:

ইসরাইল রাষ্ট্র প্রসঙ্গে আলোচনার শুরুতেই ইহুদীদের সম্পর্কে বলা প্রয়োজন। কেননা ইহুদী রাষ্ট্র হিসাবেই ইসরাইলের জন্ম। ইহুদীদের প্রধান নবী হলেন মূসা
(আঃ), যার কিতাব হল তাওরাত। ইহুদীরা আল্লাহকে বিশ্বাস করে, যার নাম তাদের কাছে জেহোভা। এখান থেকেই ইহুদী নামের উৎপত্তি।
কারো মতে, ইহুদীদের অপর নাম বনী ইসরাইল। ইসরাইল মূলত ইয়াকুব (আঃ)-এর অপর নাম।
তাঁর মোট ১২ জন সন্তান ছিল। ১২ ভাইয়ের বড় ইয়াহুদার নামানুসারেই বনী ইসরাঈলকে ‘ইহুদী’ বলা হয়। বনু ইসরাইলেরা পথভ্রষ্ট হয়ে গেলে আল্লাহ তাদের হেদায়াতের জন্য মূসা (আঃ)-কে তাওরাত সহ প্রেরণ করেন।
বনী ইসরাইলের উপর আল্লাহর ছিল অগণিত নিয়ামত, অফুরন্ত অনুগ্রহ।
পবিত্র কুরআনে প্রায় ৪৩টি স্থানে বনী ইসরাইলের আলোচনা রয়েছে।
তন্মধ্যে প্রায় ১৬টি স্থানে বনু ইসরাইলের উপর আল্লাহ প্রদত্ত নে‘আমতরাজির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যখন আমি সমুদ্রকে পৃথক করে দিলাম অতঃপর তাদেরকে রক্ষা করলাম এবং ফেরাঊনকে ডুবিয়ে দিলাম’ (বাক্বারাহ ৫০)।
তাদেরকে প্রদত্ত আরো নে‘আমতসমূহ যেমন- রাজাধিপতির মর্যাদা প্রদান (মায়েদাহ ৬০),
রিযিক প্রদান (জাছিয়া ১৬),
তীহ প্রান্তরে ছায়া ও খাবারের ব্যবস্থা (বাক্বারাহ ৫৭), পানির ব্যবস্থা (বাক্বারাহ ৬০)।

এছাড়াও আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর আরো অনেক অনুগ্রহ করেছেন। যেমন-গো-বৎসের পূজা করার পরও আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন’ (বাক্বারাহ ৫১-৫২)। বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটানোর পর তাদেরকে আবার পুনর্জীবন দান করেন’ (বাক্বারাহ ৫৫)।
এ রকম আরো অভাবনীয়, আশাতীত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নে‘আমতরাজি দিয়ে আল্লাহ ইহুদীদের মান-মর্যাদা, প্রভাব-প্রতিপত্তি, শান-শওকত বৃদ্ধি করেছেন।

এরপরও কুটিল ইহুদীরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় না করে একের পর এক নাফরমানী করে চলেছিল। গোবৎসের পূজা, যুদ্ধ করতে অস্বীকার, আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখতে চাওয়ার মত ধৃষ্টতা, মান্না ও সালওয়ার উপর আপত্তি, নবীদেরকে হত্যা, শনিবারের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা লংঘন (বাকারা ৫১-৫২; মায়েদা ২৪; ঐ ৬১; নিসা ১৫৭; বাকারা ৬৫-৬৬) ইত্যাদি বহু ক্ষেত্রে তারা আল্লাহর নাফরমানী করে।
ফলে আল্লাহ তাদের উপর নানাবিধ গযব নাযিল করেন।
যেমন-লাঞ্ছনা ও পরমুখাপেক্ষিতা (বাক্বারাহ ৬১, আলে ইমরান ১১২)। এছাড়াও ক্ষণিক গযবসমূহ ছিল- (ক) তীহ প্রান্তরে ৪০ দিন উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানো (মায়েদা ২৪)।
(খ) বজ্রপাতে ধ্বংস হওয়া (বাক্বারাহ ৫৫)।
(গ) গো-বৎস পূজার জন্য পরস্পরকে হত্যার মাধ্যমে নিষ্ঠুর শাস্তি প্রাপ্ত হওয়া (বাক্বারাহ ৫৪)।
(ঘ) মাথার উপর তূর পাহাড়কে ঝুলিয়ে দেয়া (আ‘রাফ ১৭১)।
(ঙ) বৈধ ও পূত-পবিত্র বস্ত্ত হারাম হয়ে যাওয়া (নিসা ১৬০-১৬১)।
(চ) নিকৃষ্ট বানর ও শুকরে পরিণত হওয়া (বাক্বারাহ ৬৫-৬৬) প্রভৃতি।

মূলত ইহুদীরা হচ্ছে একটি প্রতারক, ধুরন্ধর, বিশ্বাসঘাতক নিষ্ঠুর জাতি। তাই লাঞ্ছনা ও অপমান এদের চিরসঙ্গী। এদের উপর আল্লাহর সবচেয়ে বড় গযব হচ্ছে মুসলমান বা অন্য কোন জাতির ন্যায় তারা কোন স্থানে একত্রিত জীবন যাপন করতে পারবে না। এজন্য ইতিহাসের পাতায় তাদেরকে সবসময় দুরাচারী, অপমানিত, বহিষ্কৃত অবস্থাতেই দেখা যায়।
এইতো গত শতাব্দীতেই তারা মুসলিম খিলাফত আমলে আরব থেকে বহিষ্কৃত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আশ্রয় নেয়। আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার কর্তৃক নিষ্ঠুরভাবে আক্রান্ত ও বিতাড়িত হয়।

ফিলিস্তীনের ভৌগলিক পরিচয়:

Palestine এর আরবী নাম فلسطين যার অর্থ সুন্দর কিছু। এর আরেকটি অর্থ আল্লাহর ভূমির রক্ষক (ইসলামী বিশ্বকোষ ১৫তম খন্ড, পৃঃ ১৫৩)। মূলত শব্দটি গ্রীক। যার অর্থ-ফিলিসিয়াবাসীদের ভূখন্ড। অর্থাৎ যারা আনুমানিক খৃষ্টপূর্ব ১২০০ শতকের দিকে কেনান তথা জর্ডান নদীর বেলাভূমির দক্ষিণ তীরাঞ্চল দখল করেছিল।
এরা ছিল প্রাচীন জুডা রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ফিলিসিয়ার অধিবাসী। এশিয়ার পশ্চিম প্রান্তসীমা ও ভূমধ্যসাগরের পূর্ব সীমানা বরাবর ফিলিস্তীন রাষ্ট্রটি অবস্থিত। এর উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণে ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকলেও মূলত উত্তরে লেবানন এবং সিরিয়া, দক্ষিণে সুয়েজ উপসাগর ও মিশরীয় সিনাই উপদ্বীপ, পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর ও পূর্বে জর্ডান অবস্থিত।
এর মোট আয়তন ৬৩৩৫ বর্গকিলোমিটার। ১৯৪৮ সালে এই পরিমাণ ছিল ২৬,৩২৩ বর্গকিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা ৪০ লাখ। ১৯৪৮ সালে ছিল ১ কোটি। তন্মধ্যে পশ্চিমতীরে বাস করে ২৫ লাখ, গাজায় ১৫ লাখ, ইসরাইলের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক ১১ লাখ, জর্ডানে ২৮ লাখ, অন্যান্য আরব দেশে ১৭ লাখ এবং সারা পৃথিবীতে ১ লাখ। প্রায় ১ কোটি মানুষের একটি জাতিগোষ্ঠী এমনইভাবে আজ স্বদেশ থেকে বিতাড়িত, ভাগ্যবিড়ম্বিত। তাদেরকে পাশবিক শক্তি প্রতারণার মাধ্যমে এ অবস্থায় নিক্ষেপ করেছে।

গাজা: আয়তন ৩৬০ বর্গ কিঃ
(সংগৃহীত)

Want your place of worship to be the top-listed Place Of Worship in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address


Dhaka