Akter' s Math care
20/09/2025
ভর্তি চলছে... ভর্তি চলছে
০১/১০/২০২৫ থেকে নতুন ব্যাচে। শীগ্রই যোগাযোগ করুন।
20/11/2024
ডিসেম্বর থেকে...
দেবিদ্বার শান্তি রোডে।
Please call.
আমরা যারা শিক্ষকতা পেশায় থেকে গেছি তারা এ পেশায় এসে মোহগ্রস্ত হয়ে,আবেগী হয়ে থেকে গেছি।বড়রা বলতেন এ পেশা ছাড়া যায় না।আসলেই ছাড়া যায় না।আমি যখন নবীন শিক্ষক তখন ৬ষ্ঠ শ্রেণির ক্লাস টিচার ছিলাম।যখনই অন্যকোন পেশায় যাওয়ার জন্য স্হির করতাম তখনই ঐ নিষ্পাপ কচি মূখগুলো আমার সামনে চলে আসতো।আর পারতাম না।ব্যাচে টিউশনি করতাম।আমি কখনও কোন বাসায় গিয়ে ছাত্র পড়াইনি।টিউশনির ছাত্র ছাত্রী দের প্রতি কি দায়িত্ববোধ?শুক্রবারও কামাই দিতাম না।টিউশনির টাকার জন্য কখনো তাগাদা দেইনি।ছাত্ররা এ অবস্থা দেখে ওরাই মাস শেষে টাকা তুলে দিতো।তবে অনেকে দিতে পারতো না।কখনো চাই নি।একবার গ্রীস থেকে এক ছাত্র এসে ১০০০০.০০ টাকা দিতে চাইলো বললো আমি কোনদিন আপনাকে প্রাইভেটের টাকা দেইনি।আপনার কাছে অনেক ঋণ আমার।তাকে অনেক কষ্টে টাকাটা ফেরত দেই।
এমন হাজারও শিক্ষার্থী পড়িয়েছি।স্কুলের খেলাধুলার কাজটি শুরুতেই নিজ কাঁধে নিয়েছি।ছাত্রদের প্রচুর শাসন করেছি। কিন্তু কখনো প্রশ্নের সম্মুখীন হইনি।
শুরু হলো অধঃপতন। ছাত্রদের শারিরীক, মানসিক কোনভাবেই আঘাত করা যাবে না।এটা সম্ভবত শিক্ষামন্ত্রি নূরুল ইসলাম নাহিদ সাহেব কোর্টকে দিয়ে আদেশ জারি করালেন।তা আবার ঢালাওভাবে প্রচারিত হলো।
পেয়ে বসলো শিক্ষকদের।শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ শিক্ষকদের বলেই বসলো মারা যাবে না এমনকি ধমকও দেওয়া যাবে না।কিছু অভিভাবক তার অতি আদূরে ছেলেমেয়েদের পক্ষ নিয়ে ক্রমাগত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে থাকলেন।কিংকর্তব্যবিমুঢ় শিক্ষক অগত্যা হাল ছাড়তে লাগলেন।পড়াশোনা শিকেয় উঠে গেলো।
পরীক্ষা পদ্ধতির একটি অংশ হলো বহু নির্বচনি প্রশ্ন।এই অংশে কিছু নীতিহীন মানুষ ছাত্রদের দেখাদেখি করে উত্তর করার জন্য শিক্ষকদের চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। নীতিবান শিক্ষকগণ আবারও হতাশ হলেন।
যদি পড়াশোনা না করে পরীক্ষার হলে অনৈতিকভাবে পরীক্ষা দেওয়া যায় তাহলে ছাত্র পড়বে কেন? আর শিক্ষকদের দিয়েই বা তারা কি করবে? এখানেই শেষ নয়।পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে চরম দায়িত্বহীনতা। পরীক্ষকদের বলা হতো পাশ করিয়ে দিতে হবে।উত্তরপত্রে লেখা থাকলেই নম্বর দিতে হবে।তাহলে ছাত্র শিক্ষকদের কেন শ্রদ্ধা করবে?
এমন হাজারও অদায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত আছে যা শিক্ষার্থী,শিক্ষা ও সমাজে পচন ধরিয়েছে।
এরপর রয়েছে কিছু শিক্ষক। যারা নিজের দায়িত্ব কর্তব্যবোধ ভুলে যান।তারা পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে কলুষিত করছেন।
অবশেষে দেশ ইউরোপ আমেরিকার সমপর্যায়ে চলে গেছে এমন ধারনা থেকে নিয়ে আসলেন এই দেশের কাঠামোয় বাস্তবতাবর্জিত নতুন শিক্ষা কারিকুলাম। প্রথম বক্তব্য হলো কোন অবস্থাতেই এর বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না।বললে চাকরি থাকবে না।দেশের সমস্ত মানুষ এই ব্যবস্হার বিরুদ্ধে কথা বললেও তা পরিবর্তন হলো না।প্রতিবাদকারীদের জেলেও নেয়া হল।
সবচেয়ে বড় কথা হলো যারা বাস্তবায়ন করবেন সেই শিক্ষক সমাজ কিছুই বুঝলোও না জানলোও না।তাদের পড়াতে বললো।
শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত হয়ে পড়লো ডিভাইস নিয়ে। পড়তে বললে কি পড়বে কিছুই বুঝল না।চরম অবক্ষয়ের দিকে চলে গেল শিক্ষা ব্যবস্হা।
অবশেষে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারনে সরকার চরম অপমানিত হয়ে বিদায় নিলেন।আইন শৃঙ্খলা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়লো।রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় লোকদের পদত্যাগ চললো।
আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও মনে করলো তাদেরও কিছু করনীয় আছে।দু'চারটি পদত্যাগ না করাতে পারলে তাদের মান থাকে না।তাই তারা নেমে পড়লো।আর এদের উপযুক্তভাবে ব্যবহার করছে কিছু সুবিধাবাদীচক্র।যারা সমাজে রাষ্ট্রে অস্থিরতা সৃষ্টি করে মজা পায়।
আজ সারাদেশে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রধান আছেন তারা ভীত, আতংকিত। তারা আতংকিত পদত্যাগ করবেন এজন্য নয়।তারা আতংকিত সম্মানের ভয়ে।কারণ শিক্ষকদের এটুকুই আছে।
আমরা যারা প্রতিষ্ঠান প্রধান তাদের অধিকাংশই জীবন সায়াহ্নে,বয়োবৃদ্ধ। এই বয়সে তাদেরই সন্তানের হাতে এমন পরিনতি জীবনে কল্পনাও করতে পারেনি।আজ অনেকে চাপে পদত্যাগ করেছেন কেউবা সম্মানের ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। তারা কি জবাব দিবেন তার পরিবারকে,সন্তানকে কি করে মূখ দেখাবেন? যে পরিবার সারাজীবন অভাব অনটনের অভিযোগ করে গেছে।তাকেই অপবাদ দিয়ে কালিমা লিপ্ত করা হচ্ছে।
আশার কথা হচ্ছে সরকার তাদের চাকরি ফিরিয়ে দিবেন।সম্মান ফিরিয়ে দিতে পারবেন? আশার কথা হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম অনেক শিক্ষার্থীর ভুল ভেঙেছে। তারা আবার তাদের শিক্ষকদের সম্মানের সাথে ফিরিয়ে আনছে।আশাকরি সকল শিক্ষককে উপযুক্ত মর্যাদা দিয়ে ফিরিয়ে আনবে।
পরিশেষে বলবো এ কাজে যারাই থাকুক তাদের ভুল ভাঙবে।বিগত সরকারের সময় শিক্ষা ব্যবস্হায় যে নৈরাজ্য ছিল সেগুলো দূর করে নতুন বাংলাদেশ সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় এগিয়ে যাবে।শিক্ষকগণও পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ব সচেতন হয়ে তাদের শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন। তবেই তারা তাদের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
Collected from fb
এই অবস্থা চলমান থাকলে জাতী মেধাশুন্য হবে। আমরা সেদিকেই হাটছি???
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Shanti Road
Debidwar