Arfin albi R.com

Arfin albi R.com

Share

31/01/2024

-এ”༎༅জীবন༎তোমাকে😍দিলাম”༎༅”বন্ধু🥰🥀
-তুমি༎༅শুধু༎༅আইডির༎༅༎༅পার্সওয়াডটা ༎༅দিও😘

16/01/2024

শখের গেমটা ৩ দিন ধরে খেলতে পারচি না 😭😭😭

11/01/2024

attitude game play √√

01/01/2024

ღ​᭄︵ ডিয়ার Facebook বাসি,🧸🥀
☞” আমি কিন্তু ফরমালিনমুক্ত সিঙ্গেল…!😇
_চাইলে পটায় নিতে পারো কিছু মনে করবো নাহ্..!!🤭🐸🥴

01/01/2024

❥͜͜͡͡☘ཻ̤̤̤̈̈̈̈͜͡◉○❥ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন ❥͜͜͡͡☘ཻ̤̤̤̈̈̈̈͜͡◉○❥
❥͜͜͡͡☘ཻ̤̤̤̈̈̈̈͜͡◉○❥১.ক্যারিয়ার গড়ার সময়।❥͜͜͡͡☘ཻ̤̤̤̈̈̈̈͜͡◉○❥ আর☟︎︎︎
❥͜͜͡͡☘ཻ̤̤̤̈̈̈̈͜͡◉○❥২.রাস্তা পারাপারের সময়।❥͜͜͡͡☘ཻ̤̤̤̈̈̈̈͜͡◉○❥
❥͜͜͡͡☘ཻ̤̤̤̈̈̈̈͜͡◉○❥এই দুই যায়গায় মেয়েদের দিকে তাকাবেন না,,,❥͜͜͡͡☘ཻ̤̤̤̈̈̈̈͜͡◉○❥ কারণ༄
❥͜͜͡͡☘ཻ̤̤̤̈̈̈̈͜͡◉○❥৪.দুই যায়গায় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।❥͜͜͡͡☘ཻ̤̤̤̈̈̈̈͜͡◉○❥

25/12/2023

শুক্রবার। দুপুরে খেয়ে দেয়ে টিভি দেখছিলাম৷ ইরা ডায়নিং রুম থেকে এঁটো হাতে ছুটে এসে বলল,
- সবজিতে লবণ কম হয়েছে বললেনা কেন?
- (মুচকি হেসে) তোমার যা রান্নার হাত, খেতে বসলে হুশ থাকে না। মনে হয় অমৃত খাচ্ছি। তোমার হাতে জাদু আছে বুঝলে।
- আর কতবার বলবো এসব ন্যাকামো করবে না, যত্তসব৷
বলেই হনহন করে চলে যায় ইরা।

ইরা আমার স্ত্রী। বিয়ে হয়েছে পাঁচ বছর। প্রচন্ড চটপটে আর ঝগড়ুটে। তার ঝগড়া শুধু আমার সাথে। এটাকে ঝগড়া না বলে ভালবাসার ঝগড়া বলাই ভালো। ইরার সাথে পারতপক্ষে আমি লাগি না। কিছু হলে একগাদা কথা শুনিয়ে দেয়। তাই চুপচাপ থাকি। যা দেয় তাই খেয়ে নি। সেও ইচ্ছে করে ভুল করে, যাতে আমি কিছু বলি। কিন্তু আমি কিছু বলি না কেন এটাও দোষ। এটা নিয়েও কথা শুনাবে।
আসলে ইরা এমনই। কিন্তু আগে ইরা এমন ছিল না। গত পরশু বলেছিলাম; মাংসে ঝালটা একটু বেশি হয়ে গেল না। সে ভ্রু কুচকে পাঁচ মিনিট তাকিয়ে থেকে বলল; নিজেতো এক কাপ চা বানাতে গেলেই তালগোল পাকিয়ে চা'এর বদলে শরবত বানিয়ে ফেলো৷ তাতে কিছু হয় না? আসছে আমার ভুল ধরতে।
আমি আরেক লোকমা ভাত মুখে নিয়ে হেসে বললাম; ঝাল আমার ভালোই লাগে৷ শুধু পেট খারাপ না হলেই হয়।
যেদিন বিকেলে বাসায় থাকি, সেদিন তাকে বলি; শাড়ি পরোতো, বেগুনি রঙেরটা। ঘুরতে যাবো৷
সে একরাশ বিরক্তি নিয়ে বলে, বুড়ো বয়সে ভীমরতি হয়েছে?
আমি হাত, মুখের চামড়া টেনে বলি; কই চামড়া তো কুচকায় নি, চুলও সাদা হয় নি।
সে প্রচুর বিরক্ত হয়ে বলে; আমার ইচ্ছে নেই সেটা বুঝো না তুমি?
পূর্ণিমার রাতে বেলকনিতে চাঁদের আলো ঠিকরে পড়ে৷ আমার ঘুম ধরে না৷ ইরা ওপাশ ফিরে ঘুমোয়৷ আমি ডাকবো না ডাকবো না করেও ডেকে ফেলি৷ সে দাঁত কিড়মিড় করে বলে; তোমার তো কাজ নেই। দশটায় উঠলেও চলবে৷ আমার অনেক কাজ৷ ছয়টা থেকে খাটা লাগে৷ নয়তো গিলতে পারবেনা৷
সকালে ঘুম ভাঙতেই রান্নাঘরে পা বাড়ায় আমি৷ ইরা রান্নায় ব্যস্ত৷ ফর্সা গালে ঘাম চিকচিক করছে৷ আমি মুছে দিয়ে বলি; এত চিল্লাচিল্লি করো কেন? ভেজা চুলের পানি চিটিয়ে ঘুম ভাঙাতে পারো না! ভাবসাব দেখে মনে হয় না সে কথা কানে নিয়েছে। আজকাল মেয়েটা কিছুই কানে নেয়না৷ আমিও অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি এসবে। আগের ইরা আর এখনের ইরার মধ্যে অনেক তফাৎ।

এইতো ক'দিন আগেও তরকারির ঝাল বা লবণ কম হলেও আমি চুপচাপ খেতাম৷ কিন্তু সে যখন মুখে দিত ব্যাপারটা তখন বুঝতো৷ আর সারাটা দিন এটা নিয়ে কেঁদে ভাসাতো৷ আমার সাথে অভিমান দেখাতো, কেন বলিনি। তাকে ইগনোর করছি আর কতশত কি। টিভি দেখতে বসলে টিভি বন্ধ করে বলতো; তুমি শুধু আমাকে দেখবা, আমার খবর শুনবা৷ টিভির খবর শুনে তোমার কাজ নেই৷
ছুটির দিনে বিকেল হলে বেগুনি রঙা শাড়ি পরে বলতো; চলো আজ দুজন প্রেমিক-প্রেমিকা হয়ে শহরটা ঘুরি। আমি যদি না করতাম তখন বলতো; তুমি একটুও রোমান্টিক না৷ এতো ক্ষ্যাত ক্যান তুমি? আচ্চা থাক, রোমান্টিক হওয়ার দরকার নেই। এরকম ক্ষ্যাতই থাকবা বুঝলে৷ আবার না জানি স্মার্ট হলে কোন গোয়ালে ঢুকে পড়।

আব্বা-আম্মার সাথে যেবার ইরাকে প্রথম দেখতে যায়, তখনই তার মোলায়েম চেহারা দেখে ভালো লেগে গিয়েছিল। সবাই আমাদের আলাদা করে কথা বলতে ছাদে পাঠালো। ছাদে দাঁড়িয়ে দুজন, ইরা মুখ গোমড়া করে আছে। তাই তাকে বলি; হাসলে আপনাকে ভালো দেখাবে।
আমার কথা শুনে ইরা হেসেছিল একটু৷ তার হাসি দেখে আমি আবারও বলি; দেখেছেন সত্যিই ভালো দেখাচ্ছে আপনাকে। এই সুন্দর মুহূর্তের ছবি তোলা যাক৷ ইরা বাঁধা দেয়৷ আমি জোর করি না৷ আমি প্রশ্ন করি,
- আচ্ছা আপনার কোনো প্রিয় দিন আছে?
- আমার সবদিনই প্রিয়৷
- আমি সেটা বলিনি। থাকে না মানুষের বিশেষ প্রিয় কিছু দিন বা সময়৷ কিংবা অপ্রিয় থাকলেও বলতে পারেন।
- আমার কাছে প্রতিটা মূহূর্তই প্রিয়৷ আমার প্রিয় প্রত্যেকটা শ্বাস প্রশ্বাস৷

ইরার কথা শুনে মুগ্ধ হই আমি৷ নীরবতা ভর করে৷ একটু চুপচাপ থেকে ইরা বলে উঠল; দেখেছেন গালের এপাশটা? যেটা আমি চুল দিয়ে আড়াল করে রাখি সবসময়।
গালের বামপাশটা চুলে ডেকে রেখেছিল সে৷ যেটা আমি এতক্ষণ খেয়াল করিনি। গালে কালসিটে দাগ পড়েছে৷ দেখে আমার ভেতরটা কেঁপে উঠে৷ এই কেঁপে উঠার উৎপত্তি কেন হয়েছিল আমার জানা নেই৷ আমি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলাম৷
ইরা মুচকি হেসে ছাদের রেলিংয়ে হাত ভর দিয়ে দূরের আকাশটায় তাকায়৷ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে; ❝জানেন দু'চারটা চড় আমার প্রতিদিনের রুটিনের মধ্যে থাকে৷ আমার প্রতিবাদ করা হয়ে উঠে না৷ কারণ জানি যে দোষ থাকুক আর না থাকুক, চড় খেতেই হবে৷ গালের এপাশটা আমি চুল দিয়ে আড়াল করে রাখি সবসময়। আমি জীবনের প্রতিটা মূহূর্ত জোর করে ভালো থাকি৷ আমি অতীত মনে রাখি না৷ আজকের সকালটাও না। এমনকি সকালবেলা হজম করা চড়টাও না৷
অতীত বলতে শুধু আমার মায়ের মুখটা মনে রেখেছি। মা আমাকে বলেছিল; "আমি এতোদিন ভাবতাম, মরে গেলে ফুরিয়ে যাবো৷ দুনিয়ার রং আমার বিষাদ লাগতে শুরু করেছে৷ অর্থহীন মনে হতো নিজেকে৷ কিন্তু যেদিন ডাক্তার বলল, আপনি আরও ক'টা দিন বাঁচবেন৷। তারপর থেকে কি যেন হলো৷ আমার দুনিয়ার সবকিছু রঙিন মনে হচ্ছে মা৷ ইচ্ছে করছে, যুগ যুগান্তর বেঁচে থাকি৷ আমি প্রতি রাতে মনে মনে বলি, আল্লাহ আরও ক'টা দিন বেশি বাঁচতে দাও৷"
আমার চারপাশটা যখন বিষাদে ভরে যায়, আমি তখন মায়ের সেই গলা ধরে আসা কথাগুলো অনুভব করি। দুঃখগুলো আমার আর দুঃখ মনে হয় না❞।

একটানা কথাগুলো বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইরা। আমি এতক্ষণ তন্ময় হয়ে তার কথা শুনছিলাম। ক্ষনিক চুপ থেকে আমি বললাম;
- জানেন ইরা, আমাদের জীবনটা রংধনুর মতো৷ রংধনুর যেমন ভিন্ন কয়েকটা রঙ থাকে, আমাদের জীবনেরও তেমন রং আছে৷ একেক সময় একেক রং ভর করে আমাদের মনে৷ সেই রং নিয়ে বেঁচে থাকা৷
- আপনার সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগলো৷ ভালো থাকবেন৷ আমি জানি, আপনার সাথে আমার বিয়ে হবে না৷ (মলিন হেসে)
- কেন?
- ক'বছর ধরে এমনই চলছে৷ পাত্র পক্ষ আসে, যায়৷ আমাকে পছন্দ হলেও তাদের দাবী মিটে না৷ এতিম আমি, খালা-খালুর কাছে মানুষ। এতিম মেয়েকে কি কেউ এমনি এমনি বিয়ে করবে? খালু তো সোজা সাপ্টা বলে দিলেন, দেনা-পাওনা দিয়ে বিয়ে দিবে না৷ ওনার এত ঠ্যেকা পড়ে নি। দরকারে চিরকুমারী রাখবে৷ এখন বলুন, আপনাদের দাবীটা?
- আমি অতো বেহায়া না ইরা৷ দাবীর কথা আপনার চোখে চোখ রেখে বলবো৷ চলুন নিচে যাওয়া যাক৷

ইরা খালু যখন বলল, দাবী দাওয়া কিছু আছে? আমার আব্বা বললেন; আমার তো মেয়ে নেই, শুধু মেয়েটায় আমাদের দাবী৷
আমি পর্দার আড়ালে দাঁড়ানো ইরাকে দেখি৷ মুখের বিষন্নতার ছাপটা গায়েব হয়েছে৷ ভর করেছে লজ্জা৷ হয়তো সে বিশ্বাস করতে পারছে না তার সঙ্গে এমন কিছু হবে।

আমাদের বিয়ে হয়েছে পাঁচ বছর। বাচ্চা হয়নি এখনো৷ পরিবার থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজন সবাই হতাশ৷ বাইরে বাচ্চা দেখলেই আমি ইরার দিকে তাকায়। তার চোখে মুখে মা-ডাক শোনার কি আকুলতা৷ অথচ এই মেয়েটা কোনোদিন মা হতে পারবে না, এটা সে জানত না। ক'দিন হলো জেনেছে৷
ইদানীং ইরার পাল্টে যাওয়ার কারণ আমি খুব বুঝি৷ সে চায় আমি বিরক্ত হই৷ কিন্তু আমার বিরক্তি আসে না। আরও বেশি জড়িয়ে যায়। তার প্রতি জন্মানো অনুভূতিগুলো দিনের পর দিন ঘনীভূত হচ্ছে আরো৷

মোবাইলের রিংটোনে ভাবনার জগতে ছেদ পড়ে। অফিস কলিগ রাকিব কল দিয়েছে। ছেলেটা ভীষণ অসুস্থ। অল্প বয়সে শরীরে মরনঘাতী রোগ বাসা বেধেছে। বছর দেড়েকের একটা বাচ্চা মেয়ে আছে তার৷ আমি বেশ কয়েকবার বলেছি ডাক্তার দেখাতে, ভালো ট্রিটমেন্ট করতে। কিন্তু শুনে না। সবকিছুতেই অবহেলা, নিজের প্রতি বড্ড উদাসীন সে।
আমি যখন অফিসে দুপুরের খেতে বসি, ছেলেটা তখন সিগারেট পোড়ায়৷ আমি রাগ দেখায়৷ সে হেসে বলে;
আমার আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না ভাই৷ কার জন্য বাঁচবো বলুনতো?
আমি তার ছোট্ট মেয়েটার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়৷ রাকিব সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে বলে; মেয়েটার দিকে আমি তাকাতে পারিনা ভাই৷ মিতুর কথা মনে পড়ে। মানুষ এত নিষ্ঠুর কেন হয় বলুন তো?
আমি রাকিবের কথার উত্তর দেয় না৷ আমি ভাবি, মিতুর কথা, ইরার কথা৷ মিতুকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল রাকিব৷ বিয়ের দেড় বছরের মাথায় মা'ও হলো৷ ভালোবাসার মানুষ কিংবা বাচ্চা মেয়েটার আদর ভরা চেহারা, কিছুই পরোয়া না করেই মিতু মেয়েটা অন্য পুরুষের হাত ধরে পালালো! নারীরা আসলে কিসে আটকায় বুঝতে পারি না। অথচ ইরার মতো কত মেয়ে একটাবার মা ডাক শোনার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকে। কত প্রচেষ্টা, কত চিকিৎসা। আমি দীর্ঘঃশ্বাস ফেলি এসব ভেবে।
রাকিবকে বলি; আমাকে একটা দে, টানি৷

হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে রাকিব৷ কাছে যেতেই বুঝলাম, চোখের কোণে জল জমেছে৷ পাশে বসতেই হাতটা জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে দিল সে৷ এর আগে কখনো কাঁদতে দেখিনি আমি৷ কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই বলল; ভাই আমি আর বেশি দিন নেই৷ সময় ফুরিয়ে এসেছে।
আমি কাঁধ চাপড়ে বলি, তোমার ইচ্ছে পূরণ হচ্ছে তাহলে৷
রকিব ডুকরে কেঁদে উঠে বলে; ভাই জানেন, এই কথাটা শোনার পর থেকেই আমার মেয়েটাকে বুকে জড়িয়ে রাখতে ইচ্ছে হচ্ছে৷ ইচ্ছে করছে, লেপ্টে রাখি বুকের মধ্যে।
আমি কিছু বলি না৷ চুপচাপ চোখের জল লুকায়৷ মিছে মিছে শান্তনা দিতে পারি না আমি।
রাকিব আবার বলে; ভাই আজ থেকে আমার মেয়েকে তোমায় দিয়ে দিলাম। তোমরা দুজন ওর মা-বাবা। আমার মেয়েকে কখনো জানতে দিও না, ওর আসল মা-বাবা কে। নিজের মেয়ের মতো করে রেখো ভাই আমার মেয়েটাকে।

খুব সাবধানে কলিংবেল বাজালাম৷ কোলে রাখা মেয়েটা একটু কেঁপে উঠলো৷ আমি পরম মমতায় হাত বুলাই। দরজা খুলে অবাক হয় ইরা৷ জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকায় আমার দিকে৷ আমি মেয়েটাকে ইরার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললাম; তোমার মা ডাক শোনার ব্যাকুলতা, আর ওর মা-ডাকার আকুলতা৷
বছর পাঁচেক পর৷
- শুনো, খাবারে ঝাল কম হয়েছে৷
- কমই খাও৷ বেশি হলে আমার মেয়ের সমস্যা৷
- লবণ কম হয়েছে৷
- কমই খাও, আমার মেয়ের সমস্যা৷ আর শুনো, বেগুনী রঙা শাড়িটা পুরনো হয়েছে৷ আসার সময় দু'টো নিয়ে এসো৷
- দু'টো?"
- একটা বড় আরেকটা ছোট৷ আমার মেয়ে শাড়ি পড়বে৷

এখন সকালের ঘুমটা চুলের পানির ছিটায় ভাঙে৷ ইরা আমার ঘুম ভাঙাতে ভাঙাতে ক্লান্ত৷ এখন মেয়ের চুল বড় করে তাকেও সাথে নিয়েছে৷ মা সরে যেতেই মেয়ে আমার কপালে চুমু দিয়ে কানে কানে বলে; বেশি ঘুমালে শরীর নষ্ট হবে বাপী।
আমি মেয়ের কপালে চুমু দিয়ে বুকের সাথে লেপ্টে রাখি৷ চোখ বন্ধ করে ভালবাসা অনুভব করি৷ মেয়েটাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেই আমার পরম শান্তি লাগে৷
রাকিব ছেলেটার প্রতি কৃতজ্ঞতা পুষি মনে মনে। আমি অনুভব করি, জীবনটা আসলে একটা রংধনু৷ যার অনেকগুলো রং রয়েছে৷।।

সমাপ্ত~

#জীবনের_রংধনু

Albi

r.com

24/12/2023

– বাংলাদেশের দুইটা ফেমাস ঔষুধ.!😊🤗
(১)__𝐍𝐚𝐩𝐚💊💊 (২)__𝐔𝐦𝐦𝐦𝐚𝐡💋😘
– বাবু সুস্থ.!😬🐸

24/12/2023

বাসের মধ্যে স্কুল ড্রেস পরিহিত মেয়েটির নিতম্বে চাপ দিয়ে একটি হাত দ্রুত সরে গেল। মেয়েটি দুইজন মানুষকে পাশ কাটিয়ে আওলাদ এর সামনে এসে উপস্থিত। ঘৃণাভরা স্বরে জিজ্ঞেস করল,

"আপনি আমার গায়ে হাত দিলেন কেন?"

আওলাদ চূড়ান্ত অবাক হয়ে পাল্টা প্রশ্ন করল,

"কী করেছি? আমি কোথায় আর তুমি কোথায়? আমি তোমার গায়ে হাত দেব কীভাবে?"

-কীভাবে হাত দিয়েছেন জানেন না? খুব বাজেভাবে স্পর্শ করেছেন আপনি।

-দেখো মেয়ে, বাসের মধ্যে নাটক করবে না। এমনি ভীড়ের মধ্যে দম ফেলার অবস্থা নেই। দেখেন না ভাই, আমি এখানে দাঁড়িয়ে। আর মেয়েটি দুইজন মানুষের সামনে। দুইজন মানুষ ডিঙিয়ে আমি কী করে এই মেয়ের গায়ে হাত দেব?

আওলাদের বক্তব্যে আরো দুইজন সমর্থন জানালো। একজন মেয়েটিকে বলল,

"এই মেয়ে, তোমার দুই পাশে যারা দাঁড়িয়েছে, তাদের ডিঙিয়ে এই মানুষটা কীভাবে তোমার গায়ে হাত দিলো?"

মেয়েটির মা এসে পাশে দাঁড়িয়েছে। মেয়েটির হাত ধরে টানছে আর বলছে,

"চলে আয় শায়লা। চুপ কর, বাদ দে।"

শায়লা আবারও আওলাদের দিকে তাকিয়ে বলল,

"দেখেছেন? আমার মা চুপ করতে বলছে। কেন বলছে জানেন? আমি মেয়ে, আমার সম্মান বাঁচাতে। বাসে, মানুষের ভীড়ে অপরাধ করবেন আপনারা, অথচ আমাদের কেন সম্মান নষ্ট হবে বলতে পারেন? কেন চুপ থাকতে হবে আমাদের? ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি, কিন্তু সরি বলুন।"

আওলাদকে এবার চূড়ান্ত রকমের রাগান্বিত মনে হচ্ছে। দাঁতে দাঁত চেপে অদ্ভুত রকমের ঘর্ষণ দিয়ে রাগের কিছুটা জানান দিলো। তারপর বলল,

"সরি বলার অর্থ হলো আমি অপরাধী। অপরাধ না করে সরি কেন বলব?"

-আপনি ভালো করেই জানেন আপনি অপরাধ করেছেন, সরি বলেন।

শায়লার মা শায়লাকে হাত ধরে টেনে বাসের সামনের দিকে চলে যাচ্ছে। বাসের গতি কমেনি। হয়তো এখানকার পরিস্থিতী সম্পর্কে ড্রাইভারের কানে কোনো খবর যায়নি। শায়লা দুইজন মানুষের আড়ালে চলে গেলেও তার মুখ থেকে আবারও উচ্চারিত হলো,

"আঙ্কেল, সরি বলুন।"

আওলাদ সামনের দুইজনের দিকে মুখ করে উপহাসের স্বরে বলল,

"কোত্থেকে যে আসে এরা! যেখানে পুরুষ মানুষের ভীড় বেশি, সেখানেই ডলা খেতে চলে আসে।"

আওলাদ তার মুখের কথা শেষ করলেও মনে মনে কিছুটা অপমানিত হয়েছে। মেয়েটি তাকে আঙ্কেল ডেকেছে। তার বয়স এখন সাতাশ চলে। এই বয়সে নিজেকে আঙ্কেল ভাবতেই অপমানটা পাখির বিষ্টার মতো গায়ে লেগে যাচ্ছে। এখনো সে যুবক। হঠাৎ বাসটি ব্রেক কষল। শায়লা ও তার মা নেমে গেল। হয়তো তাদের গন্তব্য এখানেই। শায়লা বাসের জানালা বরাবর এসে চিৎকার করে বলছে,

"আঙ্কেল, সরি বলুন।"

আওলাদ না শোনার ভান করে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। ভাবছে তুলির কথা। সকালে আসার সময় বলে দিয়েছে,

"আব্বু আজ আমার নতুন জামা চাই।"

তাড়াতাড়ি বের হওয়ার সময় তুলির এই কথাটুকুই কানে এসেছিল। জমির খারিজ সংক্রান্ত কাগজ হস্তান্তর করতে এসে সারাদিন পেরিয়ে গেল। তুলির কথাটি একটিবারের জন্য মনে আসেনি। আওলাদ ভাবছে, কালই তুলিকে একটি নতুন জামা কিনে দিবে। কিন্তু এই ভাবনাটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। মস্তিষ্কের এক পাশে যেন বারবার একটি কথা হাতুরিপেটা করছে,

"আঙ্কেল, সরি বলুন।"

বাস থেকে নেমে আওলাদ সোজা বাড়ির পথ ধরল। মাথাটা কেমন যেন করছে। সারাদিন গোসল হয়নি। এজন্যই হয়তো একটা ভোতা যন্ত্রনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মোড় ঘুরে রাস্তার পাশের দেয়ালে চোখ গেল আওলাদের। দুই তিনটা দেয়াল জুড়ে একই কথা লিখে রেখেছে কেউ।

"সরি প্রিয়াংকা, ফিরে এসো।"

কোনো প্রেমিক হয়তো তার প্রেমিকার রাগ-অভিমান ভাঙাতে এই দেয়াল লিখন এর চিন্তা মাথা থেকে বের করেছে। কিন্তু বাক্যটিতে 'সরি' থাকার কারণে আওলাদের মাথার ভোতা যন্ত্রনা যেন আরো বেড়ে গেল। আর কেউ যেন কানের ভেতর ঢুকে সুর করে সেই কথাটি বলছে,

"আঙ্কেল, সরি বলুন।"

আউলাদ ঘরে ঢুকে দেখল রাজিয়া তার মেয়ে তুলিকে নিয়ে টিভি দেখছে। রাজিয়ার প্রতি আওলাদের কিছুটা রাগ হলো। মনে হচ্ছে পাঁচ বছরের মেয়েটাকেও রাজিয়া সিরিয়াল দেখানোর অভ্যেস গড়ে তুলবে। আওলাদ চোখ বড়ো করে রাজিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,

"তোমাকে কতবার বলেছি, তুলিকে নিয়ে বসে এসব সিরিয়াল দেখবে না। কথা কানে যায় না তোমার?"

রাজিয়া বুঝতে পারল সারাদিন খাটুনি শেষে এসে এই দৃশ্য দেখে আওলাদের মেজাজ চরমে। এখন তর্ক করা ঠিক হবে না। তাই নরম সুরে বলল,

"সরি, সরি। তুলি কখন এসে আমার পাশে বসল, টের পাইনি। "

আওলাদের মাথা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে ভোতা যন্ত্রনায়। আজ যেখানেই যাচ্ছে, সবখানে যেন সরি'র উপস্থিতী।
আওলাদ জামাকাপড় ছেড়ে হাতমুখ ধুয়ে এসে দেখে তুলি গাল ফুলিয়ে বসে আছে। আওলাদ এগিয়ে এসে হাঁটু গেঁড়ে তুলির মুখোমুখি হলো। তারপর বলল,

"বাবাটা সারাদিন অনেক কাজ করেছে আজ। তুলিকে নিয়ে কালকে একটা নয়, দুইটা নতুন জামা কিনে দেব।"

এই কথা শোনার পরও তুলির মুখে হাসি ফুটেনি। তখন রাজিয়া বলল,

"আজ তুলির জন্মদিন। সকালে তুমি বের হওয়ার সময় পেছন পেছন গিয়ে বলে এসেছে নতুন জামা আর জন্মদিনের কেক আনার জন্য। কোনোটাই তো আনলে না।"

আওলাদের মনে পড়ল। সকালে তাড়াতাড়ি বের হওয়ার সময় নতুন জামার কথা শুনলেও তুলির শেষাংশের কথা কান অবধি পৌঁছায়নি। এখন বাসা থেকে বের হতে ইচ্ছে করছে না। মাথার যন্ত্রনা কমেনি এখনও। সাথে শায়লা নামের মেয়েটির কথাটুকু বারবার একনাগারে কানের ভেতর বেজেই চলেছে। যেন ক্যাসেটের মধ্যে রেকর্ড করা একই কথা বারবার বাজে যাচ্ছে। আওলাদ বলল,

"ঠিক আছে তুলি, আমি আরেকটু পর গিয়ে তোমার জন্য কেক নিয়ে আসব। আর কালকে দুইটা নতুন জামা।"

তুলি গাল ফুলিয়ে বলল,

"ঠিক আছে, সরি বলো।"

আওলাদের যেন পায়ের রক্ত মাথায় উঠে গেছে। কেমন যন্ত্রনা যোগ হলো তার! সরি, সরি। যেদিকে যাচ্ছে সরি। আওলাদ হঠাৎ শোয়ার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো। সেখান থেকে বের হলো টানা তিন ঘণ্টা পর। রাত অনেক হচ্ছে। মেয়েটার ঘুমানোর সময় হয়ে যাবে একটু পর। আশেপাশের কাউকে জানানো হয়নি তুলির জন্মদিনের কথা। এই দায়িত্বটুকু রাজিয়ার পালন করা দরকার ছিল। অন্তত দুয়েকদিন আগে থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা দরকার ছিল। অথচ সারাদিন শুধু টিভি সিরিয়াল দেখা রাজিয়ার কাজ। রাজিয়ার বাবা প্রচুর অর্থ সম্পত্তির মালিক। রাজিয়া সেই বাবার একমাত্র মেয়ে। আওলাদও বাবার একমাত্র সন্তান হওয়ায় বেশ টাকা-পয়সার মালিক। তবুও মনের ভেতর গোপন লোভ, রাজিয়া তার বাবার সব সম্পত্তি পাবে। এসব ভাবতে ভাবতেই পথে নামল আওলাদ। মাথার যন্ত্রনা কিছুটা কম মনে হচ্ছে এখন।

এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেল। আওলাদ এক সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। মাথার যন্ত্রনা কিছুতেই কমছে না। ডাক্তার দেখানো হয়েছে দু'বার। কোনো উপকার হয়নি। ঠিকমত ঘুমাতে পারছে না আওলাদ। মনে হচ্ছে শায়লা মস্তিষ্কের একটা স্থান দখল করে বসতি গড়েছে। আর টেপ রেকর্ডার বাজিয়ে বারবার একই কথা বলে যাচ্ছে,

"আঙ্কেল, সরি বলুন।"

দুপুরের ভাত ঘুম দিচ্ছে তুলি। তুলির একপাশে আওলাদ, অন্যপাশে রাজিয়া শুয়ে কানে হেডফোন লাগিয়ে মোবাইলে কিছু একটা দেখছে। আওলাদ মেয়ের পিঠে হাত দিতে গিয়ে অজানা কারণে হাতটা সরিয়ে ফেলল। যেন ভীড়ের চিপা থেকে হাত সরানো হলো। আওলাদ নিচু স্বরে রাজিয়ার কাছে জানতে চাইলো,

"না ঘুমিয়ে কী দেখো মোবাইলে?"

উত্তরে রাজিয়া বলল,

"নাটক দেখি। আরেকটু বাকি আছে। 'সরি দ্বিপান্বীতা' নাটকটি এতবার দেখেও মন ভরে না।'

আওলাদের মাথায় যেন কেউ হাতুড়ি দিয়ে পিটাচ্ছে। আওলাদ আর শুয়ে থাকতে পারল না। শোয়া থেকে উঠে পুরোনো ডায়রীটা বের করল। অনেকদিন কিছু লেখা হয় না। কী লিখবে আওলাদ? কিছু না ভেবেই কলম হাতে নিলো। কিন্তু আওলাদের মনে হচ্ছে হাতের শক্তি কমে যাচ্ছে। মনের অজান্তে ডায়রীতে কয়েকবার লিখল,

"সরি, সরি, সরি, আঙ্কেল সরি বলুন।"

হঠাৎ আর কিছুই লিখতে পারছে না আওলাদ। হাতের দুইটা আঙুল একদিকে বাঁকা হয়ে গেল। মুহূর্তে আওলাদ চিৎকার করে ডাকল,

"রাজিয়া, রাজিয়া। আমার হাতে শক্তি পাচ্ছি না।"

রাজিয়া শোয়া থেকে উঠে এলো। ঘটনা সত্যি। হাতের দুইটা আঙুল একদিকে বাঁকা হয়ে গেছে। রাজিয়া কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। আওলাদের হাতের কব্জি থেকে আঙুল অবধি কেমন শক্ত কাঠের মতো মনে হচ্ছে। ততক্ষণে তুলি উঠে গেছে ঘুম থেকে। রাজিয়া আওলাদকে ধরে তুলল। হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে দ্রুত। পাশের বাসায় খবর দিলে হয়তো কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে। রাজিয়া ছুটল সেদিকে।
তুলি বিছানায় বসে আছে। আওলাদ দ্রুত রান্না ঘরে ঢুকল। বাম হাতে বটি নিলো। ডান হাতটা টেবিলের উপর রেখে কব্জি বরাবর দুইটা কোপ। কব্জি থেকে আঙুলসহ হাতের অংশ আলাদা হয়ে পড়ল মেঝেতে। রাজিয়া পাশের বাসা থেকে মানুষ এনে দেখে রান্না ঘরে রক্তারক্তি অবস্থা। রাজিয়া চিৎকার করল। আওলাদের চোখ যেন বন্ধ হয়ে আসছে। পাশের বাসার যে দুইজন এসেছিল, তারা আওলাদকে ধরাধরি করে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো। আওলাদ বিড়বিড় করে কিছু একটা বলছে। সেই কথা যেন আওলাদ একাই আবার শুনতে পাচ্ছে।
আওলাদ আবারও বলছে,

"একবার সরি বলাতে এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত হবে না। তবুও আমি সরি শায়লা। শায়লা আমি সরি।"

সমাপ্ত...

গল্প: সরি

লেখনীর শেষ প্রান্তে,,,,,,
,,,,,,,Arfin Albi R.com,,,,,,,

24/12/2023

︵💚🌺🦋
●━━•”তোমার আলোকিত ”
শহরে “—• 🤗🥀
●━━•”༅ আমি এক বিরক্ত ছায়া ༅—•☺️✌️

༅༎ლ ࿐🤍💔🌼

Want your business to be the top-listed Computer & Electronics Service in Chittagong?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address


Chittagong