Spotlight Creative

Spotlight Creative

Share

We Provide Websites, Graphics Related works, digital marketing and many more.

21/06/2022

"আমার তো ফেসবুক পেইজ আছে, তবুও ওয়েবসাইট জরুরী কেন?"

ধরুন আজ রাতে আপনার বিজনেস পেইজের সবকিছু গুছিয়ে, স্টকে থাকা প্রোডাক্টস এর মার্কেটিং প্ল্যান তৈরী করে সেল পোস্টগুলোতে বাজেট সেট করে ঘুমোতে গেলেন।

সকালে উঠে দেখলেন যে আপনার এড একাউন্ট ডিজেবলড অথবা আপনার কোন ভুলের কারণে ফেসবুক পেইজ এডভার্টাইজ রেস্ট্রিকটেড করা হয়েছে।

আপনি যদি শুধুমাত্র ফেসবুক নির্ভরশীল হয়ে থাকেন এবং এর বাইরে আপনার কোন অবস্থান তৈরী না থাকে তবে সেই অবস্থায় আপনার বিজনেস অফ করে বসে থাকা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বিজনেস করছেন। এর মধ্যে প্রায় সিংহভাগ মানুষই ফেসবুক পেইজের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। বর্তমানে ফেসবুক এড কোষ্টিং, এড একাউন্ট ডিজেবলড সহ নানান সমস্যায় বেশীরভাগ উদ্যোক্তাদের বিজনেস বন্ধ হয়ে আছে, হয়তো আপনিও তাদের মধ্যে একজন হয়েই এই লেখাটি পড়ছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় বিরাট একটি অংশ অনলাইন মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন। কিন্তু একজন সফল উদ্যোক্তা হতে বেশ কিছু জিনিস প্রয়োজন হয়। যেমন একটি পরিকল্পনা, ব্যবসার উপকরণ, মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি। পরিকল্পনা আর ব্যবসার উপকরণ যাইই থাকুক না কেন মার্কেটিং এর ব্যাপার আস্লেই বেশীরভাগ উদ্যোক্তা শুধুমাত্র ফেসবুক বুষ্টিংকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। এরফলে তৈরী হয় ফেসবুক নির্ভরশীলতা।

শুধুমাত্র একটি এডভার্টাইজিং প্লাটফর্মে নির্ভরশীল হয়ে পড়লে যেকোন সময় আপনার ব্যবসার জন্য কিছু বড় হুমকি আসতে পারে। চলুন জেনে নিই সেগুলো কিরকম হতে পারে। এছাড়া ওয়েবসাইট না থাকার ফলে আপনি অনেক বড় কিছু সুযোগ হারাচ্ছে যা আপনার বিজনেসকে আরো গতিশীল করতে পারে।

শুধুমাত্র ফেসুবক নির্ভরশীল হলে যে ধরনের সমস্যাগুলো তৈরী হতে পারেঃ
১) হুট করে এডভার্টাজিং রেস্ট্রিকশন।
কোন কারণে আপনার পেইজে যদি এডভার্টাইজিং রেস্ট্রিকটেড হয় বা পলিসি ভায়োলেশন এর কারণ দেখিয়ে এড একাউন্ট ডিজেবল করা হয় তবে আপনার মার্কেটিং পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত সমস্যাগুলো পুনরায় ফিক্স হচ্ছে ততক্ষণ আপনার বিজনেস ধীর হয়ে যাবে। আর যদি পার্মানেন্টলি রেস্ট্রিকশন আসে তবে বিজনেস পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া অর্গানিকভাবে যতটুকু সেল করার পেইজ আনপাবলিশ হলে সেটিরও সুযোগ থাকবে না। ফলাফল? আপনার দীর্ঘদিনের শ্রম ও টাকার পাশাপাশি বিজনেসটি হারালেন ।

২) সম্পুর্ণ ফ্রি পটেনশিয়াল মার্কেটপ্লেস হারাচ্ছেন।
ফেসবুকে আমরা যদি কোন প্রোডাক্ট এর এড দেই তবে এর মাঝে কারা পটেনশিয়াল ক্রেতা তা বের করা যায় না। হয়তো আপনার এই এডটি অনেক মানুষের কাছে যাওয়ার পর সম্ভাব্য একজন ক্রেতা আপনাকে মেসেজ করবে। কিন্তু অন্যক্ষেত্রে বর্তমানে আমাদের যখনই যা প্রয়োজন হয় আমরা সেটি গুগলে সার্চ করি। আপনি যখন গুগলে কোন কিছু সার্চ করেন তখন অনেক ধরনের সোর্স আপনার সামনে আসে। হয়তো আপনি একটি স্মার্টফোন কিনতে আগ্রহী এবং সেজন্য আপনি Buy mobile in low price দিয়ে গুগলে সার্চ করলেন।

সার্চ করামাত্রই গুগল আপনাকে বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট দেখালো যেমন বিডিস্টল, দারাজ, ইভ্যালী ইত্যাদি। আপনি যখন মোবাইল কেনার জন্য গুগলে সার্চ করলেন তখন আপনি একজন পটেনশিয়াল ক্রেতা হিসেবেই একটি রিজনেবল প্রোডাক্টস খোঁজ করছেন। আর আপনার কাছে যেসব ওয়েবসাইট আসছে সেগুলো একজন পটেনশিয়াল ক্রেতা পাচ্ছে। আর সঠিকভাবে এসইও করার ফলে এটি তারা একদমই ফ্রিতে পাচ্ছে যেখানে ফেসবুকের মতো আপনাকে সমানে খরচ করতে হচ্ছে। যদিও আপনি চাইলে সেল বুষ্ট করতে গুগলেও কম খরচে মার্কেটিং করতে পারেন।

৩) ব্যাকআপ ক্ষেত্র মিসিং।
কোন কারণে আপনার ফেসবুক পেইজ যদি আনপাবলিশড বা রেস্ট্রিকটেড হয়ে যায় তবে তার সাথে বিজনেসও বন্ধ হচ্ছে। এখন আপনার যদি কোন ওয়েবসাইট করা থাকে তবে ফেসুবক বা ইন্সট্রাগ্রাম পেইজ বন্ধ হলেও আপনার কাস্টোমাররা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজেই কম্যুনিকেট করতে পারছে। এতে করে আপনার সেল ভলিয়মেও এটি খুব বেশী প্রভাব ফেলছে না। ঠিক একইভাবে কোন কারণে আপনার ওয়েবসাইট ম্যানটেইন্যন্স এ থাকলে বা সার্ভার ডাউন হলে আপনার কাস্টোমাররা সোশ্যাল মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারছে। ওয়েবসাইট না থাকলে আপনি এই ব্যাকআপ ক্ষেত্রটি হারাচ্ছেন।

৪) গুছিয়ে উপস্থাপনের স্বাধীনতা।
যারা মাল্টিপ্রোডাক্টস বা সার্ভিস নিয়ে কাজ করেন তাদের জন্য সবগুলো প্রোডাক্টস বা সার্ভিস গুছিয়ে উপস্থাপন করার জন্য ওয়েবসাইট একটি বড় ভুমিকা রাখে। একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার সকল ধরনের প্রোডাক্টস বা সার্ভিস মাত্র এক লাইনের এড্রেসে যুক্ত করে দিলেন এবং এতে আপনার ক্রেতা সহজেই তার প্রয়োজনীয় পণ্যটি খুঁজে অর্ডার করতে পারলো। এতে করে কোন ক্রেতা একটি প্রোডাক্ট এর এড দেখে আগ্রহী হলেও পরবর্তীতে সে অন্যান প্রোডাক্টেও আগ্রহী হতে পারে এবং এতে আপনার সেল ভলিয়ম বাড়ছে। এছাড়া অর্ডার অটোমেশন, পেমেন্ট কনফার্মেশনসহ এডভান্স ফিচার্সগুলো ইন্ট্রিগ্রেট করার মাধ্যমে আপনার ক্রেতারাও কোন কিছু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে।

শুধুমাত্র একটি ই-কমার্স বা অনলাইট স্টোরই নয়, আপনার কোম্পানী বিজেনেসের জন্য পোর্টফলিও, কোম্পানী ওভারভিউসহ সকল তথ্য রাখার জন্যও ওয়েবসাইট গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে।

শুধুমাত্র ওয়েবসাইট তৈরী করবেন বা ওয়েবসাইট থাকলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অবস্থান রাখবেন না ব্যাপারটি এমন নয়, মুলত দুটি মাধ্যমই একে অন্যের পরিপুরক। আপনার বিজনেস গ্রো করার জন্য আপনি সব মাধ্যমেরই যথাযথ ব্যবহার করতে পারছেন।

আর যদি আপনি বড় কোন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে চান সেক্ষেত্রে মুল ক্ষেত্র ওয়েবসাইটকেন্দ্রিক করে সোশ্যাল মাধ্যমগুলো ব্যানার প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এতে অন্যান সকল মাধ্যমে প্রচারণা থাকলেও ক্রেতা শুধুমাত্র একটি মাধ্যম থেকেে কেনাকাটা করবে।

ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর খুঁটিনাটি নিয়ে আমাদের লেখা একটি বই আছে যা সম্পুর্ণ ফ্রিতে সংগ্রহ করে আরো বিস্তারিত জানতে পারেন।

22/10/2021

মাত্র ১১৪ টাকায় ১০ হাজার বাল্ক এসএমএস! 🔥

অতিরিক্ত এড কোষ্টিং এর কারণে বিজনেস বন্ধ করার অবস্থা? তাহলে এই এডটি আপনার জন্য।

বর্তমানে মার্কেটিং এর সবচেয়ে এফেক্টিভ মার্কেটিংগুলোর একটি বাল্ক এসএমএস। এপ্রুভাল এর কোন রেষ্ট্রিকশন না থাকায় যখন খুশী যেকোন বিষয়ে মার্কেটিং করা যায়। রিসার্চ অনুযায়ী এসএমএস এর ওপেন রেট প্রায় ৯৮% যেখানে ইমেইল মাত্র ২০% বা তারও কম। এছাড়া বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার এড কোষ্টিং ও সে অনুযায়ী রেজাল্ট তা তো আমাদের সবার জানা বিষয়।

ক্রিয়েটিভ এজেন্সী দিচ্ছে বাল্ক এসএমএস পাঠানোর সবচেয়ে এফেক্টিভ এবং রিজনেবল সল্যুশন। মাত্র ১১৪ টাকা খরচ করেই পৌছাতে পারবেন ১০ হাজারেরও বেশী কাষ্টোমার এর কাছে। এছাড়া কাষ্টম নাম্বার হওয়ায় অডিয়েন্স যেকোন সময় আপনাকে ফিরতি কল বা মেসেজ করতে পারবে।

সাথে থাকছে এডভান্স ট্র্যাকিং, শিডিউলিং এবং অডিয়েন্স গ্রুপ ম্যানেজমেন্ট। এসএমএস মার্কেটিং এর জন্য প্রয়োজন হবে শুধুমাত্র একটি সফটওয়্যার। ক্রিয়েটিভ এজেন্সী থেকে এই সফটওয়্যারটি কেনার মাধ্যমে পাবেন সবচেয়ে কম খরচে যেকোন সময় এসএমএস মার্কেটিং করার সুবিধা। এছাড়া আপনার সংগ্রহে যদি অডিয়েন্স এর ডাটাবেইজ না থাকে তবে সেটিও আমাদের থেকে কালেক্ট করতে পারবেন।

⭐ এই প্যাকেজের সাথে যা যা পাচ্ছেন:
✅ লাইসেন্সসহ ডায়নামিক সফটওয়্যার।
✅ নিজস্ব নাম্বার থেকে মেসেজ পাঠানো ও রিসিভ করার সুযোগ।
✅ অর্গানাইজড এডমিন প্যানেল এবং ডাটাবেইস তৈরী।
✅ আলাদা আলাদা গ্রুপ করে মেসেজ পাঠানোর সুবিধা।

সফটওয়্যারটি অর্ডার করতে অথবা ডেমো দেখতে আমাদের মেসেজ করুন। 💬

20/01/2021

সফল মার্কেটিং পদ্ধতি (AIDA মডেল)
যেভাবে খুঁজে বের করবেন আপনার কাঙ্খিত কাস্টোমারকে!

সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ বাণিজ্যের সাথে জড়িত। যেখানে বাণিজ্য আছে সেখানে প্রচার ও প্রসারও মুখ্য। আগেকারদিনে মানুষ ব্যবসার প্রচারণা বলতেই বুঝতো রাস্তায় রাস্তায় পোষ্টারিং, বিলবোর্ডে ইয়াবড় একটা সাইন অথবা গলিতে গলিতে মাইকিং। যুগের সাথে মানুষ আরো আধুনিক হয়েছে, পাল্টেছে প্রযুক্তি।

এখন পোস্টারিং, মাইকিংয়ের মধ্যে প্রচারণা আটকে নেই। প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি বিরাট অংশ ঝুকেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একটি তথ্যনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বের প্রায় ১৮৬ কোটি মানুষ ফেসবুকে নিয়মিতভাবে সক্রিয়। শুধুমাত্র বাংলাদেশেই আছে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ। আর এই বিশাল সংখ্যাটি সময়ের সাথে শুধু বেড়েই চলেছে। যত দিন যাচ্ছে মানুষ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। কোলে থাকা বাচ্চাটিও খেলনা বাদ দিয়ে ইন্টারনেটের দিকে বেশী আগ্রহী।

প্রযুক্তির এই ট্রান্সফরমেশনে বিজনেসগুলোও হয়ে উঠছে ইন্টারনেটকেন্দ্রিক। একটি স্মার্টফোন আর নেটওয়ার্ক থাকলে যে কেউই একটি বিজনেস শুরু করতে পারছে। কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা, মার্কেটিং মেথড ও অডিয়েন্স টার্গেটিং এ পান্ডিত্য না থাকায় বেশীরভাগ উদ্যোক্তারাই হতাশ হয়ে দমে যাচ্ছেন। ১৮৯৮ সালে আমেরিকান এডভার্টাইজিং এডভোকেট এলিয়াস সেন্ট এলমো লুইস বিজ্ঞাপনের মেথড সম্পর্কে বলেন, একটি সফল বিজ্ঞাপন বেশ কিছু নির্দিষ্ট নিয়মে পরিচালিত হয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপনের এই নিয়মগুলো নিয়ে তিনি একটি স্ট্রাকচারও তৈরী করেন। পরবর্তীতে এই স্ট্রাকচারটি কার্যকরী হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বর্তমান ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরে এই স্ট্রাকচার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চলুন জেনে নিই এর ওপেন সিক্রেটের আদ্যোপান্ত।
মার্কেটিং এডভোকেট লুইস তার আবিষ্কৃত সুত্র অনুযায়ী একটি সফল বিজ্ঞাপনকে ৪টি স্টেজে ভাগ করেন। এর মধ্যে ক্রমান্বয়ে হলোঃ
১) এটেনশন বা মনোযোগ আকর্ষণ।
২) ইন্টারেস্টস বা আগ্রহ প্রকাশ।
৩) ডিজায়ার বা আকাঙ্খা তৈরী।
৪) একশন বা সিদ্ধান্ত গ্রহন।

এই চারটি সুত্র বা স্টেজ মেনেই তার তৈরীকৃত একটি সফল বিজ্ঞাপনের নিতীমালা র্নিধারণ হয়। এটিকে সংক্ষেপে এইআইডিএ অথবা এইডা মডেল হিসেবেও সম্বোধন করা হয়।

কিভাবে আপনার ব্যবসায় এআইডিএ ফর্মূলা প্রয়োগ করবেন?
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে পপুলার ব্র্যান্ডগুলোর অন্যতম কোকাকোলাও এই ফর্মুলায় আজকের এই অবস্থানে এসেছে। একটি সফল বিজেনেসের পূর্বশর্ত সফল প্রচারণা। চলুন জেনে নিই কিভাবে আপনিও এই ফর্মুলা প্রয়োগের মাধ্যমে বিজনেসের সফল প্রচারণা নিশ্চিত করবেন।

শুরুতেই এটেনশন বা মনোযোগ সৃষ্টি করাঃ
আপনার কোন সার্ভিস বা পণ্য ভোক্তার কাছে বিক্রির আগে তাকে আপনার সম্পর্কে পুরোপুরিভাবে পরিচিত করতে হবে। এটিকে ব্র্যান্ড এওয়ারনেস বা ব্র্যান্ড সচেতনতা তৈরীর ধাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কোকাকোলা কোম্পানী তাদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে থাকে। শুধুমাত্র সাম্প্রতিক বছরগুলোতেই বিশ্বজুড়ে তারা প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করেছে।
আপনার পণ্য বা সেবা প্রচারের আগে আপনার পরিচয় মুল ভূমিকা রাখে। ফ্যাসভ্যালু বা পরিচিতি না থাকলে বিজনেসে স্ট্যাবল করা প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। আপনি যদি লাখ টাকার একটি আইফোনও ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে চান তবে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিবে কারণ আপনাকে সে চিনে না, জানে না।

সুতরাং আপনার পণ্য যত ভালোই হোক, ভোক্তাকে আগে আপনার ব্র্যান্ড সর্ম্পকে পরিচিত করতে হবে। নতুবা রেগুলার বুষ্ট বা প্রমোটে সেলের পরিমাণ আশানুরুপ না হওয়াটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে এআডিএ ফর্মুলাতে রেগুলার মার্কেটিং থেকে অন্তত ১০ গুণ বেশী সেল জেনারেট করা সম্ভব। এর পাশাপাশি রেগুলার সেল, ব্র্যান্ড প্রমোট ও অর্গানিক মার্কেটিং তো আছেই।

কিভাবে কি করবেন?
বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার বিজনেস ও প্রোডাক্টস এর কিছু ইনফোগ্রাফিক তৈরী করুন। ফেসবুক পেইজের ক্ষেত্রে শুরুতেই আগে পেইজের আউটলুক সুন্দর করুন। পেইজ এর প্রফেশনাল লগো, কাভার, ইনফো, এনালাইটিক্স করে পুরো পেইজটিকে অডিট করুন। প্রত্যেকেটি সেকশনকে প্রফেশনালী সাজান।
যদি আপনি এসবে অভিজ্ঞ না হয়ে থাকেন তবে প্রফেশনাল কোন এজেন্সীর সহযোগিতা নিন। ফেসবুক পেইজ প্রফেশনালী কাষ্টোমাইজেশন নিয়ে আমাদের একটি কমপ্লিট প্যাকেজ আছে, চাইলে সেটিও রিভিউ করতে পারেন। আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট থাকে তবে সেটিকে সুন্দরভাবে সাজান।

আপনার পণ্য ও ব্র্যান্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সাজিয়ে ওয়েবসাইটে উপস্থাপন করুন যাতে আপনার অডিয়েন্স সহজেই আপনার সম্পর্কে জানতে পারে। আপনার সেলস অপটিমাইজ ও টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে পৌছাঁতে ফেসবুকের সাথে ওয়েবসাইট ইন্ট্রিগ্রেশন করুন। এড বাজেট অপটিমাইজেশনের জন্য এটি অবশ্য করণীয় একটি বিষয়।
ফেসবুক পিক্সেলের মাধ্যমে বাজেট অপটিমাইজেশনের জন্য আমাদের টিমের সাহায্য নিতে পারেন।

২য় ধাপঃ ইন্টারেস্টস বা ইচ্ছা বা আগ্রহ তৈরী
কোন ভোক্তা যখন আপনার বিজনেস সম্পর্কে ইতিমধ্যেই জানে তখন সেটি নিয়ে নানান কৌতুহল প্রকাশ করবে। আপনার প্রোডাক্টস সম্পর্কে দেখবে, যাচাই করবে। আপনার ব্র্যান্ড নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হবে। আমার মতে একটি সফল মার্কেটিং প্ল্যানিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেজ এটি। একজন ভোক্তা যদি আপনার ব্র্র্যান্ড সম্পর্কে সঠিক তথ্য সঠিকভাবে না পায় তবে এই স্টেজেই আপনার মার্কেটিং প্ল্যান ফেইল করবে। একজন কাঙ্খিত ক্রেতার কোন প্রোডাক্ট কেনার ইচ্ছা তৈরির আগে অবশ্যই সেটি সম্পর্কে তথ্য জানাটা গুরুত্বপূর্ণ।

এই ধাপে, আপনার ভোক্তার দুটি পর্যায় তৈরী হতে পারে। যেমন, “এটি আমার প্রয়োজন” বা “নাহ, এটি কোন কাজের হবে না”। আপনি যদি প্রোপারলী আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে ক্লায়েন্টকে জানান দিতে পারেন তবে আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্স সিলেকশনে আর বেগ পেতে হবে না। এজন্য এই সময়ে আপনাকে পণ্যের গুণগতমান ও লাভের বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে। তাই এমন কনটেন্ট তৈরী করবেন যাতে ভোক্তা আপনার ব্র্যান্ড এর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে। এভাবে এংগ্যাজমেন্ট তৈরী করতে হবে।

কিভাবে কি করবেন?
ইন্টারেস্ট পর্যায়ে আপনার ফেসবুক পেইজ, ওয়েবসাইট ও অন্যান মাধ্যমে আপনার পন্য সম্পর্কে অডিয়েন্স আগ্রহী হয়ে উঠবে। এই সময়ে তাদের জন্য উপকারী কিছু গ্রাফিক্যাল এসেট, কনটেন্ট তৈরী করুন। তাদেরকে আপনার পণ্যের শ্রেষ্টত্ব সম্পর্কে অবগত করুন। উদাহরনস্বরুপ, আপনি বাবুদের ডায়পার নিয়ে কাজ করেন। এক্ষেত্রে আপনার ফেসবুক পেইজ ও ওয়েবসাইটে ডায়পারের গুণাগুণ সর্ম্পকিত কিছু পাবলিশ করুন।

এটি কেন অন্যান ব্র্যান্ড থেকে ভালো, কত দ্রুত পানি শুষে নেয় এবং পানিশোষণের পরিমাণ কতটুকু অথবা এটি কতক্ষণ পর্যন্ত ব্যবহার করা যায় এসকল বিস্তারিত দিয়ে আপনার পেইজ এবং ওয়েবসাইটকে ইনফরমেটিভ করুন। এছাড়া আপনার পণ্যটি কিভাবে আপনার ভোক্তার সমস্যা সমাধান করতে পারে সেটি জানান দিন। পণ্যের গুণাগুণ, সমস্যার সমাধান ইত্যাদি যখন আপনার ভোক্তা অবগত হবে তখন সে নিজ থেকেই আপনাকে নক দিয়ে সেটি কিনতে চাইবে। মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে এফেক্টিভ পদ্ধতি এটি।

৩য় ধাপঃ ডিজায়ার বা কেনার আকাঙ্খা সৃষ্টি
এই পর্যায়ে এসে আপনার কাঙ্খিত অডিয়েন্স আপনাকে চিনে, জানে- কিছুক্ষেত্রে আপনাকে তারা ভরসা করাও শুরু করেছে। একজন ক্রেতা তাদের থেকেই কেনাকাটা করে যেখানে সে আস্থা রাখতে পারে। ডিজায়ার বা কেনার আকাঙ্খা সৃষ্টির ধাপে অডিয়েন্স দ্বিধার মধ্যে থাকে। এ সময় সে নানান হিসাব নিকাশ কষা শুরু করে।

আপনার প্রোডাক্ট এর গুণ, মুল্য ও এটি তার প্রয়োজন পুরণে কতটুকু অবদান রাখতে পারছে এইসব কিছু।

সেল ক্লোজিং বা ফাইনাল স্টেজে যাওয়ার জন্য সর্বশেষ ধাপটিতে ভোক্তার অবচেতন মনে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে একটি পজিটিভ চিন্তা প্রবেশ করাতে হবে। সে যেন ভাবতে শুরু করে, আপনার পণ্যই তার সমস্যা সমাধানের সর্বোৎকৃষ্ট সমাধান। এই সময়টাতে অডিয়েন্স আপনার পেইজ বা ওয়েবসাইট বারংবার ভিজিট করে, অন্যানদের সাথে তুলনা করে এবং সর্বশেষ একটি ডিসিশনে পৌছাঁয়।

কিভাবে কি করবেন?
কোন অডিয়েন্স যখন আপনার পণ্য নিয়ে দ্বিধার মধ্যে আছে তখন সবচেয়ে এফেক্টিভ পদ্ধতি হলো কাস্টোমার এট্র্যাকটেড এক্যুইজিশন। এই সময়ে যদি আপনি কোন অফার দেন যেমন, “আাগমীকালের মধ্যে ডায়পার নিলে ১৫% ছাড় অথবা ৫টি ডায়পার নিলে একটি ফ্রি, শুধুমাত্র আজকের জন্য”। তখন অডিয়েন্সের ডিসিশন গ্রহণ করার প্রবণতা বেড়ে যায়। তার অবচেতন মনে করে “এই তো সুযোগ, দেরী করলে না জানি মিস হয়ে যায়”। এবং এতে করে সে সর্বশেষ ধাপ একশনের দিকে ধাবিত হয়।

সর্বশেষ, একশন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ
আপনার অডিয়েন্স যখন চুড়ান্তভাবে প্রভাবিত হয়ে আপনার পণ্য কিনতে আগ্রহী হয় তখন এটিকে সম্পন্ন করার পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করার উচিৎ। এ সময়ে অডিয়েন্স কেনার মেথড খুঁজবে, পেমেন্ট গেটওয়ে নিশ্চিত করবে যাতে সে পেমেন্ট করতে পারে। সর্বশেষ একশনে কল টু একশন বাটন সবচেয়ে বেশী কাজে দেয়।

এই সময়টাতে তাকে কনভার্সনের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে নিয়ে যান। এতে করে যখন সে কোন একটি নির্দিষ্ট পণ্য কিনতে ওয়েবসাইট ভিজিট করে তখন পাশাপাশি অন্যান প্রোডাক্ট রিকমেন্ডশনে থাকলে সেল ভলিয়ম কয়েকগুণে বেড়ে যায়।

কিভাবে কি করবেন?
আপনার ফেসবুকের ইন্সট্যান্ট সাপোর্ট নিশ্চিত করুন। ওয়েবসাইট কনভার্সনে ফেসবুকের সাথে ওয়েবসাইট ইন্ট্রিগ্রেশন করুন- পিক্সেল সেটাপ করে অডিয়েন্সকে নারিশ করুন। এছাড়া একই এডভার্টাইজমেন্ট কোষ্টিং এ অন্যান পণ্য সেল করতে প্রোডাক্টস সাজেশন ও রিকমেন্ডশন চালু করুন। আপনার ওয়েবসাইটে পেমেন্ট গেটওয়ে নিশ্চিত করুন যাতে ভোক্তা পেমেন্ট জটিলতায় পড়ে ফিরে না যায়। এছাড়া সেলস ক্লোজিং এর জন্য আপনার সাপোর্ট, ওয়েবসাইটের লোডিং স্পীড স্মুথ করুন যাতে অডিয়েন্স নেগেটিভ এক্সপেরিয়েন্স না পায়।

এআইডিএ ফর্মুলার ধাপগুলো একটি ফানেলের মতো কাজ করে। একটি ফানেল বা ছাকনী যেমন কয়েকটি জিনিসের সংমিশ্রণ থেকে কাঙ্খিত বস্তুটিকে বের করে ঠিক একইভাবে এই ধাপগুলোর মাধ্যমে আস্তে আস্তে আপনার মুল অডিয়েন্স বের হয়ে আসে ।

যেমন আমরা সাধারণভাবে যখন কোন পোস্ট বুষ্ট করি তখন সেটিতে সবাই আগ্রহ প্রকাশ করে না। ধরা যাক, একটি পোস্ট প্রায় ১ লাখ লোকের কাছে পৌছালো। এখানে সবাই আপনাকে লাইক বা কমেন্ট করবে না। ১ লাখ মানুষ থেকে নেমে গিয়ে লাইক বা কমেন্ট করলো মাত্র ১৫ হাজার। এই ১৫ হাজারে সবাই আপনাকে ইনবক্স বা কল করবে না। ধরা যাক, ১৫ হাজার আগ্রহীর মধ্যে সিরিয়াস আগ্রহী ২ হাজার, যারা আপনাকে মেসেজ বা ফোন করলো। এখানে যারা ফোন বা মেসেজ করলো তারাও সবাই আপনার পণ্যটি নিবে না। হয়তো ২ হাজারে মাত্র ২০০ জন আপনার প্রোডাক্ট নিলো।

এখানে এটি একটি ছাকনীর মতো কাজ করলো। প্রোপার মার্কেটিংয়ে আপনি আপনার টার্গেটেডে কাস্টোমারের একটি নেটওয়ার্ক তৈরী করতে পারেন এবং বারবার রি-টার্গেটিং এর মাধ্যমে রেগুলার মার্কেটিং থেকে কয়েকগুণ বেশী হারে সেল ক্লোজিং করতে পারেন।

অনলাইনে সেলিং নিয়ে কোন বিষয়ের উপর সল্যুশন চান তা লিখতে পারেন কমেন্টে। আমি চেষ্টা করবো আপনাদের প্রত্যেকটি বিষয় সম্পর্কে জানানোর।

10/01/2021

রাত তখন অনেক গভীর। পুরো শহর যেন নিঝুম এক পরিবেশে ছেয়ে গেছে। অনেক দুর থেকে একটি পেঁচার শব্দ ভেসে আসছে।

এমন এক নিস্তব্দ পরিবেশে বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়া এক তরুণ ভাবছে তার পরিকল্পনার কথা। একটি স্বপ্নের কথা। বারবার নানান জায়গা থেকে প্রত্যাখাত এই তরুণের মধ্যে কোন হতাশা নেই। সে যেন এক অসীম আত্নবিশ্বাস নিয়ে বুকভরা স্বপ্ন বুনছে।

চীনের ঝি-জিয়াং প্রদেশে জন্ম নেওয়া এই তরুণটির মা-বাবা ছিলেন পেশাদার গল্পবলিয়ে ও সংগীতশিল্পী। অর্থনৈতিক দুর্দশা নিয়েও মা বাবা ছেলেকে ভর্তি করিয়েছিলেন স্কুলে। কিন্তু স্কুলে ভর্তি করালে কি হবে, ছেলের যে গৎবাধা পড়াশোনায় মন নেই। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া থেকেও সে তখন ইংরেজী শেখার নেশায় বুঁদ। টানা ৯ বছর ধরে প্রায় ৭০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে পর্যটকদের এলাকা ঘুরিয়ে দেখাতেন শুধু ইংরেজী শিখবেন বলে। উদ্দেশ্য একটাই, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা পরিবর্তন করা।

ওই বয়সেই সে তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ইংরেজী শেখার বিকল্প নেই। বলছি জায়ান্ট ই-কমার্স কোম্পানী আলীবাবার রুপকার জ্যাক মা’র কথা। জ্যাক’মার এই নামটি অবশ্য জন্মগত ছিলো না। পারিবারিক সুত্রে পাওয়া নাম মা ইউন। পর্যটকদের সাথে কাজ করার সুবাধে একজন পর্যটকের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায় তার। তিনিই তাকে জ্যাক মা নামটি দেন। কারণ চায়না এই নামটি ইংরেজদের জন্য উচ্চারণ করা কঠিন ছিলো।

আলীবাবার আগে জ্যাক মা পুরোদস্তুর একজন ব্যর্থ মানুষ ছিলেন। ব্যর্থতার চরম শিখরে এতোটাই অবস্থান করছিলেন যে কলেজে পাশ করতে জ্যাক মা’র প্রায় ৪ বার পরীক্ষা দিতে হয়েছিলো। ৪বার ফেল করার পর যখন পাশ করে কর্মজীবনে ঢোকা জ্যাক মা ব্যর্থতা যেন হাড়ে হাড়ে টের পেলেন। টানা ৩০টি চাকরীর আবেদন করে প্রত্যেকটিতেই প্রত্যাখাত হলেন। আমেরিকান এক টকশোতে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে জ্যাক মা বলেছিলেন, আমি যখন পুলিশের জন্য চাকরী করলাম তখন ১০ জনের মধ্যে ৯ জনের চাকরী হলো কিন্তু আমাকে বলা হলো ‘তুমি উপযুক্ত নও’।

আমার শহরে যখন কেএফসি আসলো আমরা ২৪ তখন আবেদন করেছিলাম। ২৩ জনের চাকরী হলো, বাদ পড়লাম শুধু আমি। হার্ভাডে আমি ১০বার আবেদন করেও প্রত্যাখাত হয়েছিলাম তখন মনে হয়েছিলো ‘হয়তো একদিন আমি হার্ভাডে লেকচার দিব’।

ই-কমার্স বিজনেস শুরু করার আগে জ্যাক মা তার ২৪ বন্ধুকে বাসায় ডাকেন আইডিয়া শেয়ার করার জন্য কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত ২৪ জনের ২৩জনই তার আইডিয়াকে তাচ্ছিল্যের সাথে উড়িয়ে দেন। চার চারবার পরীক্ষায় ফেল, ৩০টিরও বেশী চাকরীতে প্রত্যাখাত সাথে বন্ধুদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য- এরপরও কিন্তু তিনি দমে যাননি। তিনি কম্পিউটার চালাতেও জানতেন না, ইন্টারনেট কি জিনিস তা ভালোভাবে বুঝতেন না কিন্তু তিনি এটা বুঝেছিলেন যে এই জিনিসই একদিন পৃথিবীকে নতুন করে চলতে শেখাবে।

একটি সাক্ষাৎকারে জ্যাক মা বলছিলেন, প্রথম যেদিন আমরা ওয়েবসাইট শুরু করি তখন আমার বেশ কিছু বন্ধুবান্ধব এবং টিভিসাংবাদিককে দাওয়াত করেছিলাম। খুবই ধীরগতির ইন্টারনেটে ওয়েবসাইটটির অর্ধেক লোড নিতেই প্রায় ৩ ঘন্টা সময় নিয়েছিলো। ওই সময়টায় আমরা খাওয়াদাওয়া ও গল্প করেই কাটিয়েছিলাম কিন্তু আমি খুব গর্বিত ছিলাম। কারণ আমি ওদের কাছে এটা প্রমাণ করতে পেরেছিলাম যে ইন্টারনেট সত্যিই কাজ করে।

আমরা সবাই আলীবাবা ও ৪০ চোরের কাহিনী জানি। ছোটবেলায় যখনও জ্যাক মা’র ব্যাপারে জানতাম না ঠিক তখনোও আমি বাংলাদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামে বসেও আলীবাবা ও তার চোরদের কাহিনী পড়েছিলাম। আলীবাবা নামটির নামকরণ করতে গিয়ে জ্যাক মা বলেন, ইন্টারনেট যেহেতু সারাবিশ্বে চলছে সেজন্য আমাদের ওয়েবসাইটের নামও এমন কিছু হওয়া উচিৎ যা সবাই খুব সহজে চিনবে ও জানবে।

সেই সময়ে সার্চ ইঞ্জিন ইয়াহু ছিলো সেরা একটি নাম- আমি এরকম একটি নাম খুঁজছিলাম। একদিন মনে হলো আলীবাবা নামটি ভালো হতে পারে।
সৌভাগ্যই বলতে হবে, চিন্তাটি মাথায় আসার পর তখন আমি এক হোটেলে খাবার খাচ্ছিলাম। ওয়েটার খাবার সার্ভ করতে এলে তাকে বললাম আলীবাবা চেনে কিনা। সে বললো চিনে। আমি বললাম কি? সে বললো- চিচিং ফাক। দারুণ ব্যাপার!

জ্যাক মা’র এসব উদ্যোগকে সেই সময়ে পাগলামো হিসেবে দেখা হচ্ছিলো। এমনকি একটি প্রত্রিকায় তো ‘ক্রেজি জ্যাক’ বা ‘পাগল জ্যাক’ হিসেবেও নামকরণ করেছিলো। এই পাগল জ্যাকই তার সফল উদ্যোগের জন্য মাত্র একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট দিয়েই বর্তমানে প্রায় ৪০ বিলিয়ন সম্পদের মালিক।

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে তরুণ ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য জ্যাক মা সবচেয়ে বড় একটি উপমা হতে পারে। বারবার ব্যর্থতায় গ্রাস করা মানুষটিই পৃথীবীর সবচেয়ে কোম্পানীগুলোর একটি তৈরী করেছিলেন। হার্ভাডে প্রায় ১০ বার প্রত্যাখাত হয়ে নিজের মাকে বলেছিলেন ‘ওখানে পড়ার সুযোগ হয়তো পাইনি কিন্তু একদিন আমি ওখানে লেকচার দিব।’ হয়েছিলোও তাই।

ই-কমার্স ওয়েবসাইট ডেভলপমেন্ট নিয়ে কাজ করার সময় আমরা আমাদের ক্লায়েন্টদের জ্যাক মাকে অনুসরণ করতে বলি। কারণ হতাশ হয়ে বন্ধ করে দিলেই একটি সুদূরপ্রসারী ভবিষ্যতও বন্ধ হয়ে যায়। স্বপ্ন দেখার সময় ব্যর্থ হলে অন্যরা যখন সাহসই হারিয়ে ফেলেন তখন জ্যাক মা ঘুরে দাড়িয়েছেন বারবার। আর এখানেই তার সাথে অন্যদের পার্থক্য। তাই স্বপ্ন দেখুন, লেগে থাকুন। আপনার স্বপ্নের সাথে লেগে থাকলে সফলতা আসবেই।

আপনার অনলাইনের বিজেনেসের যেকোন ধরনের কনসাল্টেন্সি পেতে জানাতে পারেন, বিনা পারিশ্রমিকে সঠিক গাইডলাইন ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট সবসময়ই আপনার পাশে থাকবে।

08/01/2021

এডের কোষ্টিং কমিয়ে আনবেন যেভাবে!
আপনি যখন ফেসবুকে কোন পোস্ট বুষ্ট বা প্রমোট করেন তখন সেই এডটি রিভিউ এর জন্য ফেসবুক টিমের কাছে চলে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি মেশিন লার্ণিং এর অটোমেশন এর মাধ্যমেও রিভিউ হয়ে থাকে।

একটি এড যখন এপ্রুভ হয় তখন এটি বেশ কিছু ধাপে আপনার সঠিক অডিয়েন্সের কাছে পৌছায়। আর এটিকে ফেসবুক লার্নিং ফেইজ বা শেখার পর্যায় বলে থাকে।

লানিং ফেইজ কি?
প্রতিবার যখন একটি পোস্টকে বুষ্ট করা হয় তখন এটি আপনার সেট করা টার্গেটেড অডিয়েন্স এর নিউজফিডে দেখানো শুরু হয়। এতে করে লার্নিং ফেইজ সিস্টেম আপনার এডটির জন্য সবচেয়ে এফেক্টিভ অডিয়েন্স এবং লোকেশন খুঁজে বের করে। বুষ্ট করার প্রথম ১০ ডলার বাজেট পর্যন্ত ফেসবুক লার্নিং ফেইজ পিরিয়ড বলা যায়। এই সময়ের যে রেজাল্ট আসে তা মুল রেজাল্ট হয় না।

কখনো দেখবেন যে এড শুরুর সময় প্রতি মেসেজিং বা রিচ কোষ্টিং অনেক বেশী থাকলেও পরবর্তীতে এটি কমে একটি স্ট্যাবল পর্যায়ে চলে আসে। এছাড়াও ফেসবুক বিডিং সিস্টেমের কারণে বিভিন্ন সময় এটি বাড়তে বা কমতে পারে তবে সাধারণত বড় ধরনের কোন পরিবর্তন হয় না। লানিং ফেইজে থাকা এডটি লানিং পিরিয়ডে থাকে যাতে আপনার এডের জন্য সবচেয়ে এফেক্টেভি অডিয়েন্স খুঁজে বের করা যায়।

এড রান হওয়ার কিছুক্ষণ পরের রেজাল্টেই হতাশ বা উৎফুল্ল হবে না:
বুষ্ট এর পর মিনিমাম ২৪ ঘন্টা এবং ম্যাক্সিমাম ৪৮ ঘন্টা বা ২দিন পর্যন্ত এটিকে এর মতো রান হওয়ার সুযোগ দিন। আপনি যদি অডিয়েন্স সিলেকশনে কনফিডেন্স হয়ে থাকেন তবে এড কোষ্টিং কমে আসাটাই স¦াভাবিক। এরপরও যদি নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরে এড কোষ্টিং উর্দ্বগামী থাকে তবে অডিয়েন্স সিলেকশনে পরিবর্তন আনুন। ইতিমধ্যে আসা অডিন্সেকে যাচাই করে সেই স্কেল অনুযায়ী এডটিকে আপডেট করুন। মনে রাখবেন, আপনি যখন একটি এডে বড় ধরনের কোন এডিট করেন তখন এটি আবারও লার্নিং ফেইজে চলে যায়।

কোষ্টিং কমিয়ে আনার উপায়
একটি এড যখন লার্নিং ফেইজে থাকে তখন সাধারণত এটির সিপিআর (কোষ্ট পার রেজাল্ট) বেশী হয়। এই সময়ে রেজাল্ট স্টেবল পর্যায়ে থাকে না। কখনো দেখবেন যে সিপিআর অনেক বেড়ে গেছে আবার কখনো দেখবেন খুবই কমে এসেছে। কিছু বিষয় ম্যানটেইন করলে আপনার এডে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

লার্নিং ফেইজ পার না হওয়া পর্যন্ত কোন এডিট বা আপডেট করবেন না
যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনার এড কোষ্টিং স্টেবল হচ্ছে বা মোটামোটি লেভেলের একটি অবস্থায় গিয়ে দাড়াচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এটিকে রান করার সুযোগ দিন। এই সময়টি মিনিমাম ১০ ডলার স্পেন্ট না হওয়া পর্যন্ত দিন। ডিজিটাল মার্কেটিং মার্কেটিং অন্যতম একটি সুত্র অনুযায়ী একটি এড যখন ১০ ডলার খরচের পরও ভালো রেজাল্ট না দেয় তবে সেটি কন্টিনিউ করা যুক্তিযুক্ত নয়।

বাজেট নির্ধারণে সতর্ক হোন:
অনেকেই আমাকে ইনবক্স করে ৫ বা ১০ ডলার বুষ্ট করাতে চায়। তাদের বক্তব্য “ভাই আগে ৫ ডলার করেন, রেজাল্ট দেখে বাজেট বাড়াবে নে”। বেশীরভাগ উদ্যোক্তারাই এখানে এই ভুলটি করে থাকেন। অনেকে তো ২, ৩ ডলারও টেস্ট পারপোজে স্পেন্ট করে থাকেন। কিছুক্ষেত্রে এটি ভালো রেজাল্ট দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই এমাউন্ট লসের খাতায় চলে যায়। এজন্য আমি সময়সময় অন্তত ১৬ ডলার দিয়ে বাজেট শুরু করার পরামর্শ দেই। আমার মার্কেটিং অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট জেনারেট করার এমাউন্ট গুলো হলো ১৬, ৪০ এবং ডেইলী বাজেট ৪ ডলার।

সঠিক ডিউরেশন সেট করুনঃ
ফেসবুকের ভাষ্যনুযায়ী একটি এড ভালো পারফর্ম করার জন্য অন্তত ৪ দিনের ডিউরেশন সেট করা উচিৎ। আপনি যদি এর কম সময় সেট করে বুষ্ট করেন তবে ভালো রেজাল্ট আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীন।

শুরুতেই অনেক পরিমাণে বাজেট দিবেন না:
অনেকেই আছেন যারা এগ্রেসিভ ওয়েতে এড রান করতে পছন্দ করেন। বাজেটে ৫০০ বা ১০০০ ডলার বা এর বেশীও প্রতি এডের বাজেট একসাথে দিয়ে দেন। এতে করে ফেসবুক লার্নিং ফেইজে আপনার অনেক পরিমাণ বাজেট নষ্ট হতে পারে যা পরবর্তী সময়ে অনেক ভালো রেজাল্ট জেনারেট করতে পারতো। এর কারণে শুরুতে আগে মিনিমাম একটি এমাউন্ট সেট করুন, তবে সেটি যেন অবশ্যই সর্বমোট ৫০ ডলারের বেশী না হয়। লার্নিং ফেইজ এর পর এড যদি ভালো পারফর্মেন্স দেয় তবে বাজেট বাড়িয়ে দিতে পারেন।

একসাথে অনেকগুলো এড রান করবেন না:
একই এড ম্যানেজার থেকে একসাথে অনেকগুলো এড বুষ্ট করলে ফেসবুক লাণিং ফেইজ খুব কম টেস্ট রান করতে পারে। এতে করে আপনার এডগুলোর পারফরম্যান্স খারাপ হয় এবং পুরো এড ম্যানেজারের এডসে এর প্রভাব পড়ে।

একের অধিক এডস হলে বাজেট কমবাইন করুন:
একই এডসেটে মাল্টিপল এডস করুন। নতুন করে কোন এডসেট তৈরী করার থেকে আগের যেই এডসেটে ভালো রেজাল্ট পেয়েছেন সেটি ব্যবহার করুন। নতুন বা আগের এডসেট, দুটির ক্ষেত্রেই প্রাথমিক লানিং ফেইজ চলে তবে পুরনো এডসেটের রেজাল্ট হিষ্টোরি থাকার কারণে এটি তুলনামূলক ভালো রেজাল্ট জেনারেট করতে পারে। প্রতি এডসেটে সর্বোচ্চ ৬টি পর্যন্ত এডস ভালো অপটিমাইজেশন আনতে পারে। লানিং ফেইজ পার হওয়ার পর সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করা এডটি ছাড়া অন্যগুলো অফ করে দিন যাতে অতিরিক্ত খরচ না হয়।

সম্প্রতি ফেসবুক এডস ক্যাম্পেইনে বেশ বড় ধরনের পরিবর্তন আসায় আগের মতো যেকোন পোস্ট বা অডিয়েন্সই ভালো রেজাল্ট আসছে না। বর্তমান এলগরিদম অনুযায়ী কম খরচে সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট পেতে এড এ্যসেট, গ্রাফিক্যাল ভিজ্যুলাইজেশন, কনটেন্ট এবং পাশাপাশি অডিয়েন্স সিলেকশন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এছাড়াও ফেসবুক এড পলিসিগুলো জানা না থাকার কারণে অনেকেই ভুলবশত এড ম্যানেজার খোয়াচ্ছেন।

ফেসবুক এড পলিসি নিয়ে বাংলায় আমাদের করা একটি পিডিএফ আছে। চাইলে সম্পুর্ণ ফ্রিতে সংগ্রহ করে পড়তে পারেন। এছাড়া ফেসবুক এড সংক্রান্ত সমস্যা কমেন্টে জানাতে পারেন, আমরা সল্যুশন দেওয়ার চেষ্টা করবো।

Want your business to be the top-listed Business in Chandgaon?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address


2nd Floor, Compact Bayezid Square, Beside Cafe Bayezid R/A Road, Bayezid
Chandgaon
1400