Icon Tutors Service
★ গল্প:-৩ "অভিযোগ"
লেখা: রাফি
((পর্ব-১))
খালাতো বোনের ড্রেস চেইঞ্জ করার সময় তার রুমে নাকি উঁকি দিছিলাম। সেই অপরাধে আজ ৩ দিন ধরে একটা ঘরে বন্দি আমি। আটকে রাখা হয়েছে৷
তিনদিনে কোনো খাবারও দেয়নি।
মেঘলা আমাদের বাসায়ই থাকে। তাই ব্যাপারটা পরিবারের মধ্যেই আছে। বাইরে ছড়ালে মেয়েটার বদনাম হতো। কিন্তু আমি এসব কিছুই করিনি।
মেঘলা আব্বুর কাছে বিচার দিলো আর আব্বুও তার কথা বিশ্বাস করে নিলো। আমার কথা কেউ শুনলোই না, উল্টা আব্বু স্টিলের লাঠি দিয়ে মারলো আমাকে৷ আম্মুও কিছু বললো না। তবে উনার চোখেও ঘৃণা। মাও বিশ্বাস করে নিয়েছে আমি এই কাজটা করেছি।
ছাদের অন্ধকার ঘরটাতে
হাত বেঁধে দরজায় তালা লাগিয়ে রাখা হইছে আমাকে।
তিনদিন ধরে না খেয়ে থাকায় শরীরটা ভেঙে পড়েছে। মাথা ব্যথা আর গ্যাস্টিক তো আছেই।
মেঘলার কথা মনে পড়তেই লজ্জা লাগতেছে। মেয়েটা সামান্য একটা ভুলের জন্য এতবড় মিথ্যে বললো আব্বুর কাছে।৷ আমি পাগল হয়ে গেছি প্রায়, ড্রাগ নেইনা তিনদিন হলো।
আপনারা ভাবছেন আমার আব্বু আম্মুই বা কেমন?
তারা এরকম ছিলেন না। কিন্তু তারাও বাধ্য হয়েছেন
এমন হতে। দুবছর আগে ইন্টার পরীক্ষায় ফেল করার পর থেকে তারা এমন হয়ে গেছেন। অবশ্য ফেল করার কারণ ছিলো। নুসরাত।
বুঝতেই তো পারছেন কেনো। সে চলে যাওয়ার পর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি আমি। এতোটাই আসক্ত ছিলাম যে তাকে ভুলতে আমার ড্রাগ নেওয়ার প্রয়োজন হলো।
তারপর থেকে আব্বু আম্মু কেউ আমাকে আগের মতো ভালোবাসেনা। আর মেঘলার সাথে তো কখনোই পড়েনা আমার। কোনো একটা ভুল পেলেই সে আমাকে শাস্তি দিয়েই যাবে। ছোট খাটো থেকে হলেও এবারের শাস্তিটা একটু বেশিই হয়ে গেছে।
আব্বু যখন আমাকে মারছিলো তখন তার দিকে তাকাইছিলাম।
তার মুখে স্পষ্ট হাসি দেখতে পেয়ে আমি আর তাকাইনি। চোখ নামিয়ে নিয়ে মার সহ্য করেছি।
প্রত্যেকটা আঘাত চোখ থেকে রক্তকান্না বের করে এনেছে। বারবার বলেও কাজ হয়নি৷ আমি মাদকাসক্ত। করতেও পারি। আর মেঘলা ভুল বলবেনা। এটা তাদের ধারণা নয় বিশ্বাস। যেই সময়টায় আমার পরিবারের সাপোর্ট দরকার সেই সময়ই তারা আমাকে বন্ধ রুমে আটকে রেখেছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে সত্যি। তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে গেছে। একফোঁটা পানিও নেই ঘরে৷ অবশ্য বৃষ্টি হলে একটু পানি পাওয়া যেতো উপরে একটু ফুটা আছে ওখান দিয়ে পানি পড়ে।
আজ চতুর্থ দিন। কেউ একবার দেখতেও আসেনি আমাকে। বাড়ির কুকুরটা দুদিন না দেখলে তারও খোঁজ নেয়। আর আমিতো আস্ত একটা মানুষ!! যদিও তারা আর এখন আমাকে মানুষ ভাবেনা তাই হয়তো।
এই ভাবে কয়টা দিন কেটেছে জানি না। কারণ যখন আমার জ্ঞান ফিরলো তখন দেখি আমি নিজের রুমে শুয়ে আছি। প্রচন্ড ক্লান্ত লাগছে। নিজের শরীরটাই আলগাতে পারছি না। শরীরের প্রতিটা অংশ ব্যথায় জর্জরিত।
কিছুক্ষণ পর দেখলাম মেঘলার আমার রুমে এলো। আমার চোখ খোলা দেখে মেঘলা ব্যঙ্গ করে হাসলো।
_কিরে বেঁচে আছিস? আমরা তো মনে করেছিলাম মরে গেছিস।
মেঘলার কথাটা শুনেই চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগলো। এ বাড়ির মানুষজন আমায় এতটা ঘৃণা করে!! কোন পশু যদি অসুস্থ হয় তাকে ও তো ডাক্তার দেখানো হয়। আর আমাকে তারা? হয়ত তারা মৃত্যুই কামনা করেছিল আমার।
আমি মেঘলাকে কোন মতে বললামঃ- অনেক ক্ষুধা পেয়েছে একটু খেতে দিবি??
_ আমার ক্ষুধার কথা শুনে মেঘলা বললোঃ "দেখি ঝুটা কিছু আছে কি না।"
মেঘলার কথাটা শুনে বুকের ভিতরটা মুচড়ে উঠলো। আমি আজ এত অবহেলিত? সব ওই নুসরাতের জন্য। একটু পর মেঘলা একটা প্লেটে কিছু ভাত সাথে আলু ভর্তা আর ডাল দিয়ে গেলো। ক্ষুধার তাড়নায় দেখার সময় ছিলনা কেমন ছিল খাবারগুলা। তবে খাবার গুলো কেমন টক টক লাগছিল। এই ভাবেই চলছে আমার দিন। একদিন রাতে খাবার খাইতে বসছি এমন সময় আব্বু এলো রুমে।
_রাফি,প্লিজ তুই আমাদের মুক্ত কর। তোর জন্য এলাকায় যে সম্মান ছিল তা তো অনেক আগেই চলে গেছে এখন অন্তত ঘরের শান্তি টুকু টা ও কেড়ে নিস না।
রাতে ঘুমানোর সময় বাবার বলা কথাটা চিন্তা করতে লাগলাম। আসলেই তো! আমি তো শেষ হলাম নুসরাতের জন্য। সাথে বাবা মায়ের সম্মান ও শেষ করে দিলাম। এবার তাদের মুক্ত করে দিব। যেখানে নুসরাত আমায় ছেড়ে অন্যের সাথে খুব ভালোভাবেই সংসার করছে সেখানে আমি উল্টো। আমি আর এই বাড়ি তে কাউকে আমার মুখ দেখাবো না। কিন্তু যাবই বা আর কোথায়? যেখানেই যাই তবে আমি আমার জীবনের এই দুই বছরের গল্পটা পালটাতে চাই।
রাতে আব্বু আম্মুর জন্য একটা চিরকুট লিখলাম।
চলবে,,,,
🤗🤣👇
লেখক:
(part 4)
তিতলি তুই,
তুই আমেরিকা থেকে কোনদিন ফিরলি?
তিতলি- কালকে আসলাম, শুনলাম তুমি
নাকি বিয়ে করে ফেলেছে? (কিছুটা হতাশ
হয়ে বলল)
আমি- হুম,,,রে ! ও হচ্ছে আমার বউ আহিয়া
৷
আর আহিয়া ও হচ্ছে আমার চাচাত বোন
তিতলি ৷
আহিয়া- কেমন আছ তিতলি?
তিতলি- হুম,,,ভাল ৷(কিছুটা গম্ভীর হয়ে)
আমি- কিরে তিতলি চাচা চাচী আসেন নাই?
তিতলি- নাহ,,,,আমি একাই আসছি !
তিতলি হচ্ছে আমার চাচাত বোন,
ছোটবেলা থেকেই আমাকে পছন্দ করত ৷
সারাক্ষন আমার পিছে পিছে লেগে থাকত ৷
কিন্তু আমি কখনো ওকে নিয়ে অইভাবে
ভাবতাম না ৷
আমি সব সময় ওকে বোনের চোখেই
দেখতাম ৷
তিন বছর হল ওরা আমেরিকা চলে যায় !!..
তিতলি- ভাবী তুমি এখটু উপরে যাবে? আমি
ভাইয়ার সাথে একা কিছু
কথা বলতে চাই ৷
আহিয়া আমার দিকে রাগী চোখে কিছুক্ষণ
তাকিয়ে রইল ৷
তারপর রাগে ফুসতে ফুসতে
হন হন করে চলে গেল ৷
আমি- তিতলি তাড়াতাড়ি বল কি বলবি?
তিতলি- তুমি কেন এমন করলে?(কান্না করে দিল) অই মেয়ের মধ্যে কি এমন আছে যা
আমার মধ্যে নাই ৷
আমি- তিতলি বোন বুঝার চেষ্টা কর
আমি তোকে কোনো দিনও ওরকম
চোখে দেখি নাই ৷ তকে সব সময় ছোট
বোনের চোখে দেখি?
তিতলি- কেন চাচাত বোনকে কি চাচাত
ভাই বিয়ে করতে পারে না?
আমি- অন্যরা পারলেও আমি পারিনা ৷
দেখ তিতলি তকে আমি কোনো দিনও
অই চোখে দেখি নাই, আর ভবিষ্যতে
দেখবও না ৷
পিল্জ তুই আমার ছোট বোন হয়েই থাক ৷
তিতলি তুই কিন্তু স্মার্ট এবং বুদ্ধিমতি
মেয়ে ৷
তুই ইচ্ছা করলে আমি কেন আমার ছেয়ে
হাজার গুন ভাল ছেলে পাবি ৷
তিতলি- আমার তোমাকে চাই ৷ আমি চাই
না তোমার চেয়ে হাজার গুন ভাল ছেলে !
বলেই তিতলি আমাকে জরিয়ে ধরে কান্না
করতে লাগল !
আমি- তিতলি ছাড় বলছি ৷ বুঝার চেষ্টা
কর আমার এখন একটা বউ আছে, আমার
বউ দেখলেই বা কি বলবে ৷
আমি ওকে যত ছাড়ানোর চেষ্টা
করছি সে আরও শক্ত করে আমাকে জরিয়ে
ধরছে ৷
তারপর আমার রাগ উঠে গেল চরমে
আমি ওকে ধাক্কা দিয়ে ছাড়িয়ে,
ঠাসসস করে একটা চর মেরে রুমে যেতে
লাগলাম ৷
সিরি বেয়ে উপরে উঠতে যাব তখনই
দেখলাম আহিয়া দাড়িয়ে আছে উপরে ৷
তারমানে আহিয়া এতক্ষণ যা যা ঘঠে গেছে
সবই দেখল ৷
আহিয়া আমার দিকে কিছুক্ষণ রক্ত লাল
চোখে তাকিয়ে রুমের দিকে যেতে লাগল ৷
আমিও ওর পিছে পিছে রুমে গেলাম ৷
আমি ভাবলাম রুমে গিয়ে মনে হয়
আহিয়া অনেক চিল্লা চিল্লি করবে ৷
আমাকে হাজারটা প্রশ্ন করবে?
কিন্তু না এসব কিছুই করছে না ৷
আহিয়া সারা রুমে জুড়ে হাটতে
লাগল, আর সামনে যা পাচ্ছে সেটাই এদিক
সেদিক ছুড়ে মারতে লাগল,
আমি বুঝতে পারলাম আহিয়ার রাগ কতটা
উচ্চ পর্যায়ে আছে ৷
আহিয়া রাগে ফুসতে লাগল।
আমি আহিয়ার এই অবস্থা দেখে হাসি আর
আটকাতে পারলাম না...
আমি- হা হা হা হা হা...
আহিয়া- অই দাত খেলিয়ে হাসবি না...দাত
ভেঙে ফেলব !!
আমি আমার হাসি যেন তামাতেই পারছি
না,,,
তারপর আহিয়া তেড়ে আসল আমাকে
মারার জন্য ৷
আমার কাছে এসেই আমার উপর ধপাসসস
করে পরল,,,তারপর আমার বুকে কয়েকটা
কিল দিয়ে আমার বুকে মুখ লুকিয়ে কান্না
করতে লাগল ৷
মেয়েরা সব কিছু সহ্য করতে পারে
কিন্তু তাদের স্বমীকে অন্য মেয়ের পাশে
দেখলে সেটা কিছুতেই সহ্য করতে পারে
না,,,
আমি- এই পাগলী কাদছ কেন?(মাথায় হাত
বুলিয়ে দিয়ে)
আহিয়া- আমি জানি তোমার কোনো
দোষ নাই ৷ কিন্তু অই মেয়েটা তোমাকে
যেরকম ভাবে জরিয়ে ধরল এটা আমি
কিছুতেই মেনে নিতে পারছি ৷
তোমাকে জরিয়ে ধরার অধিকারটা শুধু
আমারই আছে, অন্য কোনো মেয়ের না ৷
(কেদে কেদে)
আহিয়ার আমার উপর ভালবাসা দেখে
আমার চোখ দিয়ে কিছুটা পানি বেড়িয়ে
আসল ৷
মেয়েটা এই তিন দিনে আমাকে কতটা
ভালবেসে ফেলেছে !!
এই কথাটা ভাবতেই মেয়েটার প্রতি
ভালবাস আরও বেড়ে গেল ৷
আমি- পিল্জ আহিয়া কান্না থামাও ৷
তোমার কান্না কেন জানি আমার সহ্য
হচ্ছে না ৷
আরে তিতলি তো একটা পাগল মেয়ে ৷
হয়তো আবেগের ছুটে আমাকে জরিয়ে
ধরেছে ৷ আর ওর আমাকে জরিয়ে ধরার
শাস্তিও তো পেয়েছে , দেখলেই তো ওকে
কত্ত জুরে একটা থাপ্পর দিলাম ৷
এই বলে আমি আহিয়াকে শান্তনা
দিতেছি,,,
হঠাৎ শুনলাম দরজায় কে যেন কড়া
নারতেছে !!
আমি আহিয়াকে আমার উপর থেকে
সরিয়ে দরজা খুলে দেখলাম আম্মু দাড়িয়ে
আছে ৷
আম্মুর মুখটা চিন্তিত মনে হচ্ছে,,,
আমি- কি হয়েছে আম্মু?
আম্মু- নিয়ান দেখত তিতলিকে কখন
থেকে ডাকছি কিন্তু তিতলি ওর রুমের
দরজা লাগিয়ে বসে আছে, খুলছেই না !
আমি দৌরে ওর রুমের পাশে গেলাম ৷
ভালো লাগলে শেয়ার হবে কি।❤
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Dhaka
Badda
1212