Jotne Rakhi
15/03/2023
মুখেও দেখা দিতে পারে ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ, আপনি অবহেলা করছেন না তো?
ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্তের শরীরের বিভিন্ন অংশে রোগ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমনকী মুখেও দেখা দিতে পারে উপসর্গ। তাই সচেতন থাকা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই।
ফ্যাটি লিভার একটি গুরুতর অসুখ। এই রোগে আক্রান্তের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকী হতে পারে লিভার সিরোসিস। তাই বিশেষজ্ঞরা বারবার এই রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জেনে সচেতন হতে বলেন। এক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের উপসর্গ মুখে ফুটে উঠতে পারে।
আসলে লিভারে কিছুটা ফ্যাট গচ্ছিত থাকে। তবে ফ্যাটের পরিমাণ বাড়লেই সমস্যা। তখন এই অঙ্গটি নিজের কাজ ঠিকমতো করে উঠতে পারে না। শরীরের বহু কাজ সঠিকভাবে হয় না। এই পরিস্থিতিতে সাবধান হওয়া ছাড়া গতি নেই।
ফ্যাটি লিভার দুই ধরনের হয়- অ্যালকোহোলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ ও নন অ্যালকোহোলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ। অ্যালকোহোলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের কারণ হল মদ্যপান। অপরদিকে নন অ্যালকোহোলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের পিছনে থাকে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস।
এই অসুখের লক্ষণ প্রথমেই চিনে নিতে পারলে চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার বদলের মাধ্যমে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তাই এই কয়েকটি উপসর্গ দেখলে সাবধান হন-
ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ মুখে
ফ্যাটি লিভার রোগটিতে আক্রান্ত হলে মুখেও এই কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে বলে জানাচ্ছে হেলথলাইন-
১. মুখ ফুলে যেতে পারে
২. ঘাড়ের নীচের দিকের অংশ কালচে হতে পারে
৩. মুখের ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে
৪. মুখে Rash বের হতে পারে
৫. মুখের ত্বক চুলকাতে পারে
৬. ত্বক হলুদ হয়ে যেতে পারে।
তাই এখন থেকে মুখে এই কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিলে আর অপেক্ষা করা নয়।
ফ্যাটি লিভারের অন্যান্য উপসর্গ
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ সম্পর্কে জানাচ্ছে-
১. পেটে ব্যথা হতে পারে
২. বমি বমি ভাব
৩. বমি হওয়া
৪. খিদে না থাকা
৫. ওজন দ্রুত কমা
৬. পা ও শরীরের অন্যান্য অংশে জল জমা
৭. প্রচণ্ড দুর্বলতা
৮. বিভ্রান্তি ইত্যাদি।
কী ভাবে রোগ নির্ণয়?
এই অসুখ নির্ণয় করার ক্ষেত্রে প্রথমে দেওয়া হয় লিভার এনজাইম টেস্ট। এই টেস্টেই খুব সহজে রোগটি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা যায়। এছাড়া চিকিৎসক আলট্রা সাউন্ড করে দেখতে পারেন। পাশাপাশি রোগটি সম্পর্কে গভীরে জানাতে দেওয়া যেতে পারেন লিভার বায়োপসি ও ফাইব্রোস্ক্যান। এই দুটি টেস্টের মাধ্যমেই অনায়াসে রোগের পর্যায় সম্পর্কে জানা যায়। তাই দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই বললেই চলে।
রোগের চিকিৎসা কী?
এই অসুখের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কয়েকটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়। সেই ওষুধগুলি দারুণ কাজ করে। তবে এর পাশাপাশি ডায়েট ও জীবনযাত্রায় কিছু বদল আনতে হয়। তাই এই কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা হল সবথেকে জরুরি-
১. মদ্যপান করবেন না
২. ওজন কমান
৩. ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডস কমান
৪. শাক-সবজি বেশি করে খান।
ব্যায়াম করুন নিয়মিত
এই অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যায়াম করুন। সপ্তাহে ৫ দিন ৩০ মিনিট করে এক্সারসাইজ করুন। এক্ষেত্রে সবথেকে ভালো হয় সাঁতার, সাইকেল চালানো, দৌড়, হাঁটার মতো এরোবিকস এক্সারসাইজ করতে পারলে। তবেই রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আপনি ভালো থাকবেন।
08/03/2023
সারাদিনের ক্লান্তি আর রক্তশর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘুমতে যাওয়ার আগে বজ্রাসন করুন
ডায়াবেটিসের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। যত তাড়াতাড়ি এই রোগ নির্ণয় করা যায় এবং চিকিৎসা শুরু করা যায় ততই ভাল। নিঃশব্দ ঘাতকের মতই বিশ্বজুড়ে থাবা বসাচ্ছে ডায়াবেটিস। ছোট থেকে বড় সকলেই আক্রান্ত হচ্ছেন এখন এই রোগে। ডায়াবেটিসের সঠিক কোনও চিকিৎসা নেই এবং কেন হয় তারও সঠিক কোনও ব্যখ্যা নেই। অগেন্যাশয় থেকে ইনসুলিন হরমোনের ক্ষরণ হয়। আর সেই হরমন যখন কম পরিমাণে ক্ষরিত হয় বা একেবারেই হয় না তখনই রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়তে থাকে। ডায়াবেটিস ২ রকম। টাইপ ১ আর টাইপ ২। মূলত পারিবারিক ইতিহাসে ডায়াবেটিস থাকলে সেখান থেকে আসে এই টাইপ ১ ডায়াবেটিসের সমস্যা। আর নিয়মিত ভাবে বেশি ক্যালোরির খাবার খেলে, ওবেসিটির সমস্যা থাকলে, কোনও রকম মানসিক সমস্যা থাকলে এবং শরীরচর্চা না করলে সুগার বাড়বেই। আর তাই নিয়মিত ভাবে সুগার চেক করে রাখা, শরীরচর্চা, খাদ্যাভ্যাস এসবের দিকে নজর দিতে হবে।
সারাদিন সকলকেই প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। তার মানে এই নয় যে পেট ভরে নিশ্চিন্তে খেয়ে নিলেই রক্ত শর্করা থাকবে নিয়ন্ত্রণে। যদিও তা হয় না। সুগার খুব বেড়ে যাওয়া যেমন ঠিক নয় তেমনই বেড়ে যাওয়াটাও কাম্য নয়। সুগারের মাত্রা যাতে একেবারে ঠিক থাকে সেদিকেই বিশেষ নজর দিতে হবে। সুগারের সমস্যা থাকলে রাতে ভাল ঘুম হওয়াটাও জরুরি। ঘুম ভাল হলে সুগারও কিন্তু কমে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ তো খাবেন। এছাড়াও আরও যা কিছু মেনে চলবেন-
ক্যামোমাইল চা- ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে ঘুমনোর আগে এক কাপ ক্যামোমাইল চা খেতে পারেন। এছাড়াও এই চায়ের মধ্যে থাকে শক্তিশালী অ্যাস্ট্রিনজেন্ট, আছে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য। যা আমাদের রক্তশর্করা রাখে নিয়ন্ত্রণে।
ঘুমোতে যাওয়ার আগে রোজ ৪ টে করে আমন্ড খেতে পারেন। বাদামের মধ্যে থাকে ট্রিপটোফ্যান, ম্যাগনেশিয়াম। যা ঘুম ভাল করে। সেই সঙ্গে রাতের খিদে নিয়ন্ত্রণ করে। সেই সঙ্গে মিষ্টি খাওয়ার লোভটাও কমে।
ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেথি খুব ভাল কাজ করে। রোজ সকালে খালিপেটে মেথি ভেজানো জল খেতে পারলে খুবই ভাল। এছাড়াও শুকনো খোলায় মেথি নেড়ে নিয়ে গুঁড়ো করে রাখতে পারেন। এক টামচ মেথি গুঁড়ো আর এক গ্লাস গরম জল খেলেও কিন্তু অনেক উপকার হয়।
সারাদিনের ক্লান্তি আর রক্তশর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘুমতে যাওয়ার আগে বজ্রাসন করুন। ১৫ মিনিট বজ্রাসন করলে ঘুম যেমন ভাল হবে তেমনই শরীরে রক্ত প্রবাহও ঠিক থাকবে।
অধিকাংশই ঘুমোতে যাওয়ার আগে মোবাইলের স্ক্রিনে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকেন। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য একেবারে ঠিক নয়। এর ফলে স্নায়ুর সমস্যা, ঘন ঘন তেষ্টা পাওয়া, বার বার প্রস্রাব পাওয়া, খিদে সবই পেতে থাকে।