M4MUN
next Spain, Portugal
27/06/2026
22/06/2026
আমার সারা জীবন তীব্র একাকিত্বে কেটেছে। ছোটবেলায় ভালোই বন্ধুবান্ধব ছিল, তবে যত বড় হয়েছি, সেই সংখ্যা কমতে কমতে একেবারে দুই-একজনে নেমে এসেছে। এর প্রধান কারণ মূলত আমি খুব বিচ্ছিন্ন একটি জায়গায় বলতে গেলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে থাকি। এমন অনেক দিন গেছে, যেদিন আমি সারাদিনে একটি সেন্টেন্সও কারও সাথে বলিনি। এভাবে মানুষের সাথে কথা না বলতে বলতে যা হয়েছে, আমার ইনার ভয়েস, যা ছোটবেলা থেকেই বেশ সক্রিয় ছিল, সেই সক্রিয়তা এক ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। শোপেনহাওয়ার বলেছিলেন, "একাকিত্বে মানুষ মুখোমুখি হয় কেবল নিজের। নিজের ভেতরে যা ধারণ করে, তা-ই সেখানে পূর্ণরূপে স্পষ্টতা পায়।" আমার ক্ষেত্রে ঠিক তাই হয়েছে।
পাশাপাশি আমি ভীষণ আজব সব স্বপ্ন দেখি। আমার মোটামুটি ভালোই একটা ইমাজিনেটিভ মাইন্ড আছে। কিন্তু আমি যে ধরনের স্বপ্ন দেখি, তা বাস্তবে কল্পনা করাও আমার পক্ষে সম্ভব কি না, তা নিয়ে আমার নিজেরই সন্দেহ হয়। আমার ভিভিড বা লুসিড ড্রিমিং প্রতিনিয়ত হয়। আমি যতবার ঘুমাই, ততবারই এমন স্বপ্ন দেখি। দিনে পাঁচবার ঘুমালে পাঁচবারই তা হবে, এমনকি মাত্র ১০ মিনিটের জন্য ঘুমালেও। আমি এমন স্বপ্নও দেখেছি যেখানে ঘটনা যত সামনে এগোয়, টাইম তত পেছনে যেতে থাকে।
যাই হোক, চ্যাটজিপিটি আসার পর আমি এসব বিষয় নিয়ে তার সাথে অনেক কথা বলা শুরু করি। আমি ঠিক ওর ওপিনিয়ন চাইতাম না। আমার বিভিন্ন ফিলিংস, অভিজ্ঞতা আর স্বপ্নের বিবরণ দিয়ে জানতে চাইতাম এসবের সাথে মেলে এমন কী কী ফিলোসফি আছে, কোনো বই, অ্যানশিয়েন্ট লিটারেচার বা সায়েন্টিফিক রিসার্চে এই ধরণের বিষয় নিয়ে নিয়ে কী বলা হয়েছে। সায়েন্টিফিক রিসার্চের উত্তর দিতে গিয়ে অর্ধেক সময় সে বানিয়ে বানিয়েই বলত, তবে অন্যান্য সব মিলিয়ে সে আমার পুরো অভিজ্ঞতাগুলোকে খুব সুন্দরভাবে কনটেক্সচুয়ালাইজ করতে সাহায্য করেছে। আমি যদি আমার কয়েকটা স্বপ্নের বিবরণ দিতাম, তাহলে এই অদ্ভুততার স্কেলটা বোঝা যেত। তবে সেটা সম্ভব নয় আর এখানে তার কোনো প্রয়োজনও নেই।
এভাবেই একবার আমি আমার ইনার ভয়েস নিয়ে জিজ্ঞেস করি। আমি বেশ কয়েকবার মেডিটেশন করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু হয় না। মাইন্ড হাইপারএক্টিভ। আমি ভেবেছিলাম সবার মোটামুটি এমনই। প্রথমবার যখন এ বিষয়ে জানতে চাইলাম, তার উত্তর শুনে আমার মনে হলো সে হয়তো আমাকে সিজোফ্রেনিয়ার রোগী ভাবছে। সে আমাকে পরামর্শ দিচ্ছিল, মাথার ভেতরের কণ্ঠস্বর যদি সবসময় নেতিবাচক কথা বলে, তাহলে কী কী করা উচিত। ওর কথা আমি আমার সাথে মেলাতে পারছিলাম না। আমি তখন তাকে স্পষ্ট করে বললাম, আমার ভেতরের ভয়েস নেতিবাচক নয়। তবে কখনো থামে না। এমনকি ঘুমের মধ্যেও না। থামাতে পারিনা এটা যেমন ঠিক, আবার আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়, এটাও ঠিক। আমি একে দিয়ে যা করাতে চাই, ঠিক সেভাবেই কাজ করে।
প্রতিনিয়ত বাইরের জগৎ এবং আমার ভেতরের অনুভূতিগুলোকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং তার ওপর সারাক্ষণ বিশ্লেষণ-পরিকল্পনা চালাতেই থাকে। আমার মনে কোনো আবেগ তৈরি হলে সেটি কেন হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে, সেটা সে অত্যন্ত সততার সাথে ও তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করে। কোনোকিছু দেখে আমার মধ্যে রাগ, ঈর্ষা, আনন্দ বা এমনকি লালসার জন্ম হচ্ছে, তা সে একেবারে সঙ্গে সঙ্গেই শনাক্ত করে আমাকে জানায়। শুধু তাই নয়, এর উৎস কী, ছোটবেলার কোনো স্মৃতি নাকি অন্য কোনো সময়ের কোনো নির্দিষ্ট কথা বা অনুভূতির জের ধরে এমনটা লাগছে, তা সে একেবারে চোখের সামনে পরিষ্কার করে তুলে ধরে। এই পুরো ব্যাপারটার মধ্যে কোনো অতিরঞ্জন নেই, কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি আমার কাছে প্রচণ্ড সৎ এবং র্যাশনাল মনে হয়।
আমার কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ, সেটা তাকে আলাদা করে বলে দিতে হয় না। যেভাবে দেখায়, আমি নিজেই বুঝতে পারি। ব্যাপারটা এমন যেন সে আমার সাথে মিলে প্রতিটা সমস্যার সমাধান খুঁজছে। হ্যাঁ, এটাও ঠিক যে একই সাথে আমার মস্তিষ্কের ভেতর একই সময়ে তিন-চারটি বিশাল ও বিস্তারিত ইউনিভার্স মুভির মত চলতেই থাকে। এর কারণে প্রায়ই কোনো একটি বিষয়ে ফোকাস করতে আমার কষ্ট হয়। ঐ বিষয়গুলো কল্পনা করাটা আমার কাছে চরম আনন্দদায়ক, তাই অনেক সময় হাতের কাজ থামিয়ে আমি চিন্তায় মগ্ন হয়ে যাই। অনেকটা নেশার মতো। তবে একে নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলাটা ঠিক হবে না।
গতকাল রাতে কৌতূহলবশত আমি একটি পোস্ট করি। জানতে চাই, কার কার 'ইনার ভয়েস' সবসময় কথা বলে। আমি ইতিমধ্যে জানি যে একেকজনের ইনার ভয়েস একেক রকম। কারওটা আমার মতো, কারওটা ডাকলে সাড়া দেয়, কারও ভেতরটা একদমই ফাঁকা, আবার কারওটা ঠিক ভয়েস নয়, অন্যভাবে কাজ করে। আমি মনে করতাম, এটা মানুষের একটা সহজাত বৈশিষ্ট্য। যে যার মতো করে এর সাথে মানিয়ে নেয়। কিন্তু আমি যেটা জানতাম না তা হলো, কী পরিমাণ মানুষ এটা নিয়ে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ কষ্ট পেয়ে চলেছে।
কমেন্টগুলো পড়ে আমার খুবই খারাপ লেগেছে। কারও কারও মাথায় একসঙ্গে অনেকগুলো কণ্ঠস্বর কথা বলতে থাকে, যার উপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কারও কারও ভয় লেগে যায়, আবার কেউ কেউ ঠিকমতো ঘুমাতেই পারে না কিংবা জব, পড়াশোনা কোনো কাজে ফোকাস করতে পারে না। আমি হয়তো তাদের এই যন্ত্রণাটা পুরোপুরি অনুভব করতে পারি না, কিন্তু আমি বুঝতে পারি। খুব সহজেই এই একই অবস্থা আমারও হতে পারত।
ব্যাপারটা ভয়ংকর কষ্টদায়ক হবার কথা। জীবন ওলট-পালট করে দেবার মত। আর এটা সম্ভবত কাউকে ঠিকমতো বুঝিয়ে বলাও সম্ভব নয়। অন্য সবার পক্ষে সেটা বোঝার কথাও না। আমি জানি না আপনারা কে কেমন সাপোর্ট পাচ্ছেন। এ ধরণের সমস্যার জন্য আমাদের দেশে ভালো কোনো সাপোর্ট সিস্টেম আছে কি না, তা নিয়েও আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এসব নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে তো মনে হয় বলবে, বিয়ে করো।
আমার কাছে মনে হয় বেশিরভাগের ক্ষেত্রে এর প্রধান কারণ ছোট ছোট ট্রমা যা ছোটবেলা থেকে পেয়ে এসেছে। বাইরের মানুষের ভয়েস কখন নিজের মাথায় ঢুকে চিরতরে জায়গা করে নিয়েছে, টেরও পায়নি। আর এখন সেটাই সমস্ত কন্ট্রোল নিয়ে নিয়েছে। যেখানে এটার আপনার একটা সহযোগী অংশ হওয়ার কথা ছিল, সেখানে সে আপনার বিপরীতে শত্রু হিসেবে অবস্থান নিয়েছে।
এটা হতে দেওয়া যাবে না। নিজের মস্তিষ্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেটি করার জন্য আমি হয়তো আপনাদের কোনো ক্লিনিক্যাল সাজেশন দিতে পারব না। তবে আমার জানামতে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো তিনটি। প্রথমত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, থার্ড পারসনে চিন্তা করা। প্রচণ্ড যন্ত্রণা বা ক্রাইসিসে চেষ্টা করুন নিজের থেকে খানিকটা আলাদা হয়ে দূরত্ব রেখে চিন্তা করতে। মানে আপনি যেন ভিন্ন একটি সত্তা, যে দূর থেকে অন্য একজনের (অর্থাৎ আপনার নিজের) সমস্যাগুলো পর্যবেক্ষণ করে তার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে। শুধু মানসিক বিষয়ই নয়, এমনকি পেইন যদি ফিজিক্যালও হয়, নিজেকে সেই পেইন থেকে কিছুটা আলাদা রেখে স্রেফ একজন দর্শক হিসেবে দেখার চেষ্টা করুন। জানি না ঠিকঠাক বুঝিয়ে বলতে পারছি কিনা।
মনোবিজ্ঞানী ইথান ক্রস বলেন, যখন মনের ভেতর অনেকগুলো নেতিবাচক কণ্ঠস্বর ভিড় করে এবং আপনি নিজেকে অসহায় মনে করেন, তখন নিজেকে নিজের নাম ধরে বা 'তুমি' বলে সম্বোধন করলে মস্তিষ্ক সাথে সাথে আবেগ থেকে একটি র্যাশনাল দূরত্ব তৈরি করতে বাধ্য হয়। তখন পরিস্থিতিকে আর বিপদের বদলে একটি সাধারণ বিশ্লেষণ বা সমাধানযোগ্য সমস্যা হিসেবে মনে হয়।
দ্বিতীয় উপায়টি হলো, এই ভয়েসগুলোকে অন্য কাজে লাগিয়ে দেওয়া। সরাসরি আপনার জীবনের সাথে রিলেটেড নয়, এমন কোনো ম্যাক্রো বা বৃহৎ পরিসরের সমস্যা তাদের ধরিয়ে দিয়ে সেটা নিয়ে চিন্তা করান। এককথায়, ওদেরকে খাটান। ওদের এত এত কাজ দিন যাতে আপনার পেছনে লাগার আর সুযোগই না পায়। চেষ্টা করুন এদের দিয়ে প্রবলেম সলভ করাতে। এদেরকে সমস্যার বদলে সমাধানে ফোকাস করান।
আর তৃতীয় উপায়টি হলো, রুটিন বা রিচুয়াল মেনে চলা। ইনার ভয়েসের প্রকোপ বেড়ে গেলে কিছু নির্দিষ্ট রুটিন ফলো করুন। টেনিস লেজেন্ড রাফায়েল নাদালেরও এমন সমস্যা আছে। খেলার মধ্যে এমন হতে শুরু করলে তিনি ব্রেকে প্রথমে চেয়ারে বসেন, তারপর একটি বোতল থেকে পানি খান, বোতলটি যেখান থেকে উঠিয়েছিলেন ঠিক সেখানেই রাখেন, এরপর অন্য আরেকটি বোতল থেকে পানি খান এবং সেটিও ঠিক আগের জায়গায় নিখুঁতভাবে রাখেন। তিনি নিজের জন্য এমন একটি রিচুয়াল সেট করে নিয়েছেন, যা তার ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে।
আমি যত সহজে ঠাস ঠাস করে তিনটি সমাধান দিয়ে দিলাম, এত জটিল আর যন্ত্রণাদায়ক একটি সমস্যা বাস্তবে নিশ্চয়ই এতটা সহজে দূর হয়ে যাবে না। তবে সমস্যাটাকে গুরুত্বের সাথে অ্যাড্রেস করা উচিত। কোনো না কোনো সাপোর্ট তো অবশ্যই লাগবে। মাথার ভেতরের অন্য কোনো ভয়েসকে নিজের ওপর অবাধে নেতৃত্ব দিতে দেওয়া যাবে না।
যদি কখনো এই পরিস্থিতি হঠাৎ করে খুব ভয়ংকর আকার ধারণ করে, তবে উইম হফ (Wim Hof)-এর কিছু ব্রিদিং এক্সারসাইজ আছে, সেগুলো ট্রাই করে দেখতে পারেন। ব্রিদিং এক্সারসাইজ যদি আগে কখনো না করে থাকেন, তবে আন্দাজে নাক সিঁটকাবেন না। একটু বিশ্বাস রেখে অন্তত একবার করে দেখতে পারেন। আমি কথা দিচ্ছি, যদি ঠিকভাবে যা যা বলে তাই তাই করেন, এমন কিছু ফিল করবেন যা জীবনেও ফিল করেননি। বিশ্বাস রাখুন।
আমি মন থেকে আশা করব, আপনারা এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পান। নিজের মস্তিষ্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করুন। অন্তত সাপোর্ট হিসেবে কিছু না কিছু খুঁজে পান। আপনাদের জন্য পিওর দোয়া থাকল।
ইনার ভয়েস সম্পর্কিত অন্য লেখাগুলো পড়তে হ্যাশট্যাগে ক্লিক করুন।
Klikk her for å få din Sponsede Oppføring.
Type
Nettsted
Adresse
Hell
369