Sarmin Rima760
10/04/2026
📚 বর্তমানে আলোচনার শীর্ষে থাকা উপন্যাস…
পীরে কামেল — আসছে রিভিউ 📚
এই গল্পের ভেতরে লুকিয়ে আছে—
ভুল থেকে ফিরে আসার সাহস,
সংশয়ের অন্ধকার ভেদ করে ঈমানের আলোয় পৌঁছানোর সংগ্রাম,
আর ভালোবাসার সেই রূপ, যা দুনিয়াবি সীমার বাইরে গিয়ে আখিরাতের দিকে পথ দেখায়।
পীরে কামেল যারা পড়েছে তাদের বেশিরভাগেরই চোখে ইমামার প্রতি সালারের গভীর প্রণয় চোখে পড়েছে। কিন্তু এর বাইরেও যে এই উপন্যাস সমাজকে আরও অনেক কিছু বিষয়ের গভীর শিক্ষা দিয়েছে তা উহ্য থেকে গিয়েছে। যেটা কারোর চোখে আসেনি সচরাচর।
এটি শুধুই একটি উপন্যাস নয়, বরং হিদায়াতের এক গভীর জার্নি, আত্মার রূপান্তরের গল্প, এবং সত্যকে খুঁজে পাওয়ার এক অনন্য পথচলা পাশাপাশি কাদিয়ানী সম্প্রদায় বা আহমদিয়া গোষ্ঠীর সম্পর্কে অজানা সকল গভীর তথ্য।
এই উপন্যাস আমাদের শেখায় আমাদের পারফেক্ট মেন্টর সম্পর্কে। যিনি পীরে কামেল শেষ পয়গম্বর আর যার নামেই এই উপন্যাস। কিন্তু মূল বিষয়টি আজ চাপা পড়ে গেছে অন্য বিষয় অতিরিক্ত চর্চার কারণে।
খুব শিগগিরই আসছে আমার বিস্তারিত রিভিউ— ছোট্ট করে উপন্যাসের বিষয়বস্তু। যার দ্বারা অন্য সবাই জানতে পারবে এই সম্পর্কে।
এই উপন্যাস আমাকে কীভাবে ভাবতে বাধ্য করেছে,
কোন জায়গাগুলো হৃদয় ছুঁয়ে গেছে,
আর কেন এত মানুষের কাছে এটি এতটা আলোচিত ও প্রভাবশালী…
Stay connected…
#পীরে_কামেল #বাংলা_রিভিউ #হিদায়াত
#পীর_এ_কামিল #সালার_সিকান্দার #ইমামা_হাশিম
❤️
16/10/2025
📖 'তুমি সন্ধ্যার মেঘ' উপন্যাস রিভিউ 📖
রিভিউ: ১১
বাংলা তথা ভারতে বৈদেশিক আক্রমণ যখন প্রবল হয়ে পড়ে ওই সময় নিজ দেশকে রক্ষা করার স্বার্থে রাজা-রাজড়াদের একতাবদ্ধ হতে হয়। যদিও তাদের মধ্যে শত্রুতা থাকুক না কেন। তেমনি নিজেদের মধ্যে শত্রুতা থাকা সত্বেও রাজা নয়পাল ও লক্ষ্মীকর্ণকে সেই সন্ধি মেনে নিতে হয়।
কথায় আছে রাজারা একবার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলে নিজের প্রাণ দিয়ে হলেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। কিন্তু রাজা লক্ষ্মীকর্নর ক্ষেত্রে এই বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। নিজের ছোট মেয়ে যৌবনশ্রীর সঙ্গে নয়পাল রাজার পুত্র কুমার বিগ্রহের বিবাহ স্থির হয়। বিবাহ স্থিরকারী স্বয়ং অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। স্বয়ংবর সভায় কুমার বিগ্রোহের গলায় মাল্য দান করে তাকে স্বামীত্বে বরণ করবে রাজকন্যা যৌবনশ্রী। কিন্তু রাজা লক্ষীকর্ণ সে স্বয়ংবর সভায় কুমার বিদ্রোহকে নিমন্ত্রণই করেন না। বাঁধে বিপত্তি। কুমার বিগ্রহ অপমানিত বোধ করে রাজকন্যাকে চুরি করার ফন্দি আঁটেন। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই চুরি একে অপরের কাছে প্রনয়ে পরিণত হয়। উপন্যাসের চরমতম পর্যায়ে যখন একে অপরের পরিণয় অসম্ভব হয়ে পড়ে ওই সময় সন্ধ্যার এক খন্ড মেঘ এসে তাদের মিলিয়ে দিয়ে যায়। ঐতিহাসিক উপন্যাসটি সুন্দর সমাপ্তির মধ্যে দিয়ে শেষ হয়ে যায়।
#বাংলা_উপন্যাস_রিভিউ #শরদিন্দু_বন্দ্যোপাধ্যায় #বাংলা_সাহিত্য #তুমি_সন্ধ্যার_মেঘ #উপন্যাস_রিভিউ
15/10/2025
'দহন শেষে মেঘ' বইয়ের নাম যখন বই পড়তে আগ্রহী বানিয়ে দেয়।
Wishlist এ থাকা একটি বই।❤️
14/10/2025
📖 বিষবৃক্ষ উপন্যাস রিভিউ📖
রিভিউ: ১০
নগেন্দ্রনাথ, সূর্যমুখী, কুন্দনন্দিনী এই ত্রিকোণ প্রেমের কাহিনী নিয়ে গঠিত বিষবৃক্ষ উপন্যাস। আগুন ও মমকে পাশাপাশি রাখলে যেমন গলে যায় ঠিক তেমনি মানুষের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। অসহায় অনাথিনী কুন্দনন্দিনীকে নিজ বাড়িতে সাহায্য প্রদান করার সময় সূর্যমুখী হয়তো বুঝতে পারেনি সে মোমের পাশে আগুনকে এনে রাখছে। ফলে একসময় সূর্যমুখীর স্বামী নগেন্দ্রনাথ সেই কুন্দনন্দিনীর প্রেমে মজে যায়।
"তোমাতে আমার আর সুখ নাই" এই একটি কথা যথেষ্ট ছিল সূর্যমুখীকে স্বইচ্ছায় কুন্দনন্দিনীকে সতীন বানাতে। আর সেটাই হয়েছিল। তবে বিপথগামী নগেন্দ্রনাথ যখন তার ভুল বুঝতে পারল তখন সূর্যমুখী ঘরছাড়া। আর যখন তাকে খুঁজে পেল তখন কুন্দনন্দিনী হলো পৃথিবীছাড়া। উপন্যাসের শেষে বঙ্কিমচন্দ্র যথার্থই বলেছেন "আমরা বিষবৃক্ষ সমাপ্ত করিলাম, ভরসা করি ইহাতে গৃহে গৃহে অমৃত ফলিবে।"
#বাংলা_উপন্যাস_রিভিউ #বাংলা_সাহিত্য #বাংলা_উপন্যাস #বঙ্কিমচন্দ্র_চট্টোপাধ্যায় #বিষবৃক্ষ
09/09/2025
প্রিয় সাহিত্যিক 📖❤️
04/09/2025
📚 ইন্দুবালা ভাতের হোটেল উপন্যাস রিভিউ 📚
🔹 উপন্যাসের নাম: ইন্দুবালা ভাতের হোটেল
🔹 লেখক: কল্লোল লাহিড়ী
🔹 পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৭ পৃষ্ঠা
🔹 PDF অ্যাভেলেবেল: অনলাইনে পিডিএফ পাওয়া যায়
🔹 রিভিউ নম্বর: ৯
📖 উপন্যাসের ধরন: নারী মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
✅ উপন্যাসের প্রকাশকাল :
কল্লোল লাহিড় রচিত ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ উপন্যাসটি ২০২০ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত হয়েছিল ‘সুপ্রকাশ প্রকাশনী’ থেকে।
✅ মূল চরিত্রসমূহ:
মূল চরিত্র: উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ইন্দুবালা মল্লিক। অন্যান্য চরিত্র হিসেবে রয়েছে মনিরুল, রতনলাল মল্লিক, লোছমী, ধনঞ্জয় সহ অন্যান্য।
📚 ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’ উপন্যাসের বিষয় সংক্ষেপ 📖
ইন্দুবালা ভাতের হোটেল উপন্যাসে কেন্দ্রীয় চরিত্র ইন্দ্রবালার জীবন উপন্যাসের মধ্যে ফ্ল্যাশব্যাক এর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ওপার বাংলার একাধিক খাবারের ইতিহাস এই উপন্যাসটির মধ্যে সুচিত্রিত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে ইন্দুবালা কলকাতার ছেনু মিত্তির লেনে একটি ভাতের হোটেলের মালকিন থাকলেও পূর্বে সে ছিল খুলনার কলাপোতা গ্রামের মেয়ে। সেখানে তার শৈশব, কিশোরী জীবনের সমস্ত স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে। বাবা-মা, ঠাকুমা আর ছোট ভাইকে নিয়ে সুন্দর সংসার ছিল তাদের। ইন্দুবালাকে একাধিক নীতি কথা ও সংসারের নিয়ম-কানুন সহ সুন্দর রান্না-বান্না শেখাতেন তার ঠাকুমা। তার সঙ্গে তার নিজের জীবনের একাধিক ঘটনার গল্প করতেন।
ইন্দুবালা যখন কিশোরী ওই সময় তার গ্রামের মনিরুল নামের একটি মুসলিম ছেলের সঙ্গে প্রণয় ঘটে। তারা একসঙ্গে খেলে বেড়াতো, কখনো বিলের জলের ধারে কখনো দুপুরের রোদে। সময় অসময়ে মনিরুল ইন্দুবালাকে তার প্রিয় বই নক্সীকাঁথার মাঠ পড়ে শোনাতো। ইন্দুবালার একাধিক রাগ অভিমান প্রশ্রয় পেত তার কাছে। ইন্দুবালা খুব করে চায়তো মনিরুলকে, কিন্তু তাদের সমাজ ও ধর্ম তাদেরকে একত্র হতে দেয়নি এরপরই আসে সেই সময় যখন ইন্দুবালার বাবা তাদেরকে জানাই যে ভারতে কলকাতার এক মাস্টারমশায়ের সঙ্গে ইন্দুবালার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে।
গ্রামের একাধিক মানুষ ইন্দুবালার বাবাকে এই বিয়ের জন্য বারণ করলেও তিনি শেষ পর্যন্ত ইন্দুবালার বিয়ে সেখানেই দেন। নিজের আপন মানুষজন সহ মনিরুল প্রিয় গ্রাম সবাইকে ছেড়ে ইন্দুবালা পাড়ি দেয় স্বামীর বাড়ি কলকাতায়। কিন্তু শ্বশুর বাড়ি এসে সে দেখতে পাই তার স্বামী রতনলাল মল্লিক আদৌ কোন মাস্টার নয়। বরং সে আগাগোড়া নেশারু একজন ব্যাক্তি। এখানেই শেষ নয়। ইন্দুবালার স্বামীর আগেও বিবাহ হয়েছিল। বর্তমানে সে বিপত্নীক থাকায় ইন্দুবালাকে বিয়ে করেছে।
বিয়ের পরে ইন্দুবালার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বাপের বাড়ি নিয়ে একাধিক কটাক্ষ ও অপমান শুনতে শুনতে তার দিন গুজরান হতে থাকে। তার স্বামী নেশা করতো ও জুয়া খেলার জন্য একাধিক জায়গায় ধার দেনা করতো। এর জন্য সে ইন্দুবালার সোনার গয়নাগুলো পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছিল। ইন্দুবালার শাশুড়ি সব সময় তার প্রতি খবরদারি করতেন। তার কাছে নিজের ছেলের সব খুন মাপ।
ইন্দুবালা শ্বশুরবাড়িতে থাকাকালীন সময়ে হঠাৎ একদিন তার ভাই তাদের বাড়িতে আসে ঠাকুমার মৃত্যুর খবর নিয়ে। ইন্দুবালা যেতে চাই কিন্তু শ্বশুরবাড়ি থেকে অনুমতি পায় না। গরিব পিতা-মাতা হওয়ার কারণে ইন্দুবালাকে সব সময় তার শাশুড়ি যাচ্ছেতাই বলে কথা শোনায়। পাশাপাশি ওপার বাংলার মেয়ে হওয়ার শুনতে হয় তাকে একাধিক কটাক্ষ বাক্য। এরপরে সে একসময় অন্তঃসত্তা হয়।
একদিন তার ভাই তার বাড়ি বেড়াতে আসে, তার ভাইকে দেওয়ার মতো কোনো খাবার নেই বলে তার শাশুড়ি নিজের ঘরে চলে যান ইন্দুবালা তার নিজের পাতের খাবার ভাইকে তুলে দেন। ইন্দুবালার ভাই আসার জন্য তার শাশুড়ি স্পষ্ট অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে। বোনের সুখের কথা ভেবে ভাই বেশিক্ষণ থাকে না তাকে চলে যেতে হয়।
ক্রমে ইন্দুবালার সংসারে দুটো পুত্র আসে। তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে সে সবকিছু মেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। সঙ্গে করে নিয়ে আসা পাসপোর্টটা একদিন সে রাগে দুঃখে অভিমানে আগুনে পুড়িয়ে ফেলে। তার মনের খবরই বা কে রাখে তার অভিমানের খবরই বা কে রাখে। একাই শ্বশুরবাড়িতে গুমড়ে পড়ে থাকে সে।
এরপর একদিন খবর আসে তার স্বামী পতিতাপল্লীতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এরপরে হাতে আর বেশি সময় পাওয়া যায়নি। তার স্বামী পরলোক গমন করে। ইন্দুবালা সমস্ত নিয়ম ভেঙ্গে নিজের স্বামীর মুখাগ্নি করে। যে মানুষটাকে সে ভালবেসে ছিল তাকে সে পায়নি। আর একটা অপছন্দের মানুষের সঙ্গে সে তার সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়ার জন্য সব ছেড়ে চলে এসেছিল। শুধুমাত্র করেছিল বাবা মার মুখের দিকে তাকিয়ে। মাঝে তার বাবার মৃত্যুর খবর যখন এসেছিল তখনও সে খুলনার কলাপোতা গ্রামে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু তখনও শ্বশুরবাড়ি থেকে অনুমতি মেলেনি।
তার শাশুড়িও স্বামীর মৃত্যুর পরে তার সঙ্গে বেশি দিন থাকতে পারেননি। তিনিও মৃত্যুবরণ করেছিলেন তখন একাধিক সন্তানকে নিয়ে ইন্দুবালা পড়ে যান আকুল পাথারে। তাদের মুখে যে দুমুঠো ভাত তুলে দেবেন সেই অবস্থা তার নেই। অমনি একদিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে ছেনু মিত্তির লেনে বাড়িতে ছিলেন ইন্দুবালা। লাচমী তখন তাদের বাড়িতে এসে তার হাতে কটা টাকা দিয়ে তাকে জানায় যে সে আজ তার কাছে ভাত খাবে কারণ ট্রেনের অনেক সময় আছে তার পৌঁছতে দেরি হবে। এই অবস্থায় তার না খেলে চলবে না।
ওই দিনই সে লছমির কাছ থেকে ভাতের হোটেল খোলার আইডিয়াটা পেয়েছিল। লাচমি তাকে উৎসাহটা দিয়েছিল আর খরিদ্দারও নিজেই জোগাড় করে দিয়েছিল। সেই থেকে শুরু হয় ইন্দুবালার ভাতের হোটেলের পথ চলা। ওপার বাংলার খাবার এপার বাংলার মানুষ এতটাই পছন্দ করে যে ইন্দুবালার ভাতের হোটেল রীতিমতো জনপ্রিয় হতে শুরু করে। মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে তার হোটেলে খেয়ে যাই। ছোট জায়গাতে আর কুলাই না, ইন্দুবালাকে হোটেল বড় করতে হয়।
সেই হোটেল খোলার পরের সময়ে একদিন ধনঞ্জয় এসে তার কাছে খেতে চেয়েছিল। সেই থেকে ধনঞ্জয়কে রেখে দিয়েছে। হোটেল দেখাশোনার কাজ করে সে এখন। ইন্দুবালা কখনো টাকার জন্য মানুষকে খাওয়ায় না। তার কাছে মানুষকে খাইয়েই তৃপ্তি। সে মনে করে ধর্ম, বর্ণ, জাত, নির্বিশেষে মানুষকে পেট ভরে খাওয়ার মধ্যে যে আনন্দ রয়েছে সে আনন্দ আর কোন কিছুতে নেই। নিজের ঠাকুমার কাছ থেকে সে এটাই শিখেছিল।
এরই মধ্যে চারিদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়। একাধিক বিপ্লবীরা এসে রাতের অন্ধকারে ইন্দুবালার কাছে ভাত খেতে চাই। ইন্দুবালা তাদেরকে টাকার কথা জিজ্ঞেস না করেই খেতে দেন। পাশাপাশি তাদের একাধিক বিপ্লবী কার্যকলাপেও তাদের সাহায্য করেন। লক্ষ্মী মাঝেমধ্যে তাকে একাধিক এটা ওটা জিনিস নিয়ে এসে দেয়। যেগুলি রান্নার কাজে লাগবে কখনো বড় একটা মান কচু নিয়ে আসে তো কখনো ছোট সুন্দর মাছ নিয়ে আসে। মাঝে মাঝে সে বাই না করে ভালো কিছু রান্না করে দেওয়ার জন্য।
ইন্দুবালা চাই একদিন লছমী তার কাছে থাকুক, কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনা। লছমি একা মানুষ তার স্বামী তাকে ছেড়ে গিয়েছে। ইন্দুবালার বাড়িতে তার থাকলে চলবে কেন। কিন্তু তার কথা রাখতে হয় একদিন বৃষ্টি বাদলের দিনে লচমিকে জোর করে ইন্দুবালা তার কাছে রেখে দেয়। ঐদিন গভীর রাত পর্যন্ত তারা একসঙ্গে বসে গল্প করে। লছমি তাকে শোনায় তার যৌবনের প্রেমের কথা যাকে ভুলে গিয়ে সে বাড়ির পছন্দে তার স্বামীকে বিয়ে করেছিল কিন্তু বিয়ের পর তার স্বামী তাকে অত্যাচার করত। লক্ষ্মী বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানাই মানুষটাকে সে আজও ভুলতে পারেনি। এরপরে সে ইন্দুবালাকে জিজ্ঞেস করে তার কিশোরী জীবনের কথা, তার কোন পছন্দের মানুষের কথা। ইন্দুবালা স্মৃতির অতলে ডুবে যায়, কিন্তু মুখে কিছু বলতে পারেন না।
ইন্দুবালা স্মৃতির অতল থেকে উঠে এসে বর্তমানে ফেরে। মেসবাড়ি থেকে, কলেজ থেকে ছেলেমেয়েরা আসে ইন্দুবালার হোটেলে খাওয়ার জন্য। তারা নিজেদের মতো আবদার করে। কেউ এসে গলা জড়িয়ে ধরে কেউ আদরে দিদা বলে একাধিক খাবারের বায়না করে। ইন্দুবালা তাদের আবদার ফেলতে পারেনা এমনকি তাদের একাধিক জনের জন্মদিনের সময়ও ইন্দুবালার কাছে আসে কাঙ্খিত খাবারের বায়না। ইন্দুবেলা চায় তারা দুবেলা পেটপুরে খেয়ে ভালোভাবে পড়াশোনা করুক। তারা নিজেদের পছন্দমত যত টাকা দেয় ইন্দুবালা সেটাই গ্রহণ করে কোনদিন তাদেরকে খাওয়ার পর টাকার জন্য বলে না আবার মানুষ যেন ইন্দুবালার হোটেলে খেয়ে টাকা দিতে কিপটামু করে না। ইন্দুবালা ভাতের হোটেল এতটাই জনপ্রিয় হয় যে ফেসবুকে সহ সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক জায়গায় তা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে মানুষ দূর দূরান্ত থেকে ইন্দুবালার ভাতের হোটেলে খাবার জন্য আসে। ওপার বাংলার খাবারের প্রতি মানুষের বরাবরের আগ্রহ। দেশ ভাগ হয়েছে তো কি হয়েছে নাড়ির টান তো একই রয়েছে।
বর্তমানের ঘটনার মাঝে ইন্দুবালা আবার অতীতের ঘটনায় ডুবে যান। যেন ছেনু মিত্তির লেনে একা একা তার হোটেল পরিচালনার কাজ করা, একলা হাতে ছেলেমেয়েদের মানুষ করা সবকিছুই সে একাই করেছে। মাঝে যখন যুদ্ধ শুরু হয় তখন একদিন সে খবর পায় ওপার বাংলায় তার বাবা-মা, ভাই সবাই মারা গেছে। মিলিটারিরা তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। মনিরুলের কোন খবর নেই।
সে কল্পনা করে হয়তো ওই যুদ্ধকালীন সময়েই মনিরুল যুদ্ধ করতে গিয়ে শত্রুপক্ষের গুলি খেয়ে মারা গেছে। এরপরেই একদিন ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা। লছমি মাছ বিক্রি করে রেললাইন পারাপার করে আসছিল ওই সময় ট্রেনে দুর্ঘটনা ঘটে সে মারা যায়। তার ত্রিভুবনে কেউ না থাকায় ইন্দুবালা গিয়ে বোন পরিচয় দিয়ে তার ডেডবডি নিয়ে আসে ও সৎকার করার ব্যবস্থা করে। লাচমীর মৃত্যুও তাকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে যায়। একাকী ইন্দুবালা আবারো একা হয়ে যান।
এইভাবে ইন্দুবালা উপন্যাসের পরতে পরতে নিজের অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করে উপন্যাসটিকে সমৃদ্ধ করেছেন। একাই হাতে সে ছেলেমেয়েদের মানুষ করে তাদের কাজে লাগিয়েছেন, তাদের বিয়ে দিয়েছেন। নাতি নাতিরাও তারা এখন বেশ বড়। তারা তার কাছে আসে। একাধিক বায়না করে সেও আদরের সহিত তাদের আবদার পূরণ করে। একসময় ছেলেরা বাংলাদেশ যাওয়ার ভিসা করে ইন্দুবালারও বাংলাদেশ যাওয়ার দিনক্ষণ স্থির হয়। কিন্তু সবকিছু ঠিক হয়ে যাওয়ার পরেও ইন্দুবালা আর যেতে পারেন না। যেখানে যাওয়ার জন্য তিনি সারা জীবন কেঁদেছেন, বাবা-মাকে এক ফোঁটা দেখার জন্য তিনি হা হুতাশ করেছেন, কত রাত চোখের জল করে ফেলিয়েছেন আজ সে যখন তার বাবা-মা সহ আপনজন বলতে বাংলাদেশে আর কেউ নেই তখন সে ওখানে গিয়ে আর কি করবে? ইন্দুবালা যেতে পারেন না। সে পুনরায় ফিরে যায় ছেনু মিত্তির লেনে।
উপন্যাসের শেষ অংশে দেখা যায় ইন্দুবালা একাকী তার ছাদে শুয়ে আছেন। জীবন যুদ্ধে ক্লান্ত ইন্দুবালা যেন আজ সত্যিই পরিশ্রান্ত হয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। সে একটু শান্তি চাই, সে একটু একাকী থাকতে চাই। সে তার শৈশব ও কিশোরী জীবনেই আনন্দ খুঁজে পাই। ওটাই তার সুখের সীমানা যে সুখের সীমানায় রয়েছে তার বাবা, মা, ভাই আর প্রিয় মানুষ মনিরুল। সেজন্য সে বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করলেও প্রায় ও সেই খেয়ালে-বেখেয়ালে, আনমনে অতীতের স্মৃতিতে ডুবে যান। একাকী ছাদের উপর শুয়ে রয়েছেন। শেষ বিকেলের পড়ন্ত আলো তার শুষ্ক মুখের উপর পড়ছে। আর এখানেই শেষ হয় ইন্দুবালা ভাতের হোটেল উপন্যাস।
#বাংলা_উপন্যাস_রিভিউ #ইন্দুবালা_ভাতের_হোটেল #কল্লোল_লাহিড়ী
03/09/2025
রাস্তা পেরুলে বন-
বনের শেষে দাঁড়িয়ে থাকে
বিষন্ন এক মন।
#বিভূতিভূষণ_বন্দ্যোপাধ্যায় #আরণ্যক #বাংলা_সাহিত্য
02/09/2025
আচ্ছা এই উপন্যাসটার গল্প বলা যাক। আউট অফ সিলেবাস এর জন্য সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার একবিংশ শতাব্দীর উপন্যাস হিসেবে দুটো উপন্যাসের কথা বললেন- একটি হল লেখক ইসমাইল দরবেশ এর লেখা 'তালাশনামা' ও অপরটি হল ওয়াহিদা খন্দকারের লেখা 'ময়না বিবির নাও'। আপাততভাবে আমার 'ময়না বিবির নাও' এই একটা উপন্যাসই পড়া হয়েছে। তাই এটারই রিভিউ দিচ্ছি। রাষ্ট্রহীন ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রান্তিক মানুষের জীবন সংগ্রাম কতটা ভয়াবহ তা এই উপন্যাসের মধ্যে চিত্রের মত উঠে এসেছে। যারা সমসাময়িক উপন্যাস পড়তে ভালোবাসেন তারা এটি পড়ে দেখতে পারেন।
#বাংলা_উপন্যাস_রিভিউ #বাংলা_সাহিত্য #ওয়াহিদা_খন্দকার #ময়না_বিবির_নাও
Click here to claim your Sponsored Listing.