Vlogging farhan
Kolkata is not just a city, it’s a feeling that stays in your heart forever.
From the busy streets to the quiet corners, every part of this city tells a story.
The sound of trams, the beauty of old buildings, the warmth of people and the magic of street food — everything makes Kolkata special.
This short vlog captures the real vibe of Kolkata in just a few moments.
If you have ever walked through these streets, you will feel the nostalgia.
And if you have never been here, this video will make you want to visit.
Kolkata is where emotions live, where culture breathes and where every street has a soul.
This is my small tribute to the City of Joy. ❤️
If you love Kolkata, don’t forget to like, share and subscribe for more beautiful stories from this amazing city.
“A Day at Barasat Station” Vlogging farhan
জীবনটা অর্ধেক সহজ হয়ে যায় একজন ভালো মানুষকে সঙ্গী হিসেবে পেলে।
মিথ্যে, ছলনা, বাহানা, মুখোশ আর বিশ্বাসঘাতকতার মারপ্যাঁচ দিয়ে ভরা এই দুনিয়ায় একজন ভালো মানুষকে সঙ্গী হিসেবে পাওয়া বড্ড দুষ্প্রাপ্য।
চার দেওয়ালের ভিতরের লাল নীল সংসারটা যার তার সাথে টিকিয়ে রাখা যায় না জানেন। জীবনটা তছনছ হয়ে যায়।
শেষ বয়সে গিয়ে মানুষের রূপের অহংকার থাকে না। অর্থের অহংকার থাকে না, প্রাপ্তির অহংকার থাকে না, সফলতার অহংকার থাকে না।
তখন মানুষ শুধু পাশের মানুষটার দিকে তাকিয়ে একটা তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলে আর ভাবে, "ভাগ্যিস এই মানুষটাকে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলাম!"
আমি মনে করি মানুষ যতটা অন্যান্য সফলতাকে, প্রাপ্তিকে উদযাপন করে, তার থেকে অনেক বেশি উদযাপনের হলো একজন সঠিক মানুষকে সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার বিষয়টা। তাকে নিয়ে লোক সমাজে গর্ব করুন।
তাকে ধন্যবাদ জানান তার অস্তিত্বের জন্য।
তাকে উদযাপন করুন সুযোগ পেলেই।
25/11/2025
রাত যত গভীর হয়, তত নীরব হয়ে যায় চারপাশ—আর সেই নীরবতার ফাঁকে ফাঁকেই মাথার ভেতর জেগে ওঠে অদ্ভুত সব চিন্তা।
দিনের আলোয় যেগুলো লুকিয়ে থাকে শালীনতার মুখোশে,
রাত নামলেই সেগুলো একে একে দরজা খুলে দেয়।
মন তখন আর শান্ত থাকে না।
কামনা, আফসোস, দুশ্চিন্তা—সব মিলে এক ধরনের ভারি অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে ভেতরে।
একদিকে শরীর টান খায় পুরনো কোনো স্পর্শের স্মৃতিতে,
অন্যদিকে মস্তিষ্ক ঘুরপাক খায় বাস্তবতার ঠান্ডা হিসেবের মধ্যে।
রাতের এই নিস্তব্ধতা একরকম আয়নার মতো—
যেখানে নিজের মুখের পাশাপাশি দেখা যায় নিজের ছায়াও।
আর সেই ছায়াটার ভেতরই বাস করে কাম, ভয়, অপরাধবোধ আর একাকীত্বের গোপন মিশ্রণ।
মানুষ বলে, রাতের পর ঘুম এলে সব শান্ত হয়ে যায়।
কিন্তু আসলে, ঘুম নয়—আমরা ক্লান্ত হয়ে পালিয়ে যাই।
যে চিন্তাগুলো দিনে দূরে ঠেলে দিই,
রাত সেগুলোকে আবার টেনে আনে, নিঃশব্দে, ধীরে ধীরে।
তবুও এই রাতই সবচেয়ে সত্য সময়।
কারণ এখানে মুখোশ নেই, কেবল মানুষ আর তার অন্ধকার ইচ্ছে।
22/11/2025
আমি কখনো ভাবিনি, ভালোবাসা এত নীরবভাবে হারিয়ে যায়।
না কোনো ঝড়, না কোনো বিদায়-শুধু একদিন চোখ খুলে দেখি, তুমি নেই। তুমি যে ছিলে, সেই উপস্থিতির গন্ধটা আজও বাতাসে লেগে আছে, কিন্তু তোমার ছায়াটাও আর আসে না আমার জানালার ধারে।
আমি প্রতিদিন নামাজ শেষে একটু থেমে যাই।
হাত উঠিয়ে বলি,
"হে আল্লাহ, ওর জন্য শান্তি দিও, আমি কিছু চাই না।"
কিন্তু মনে মনে আবার একটা মিনতি জেগে ওঠে-"একবার শুধু স্বপ্নে দেখা দিও ওকে, অন্তত এক মুহূর্তের জন্য।"
তুমি জানো, আমি তোমার নামটা আজও মুছিনি কাগজ থেকে।
লেখার মাঝে মাঝেই হঠাৎ তোমার নাম চলে আসে, যেন কলমও জানে, কাকে খুঁজে আমি এখনো হারাইনি।
রাতে যখন বাতাসে তোমার গানের সুর ভেসে আসে, আমি চুপ করে কান পেতে থাকি,
ভাবি-এই সুরটার মাঝেই হয়তো তোমার নিঃশব্দ উত্তর লুকানো আছে।
কখনো মনে হয়, দরজায় কড়া নাড়বে তুমি,
বলবে-
"আমি ভুলিনি, কেবল দূরে ছিলাম।"
কিন্তু দরজাটা এখনো নীরব,
আর আমি এখনো সেই দরজার সামনে প্রার্থনার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছি-না পাওয়ার কষ্টে, তবু ভালোবাসার বিশ্বাসে।
কারণ আমি শিখেছি, যাকে সত্যিই ভালোবাসা যায়, তাকে পাওয়া নয়-তার জন্য সারাজীবন প্রার্থনা করাই আসল ভালোবাসা।
17/11/2025
এই চিঠি হয়তো কোনদিন তোমার কাছে পৌঁছাবে না।
আমার না হওয়া মহারানী।
জানি, এই চিঠি হয়তো কোনোদিন তোমার কাছে পৌঁছাবে না। তবুও মনে হলো আমার বুকের ভেতরে জমে থাকা, সব না বলা কথাগুলো কাগজে ঢেলে দেই। হয়তো তুমি পড়বে না, হয়তো জানবেও না-তবুও লিখছি, কারণ আজও তোমাকে ভীষণভাবে মনে পড়ে।
আমি চেষ্টা করি ভুলে থাকতে, কিন্তু ভুলতে পারি না। যতই নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চাই, রাতের নিস্তব্ধতা আমাকে তোমার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। চোখ বন্ধ করলে এখনও তোমার হাসি আমার সামনে ভেসে ওঠে, তোমার অভিমান ভরা চোখ দেখি, আর বুকের গভীর থেকে নিঃশ্বাস ফেলে বলি-"তুমি কোথায়?"
তুমি কি জানো, আমি আজও তোমাকে খুঁজে ফিরি? ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে কখনও মনে হয়, তুমি হঠাৎ চলে আসবে। হয়তো হাসিমুখে বলবে, "আমি আছি, আমি ফিরে এসেছি।" কিন্তু তারপর বাস্তবতা কষ্ট দিয়ে মনে করিয়ে দেয়-তুমি আর আমার জীবনে নেই।
আমাদের গল্পটা শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু তোমার অধ্যায়টা আজও আমার হৃদয়ের ভেতরে খোলা। সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে, কিন্তু তোমার প্রতি আমার ভালোবাসাটা একটুও বদলায়নি। হয়তো এটা আমার ভুল, হয়তো এটা আমার দোষ-তবুও সত্যিটা এটাই যে, আমি আজও
তোমাকে ভালোবাসি।
রাতে আকাশের তারা দেখি আর মনে হয়, তুমি হয়তো একই আকাশের নিচে কোথাও তাকিয়ে আছো। তখন মনে হয়, দূরে থেকেও আমরা কোনো এক অদৃশ্য সুতায় বাঁধা আছি।
প্রিয়তমা, আমি তোমাকে দোষ দেই না। তুমি সুখে থাকো-এটাই চাই। শুধু এটুকু জানিয়ে দিতে চাই, আমার হৃদয়ের গভীরে তোমার নাম চিরকাল অমলিন থাকবে। তুমি এখন অন্য কারও হাত ধরে হাঁটছো, কিন্তু আমি আজও তোমার স্মৃতির হাত ধরে বেঁচে আছি।
হয়তো এই ভালোবাসার কোনো পূর্ণতা নেই, কোনো শেষ নেই। তবুও আমি বিশ্বাস করি, একদিন আমরা অন্য কোনো দুনিয়ায়, অন্য কোনো আকাশের নিচে আবার দেখা করব। আর তখন আমি শুধু বলব-"আমি তোমাকে কতটা মিস করেছি।"
তুমি যদি একদিন এই চিঠির শব্দগুলো শুনতে পাও, বুঝে নিও-কেউ একজন আজও তোমাকে ভীষণ ভালোবাসে।
14/11/2025
জীবন সংক্ষিপ্ত এক ভ্রমণকাল... এখানে রাস্তা চেনা যায়, কিন্তু মানুষ না। কেউ পাশে হাঁটে একটু ভালোবাসা নিয়ে, আবার কেউ হাসি দিয়ে পিঠে ছুরি বসিয়ে চলে যায় নিরবে।
এই পথচলায় সবাই মুখে মিষ্টি কথা বলে, কিন্তু হৃদয়ে রাখে গোপন হিসাবের খাতা। কে কতটা কাজে লাগবে, কে কতটা দরকারি, সবকিছুই এখন মাপা হয় স্বার্থের দাঁড়িপাল্লায়।
ভেবেছিলাম, যত্ন দিলে যত্ন পাব, ভালোবাসা দিলে ভালোবাসাই ফিরবে। কিন্তু এখানে অনুভূতি নয়-মানুষ খোঁজে সুবিধা, খোঁজে নিজের আরাম।
জীবন বড় ছোট, অথচ শিক্ষা দেয় বিশাল। শেখায় - বিশ্বাসও একদিন বিশ্বাসঘাতক হয়ে যায়, হৃদয়ের রক্ত দিয়েও সম্পর্ক টেকে না, যদি সেখানে মায়া থাকে শুধু মুখোশে।
আজ তাই আর কাউকে সহজে আপন ভাবি না, হাসি মুখে থাকি, কিন্তু দূরত্ব রাখি নিঃশব্দে। কারণ এই পৃথিবীতে দিক হারালে পথ দেখায় সবাই, কিন্তু মন হারালে কেউ পাশে থাকে না...
13/11/2025
তরুণদের প্রতি আমার পরামর্শ
১. তোমার যৌন আকাঙ্ক্ষার উপর নিয়ন্ত্রণই তোমার সফলতা অথবা ব্যর্থতার কারণ হবে।
২. পর্ন এবং হস্তমৈথুন সাফল্যের সবচেয়ে বড় ঘাতক। এটি তোমার মস্তিষ্ককে স্তব্ধ করে এবং ধ্বংস করে।
৩. উটের মতো মদ্যপান এড়িয়ে চলুন, যেমন পানি পান করা। জ্ঞান হারানো এবং বোকার মতো আচরণ করা এর চেয়ে খারাপ আর কিছু নয়।
৪. তোমার মান উঁচু রাখো এবং কিছুতেই সন্তুষ্ট হও না কারণ এটি পাওয়া যায়।
৫. যদি তুমি তোমার চেয়ে বুদ্ধিমান কাউকে খুঁজে পাও, তাদের সাথে কাজ করো, প্রতিযোগিতা করো না।
৬. কেউ তোমার সমস্যা বাঁচাতে আসছে না। তোমার জীবনের ১০০% তোমার দায়িত্ব।
৭. তোমার এমন লোকদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া উচিত নয় যারা জীবনে তোমার পছন্দের জায়গায় নেই।
৮. অর্থ উপার্জনের নতুন উপায় খুঁজে বের করো। অর্থ উপার্জন করো এবং যারা তোমাকে উপহাস করে এবং উপহাস করে তাদের উপেক্ষা করো।
৯. তোমার ১০০টি স্ব-সহায়ক বইয়ের প্রয়োজন নেই, তোমার যা দরকার তা হল কর্ম এবং আত্ম-শৃঙ্খলা। শৃঙ্খলাবদ্ধ হও!
১০. মাদক এড়িয়ে চলুন। আগাছা এড়িয়ে চলুন।
১১. ইউটিউবে দক্ষতা অর্জন করুন, নেটফ্লিক্সে বাজে কন্টেন্ট খেয়ে সময় নষ্ট করবেন না।
১২. কেউ আপনার কথা ভাবে না। তাই লাজুক হওয়া বন্ধ করুন, বাইরে যান এবং আপনার সম্ভাবনা তৈরি করুন।
১৩. আরাম হল সবচেয়ে খারাপ আসক্তি এবং হতাশার সস্তা টিকিট।
১৪. আপনার পরিবারকে অগ্রাধিকার দিন। তাদের দুর্গন্ধযুক্ত হলেও, এমনকি তারা বোকা হলেও, তাদের রক্ষা করুন। তাদের নগ্নতা ঢেকে রাখুন।
১৫. নতুন সুযোগ খুঁজুন এবং আপনার সামনের লোকদের কাছ থেকে শিখুন।
১৬. কাউকে বিশ্বাস করবেন না। যতই প্রলুব্ধ হোক না কেন, একজনকেও নয়। নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন।
১৭. অলৌকিক ঘটনা ঘটানোর জন্য অপেক্ষা করবেন না। হ্যাঁ, আপনি সবসময় একা এটি করতে পারবেন না তবে মানুষের মতামত শুনবেন না।
১৮. কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় সংকল্প আপনাকে যেকোনো কিছু অর্জন করতে সাহায্য করতে পারে।
নিজেকে বিনীত করা আপনাকে কেবল উচ্চতর স্তরে নিয়ে যাবে।
১৯. নিজেকে আবিষ্কার করার জন্য অপেক্ষা করা বন্ধ করুন। পরিবর্তে নিজেকে তৈরি করুন।
২০. পৃথিবী আপনার জন্য ধীর হবে না।
২১. কেউ আপনার কাছে ঋণী নয়।
২২. জীবন একটা একক খেলোয়াড়ের খেলা। তুমি একা জন্মেছো। তুমি একাই মরবে। তোমার সমস্ত ব্যাখ্যা একাই। তুমি তিন প্রজন্ম ধরে চলে গেছো এবং কেউ পাত্তা দেয় না। তুমি আসার আগে কেউ পাত্তা দেয়নি। সবই একক খেলোয়াড়ের।
২৩. তোমার জীবনের পথ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে তুমি সর্বদা অভাবী, হতাশাগ্রস্ত এবং দুর্বল বোধ করো। এবং এর থেকে বেরিয়ে আসার একটাই উপায় আছে, যা হল বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া। তুমি ছাড়া আর কেউ নিজেকে এবং তোমার প্রিয়জনদের বাঁচাতে পারবে না।
২৪. সবার হৃদয় তোমার মতো নয়। সবাই তোমার সাথে তোমার মতো সৎ নয় যেমন তুমি তাদের সাথে। তুমি এমন লোকদের সাথে দেখা করবে যারা তাদের লাভের জন্য তোমাকে ব্যবহার করবে এবং তারপর তাদের জীবনের সেই অংশটি পার হয়ে গেলে এবং তারা পূর্ণ হয়ে গেলে তোমাকে ত্যাগ করবে। জেগে থাকো।
২৫. ২৫ বছর বয়সে, আপনার যথেষ্ট বুদ্ধিমান হওয়া উচিত:
→অন্যদের সাফল্য উদযাপন করুন
→ঈর্ষা এবং হিংসা এড়িয়ে চলুন
→খোলা মন রাখুন
→ধারণা এড়িয়ে চলুন
→উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করুন
→কৃতজ্ঞতা অনুশীলন করুন
→সৎভাবে কথা বলুন
→প্রতিদিন ব্যায়াম করুন
→গসিপ এড়িয়ে চলুন
→পরিষ্কার খাবার খান
→ক্ষমা করুন
→শুনুন
→শিখুন
→ভালোবাসা
ধন্যবাদ সবাইকে ❤️
16 বছর পর গল্পের শেষ পর্ব। গল্পের শহর 1.0
゚
09/11/2025
জন্মের আগেই পাপের বীজ বপন করেছিলাম, মায়ের পেটে লাথি মেরে-হয়তো তখনই বিধাতা লিখে দিয়েছিলেন, আমার জীবনের প্রতিটি অশ্রুবিন্দুর মানে।
জন্মের পর কেঁদেছিলাম প্রথম, ভাবিনি সেই কান্নাই হবে সারাজীবনের সুর। ভালো হতে চেয়েও, ভুলের শিকড়েই বেড়ে উঠেছি-যেন পাপই আমার দ্বিতীয় রক্তধারা।
এখন কেবল মনে হয়, আমার জন্মটা কি ক্ষমার নয়, প্রায়শ্চিত্তের জন্যই ছিল?
08/11/2025
আমি দরজায় পা রাখতেই স্ত্রী চিৎকার করে উঠলো,
— “কোথায় ছিলে আজ সারাদিন? অফিসেও খোঁজ নিয়েছি, ওরা বলেছে তুমি আজ যাওনি!”
আমি একটু ইতস্তত করে বললাম
— “মানে… আমি আসলে…”
স্ত্রী আমার কথা শেষ করতে না দিয়েই চিৎকার করে উঠল,
— “কথা ঘুরিও না! আমি সব বুঝি! আর এই ব্যাগটা? পুরোনো কাপড়ভর্তি ব্যাগ আবার কোথা থেকে আনলে?”
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে তারপর শান্ত কণ্ঠে বললাম
— “আমি গ্রামে গিয়েছিলাম… মা’কে আনতে।”
স্ত্রীর মুখের রঙ মুহূর্তেই পাল্টে গেল। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল আমার দিকে, তারপর বিস্ময় আর বিরক্তির মিশ্র সুরে বলল,
— “কি বললে? তোমার মা? তুমি ওনাকে এখানে নিয়ে এসেছ?”
তার চোখে তখন যেন আগুন জ্বলছে।
— “তোমার ভাইয়ের বাড়িতে তো ছিলেন, ওখানেই থাকতে পারতেন! এখানে আবার কেন? এই ছোট ফ্ল্যাটে, যেখানে জায়গা হয় না বাচ্চার পড়ার বই রাখার!”
আমি আস্তে বললাম
— “ওখানে রাখা আর সম্ভব নয়।”
আমার স্ত্রী রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলে উঠল,
— “এখানে কি স্বর্গরাজ্য নাকি? সাত হাজার টাকায় সংসার চালাই, বাচ্চার স্কুল, বাজার, বিল—সব কিছুর চাপ আমার উপর! এখন আবার এক জন বৃদ্ধা?”
স্ত্রীর কথার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের কোণে বসা সাদা শাড়ি পরা আমার বৃদ্ধা মা" কাঁপা হাতে মুখ ঢেকে কাঁদছিলেন।
তার চোখে জল, মুখে লজ্জা ও অসহায়তার ছাপ।
আমি নিচু গলায় বললাম
— “ওনাকে আমার ভাই আর ভাবি বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তাই নিজে গিয়ে এনেছি।”
স্ত্রী তখনও কিছুটা রাগে ফুঁসছে, কিন্তু হঠাৎই বৃদ্ধ মায়ের মুখটা দেখতে গিয়ে থমকে গেল।
চোখ বড় হয়ে গেল, ঠোঁট কেঁপে উঠল—
— “মা… তুমি?”
বৃদ্ধা মুখ তুলে তাকালেন। চোখে ক্লান্তি, মুখে বেদনা। ধীরে বললেন,
— “হ্যাঁ মা, তোর ভাই আর ভাইয়ের বৌ বলেছে আমি নাকি বোঝা হয়ে গেছি। কোথায় যাব বল?”
স্ত্রীর মুখে আর কথা নেই। হাত কাঁপছে, চোখে জল।
সে আমার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
— “তুমি আগে বললে না কেন? মা তো মা, তোমার হোক বা আমার—মা তো একজনই!”
ঘরের বাতাস যেন এক মুহূর্তে থেমে গেল।
বৃদ্ধা "মা" ধীরে ধীরে বললেন,
— “না মা, আমি থাকব না এখানে। আমাকে বৃদ্ধাশ্রমেই রেখে আসো।”
সবাই একসাথে চমকে উঠলাম, আমার স্ত্রী অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে বলল,
— “মা! তুমি এমন কথা বলছ কেন?”
বৃদ্ধা কেঁপে কেঁপে বললেন,
— “যে ঘরে এক মা ঠাঁই পায় না, সেখানে অন্য মা’য়েরও থাকা উচিত নয়।
আমি জানি, আমি যেমন একজন সন্তান জন্ম দিয়েছি, তেমনি একটা কন্যাও জন্ম দিয়েছি—যে এখন নিজের মায়ের জায়গা বোঝে না। তাই আমার থাকার জায়গা বৃদ্ধাশ্রমেই মানায়।”
তার কণ্ঠে ছিল না কোনো রাগ, শুধু গভীর শান্তি আর তীব্র বেদনা।
তিনি আরও বললেন,
— “কিন্তু একটাই কথা মনে রেখো মা, সময় বড় কঠিন বিচারক।
আজ যেভাবে আমি বোঝা হয়েছি, একদিন হয়তো তুমিও কারও চোখে বোঝা হয়ে যাবে। তখন বুঝবে, এক মায়ের হৃদয় কতটা বড় হতে হয় সন্তানকে ক্ষমা করতে।”
স্ত্রীর চোখ থেকে অঝোরে জল পড়তে লাগল।
সে মাটিতে বসে পড়ল, বৃদ্ধার পায়ের কাছে মাথা রাখল, কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— “মা, আমায় ক্ষমা করো। আমি বুঝতে পারিনি—একটা মা শুধু সন্তান জন্ম দেয় না, সে ঘরটাকেও বাঁচিয়ে রাখে।”
বৃদ্ধা তার মাথায় হাত রাখলেন, কাঁপা গলায় বললেন,
— “ক্ষমা করার কিছু নেই মা। সময়ই সব শেখায়।
মা তো শেষ পর্যন্ত মাই থাকে—তোর সুখই চাই।”
ঘরে তখন শুধু কান্নার শব্দ।
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে টুপটাপ, যেন আকাশও কাঁদছে এক ভুলে যাওয়া মায়ের জন্য।
আসলে
যে ঘরে মা’য়ের জন্য জায়গা হয় না, সেই ঘর কখনো শান্তি পায় না।
মা শুধু মানুষ নন—তিনি আশীর্বাদ, তিনি ঘরের প্রাণ।
Click here to claim your Sponsored Listing.