Agro-ocean.com
05/19/2026
নস্টালজিয়া, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব: প্রবাসে বাংলাদেশি স্বপ্নের নতুন অধ্যায়
https://media.asiannewsandviews.com/index.php/bn/
https://media.asiannewsandviews.com/index.php/bn/bn-footer-news/bn-footer-news-column-2/bn-footer-editorial/354-2026-05-18-21-07-17
https://media.asiannewsandviews.com/index.php/en/en-footer-news/en-footer-news-column-2/en-footer-editorial
05/13/2026
সীমান্তের কাঁটাতার, রাষ্ট্রের দেয়াল ও মানুষের মনস্তত্ত্ব:
বিভাজনের রাজনীতি ও মানবিক সম্পর্কের দার্শনিক পাঠ
দেলোয়ার জাহিদ
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী–এর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারকে পরাজিত করার পর নতুন সরকার দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলকাতা হাইকোর্ট সীমান্তবর্তী নয়টি জেলায় বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না, সরকারও ভয় পায় না।” এই বক্তব্য মূলত একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা—বাংলাদেশ সীমান্ত রাজনীতিকে ভয় বা চাপের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং সার্বভৌম মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে দেখতে চায়। একই সঙ্গে এ প্রতিক্রিয়ায় একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক ইঙ্গিতও রয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও দুই দেশের মানুষের ঐতিহাসিক, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা যায় না। ফলে এই বক্তব্য কেবল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা, আঞ্চলিক কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং সীমান্ত রাজনীতির প্রতি একটি প্রতীকী অবস্থান হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বলে, সীমান্ত রাষ্ট্রের অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু মানবতাবাদী দর্শন মনে করিয়ে দেয়—মানুষ রাষ্ট্রের আগে এসেছে; তার ভাষা, সংস্কৃতি, স্মৃতি ও সম্পর্ক কোনও কাঁটাতারের যুক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়। একটি সীমান্ত যখন গ্রামকে গ্রাম থেকে, পরিবারকে পরিবার থেকে, কিংবা ইতিহাসকে ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করে, তখন সেখানে কেবল ভূখণ্ড ভাগ হয় না; ভাগ হয়ে যায় মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও পারস্পরিক আস্থা। কাঁটাতারের দু’পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ একই ভাষায় কথা বললেও রাষ্ট্রীয় রাজনীতির কারণে তারা ধীরে ধীরে “অপর” হয়ে ওঠে। এই “অপরীকরণ” (Othering) আধুনিক রাষ্ট্রনীতির অন্যতম গভীর মনস্তাত্ত্বিক সংকট।
বিশ্বের বহু সীমান্ত—Berlin Wall থেকে দক্ষিণ এশিয়ার বিভক্ত ভূখণ্ড—প্রমাণ করেছে, দেয়াল মানুষের চলাচল থামাতে পারে, কিন্তু মানুষের আকাঙ্ক্ষা, স্মৃতি ও সম্পর্ককে সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে পারে না। বরং প্রতিটি কাঁটাতার মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, রাজনৈতিক বিভাজন যতই কঠোর হোক, মানবিক সংযোগ তার চেয়েও গভীর।
কাঁটাতারের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো—এটি স্মৃতিকে দ্বিখণ্ডিত করে। একই নদী, একই লোকসংস্কৃতি, একই পারিবারিক ইতিহাস দুই রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে গেলে মানুষের পরিচয়ও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে জন্ম নেয় এক অন্তর্গত শূন্যতা। রাষ্ট্র হয়তো মানচিত্রে বিজয়ী হয়, কিন্তু মানুষ তার ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা হারায়। এই ক্ষরণ দৃশ্যমান নয়, কিন্তু তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের মনোজগতে বয়ে চলে।
বিভাজনের রাজনীতি সবসময় দেয়ালকে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে। অথচ বাস্তবে দেয়াল যত উঁচু হয়, মানুষের মধ্যে অবিশ্বাসও তত গভীর হয়। দেয়াল রাষ্ট্রকে সাময়িক রাজনৈতিক সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা মানবিক সম্পর্কের ভিত্তিকে দুর্বল করে। কারণ দেয়াল মানুষের মধ্যে সংলাপ নয়, দূরত্ব তৈরি করে; সহাবস্থান নয়, বিচ্ছিন্নতাকে স্থায়ী করে। মানুষের সম্পর্ক ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, আত্মীয়তা ও পারস্পরিক নির্ভরতার ওপর গড়ে ওঠে। যখন একটি দেয়াল সেই স্বাভাবিক যোগাযোগকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে ভীতি, অবিশ্বাস ও মানসিক দূরত্ব জন্ম নেয়। অর্থাৎ দেয়াল কেবল ভূখণ্ড আলাদা করে না; এটি মানুষের আবেগ ও চেতনাকেও বিভক্ত করে।
“দেয়াল মানুষের মধ্যে সংলাপ নয়, দূরত্ব তৈরি করে”—এই বক্তব্যে সংলাপকে সভ্যতার মৌলিক মানবিক উপাদান হিসেবে দেখা হয়েছে। সংলাপ মানে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহমর্মিতা ও সহাবস্থানের সম্ভাবনা। দেয়াল সেই সম্ভাবনাকে সংকুচিত করে মানুষকে “অপর” হিসেবে দেখতে শেখায়। ফলে প্রতিবেশী মানুষ আর প্রতিবেশী থাকে না; তারা “অন্য রাষ্ট্রের মানুষ” বা “সম্ভাব্য হুমকি” হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করে। এই মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনই বিভাজনের রাজনীতিকে দীর্ঘস্থায়ী করে।
দার্শনিকভাবে সীমান্তের কাঁটাতার এক ধরনের অস্তিত্ববাদী সংকটও তৈরি করে। মানুষ তখন প্রশ্ন করে—আমার পরিচয় কি কেবল একটি পাসপোর্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ? আমার ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানবিক সম্পর্ক কি রাষ্ট্রীয় নীতির চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর রাষ্ট্র অনেক সময় দিতে পারে না; কারণ রাষ্ট্রের যুক্তি ক্ষমতার, কিন্তু মানুষের যুক্তি স্মৃতি ও মানবিকতার। মিশেল ফুকো–এর “নজরদারি রাষ্ট্র” ধারণার আলোকে সীমান্ত যেন ক্ষমতার এক জীবন্ত প্রতিফলন। সীমান্তের দেয়াল কেবল মানুষকে থামায় না; এটি মানুষের মনে ভয়, সন্দেহ ও অনিশ্চয়তার সংস্কৃতি তৈরি করে। সীমান্তবাসী মানুষ প্রতিনিয়ত অনুভব করে যে তারা রাষ্ট্রের পূর্ণ নাগরিক নয়, বরং একটি “ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল”-এর অধিবাসী। ফলে সীমান্ত এক সময় ভৌগোলিক রেখা থেকে মানসিক কারাগারে রূপ নেয়।
অতএব, দেয়াল বা কাঁটাতারের বেড়া কেবল নিরাপত্তা অবকাঠামো নয়; এগুলো বিভাজনের রাজনীতি, মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব এবং মানবিক ক্ষরণের প্রতীক। রাষ্ট্র নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভাষায় দেয়াল নির্মাণ করে, কিন্তু মানবিকতা মানুষের মধ্যে সংযোগ, স্মৃতি ও সহমর্মিতার পক্ষে দাঁড়ায়। দেয়াল হয়তো সীমান্ত রক্ষা করতে পারে, কিন্তু তা মানুষের হৃদয়ের মধ্যে অদৃশ্য বিভাজনও তৈরি করে—যার ক্ষতি অনেক বেশি গভীর, দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রজন্মান্তরে বহমান.
Source:https://media.doinikekattorerchetona.com/bn/
ট্যাগসমূহ
#সীমান্ত_রাজনীতি
#কাঁটাতারের_বেড়া
#দেলোয়ার_জাহিদ
#বাংলাদেশ_ভারত_সীমান্ত
#মানবিক_সম্পর্ক
#রাষ্ট্রবিজ্ঞান
#দর্শন
#মনস্তত্ত্ব
#অপরীকরণ
#শুভেন্দু_অধিকারী
#পশ্চিমবঙ্গ
#বাংলাদেশ
#কূটনীতি
#মানবতা
#সীমান্তবাসী
#ফুকো
#ভাষা_ও_সংস্কৃতি
#বিভাজনের_রাজনীতি
#স্মৃতি_ও_পরিচয়
#দক্ষিণএশিয়া
12/16/2025
https://lnkd.in/e8kFwGw2
Shaheed Intellectuals Day and 55th Victory Day Observed in Alberta, Canada
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Red Deer, AB
T4P2Z6