As-Suffah
আস-সুফ্ফাহ্ গ্রুপ ! একটি অরাজনৈতিক বহুমুখি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান।
ইসলামিক ডিজিটাল সেবা সমূহ একি প্লাটফর্ম থেকে সকলের দ্বারপ্রান্তে পৌছে লক্ষেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেস্টা।
আপনাদের প্রয়োজনে আমাদের যত আয়োজন!
আস-সুফ্ফাহ্ ইন্সটিটিউট
আস-সুফ্ফাহ্ ডিজাইন
আস-সুফ্ফাহ্ স্টোর
আস-সুফ্ফাহ্ ইন্সটিটিউট, হচ্ছে ! আগ্রহী দ্বীনি ভাই ও বোনদের জন্য পবিত্র কোরআন ও জরুরী মাসাইল শিক্ষার একটি আদর্শ প্লাটফর্ম।
আরো
*যাকাত আদায় করার গুরুত্ব, ফাযায়েল ও মাসায়েল:*
----------------- *[পর্ব :-০২]* ----------------
*📚যাদের উপর যাকাত ফরয হয়:*
*১)* আগেই বলা হয়েছে যে, যাকাত ইসলামের একটি অপরিহার্য ইবাদত। এজন্য শুধু মুসলিমগণই যাকাত আদায়ের জন্য সম্বোধিত হন। সুস্থমস্তিষ্ক, আযাদ, বালেগ মুসলমান নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে যাকাত আদায় করা তার ওপর ফরয হয়ে যায়। *[আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯ বাদায়েউস সানায়ে ২/৭৯,৮২]*
কাফির যেহেতু ইবাদতের যোগ্যতা রাখে না তাই তাদের ওপর যাকাত আসে না।এছাড়া অসুস্থমস্তিষ্ক মুসলিমের ওপর এবং নাবালেগ শিশু-কিশোরের ওপরও যাকাত ফরয নয়। *[মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৬১-৪৬২; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৯ রদ্দুল মুহতার ২/২৫৮]*
*📚যেসব জিনিসের উপর যাকাত ফরয হয়:⬇⬇*
*২)* সব ধরনের সম্পদ ও সামগ্রীর ওপর যাকাত ফরয হয় না। শুধু সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, পালিত পশু (নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী) এবং ব্যবসার পণ্যে যাকাত ফরয হয়।
*৩)* সোনা-রুপার অলংকার সর্বদা বা কালেভদ্রে ব্যবহৃত হোক কিংবা একেবারেই ব্যবহার না করা হোক সর্বাবস্থাতেই তার যাকাত দিতে হবে। *[সুনানে আবু দাউদ ১/২৫৫; সুনানে নাসায়ী হাদীস ২২৫৮; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৫৪-৭০৬১,৭০৬৩-৭০৬৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ৯৯৭৪;৬/৪৬৯-৪৭১]*
*৪)* অলংকার ছাড়া সোনা-রুপার অন্যান্য সামগ্রীর ওপরও যাকাত ফরয হয়। *[মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭০৬১; ৭০৬৬; ৭১০২]*
*৫)* জামা-কাপড় কিংবা অন্য কোনো সামগ্রীতে সোনা-রুপার কারুকাজ করা থাকলে তা-ও যাকাতের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যে পরিমাণ সোনা-রুপা কারুকাজে লেগেছে অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে তারও যাকাত দিতে হবে। *[মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১০৬৪৮,১০৬৪৯,১০৬৫১]*
সোনা-রুপা ছাড়া অন্য কোনো ধাতুর অলংকার ইত্যাদির উপর যাকাত ফরয নয়। তদ্রূপ হিরা, মণি-মুক্তা ইত্যাদি মূল্যবান পাথর ব্যবসাপণ্য না হলে সেগুলোতেও যাকাত ফরয নয়। *[কিতাবুল আছার মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৬১-৭০৬৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৪৭-৪৪৮]*
*৬)* মৌলিক প্রয়োজন থেকে উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর স্থায়ী হলে বছর শেষে তার যাকাত আদায় করা ফরয হয়। *[মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৯১,৭০৯২]*
তদ্রূপ ব্যাংক ব্যালেন্স, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড, সার্টিফিকেট ইত্যাদিও নগদ টাকা-পয়সার মতোই। এসবের ওপরও যাকাত ফরয হয়।
*৭)* টাকা-পয়সা ব্যবসায় না খাটিয়ে এমনি রেখে দিলেও তাতে যাকাত ফরয হয়। *[আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৭; রদ্দুল মুহতার ২/২৬২,৩০০]*
*৮)* হজ্বের উদ্দেশ্যে কিংবা ঘর-বাড়ি নির্মাণ, ছেলে-মেয়ের বিয়ে-শাদি ইত্যাদি প্রয়োজনের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করা হচ্ছে তা-ও এর ব্যতিক্রম নয়। সঞ্চিত অর্থ পৃথকভাবে কিংবা অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে যুক্ত হয়ে নিসাব পরিমাণ হলে এবং নিসাবের ওপর এক বছর অতিবাহিত হলে যাকাত ফরয হবে। বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তা যদি খরচ হয়ে যায় তাহলে যাকাত ফরয হবে না। *[মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৩২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩২৫]*
*৯)* দোকান-পাটে যা কিছু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা থাকে তা বাণিজ্য-দ্রব্য। এর মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত আদায় করা ফরয। *[সুনানে আবু দাউদ ১/২১৮; সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪/১৫৭; মুয়াত্তা ইমাম মালেক পৃ ১০৮; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩,৭১০৪; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১০৫৫৭, ১০৫৬০, ১০৫৬৩]*
*১০)* ব্যবসার নিয়তে কোনো কিছু ক্রয় করলে তা স্থাবর সম্পত্তি হোক যেমন জমি-জমা, ফ্ল্যাট কিংবা অস্থাবর যেমন মুদী সামগ্রী, কাপড়-চোপড়, অলংকার, নির্মাণ সামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, হার্ডওয়ার সামগ্রী, বইপুস্তক ইত্যাদি, তা বাণিজ্য-দ্রব্য বলে গণ্য হবে এবং মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দেওয়া ফরয হবে। *[মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩,৭১০৪]*
*📚নিসাবের বিবরণ:⬇⬇*
*১১)* স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব হল বিশ মিসকাল। *[সুনানে আবু দাউদ ১/২২১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৭৭, ৭০৮২]* আধুনিক হিসাবে সাড়ে সাত ভরি।
*১২)* রুপার ক্ষেত্রে নিসাব হল দু’শ দিরহাম। *[সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪৪৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৭৯]* আধুনিক হিসাবে সাড়ে বায়ান্ন তোলা। এ পরিমাণ সোনা-রুপা থাকলে যাকাত দিতে হবে।
*যাকাত আদয় করার গুরুত্ব, ফাযায়েল ও মাসায়েল:*
----------------- *[পার্ব :-০১]* ----------------
যাকাত ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রোকন। ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হল সালাত ও যাকাত। কুরআন মজীদে বহু স্থানে সালাত-যাকাতের আদেশ করা হয়েছে এবং আল্লাহর অনুগত বান্দাদের জন্য অশেষ ছওয়াব, রহমত ও মাগফিরাতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধিরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
*وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ ؕ وَ مَا تُقَدِّمُوْا لِاَنْفُسِكُمْ مِّنْ خَیْرٍ تَجِدُوْهُ عِنْدَ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعْمَلُوْنَ بَصِیْرٌ۱۱۰*
*অর্থ:-* ‘তোমরা সালাত আদায় কর এবং যাকাত প্রদান কর। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখছেন। *[সূরা বাকারা : ১১০]*
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
*وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ۵۶*
*অর্থ:-* ‘তোমরা সালাত আদায় কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার।’ *[সূরা নূর : ৫৬]*
সূরা নিসার ১৬২ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জন্য ‘আজরুন আযীম’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে-
*وَ الْمُقِیْمِیْنَ الصَّلٰوةَ وَ الْمُؤْتُوْنَ الزَّكٰوةَ وَ الْمُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ ؕ اُولٰٓىِٕكَ سَنُؤْتِیْهِمْ اَجْرًا عَظِیْمًا۠۱۶۲*
*অর্থ:-* ‘এবং যারা সালাত আদায় করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে আমি তাদেরকে মহাপুরস্কার দিব।’
অন্য আয়াতে যাকাতের গুরুত্বপূর্ণ সুফল বর্ণনা করে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন-
*خُذْ مِنْ اَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَ تُزَكِّیْهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَیْهِمْ ؕ اِنَّ صَلٰوتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ ؕ وَ اللّٰهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ۱۰۳*
*অর্থ:-* ‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার দ্বারা আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন এবং আপনি তাদের জন্য দুআ করবেন। আপনার দুআ তো তাদের জন্য চিত্ত স্বস্তিকর। আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ *[সূরা তাওবা : ১০৩]*
এছাড়া কুরআন মজীদের বিভিন্ন আয়াত থেকে পরিষ্কার জানা যায় যে, সালাত ও যাকাতের পাবন্দী ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের প্রশ্নই অবান্তর। কুরআন মজীদের বিভিন্ন আয়াতে, যেখানে খাঁটি মু’মিনের গুণ ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখিত হয়েছে সেখানে সালাত-যাকাতের কথা এসেছে অপরিহার্যভাবে।
কুরআনের দৃষ্টিতে প্রকৃত পুণ্যশীলদের পরিচয় যেখানে দেওয়া হয়েছে সেখানে সালাত-যাকাতের উল্লেখ এসেছে। *[সূরা বাকারা ১৭৭]*
মুমিনের বন্ধু কারা-এই প্রশ্নের উত্তরেও সালাত-যাকাতের প্রসঙ্গ শামিল রয়েছে। *[সূরা মায়েদা : ৫৫]*
‘সৎকর্মপরায়ণদের বৈশিষ্ট্য ও কর্মের তালিকায় সালাত-যাকাতের প্রসঙ্গ অনিবার্য। *[সূরা লুকমান : ৪]*
মসজিদ আবাদকারীদের পরিচয় জানতে চাইলেও সালাত-যাকাত তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। *[সূরা তাওবা : ১৮]*
কুরআন মজীদ কাদের জন্য হেদায়েত ও শুভসংবাদ দাতা-এর উত্তর পেতে চাইলেও সালাত-যাকাত অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। *[সূরা নামল : ৩]*
ভূপৃষ্ঠে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব লাভের পরও মুমিনদের অবস্থা কী তা জানতে চাইলে সালাত-যাকাতই অগ্রগণ্য। *[সূরা হজ্জ্ব : ৪১]*
বিধর্মী কখন মুসলিম ভ্রাতৃত্বে শামিল হয়- এ প্রশ্নের উত্তরে তাওবার সঙ্গে সালাত-যাকাতও উল্লেখিত। *[সূরা তাওবা : ১১]*
দ্বীনের মৌলিক পরিচয় পেতে চাইলে সালাত-যাকাত ছাড়া পরিচয় দান অসম্ভব। *[সূরা বাইয়েনা : ৫]*
*মোটকথা:-* এত অধিক গুরুত্বের সঙ্গে সালাত-যাকাত প্রসঙ্গে কুরআন মজীদে এসেছে যে, এটা ছাড়া দ্বীন ও ঈমানের অস্তিত্বই কল্পনা করা যায় না। মুমিনের অন্তরের ঈমান সালাত-যাকাতের বিশ্বাসের ওপর এবং তার কর্মের ঈমান সালাত-যাকাতের কর্মগত বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী রাহ.-এর ভাষায়-
*والزكاة أمر مقطوع به في الشرع يستغني عن تكلف الاحتجاج له، وإنما وقع الاختلاف في بعض فروعه، وأما أصل فرضية الزكاة فمن جحدها كفر.*
*অর্থ:-* ‘যাকাত শরীয়তের এমন এক অকাট্য বিধান, যে সম্পর্কে দলীল-প্রমাণের আলোচনা নিষ্প্রয়োজন। যাকাত সংক্রান্ত কিছু কিছু মাসআলায় ইমামদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকলেও মূল বিষয়ে অর্থাৎ যাকাত ফরয হওয়া সম্পর্কে কোনো মতভেদ নেই। যাকাতের ফরযিয়তকে যে অস্বীকার করে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়।’ *[ফাতহুল বারী ৩/৩০৯]*
উপরের আলোচনা থেকে যাকাতের গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা এবং এর সুফল ও উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেল। এখান থেকে এ বিষয়টাও অনুমান করা যায় যে, ফরয হওয়া সত্ত্বেও যারা যাকাত আদায় করে না তারা কত বড় ক্ষতিগ্রস্ত-তার শিকার! যাকাতের সকল সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণে তাদেরকে যে মর্মন্তুদ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে তা-ও কুরআন মজীদে বলে দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-
*وَ لَا یَحْسَبَنَّ الَّذِیْنَ یَبْخَلُوْنَ بِمَاۤ اٰتٰىهُمُ اللّٰهُ مِنْ فَضْلِهٖ هُوَ خَیْرًا لَّهُمْ ؕ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ ؕ سَیُطَوَّقُوْنَ مَا بَخِلُوْا بِهٖ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ ؕ وَ لِلّٰهِ مِیْرَ اثُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِیْرٌ۠۱۸۰*
*অর্থ:-* আর আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে যা তোমাদেরকে দিয়েছেন তাতে যারা কৃপণতা করে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, এটা তাদের জন্য মঙ্গল। না, এটা তাদের জন্য অমঙ্গল। যে সম্পদে তারা কৃপণতা করেছে কিয়ামতের দিন তা-ই তাদের গলায় বেড়ি হবে। আসমান ও যমীনের স্বত্ত্বাধিকার একমাত্র আল্লাহরই। তোমরা যা কর আল্লাহ তা বিশেষভাবে অবগত। *[সূরা আলইমরান : ১৮০]*
হাদীস শরীফে এসেছে- ‘যাকে আল্লাহ্ তা'আ সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু সে তাঁর যাকাত দেয়নি কিয়ামতের দিন তা বিষধর স্বর্পরূপে উপস্থিত হবে এবং তা তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে। সাপটি তার উভয় অধরপ্রান্তে দংশন করবে এবং বলবে, আমিই তোমার ঐ ধন, আমিই তোমরা পুঞ্জিভূত সম্পদ।’ *[সহীহ বুখারী]*
সে কখনই চিন্তিতও হয় না ব্যথিতও হয় না, যে দৃড়তার সাথে সত্য বলে তার উপর অটল থাকে।
আর জবান পিছলে যাওয়া মুমিনের জন্য অনেক বড় এক মহামারী।
মৃত ব্যক্তির নামে খানার আয়োজন করার হুকুম কি?
কেউ মারা গেলে মৃতের বাড়িতে প্রথা পালন করে তিনদিনের দিন বা সাতদিনের দিন অথবা চল্লিশ দিনের দিন দাওয়াতের আয়োজন করা--যাকে যথাক্রমে তিনদিনা, সাতদিনা ও চল্লিশা বলে, শরীয়তের দৃষ্টিতে এ প্রথা পালন করা নাজায়েজ ও বিদ‘আত। এসব পালন করার কোন অবকাশ নেই। এ কাজে মহানবী (সাঃ) এবং তা পরে তাঁর সাহাবাগণ, তাবেঈনগণও করেননি।
আর আল্লাহ্র রাসুল (সঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের এ দ্বীন বিষয়ে অভিনব কিছু রচনা করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয় তা প্রত্যাখ্যাত।” -[ বুখারী ২৬৯৭, মুসলিম ১৭১৮ নং]
মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি এমন কোন কর্ম করে, যাতে আমাদের কোন নির্দেশ নেই তা প্রত্যাখ্যাত।” -[ মুসলিম ১৭১৮ নং]
সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর যুগে একে নিষিদ্ধ ও মন্দ কাজ গণ্য করা হত। এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে;
হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, “আমরা মৃতের দাফন কার্য শেষ হওয়ার পর তার বাড়িতে একত্রিত হওয়া এবং (দাফনে শরীক লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য) খাবারের আয়োজন করাকে নিয়াহা (নিষিদ্ধ পন্থায় শোক পালন)-এর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতাম।”
[মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৬৯০৫]
বস্তুত দাওয়াতের আয়োজন তো করা হয় কোনো আনন্দ-উৎসবের সময়; কোনো বেদনা বা শোকের মুহূর্তে নয়। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত হল, মৃতের পরিবার-পরিজনদের জন্য প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা, যেন তাদেরকে মৃতের জন্য ব্যস্ততা ও শোকাহত থাকার কারণে অনাহারে থাকতে না হয়। অথচ উল্লিখিত কাজটি এর সম্পূর্ণ উল্টো ও বিপরীত। তাই এর থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া একটি কথা প্রচলিত আছে, যা হাদিস হিসেবে বলে ভুল করে থাকেন।
এটা আসলে হাদীস নয় : طعام الميت يميت القلوب
অর্থাৎ "মৃতদেরকে কেন্দ্র করে যে খানা খাওয়ানো হয় তা অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেয়।"
এটা একটা উক্তি,
যার অর্থ হচ্ছে, মৃতদের ঈসালে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে খতমে কুরআন বা খতমে তাহলীল করা হয় এবং উপস্থিত লোকদের জন্য খাবার-দাবারের আয়োজন করা হয় যেহেতু ঈসালে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে কোনো আমল করে তার বিনিময়ে খানা খাওয়া বা খাওয়ানো জায়েয নয় এজন্য এই খাবারের দিকে আগ্রহ লোভ-লালসার পরিচায়ক, যা অন্তরকে প্রাণহীন করে দিতে পারে। একই কথা কারো মৃত্যুর সময় জিয়াফতের খাবার প্রসঙ্গেও। জিয়াফত আনন্দের সময় করা হয়ে থাকে, দুঃখ-মুসীবতের সময় নয়। এই সময় জিয়াফতের কোনো বৈধতা শরীয়তে নেই। এজন্য এ ধরনের খানা নূরহীন ও বরকতহীন হয়ে থাকে। বলাবাহুল্য, এ ধরনের খাবার অন্তরকে ক্লেদাক্ত করা খুবই স্বাভাবিক। এজন্য বুযুর্গরা বলেছেন, "মৃতের খাবার অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেয়।"
এটা বুযুর্গদের উক্তি, হাদীস নয়। কেউ কেউ একে হাদীস মনে করে থাকেন। তাদের ধারণা ঠিক নয়। [ফাতাওয়া আযীযিয়্যাহ, শাহ আবদুল আযীয দেহলভী পৃ. ২০২]
উল্লেখ্য, গরীব-মিসকীনকে আহার করানো অনেক বড় ছওয়াবের কাজ এবং তা ঈসালে ছওয়াবের উদ্দেশ্যেও হতে পারে। আর যদি মৃত ব্যক্তির জন্য ছাওয়াব রেসানী হিসেবে খাওয়ানো হয়, তাহলে তিনদিন বা সাতদিন কিংবা চল্লিশ দিনের নিয়ম করা যাবে না, অর্থাৎ প্রচলিত তারিখগুলো (তৃতীয়, দশম, চল্লিশতম দিনে, শবে বরাত ইত্যাদিতে) ব্যতীত হতে হবে। বরং ঈসালে ছাওয়াবের জন্য সেভাবে প্রথাগত নির্দিষ্ট দিনের নিয়ম পালন না করে যে কোন দিন তা করা যায়। আর যেহেতু তখন তা মৃত ব্যক্তির রুহে ছাওয়াবের পৌঁছানোর জন্য সদকার হুকুমে হবে, তবে শর্ত এই যে, হালাল পয়সায় হতে হবে, নিজের সম্পদ দ্বারা হতে হবে, অবন্টিত মীরাছের সম্পদ থেকে হলে হবে না।
এতব্যতীত মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদ যাতে কোন নাবালগ শরীক আছে বা ওয়ারিসদের সবার অনুমতি নেয়া হয়নি সেখান থেকে খরচ করা যাবে না। বরং তার আত্মীয়গণ নিজেদের অর্থ-সম্পদ দ্বারা তার জন্য গরীব-মিসকীনদের খাওয়ানো বা দান করার মাধ্যম ঈসালে ছাওয়াব করা যাবে ।
সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় এই যে, কাউকে খানা খাওয়ালে ওই সময় খতম পড়াবে না, আর যদি খতম পড়ানো হয় তাহলে খানা খাওয়াবে না এবং কোনো হাদিয়াও দিবে না। এরপর অন্যের মাধ্যমেই ঈসালে ছওয়াব করাতে হবে।
এরই বা কী অপরিহার্যতা? প্রত্যেকে নিজেই ঈসালে ছওয়াব করতে পারে। কিছু দান-সদকা করা হল, নফল নামায পড়া হল, সূরা ইখলাস তিনবার পড়া হল, আল্লাহর দরবারে তাদের ক্ষমার জন্য দুআ করা হল- এই সবগুলোই ঈসালে ছওয়াব হিসেবে গণ্য হতে পারে।
#তথ্যসূত্র ;
১. সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৬১২;
২. ফাতহুল কাদীর, ২য় খণ্ড, ১০২ পৃষ্ঠা;
৩. রদ্দুল মুহতার, ২য় খণ্ড, ২৪০ পৃষ্ঠা/ ইলাউস সুনান, ৮ম খণ্ড, ৩২৯ পৃষ্ঠা
সবাইকে আরবী নববর্ষের শুভেচ্ছা ( ১৪৪১ হিজরি)
আরবি মাস গণনা করা ফরজ
إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَات وَالأَرْضَ
নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গননায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে।
সূরা তাওবাঃ ৩৬ (প্রথমাংশ)
১. মুহাররম (ﻣﺤﺮﻡ)
২. সফর(ﺻﻔﺮ)
৩. রবিউল আউয়াল(ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻷﻭﻝ)
৪. রবিউস সানি(ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ)
৫. জমাদিউল আউয়াল(ﺟﻤﺎﺩﻱ ﺍﻷﻭﻝ)
৬. জমাদিউস সানি(ﺟﻤﺎﺩﻱ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ)
৭. রজব(ﺭﺟﺐ)
৮. শা'বান(ﺷﻌﺒﺎﻥ)
৯. রমজান(رﻣﻀﺎﻥ)
১০. শাওয়াল (ﺷﻮﺍﻝ)
১১. জ্বিলকদ ( ﺫﻭ ﺍﻟﻘﻌﺪﺓ)
১২. জ্বিলহজ ( ﺫﻭ ﺍﻟﺤﺠﺔ)
হিজরি ১২ মাসের নামকরণ করার কারণ
আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর কোন কিছু অযথা সৃষ্টি করেন নি। বরং প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে রহস্য বিদ্যমান। এসব রহস্যের অনেক কিছুই মানুষ জানে।
এছাড়া মানুষও কোন কিছু অনর্থক করে না। প্রতিটি কাজের পেছনে থাকে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য।
সংক্ষিপ্ত ইতিহাস : হিজরি সন মুসলিম উম্মাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ গণনার সাল। মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় থেকে এ হিজরি সাল গণনার শুরু হয়।
হজরত ওমর (রা.) আনুষ্ঠানিকভাবে হিজরি সনের প্রবর্তন করেন। বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক আলবিরুনি কর্তৃক বিধৃত একটি বিবরণী থেকে জানা যায়, আবু মুসা আল আশাআরি (রা.) হজরত ওমর (রা.)-এর কাছে লিখিত এক পত্রে অভিযোগ করেন, আপনি আমাদের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছেন; কিন্তু সেগুলোতে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে হজরত ওমর (রা.) একটি সুনির্দিষ্ট সন তৈরিতে সচেষ্ট হন।
আল্লামা শিবলি (রহ.) উল্লেখ করেন, হজরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলেই ১৬ হিজরি সনে খলিফা ওমরের কাছে একটি দাপ্তরিক পত্রের খসড়া পেশ করা হয়। তাতে শাবান মাসের উল্লেখ ছিল। এটি কোনো সনের ইঙ্গিত বহন করছিল না। তীক্ষ্ন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হজরত ওমর ফারুক (রা.) জিজ্ঞেস করেন, পরবর্তী কোনো সময়ে তা কিভাবে বোঝা যাবে, সেটি কোন সনে তাঁর সামনে পেশ করা হয়েছিল? কোনো সদুত্তর না পেয়ে খলিফা হজরত ওমর (রা.) সাহাবায়ে কেরাম ও অন্য শীর্ষ পর্যায়ের জ্ঞানী-গুণী মুসলমানদের নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেন। আলোচনাকালে অধিকাংশ ব্যক্তিই অভিমত প্রকাশ করেন, সন গণনার ক্ষেত্রে পারসিকদের পদ্ধতি গ্রহণ করাই শ্রেয়।
খোজিস্থানের বাদশাহ হরমুজান (যিনি তখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মদিনায় বসবাস করছিলেন) প্রস্তাব রাখেন যে তাঁর দেশে প্রচলিত 'মাহরুজ' প্রথাই সন গণনার ক্ষেত্রে অনুসরণ করা উচিত।
কারণ, মাহরুজ পদ্ধতিতে তারিখ ও মাস সুষ্ঠুভাবে প্রতিফলিত হয়ে থাকে। কেউ কেউ মত প্রকাশ করেন, মহানবী (সা.)-এর ঐতিহাসিক হিজরতের দিন থেকে ইসলামী সন গণনার শুভ সূচনা করাই শ্রেয়। কারণ ঐতিহাসিক তাৎপর্যমণ্ডিত এই মহান দিবসেই ইসলামের ইতিহাসে এক নব দিগন্ত উন্মোচিত হয়। মহান রাব্বুল আলামিনের নির্দেশে সম্পাদিত অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত হিজরতকে ইসলামী বর্ষপঞ্জির জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী বিবেচনা করে হজরত আলী (রা.)-এর প্রস্তাবই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে খলিফা হজরত ওমর ফারুক (রা.) হিজরতের বছর থেকেই ইসলামী দিনপঞ্জি গণনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় হিজরতের ১৬ বছর পর ১০ জুমাদাল উলা ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে। আলোচনা সভায় সে সময় আরবে অনুসৃত প্রথানুযায়ী পবিত্র মহররম মাস থেকে ইসলামী বর্ষ শুরু (হিজরি সনের শুরু) করার ও জিলহজ মাসকে সর্বশেষ মাস হিসেবে চিহ্নিত করার পরামর্শ দান করেন হজরত ওসমান গনি (রা.)।
১২ মাসের নামকরণের কারণ
১. মুহাররম
মুহাররম কে মুহাররমুল হারাম বলা হয়। এই নাম রাখা হয়েছিল জাহেলিয়াতের যুগে। মূলত সেই সময় এই মাসে সকল প্রকার যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রক্তপাত করা হারাম তথা অবৈধ ছিল। আর এই কারণে একে মুহাররমুল হারাম রাখা হয়।
২. সফর
সফর আরবি দ্বিতীয় মাস। ‘সিফর’ ধাতু থেকে সফর শব্দটি উৎপন্ন। সিফর শব্দের অর্থ শূন্য হওয়া। পূর্বে বলা হয়েছে জাহেলিয়াতের যুগে মুহাররম মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ হারাম ছিল। কিন্তু সফর মাসে আবার তারা চির চিনা রূপে ফিরে আসতো তথা
যুদ্ধ বিগ্রহ করা শুরু করতো। যেহেতু সফর মাসে যুদ্ধের জন্য বের হয়ে যেত এবং তাদের বাড়ী গুলো শূন্য হয়ে পড়ে থাকত। তাই এই মাসকে সফর নামকরণ করা হয়।
আরেকটি মত হলো, সফর শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে সুফর ধাতু হতে। সুফর অর্থ হলো হলদে বর্ণ। মানুষ যখন এই মাসের নামকরণ করার উদ্যোগ নেয়, তখন দেখা যায় এই সময় গাছের পাতা ঝরার ঋতু চলে আসে। আর পাতা ঝরার পূর্বে পাতার রং হলদে রং ধারণ করতো। তাই তখন এই মাসের নাম সফর রেখে দেয়া হয়।
৩. রবিউল আওয়াল
সফর মাসে যেহেতু পাতা ঝরার ঋতু ছিল আর পাতা ঝরার ঋতুর পর আসে বসন্ত। রবিউল আওয়াল মাসের নাম রাখার উদ্যোগ যখন নেয়া হয় তখন হিসাব অনুযায়ী এই মাস ফসলে রবি অর্থাৎ বসন্তকালের শুরুতে পড়ে যায় তাই এই মাসের নামকরণ করা হয় ’রবিউল আওয়াল’। রবিউল আওয়ালকে প্রথম বসন্ত বলা যায়।
৪. রবিউস সানি
রবিউস সানি কে রবিউল আখিরও বলা হয়। এই মাসের নামকরণ করার সময় দেখা গেল এটি বসন্ত কালের শেষ সময় তাই এর নাম রবিউল সানি রাখা হয়। রবিউস সানির অর্থ দ্বিতীয় বসন্ত।
৫. জমাদিউল আউয়াল
জমাদিউল আউয়াল শব্দের অর্থ প্রথম শুকনো ভূমিখণ্ড। জমাদিউল আউয়ালকে জুমাদাল উলাও বলা হয়। জুমাদা শব্দটির উৎপত্তি জুমুদ ধাতু থেকে যার অর্থ হলো জমে যাওয়া, স্থবির হওয়া ইত্যাদি। আর উলা শব্দের অর্থ প্রথম। এই মাসের নামকরণের সময় শীত কাল থাকে আর শীত কালে সব কিছু স্থবির বা জমে যায় তাই একে জমাদিউল আউয়াল বলা হয়।
৬. জমাদিউস সানি
জমাদিউস সানি শব্দের অর্থ দ্বিতীয় শুকনো ভূমিখণ্ড। এটা আরবের গ্রীষ্মকালের শুরু বলা যেতে পারে এবং শীতের শেষ। আর শীতের সময় পানি যেমন একদম জমে যায় অপর দিকে গ্রীষ্মে যেমন পানি শুকিয়ে যায় আর তাই এই মাসকে জমাদিউস সানি বলা হয়।
৭. রজব
রজব শব্দটি তারজীব হতে উৎপত্তি। তারজীব শব্দের অর্থ সম্মান, শ্রদ্ধা করা। আরববাসীরা এই মাসকে আল্লাহর মাস বলত এবং এর সম্মান করত তাই এই মাসের নাম রজব রাখা হয়।
রজব শব্দের অন্য আরেকটি অর্থ সরিয়ে রাখা। এই মাসে আরবে যুদ্ধ নিষিদ্ধ ছিল ফলে তারা বর্শার মাথা সরিয়ে রাখতো তাই এই মাসকে রজব মাস বলা হয়।
৮. শাবান
শাবান শব্দের উৎপত্তি শাব হতে। এর অর্থ বিক্ষিপ্ত, বের হওয়া, প্রকাশ হওয়া, বিদীর্ণ হওয়া। এই মাসে বিপুল কল্যাণ প্রকাশিত ও প্রসারিত হয়, মানুষের রিজিক বণ্টন হয় এবং তকদীরই ফয়সালা বণ্টন করা হয় তাই এর নাম শাবান রাখা হয়েছে।
এছাড়া আর একটি মত হলো, আরবের লোকেরা এই মাসে পানির সন্ধানে আরবের চারদিকে ছড়িয়ে যেতো। যার ফলে এর নাম শাবান রাখা হয়।
৯. রমজান
রমজান শব্দের অর্থ দহন, জ্বালানো, পুড়ানো। এই মাসে মুমিনের গুনাহ সমূহ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দেয়, তাই এর নাম রাখা হয়েছে রমজান। এছাড়া রমজান মাসে নফসের কষ্ট ও জ্বলনের কারণ হয়, তাই এর নাম রাখা হয় রমজান। রমজান মাসে মুসলমান গন রোজা রাখার দ্বারা দুনিয়াবি লোভ লালসা থেকে দূরে থাকে। এই মাসে কুরআন নাজিল হয়েছিল।
১০. শাওয়াল
শাওয়াল শব্দের অর্থ উত্থিত। শাওয়াল শব্দটি শাওল ধাতু হতে নির্গত। শাওল অর্থ বাহিরে গমন করা। আরবের লোকেরা এই মাসে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়ে বের হতো। তাই এই মাসের নাম রাখা হয় শাওয়াল।
আবার অনেকের মতে এই সময়ে স্ত্রী উট লেজ উত্থিত করে বাচ্চা প্রসব করতো যার কারণে এই মাসের নাম শাওয়াল রাখা হয়।
১১. জ্বিলকদ
জ্বিলকদ শব্দের অর্থ সাময়িক যুদ্ধ বিরতির মাস। জি অর্থ ওয়ালা আর কাদাহ অর্থ বসা। মাসটি আশহুরে হুরমের অর্থাৎ যে মাসগুলোকে বিশেষ সম্মান করা হয় সেই মাসগুলোর অন্তর্ভুক্ত তাই আহলে আরবগন এই মাসে যুদ্ধ বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকতো। এই কারণেই এই মাসের নাম জ্বিলকদ রাখা হয়।
তবে এই মাসে আরবদের যুদ্ধ করা নিষিদ্ধ হলেও আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধ করার নিয়ম ছিল।
১২. জ্বিলহজ্জ
জ্বিলহজ্জ শব্দের অর্থ হজ্জের মাস। হাজ্জাহ হতে জ্বিলহজ্জ শব্দটি নেয়া। হাজ্জাহ অর্থ একবার হজ্জ করা। আবার এর মূল হিজ্জ হতেও নেয়া হতে পারে। কেননা হিজ্জ অর্থ বছর। যেহেতু এই মাস বছরের একদম শেষে আসে এবং এর মাধ্যমে বছরের সমাপ্তি হয় তাই এই মাসের নামকরণ করা হয়েছে জ্বিলহজ্জ।[১]
আরবদের নিয়ম অনুযায়ী এই মাসেও যুদ্ধ নিষিদ্ধ ছিল। এছাড়া মুসলমানদের জন্য এই মাস গুরুত্বপূর্ণ এই মাসে হজ্জ করা হয় এবং ঈদুল আযহা পালন করা হয়।
শেষ কথা
আরবি মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। তাই আরবি মাসে শুরু বা সমাপ্তি হয় সূর্যাস্তের সাথে সাথে। অর্থাৎ চাঁদ দেখার সাথে সাথে। নতুন মাসের চাঁদ দেখা না গেলে ৩০ দিন পূর্ণ করতে হয়।
Contact the business
Telephone
Opening Hours
| Monday | 10:00 - 20:00 |
| Wednesday | 10:00 - 20:00 |
| Thursday | 10:00 - 20:00 |
| Friday | 10:00 - 20:00 |
| Saturday | 10:00 - 20:00 |
| Sunday | 10:00 - 20:00 |