MBSTU Science Club

MBSTU Science Club

Share

Photos from MBSTU Science Club's post 13/01/2026

6th Executive Committee Members of MBSTU Science Club.

(Warm congratulations! May your dedication and leadership contribute significantly to the growth of MBSTU Science Club)

25/11/2025

'সিসমিক টাইম বম্ব' ও বাংলাদেশ: মহাবিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আমরা কতটা প্রস্তুত? (পর্ব-১)

*সূচনা: কেন এই কম্পন?
​ভূমিকম্প! মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এই প্রাকৃতিক ঘটনাটি গোটা জনপদকে এক মুহূর্তে স্তব্ধ করে দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ঘন ঘন মৃদু কম্পন অনুভূত হওয়ায় দেশের ভূ-প্রাকৃতিক ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে-
বাংলাদেশ একটি 'সিসমিক টাইম বম্ব'-এর ওপর অবস্থান করছে, যেখানে যেকোনো সময় ৭ থেকে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। এই আশঙ্কা কেন, এর পেছনের কারণ কী এবং আমাদের প্রস্তুতিই বা কেমন, তা নিয়েই এই আলোচনা।


*বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূমিকম্পের কারণ:
​ভূমিকম্প মূলত টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষ বা সঞ্চালনের ফল। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এটিকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
​টেকটোনিক প্লেটের খেলা: বাংলাদেশ তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত- ইন্ডিয়ান প্লেট, ইউরেশীয় প্লেট এবং বার্মা মাইক্রোপ্লেট।
​শক্তি সঞ্চয়: ইন্ডিয়ান প্লেট উত্তর দিকে ইউরেশীয় প্লেটের দিকে এবং বার্মা প্লেটের দিকে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে। এই প্লেটগুলোর সংঘর্ষের ফলে ভূ-অভ্যন্তরে বিপুল পরিমাণ শক্তি জমা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চিত এই শক্তি যখন হঠাৎ করে মুক্ত হয়, তখনই বড় মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।
​সক্রিয় ফল্ট লাইন: বাংলাদেশের আশেপাশে কয়েকটি প্রধান ভূমিকম্প-প্রবণ ফল্ট লাইন বা চ্যুতিরেখা সক্রিয় রয়েছে, যেমন— দাওকি ফল্ট (সিলেট অঞ্চলে), মধুপুর ফল্ট (ঢাকার কাছাকাছি) এবং চট্টগ্রাম-আরাকান ফল্ট (পার্বত্য অঞ্চলে)।
​এই সক্রিয় ফল্ট লাইন এবং প্লেটগুলোর সঞ্চিত চাপই নির্দেশ করে যে, বাংলাদেশে বড় ভূমিকম্প হওয়া একটি সম্ভাব্য ঘটনা, কেবল সময়ের অপেক্ষা।

*বাংলাদেশের ইতিহাসে বিধ্বংসী ভূমিকম্প:
​আমাদের এই অঞ্চল অতীতেও একাধিক বিধ্বংসী ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছে। এই ইতিহাসের বড় ভূমিকম্পগুলো এক দীর্ঘ নীরবতা বা 'সিসমিক গ্যাপ'-এর পর আবার ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়।

ক. ​১৫৪৮ সালের চট্টগ্রাম-সিলেট অঞ্চলের ভূমিকম্পে মাটি ফেটে দ্বিখণ্ডিত হয় এবং দুর্গন্ধযুক্ত কাদাপানি বের হয়েছিল।

খ. ​১৭৬২ সালের টেকনাফ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮.৫-এর বেশি, যার প্রভাবে সেন্টমার্টিন দ্বীপ প্রায় ৩ মিটার উপরে উঠে আসে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
(উল্লেখ্য আগের পথ (পুরাতন ব্রহ্মপুত্র): নদটি ভারত থেকে প্রবেশ করে ময়মনসিংহ জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে ভৈরব বাজারের কাছে মেঘনার সাথে মিলিত হতো।
​নতুন পথ (যমুনা): ভূমিকম্পের পর মূল প্রবাহটি ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সরে গিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এটিই বর্তমানে যমুনা নদী নামে পরিচিত, যা দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দঘাটে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে।)

গ. ​১৮৯৭ সালের গ্রেট শিলং ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮.৭। এই ভূমিকম্পে শুধু সিলেট জেলাতেই মৃতের সংখ্যা ছিল ৫৪৫ জন। ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল ও সড়ক যোগাযোগও বিঘ্নিত হয়েছিল।

ঘ. ​১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৬, যা শ্রীমঙ্গল ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল।
​বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সাধারণত ১০০ থেকে
২৫০ বছর পরপর এই অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেহেতু শেষ বড় মাত্রার ভূমিকম্প প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি আগে হয়েছে, তাই আমরা বর্তমানে একটি বড় ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে প্রবেশ করেছি।

​তথ্যসূত্র (১):
​বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও প্রস্তুতি: (Jagonews24, Prothomalo, Somoy Tv - Nov 2025) - টেকটোনিক প্লেট, সিসমিক টাইম বম্ব এবং ঝুঁকির সময়ের তথ্য।
​বাংলাদেশে কেন ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে?: (Kaler Kantho, DBC News) - প্লেটগুলোর সংযোগ, শক্তি সঞ্চয় এবং ফল্ট লাইন সংক্রান্ত তথ্য।
​বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ৫ ভূমিকম্প: (Jagonews24, Jugantor, The Business Standard) - ঐতিহাসিক ভূমিকম্পের সাল, মাত্রা ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য : লেখাটি দুইটি পর্বে বিভক্ত)

✍️: ইসরাত জাহান (আশা)
এফটিএনএস (২০-২১)
ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন সেক্রেটারি
এমবিএসটিইউ সায়েন্স ক্লাব

Want your business to be the top-listed Engineering Company in Tangail?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address

Tangail