Elma MituL.

Elma MituL.

Share

04/05/2026

ঘড়িতে তখন রাত ১:৫৬ মিষ্টি পড়ার টেবিল থেকে উঠে বিছানায় শুয়েছে মাত্র। কয়েকদিন পর ইন্টার ফাস্ট ইয়ারের পরিক্ষা শুরু, মূলত সেই কারণেই পড়তে বসা। নাহলে এতো কাজের ফাঁকে পড়ার সময় কই। ফেইল করা চলবে না, তাইতো পরিক্ষার কয়েকদিন আগে পড়াতে মন বসাতে হয় অনিচ্ছুক ভাবেই। ভালো মানুষের পড়ায় নাকি মন বসেনা। অহেতুক শান্তনা দিয়ে নিজেকে যতো পারে পড়ার টেবিল থেকে দূরে রাখে।

মিষ্টির মায়ের এই একখানি দুঃখ, বড় মেয়েটাকে যতোটা শান্ত -ভদ্র তৈরী করেছে, ছোটটা হয়েছে তার একদম বিপরীত।
মেধা থাকলেও পড়বে না। কারো কটু কথা হজম করাতো দূরের ব্যাপার তাকে দুনিয়ার সব কথা শুনিয়ে দিবে। মিষ্টি কে বিয়াদব অথবা অভদ্র বলা যাবেনা,কারণ বিয়াদবি আর উচিত কথা সেই মানুষের হ্মেএে প্রয়োগ করে, যারা এই যুগে এসেও ছেলে -মেয়ের মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি করার চেষ্টা করে।
মিষ্টিদের বাড়িতে ১১ টার পূর্বেই সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। সারা বাড়িতে সবাই-ই গভীর ঘুমে এখন কেবল মিষ্টি বাদে।
মিষ্টিও সারাদিনের ক্লান্ত শরীরটা বিছানায় এলিয়ে চোখটা বন্ধ করেছে সবেমাত্র।
হঠাৎ...
দরজায় ঠকঠক শব্দ, মনের ভুল ভেবে বিষয়টাকে পাত্তা দিলোনা। কিন্তু পুনরায় সেই আওয়াজ আবার কানে এলো মিষ্টির। আওয়াজটা তো তেমন জুড়ে দিচ্ছে না? কে হতে পারে এতো রাতে?মিষ্টি উঠে বসে পাশে ঘুমন্ত সকালের দিকে তাকালো,গভির ঘুমে আচ্ছন্ন সে,জাগানো কি ঠিক হবে?
এইসব চিন্তার মধ্যে পুনরায় আবার শব্দটা কানে এলো। মিষ্টি ধীর পায়ে উঠে টেবিলের ড্রয়ার থেকে ছুরিটা তুলে নিলো। নিজেদের প্রয়োজনেই এটা রুমে রাখা হয়। রাত করে দরজা খুলবে যদি বিপদজনক কিছু হয়।
এখনো শব্দটা আসছে নিচ থেকে।
মিষ্টি ধীর পায়ে অন্ধকার হাতড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামে। চোরতো আর শব্দ করে নিজের চুরি বিদ্যার অপমান করবেনা।তাহলে কে?
যেহেতু ছোট থেকেই এই বাড়িতে বড় হয়েছে তাই অন্ধকারেও তেমন একটা সমস্যা ছাড়া দরজার কাছে পৌঁছে গেলো। নাহ শব্দটা খুব একটা জুড়ে দিচ্ছে না মনে হচ্ছে কেউ খুব দূর্বল হাতে শব্দ তুলছে।
মিষ্টি বাহিরে থেকেই অচেনা আগন্তুকের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে
বাহিরে কে?
অচেনা আগন্তুক তড়িঘড়ি করে বলে উঠলো,দরজাটা খুলো মেরে ফেলবে,মেরে ফেলবে আমায় খুলো?একদমে কথা গুলো বলে মনে হলো দম ছাড়লো আগন্তুকটা। কন্ঠে স্পষ্ট ভয় জড়িয়ে আছে। মনে হচ্ছে কনো মানুষের কন্ঠের জন্য ব্যাকুল হয়ে ছিলো বহুদিন।
মিষ্টি আর আগপাছ না ভেবেই দরজাটা খুলে দেয়।
হাওয়ায় গতিতে আগন্তুকটা ঘরে প্রবেশ করে,
অন্ধকার হাতড়ে দরজা বন্ধ করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে। মনে হচ্ছে দরজাটা আর একটু খোলা থাকলেই তার জান কবজ করে নিবে।
পরহ্মণেই মিষ্টি বাচ্চাটার হাত চেপে দরে নিজে দরজা লাগিয়ে বৈঠকখানায় এসে ঘরের বাতিটা জালিয়ে দেয়।
এতোক্ষন অন্ধকারে বাচ্চা টাকে দেখতে পায়নি, কিন্তু আলোতে ছেলেটার মুখশ্রী দেখে মূহুর্তে বুকটা ছ্যাত করে উঠলো। বৈঠকখানায় বাচ্চাটাকে বসিয়ে পাশের ছোট্ট টেবিল থেকে পানির গ্লাসটা এগিয়ে দেয়। বাচ্চাটা
ভয়ার্ত চোখে কাঁপা, কাঁপা হাতে পানির গ্লাস টা হাতে নেয়। মিষ্টি দাঁড়ানো থেকে বাচ্চাটার পাশে গিয়ে বসে,সযত্নে বাচ্চা টার মাথায় হাত রাখে। ভয় পেয়ো না কেউ কিচ্ছু করবে না তোমাকে, শেষ করো, পানিটা খাও, খাও। ছেলেটা কিছু সময় নিয়ে পানিটা শেষ করে। আচ্ছা কেউ পাঠিয়েছে তোমায়?ভয় পেওনা বলো?আমি কিচ্ছু করবো না তোমায় আমাকে ভয় পেয়ো না একদমই না। কিন্তু বাচ্চটা টুশব্দ পযন্ত করলো না, শুধু তাকিয়ে আছে মিষ্টির মুখের পানে,হয়তো বিশ্বাস করতে ভয় পাচ্ছে।
আচ্ছা তোমার ইচ্ছে হলে বলো হ্যা, ভয় পেয়ো না। মিষ্টি বাচ্চাটার সারা শরীরে একবার চোখ বুলিয়ে নেয়। সারা শরীরে ছোট-বড় অনেক আঘাতের দাগ। অনেক ক্ষত নিজ থেকেই শুখাতে শুরু করেছে । কিন্ত ভালো চিকিৎসা না করলে ইনফেকশন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। অযত্নে, টর্চারে একদম নেতিয়ে পড়েছে বাচ্চাটা। হাতে পায়ের কালো-খয়েরি দাগ গুলো স্পর্শ যানান দিচ্ছে অনেকদিন যাবত বেঁধে রাখা হয়েছে । কপালের গভির ক্ষতটা অনেকটা শুখিয়ে গিয়েছে, হয়তো-বা একটু চিকিৎসা হয়েছিলো এইটার। মিষ্টি চোখ মুখ খিঁচে লম্বা নিশ্বাস নিয়ে দম ছাড়ে।মিষ্টি ভেবে পাচ্ছেনা এইটুকু একটা ছেলের উপর এতো টর্চার করলো কে?এতো রাতে এখানেই কেনো এলো?কে মেরে ফেলবে?
বয়স কতোইবা এই ছেলের ৯/১০হবে। এইটুকু ছেলের শত্রু কিভাবে থাকতে পারে?
মিষ্টি হঠাৎ দাঁড়িয়ে সকাল কে ডাকতে শুরু করে।
৫/৬ বার ডাকার পর সকাল ঘুম,ঘুম চোখ মেলে তাকায়। কাচা ঘুম ভেঙে গেলে যেকনো মানুষেরই বিরক্তির সিমা ছড়ায় সকালের ও ব্যাতিক্রম হলোনা। একরাশ বিরক্তি নিয়ে মোবাইল ফোনটা হাতে নিয়ে টাইম দেখে হুর মুর করে উঠে বসে। ২:০৯ এই মেয়েটা এখনো ঘুমোয়নি? কোন আকাম করে বিপদ বাড়িয়ে বসেছে মাবুদ।ঠিক আছে তো এই মেয়ে? এতো রাতে এভাবে ডাকছে কেনো?
কোনদির ওর জন্যই আমি হার্ট অ্যাটাক করে মরবো আল্লাহ। সকাল যদিও শান্ত মেজাজ নিয়ে থাকে সব সময়। কিন্তু এই মেয়ের জন্য তার শান্ত মেজাজ আর শান্তি ২ টাই উবে যায়। দুর্বল পয়েন্ট যে মেয়েটা সকালের জিবনের।

সকাল তড়িঘড়ি করে রুমের লাইট জালিয়ে নিচে নেমে আসে। এতো না ভেবে জায়গায় গেলেই সচক্ষে দেখে নিবে কারণ।
নিচে নেমেই সবার আগে চোখ পড়ে বাচ্চাটার দিকে। নাহ আকামতো করে নি,মনে হচ্ছে মহা আকাম করে বসেছে এই মেয়ে, কিন্তু এতো রাতে বাচ্চা এইখানে,যদি-ও মিষ্টি কাছে বাচ্চারা আসাটা স্বাভাবিক মিষ্টির কাজই তো ওরপানেজ(এতিমখানা) নিয়ে। কিন্তু এতো রাতে এই অবস্থায়?
আপু?
সকালের ভাবনার সুতো ছিড়ে।
কি ভাবছিস? রুম থেকে ফাস্ট এইড বক্সটা নিয়ে আয়। কিন্তু ও কে?
যানিনা আমি নিজেও, যা- নাা আপু পরে যানবি।
সকাল পুনরায় রুমের উদ্দেশ্যে ছুটে। মিষ্টি একটু আগে বসিয়ে রাখা কুসুম গরম পানি এনে বাচ্চাটার ক্ষতস্থানে পরিস্কার করে দিচ্ছে। সকাল ফাস্ট-এইড বক্স নিয়ে বাচ্চাটার পাশে বসতেই ছেলেটা ছিড়কে সরে যায় কয়েক হাত দূরে। আচমকা এমন আচরণে ২ বোনই একে অন্যের পানে তাকায়। মিষ্টি বাচ্চাটার কাঁধে হাত রেখে নরম সুরে বলে। না উনাকে ভয় পেয়োনা। আমার বড় বোন হয়। কিচ্ছু করবে না তোমার তুমি ভয় পেয়ো না বসো জায়গায় বসো।ছেলেটা ২ বোনের মুখের দিকে ১ বার তাকিয়ে আবার গিয়ে বসে পুনরায়। সকাল এইবার ছেলেটার মাথায় আলতো করে হাত রাখে।পরক্ষণেই সারা শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠে বাচ্চাটার।
বিশ্বাস করতে সময় লাগবে আপু,তাই এমন হচ্ছে।
বুঝেছি কিন্তু এইটুকু ছেলেকে এইভাবে?
মিষ্টি চোখের ইশারায় সকালকে থামতে বলে। এইসব কথা বললে ভয় পাবে বেশি। একটু সময় দে। স্বাভাবিক হবে।

ক্ষতস্থানে গুলোতে পেইন রিলিভার মলম লাগিয়ে দিয়েছি আস্তে ধীরে শুকাবে।

অনেকদিন নাওয়া খাওয়া গোসল যত্ন পায়নি তাইনা মিষ্টি?
সকালের প্রশ্নে মাথা দুলিয়ে হ্যা সূচক উওর দেয়।
কি করবি এখন?
যানিনা আপু।
মিষ্টি ছেলেটার দিকে তাকালো হাতো জোড়া অনবরত কাপছে। মিষ্টি বাচ্চাটার হাতজোড়া নিজের মুঠোয় নিয়ে আবারো প্রশ্ন করলো?
নামকি তোমার?
নামটা বলো বাবা? সকাল পাশে থেকে আদুরে ভাবে বলে উঠলো বলো তোমার নামটা?
তুমি কি এখনো ভয় পাচ্ছো আমাদের,কিচ্ছু করবো না প্রমিস বলো তুমি কে?কি নাম তোমার?
ছেলেটা একটু মুখ তুলে মিষ্টির দিকে তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে পেলে নিষ্পাপ চাহনি তবে শুরুতে যতোটা ভয় ছিলো এখন কিছুটা স্বাভাবিক । বলো তোমার নামটা?
কিছুক্ষণ পর খুব আস্তে ক্ষীণ একটা সুর ভেসে আসলো ২ বোনের কানে।

নিরব।

#গল্প :নীশিত আবছায়ার আবরণ।)
#পর্ব :১
#ইলমা মিতুল...

02/05/2026

তোমাকে চাঁদের সাথে তুলনা করেছিলাম ।
যে উঠলে সুন্দর, না উঠলে হ্মতি ছিলোনা ।
তবে আমি বোকাছিলাম,
তুমি তো ছিলে সূর্যের রশ্মির মতো।
যে না উঠলেও হ্মতি, ডুবে গেলে অন্ধকার,
আর অতি উত্তাপে সব পুড়ে ছাড়খার। 🕊️

(গল্প :) নীশিতো আবছায়ার আবরণ।)

08/02/2026

দাদু শুনছেন?
সে কি আজ-ও অপেক্ষায় অপেক্ষিত?
এক জোড়া নীল চুড়ির জন্য?

(গল্প -নীল চুড়িখানার অস্তিত্ব।)

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Sylhet?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Sylhet