Hafij

Hafij

Share

17/01/2025

বিএনপিকে চিনতে হলে আমাদের ২০০১-০৫ সালের সময়কার রাজনীতিকে বুঝতে হবে। তারা ইসলামকে তখন পর্যন্ত সমর্থন করেছিল, যতক্ষণ না তা তাদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে হাজির হয়েছিল।

জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করতে ইসলামকে প্রয়োজন। কারণ, বাঙালির অস্তিত্বের সাথে ইসলামী মূল্যবোধ মিশে আছে এবং ইসলামকে বাম বাটপারদের মতো অস্বীকার করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক রাজনীতি করা বাংলাদেশে সম্ভব না।

তবে, ইসলামকে অস্বীকার না করা এবং ইসলামকে ধারণ করা, একই অর্থ রাখে না। একদিকে, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা, অন্যদিকে, ধর্মীয় মূল্যবোধকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করা– এই দুটি একে অপর থেকে আলাদা।

ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক রাজনীতি করার জন্য নিজেদের আদর্শটাকে প্রতিষ্ঠিত বা টিকিয়ে রাখার জন্য বিএনপি ইসলামের সাথে নমনীয় আচরণ করে। কোন ইসলাম? ফান্ডামেন্টাল ইসলাম? না। ওরা ফান্ডামেন্টাল ইসলামের টুটি চেপে ধরে।

হু*জি, জে*এম*বির মু*জা*হি*দী*নদের সাথে তাদের আচরণ আমরা ভুলে গেছি?
শত গু*ম-খু*নের ন্যাক্কারজনক অধ্যায় রচনা করা র‌্যাবকে কারা জন্ম দিয়েছে?
শাইখ আব্দুর রহমান রাহিমাহুল্লাহ্কে কারা শহীদ করেছিল?
সর্বপ্রথম আমেরিকার ওয়ার এন্ড টেররের সাথে সুরে সুর মিলিয়েছে কারা? আওয়ামীলীগ? না।

ভুলে যাবেন না, "নৌকা আর ধানের শীষ, একই সাপের দুই বিষ"

জুলাই আন্দোলনে তা*গু*ত হাসিনার স্বৈরাচারের পতনে ইসলামপন্থীরা বাম বাটপারদের ন্যারেটিভের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছিল।

১৫ বছর ধরে চেপে বসা আওয়ামী জাহিলিয়াতের পতনে ইসলামপন্থীরা কি আমাদের সমাজ কাঠামোর মূলে প্রাসঙ্গিক হওয়ার মতো কোনো শক্তিশালী বার্তা দিতে পেরেছে?
ইসলামপন্থিদের কোনো একক নেতৃত্ব উঠে এসেছে?
শাহবাগ কি নতুন শক্তি নিয়ে ফিরে আসেনি?
প্রথম আলো গংরা ইসলামপন্থিদের শত প্রতিবাদে হটে গিয়েছে?

বাস্তবতা হচ্ছে, ইসলাম ও মুসলমানের ফায়দা তেমন হয়নি, কেবল মাত্র জুলুম থেকে "সাময়িক" নিষ্কৃতি পাওয়া ছাড়া।

ভা*র*তের বিরোধিতায়ও ইসলামপন্থীরা যদি ডানপন্থী গণতান্ত্রিকদের সাথে একাত্মতা জানায়, ইসলাম ও মুসলিমদের দৃশ্যমান কোনো উদ্দেশ্য হাসিল হবে না। গণতান্ত্রিক গণপ্রতারণায় ইসলাম ও মুসলিমরা হচ্ছে বলীর পাঠার মতো।

ধর্মীয় আত্মপরিচয়কে পেছনে রেখে জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সামনে এনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেরুয়া মুশরিকদের হাজার বছরের ধর্মীয় অনুশাসন কেন্দ্রিক শিরকী সাংস্কৃতিক আদর্শের মোকাবেলা সম্ভব নয়। লড়াইটা সব সময়ই তাওহীদ বনাম শিরকের ছিল।

তবুও যুক্তির খাতিরে যদি আপনাদের ভা*র*তের বিরোধিতায় লুৎফুজ্জামান বাবরদের সমর্থন করার কৌশলগত অবস্থান মেনে নিতে হয়, তারপরও শক্তিশালী আপত্তি করার সুযোগ থাকে।

দিকভ্রান্ত উম্মাহর অধিকাংশই ধরে রেখেছে আওয়ামী জাহিলিয়াতের পতনে ক্ষমতার মসনদ বসবে বিএনপি। অথচ, ওয়াশিংটনের নির্দেশনা অনুযায়ী সামনের দিনে দেশের রাজনীতিতে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ উভয়েই যে নিজেদের রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব খুইয়ে মাইনাস হয়ে যাবে, সেটা বুঝতে হলে রাজনীতিতে ডক্টরেট করা লাগে না।

তারপরও যদি ইসলামপন্থীরা নিজেদের কৌশলগত অবস্থানকে ফ্লেক্সিবল না রেখে মূলনীতির মতো দৃঢ় ভাবে আঁকড়ে রাখে, তবে তো সেটা গলার কাঁটায় পরিণত হবে সামনের দিনে।

সংবিধান সংশোধনের পরে নতুন যেই সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে উঠবে সেটিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য যখন-তখন অকার্যকর করার সকল টুলস ওয়াশিংটনের কাছে থাকবে। তাই এই সংস্কার প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করে নতুন আরেক চেতনার বাতায়ন সৃষ্টি করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ব্যাপারে বিএনপি-আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধ হবে।

ওয়াশিংটনের নির্দেশে ইসলামপন্থিদের তখন পুনরায় ব্যবহার করা হবে। রাষ্ট্র সংস্কারের শিরোনামে প্রতারণার ইতিহাস পুনরায় রচনা করতে আরেক গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেওয়া হবে।

ইসলাম বনাম সেক্যুলার-ডেমোক্রেট ব্লকের মেরুকরণকে শক্তিশালী করা ব্যতীত ইসলাম এবং মুসলিমদের ঘাড়ে কাঁঠাল ভেঙে খাওয়ার ধোঁকার রাজনীতি চলমান থাকবে।

ভা*র*তের বিরোধিতায় ইসলামপন্থিদের ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী ব্লকের সাথে কৌশলগত ঐক্য করার অর্থ- যেকোনো পাওয়ার ভ্যাকুয়াম তৈরী হলে, ইসলাম ও মুসলিমদের আদর্শিক স্বার্থ ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী ব্লক দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। অর্থাৎ, উভয়ের মধ্যে একে অপরের উপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য রয়েছে। কিন্তু, বাস্তবতা কি ঠিক এর বিপরীত নয়? তবে এটা কি কৌশলগত ঐক্য হলো, নাকি স্বেচ্ছায় আপোষ করা হলো?

ইসলামপন্থিদের কাছে তা*গু*তি এই রাষ্ট্রযন্ত্রের উপর প্রেসার ক্রিয়েট করার অর্থ যদি হয়- উত্তপ্ত রাজপথে নিজেদের সংখ্যাধিক্য প্রদর্শন করা, প্রতিবাদী স্লোগান আর তাকবীরের ধ্বনিতে আকাশ বাতাস উত্তাল করা, ক্ষমতাসীনদের সাথে ডায়ালগ করা, তবে ধরেই নিতে হবে জিও পলিটিক্সে তারা এখনো অনেক পিছিয়ে। মনে রাখতে হবে, "দাদার উপরেও দাদা থাকে"।

অর্থাৎ, আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক পরাশক্তিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। তাই রাষ্ট্রযন্ত্রের উপর, সেক্যুলার মিডিয়ার উপর প্রেসার ক্রিয়েট করার জন্য কৌশলগত অবস্থান হিসেবে ইসলামপন্থিদের অবশ্যই কোনো একটি পরাশক্তিদের ব্লকে যেতে হবে।

ইসলামপন্থিদের উচিত হবে সামরিক এবং অর্থনৈতিকভাবে চীন এর সাথে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়ন করে দক্ষিণ এশিয়ায় অ্যান্টি ইন্ডিয়ান ন্যারেটিভকে শক্তিশালী করা। এমনকি কাতার অথবা পা*কি*স্তা*ন থেকে লবিং চালিয়ে ইমারতে ইসলামিয়া আ*ফ*গা*নি*স্তা*নের সহায়তায় বাংলার জমিনে ইসলাম ও মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষায় কৌশলগত পলিসি নির্ধারণ করতে পারে ইসলামপন্থীরা।

✍️আবু উসামা

17/12/2024

ধিক্কার জানাই মোদির এই বক্তব্যের 😡

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Sylhet?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Sylhet
Sylhet