Riyfa Islam

Riyfa Islam

Share

12/08/2025

মায়ের অসুস্থতা সম্পূর্ণ মিথ্যা, পরীক্ষা দিতে পারবে না সেই আনিসা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী আনিসা আহমেদের এইচএসসির বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা দেওয়া হচ্ছে না। মায়ের স্ট্রোকের কারণে পরীক্ষায় এক ঘণ্টা দেরি করে কেন্দ্রে পৌঁছানোর যে দাবি তিনি করেছিলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে তার কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে, বিশেষ ব্যবস্থায় তার পরীক্ষা নেওয়ার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তা আর বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সূত্রমতে, বিষয়টি এখন ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড দুটি পৃথক তদন্তকারী দল গঠন করে। উভয় দলের তদন্ত প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, আনিসার মায়ের অসুস্থতার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে ঘটনাটি উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার অমিল রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার এহসানুল কবির বলেন, ‘আনিসার বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেই’। তিনি প্রচলিত নিয়ম উল্লেখ করে বলেন, কোনো পরীক্ষার্থী প্রথম পত্রে পরীক্ষা দিতে না পারলে দ্বিতীয় পত্রে ৬৬ নম্বর পেলে উভয় পত্রে পাস হিসেবে গণ্য হবে।

তদন্তের ফল এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে আনিসা আহমেদের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে, যে ঘটনাটি মানবিক আবেদন দিয়ে শুরু হয়েছিল, সরকারি তদন্তের পর তা এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে।

#আনিসা #মৌলভীবাজার #মৌলভীবাজারের_খবর #মৌলভীবাজার_পৌর_পার্ক

Photos from Riyfa Islam's post 20/07/2025

কমলগঞ্জের সুমাইয়া তুলি লন্ডন থেকে এআই ও সাইবারসিকিউরিটিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান সুমাইয়া সিরাজী তুলি লন্ডনের বিখ্যাত ব্রুনেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) ও সাইবারসিকিউরিটি বিষয়ে বিএসসি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

স্নাতক সম্পন্ন করার পর সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রুনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সুমাইয়ার হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেওয়া হয়। তার এই সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।

সুমাইয়া তুলি কমলগঞ্জ পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সিনিয়র রাজনীতিক ইয়াকুব আলী সিরাজীর একমাত্র কন্যা।

সুমাইয়া তুলি প্রতিদিনের মৌলভীবাজারকে জানান, ‘আল্লাহর রহমতে এবং বাবা-মায়ের দোয়ায় আমি সফলভাবে স্নাতক সম্পন্ন করেছি। আজ নিজেকে একজন প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দিতে পারছি—এটা আমার জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। আমার এই অর্জন আমি আমার মা-বাবাকে উৎসর্গ করছি। তাদের পাশে পেলে আনন্দটা আরও পূর্ণ হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘এআই ও সাইবারসিকিউরিটির মতো প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়ে দক্ষতা অর্জন বর্তমান যুগে সময়োপযোগী। আমি চাই আমার শিক্ষা ও দক্ষতা দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে।’

তার পিতা ইয়াকুব আলী সিরাজী বলেন, ‘আমার মেয়ে অনেক কষ্ট করে এই অর্জন করেছে। তার এই সাফল্যে আমরা সবাই খুবই আনন্দিত। সমাজ ও দেশের জন্য সে যেন ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সকলের কাছে আমার মেয়ের জন্য দোয়া চাই।’

বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির আধিপত্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবারসিকিউরিটির মতো ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে একজন তরুণী হিসেবে তুলির এ অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়—এটি সমাজ ও দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার বার্তা বহন করে।

19/07/2025

https://www.facebook.com/61560449591974/posts/122168200256348319/

“একটা মুরগি কাটা দেখতে পারত না—আজ তার শরীরজুড়ে রক্ত…”

—শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্ত’র মা, রেশমা আক্তার

আমার সেই ছেলে…
যে একটা মুরগি কাটা দেখলেই চোখ ঢেকে ফেলত,
যাকে গরু কোরবানির সময় আলাদা ঘরে লুকিয়ে রাখতে হতো—
আজ আমি সেই ছেলের শরীরে রক্তের সমুদ্র দেখেছি!
কে যেন আমার মানিকটারে আমার বুক থেকে কেড়ে নিয়ে গেল…

সেদিন, আন্দোলনে যাওয়ার আগে
শান্ত যেন অদ্ভুত রকম তাড়াহুড়া করছিল টিউশন শেষ করতে।
বলে গিয়েছিল—
“আম্মু, কালকে বেশি সময় পড়ায়ে দিবো, আজ একটু তাড়াতাড়ি যাই।”

ওর কাছে সবসময় বাসার একটা চাবি থাকত,
আরেকটা থাকত আমার কাছে।
কিন্তু সেদিন—
ও নিজেই ডেকে চাবিটা হাতে দিয়ে গেল।
কেন? হয়তো বুঝেছিল… ও আর ফিরবে না।

চেহারাটাও সেদিন অদ্ভুত মায়ায় ভরা ছিল,
কেমন যেন হাসিমুখ, শান্ত, কোমল…
যেন কোনো দুনিয়ার টেনশন নেই।
আমি তখনও বুঝি নাই,
সেদিনের হাসিটা আসলে বিদায়ের ছিল।

পরোটা আর চা বানিয়ে রেখেছিলাম—
ও জানত, বাইরের কিছু খায় না।
ভাবছিলাম সন্ধ্যায় ফিরে খাবে…
কিন্তু সন্ধ্যা আর আসেনি শান্ত’র জন্য।

ওর বন্ধুরা বললো, গুলি লেগেছে,
আমাকে মেডিকেলে নিয়ে যায়।
আমি ভেবেছিলাম ওয়ার্ডে গিয়ে শান্তকে দেখবো,
ও হয়তো আমাকেই খুঁজছে!
থানার ওসি ‘ফয়সালের আম্মু কোথায়’ বলে যখন ডাকতেছিল,
আমি ছুটে গেছি, আশায় বুক বাঁধা—
শান্তমনি আমার কোথাও অপেক্ষা করছে।

কিন্তু না—
আমাকে শান্তনা দিচ্ছিল সবাই,
আর আমি কেবল বলছিলাম—
“আমাকে আমার শান্তর কাছে নিয়ে চলো, আমি চুপ হয়ে যাব।”
কিন্তু কেউ নেয় না।

মৃত্যুর খবর শুনিয়ে দিলো তারা—
আমি বিশ্বাস করিনি।
ভাবছিলাম স্বপ্ন দেখছি।
এখনো মাঝে মাঝে মনে হয়,
এই দুঃস্বপ্ন একদিন ভাঙবে,
শান্তমনি দরজা খুলে ঢুকবে—
“আম্মু, খাইছি না কিছু, চা দাও।”

কিন্তু না…
যখন লাশটা স্ট্রেচারে আসছে,
আমি তখনো বিশ্বাস করছিলাম না।
ভেবেছিলাম অন্য কেউ,
শান্ত নিশ্চয় কোথাও লুকিয়ে আছে।
কিন্তু না—
আমার মানিকটাই ছিল, চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিল চিরতরে।

তারপর?
শান্তর দুই বন্ধুকে ধরে,
তাদের বিরুদ্ধে শান্তর হত্যার মামলা ঠুকে দেয় পুলিশ।
শান্তর শহর চট্টগ্রাম, জন্ম চট্টগ্রাম—
তবুও এখানেও জানাজার অনুমতি দেয় না তারা।
প্রটোকলে লাশ পাঠানো হয় বরিশালে।
সেখানেই দাফন।

রমজান আসলেই শান্ত ছিল সবচেয়ে সচেতন।
তারাবির একরাতও বাদ দিত না।
এই রমজানে ও নেই—পেছনে দাঁড়িয়ে কোরআন শোনার কেউ নেই।
এই শূন্যতা, এই চিৎকার—
কার কানে পৌঁছায়?

আমি ভালো মানুষ হিসেবে ওকে গড়েছি।
হয়ত আমি আর ওকে রক্ষা করার যোগ্য ছিলাম না।
সেই জন্য আল্লাহ ওকে নিজের কাছে নিয়ে গেছে।
এইটুকু সান্ত্বনা পাই—
যেন আল্লাহ আমার ছেলেকে শহিদ হিসেবে কবুল করেন।

জানেন, এখন জীবনের কোনো অর্থ খুঁজি না আমি।
দিন চলে যায়…
আমি কেবল অপেক্ষা করি,
কবে শান্তমনির কাছে ফিরে যাব।😭😭😭😭

Telephone

Website