Digital Sylhet

Digital Sylhet

Share

28/02/2026

প্রিয় জকিগঞ্জ বাসী একটু সময় করে পড়ে নিবেন,আপনাদের প্রিয় নোমান উদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার পর শ্যালক হানিফ উদ্দিন এর কি ভুমিকা ছিল তাহা যেনে নিন।

বিগত ২৯/০৯/২০২৫ ইং, রোজ সোমবার তিনি তাহার দোকানে যান। নোমান উদ্দিন ও আমি আমার ক্রয়কৃত একটি বাসায়
থাকতাম। ঐদিন আমিও আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাই।দুকানে ব্যবসায়ীক কাজ শেষে আমার ব্যক্তিগত কাজের জন্য সোনাসার বাজার তান্নি স্টোরে যাই।সেখান থেকে আসার পথে জোহরের আজানের দিকে আমার বন্ধু আব্দুল কাইয়ুম আমাকে লন্ডন রেস্টুরেন্টে যাওয়ার কথা বলে। আমি সেখানে যাই। একটি এমএলএম কোম্পানির সিস্টেম নিয়ে কাইয়ুম ও তার বস আলোচনা করেন। সেখানে খাসেরা গ্রামের বাছিত ভাই,উত্তরকুলের ফাহাদ ভাই, হিরক দাদা,ও উপস্থিত ছিলেন। সময় আনুমানিক বিকাল ৪:০০টা থেকে ৪:৩০টার মধ্যে।

এসময় আমার বোন আমাকে কল দিয়ে বলেন,তোর দুলাভাই কল রিসিভ করছেন না। তিনি দোকানে আছেন কি না দেখে আস।তার ফোন পাওয়ার কিছুক্ষণ পর আমি বাজারের ভিতরে প্রবেশ করে দেখি, উনার দোকানের শাটার বন্ধ।

কিছুক্ষণ পর আমি বাসায় আসি। তখন আসরের পর সময় হবে। বাসায় এসে আমার বোনের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চাই। তিনি বলেন, প্রায় দুপুর ১২টা থেকে তর দুলাভাই কল রিসিভ করছেন না। আমি বলি,হয়তো ফোন সাইলেন্টে আছে,তাই কল ধরছেন না,অথবা কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে চলে গেছেন। এই বলে আমি ঘুমিয়ে পড়ি।

মাগরিবের নামাজের পর আমার বোন আমাকে ডেকে বলেন, তার ভাগ্নে তাজুলকে দোকানে পাঠিয়েছিলেন। তাজুল দোকান শাটার অর্ধেক বন্ধ পেয়ে পাশের দোকানদার সালামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নোমান উদ্দিন তার দোকানে মোবাইল রেখে কোথায় গেছেন, তিনি জানেন না।
তাজুল বাজার থেকে ফিরে বিষয়টি জানায়।

এর কিছুক্ষণ পর আমাদের বাসায় সালাম মিয়া,হবিবুর রাহমান ও রায়হান আহমদ আসেন। তখন রাত আনুমানিক ৭:০০টা থেকে ৭:৩০টা হবে।আমরা সবাই এ বিষয়ে আলোচনা করি। তখন আমি অ্যাডভোকেট সিরাজ উদ্দিনকে কল দিয়ে নিশ্চিত হই যে নোমান উদ্দিন তার চেম্বারে গেছেন কি না। তিনি বলেন, নোমান উদ্দিন আসেননি।

এরপর আমরা জোরেশুরে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। আমি ও তাজুল বাজারে গিয়ে সোবহানিয়া ফার্মেসির সামনে কাজী মুস্তফা উদ্দিন, মখলিছ মিয়া, সিহাব উদ্দিন, জাহাঙ্গীর শাহ হেলালসহ কয়েকজনকে বলি যে, নোমান ভাই সকালে দোকান খুলে কোথায় গেছেন, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সিহাব জানতে চান কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি সাথে সাথে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন।
এসময় আরো অনেকে পোস্ট করেন।

পরে আমরা বাজারের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে খোঁজ করি—যেমনঃ ফয়জুল ভাই, মাস্টার বদরুল হক, বুদুর মিয়া, হালিম ট্রেডার্সের ম্যানেজার জাহেদ আহমদ, এমাদ উদ্দিন (দক্ষিণ গলি), সালেখ আহমদ , সুফিয়ান আহমদ, শহীদ ভাই মা ফার্মেসি, পান দোকানের টুনুর ভাই, কবির ভাই, আবিদ ভাই,মন্নান ভাই,সহ প্রমুখ।

এরপর আমরা দেলোয়ার ফার্মেসি-২ এবং সুফিয়ানের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখি। বাজারের বাথরুমগুলোতেও খোঁজ করি। নোমান উদ্দিনের পাশের দোকানদার নেতাই দাদা,রায়হান আহমদ,সোহেল আহমদ ও জামিল আহমদের সঙ্গে আলোচনা করি।

রাত প্রায় ১২টার দিকে তাকে না পেয়ে বাসায় ফিরে আসি। খাওয়া-দাওয়া শেষে পাশের ঘরের নাসির আসে। এসময় সিহাব আমাকে কল দেয়। আমি নাসির ও তাজুল বাসা থেকে বের হয়ে বদইর দোকানে গেলে সিহাবও মিনহাজ আসে। বাজারের চৌকিদার জামিলকে নিয়ে আমরা শায়লা হাসপাতালে খোঁজ করি।

পরে বদইর দোকানে চা খেয়ে আমি নাসির ও তাজুল বাসায় ফিরে যাই। আমার বোনের সঙ্গে কথা বলি।তার কিছুক্ষণ পরে আমরা আবার বের হলে বদই ভাইয়ের দোকানের সামনে কলাকুটা গ্রামের আশিক নামের এক যুবককে দেখতে পাই। সে জানায়, ইউ/পি বাজার থেকে আসার সময় সে দুই জায়গায় দুইজন লোককে বসে থাকতে দেখেছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আমি, তাজুল তাকে নিয়ে কলাকুটার দিকে যাই। সে বলে মুখ বাঁধা অবস্থায় কলাকুটার পূর্ব পাশে একজন এবং আরেকজন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে ছিল। সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

পরে আশিক বলে, কসকনকপুর স্কুল মাঠে খেলা হচ্ছে, হয়তো সেখানে যেতে পারে। আমরা সেদিকে যাই। ইউপি বাজারে প্রবেশের আগে মুকাম রাস্তা দিয়ে প্রবেশের সময় কাওছার আহমদ নামের একজনের সাথে দেখা হয়। এদিকে গিয়ে সুহেল টিকাদারের বাড়ির সামনে গেলে আমরা তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলি। তার বাড়ির ক্যামেরা দেখতে চাইলে তিনি বলেন, এদিকে কোনো লোক আসেনি।

সেখানে হাজারীচক গ্রামের জুয়েল আহমদ সহ ২/৩ জনকে খেলা দেখে আসতে দেখা যায়। তারা জানান, ঐদিকে কোনো লোক আসতে দেখেননি।

এরপর আমি ও তাজুল কালিগঞ্জ বাজারে ফিরে এসে কালিগঞ্জ জামেয়া মাদ্রাসায় ফজরের নামাজ আদায় করি। নামাজ শেষে মাওলানা আলিম উদ্দিনকে নিখোঁজের বিষয়টি জানালে তিনি দোয়া করেন।

পরে আমি বদইর দোকানে চা খেতে যাই। তাজুল আমার বোনকে নিয়ে সুমন পীরের বাড়িতে যায়। তারা ফিরে আসার পর আমি তাজুলকে নিয়ে হাতিডহর পীরের বাড়িতে যাই। পীরকে না পেয়ে আমরা বাসায় ফিরে আসি।

বাসায় এসে চা খেয়ে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। এসময় আমার মোবাইলে একটি কল আসে। কলকারী জানায়, নোমানকে পেতে হলে ২ লক্ষ টাকা দিতে হবে। আমি জিজ্ঞেস করি, টাকা কোথায় দিতে হবে।সে বলে ২০মিনিটের মধ্যে টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে ফেলবো


আমি সাথে সাথে সিহাব মামুকে কল করি। সিহাব মামুকে নিয়ে আমি তাজুল ও আমার বোন থানায় যাই।থানায় যাওয়ার পথে
মুক্তিপণকারী একাধিক বার কল করে এমন হুমকি দেন।কিন্তু আমারা থানায় গেলে সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে না পেয়ে ডিউটি অফিসারকে কল করি। তিনি এসে বিষয়টি শোনেন এবং বলেন,অপারেটর নেই। তখন সময় আনুমানিক সকাল ৮:৩০টা।

তার গাফিলতি দেখে আমি জকিগঞ্জ থানার ওসিকে কল দেই এবং বিষয়টি জানাই। তিনি ডিউটি অফিসারকে নির্দেশ দিলে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

পরে আমি সার্কেল মহোদয়কে ফোন করে জিডির কপি নিয়ে উনার অফিসে যাই। তিনি জিডির আইও আব্দুল্লাহ আল মোমেনকে কল দিয়ে আমাদের তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। থানার সামনের দোকানে বসে আমরা তাকে বিস্তারিত জানাই। তিনি বলেন,দেখছি, আপনারাও দেখেন।

সেদিন বিকেলে আমার বোন ও ভাগনি মুন্নি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে ওসিকে কল দেওয়া হয়। ঐ দিনও আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখোজি করি।

রাতে আমার বোন ও ভাগনি বাসায় এলে আলোচনা করি। রাত প্রায় ১২টার দিকে জকিগঞ্জ থানার ওসি আমাকে কল দিয়ে বলেন,পরদিন সকাল ১১টায় ভিকটিমের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে দেখা করতে।

পরদিন ০১/১০/২০২৫ তারিখে আমি, আমার বোন, ভাগনিদ্বয়, ইসমাঈল আলী ও কাওছার আহমদ থানায় যাই। ঐদিন থানার দারোগা আব্দুল্লাহ কাওছার আহমদের কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন।এবং তিনি বলেন নোমান উদ্দিনকে যেকোন ভাবে বের করে দিবেন।তখন আমি কাওছারের হাতে ২ হাজার টাকা দিয়ে বলি উনি যাহা চায় দেব তবে আমার লোককে বাহির করে দেন।

পাশাপাশি ওসি সাহেব ও বলেন, খুঁজাখুঁজি করলেই পাওয়া যাবে।তিনি বাড়ির জমি কার নামে জানতে চান। তখন আমার বোন জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তার স্বামী জমিটি তার নামে করে দিয়েছেন।

বাড়ি ফিরে আমরা দেখতে পাই আমাদের অনেক আত্মীয় স্বজন এসেছেন। বাজারের আমার দুলাভাইয়ের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীরা এসেছেন খুজ নিচ্ছেন। যেমন, রায়হান,হবি মিয়া, আব্দুল আজিজ,কবির ভাই সহ প্রমুখ।

দীর্ঘ আলোচনা শেষে কোনো সমাধান না পেয়ে আমরা ফিরে আসি। এরপর আমরা র‍্যাব-৯ এ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। গাড়ি আসার পরপরই শায়লার কেয়ারটেকার তেরা মিয়া আমাদের লাশের খবর জানান।পরে আমি আমার বোন ভাগনি সহ আত্মীয় স্বজন সবাই ঘর থেকে বের হয়ে ধানক্ষেতের মাধ্যদিয়ে গিয়ে আমার দুলাভাইয়ের লাশ শনাক্ত করি। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে আমি ঘরে ফিরে আমার মোবাইল থেকে ওসি জকিগঞ্জ কে কলে অবগত করি। তারপর আমার দুলাভাইয়ের ভাই রিয়াজ তার বাহিনী নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়।এতে তাজুল ও তান্নি আহত হন।তাদের হামলার শিকার হয়ে আমাদের আত্মরক্ষার্থে আমরা ঘরে অবস্থান করি।

Want your business to be the top-listed Media Company in Sylhet?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address

Sylhet