O U R S T O R Y

O U R S T O R Y

Share

"স্মৃতির পাতায় আমাদের পথচলার কিছু গল্প। ভালো লাগা আর ভালোবাসার এক যৌথ ডায়েরি।"
"হাজারো স্মৃতির ভিড়ে আমাদের জীবনের না বলা কিছু কথা। আমাদের সাথে এই যাত্রায় যোগ দিন। ✨"

16/01/2026

গল্পের নাম:
গন্তব্য যখন এক জোড়া চাকা
___________________________
​একসময় আমার পৃথিবীটা কেবল একটা মানুষকে কেন্দ্র করেই ঘুরত। অনেকটা সিনেমার পর্দার অক্ষয় কুমারের মতো—পাগলপন, জেদ আর এক বুক আশা নিয়ে তার পিছু পিছু ঘুরেছি দিনের পর দিন। ভেবেছিলাম, আমার এই নিস্বার্থ অপেক্ষা হয়তো একদিন তার মনের দরজায় কড়া নাড়বে। কিন্তু জীবন তো আর সিনেমা নয়। বাস্তবের চিত্রনাট্যটা লেখা ছিল অন্যভাবে।
​আমি যখন তার জন্য শহর চষে বেড়াতাম, সে তখন অন্য কারও সাথে নিজের ঘর বাঁধার স্বপ্নে বিভোর। শেষ পর্যন্ত সে অন্য একজনের হাত ধরে নতুন এক সংসারে থিতু হলো। তাকে না পাওয়ার যন্ত্রণাটা প্রথম দিকে বুক ফেটে কান্না হয়ে বেরোতে চাইত। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার কী জানেন? আমি তাকে ঘৃণা করতে পারিনি। আজও পারি না। সে অন্যের ঘরের আলো হয়ে থাকুক, হাসিখুশি থাকুক—এই দোয়াটাই এখন আমার প্রতিদিনের প্রার্থনা।
​তবে এই নিঃসঙ্গতার মাঝে আমি নিজেকে হারিয়ে যেতে দিইনি। যখন দেখলাম হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা বিসর্জন দিয়েও শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে, তখন আমি আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিলাম। এখন আমার সঙ্গী কোনো রক্ত-মাংসের মানুষ নয়, বরং এক জোড়া চাকা আর গর্জে ওঠা এক ইঞ্জিন।
​আমার নতুন ভালোবাসা—আমার বাইক।
​যেদিন প্রথম বাইকটির হ্যান্ডেল ধরলাম, মনে হলো এই তো সেই স্বাধীনতা যার খোঁজ আমি এতদিন ভুল জায়গায় করছিলাম। এখন আর কারো ফেরার অপেক্ষায় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। এখন আমি নিজেই নিজের গন্তব্য। পুরো পৃথিবী যখন একদিকে, আমি তখন আমার এই দুই চাকার রাজপুত্রকে নিয়ে অন্য দিকে।
​রাস্তার খোলা হাওয়া যখন হেলমেটের কাঁচ ভেদ করে আমার মুখে লাগে, তখন পুরনো সব স্মৃতি ধুলো হয়ে উড়ে যায়। সে এখন অন্যের ঘর সাজাচ্ছে, আর আমি সাজাচ্ছি আমার নতুন মাইলস্টোন। আমার বাইকের ইঞ্জিনের শব্দের কাছে এখন পৃথিবীর সব কোলাহল হার মেনে যায়।
​ভালোবাসা হয়তো বদলায়নি, শুধু তার রূপ বদলে গেছে। মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অবহেলার উত্তর আমি খুঁজে পেয়েছি পিচঢালা কালো রাস্তায়। সে সুখে থাকুক তার আপন নীড়ে, আর আমি না হয় সুখে থাকি আমার এই নতুন গতি আর অজানাকে চেনার নেশায়।

16/01/2026

ফিরে আসার আকুতি: "
বাবা, তোমাকে কতদিন দেখি না"
____________________________
​শহরের ব্যস্ত মোড়ে জ্যামে আটকে আছে অভিকের গাড়ি। বাইরে ঝুম বৃষ্টি পড়ছে। জানালার কাঁচ চুইয়ে আসা জলবিন্দুগুলোর দিকে তাকিয়ে অভিকের হঠাৎ মনে পড়ে গেল তার ছোটবেলার কথা।
​সেই ছোটবেলায় বৃষ্টি নামলে বাবা সাইকেল নিয়ে স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন। বাবার হাতে থাকতো একটা বড় কালো ছাতা। অভিককে ছাতার নিচে আগলে রেখে নিজে অর্ধেক ভিজে বাড়ি ফিরতেন বাবা। অভিক তখন বিরক্ত হয়ে বলত, "বাবা, তুমি ছাতাটা ঠিকমতো ধরো না কেন? দেখো তোমার কাঁধ ভিজে গেছে।"
​বাবা শুধু একটু হাসতেন। সেই হাসির অর্থ অভিক আজ বোঝে—বাবা আসলে নিজের ভিজে যাওয়া নিয়ে ভাবতেনই না, তাঁর সবটুকু মনোযোগ ছিল ছেলের যেন এক ফোঁটা ঠান্ডা না লাগে।
​আজ অভিকের দামি গাড়ি আছে, এসি আছে, কিন্তু সেই ভেজা কাঁধের আশ্রয়টা নেই। বাবা নেই আজ তিন বছর। কাজের চাপে, ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে ছুটতে অভিক শেষবার যখন বাড়ি গিয়েছিল, তখন বাবা খুব করে বলেছিলেন, "খোকা, আর দুদিন থেকে যা না!"
​অভিক ল্যাপটপে মুখ গুঁজে বলেছিল, "উফ বাবা! বুঝতেই তো পারছ কত প্রেসার। পরের বার এসে বেশিদিন থাকব।"
​সেই 'পরের বার' আর আসেনি। এক রাতে মায়ের ফোন এল, আর সব ওলটপালট হয়ে গেল।
​আজ বাড়ি ফিরে অভিক বাবার ঘরের আলমারিটা খুলল। সেখানে বাবার পুরোনো একটা ঘড়ি আর একটা চশমা রাখা। চশমার ফ্রেমটা একপাশে একটু ভাঙা, বাবা আঠা দিয়ে জোড়া লাগিয়ে চালিয়ে দিতেন। অথচ অভিকের জন্য প্রতি ঈদে সবচেয়ে দামি জামাটা আনতেন তিনি। অভিক চশমাটা হাতে নিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠল।
​সেদিন রাতে অভিক ডায়েরিতে লিখল:
​"বাবা, আজ তিন বছর চার মাস দশ দিন তোমাকে দেখি না। তোমার সেই খসখসে হাতের স্পর্শ পাই না। কেউ আর এখন বলে না—'সাবধানে যাস খোকা'। মা যখন তোমার কথা ভেবে আনমনে জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকে, আমি তখন অপরাধবোধে কুঁকড়ে যাই। আমি সফল হয়েছি বাবা, কিন্তু এই সাফল্যের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মতো পাহাড়সম মানুষটা তো পাশে নেই।"
​বাইরে বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু অভিকের চোখের জল থামছে না। সে বুঝতে পারছে, বাবাদের কোনো বিকল্প হয় না। তারা নিঃশব্দে বটবৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে যায়, আর যখন চলে যায়, তখন পুরো পৃথিবীটা তপ্ত মরুভূমি মনে হয়।
​গল্পের ছোট বার্তা
​বাবা মানে এক জীবন্ত সুপারহিরো, যিনি নিজের সবটুকু কষ্ট আড়াল করে সন্তানকে হাসাতে জানেন। যাদের বাবা বেঁচে আছেন, তারা যেন অন্তত একবার ফোন করে বা কাছে গিয়ে বলেন~"বাবা, তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

16/01/2026

নিস্তব্ধ ভালোবাসার গল্প: "
মায়ের সেই পুরোনো আঁচল"
________________________
​আয়ান এখন শহরের এক বড় কর্পোরেট অফিসের ম্যানেজার। সারাদিন ফাইল, ল্যাপটপ আর মিটিং নিয়ে তার প্রচণ্ড ব্যস্ততা। গ্রামের বাড়িতে থাকা মায়ের সাথে কথা বলার সময়টুকুও যেন তার হয়ে ওঠে না। মা মাঝে মাঝে ফোন করলে আয়ান বিরক্ত হয়ে বলে, "মা, এখন ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।" সেই ‘পরে’ আর কোনোদিন আসে না।
​এক ছুটির দিনে অনেকদিন পর আয়ান বাড়ি ফিরল। মা দরজায় দাঁড়িয়ে হাসিমুখে অপেক্ষা করছিলেন। আয়ান দেখল মায়ের চুলগুলো অনেক সাদা হয়ে গেছে, কপালে ভাঁজ পড়েছে। কিন্তু মায়ের চোখের সেই চিরচেনা স্নেহ মাখানো চাহনিটা একটুও বদলায়নি।
​রাতে খাওয়ার টেবিলে আয়ানের প্রিয় সব রান্না সাজিয়ে বসে আছেন মা। ইলিশ মাছের ঝোল, কচু শাক আর ডাল। আয়ান খেতে খেতে হঠাৎ খেয়াল করল, মা তাকে পরম মমতায় পাখা দিয়ে বাতাস করছেন। আয়ান বলল, "মা, এখন তো এসি আছে, তুমি কেন কষ্ট করছ?"
​মা মৃদু হেসে বললেন, "এসি তো ঘর ঠান্ডা করে বাবা, কিন্তু তোর কপালে যে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে, সেটা তো আমি হাত দিয়ে না মুছলে শান্তি পাই না।"
​খাওয়ার পর আয়ান আলমারি থেকে নিজের একটা পুরোনো সোয়েটার খুঁজতে গিয়ে দেখল, ভেতরে একটা ছোট কাঠের বাক্স। কৌতুহলবশত বাক্সটি খুলতেই আয়ান স্তব্ধ হয়ে গেল। সেখানে জমানো আছে আয়ানের ছোটবেলার ভাঙা খেলনা গাড়ি, তার প্রথম আঁকা অগোছালো একটা ছবি, আর কয়েকটা জমানো কয়েন।
​আয়ান মনে করতে পারল, এই কয়েনগুলো সে ছোটবেলায় মা’র কাছে বায়না করে চেয়েছিল আইসক্রিম খাওয়ার জন্য। মা তখন বলেছিলেন তাঁর কাছে টাকা নেই। কিন্তু আজ সে বুঝতে পারল, মা নিজে না খেয়ে সেই টাকাগুলো জমিয়ে রেখেছিলেন আয়ানের ভবিষ্যতের কোনো এক প্রয়োজনে। এমনকি মা তাঁর নিজের জন্য গত পাঁচ বছরে একটা নতুন শাড়িও কেনেননি, অথচ প্রতি মাসে আয়ানের পাঠানো টাকার পাই পাই হিসাব মা ডায়েরিতে লিখে রেখেছেন—যাতে আয়ানের বিপদে সেই টাকা আবার তাকে ফিরিয়ে দিতে পারেন।
​আয়ানের চোখের কোণে জল চলে এল। সে বুঝতে পারল, পৃথিবীর সব সম্পর্ক লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে চললেও, মায়ের ভালোবাসা একমাত্র জিনিস যা কোনো কিছুর বিনিময় চায় না। সে দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরল।
​মা অবাক হয়ে বললেন, "কী হয়েছে রে বাবা?"
​আয়ান শুধু কাঁপা গলায় বলল, "মা, আমি অনেক দেরি করে ফেললাম তোমার এই নিঃশব্দ ভালোবাসা বুঝতে। আমাকে ক্ষমা করে দিও।"

20/12/2025

২৫ সাল শেষ হয়ে যাচ্ছে.?
তোমার সাফল্য কতটুকু হয়েছে
আর কতটুকু ব্যর্থতা

কমেন্টে জানাও প্লিজ.?@

10/12/2025

একটা মানুষ একটা মানুষকে কিভাবে হত্যা করতে পারে|মানুষ হত্যা মহাপাপ এটা কি তারা ভুলে যায়|আমার বুঝে আসেনা

08/10/2025

ভুল থেকে শিক্ষা

জীবনে চলার পথে মানুষ ভুল করবেই,
ভুল ছাড়া কোনো সাফল্যের গল্প লেখা যায় না।
কারও ভুল তাকে হারিয়ে দেয়,
আবার কারও ভুলই হয়ে ওঠে তার জয়ের সোপান।

ভুল করা লজ্জার নয় —
লজ্জার হলো সেই ভুলে থেমে যাওয়া,
নিজেকে না বদলানো, না শেখা।

জীবন এক দীর্ঘ পথচলা,
যেখানে প্রতিটি হোঁচট আমাদের শেখায় —
কীভাবে পরেরবার একটু ভালোভাবে হাঁটতে হয়।

তাই নিজের ভুলকে ভয় পেয়ো না,
তাকে আলিঙ্গন করো, বুঝে নাও, শিখে নাও।
কারণ যেদিন তুমি ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারবে,
সেদিন থেকেই শুরু হবে তোমার আসল জয়যাত্রা। 🌅

08/10/2025

ভুল থেকে আমরা কী শিখছি।
যদি কেউ নিজের ভুল বুঝে, তা থেকে শিক্ষা নেয়, নিজেকে একটু একটু করে পরিবর্তন করে — তখন সেই ভুলটাই তার জীবনের সম্পদ হয়ে যায়।
আর যদি কেউ একই ভুল বারবার করে, দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপায়, বা শেখার চেষ্টা না করে — তখনই জীবনটা থেমে যায়, ব্যর্থ মনে হয়।

একটা কথায় বলা যায় —

"ভুল না করা নয়, ভুল বুঝে নিজেকে নতুন করে গড়া — এটাই জীবনের সাফল্য।"

04/10/2025

💜🌼
কেউ অবহেলায় ছুঁড়ে ফেলে দেয়,
ভাবেনা তার কোনো দাম নেই বোধহয়।
আবার কেউ সেই একই জিনিসকে,
ফুল ভেবে কুরিয়ে নেয় সযত্নে,
হৃদয়ের কোণে রাখে অমূল্য রত্ন হয়ে। 😊❤️

29/09/2025

//জীবন সাজানোর গল্প !!

তন্ময় ছোটবেলা থেকেই ভেবেছিল, জীবন মানেই অনেক টাকা-পয়সা, বড় বাড়ি, দামি গাড়ি আর আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন। তার চারপাশে যাদের দেখত সফল, তারা সবাই যেন এইসব অর্জনের ভিড়ে হারিয়ে যেত।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তন্ময়ের ভেতরে প্রশ্ন জমতে লাগল—
সুখ কি সত্যিই কেবল বস্তু আর অর্থের ভিড়ে পাওয়া যায়?

একদিন হঠাৎ একটা ছোট্ট চাকরি পেল সে। বেতন খুব বেশি নয়, তবে টিকে থাকার মতো যথেষ্ট। প্রথমে মন খারাপ হয়েছিল, কারণ স্বপ্ন তো ছিল অনেক বড়! কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝল, এই সামান্য আয়েই জীবন সাজানো যায়—যদি পাশে থাকে একজন প্রিয় মানুষ আর নিজের ভেতরে থাকে অটল মনোবল।

দিন গড়াতে লাগল। ছোট ছোট সঞ্চয়, সামান্য খুশি, আর ভালোবাসার মানুষটির সাথে ভাগাভাগি করা মুহূর্তগুলোই হয়ে উঠল তার জীবনের আসল রত্ন।

তন্ময় তখন উপলব্ধি করল—
👉 জীবন সাজাতে কিছুই লাগে না।
👉 লাগে শুধু শক্ত মনোবল, কিছুটা অর্থ, আর সেই বিশেষ মানুষটি, যে তোমাকে বিশ্বাস করবে, পাশে থাকবে সব মুহূর্তে।

29/09/2025

🌸 সৌন্দর্য নয়, চরিত্রই আসল! 🌸

সুন্দর চেহারা শুধু চোখ কেড়ে নেয়,
কিন্তু উত্তম চরিত্র হৃদয় জয় করে।

রূপে মুগ্ধতা থাকে ক্ষণিকের জন্য,
চরিত্র থেকে যায় চিরস্থায়ী স্মৃতির মতো।

চেহারা দেখে ভালোবাসা শুরু হতে পারে,
কিন্তু টিকে থাকে শুধু চরিত্রের উপর ভর করে।

হাজার রূপ, হাজার মুখ পেরিয়ে—
শেষ পর্যন্ত মানুষ মনে রাখে
কে তার সুখ-দুঃখের প্রকৃত অংশীদার ছিল।

Want your business to be the top-listed Media Company in Manikganj?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Saturia
Manikganj
1810