Easy Life
04/09/2025
আবারো ১৭ জেলে ধরে নিয়ে গেল, কোথায় ইউনুস-খলিলের অ-সরকার?
আরও ১৭ জন জেলেকে তুলে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। তিনটা ট্রলার নিয়ে। রোববার সন্ধ্যায় সেন্টমার্টিনের কাছেই। এভাবে গত ২৬ দিনে ৭৮ জন মানুষকে নিয়ে গেছে ওরা। ৭৮ জন! কী করছে আমাদের সরকার? কোথায় আমাদের কোস্টগার্ড? নৌবাহিনী কোথায়?
আজ রাতে কত মা-বাবা ঘুমাতে পারবেন না। কত স্ত্রী জানালার পাশে বসে থাকবেন। কত ছেলেমেয়ে বাবার জন্য কাঁদবে। এই দায় কার?
ইউনুস সাহেব নোবেল প্রাইজ নিয়ে বিদেশে ঘুরে বেড়ান। মাইক্রোক্রেডিটের বই লেখেন। কিন্তু আমাদের জেলেরা যখন সমুদ্রে গিয়ে আর ফেরেন না, তখন উনি কোথায়? কী করেন? কোনো বিবৃতি আসে? কোনো পদক্ষেপ নেন?
আর খলিল? নিরাপত্তা উপদেষ্টা হওয়ার আগেই ষড়যন্ত্র করে একটা দেশের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করতে পারেন। রাতারাতি ক্ষমতার হাতবদল করতে পারেন। কিন্তু ৭৮ জন বাংলাদেশি যখন বিদেশি সন্ত্রাসীদের কাছে বন্দি, তখন কোথায় উনার সেই ক্ষমতা? কোথায় সেই তৎপরতা?
বিজিবি কর্নেল সাহেব ২৮ আগস্ট বলেছিলেন ৫১ জন জিম্মি আছে। এখন ৭৮ জন। মানে আরো ২৭ জন বেড়ে গেল। এই হিসাব কি উনি রাখেন নাকি শুধু সংখ্যা বলেই দায়িত্ব শেষ? কোনো পরিকল্পনা আছে? কোনো অপারেশন? না শুধু প্রেস কনফারেন্স করে সংখ্যা বলেই খালাস?
আফসার, আবু তাহের, মোহাম্মদ আলমগীর - এই নামগুলো কার কাছে কিছু মনে হয় না? এরা কারো সন্তান না? কারো স্বামী না? কারো বাবা না? এদের পরিবারের কাছে এই নামগুলোর মানে আছে। কিন্তু আমাদের শাসকদের কাছে এগুলো শুধু পরিসংখ্যান।
নুরুল ইসলামের ট্রলার পালিয়ে এসেছে। উনি খবর দিয়েছেন। কিন্তু এই খবর পেয়ে কী হলো? কোস্টগার্ড কি গেছে? নৌবাহিনী কি ছুটেছে? না কি শুধু ফাইলে লিখে রেখে দিয়েছে?
জুলাই মাসে যখন রাস্তায় দাঙ্গার আগুন জ্বলেছে, তখন তো সবাই খুব তৎপর ছিলেন। মাত্র কয়েক সপ্তাহেই একটা সরকার পাল্টে ফেলেছেন। কিন্তু এই ৭৮ জন জেলের জন্য কী করেছেন? কোনো জরুরি বৈঠক? কোনো বিশেষ অপারেশন? না কি গা-ঢাকা দিয়ে থেকেছেন?
আমাদের মৎস্যজীবীরা কী অপরাধ করেছেন? সমুদ্রে গিয়ে মাছ ধরেছেন। নিজের দেশের জলসীমায়। এটাই তো তাদের কাজ। তাদের জীবিকা। কিন্তু এখন সেই কাজ করতে গিয়েই প্রাণের ভয়। নিজের দেশের সমুদ্রে গিয়েই আর ফিরতে পারেন না।
মিয়ানমারে যুদ্ধ চলছে, এটা সবাই জানে। আরাকান আর্মি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, এটাও জানা কথা। তাহলে আমাদের প্রস্তুতি কোথায়? আমাদের পরিকল্পনা কী? নাকি শুধু দেখে যাচ্ছি আর গুনে রাখছি কতজন নিয়ে গেল?
বিদেশি অর্থায়নের কথা বলেন। জেহাদি সংগঠনের কথা বলেন। কিন্তু এই ৭৮ জন জেলের পেছনে কোনো বিদেশি হাত আছে? নাকি আপনাদের কাছে এরাই বিদেশী? না এরা শুধুই গরিব মানুষ যারা পেট চালানোর জন্য সমুদ্রে যান?
সেন্টমার্টিনের জেটিঘাটে আজ কী অবস্থা? জেলেরা কি এখনো সাগরে যেতে সাহস পান? নাকি ভয়ে বসে থাকেন? তাদের সংসার কীভাবে চলে? বউ-বাচ্চারা কী খায়? এসব প্রশ্ন কি কারো মাথায় আসে?
আমরা স্বাধীন দেশ। সার্বভৌম রাষ্ট্র। কিন্তু আমাদের মানুষ আমাদের পানিতে গিয়ে বিদেশি সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত হচ্ছে। এর চেয়ে বড় লজ্জা আর কী হতে পারে? কোন মুখে বলি আমরা স্বাধীন?
আগস্ট মাসের ৫ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত ২৩ দিনে ৬৩ জন নিয়ে গেছে। এখন আরো ১৭ জন। মানে প্রতিদিন গড়ে তিনজন করে! এই হার চলতে থাকলে আগামী মাসে আর কতজন হারাবো? এই হিসাব কি কেউ করেছে?
ট্রলার মালিকরা তথ্য দিচ্ছেন। খবর দিচ্ছেন। কিন্তু সরকারি কোনো পদক্ষেপ নেই। কোনো পরিকল্পনা নেই। যেন কিছুই হচ্ছে না। যেন এসব আমাদের দেশের বিষয়ই না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী করছে? মিয়ানমারের সাথে কোনো আলোচনা হয়েছে? জাতিসংঘে গেছেন? নাকি শুধু ফাইল নিয়ে বসে থেকেছেন? কূটনীতি বলতে কি শুধু ভদ্রতার সাথে চুপ করে থাকা?
গলাচিপার আফসার, তাহের, আলমগীরের পরিবার আজ কী অবস্থায় আছে জানেন? তারা কার কাছে যাবেন? কোথায় অভিযোগ করবেন? কার কাছে বিচার চাইবেন? নাকি শুধু বসে বসে অপেক্ষা করবেন?
বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন সময় চলছে এখন যখন আমাদের জেলেরা নিজের দেশের সমুদ্রেই নিরাপদ না। যখন আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী শুধু মাথা গুনতে পারে, কিছু করতে পারে না। যখন আমাদের শাসকরা ক্ষমতা দখলে পারদর্শী কিন্তু চালাতে পুরোপুরি অক্ষম।
এই লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, তখনো হয়তো আরো কোনো ট্রলার আরাকান আর্মির টার্গেটে। আরো কোনো জেলে বিপদে। আরো কোনো পরিবার অন্ধকারে। কিন্তু ইউনুস-খলিলের অবৈধ দখলদার অ-সরকার তখনো ঘুমিয়ে। হয়তো তখনো ফাইলের স্তূপে চাপা পড়ে আছে এসব খবর।
কখন থামবে এই লাঞ্চনা? কখন আমাদের জেলেরা নিরাপদে সমুদ্রে যেতে পারবেন? কখন আমরা মাথা উঁচু করে বলতে পারবো আমরা আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করতে পারি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কে দেবে? কবে দেবে?
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Website
Address
9330