MITU
14/04/2026
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩
সবাইকে বৈশাখের শুভেচ্ছা
সবাইকে পলাশের আগুনঝরা বসন্তের শুভেচ্ছা।
শুভ বসন্ত ❤️
06/11/2025
বাইকে করে ভারত ভ্রমণ ( দিন -৪)
আজকের দিনে আমাদের গন্তব্য শিলিগুড়ি। শিলং থেকে দূরত্ব ৫০০ কিলোর উপরে।অনেক লম্বা সফর। দুইজনে মিলে অনেক হিসেব নিকেশ করে খুব সকাল সকাল বের হলাম।বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়ায় আমাদের রাইড শুরু হল।ঘুমন্ত শিলং শহর দেখবো ভেবেছিলাম। অমা দেখি বেশ ভালই গাড়ি বেরিয়ে গেছে রাস্তায়।উমিয়াম লেকের রাস্তা ধরে এগুচ্ছি।রাস্তা থেকেই খুব সুন্দর ভিও পাওয়া যায় এই লেকের,পাখির চোখে দেখার মত।আগের বার যখন এসেছিলাম দুইজনে একটা পুরো দিন কাটিয়েছিলাম এই লেকে। তাই এবার আর এখানে নামলাম না।এখানে বাঁধ দিয়ে পাওয়ার প্ল্যান্ট করা হয়েছে বলেই এই লেকের জন্ম।আমরা দেখতে দেখতে এগিয়ে চললাম।
শিলিগুড়ি নামটা শুনলেই অনেক আপন আপন লাগে।ছোট বেলায় সমরেশ মজুমদারের বইতে এই শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, ডুয়ার্সের চা-বাগান, জংগল,রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতায় দার্জিলিং এসব নাম পরে এত আপন হয়ে গেছে না মনে হয় এসবই খুব চিনি।পথে চলতে যখন পরিচিত নাম গুলি দেখি খুব আনন্দ হয়।
সকাল থেকে একটানা চালিয়ে গৌহাটি শহর ছেড়ে রাস্তার পাশে একটা হোটেল দেখে থেমে গেলাম।ছোট খাট কোন ঝা চকচকে ভাব নেই কিন্তু পরিস্কার। বেশ ভালই লেগে গেল। নেমে খাবারের কথা জিগেস করতেই শুনলাম ভাত আছে, আর পায় কে আমাদের।খুব আয়েশ করে দুইজনে গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সাথে আলু ভাজা, সবজি, ডাল, মাছ দিয়ে পেট ভরে খেলাম।দুইজন বুড়ো চাচা মিলে হোটেল চালায়, তারা খুব যত্ন করে খাওয়ালো আমাদের।একটু পর পর কিছু লাগবে কিনা,সব ভালো লাগছে কিনা জিজ্ঞেস করছিল।খাবার খুব মজার ছিল আর দাম খুবই কম সাথে তাদের ব্যবহার খুবই ভালো। দিনের শুরুটা খুব সুন্দর। আমার জামাইয়ের পেট ভরা থাকলে মন মেজাজ খুবই ভালো থাকে।
এরপর আমরা সারাদিনে ছোট ছোট কিছু ব্রেক দিয়েছি। আমার চা আর আমার জামাইয়ের পানি খাওয়ার জন্য। এইরকম ট্যুরে পানি খাওয়া খুবই জরুরী। আমরা প্রচুর পানি খেয়েছি সাথে নানা রকম জুস।কিন্তু আজকের দিনে আমাদের অনেক দূর পথ পারি দিতে হবে তাই আমরা কোথাও খুব দেরি করিনি।কিন্তু চা খাওয়ার জন্য যেখানেই নেমেছি সবাই খুব আন্তরিক ভাবে কথা বলেছে।বাইকে করে ঘুরছি, কোথায় যাব,কতদিন থাকব,তারপর যখন শোনে বাংলাদেশ থেকে এসেছি তখন আরও কত প্রশ্ন। আসামে প্রচুর বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত লোক আছে।আসলে আমাদের পাশের যত রাজ্য আছে সবগুলোতেই কম বেশি বাংলাদেশের লোক আছে।মানে যাদের দাদা পরদাদারা অইদিকে চলে গেছিল তারপর থেকে ওদিকেই বাস।অনেকের আবার বাংলাদেশে আত্তীয় আছেন,তাদের এইদেশে আসাযাওয়া আছে।আসামের অনেকের ভাষায় এদিকের আঞ্চলিকতার টান আছে।এইসব নিয়ে না চাইতেও অনেক গল্প হয়ে গেল, যেহেতু সময় কম।তবে দারুণ অভিজ্ঞতা এদের সাথে কথা বলে,যেহেতু ভাষায় মিল আছে।
এমন করেই টুক টুক করে আমরা সন্ধ্যা নাগাদ শিলিগুড়ি পৌছে গেলাম।মজার বেপার হইল সারাদিনে আমরা কোন ছবি ভিডিও করি নাই।কেন করি নাই জানি না।করি যে নাই তা টের পাইলাম আজকের পোস্ট লিখতে গিয়া। এত এত খাইছি সেগুলারও ছবি নাই।তবে আজকে লিখতে গিয়ে সারাদিনের গল্প গুলো মনে পরছে, তাদের মুখগুলো মনে পরছে সেটাই অনেক আনন্দের।
শিলিগুড়িতে আসার পর আমাদের আগের ঠিক করা ঠিকানায় উঠে পরলাম।আমাদের অঞ্জন দাদা আগেই আমাদের কষ্ট কমিয়ে রেখেছিলেন হোটেল বুক করে দিয়ে।রুমে উঠে ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে চলে গেলাম শান্তনু দাদার সাথে দেখা করতে রোড হাউজ ক্যাফেতে। দাদার সাথেও আগের বার বেশ আড্ডা দিয়েছিলাম।এবারও জম্পেশ আড্ডা সাথে চা কফি।আমাদের ট্যুর নিয়ে অনেক কথা হল।দাদা আমাদের অনেক হেল্প করেছেন, অনেক ইনফরমেশন দিয়েছেন যা জরুরী ছিল।দাদা সবসময় হাসিমুখ মানুষ। খুব ভালো সন্ধ্যা কাটিয়ে আবার কোন এক সময় দেখা হবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দাদার থেকে বিদায় নিলাম।তারপর রুমে ফিরে সেই ঘুম।প্রায় সারে পাচশ কিলো রাইড করে আমাদের আর শক্তি নেই জেগে থাকার। পরদিন যে আবার পথ চলা আছে।
চলবে.........
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Website
Address
1700