Blogger Api

Blogger Api

Share

In the world we have two lives the second one
Starts when we realize that we have
only life and it's previous

☆Life goes on so live on☆

26/03/2026

#হৃদয়ের_স্পন্দন_তুই
#তাসলিমা_তানজুম
#পর্ব -১৩

[ অনুমতি ব্যতীত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ]

রোদেলার বুকের ভেতরটা দুরুদুরু কাঁপছে। ওর জানা সব দোয়া মনে মনে পড়ে নিজের বুকে ফুঁ দিয়ে নিল। তারপর খানিকটা ইতস্তত করে ঋদ্ধর বন্ধ দরজায় আলতো করে নক করল। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে রোদেলা আরো দুবার নক করল।

খানিক বাদে ওপাশ থেকে ঋদ্ধর গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এল,

—“কে?”

রোদেলা আমতা আমতা করে নিচু স্বরে বলল,

—“আ..আমি রো..রো.রোদেলা। আ..পনার জন্য খা..বার এনেছিলাম।”

—“আমি খাব না, চলে যাও এখান থেকে।” ওপাশ থেকে ঋদ্ধর নির্লিপ্তভাবে উত্তর এল।

ঋদ্ধর মুখ থেকে 'যাও এখান থেকে' শুনে রোদেলার খুব অভিমান হলো। এক মুহূর্তেই ওর কান্না পেয়ে গেল। মনে মনে ভাবল,
"ফুলগুলো ছিঁড়েছি বলে সবার সামনে ওভাবে অপমানিত হতে হলো, মা-বাবাও কত বকলেন! আর এখন ওনার জন্য এত কষ্ট করে খাবার নিয়ে এলাম, তাতেও কত দেমাগ! খাবে না তো না খাবে, আমার কী? না খেয়ে উপোস করে থাকুক সারারাত। ঘোড়ার ডিমের লোক একটা।"

ও ধুপ ধাপ পা ফেলে দরজার সামনে থেকে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু কয়েক পা যেতেই রোদেলার পা দুটো যেন আটকে গেল। ও মাঝপথে থমকে দাঁড়াল। চোখের সামনে ভেসে উঠল সকাল থেকে না খাওয়া ঋদ্ধর সেই ক্লান্ত মুখটা। বড় মা বলছিলেন, সে নাকি পার্টিতেও কিছু ছোঁয়নি। সারারাত এভাবে খালি পেটে থাকলে তো নির্ঘাত শরীর খারাপ করবে। লোকটা যতটাই রাগী হোক না কেন, ওনাকে এভাবে অভুক্ত রেখে ও নিজে কি শান্তিতে ঘুমাতে পারবে?

নিজের মনকে হাজার বুঝিয়েও রোদেলা আর সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারল না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে রোদেলা আবার ফিরে এল ঋদ্ধর বন্ধ দরজার সামনে। বন্ধ দরজার কপাটে কপাল ঠেকিয়ে খুব নিচু স্বরে ডাকল,

—“শুনুন, আমি অনেক কষ্ট করে আপনার জন্য এই খাবার নিয়ে এসেছি। সকাল থেকে আপনি ঠিকঠাক কিছু খাননি। আপনি যদি এখন দরজা না খোলেন, আমি কিন্তু এখান থেকে এক পা-ও নড়ব না।”

ভেতর থেকে কয়েক মুহূর্ত কোনো সাড়া শব্দ পেল না।এক থমথমে নীরবতা দরজার ওপাশে। রোদেলা ভাবল, ঋদ্ধ কি তবে সত্যিই খুব বেশি রেগে আছে? নিস্তব্ধতা ভেঙে কিছুক্ষণ পর দরজাটা শব্দহীনভাবে খুলে গেল।

ঋদ্ধ দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এক হাত দরজার চৌকাঠে রাখা, অন্য হাত পকেটে। চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। ও কিছুক্ষণ অনিমেষ দৃষ্টিতে রোদেলার দিকে তাকিয়ে রইল। রোদেলার এই জেদি মায়ামাখা চেহারাটা দেখে ঋদ্ধর রাগটা যেন মুহূর্তেই গলে জল হয়ে গেল। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করল।

—“এখন কেন এসেছ? বলেছি তো আমার খিদে নেই,” ঋদ্ধর গলায় একরাশ ক্লান্তি।

রোদেলা এবার সরাসরি ঋদ্ধর চোখের দিকে তাকাল।
খাবারের ট্রে-টা শক্ত করে ধরে বলে উঠল,

—“খিদে নেই বললেই হলো? সকাল থেকে কিছু খাননি, দুপুরেও না। এখন দয়া করে একটু সরে দাঁড়ান, আমাকে ভেতরে যেতে দিন। আর নয়তো আমার হাতের এই ভারী ট্রে-টা আপনি ধরুন। দেখতেই তো পাচ্ছেন আমি আর এটা ধরে রাখতে পারছি না, আপনার মনে কি একটুও দয়া-মায়া নেই?”

ঋদ্ধ কিছুটা অবাক হয়ে রোদেলার মুখের দিকে তাকাল। ওর এই সোজাসাপ্টা অভিমানী কথা শুনে ঋদ্ধ আর না করতে পারল না। নিঃশব্দে একপাশে সরে দাঁড়িয়ে রোদেলাকে ভেতরে আসার জায়গা করে দিল। রোদেলা বড়বড় পা ফেলে ঘরের ভেতরে ঢুকে টি-টেবিলে ট্রে-টা রাখল। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল,

—“নিজের শরীরের ওপর এভাবে রাগ দেখিয়ে কী লাভ? চুপচাপ খেয়ে নিন তো!”

রোদেলার এই শাসন মেশানো যত্নটুকু ঋদ্ধর ভেতরটা এক মুহূর্তের জন্য এলোমেলো করে দিল। দরজায় ওভাবেই দাঁড়িয়ে নিজের গাম্ভীর্য অটল রেখে কণ্ঠস্বরে কিছুটা কাঠিন্য ধরে রাখার চেষ্টা করল।

—“সব কটা রক্তজবা ছিঁড়ে এখন শাসন করতে এসেছ? তুমি তো জানোই ফুলগুলো আমার কতটা শখের ছিল। তবু কেন করলে এমনটা?”

রোদেলার মুখটা মুহূর্তেই ছোট হয়ে এল। ও অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। আসলেও তো, ফুলগুলো ঋদ্ধর খুব প্রিয় ছিল — ভুলটা ও করেই ফেলেছে। কিন্তু পরক্ষণেই আগের দিনের সেই অপমানের কথা মনে পড়ে ওর চোখে জল এসে গেল। ও মাথা নিচু রেখেই ভাঙ্গা গলায় বলল,

—“এখানে আমার কী দোষ বলুন তো? আমাকে শুধু শুধু দোষ দেবেন না। আপনি আমার গায়ে হাত তুলেছিলেন বলেই তো আমি রাগের মাথায় ওসব করেছি। তখন আমার মনের ভেতর কতটা কষ্ট হচ্ছিল, সেটা কি একবারও ভেবে দেখেছেন? আপনি যদি গায়ে হাত না তুলতেন, তবে আমি কখনো আপনার শখের ফুলগুলো ছিঁড়তাম না। সব দোষ আপনার, আমার কোনো দোষ নেই!”

বলতে বলতে রোদেলার শেষ কথাগুলো যেন গলার কাছে দলা পাকিয়ে এল। ও আর কথা বলতে পারল না। ঋদ্ধ কিছুটা হকচকিয়ে গেল রোদেলার এই পালটা যুক্তিতে।ঋদ্ধ একদমই আশা করেনি যে রোদেলা এভাবে নিজের জমানো কষ্টের কথাগুলো সরাসরি বলে দেবে। রোদেলার কাঁচুমাচু মুখ আর চোখের কোণে জমে থাকা জল দেখে ঋদ্ধর রাগটা মুহূর্তেই কেমন যেন মায়ায় বদলে গেল। স্থির দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল রোদেলার দিকে। ভেতরকার কঠোরতাটুকু যেন এক নিমিষেই হালকা হয়ে এল। মনে মনে একটু হাসল, কিন্তু রোদেলা তাকাতেই মুখটা আবার শক্ত করে ফেলল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে হঠাৎ বলল,

—“ঠিক আছে, বুঝলাম সব দোষ আমার। এখন চুপ করো। আমি খাব, তবে একটা শর্ত আছে।”

ঋদ্ধ চুপচাপ ধীর পায়ে সোফায় গিয়ে বসল। সামনের টেবিলের ওপর ল্যাপটপটা রেখে অফিসের কয়েকটা ফাইল ছড়িয়ে পাশে রাখল। একটা ফাইল উল্টেপাল্টে দেখার ভান করে এমন ভাব করল যেন ও ভীষণ ব্যস্ত। রোদেলা ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইল। ঋদ্ধর হঠাৎ এই ব্যস্ততা দেখে ও খানিকটা অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করল,

—“শর্তটা কী, তা তো বললেন না?”

ঋদ্ধ ফাইলে দৃষ্টি স্থির রেখেই গম্ভীর গলায় বলল,

—“শর্ত একটাই। আমি এখন অফিসের খুব ইম্পর্ট্যান্ট কাজ করছি, তাই হাত দিয়ে খেতে পারব না। তুমি আমাকে খাইয়ে দাও।”

রোদেলার চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল। ও যেন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছে না! খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে ও ঋদ্ধর হাতের দিকে তাকিয়ে বলল,

—“আমি খাইয়ে দেব মানে? আপনার হাত দুটোতে কী হয়েছে শুনি? ফোস্কা পড়েছে নাকি? নিজের হাত দিয়ে খেতে পারেন না? শখ কত, আমাকে বলছেন খাইয়ে দেওয়ার জন্য, এ্যাঁ!”

ঋদ্ধ হাতের ফাইলটা টেবিলের ওপর রেখে রোদেলার দিকে একবার শান্ত চোখে তাকাল। তারপর ল্যাপটপটা পায়ের উপর রেখে কিবোর্ডে আঙুল চালাতে চালাতে খুব নির্বিকার গলায় বলল,

—“ফোস্কা পড়েনি, তবে দেখতেই তো পাচ্ছ হাত দিয়ে খুব ইম্পর্টেন্ট কাজ করছি। এখন কাজ ফেলে উঠতে গেলে সব এলোমেলো হয়ে যাবে। তুমি যদি খাইয়ে দিতে পারো, তবেই আমি খাব। আর না পারলে এই খাবার নিয়ে চলে যেতে পারো।”

ঋদ্ধর কথা শুনে রোদেলা এক মুহূর্ত ওর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বেশ কড়া গলায় বলল,

—“অফিসের কাজে আপনার হাত দুটো এতই যদি ব্যস্ত থাকে, তবে তো একটা বিয়ে করলেই পারেন! আপনি আরাম করে বসে ল্যাপটপে কাজ করবেন, আর আপনার গুণবতী বউ আপনাকে পাশে বসে যত্ন করে খাইয়ে দেবে। আমার ওপর কেন হুকুম চালাচ্ছেন শুনি?”

বিয়ের কথা শুনে ঋদ্ধর ঠোঁটের কোণে সামান্য একটু হাসি ফুটে উঠল। কিন্তু রোদেলা খেয়াল করার আগেই সেই হাসিটা মিলিয়ে গিয়ে মুখে আগের মতো গাম্ভীর্য ফিরে এল। ঋদ্ধ এবার ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে খুব নিষ্পৃহ গলায় বলল,

—“বিয়ে তো করবই, কিন্তু এখন তো আর কনে খুঁজতে বের হতে পারছি না। আপাতত তো তুমিই আছ, তো খাইয়ে দেবে নাকি আমি না খেয়েই থাকব?”

ঋদ্ধর শেষ কথাটা শুনে রোদেলার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল। এক অজানা শিহরণে ও কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে রইল। 'আপাতত তুমিই আছ' -এই সামান্য কয়েকটা শব্দ কেন যেন ওর বুকের ভেতরটা ওলটপালট করে দিচ্ছে। লোকটা কি হুটহাট এমন কথা বলে ওকে অপ্রস্তুত করে দিতে খুব আনন্দ পায়?

রোদেলা নিজের ভেতরের এই অদ্ভুত অস্থিরতাটা সামলে নিল। আর কোনো কথা না বাড়িয়ে প্লেটটা নিয়ে ও ঋদ্ধর পাশেই সোফায় একটু জায়গা করে বসল। ছোট এক টুকরো রুটি ছিঁড়ে তাতে খানিকটা সবজি ভাজি মেখে ও ঋদ্ধর মুখের সামনে ধরল।
একটু বিরক্তির সুরে বলল,

—“অফিস থেকে ফেরার পরও কি এভাবে কাজ নিয়ে পড়ে থাকতে হয়? আপনি কি কাজ ছাড়া দুনিয়াতে আর কিছুই ইম্পরট্যান্ট মনে করেন না? এই নিন, মুখ হা করুন আর আমাকে উদ্ধার করুন তো।”

ঋদ্ধ ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকেই মুখটা একটু হাঁ করল। রোদেলার এমন আদুরে শাসন শুনে ওর ঠোঁটের কোণে আপনাআপনিই হাসি ফুটে উঠল।ঋদ্ধ মুখ টিপে সেই হাসিটা লুকানোর চেষ্টা করল, রোদেলার এই মিষ্টি বকবকানিটা ঋদ্ধ’র বেশ ভালোই লাগছে।

রোদেলা যখনই প্রথম রুটির টুকরোটা ওর মুখে তুলে দিল, ওর আঙুলগুলো আলতো করে ঋদ্ধর ঠোঁট স্পর্শ করে গেল। ওই প্রথম ছোঁয়াটুকুতেই ঋদ্ধর বুকের ভেতরটা হুট করে কেঁপে উঠল। এক ধরণের তীব্র ভালো লাগা যেমন ওকে ঘিরে ধরছে, তেমনই এক অজানা অস্থিরতাও কাজ করছে ওর ভেতরে। ওর নিজেরই হঠাৎ খুব গরম লাগতে শুরু করল। কপালে ছোট ছোট বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে উঠছে। প্রতিটা ছোঁয়ায় নিজেকে সামলানোটা এখন ওর জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

নিজের ভেতরের এই হুট করে আসা অস্বস্তিটা লুকানোর জন্যই ঋদ্ধ ল্যাপটপের স্ক্রিনে একমনে কাজ করে যাওয়ার ভান করছে। রোদেলা একেকটা টুকরো মুখে তুলে ধরলে ঋদ্ধ বাধ্য ছেলের মতো সেগুলো মুখে পুরে নিচ্ছে। রোদেলাও কেমন জানি একটা ঘোরের মধ্যে পড়ে গেল। কেন যে বারবার ওর আঙুলগুলো ঋদ্ধর ঠোঁট ছুঁয়ে যাচ্ছে আর কেনই বা ওর ভেতরটা এমন ওলটপালট করছে, ও নিজেও সেটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। এই ঘোরের মধ্যেই আবার রুটির একটা টুকরো ছিঁড়ে তাতে ভাজি মাখাতে শুরু করল। এবার খানিকটা বিস্ময় নিয়ে বলল,

—“আচ্ছা, এই দুটো রুটি আর সামান্য একটু ভাজি খেয়ে আপনি সারারাত কাটিয়ে দেন কীভাবে, বলুন তো? আপনার শরীর কি একবারও দুর্বল লাগে না? এই ডায়েটের চক্করে পড়ে তো আপনি নিজেকে শেষ করে দিচ্ছেন!”

রোদেলার এই একটানা বকবকানিটা ওর শুনতে মোটেও খারাপ লাগছে না, বরং বেশ মন দিয়েই শুনছে। প্লেটের শেষ রুটির টুকরোটা ঋদ্ধর মুখে তুলে দিয়ে রোদেলা অবাক হয়ে বলল,

—“আচ্ছা, মানুষ কি এত কম খেয়ে বেঁচে থাকে? আপনার এই খাওয়া দেখলেই তো আমার উল্টো খিদে পেয়ে যায়। এই সামান্য খেয়ে সারারাত পার করে দেন কীভাবে? আপনি কি আসলে মানুষ, নাকি অন্য কিছু?”

রোদেলা প্লেটটা পাশে রেখে গ্লাসের পানিটুকু ঋদ্ধর দিকে এগিয়ে দিল। গ্লাসটা ধরার সময় ও ঋদ্ধর মুখের দিকে তাকিয়ে একটু থমকে গেল। এসি চলছে, ঘরটা বেশ ঠান্ডাই হয়ে আছে, অথচ ও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে ঋদ্ধর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে।

রোদেলা ভ্রু কুঁচকে একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

—“এই এসি চলছে, ঘরটা কত ঠান্ডা! অথচ আপনি এমন ঘামছেন কেন? শরীর কি খারাপ লাগছে আপনার?”

ঋদ্ধ এক চুমুকে গ্লাসের অর্ধেকটা পানি খেয়ে নিল। রোদেলার প্রশ্নে ও ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। নিজের ভেতরের সেই তোলপাড় করা অস্থিরতাটা ও কীভাবে লুকাবে? ও গ্লাসটা টেবিলের ওপর রাখতে রাখতে খুব স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে বলল,

—“না না, শরীর ঠিকই আছে। হঠাৎ করে একটু কেমন জানি গরম লাগছে, মনে হয় প্রেশারটা একটু ওঠানামা করছে। তুমি অত ভেবো না তো।”

ঋদ্ধর প্রেশার আপ-ডাউনের কথা শুনে রোদেলার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল। ও আর এক মুহূর্ত দেরি না করে আলতো করে হাত বাড়িয়ে ঋদ্ধর কপালে তাপমাত্রা দেখার চেষ্টা করল। কিন্তু হাতটা কপাল ছোঁয়ার আগেই ঋদ্ধ ঝট করে রোদেলার হাত ধরে ফেলল। ঋদ্ধর এমন আকস্মিক বাধায় রোদেলা কিছুটা হকচকিয়ে গেল। ও বেশ বুঝতে পারছে, ঋদ্ধর হাতের তালুটা অস্বাভাবিক রকমের গরম।

ঋদ্ধ কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে একটু ধরা গলায় বলল,

—“রোদ, বললাম তো আমি ঠিক আছি। প্লিজ, এখন তুমি এখান থেকে যাও। অনেক রাত হয়েছে, এবার তুমি গিয়ে ঘুমাও। আমার আরও কিছু কাজ বাকি আছে, সেগুলো শেষ করতে অনেক দেরি হবে।”

রোদেলা কিছুক্ষণ অবাক হয়ে ঋদ্ধর চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। মানুষটার এমন হুট করে পাল্টে যাওয়া আচরণ ও ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। ঋদ্ধর চোখেমুখে এক ধরণের অস্থিরতা স্পষ্ট, যা রোদেলাকে বেশ বিভ্রান্ত করে দিচ্ছে। রোদেলা প্লেটটা হাতে তুলে নিয়ে মৃদু স্বরে বলল,

—“আচ্ছা ঠিক আছে, যাচ্ছি। কিন্তু শরীর বেশি খারাপ লাগলে বড় আম্মুকে কিন্তু অবশ্যই জানাবেন।”

ঋদ্ধ কোনো কথা না বলে শুধু মাথা নাড়ালো। রোদেলা চলে যেতেই ঋদ্ধ পায়ের ওপর থেকে ল্যাপটপটা সরিয়ে রেখে সোফায় হেলান দিয়ে বসল। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ও নিজের কপালে হাত রাখল। কপালটা তখনও ঘামে ভিজে আছে। ঋদ্ধর হৃদস্পন্দন যেন কিছুতেই স্বাভাবিক হতে চাইছে না।

চলবে__________

[ আজকের পর্বটি সাজাতে গিয়ে আমি নিজেই ভীষণ দোটানায় পড়েছি। মনের মতো করতে গিয়ে কয়েকবার লিখেছি আবার কেটেছি। গল্পের প্রয়োজনে কিছু দৃশ্য বা কথা যেভাবে লিখেছি, তা আপনাদের কাছে কেমন লাগবে বা বেশি কিছু মনে হবে কি না — তা নিয়ে একটু সংশয়ে আছি।
আসলে আপনাদের জন্য সুন্দর কিছু লিখতে গিয়ে এই খুঁতখুঁতে স্বভাবটা চলে আসে। আপনাদের একটুখানি মতামত পেলে আমার এই দ্বিধাটুকু কেটে যাবে। আপনাদের মূল্যবান মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।]

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Gazipur?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Gazipur