ফেনীর “মাদার তেরেসা“ খ্যাত ইয়ুথ ভলান্টিয়ার মঞ্জিলা আক্তার মিমি ১৯৯০ সালের ০২ মার্চ ফেনী জেলার পৌর এলাকার পূর্ব উকিল পাড়ায় জন্ম। তার পিতা একজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার ছিলেন এবং মাতা একজন গৃহিনী, চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে মিমি তৃতীয়। ২০০৭ সালে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট ফেনী জেলা ইউনিটে একজন সদস্য হিসেবে মানবিক কাজ শুরু করেন, এবং ২০১৪-২০১৬ সালে যুব প্রধান সহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ফেনীর স্বেচ
্ছাসেবী সংগঠন সহায়ের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এই জনপদের অসহায় ও অজ্ঞাত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময় দেশের জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ পায় তার কাজ নিয়ে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, সময় টেলিভিশন, যমুনা টেলিভিশন, মাছরাঙা টেলিভিশন, ডিবিসি নিউজ সহ বিভিন্ন টেলিভিশনে লাইভ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রন পান।
পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা প্রকাশ পায় সব মিলিয়ে ফেনীতে ব্যাপক আলোচিত মঞ্জিলা মিমি। তার “মাল্টি ডাইমেনশনাল অ্যাক্টিভিটি” বা “বহুমাত্রিক কর্ম তৎপরতা” ই তাকে এনে দিয়েছে খ্যাতি আর পরিচিতি।
সমাজকল্যাণে অসাধারণ কর্মকান্ড সমূহঃ
দীর্ঘসময় ধরে এই জনপদে মঞ্জিলা আক্তার মিমি ও তার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায়’র সদস্যদের কাজগুলো মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের ফেনী ও তার আশ-পাশ জেলার মহাসড়কে দূর্ঘটনায় কবলে পড়া ব্যাক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাৎক্ষনিক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্রগ্রামে নিজ উদ্যোগে প্রেরণ ও স্বজনদের খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা ও পরিচর্যা রয়েছে তার খ্যাতি।
বিশ্ব মহামারী করোনা সংকটে রক্তদাতাদের আনা-নেয়ার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত সার্ভিস দিয়েছে মিমি ও তার সহযোগিরা। করোনা মহামারীতে নিম্ন আয়ের কয়েক হাজার পরিবারকে দেয়া হয়েছে খাদ্য সহায়তা। আবার অপরাপর নানা সংগঠনের সাথে একাত্ম হয়েও কাজ করছেন তিনি। মিমি কাজগুলোর মাঝে উল্লেখযোগ্য হল- রুগীদের জন্য রক্ত দানের ব্যবস্থা করা, তাদের সেবা করা, বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনে সহায়তা, হারিয়ে যাওয়া অসুস্থ ব্যাক্তিকে সেবা দেয়া এবং স্বজনদের কাছে পৌঁছানো, নির্যাতনের শিকার নারীর পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠির জেলে, বেদে সম্প্রদায়, হিজড়া জনগোষ্ঠি, সুবিধা বঞ্চিত শিশু-কিশোরীদের জন্য পৃথক মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান ও বিনা মূলে ঔষধ প্রদানে রয়েছে তার অগ্রণী ভুমিকা। পরিচয়হীন পাওয়া নবজাতকের পরিচর্যা ও তাদের কে আইনী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে দত্তক দেওয়া হয়। বিভিন্ন দিবসে ছিন্নমূল শিশুদের জন্য উপহার সামগ্রী প্রদানসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা, এলাকাভিত্তিক নানা জনগোষ্ঠির জন্য কাজ করা ইত্যাদি।
তার হাত ধরে সেবা ও উপকার পাচ্ছে এ জনপদের বহু মানুষ।