Infozone24.com

Infozone24.com

Share

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশন করা আমাদের বৈশিস্ট্য।আমরা কখনো মিথ্যার সাথে আপোষ করিনা।সারা বিশ্বে ঘটে যাওয়া নতুন নতুন সব তথ্য আর খবর আপনাদেরকে পৌঁছে দেয়া আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

30/12/2025
03/10/2025

জাহিদ যখন চোখ নামিয়ে কিছুটা লজ্জিত স্বরে আমার কাছে লাখ দুয়েক টাকা ধার চাইল আমি ভীষণ অবাক হলাম। আমাদের বিবাহিত জীবনের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে, একে অপরকে পছন্দ করেই আমরা বিয়েটা করেছিলাম। -দেখো রুহী, আসলে ইমতিয়াজ ওর শেয়ার টা ছেড়ে দিচ্ছে। ওর নাকি ভীষণ টাকার প্রয়োজন। যেহেতু আমি ওর বন্ধু তাই আগেই আমাকে জানিয়েছে নয়তো ওটা নেয়ার জন্য আরো পাঁচজন দাঁড়িয়ে আছে আর ওর টাকাটা দু চার দিনের মধ্যেই লাগবে । আমি অলরেডি ৮ লাখ টাকা জোগাড় করেছি কিন্তু ২ লাখ টাকা শর্ট পরেছে, তুমি কি পারবে? আমি আগামী মাসের আটাশ তারিখে তোমাকে টাকাটা দিয়ে দিতে পারব। আসলে পঁচিশ তারিখেই টাকা হাতে পাবো , তিনদিন বাড়তি সময় রাখলাম।

দুই লাখ টাকা! আমি প্রায় চমকে উঠলাম।

জাহিদ চিন্তিত চোখে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে রইলো।

-আচ্ছা আমি চেষ্টা করছি তুমি এত চিন্তা করো না। সমস্ত প্রটোকল ভেঙে কোম্পানির বস আমাকে দুই লাখ টাকা লোন দিলেন কিছু প্রফিট দিতে হবে আর নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ করতে হবে। আসলে কোম্পানির এমডি হচ্ছে আমার ছোটবেলার বান্ধবীর বাবা। তিনি আমাকে ভীষণ স্নেহ করেন।

সাতাশ তারিখে আমি জাহিদ কে বললাম,
-টাকাটা তো ফেরত দিলে না, কখন দিবে ?
-কিসের টাকা !জাহিদ খানিকটা ভ্রু কুঁচকে বললো
-দুই লাখ টাকা, আমি আমতা আমতা করে বললাম
-ওহ সরি , আমি একদম ভুলে গেছি। আসলে টাকাটা ব্যবসায় খাটিয়ে ফেলেছি , এখন তোমাকে দিতে পারবো না। আগামী মাসে চেষ্টা করবো।

জাহিদ বের হয়ে গেল আমি কিছুক্ষণ স্তম্ভিত হয়ে বসে রইলাম । আমার বস মানে আংকেলকে কি উত্তর দিবো? মান সম্মান কিছুই থাকবে না। সেদিন সন্ধ্যাবেলাতেই পরিচিত এক স্বর্ণের ব্যবসায়ীর কাছে আমার বিয়ের সমস্ত গয়না বন্ধক রাখলাম এবং পরদিন নির্দিষ্ট সময়ে টাকা পরিশোধ করলাম। জাহিদ অবশ্য সেই টাকা ফেরত দিয়েছিল কিন্তু আরো দুমাস পর। মাঝখানে সে জানতে চায়নি আমি কিভাবে ম্যানেজ করেছি কিংবা আমার কোন সমস্যা হয়েছে কিনা। কিন্তু এরপর থেকে সে আমার কাছে যতবারই অর্থনৈতিকভাবে সাপোর্ট চেয়েছে আমি সেটা এড়িয়ে গিয়েছি। বিষয়টা এমন নয় যে সে টাকাটা নির্দিষ্ট সময়ে দিতে পারেনি বলে আমি রাগ করেছি, বিষয়টা এমন ছিল যে সে জিনিসটার মূল্যায়ন করতে ভুলে গিয়েছিল।

বাবা-মায়ের প্রতি সব সন্তানেরই দায়িত্ব থাকে সেটা বিয়ের আগে হোক কিংবা পরে। আমি প্রতিমাসেই নির্দিষ্ট একটা এমাউন্ট বাবা মায়ের হাতে তুলে দেই। এমন না যে আমি টাকা না দিলে তারা চলতে পারবে না। বাবার পেনশন আছে, মা একটা স্কুলের হেড মিস্ট্রেস। বড় ভাইয়া ভালো চাকরি করে, নিজেদের বাড়ি।

আমার শাশুড়ির গলব্লাডারের স্টোনের অপারেশন করতে গিয়ে বেশ কিছু টাকা বের হয়ে গেল । সেই মাসে বাড়িতে কোন সাপোর্ট দিতে পারিনি। বাবা মা দেখতেও এসেছিলেন। কিন্তু আমি অবাক হয়েছিলাম যখন মা আমাকে আড়ালে গিয়ে বললো,
-কিরে এ মাসের টাকা তো দিলি না ?
-তুমি তো দেখতেই পাচ্ছো এখানে কতগুলো টাকা খরচ হয়ে গেল।
-তো! এত বড় হসপিটালে কে নিয়ে আসতে বলেছিল? ছোট কোন ক্লিনিকে করলেই হতো।

আমি অবাক হয়ে আমার গর্ভধারিনী মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকলাম।

এরপর থেকে মাসিক অ্যামাউন্ট দেয়া আমি বন্ধ করে দিলাম। যখন বাড়িতে যাই তখন হইহুল্লোড় করি, বাজার করি, রান্নাবান্না হয়, ধুমধাম হয়। বাবার হাতে হাতখরচ হিসেবে হাজার খানেক টাকা দিয়ে আসি। না আমি আমার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি কখনোই চাইনি কিন্তু আমার মাকেও আরেকজন মায়ের মূল্যায়ন করতে হবে যেটা তিনি করতে প্রস্তুত নন।

আমার ননদ ৩-৪ মাস পর পর বাড়িতে বেড়াতে আসে ১-২ দিন থাকে তারপর চলে যায় । সেই এক দুদিন যেভাবেই হোক আমি অফিস থেকে ছুটি নেই। আসলে মা একা সামলাতে পারে না। ওর ছোট দুটো বাচ্চা আছে। এইবার যখন এলো আমার অফিসে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিং ছিল।

-মিলি তুমি এসেছ ফ্রেশ হও। আমি নাস্তা বানিয়ে রেখেছি, মা দিয়ে দেবেন । অফিসে একটা মিটিং আছে সেটা সেরেই আমি চলে আসছি ।
-ভাবী তুমি একাই কি দুনিয়াতে চাকরি করো নাকি? আর কোন বাড়ির বউ চাকরি করে না? একদিন ছুটি ম্যানেজ করতে পারো না! এ আবার কেমন চাকরি? বেশ ঝাঁঝের সুরে মিলি আমাকে বললো। আমি অবাক হয়ে গেলাম।

না সেদিন মিটিং শেষ করে আমি বাড়িতে চলে আসিনি। আমি বাড়ি ফিরেছি অফিস শেষ করে এবং পরের দিনেও অফিস করেছি। এরপর থেকে ও এলে আর কোনদিন আমি ছুটি নেইনি। বিষয়টা এমন নয় যে আমি আমার ননদকে দেখতে পারিনা বরং আমি তার চোখে নিজেকে কখনো অ্যাভেলেবেল করতে চাই না। তাকে বুঝতে হবে কোনটা আদর আর কোনটা দায়িত্ব, সে ছোট বাচ্চা নয়।

ছোট ভাই ইমন ভার্সিটিতে পড়ার সুবাদে আমার বাড়িতেই থাকে। এখান থেকে ওর ভার্সিটি কাছে হয় যদিও ও হলে সিট পেয়েছে কিন্তু সেখানে সে কমফোর্টেবল না। আমার এক চাচাতো দেবর ঢাকায় এসেছে চাকরির সন্ধানে। ছেলেটা ভীষণ মেধাবী। চাকরি পেতে যে সময় লাগবে না সেটা আমরা খুব ভালো করেই জানি।

-আপু শোন আমি আমার রুম কারো সাথে শেয়ার করতে পারবো না। তুই তোর ওই দেবরকে কোথায় রাখবি আমি জানিনা।

আমার খুব রাগ হলো। ইমন ঘরে চলেই যাচ্ছিল, এমন সময় আমি ডেকে বললাম,

-তুই হলে সিট পেয়ে গিয়েছিস না? তোর কাপড়চোপড় বইপত্র গোছা আর হলে গিয়ে ওঠ। এই বাড়িটা জাহিদের, ওর ভাই থাকবে না তো কি আমার ভাই থাকবে? কয়েকটা দিন অ্যাডজাস্ট করতে পারছিস না আর দুটো বছর ধরে এই বাড়িতে পড়ে আছিস, লজ্জা লাগে না?

না আমি এভাবে কথাগুলো বলতে চাইনি কিন্তু না বলে কোন উপায় ছিল না কারণ তাকে বুঝতে হবে কোথায় কার কতটুকু অধিকার।

জীবনে চলার পথে অধিকাংশ সময় মূল্যায়ন কথাটির অর্থ আমরা জানি না। কতটুকু আমাদের অধিকারবোধ সেই বিষয়ে আমরা জ্ঞান রাখি না। কোথায় আমাদের থামতে হবে আর কোথায় ছাড় দিতে হবে সেই বিষয়ে বেশিরভাগ মানুষ একেবারেই উদাসীন।
©সুবর্না শারমিন নিশী*
কেমন লাগলো জানাবেন কমেন্টে।

01/08/2025

পেপেগুলো কেমন হয়েছে দেখতে কমেন্ট করে জানান!

Want your business to be the top-listed Media Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address

Dhaka
1236