Writer: NJKeya
28/02/2026
I've just reached 100 followers! Thank you for continuing support. I could never have made it without each and every one of you. 🙏🤗🎉
27/02/2026
Heartbeat_in_the_Dark
Writer: NJ_Keya
পর্ব -৪
(অনুমতি ছাড়া copy করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ❌ ❌ ❌। যদি copy কেউ করে ও তাহলে আমার পেইজকে mention দিবে ।)
তিনজন নিচে ড্রয়িং টেবিলে খাবার নিয়ে বসে আছে—জেভরানের অপেক্ষায়।
বাড়ি কেনার পর থেকে আজ পর্যন্ত ইহান, আয়ান, আরভিন আর জেভরান—এই চার বন্ধু কখনো একে অপরকে ছাড়া খাবার খায়নি। কারো যদি খুব বেশি খিদে পায়, কিংবা কেউ অসুস্থ থাকে, তবুও তারা চারজন একসাথেই খায়।
এই যেমন এখনই—
ইহান, আয়ান আর আরভিন—তিনজনেরই ভীষণ খিদে পেয়েছে। তবুও কেউ খাওয়া শুরু করেনি। সবাই জেভরানের জন্য অপেক্ষা করছে।
এই যুগে এসে এমন বন্ধুত্ব দেখা যায় না বললেই চলে।
এখনকার দিনের বন্ধুত্ব মানে—নিজের কাজ হাসিল করা। এর বাইরে আর কিছুই না। কাজ থাকলে বন্ধু, কাজ শেষ হলে অচেনা মানুষ। 😒😮💨
জেভরান বলেছিল, “৫ মিনিটে ফ্রেশ হয়ে নিচে আসছি।”
আর সত্যিই ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সে ড্রয়িং টেবিলের কাছে এসে পৌঁছে যায়।
সবার দিকে তাকিয়ে বলে,
— কিরে, এভাবে তোরা বসে আছিস কেন?
একটু থেমে চেয়ারে বসতে বসতে আবার বলে,
— তোদের খিদে পায়নি? এত সুন্দর খাবার সামনে নিয়ে বসে থাকা যায় নাকি!
তিনজন জেভরানের দিকে তাকিয়ে আছে—‘থ’ মেরে। 😒😒
তাদের অবস্থা বুঝে জেভরান হালকা হাসে। তবে সেই হাসি কারো চোখে পড়ে না।
এবার সে জ্ঞানী মানুষের মতো ভাব ধরে নিয়ে বলে—
— তোদের দেখে তো মনে হচ্ছে খিদেই নেই।
তিনজন: 😒😒😒😒
— থাক, তোদের খেতে হবে না। আমি একাই সব খেয়ে নেব। আমার মন কিন্তু অনেক বড়, বন্ধুদের কষ্ট সহ্য হয় না। 🙃🙃
এই কথা শুনে তিনজন একসাথে চিৎকার করে ওঠে।
জেভরান তাড়াতাড়ি দুই হাত দিয়ে কান চেপে ধরে, মিটিমিটি হাসে। মনে মনে ভাবে—
“তিনজন রেগে গেছে রে… এখন আমার শান্তি।” 🤣🤣
তিনজন একসাথেই বলে ওঠে,
— সমস্যা কি তোর হ্যাঁ? সেই সকাল থেকে না খেয়ে তোর জন্য বসে আছি, আর তুই এসব বলছিস! 😡😡😡
একটু থেমে আবার বলে,
— আজ তোর খাওয়া বন্ধ। আমরা খাবো, তুই বসে বসে দেখবি। 😁😁😁
এই কথা শোনামাত্রই জেভরান খাবার নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেয়।
এইভাবেই হাসি-ঠাট্টা, ঝগড়া আর দুষ্টুমির মধ্য দিয়ে চারজন সকালের খাবার শেষ করে।
আসলে প্রতিদিনই এরা কেউ না কেউ কাউকে রাগায়।
তবে আজ একটু ব্যতিক্রম—
আজ জেভরান একাই একসাথে তিনজনকে রাগিয়ে দিয়েছে। 🤣😉
খাওয়া শেষ করে সবাই নিজ নিজ কাজে বেরিয়ে পড়ে।
........................................................
অন্যদিকে…
সামিনা চৌধুরী সেই সকাল ছয়টা থেকে Arvitha-কে ডেকে ডেকে হয়রান। অথচ মেয়ের ঘুম ভাঙার কোনো লক্ষণই নেই।
সামিনা চৌধুরী—মেহেরিন চৌধুরীর মা।
ডাকতে ডাকতে বিরক্ত হয়ে তিনি Arvitha-র রুমে আসেন। দরজাটা আধখোলা ছিল, তাই ঢুকতে কোনো বাধা পেলেন না।
রুমে ঢুকেই তার মাথা গরম হয়ে যায়।
ছয়টা থেকে ডাকছে, আর এই মেয়েটা এখনো আরামে ঘুমাচ্ছে!
খাটের পাশে থাকা কর্নার টেবিল থেকে পানি ভর্তি মগ হাতে নেন তিনি।
পরমুহূর্তেই পুরো মগের পানি Arvitha-র মুখে ঢেলে দেন।
Arvitha ঘুম থেকে লাফ দিয়ে ওঠে।
তার এমন লাফে সামিনা চৌধুরী ভয় পেয়ে দু’পা পিছিয়ে যান।
কিন্তু Arvitha-র ঘুম এখনো পুরোপুরি ভাঙেনি। চোখ বন্ধ রেখেই চিৎকার করতে থাকে—
— বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও!
— আমাকে সমুদ্রে ফেলে দিয়েছে!
— কে কোথায় আছ?
মেয়ের এমন অবস্থা দেখে সামিনা চৌধুরী ‘থ’ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। মনে মনে ভাবেন—
“এ কী করছে!” 🙃🙃
এই চিৎকার শুনে নিচতলা থেকে সবাই দৌড়ে আসে Arvitha-র রুমে।
দেখে—সে ভেজা, চোখ বন্ধ, আর একনাগাড়ে চিৎকার করছে।
দৃশ্য দেখে আবরিয়ান বলে ওঠে,
— সকালবেলা কি পাগল হয়ে গেছিস, বনু? এমন চিৎকার করে কেউ? আর একটু হলে আমরা সবাই একসাথে হার্ট অ্যাটাক করতাম! 😡
ভাইয়ের কথা শুনে Arvitha ধীরে ধীরে চোখ খুলে দেখে—
সে খাটের উপর বসে আছে, আর বাড়ির সবাই তার রুমে দাঁড়িয়ে।
চোখ বড় বড় করে বলে,
— কী হয়েছে? আমার রুমে সবাই কেন? 👀
এই কথা শুনে সবাই Arvitha-র দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে।
ভয়ে Arvitha কুঁকড়ে যায়। 😟
পরিস্থিতি সামলাতে আরিয়া বলে ওঠে,
— কিরে, university যাবি না? নাকি সারাদিন ঘুমাবি? সকাল কত বাজে ? তোর কোনো খেয়াল আছে?
Arvitha তাড়াহুড়ো করে বালিশের পাশ থেকে মোবাইল তুলে দেখে—
সময় ৮:৪৫!
কোনো কথা না বলে সে লাফ দিয়ে উঠে ওয়াশরুমে ঢুকে যায়।
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দ্রুত তৈরি হয়ে নিচে নামে।
নিচে নেমে দেখে সবাই খাবার খাচ্ছে।
সে চুপচাপ একটা চেয়ার টেনে বসে পড়ে খেতে শুরু করে।
Arvitha-র তাড়াহুড়ো করে খাবার খাওয়া দেখে সবাই নিজের খাওয়া থামিয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।
কিন্তু তার কোনো খেয়ালই নেই।
নিস্তব্ধতা ভেঙে সামিনা চৌধুরী বলেন,
— তোর পেছনে কি কুকুর লেগেছে নাকি, যে এমন করে খাচ্ছিস! 😡
মায়ের কথা শুনে Arvitha-র মন খারাপ হয়ে যায়। 😥😥
মেয়ের মন খারাপ বুঝে আনোয়ার চৌধুরী বলেন,
— আহা, এভাবে কেন বলছ? ওর হয়তো university-তে দেরি হয়ে যাচ্ছে।
তারপর মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন,
— মা, তুমি খাও।
সবার দিকে তাকিয়ে আবার বলেন,
— কী হয়েছে? সবাই নিজের খাবারে মন দাও।
বাবার কথা শুনে সবাই আবার চুপচাপ খেতে শুরু করে।।
চলবে..............
(ভুল ক্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই)
16/02/2026
Writer:
পর্ব-৩
( অনুমতি ছাড়া copy করা নিষিদ্ধ ❌ ❌।
যদি কেউ copy করে ও তাহলে আমার পেইজকে mention দিতে হবে।)
জেভরান আর এক মুহূর্ত নিজেকে সামলাতে পারল না।
রাগে তার ভাসাভাসা চোখ দুটো রক্তিম বর্ণ ধারণ করল, সঙ্গে সঙ্গে দু’হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল।
“Speak with control of your language,”
গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠল জেভরান। 😡😡
জেভরানের এই রাগচটা স্বভাবের সঙ্গে বরাবরই পরিচিত তার তিন বন্ধু।
জেভরানের দুইটা ছেলে বন্ধু এবং একটা মেয়ে বন্ধু—বন্ধু কম, পরিবার বেশি।
এক বন্ধুর নাম আয়ান আহামেদ,
আরেকজন সৈয়দ ইহান শেখ,
আর বাকি জন আরভিন এলিনা।
জেভরান যখন UK-তে আসে, তখন শুরুতে সে একাই থাকত। কারও সঙ্গে মেশা তো দূরের কথা, প্রয়োজন ছাড়া কথা বলতেও চাইত না।
ইউনিভার্সিটিতে যেত, নিজের দরকারি ক্লাস করত, তারপর আবার হোস্টেলে ফিরে আসত। টুকটাক প্রয়োজন ছাড়া তাকে দেখাই যেত না।
সে সময় জেভরানের কাছে সবকিছুই বিষপ্রাণের মতো লাগত। কিন্তু কিছু করার ছিল না। এভাবেই একা থাকতে থাকতে কখন যে তার সব চঞ্চলতা হারিয়ে গেছে, সে নিজেও বুঝতে পারেনি। রেখে গেছে শুধু গাম্ভীর্য আর রাগচটা স্বভাব।
এই অবস্থার মাঝেই কীভাবে যে এই তিনজন বন্ধুকে পেয়েছে, জেভরান নিজেও জানে না। বলতে গেলে ইহান, আয়ান আর আরভিন প্রায় জোর করেই তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নেয়।
জেভরান যতই গম্ভীর, একগুঁয়ে আর রাগচটা হোক না কেন—তার পড়াশোনায় এসবের কোনো প্রভাব কখনোই পড়েনি। বাংলাদেশে থাকতে যেমন সবসময় ক্লাস টপার ছিল, UK-তেও সে ঠিক তেমনই ক্লাস টপার।
এই কারণেই ইহান, আয়ান আর আরভিন উঠে পড়ে লেগেছিল জেভরানের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার জন্য। তারা আগে থেকেই পরস্পরের বন্ধু ছিল। জেভরানকে দেখলেই নানা পড়াশোনার প্রশ্ন করত, সঙ্গে সে কোন ফরেন কান্ট্রি থেকে এসেছে—এসব জানার চেষ্টা করত।
জেভরান ওদের পড়া বুঝিয়ে দিলেও নিজের সম্পর্কে কিছুই বলত না। তবুও তারা থেমে থাকেনি। ক্লাসে একসঙ্গে বসা থেকে শুরু করে ইউনিভার্সিটি ছাড়ার আগ পর্যন্ত সবসময় জেভরানের পাশেই থাকত।
এভাবে চলতে চলতেই জেভরান আর বেশিদিন একাকিত্বের জীবন কাটাতে পারেনি।
এখন তারা চারজন একসাথেই থাকে দুইতলা বিশিষ্ট একটি বাড়িতে। বাড়িটা তারা চারজন মিলে এক বছর আগে কিনেছে।
বাড়ির নিচতলার বেশিরভাগ জায়গা জুড়ে রয়েছে ড্রয়িং রুম, যা পুরোপুরি কাঁচের দেয়াল দিয়ে ঘেরা। ড্রয়িং রুমের পাশেই আছে আধুনিক ছোঁয়ায় সাজানো এক আলিশান কিচেন। হঠাৎ কেউ দেখলে মনে হবে ছোটখাটো একটা রেস্টুরেন্ট।
দ্বিতীয় তলায় রয়েছে চারটি বেডরুম—যার মধ্যে জেভরানের ঘরটাই সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয়। বেডরুম ছাড়াও আছে একটি গেস্ট রুম এবং একটি স্টাডি রুম।
বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে আছে নানা জাতের সুন্দর ফুলগাছ, যা বাড়িটার সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।
জেভরান আবার চিৎকার করে কিছু বলতে যাবে—তার আগেই আরভিন এক পা এগিয়ে এসে বলে ওঠে,
“কি রে দোস্ত, সকাল ৯টা থেকে তোকে কল দিচ্ছি—cell receive করছিস না কেন?” 😒😮💨
“এখন দেখ, ১০:৩০ হয়ে গেছে।” 😔😔
“Cell receive করছিস না দেখে দরজায় নক করছিলাম।”
এবার জেভরান আগের তুলনায় কিছুটা শান্ত কণ্ঠে, তবে গম্ভীরতা একদম না সরিয়েই বলে,
“তোদের এটা দরজায় নক করা মনে হয়? তোরা তিনজন যেভাবে নক করছিলি, আর কিছুক্ষণ হলে তোদের নকের ঠেলায় আমার দরজাটাই বেঁচে থাকত না।”
“দরজাটাই আর বেঁচে থাকত না”—
এই কথাটা শুনেই ইহান পিক করে হেসে ওঠে।
হাসতে হাসতে জেভরানকে বলে,
“দোস্ত, তুই এত বড় হয়ে গেছিস—এখনো জানিস না যে দরজার প্রাণ থাকে না?” 🤣🤣🤣
“ছিঃ দোস্ত, তোর কাছ থেকে এটা একদমই আশা করি নাই,”
বলেই আবার হেসে ওঠে। 🤣🤣
ইহানের এই কথা শুনে জেভরানের হারিয়ে যাওয়া রাগটা আবার মাথায় চড়ে বসে।
রাগী চোখে সে তাকায় ইহানের দিকে।
তা দেখেই ইহানের মুখের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়। এদিক-সেদিক তাকিয়ে কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। 😶
এই দৃশ্য দেখে আয়ান আর আরভিন মুখ টিপে হাসে। 😆
এরপর আয়ান আর আরভিন নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে ওঠে,
“দোস্ত, আর কতক্ষণ না খাইয়ে রাখবি আমাদের মতো নিষ্পাপ অবলা শিশুদের?” 😮💨☺️
ওদের এই নাটকীয় কথা শুনে জেভরানের রাগ হাওয়া হয়ে যায়।
সে অল্প করে (🤏) হেসে ওঠে।
জেভরানের এই হাসি দেখে তার তিন বন্ধু ও হেসে ওঠে।
“তোরা নিচে যা,”
জেভরান বলে,
“আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে আসছি।”
এই কথা বলেই সে ইচ্ছা করে তিনজনের মুখের ওপর জোরে দরজাটা বন্ধ করে দেয়।
সঙ্গে সঙ্গে তিনজনেরই রাগ চড়ে বসে।
তারা একসাথে চিৎকার করে কিছু বলতে যাবে—তার আগেই দরজার ওপাশ থেকে ভেসে আসে জেভরানের কণ্ঠ,
“আমাকে চিৎকার করে কিছু বলে লাভ নেই। আমি ওয়াশরুমে চলে যাচ্ছি। তোদের চিৎকারে শুধু তোদের গলায় ব্যথা হবে—আর কিছু না।”
এই কথা বলেই হাসতে হাসতে ওয়াশরুমে চলে যায় জেভরান। 🤣😊🤭
জেভরানের কথা শুনে তিনজনই কিছুক্ষণ ‘থ’ মেরে দাঁড়িয়ে থাকে। 😒😒
তারপর হতাশা ভরা মুখ নিয়ে একসাথে নিচে নেমে যায়। 🤐🤐🤐
চলবে.............
(ভুল ক্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই।)
09/02/2026
Heartbeat_in_the_Dark
Writer: NJ_Keya
পর্ব –২
নিজের মনে মনে এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছে জেভরান সে নিজে ও জানে না।
আগে পরিচয় যেনে নি জেভরান এবং Arvitha কে??
ঢাকার পুরনো ও সম্মানিত একটি মুসলিম পরিবার চৌধুরী পরিবার।
ধানমন্ডিতে নিজস্ব বাড়ি, মিরপুর ও গাজীপুরে জমিজমা আছে এবং সাথে তাদের দেশ-বিদেশের ব্যবসা আছে। বাংলাদেশ নামিদামি পরিবারের মধ্যে একটা হলো চৌধুরী পরিবার।
পরিবারটি শিক্ষিত, মার্জিত কিন্তু ভেতরে ভেতরে ক্ষমতা আর অহংকার লুকানো।
চৌধুরী বাড়িতে তিন রাজপুত্র এবং এক রাজ কন্যা আছে। তিন রাজপুএ এর মধ্যে বড় ছেলের নাম, "রাশেদ চৌধুরী"
মেজো ছেলে "আনোয়ার চৌধুরী"
ছোট ছেলে"ইমতিয়াজ চৌধুরী"
আর একমাত্র রাজ-কন্যার নাম, "সামিরা চৌধুরী"
রাশেদ চৌধুরীর এক ছেলে এবং এক মেয়ে। ছেলের নাম, #মিকদাত_চৌধুরী_জেভরান এবং মেয়ে, #আরিয়া_চৌধুরী।
আনোয়ার চৌধুরীর এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলের নাম, #আবরিয়ান_চৌধুরী এবং মেয়ের নাম #মেহেরিন_চৌধুরী_Arvitha.
ইমতিয়াজ চৌধুরীর এক ছেলে নাম, #আদিব_চৌধুরী আদি।
সামিরা চৌধুরীর দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে #ইরান_শেক ,, ছোট ছেলে #নাইয়ান_শেক এবং মেয়ে #ইয়ানা_শেক।
মিকদাত চৌধুরী জেভরান ছিল চৌধুরী পরিবারের চোখে মনি। সে ছোট বেলায় অনেক বেশি চঞ্চল ছিল। পুরো চৌধুরী পরিবার কে খুশিতে মাতিয়ে রাখত। পড়ালেখা ছিল অনেক বেশি ভালো।
Class one থেকে close ten পর্যন্ত কেউ তাকে রোল এক থেকে দুই এ নামাতে পারে নি।
SSC তে golden A+ এবং HSC তে ও golden A+ পায়।
জেভরান এর যখন মাএ ১৯ বছরে পা রাখে তখনই সে স্কলারশিপ পেলে পরিবারের কারো অনুমতি ছাড়াই দেশের মায়া ত্যাগ করে UK তে চলে যায়। UK তে যাওয়ার পর প্রথম প্রথম পরিবারের সদস্যদের সাথে হাসি খুশি ভাবে কথা বলতো শুধু একজনের সাথে ছাড়া (আর সে একজন হলো মেহেরিন চৌধুরী Arvitha.)। জেভরান UK তে যতদিন কাঁটাচ্ছে তত গম্ভীর হতে থাকে। একসময় জেভরান পুরোপুরি গম্ভীর হয়ে যায়। বাড়িতে ঠিক মতো কল দিয়ে কথা বলে না।
প্রথম প্রথম জেভরান প্রতিদিন পরিবারের সাথে কথা বলতো যে জায়গায় এখন প্রতিদিন তো দূরে থাক মাসের অথবা ১৫ দিনে একবার কথা বলে।
এই নিয়ে সবারই মন খুব খারাপ থাকত।
কিন্তু আসতে আসতে সবাই নিজেদের মন কে বুঝায় হয়তো ছেলেটা পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
আসলে কেউ জানতো জেভরান কি শুধু পড়ালেখা নিয়েই ব্যস্ত ছিল নাকি অন্য কিছু নিয়ে ও ব্যস্ত ছিল।
অন্যদিকে,,
মেহেরিন চৌধুরী Arvitha খুবই চঞ্চল, আবেগী, আত্মমর্যাদা সম্পূর্ণ ব্যক্তি।
জেভরান এর পরে পরিবারের সবার চোখে মনি Arvitha. সবাই খুব ভালোবাসে তাকে। কিন্তু Arvitha কে তার বাবা পরিবারের অন্য সকলের থেকে একটু বেশিই ভালোবাসে। সবাই টুকটাক কাজে বকা দিলেও তার বাবা কখনই তাকে বকা দেয় না।
Arvitha কে দেখতে খুব বেশিই মায়াবী লাগে। চোখ দুটো টানাটানা একদম হরিণের মতো। চোখের রাজা গুলো একটু বাদামি কালার যা তার সুন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। গায়ের রং একদম ফর্সা না হালকা শ্যামলা বর্ণের।
সকাল ১০:৩০ মিনিট বাজে ,,,
এমন সময় হঠাৎ দরজায় ধাক্কা এবং দরজার বাইরে থেকে ডাকাডাকির আওয়াজ এ ঘুম ভাঙ্গে জেভরান এর। জেভরানের দরজায় এমন ভাবে ধাক্কা দেওয়া হচ্ছিল বাইরে থেকে এরকম ভাবে আর কিছুক্ষণ ধাক্কা দিলে নির্ঘাত দরজা ভেঙ্গে যাবে। তাই জেভরান তাড়াহুড়ো করে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে দরজা খুলে।
দরজা খোলার পরে ওর বুন্ধের দেখে রেগে গিয়ে অনেক জোরে চিৎকার করে উঠে জেভরান বন্ধুদের উপর।
জেভরান চিৎকার করে জিজ্ঞেস করে,,,
"সমস্যা কি তোদের এভাবে আমার রুমের দরজা ভাঙ্গার জন্য উঠেপড়ে লেগেচ্ছি কেন😡"
চিৎকার এর সাথে কথা গুলো ছিল অনেক বেশি গম্ভীর কন্ঠে।
জেভরান এর এরকম চিৎকার এবং গম্ভীর কথার বিপরীতে তার এক বন্ধু বলে উঠে,,
এরকম গরুর মতো চিৎকার করছিস কেন 😒
যা জেভরান এর রাগ কে আরো দ্বিগুণ বাড়িয়ে
দেয়।😡😡
05/02/2026
Writer:
সূচনা পর্ব।
( অনুমতি ছাড়া copy করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ❌ ❌। যদিও copy কেউ করে তাহলে আমার পেইজকে mention দিতে হবে।)
রাত ২:৪৫ মিনিট।
হঠাৎ মোবাইলের ভাইব্রেশনে অর্ভিথার ঘুমটা হালকা ভেঙে গেল। তবে পুরোপুরি জাগল না সে।
কিন্তু টানা দশ মিনিট ধরে এক নাগাড়ে মোবাইল ভাইব্রেট হতে থাকায় এবার আর ঘুম ধরে রাখা গেল না।
বালিশের পাশে হাতড়াতে হাতড়াতে কোনোরকমে মোবাইলটা হাতে নিল অর্ভিথা।
মোবাইল তুলতে তুলতেই বিরক্তিতে মুখ দিয়ে একরাশ অসন্তোষের শব্দ বেরিয়ে এল।
স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে সে দেখল—একটা Unknown Number থেকে ঠিক ২:৪৫ মিনিট থেকেই একের পর এক কল আসছে।
বিরক্ত হয়ে অর্ভিথা মোবাইলটা আবার বালিশের পাশে রাখতে যাবে—ঠিক তখনই আবার কল।
প্রথমে সে ধরবে না বলেই ঠিক করেছিল, কিন্তু কী ভেবে যেন শেষ পর্যন্ত কলটা রিসিভ করল।
কানে মোবাইল লাগিয়ে বলল,
“হ্যালো?”
কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো সাড়া নেই।
আরও কয়েকবার “হ্যালো… হ্যালো” বলেও যখন কোনো শব্দ পেল না, তখন অর্ভিথা বিরক্তিতে গালি দিতে যাচ্ছিল—ঠিক সেই মুহূর্তে কলটা কেটে গেল।
বিরক্তি যেন আরও বেড়ে গেল তার।
মনে মনে বলতে লাগল—
“কোন পাগল এত রাতে আমার শান্তির ঘুমটা নষ্ট করল? সামনে কোনোদিন হাতের কাছে পেলে দেখাবো—রাত ২:৪৫ মিনিটে কাউকে কল দেওয়ার শাস্তি কী!”
এই কথা ভাবতে ভাবতেই মোবাইলটা বালিশের পাশে রেখে দিল সে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ঘুমিয়ে পড়ল অর্ভিথা।
আর অন্যদিকে…
কলের ওপাশে থাকা মানুষটা এখনো মোবাইলটা বুকের কাছে চেপে ধরে বসে আছে।
চোখে গভীর অস্থিরতা, ঠোঁটে চাপা দীর্ঘশ্বাস।
মনে মনে ফিসফিস করে বলছে—
“Heartbeat… তোমার ঘুম নষ্ট করার জন্য সরি।
কিন্তু আমি তোমাকে ছাড়া ঘুমাতে পারছি না।
তুমি তাড়াতাড়ি বড় হচ্ছ না কেন, heartbeat?”
একটু থেমে আবার ভাবল—
“আর কতদিন এভাবে তোমার থেকে দূরে, বিদেশে থাকতে হবে আমাকে?
আমি তো আর তোমাকে ছাড়া থাকতে পারছি না, heartbeat…” 💓
চলবে.........
(ভুল ক্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই। আপনারা যত বেশি রেসপন্স করবেন তত তাড়াতাড়ি ২ পর্ব পাবেন)
Click here to claim your Sponsored Listing.