Milo Reed

Milo Reed

Share

01/06/2026

কিউট প্লাম (Plum) এবং পেয়ারা (Pear) ক্যারেক্টারদের মজার অ্যানিমেশন! এই সুন্দর ভিডিওতে ফলের প্রাণবন্ধুদের হাসিখুশি মুহূর্ত উপভোগ করুন। 🌞

👇 ভিডিওটি ভালো লাগলে:
✅ Like দিন
✅ Share করুন বন্ধুদের সাথে
✅ Follow করুন আরও মজার ভিডিওর জন্য
✅ Comment এ জানান কোন ফলটি সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে!

07/05/2026

♥️fall in love 🥰 and

04/05/2026

Samosa monster escapes from stomach 😱🔥

18/04/2026
28/03/2026

গল্পের নাম: নিশিরাতের মায়া
পর্ব-৪: কবরের ওপার থেকে ডাক
পুরান ঢাকার সূত্রাপুর আর ধোলাইখালের মোড়ে তখন রাত গভীর। গতরাতের সেই প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে ‘লালকুঠি’র দালানটি ধসে পড়ার পর পুরো এলাকা জুড়ে এক অদ্ভুত থমথমে ভাব বিরাজ করছে। পুলিশ দালানের ধ্বংসস্তূপের চারপাশ হলুদ ফিতা দিয়ে ঘিরে রেখেছে। ক্রেন দিয়ে ইটের স্তূপ সরানো হচ্ছে, কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হলো—ভেতরে কোনো মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি। না সায়মন, না অন্য কেউ। শুধু পাওয়া গেছে সেই পুরনো আমলের একটি মরচে ধরা লোহার শিকল আর সায়মনের ডিজিটাল ক্যামেরাটি।
রাসেল গত ২৪ ঘণ্টা ধরে এক মুহূর্তের জন্যও চোখের পাতা এক করতে পারেনি। সে পুলিশের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে সায়মনের ক্যামেরাটা উদ্ধার করে নিজের বাসায় নিয়ে এসেছে। তার বারবার মনে হচ্ছে, সায়মন কোথাও হারিয়ে যায়নি; সে হয়তো আমাদের এই পরিচিত জগতের খুব কাছেই কোথাও আটকা পড়ে আছে। রাসেল ল্যাপটপে ক্যামেরার মেমোরি কার্ডটা ইনসার্ট করল। ভিডিও ফাইলগুলো চেক করতে গিয়ে তার হাত কাঁপতে শুরু করল। শেষ ভিডিওটি ছিল মাত্র ৪৪ সেকেন্ডের।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে—সায়মন অন্ধকার একটি টানেলের ভেতর দিয়ে দৌড়াচ্ছে। পেছনে হাজার হাজার নূপুরের শব্দ। হঠাৎ সায়মন ক্যামেরার দিকে তাকাল। তার চোখগুলো একদম সাদা হয়ে গেছে, কোনো মণি নেই। সে ফিসফিস করে বলল, "রাসেল, সত্যটা ডায়েরিতে নেই। সত্যটা আছে দালানের নিচের সেই অন্ধকূপে। মায়া আমাকে মুক্তি দেয়নি, সে আমাকে তার অতীতের সঙ্গী করে নিয়েছে। বাঁচা আমায়..." ভিডিওটি একটি বিকট চিৎকারের সাথে শেষ হয়ে গেল।
রাসেল বুঝতে পারল, সায়মন এখন এক 'লিমিিনাল স্পেস' বা ছায়া জগতে বন্দি। তাকে ফিরিয়ে আনতে হলে সেই অভিশপ্ত লালকুঠির মাটির নিচে নামতে হবে। কিন্তু একা যাওয়া আত্মহত্যার শামিল। রাসেল তখনই যোগাযোগ করল শাঁখারীবাজারের সেই বৃদ্ধ তান্ত্রিকের সাথে, যার নাম অঘোরী বাবা।
রাত দুইটার সময় রাসেল আর অঘোরী বাবা লালকুঠির ধ্বংসস্তূপের সামনে এসে দাঁড়ালেন। অঘোরী বাবা একটা মাটির প্রদীপ জ্বালালেন। প্রদীপের শিখাটা অদ্ভুতভাবে নীল হয়ে জ্বলছে। তিনি ধ্বংসস্তূপের এক কোণে ইশারা করে বললেন, "এখানেই ছিল সেই গুপ্ত কুঠুরি। নীলকণ্ঠ রায় তার মেয়ের ভালোবাসাকে এখানেই জ্যান্ত সমাধি দিয়েছিলেন। আজ একশ বছর পর সেই মাটি আবার রক্ত চাইছে।"
রাসেল বেলচা দিয়ে মাটি সরাতে শুরু করল। কয়েক ঘণ্টা হাড়ভাঙা খাটুনির পর তার হাতের তলায় শক্ত কাঠের কিছু একটা ঠেকল। একটা পুরনো কাঠের দরজা, যা মাটির গভীরে লুকানো ছিল। দরজাটা খুলতেই একটা ভ্যাপসা, পচা মাংসের গন্ধ রাসেলের নাকে ধাক্কা দিল। নিচে নামার জন্য একটা সরু সিঁড়ি চলে গেছে। অঘোরী বাবা সাবধান করে দিলেন, "নিচে যা দেখবে, তাতে বিচলিত হবে না। যদি একবার তোমার মনে ভয় ঢোকে, তবে তুমিও আর কোনোদিন উপরে ফিরতে পারবে না।"
রাসেল টর্চ নিয়ে নিচে নামল। নিচের ঘরটা অদ্ভুত। দেয়ালগুলো পাথরের তৈরি, আর সেখানে খোদাই করা আছে মায়ার বাবার তান্ত্রিক সাধনার নানা চিহ্ন। ঘরের মাঝখানে একটা পাথরের বেদী, আর তার ওপর শুয়ে আছে সায়মন। সায়মনের শরীরটা বরফের মতো ঠাণ্ডা, কিন্তু তার হৃদপিণ্ড এখনো ধুকপুক করছে। তার পাশে বসে আছে মায়া। তবে এবারের মায়া কোনো সুন্দরী তরুণী নয়, বরং এক ধোঁয়াটে কুয়াশার মতো অবয়ব।
মায়া রাসেলের দিকে তাকিয়ে এক অমানুষিক গলায় বলল, "কেন এসেছ এখানে? ও এখন আমার। অনিরুদ্ধর আত্মা ওর শরীরে ফিরে এসেছে। আমরা এখন অনন্তকালের জন্য এক হব।"
রাসেল দেখল সায়মনের গলার চামড়া ফেটে রক্ত বেরোচ্ছে, আর সেই রক্ত দিয়ে মায়ার ছায়া অবয়বটি যেন ধীরে ধীরে রক্ত-মাংসের মানুষে পরিণত হচ্ছে। মায়া সায়মনের জীবনীশক্তি শুষে নিচ্ছে নিজেকে জীবিত করার জন্য।
অঘোরী বাবা উপর থেকে চেঁচিয়ে বললেন, "রাসেল, দেরি করো না! ওই বেদীর নিচে অনিরুদ্ধর কঙ্কাল আছে। ওটাকে জ্বালিয়ে দাও। যতক্ষণ অনিরুদ্ধর অবশিষ্টাংশ থাকবে, ততক্ষণ মায়ার মায়া কাটবে না!"
রাসেল পাগলের মতো বেদীর নিচের মাটি খুঁড়তে লাগল। মায়া এক বিকট চিৎকার করে রাসেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করল, কিন্তু অঘোরী বাবার দেওয়া সুরক্ষাবলয়ে সে ধাক্কা খেয়ে পিছিয়ে গেল। রাসেলের হাত এক সময় অনিরুদ্ধর কঙ্কালের মাথার খুলি খুঁজে পেল। কঙ্কালটার বুকে এখনো সেই মরচে ধরা ছুরিটা বিঁধে আছে।
রাসেল তার পকেট থেকে লাইটার বের করল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে মায়া তার রূপ পাল্টে সায়মনের মায়ের রূপ ধরল। সে কান্নাকাটি করে বলতে লাগল, "বাবা রাসেল, আমার ছেলেকে মেরো না! আমি সায়মনকে নিয়ে চলে যাব, ও ভালো থাকবে।"
রাসেল এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। মায়ার এই মায়াবী রূপ বা ইলিউশন এতটাই বাস্তব যে যে কেউ বিভ্রান্ত হয়ে যাবে। কিন্তু সে দেখতে পেল সায়মনের হাতটা কাঁপছে, আর সায়মন অস্ফুট স্বরে বলছে— "রাসেল... জ্বালিয়ে দে... সব শেষ করে দে..."
রাসেল আর দেরি করল না। সে কঙ্কালটার ওপর স্পিরিট ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিল। সাথে সাথে পুরো ভূগর্ভস্থ ঘরটা কেঁপে উঠল। মায়া এক আকাশ ফাটানো আর্তনাদ করে উঠল। তার শরীর থেকে আগুনের শিখা বেরোতে লাগল। সে সায়মনকে ছেড়ে দিয়ে ছটফট করতে করতে ধুলোয় মিশে যেতে লাগল। কিন্তু যাওয়ার আগে সে রাসেলের চোখের দিকে তাকিয়ে এক অভিশপ্ত হাসি দিল।
"আমি একা যাচ্ছি না রাসেল। অনিরুদ্ধর অভিশাপ এই বংশের সবার রক্তে মিশে আছে। সায়মন বেঁচে ফিরলেও ও আর কোনোদিন সাধারণ মানুষ হতে পারবে না। ও এখন থেকে অন্ধকারের বাহক!"
ঘরটা ধসে পড়ার উপক্রম হলো। রাসেল কোনোমতে সায়মনকে কাঁধে তুলে নিয়ে সেই সরু সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে এল। তারা উপরে আসার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিচের সেই গোপন কুঠুরি চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।
সায়মনকে হাসপাতালে নেওয়া হলো। ডাক্তাররা অবাক হয়ে দেখলেন সায়মনের শরীরে কোনো গুরুতর আঘাত নেই, কিন্তু তার স্মৃতিশক্তি পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। সে কাউকে চিনতে পারছে না, এমনকি নিজের নামও মনে নেই তার। সে শুধু সারাদিন হাসপাতালের জানালার দিকে তাকিয়ে থাকে আর বিড়বিড় করে কী যেন বলে।
রাসেল একদিন সায়মনের কানে কান পেতে শোনার চেষ্টা করল সে কী বলছে। সায়মন যা বলছিল, তা শুনে রাসেলের গায়ের রক্ত হিম হয়ে গেল। সায়মন বলছিল— "ও আসছে... মায়া একা যায়নি... ও আমার ভেতরেই লুকিয়ে আছে। আজ রাতে যখন চাঁদ উঠবে, তখন আমি আর আমি থাকব না..."
রাসেল লক্ষ্য করল, সায়মনের হাতের নখগুলো অস্বাভাবিক লম্বা আর কালো হয়ে যাচ্ছে। তার গায়ের চামড়া কেমন যেন তামাটে রঙ ধারণ করছে। ঠিক তখনই হাসপাতালের করিডোরে সেই পরিচিত নূপুরের শব্দ শোনা গেল। কিন্তু এবার শব্দটা বাইরে থেকে আসছে না, শব্দটা আসছে সায়মনের নিজের শরীরের ভেতর থেকে!
রাসেল বুঝতে পারল, খেলা এখনো শেষ হয়নি। মায়া সায়মনকে মুক্তি দেয়নি, বরং সায়মনের শরীরকে তার নতুন আবাস বানিয়ে নিয়েছে। পুরান ঢাকার এই অন্ধকার দালানের রহস্য এখন সায়মনের ধমনীতে বইছে।
(চলবে...)

মায়া কি সায়মনকে মুক্তি দিল নাকি সায়মন নিজেই হয়ে উঠল এক জ্যান্ত শয়তান? ৪র্থ পর্বের টুইস্ট আপনার মাথা ঘুরিয়ে দেবে!"

আপনি কি মনে করেন মায়া সত্যিই ধ্বংস হয়ে গেছে? নাকি সায়মনের ভেতরে সে আবার ফিরে আসবে?
কমেন্টে আপনার ধারণা জানান।

ফেসবুকে ভিউ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো অ্যালগরিদম যখন দেখে মানুষ পোস্টে রিঅ্যাক্ট বা কমেন্ট করছে না। আপনার শেষ পর্বটি (Episode 5) এমনভাবে লিখতে হবে যেন মানুষ বাধ্য হয় কমেন্ট করতে।
নিচে ৫ম ও শেষ পর্ব এবং ভিউ বাড়ানোর জন্য স্পেশাল হ্যাশট্যাগ ও স্ট্র্যাটেজি দেওয়া হলো।
গল্পের নাম: নিশিরাতের মায়া
পর্ব-৫: শেষ সীমানায় রক্তরাঙা প্রেম (উপসংহার)
পুরান ঢাকার আকাশ আজ যেন ছিঁড়ে পড়বে। হাসপাতালের ৪ নম্বর কেবিনে সায়মন শুয়ে আছে, কিন্তু তার শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ কোনো মানুষের মতো নয়। মনে হচ্ছে যেন কোনো হিংস্র জন্তু খাঁচায় বন্দি হয়ে ফুঁসছে। রাসেল দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে অঘোরী বাবার জন্য অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ ভেতর থেকে একটা কাঁচ ভাঙার শব্দ এল। রাসেল দৌড়ে ভেতরে ঢুকে দেখল সায়মন নেই। জানালার গ্রিলগুলো দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে। তিন তলার এই জানালা দিয়ে কোনো মানুষের পক্ষে লাফিয়ে নামা অসম্ভব, কিন্তু সায়মন নেমেছে। মাটিতে পড়ে আছে শুধু সায়মনের সেই ক্যামেরাটা।
রাসেল বুঝতে পারল সায়মন কোথায় গেছে। সে পাগলের মতো একটা রিকশা নিয়ে লালকুঠির সেই ধ্বংসস্তূপের দিকে রওনা হলো। বৃষ্টির ঝাপটায় রিকশাওয়ালার মুখ দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু তার গায়ের থেকে সেই পরিচিত পচা মাংসের গন্ধ আসছে। রাসেল চিৎকার করে বলল, "থামো! আমি এখানেই নামব!" কিন্তু রিকশাওয়ালা থামল না। সে ঘাড় না ঘুরিয়েই অমানুষিক গলায় বলল, "আজ বাসর রাত, মেহমানদের তো যেতেই হবে।"
রাসেল লাফ দিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে নেমে পড়ল। সামনে তাকিয়ে দেখল সেই ধ্বংসস্তূপ আর নেই। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল রাজপ্রাসাদ, যা আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে। লালকুঠি যেন পুনর্জন্ম নিয়েছে। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সায়মন। তার পরনে সেই ১৯২৪ সালের অনিরুদ্ধর মতো ধুতি আর পাঞ্জাবি। সায়মনের চোখ থেকে টপটপ করে তাজা রক্ত পড়ছে, কিন্তু তার মুখে এক স্বর্গীয় হাসি।
সে রাসেলের দিকে তাকিয়ে বলল, "রাসেল, তুই এসেছিস? দেখ, মায়া আমাকে ফিরিয়ে এনেছে। আমরা আর আলাদা হব না।"
রাসেল কাঁদতে কাঁদতে বলল, "সায়মন, ফিরে আয়! ওটা মায়া নয়, ওটা তোর মৃত্যু!"
ঠিক তখনই অঘোরী বাবা সেখানে পৌঁছালেন। তার হাতে এক কলস গঙ্গাজল আর তান্ত্রিক দণ্ড। তিনি উচ্চস্বরে মন্ত্র পড়তে শুরু করলেন। হঠাৎ মায়া আবির্ভূত হলো সায়মনের পাশেই। এবার মায়ার রূপ ভয়ঙ্কর। তার মাথাটা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে, বুক চিরে বেরিয়ে আছে পচা হৃৎপিণ্ড। সে অঘোরী বাবার দিকে তাকিয়ে এক হুঙ্কার দিল। পুরো এলাকা কেঁপে উঠল।
অঘোরী বাবা চিৎকার করে বললেন, "রাসেল, ওই ক্যামেরাটা! সায়মনের ক্যামেরাটা ভেঙে ফেল! ওর ভেতরেই সায়মনের আত্মা বন্দি করে রেখেছে মায়া। ক্যামেরাটা ভাঙলে সায়মন মুক্তি পাবে, কিন্তু মায়া তাকে নিয়ে যেতে পারবে না!"
রাসেল দেখল তার পায়ের কাছে সায়মনের ক্যামেরাটা পড়ে আছে। সে ক্যামেরাটা হাতে নিল। কিন্তু ক্যামেরার লেন্সের দিকে তাকাতেই সে থমকে গেল। লেন্সের ভেতরে সে দেখতে পেল সায়মন আর মায়া এক সুন্দর বাগানে হাত ধরাধরি করে হাঁটছে। সায়মন যেন সেখানে খুব সুখী। রাসেল দ্বিধায় পড়ে গেল। যদি সে ক্যামেরাটা ভাঙে, তবে সায়মন এই পৃথিবীতে ফিরে আসবে ঠিকই, কিন্তু সে কি আবার আগের মতো স্বাভাবিক হতে পারবে? নাকি মায়ার প্রেমে সে অন্য জগতেই বেশি ভালো আছে?
মায়া রাসেলের দিকে এগিয়ে এল। তার কণ্ঠস্বর এখন খুব নরম, "রাসেল, তুই কি চাস তোর বন্ধু এই নোংরা পৃথিবীতে ধুঁকে ধুঁকে মরুক? ওকে আমার সাথে থাকতে দে। আমরা একশ বছর ধরে এই মুহূর্তটার অপেক্ষা করেছি।"
অঘোরী বাবা চিৎকার করলেন, "ভুলিস না রাসেল, ওটা মায়া! ও সায়মনকে মুক্তি দেবে না, ওর আত্মা ছিঁড়ে খাবে!"
রাসেল এক মুহূর্ত ভাবল। তারপর সজোরে ক্যামেরাটা পাথরের ওপর আছাড় দিল। মুহূর্তের মধ্যে এক বিকট বিস্ফোরণ হলো। পুরো লালকুঠি ধসে পড়তে লাগল আগুনের লেলিহান শিখায়। মায়া এক আর্তনাদ করে বাতাসে মিলিয়ে গেল। সায়মন নিথর হয়ে মাটিতে পড়ে গেল।
এক মাস পর...
সায়মন এখন সুস্থ। কিন্তু সে আর কথা বলে না। সে শুধু সারাদিন তার ভাঙা ক্যামেরার লেন্সটা নিয়ে নাড়াচাড়া করে। ডাক্তাররা বলছেন এটা ট্রমা। কিন্তু রাসেল জানে আসল রহস্য কী। একদিন রাতে রাসেল সায়মনের ঘরে ঢুকে দেখল সায়মন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাসছে। রাসেল আড়াল থেকে দেখল, আয়নায় সায়মনের কোনো প্রতিফলন নেই। পরিবর্তে আয়নায় দেখা যাচ্ছে এক সুন্দরী মেয়েকে—মায়া।
মায়া সায়মনের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলছে, "ওরা ভেবেছে ক্যামেরা ভাঙলেই সব শেষ? ওরা জানে না, আমি এখন তোমার নিঃশ্বাসে বেঁচে আছি।"
সায়মন ঘুরে রাসেলের দিকে তাকাল। তার চোখ দুটো এখন পুরোপুরি কালো। সে মুচকি হেসে বলল, "রাসেল, তুই কি ছবি তুলবি? আমার ভেতরে মায়া খুব সুন্দর পোজ দিয়েছে।"
রাসেল বুঝতে পারল, সায়মন আর সায়মন নেই। সে এখন মায়ার জ্যান্ত আধার। পুরান ঢাকার এই গলিতে অন্ধকার আর প্রেম কখনো শেষ হয় না। এটা কেবল এক নতুন অধ্যায়ের শুরু।
(সমাপ্ত)
রিচ ও ভিউ বাড়ানোর জন্য সিক্রেট হ্যাশট্যাগ (Copy-Paste):
পোস্টের শেষে সরাসরি এগুলো দিন:
#নিশিরাতের_মায়া #সাসপেন্স #ভৌতিকগল্প #বাংলা_থ্রিলার

24/03/2026

গল্পের নাম: নিশিরাতের মায়া

"অনিরুদ্ধ কি তবে সায়মনের ভেতরেই বেঁচে ছিল? মায়ার ভুল ভাঙল, কিন্তু সায়মন কি পারল এই অভিশপ্ত দালান থেকে ফিরতে? ৩য় পর্বের এই করুণ পরিণতি আপনার চোখ ভিজিয়ে দেবে!"

পর্ব-৩: রক্তঋণের বন্ধন. 😍
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের একটি সরু কেবিনে যখন সায়মনের জ্ঞান ফিরল, তখন বাইরের আকাশে ভোরের আবছা আলো ফুটেছে। সায়মনের সারা শরীর ব্যথায় টনটন করছে, বিশেষ করে তার গলায় আর পায়ে কালশিটে দাগ পড়ে গেছে—ঠিক যেন কেউ লোহার শিকল দিয়ে তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। তার পাশে বসে ছিল তার বাল্যবন্ধু রাসেল। রাসেল পেশায় একজন ইতিহাস গবেষক, বিশেষ করে ঢাকার লোকগাথা আর প্রাচীন স্থাপত্য নিয়ে তার অগাধ আগ্রহ।
সায়মন চোখ মেলতেই রাসেল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “বেঁচে আছিস এটাই মিরাকল, সায়মন! তোকে কাল রাত তিনটের সময় লালকুঠির মেইন গেটের সামনে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছে স্থানীয় পাহারাদাররা। তোর হাত-পা এমনভাবে মাটির সাথে লেপ্টে ছিল যে, চারজন মানুষ মিলে তোকে ছাড়াতে পারেনি।”
সায়মন কথা বলতে চাইল, কিন্তু তার কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে আসছে। সে শুধু অস্ফুট স্বরে বলল, “মায়া... ও আমাকে ছাড়বে না রাসেল। ও ভাবছে আমি অনিরুদ্ধ।”
রাসেল গম্ভীর হয়ে সায়মনের ক্যামেরার ব্যাগটা এগিয়ে দিল। “তোর ক্যামেরার মেমোরি কার্ডটা আমি চেক করেছি। সেখানে যা দেখেছি, তা বিশ্বাস করা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু সায়মন, আমি কাল রাতে আরও একটা জিনিস খুঁজে পেয়েছি যা তোকে বলা দরকার।”
রাসেল তার ল্যাপটপ খুলে সায়মনকে একটি পুরনো নথির স্ক্যান কপি দেখাল। এটি ১৯২৪ সালের একটি ব্রিটিশ পুলিশ রিপোর্ট। রিপোর্টে লেখা ছিল, ঢাকার জমিদার নীলকণ্ঠ রায়ের কন্যা মায়া দেবী নিখোঁজ হওয়ার পর তার প্রেমিক অনিরুদ্ধকে প্রধান আসামী করা হয়। কিন্তু অনিরুদ্ধ পালিয়ে যায়নি। অনিরুদ্ধকে আসলে মায়ার বাবা জ্যান্ত পুঁতে ফেলেছিলেন সেই লালকুঠির ভূগর্ভস্থ কুঠুরিতে। আর মায়া সেটা সহ্য করতে না পেরে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন।
সায়মন শিউরে উঠল। “তাহলে মায়া কেন ভাবছে অনিরুদ্ধ তাকে ধোঁকা দিয়েছে?”
রাসেল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “কারণ নীলকণ্ঠ রায় ছিলেন একজন তান্ত্রিক। তিনি চেয়েছিলেন মায়ার আত্মা যেন এই বাড়িতেই আটকে থাকে। তিনি মায়ার কানে বিষ ঢেলেছিলেন যে অনিরুদ্ধ তাকে ছেড়ে পালিয়েছে। সেই থেকে মায়ার অতৃপ্ত আত্মা প্রতি একশ বছর পর পর ফিরে আসে তার ‘বিশ্বাসঘাতক’ প্রেমিককে খুঁজতে। আর ভয়ংকর ব্যাপার হলো সায়মন, তোর ডিএনএ টেস্ট বা বংশলতিকা ঘাঁটলে হয়তো দেখা যাবে তুই অনিরুদ্ধর বংশেরই কেউ। তাই তোর রক্তের টান ওকে বেশি আকর্ষণ করছে।”
সায়মন হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ নিয়ে তার সূত্রাপুরের ভাড়াবাড়িতে ফিরল। কিন্তু শান্তি তার কপালে নেই। সারাদিন সে ঘরের ভেতরে এক অদ্ভুত নূপুরের শব্দ শুনতে পায়। বিকেলের দিকে সে যখন আয়নার সামনে দাঁড়াল, দেখল তার নিজের চেহারার জায়গায় আয়নায় ভেসে উঠছে ধুতি-পাঞ্জাবি পরা সেই অনিরুদ্ধর মুখ। অনিরুদ্ধর চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছে, আর সে ফিসফিস করে বলছে— “ওকে বাঁচাও সায়মন, ওকে সত্যিটা জানাও। নইলে ও তোমাকেও শেষ করবে, নিজেকেও মুক্তি দেবে না।”
সায়মন বুঝতে পারল, শুধু পালিয়ে বাঁচা সম্ভব নয়। তাকে আবার সেই লালকুঠিতে যেতে হবে। কিন্তু এবার একা নয়, সত্যের সন্ধানে। সে রাসেলকে নিয়ে শাঁখারীবাজারের এক বৃদ্ধ তান্ত্রিকের কাছে গেল। সেই বৃদ্ধ সায়মনকে দেখে চোখ কপালে তুললেন। তিনি বললেন, “বাবা, তোমার ললাটে যে মৃত্যুর ছায়া দেখছি, তা সাধারণ নয়। এই মেয়েটি প্রেতিনী নয়, সে এক মায়াবী অভিশাপে বন্দি। তাকে মুক্তি দিতে হলে তোমাকে ১৯২৪ সালের সেই শেষ রাতের ঘটনার সাক্ষী হতে হবে। তোমার রক্ত দিয়ে সেই পুরনো ডায়েরিতে সত্যটা লিখতে হবে, তবেই মায়ার ভুল ভাঙবে।”
রাত তখন ১১টা। পুরো পুরান ঢাকা যেন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে গেছে। সায়মন আর রাসেল আবার সেই লালকুঠির সামনে এসে দাঁড়াল। গেটটা আজ আর বন্ধ ছিল না। হা করে খোলা গেটটা যেন কোনো রাক্ষসের মুখ। ভেতরে ঢোকা মাত্রই সায়মন দেখল চারিদিকের পরিবেশ বদলে গেছে। দালানটি আর জরাজীর্ণ নেই, বরং ঝাড়লণ্ঠনের আলোয় ঝলমল করছে।
হঠাৎ বারান্দায় মায়াকে দেখা গেল। তবে এবার সে আর বীভৎস নয়। তার পরনে লাল বেনারসি, হাতে সোনার বালা। সে হাসি মুখে সায়মনের দিকে এগিয়ে এল। তার সেই অপার্থিব সৌন্দর্য দেখে সায়মন এক মুহূর্তের জন্য সব ভুলে গেল। মায়া তার হাত ধরে বলল, “অনিরুদ্ধ, আমি জানতাম তুমি ফিরে আসবে। দেখ, সব আয়োজন শেষ। আজ রাতেই আমরা একসাথে অমর হয়ে যাব।”
রাসেল আড়াল থেকে সায়মনকে ইশারা করল সত্যটা বলার জন্য। সায়মন পকেট থেকে সেই পুরনো ডায়েরিটা বের করল, যা সে আগের রাতে নিয়ে এসেছিল। সে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল, “মায়া, আমি অনিরুদ্ধ নই। আর অনিরুদ্ধ তোমাকে ধোঁকা দেয়নি। তাকে তোমার বাবা মেরে ফেলেছিলেন।”
মায়ার হাসিমাখা মুখটা মুহূর্তেই কালো হয়ে গেল। চারপাশের সুন্দর আলোকসজ্জাগুলো দপ করে নিভে গেল। দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়তে লাগল। মায়া আর্তনাদ করে উঠল, “মিথ্যে! তুমি মিথ্যে বলছ! তুমি পালাবার জন্য ছলনা করছ!”
সায়মন নিজের আঙুল কামড়ে এক ফোঁটা রক্ত বের করল এবং সেই ডায়েরির পাতায় অনিরুদ্ধর ছবির ওপর রাখল। সাথে সাথে একটা নীল আলো ঘরটাকে আলোকিত করে তুলল। সায়মনের চোখের সামনে ভেসে উঠল ১৯২৪ সালের সেই দৃশ্য—মায়ার বাবা নীলকণ্ঠ রায় অনিরুদ্ধর পিঠে ছুরি মারছেন, আর অনিরুদ্ধ মরার আগে মায়ার নাম ধরে চিৎকার করছে।
মায়া এই দৃশ্য দেখে পাথরের মতো স্থির হয়ে গেল। তার দুচোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগল। কিন্তু সেই জল মাটিতে পড়ার আগেই কালো রক্তে পরিণত হচ্ছে। সে সায়মনের দিকে তাকিয়ে এক পা এগিয়ে এল। তার কণ্ঠস্বর এখন করুণ, “তাহলে আমি একশ বছর ধরে শুধু ঘৃণার আগুনে জ্বলেছি? আমি যাকে ভালোবেসেছিলাম, তাকেই অপমান করেছি?”
হঠাৎ বাড়ির মেঝে কাঁপতে শুরু করল। মাটির নিচ থেকে কঙ্কালের হাতগুলো আবার বেরিয়ে এল। কিন্তু এবার তারা সায়মনকে নয়, মায়াকে টেনে ধরছে। রাসেল চিৎকার করে বলল, “সায়মন পালা! এই বাড়িটা ধসে পড়ছে। নীলকণ্ঠ রায়ের অভিশাপ এখন মায়াকেই নরকে নিয়ে যাবে!”
মায়া সায়মনের হাতটা শক্ত করে ধরল। তার স্পর্শে এবার আর শীত নেই, আছে এক প্রচণ্ড উত্তাপ। সে সায়মনের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “সায়মন, তুমি আমাকে মুক্তি দিয়েছ। কিন্তু আমার মুক্তি তো রক্ত চায়। আমাকে যদি যেতে হয়, তবে আমাকে একা যেতে দিও না।”
সায়মন দেখল তার পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। সে আর মায়া একসাথে সেই অন্ধকার গহ্বরের দিকে তলিয়ে যাচ্ছে। রাসেল সায়মনের হাত ধরার চেষ্টা করল, কিন্তু এক অদৃশ্য শক্তি তাকে দূরে ছিটকে ফেলে দিল।
ঘরের দরজাগুলো একে একে বন্ধ হয়ে গেল। বাইরের আকাশে বজ্রপাত শুরু হলো। সায়মন আর মায়ার শেষ চিৎকার একসাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল পুরান ঢাকার নিস্তব্ধ রাতে।
পরদিন সকালে যখন পুলিশ আর স্থানীয় লোকজন লালকুঠির ভেতরে ঢুকল, তারা দেখল পুরো বাড়িটা ধসে মাটির সাথে মিশে গেছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে সায়মনের ক্যামেরাটা অক্ষত অবস্থায় পড়ে আছে। ক্যামেরার শেষ ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে এক যুবকের কপালে চুম্বন করছে, আর সেই যুবকের চেহারা অবিকল সায়মনের মতো। তবে তাদের দুজনের শরীর থেকেই নিভে আসছে এক নীলচে আভা।
সায়মনকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সে কি মারা গেছে, নাকি মায়ার সাথে অন্য কোনো জগতে চলে গেছে—সে রহস্য থেকেই গেল।
(চলবে...)
সায়মন কি সত্যিই নিখোঁজ নাকি সে অন্য কোনো রূপ নিয়ে ফিরে আসবে? জানতে হলে চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।

মায়ার জায়গায় আপনি থাকলে কি অনিরুদ্ধকে ক্ষমা করতে পারতেন? কমেন্টে লিখুন।

#নিশিরাতের_ #মায়া

22/03/2026

‘EID MUBARAK’

19/03/2026

গল্পের নাম: নিশিরাতের মায়া
"অনিরুদ্ধ কে? সায়মনের সাথে অনিরুদ্ধর চেহারার মিল কেন? ১৯২৪ সালের সেই রহস্য কি সায়মনকে শেষ করে দেবে? ২য় পর্বের টুইস্ট দেখে আপনার গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে!"

পর্ব-২: অতীতের প্রেতচ্ছায়া
পুরান ঢাকার সেই পরিত্যক্ত ‘লালকুঠি’র ভেতরের বাতাস এখন বিষিয়ে উঠেছে। সায়মনের হাতের চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেই ধোঁয়ায় কোনো সতেজতা নেই; আছে কবরের স্যাঁতসেঁতে মাটির গন্ধ। সায়মন লক্ষ্য করল, মায়ার সুন্দর চেহারাটা মোমবাতির টিমটিমে আলোয় কেমন যেন নীলচে দেখাচ্ছে। তার চোখের মণি দুটো অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গেছে।
সায়মন কোনোমতে তোতলামি করে বলল, “আমি... আমি বোধহয় আর বেশিক্ষণ থাকতে পারব না। আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা করার কথা ছিল।”
মায়া খিলখিল করে হেসে উঠল। সেই হাসিটা সাধারণ কোনো মেয়ের হাসির মতো নয়, মনে হলো যেন বহুদূর থেকে কোনো কান্নার প্রতিধ্বনি ভেসে আসছে। সে সোফায় হেলান দিয়ে বসে বলল, “বন্ধুর সাথে দেখা করবেন? কিন্তু আপনার জন্য তো আমি গত একশ বছর ধরে অপেক্ষা করছি, সায়মন। এই একশ বছরে এই দালানের একটা ইটও নড়েনি শুধু আপনার জন্য। আর আপনি এখনই চলে যেতে চাইছেন?”
সায়মন এবার সাহস সঞ্চয় করে উঠে দাঁড়াল। সে জানে এখন আর ভদ্রতা দেখানোর সময় নয়। কিন্তু সে নড়তে গিয়েই চমকে উঠল। তার পায়ের নিচের মেঝেটা যেন কাদামাটির মতো নরম হয়ে যাচ্ছে। সে তার ক্যামেরার ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে দরজার দিকে দৌড় দিল। কিন্তু অবাক কাণ্ড! যে দরজা দিয়ে সে ভেতরে ঢুকেছিল, সেখানে এখন নিরেট দেয়াল। ঘরটার আকৃতি যেন পাল্টে যাচ্ছে। জানালার খড়খড়িগুলো সজোরে আছাড় খাচ্ছে, যদিও বাইরে কোনো বাতাস নেই।
মায়া ধীরপায়ে সায়মনের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। তার প্রতিটি পদক্ষেপে মেঝের শুকনো কাঠ মড়মড় করে উঠছে। মায়া ফিসফিস করে বলল, “পালাতে চাইছেন কেন? আপনি কি সেই ছবিটার কথা ভুলে গেলেন? ১৯২৪ সালের সেই শ্রাবণ মাস?”
সায়মন দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু গলা দিয়ে কোনো স্বর বেরোচ্ছে না। মায়া তার খুব কাছে চলে এল। এখন খুব কাছ থেকে দেখা যাচ্ছে মায়ার চামড়াটা অত্যন্ত ফ্যাকাশে, যেন রক্ত চলাচলের কোনো চিহ্ন নেই। মায়া তার বরফ শীতল হাতটা সায়মনের গালের ওপর রাখল। সেই স্পর্শে সায়মনের শরীর অবশ হয়ে আসছে।
মায়া বলতে শুরু করল, “ঠিক আপনার মতোই একজন ফটোগ্রাফার এসেছিল এই বাড়িতে। তার নাম ছিল অনিরুদ্ধ। সে আমাকে ভালোবাসার কথা বলেছিল। সে বলেছিল, আমার এই রূপ সে ক্যামেরায় বন্দি করে রাখবে চিরকাল। কিন্তু সে ছিল এক প্রতারক। সে আমার গয়না আর আমার বাবার জমিদারির কিছু গোপন দলিল চুরি করে পালিয়ে গিয়েছিল। আমি তাকে খুঁজে পাইনি সায়মন, আমি অপমানে আর কষ্টে এই ঘরেই গলায় দড়ি দিয়েছিলাম। কিন্তু মরার আগে আমি বলেছিলাম, আমি ফিরব। ঠিক একশ বছর পর আমি ফিরব আমার অনিরুদ্ধর কাছে। আর আজ আপনি এসেছেন। আপনার মুখ, আপনার চোখ—সবই অনিরুদ্ধর মতো।”
সায়মন পাগলের মতো মাথা নাড়ল। “না! আমি অনিরুদ্ধ নই! আমি সায়মন! আমি একজন সাধারণ ফটোগ্রাফার। আপনি ভুল করছেন!”
মায়া তার শীতল আঙুল দিয়ে সায়মনের ঠোঁট চেপে ধরল। “ভুল আমি করছি না। আজ রাত ১২টার পর যখন এই একশ বছর পূর্ণ হবে, তখন আপনার রক্ত আর আমার আত্মা মিলেমিশে এক হয়ে যাবে। আপনি আর কোনোদিন এই দালান ছেড়ে যাবেন না।”
মায়া ঘর থেকে বেরিয়ে গেল এবং যাওয়ার সময় দরজাটা সজোরে বন্ধ হয়ে গেল। সায়মন দেখল দরজায় কোনো হাতল নেই, কোনো ফাঁক নেই। সে বদ্ধ ঘরে আটকা পড়ে গেছে। পাগলের মতো সে ঘরের চারদিকে হাতড়াতে লাগল। হঠাৎ তার নজরে এল কোণার দিকে একটা পুরনো সিন্দুক। সিন্দুকটার ওপর এক ইঞ্চি পুরু ধুলো জমে আছে। সায়মন ভাবল, এখানে হয়তো আত্মরক্ষার কোনো পথ পাওয়া যাবে।
সে সিন্দুকটা অনেক কষ্টে খুলল। ভেতরে কিছু ছেঁড়া নথিপত্র আর একটা পুরনো অ্যালবাম। কাঁপাকাঁপা হাতে সায়মন অ্যালবামটা খুলল। প্রথম পাতাতেই একটা সাদা-কালো ছবি। ছবিটা দেখে সায়মনের হৃৎপিণ্ড যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। ১৯২৪ সালে তোলা সেই ছবিতে মায়া দাঁড়িয়ে আছে এক যুবকের পাশে। সেই যুবকটি হুবহু সায়মনের মতো দেখতে। শুধু তার পরনে ধুতি আর পাঞ্জাবি। ছবির নিচে লেখা— ‘মায়া ও অনিরুদ্ধ, ১৯২৪’।
সায়মনের মনে হলো তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। এটা কীভাবে সম্ভব? পুনর্জন্ম? নাকি এটা কোনো অশুভ চক্র? ঠিক তখনই ঘরের কোণ থেকে একটা খসখস শব্দ শোনা গেল। সায়মন তার ক্যামেরার ফ্ল্যাশটা জ্বালাল। আলোর ঝলকানিতে সে যা দেখল, তাতে তার চিৎকার চেপে ধরা ছাড়া উপায় ছিল না।
ঘরের এক কোণে একটা কঙ্কাল পড়ে আছে। কঙ্কালটার গলায় এখনো একটা পুরনো জীর্ণ দড়ি প্যাঁচানো। মায়া যে ঘরে গলায় দড়ি দিয়েছিল, এটা সেই ঘর! আর কঙ্কালটা অন্য কারো নয়, স্বয়ং মায়ার। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, কঙ্কালটার হাতে একটা ছোট ডায়েরি ধরা আছে।
সায়মন সাহসে ভর করে ডায়েরিটা টেনে নিল। ডায়েরির পাতায় পাতায় রক্ত দিয়ে কিছু লেখা। শেষ পাতায় লেখা— "অনিরুদ্ধ ফিরে আসবে, কিন্তু সে একা ফিরবে না। সে ফিরবে তার মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে। যে ক্যামেরা দিয়ে সে আমার ছবি তুলেছিল, সেই ক্যামেরাই হবে তার কবরের চিহ্ন।"
সায়মন নিজের ক্যামেরার দিকে তাকাল। তার ক্যামেরাটা এখন অস্বাভাবিক গরম হয়ে উঠেছে। লেন্সের ভেতর থেকে চুইয়ে চুইয়ে রক্ত বেরোচ্ছে। হঠাৎ পুরো বাড়িটা কেঁপে উঠল। বাইরের আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামল। কিন্তু বৃষ্টির শব্দটা স্বাভাবিক নয়, মনে হচ্ছে যেন কেউ ছাদের ওপর দিয়ে হাজার হাজার নূপুর পরে দৌড়াচ্ছে।
সায়মন বুঝতে পারল, সময় শেষ হয়ে আসছে। রাত ১২টা বাজতে মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। সে ঘর থেকে বেরোনোর জন্য জানালার কাঁচ ভাঙার চেষ্টা করল। কিন্তু কাঁচ ভাঙার সাথে সাথে সে দেখল জানালার ওপারে কোনো রাস্তা নেই, কোনো শহর নেই। জানালার ওপারে শুধু এক অতল অন্ধকার গহ্বর, যেখান থেকে শত শত হাত তাকে ডাকছে।
হঠাৎ ঘরের মাঝখানে মায়া আবার আবির্ভূত হলো। তবে এবার আর সে সুন্দরী মেয়েটি নেই। তার অর্ধেক মুখ পুড়ে যাওয়া মাংসের মতো ঝুলে আছে, এক চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে এসেছে। সে তার লম্বা নখওয়ালা হাত বাড়িয়ে সায়মনের দিকে এগিয়ে এল।
“অনিরুদ্ধ... রাত ১২টা বেজে গেছে। আমাদের বিয়ের সময় হয়েছে!”
সায়মন পেছনে সরতে সরতে দেয়ালের সাথে ধাক্কা খেল। ঠিক তখনই তার কানে ভেসে এল আজানের ধ্বনি। অনেক দূর থেকে কোনো মসজিদের আজান শোনা যাচ্ছে। আজানের শব্দ শুনতেই মায়া এক বিকট চিৎকার করে উঠল। তার শরীর থেকে কালো ধোঁয়া বেরোতে লাগল।
সায়মন দেখল মেঝের ওপর ডায়েরিটা জ্বলছে। সে ভাবল এটাই সুযোগ। সে সর্বশক্তি দিয়ে ঘরের সেই কাঠের দরজাটায় লাথি মারল। এবার দরজাটা ভেঙে গেল। সায়মন পাগলের মতো অন্ধকার বারান্দা দিয়ে দৌড়াতে শুরু করল। পেছনে মায়ার সেই ভয়ংকর চিৎকার আর নূপুরের শব্দ তাকে তাড়া করছে।
সে যখন মেইন গেটের কাছে পৌঁছাল, দেখল গেটটা বন্ধ। সে দেয়াল টপকানোর চেষ্টা করল। কিন্তু হঠাৎ তার পা কেউ একজন সজোরে টেনে ধরল। সায়মন নিচে তাকিয়ে দেখল, মাটি থেকে শত শত কঙ্কালের হাত বেরিয়ে এসে তাকে আঁকড়ে ধরছে।
“তুমি যেতে পারবে না, অনিরুদ্ধ! তুমি আমাদের!”
সায়মন জ্ঞান হারানোর আগে শুধু দেখল, কুয়াশার আড়াল থেকে মায়া তার বীভৎস মুখটা নিয়ে হাসছে। তার শেষ কথা ছিল— "আগামীকাল সকালে যখন মানুষ তোমাকে খুঁজে পাবে, তখন তুমি আর সায়মন থাকবে না, তুমি হবে এই লালকুঠির এক নতুন ইতিহাস।"
সায়মনের চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে এল।
(চলবে...)
"রাত ১২টা বাজার সাথে সাথে মায়ার রূপ বদলে গেল কেন? উত্তর আছে গল্পের গভীর অরণ্যে।"
আপনি কি পুনর্জন্মে বিশ্বাস করেন? কমেন্টে জানান আপনার মতামত।

#বাংলাগল্প #ভৌতিকগল্প #রহস্য #পুরানঢাকা

19/03/2026

সকালে এক গ্লাস লেবুপানি আপনার দিনটি বদলে দিতে পারে! 🍋✨ শরীর ফ্রেশ রাখতে আর ক্লান্তি দূর করতে এর জুড়ি নেই। আজ থেকেই শুরু করুন! 💧🌿

🍋 Benefit: Instant Refreshment
🔋 Energy: Boosts your mood
🧘 Health: Keeps your stomach calm
Share with someone who needs a healthy start! 📩

#লেবুপানি #স্বাস্থ্যটিপস #শরীরচর্চা

19/03/2026

সকালে এক গ্লাস লেবুপানি আপনার দিনটি বদলে দিতে পারে! 🍋✨ শরীর ফ্রেশ রাখতে আর ক্লান্তি দূর করতে এর জুড়ি নেই। আজ থেকেই শুরু করুন! 💧🌿

🍋 Benefit: Instant Refreshment
🔋 Energy: Boosts your mood
🧘 Health: Keeps your stomach calm
Share with someone who needs a healthy start! 📩

Want your establishment to be the top-listed Arts & Entertainment in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Dhaka
1230