Diganta TV

Diganta TV

Share

26/05/2025

আগামীকাল সবাই প্রস্তুত ইনশাআল্লাহ..

16/07/2020

ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনি এবং করবেও না.....

06/07/2020

আমার ফাঁসি চাই বই থেকে –
" শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলি ও এর নেপথ্যের কাহিনী।"

১৯৯৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, রোজ - বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনা বিমান যোগে যশোর হয়ে খুলনা এলেন এবং বিকালে শহীদ হাদিস পার্কের জনসভায় ভাষণ দিলেন। রাতে নেত্রীর চাচাতো ভাই শেখ নাসেরের বড় ছেলে শেখ হেলালের বাড়িতে খেলেন এবং থাকলেন।

পরদিন ২৩ শে সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টার সময় উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে ট্রেন যাত্রা শুরু করলেন। বেশ লম্বা ট্রেন। অনেক সাধারণ যাত্রী আছে ট্রেনে। সাধারণ যাত্রীরা বুঝতে পারছেনা, শেখ হাসিনার রেলে সভা করতে করতে যাওয়া এই ট্রেন কবে কখন গন্তব্যে পৌছবে।

প্রতিটি স্টেশনে (প্রায় কুড়িটি) নেমে শেখ হাসিনা ভাষণ দেন। সকাল গড়িয়ে দুপুর, আর দুপুর গড়িয়ে রাত হয়৷ ট্রেনের শেষের দিকে একটি ভি ভি আই পি বগীতে শেখ হাসিনা। ঐ বগীর সামনে এবং পেছনে তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত ঢাকা থেকে আসা স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যরা। এবং পেছনের বগীতে সাংবাদিকগণ।

রাত তখন ১১ টা বেজে ১৭ মিনিট। শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেন ঈশ্বরদী স্টেশন পৌছার কিছু সময় বাকি। এমন সময় শেখ হাসিনা বললেন, এত টাকা পয়সা খরচ করে জামাই আদর করার জন্য ঢাকা থেকে যেই সাংঘাতিকদের (সাংবাদিক) এনেছি, তারা কি সব ঘুমাচ্ছে?

জনসভায় এত লোক হচ্ছে। আমি এত বক্তৃতা করছি। সাংঘাতিকদের (সাংবাদিক) নজরে পড়ছে না তো!

তোমরা একটু সাংঘাতিকদের ঘুম ভাঙিয়ে আমার জনসভায় পাঠাও। যেন পত্র পত্রিকায় ভালো নিউজ হয়।

শেখ হাসিনার বেতন ভুক্ত ব্যাগ বহনকারী মদন মোহন দাশ (যার নামে শেখ হাসিনার লাল রঙের নিশান পেট্রোল জিপ গাড়িটি রেজিষ্ট্রেশন করা) বলল, ডাইকা ঘুম ভাঙান লাগবোনা। পিস্তল দিয়া কয় রাউন্ড গুলি কইরা দিলেই সাংঘাতিকগো ঘুম কই যাইবো। লাফাইয়া ট্রেন থাইকা নিচে পইড়া যাইবো।

আলাউদ্দিনের প্রদীপ পাওয়ার মত সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনা লাফাইয়া উঠে তার বাবার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে বাহাউদ্দিন নাসিমকে বললেন, দে দুই রাউন্ড গুলি করে।

আর উপস্থিত অন্যদের বললেন, তোমরা আমাকে হত্যার (শেখ হাসিনাকে) জন্য ট্রেনে গুলি করা হয়েছে বলে সাংঘাতিকদের (সাংবাদিক) মাঝে প্রচার করে দেবে।

ট্রেন ঈশ্বরদী প্লাটফর্মে ঢোকার কয়েক মিনিট আগে বাহাউদ্দীন নাসিম ট্রেনের জানালা দিয়ে সাংবাদিকদের কম্পার্টমেন্ট লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ল। গুলির শব্দ শুনে শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় থাকা স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যরা ৫-৬ রাউন্ড গুলি করে।

এই সমস্ত গুলির আওয়াজ শুনে পাশের কম্পার্টমেন্টে থাকা সাংবাদিকেরা ভয়ে ট্রেনের ভেতর গড়াগড়ি শুরু করে এবং আমরা পরিকল্পনামত সাংবাদিকদের বগীতে এসে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে বলে প্রচার করতে থাকি।

ট্রেন ঈশ্বরদী কম্পার্টমেন্টে থামলে ঈশ্বরদী রেলস্টেশনের জনসভার মঞ্চ থেকে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমীর হোসেন আমু শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ট্রেনে গুলি করা হয়েছে বলে প্রচার চালাতে থাকেন।

পরের দিন ২৪ শে সেপ্টেম্বর ট্রেনে শেখ হাসিনাকে গুলি করা হয়েছে বলে জাতীয় পত্র পত্রিকায় সংবাদ বের হলে বগুরা সরকারি সার্কিট হাউজে ভিভিআইপি রুমে বসে শেখ হাসিনা সহ তার সফর সঙ্গীরা (যারা প্রকৃত ঘটনা জানে) হাসাহাসি করতে থাকে এবং হাসাহাসির এই পর্যায়ে গুলির এই ঘটনা থেকে হরতাল ডাকার সিদ্ধান্ত হয়।

পৃষ্ঠা - ৭৩, গ্রন্থ -আমার ফাঁসি চাই।
লেখক - মতিউর রহমান রেন্টু, মুক্তিযোদ্ধা ও শেখ হাসিনার অলিখিত প্রধান কনসালটেন্ট (১৯৮১ - ১৯৯৭)

Want your business to be the top-listed Media Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address

Pokira Pool
Dhaka